খুলনার বটিয়াঘাটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি দখল।। ফাঁসলেন সাবেক ইউপি সদস্য

খুলনার বটিয়াঘাটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি দখল।। ফাঁসলেন সাবেক ইউপি সদস্য

//স্টাফ রিপোর্টার//

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার ০৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের মৃত আকবর আলী হাওলাদারের পুত্র সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার(৬০) নামে আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি দখল করে হতদরিদ্র পরিবারের মানুষের হয়রানিসহ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৯.০২.২২ ইং তারিখ রোজ রবিবার বিকাল আনুমানিক ৪টায় উপস্থিত স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এসব কথা বলেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প পাঞ্জেখানা জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ হালিম শেখ বলেন, ১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। পরিদর্শনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দুঃখ কষ্ট সহ্য না করতে পেরে তাৎক্ষণিক পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন।

তারাই পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্বাসিত ভূমিহীন,গৃহহীন, দুর্দশাগ্রস্থ ও ছিন্নমূল পরিবারের স্বামী-স্ত্রী যৌথ নামে ভূমির মালিকানা স্বত্বের দলিল/ কবুলিয়ত সম্পাদন, রেজিষ্ট্রি ও নামজারী করে দেয়া হয়।পুনর্বাসিত পরিবার সমূহের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, কবর স্থান, পুকুর ও গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য সাধারণ জমির ব্যবস্থা করা হয়। সেই মোতাবেক এই প্রকল্পটির সংরক্ষণ ও বন্টনের দায়িত্ব আমাদের ছিল। আমরা সাময়িক ভাবে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার কে স্বর্তসাপেক্ষে ভোগদখলের দায়িত্ব পালন করতে বলি।

কিন্তু তিনি মামলা-হামলা ও  ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের নেয্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের দেয়া জমিতে ঘের থাকায় সকলের একান্ত বিশ্বস্ততায় দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে তিনি মাছ চাষ করে প্রতিবছর প্রচুর টাকা উপার্জন করেছেন। আমাদের একমাত্র ইবাদতের ঘর ভান্ডারকোট আশ্রয়ণ প্রকল্প পাঞ্জেখানা জামে মসজিদের কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করেনি। যেখানে কথা ছিল এই আশ্রয়ন প্রকল্পের দেয়া জমির হারি বাবদ যে অর্থ আসবে সেই অর্থ দিয়ে তিনি মসজিদেই উন্নয়ন করবেন।

আমরা যখনই জমির হারি বাবদ টাকা চাইতে গেছি তখনই গালাগালাজ ও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।মাঝে মাঝে আমাদের দু’একজনের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি খাদ্য সহায়তা ছাড়া কিছুই দেননি। তাদের মতে, তিনি মৌখিকভাবে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন ০১.০৭.২০ তারিখ পর্যন্ত।নির্দিষ্ট সময়ে মেম্বার সাহেব কে জানানো হলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ঘুরাতে থাকে। অত্র মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম মৌলঙ্গি বলেন,আমরা দীর্ঘদিন সময় দেয়া সত্ত্বেও তিনি আমাদের হুমকি দিয়ে বলতে থাকে “আমার ইচ্ছা মতো যতদিন চাইবো ততদিন ভোগদখল করবো”কোন অবস্থাতেই আমাকে সরাতে পারবে না। তিনি কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক দখল করে আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল।নির্বাচনের পর জেলা ও উপজেলা নির্বাহী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অত্র আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে আসলে তাদের কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরি।

উক্ত জমির সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের বলেছিলেন এখন থেকে প্রকল্পটি মুক্ত আপনাদের সম্পদ আপনারা দেখবেন এখানে অন্য কারো দেখার বা ভোগ করার সুযোগ নেই। আমরা তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকলে সম্মিলিত হয়ে আমাদের মসজিদসহ জায়গা দখলমুক্ত হয়ে ফেরৎ পেলাম।

এখানে কোন মাছ না থাকায় আমাদের ঘেরে চারা মাছ ছেড়ে দিয়ে বিজয়ের হাসিতে হাসিতে পারলাম। মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার সাবেক মেম্বারদের সাথে উক্ত আশ্রয়ন প্রকল্পের অভিযোগ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মোবাইল নাম্বার টি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

নড়াইলে ভাষা শহিদদের স্মরণে লাখো মোমবাতি প্রজ্জলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *