বরিশালে মহাসমারোহে মহাশ্মশানে দিপাবলী উৎসব অনুষ্ঠিত

বরিশালে মহাসমারোহে মহাশ্মশানে দিপাবলী উৎসব অনুষ্ঠিত

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ বরিশাল মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত হয় দিপাবলী উৎসব প্রায় দুইশত বছরের অধিক সময় ধরে এখানে চলে আসছে এ উৎসব। এবারেও উৎসব ঘিরে সকল আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠ ভাবে শেষ করেছেন মহা শ্মশান রক্ষা কমিটি। ২৩ অক্টোবর রবিবার বিকাল ৫টায় ২৯ মিনিটে ভূত চতুর্দশী তিথিতে শুরু হয় এই দিপাবলী উৎসব । তবে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছেন রবিবার রাতেই। এদিকে, দিপাবলী উৎসবকে ঘিরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছেন। শনিবার থেকেই মহাশ্মশান এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মহা শ্মশান কমিটির তরফ থেকে ২৬টি সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে  ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন বরিশাল  মেট্রোপলিটন পুলিশ। জানা গেছে,ভূত চতুদর্শী তিথিতে শুরু হয়ে থাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের শ্মশান দিপাবলী উৎসব।

এ উৎসবের দিনে মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে প্রতিটি শ্মশান মঠ। এদিন মৃত স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ জালিয়ে প্রার্থনা করে থাকেন তাদের আত্মীয় স্বজনরা। আলাপকালে বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু বলেন, ২০২ বছরের অধিক সময় ধরে বরিশাল মহা শ্মশানে দিপালী উৎসব আরম্বর পরিবেশে পালিত হয়ে আসছে। দিন যতো যাচ্ছে আয়োজনের পরিধি ততোই যেন বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ উপমহাদেশ এবং বাইরের অনেক দেশ থেকে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটেছেন এখানে। এসব দেশ থেকে অনেকেই এসেছেন। তাঁরা হোটেল ও আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন। উৎসব শেষে আবার নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। এ স্মশানে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাসের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত, পিতামহ সর্বানন্দ দাসগুপ্ত, ব্রিটিশ বিরোধী নেতা বিপ্লবী দেবেন ঘোষ,বিসিষ্ঠ দানবির  অমৃত লাল দের মনোরমা বসু মাসিমাসহ কাঁচা পাকা মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি সমাধি রয়েছে। যার মধ্যে ৯শ সমাধি রয়েছে, যাদের স্বজনরা থাকেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। সেইসব সমাধিগুলোকে হলুদ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাধি গুলোতে কমিটির উদ্যোগে দিপাবলী উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়েছেন।  ৫ একর ৯৬ শতাংশের এই বরিশাল আদী মহাশ্মশানে প্রতিবছর শ্মশান দিপাবলী উৎসবে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। কেউ উৎসব দেখতে আসেন, আর কেউ স্বজনদের সমাধিতে মোমবাতি এবং প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। পাশাপাশি মৃত স্বজনদের প্রিয় খাদ্য দিয়ে স্মরণ এবং আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *