পরকীয়া নয় জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব স্ত্রী’র কীটনাশক পান,আসল রহস্য ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক ::বরিশাল//

বরিশাল সদর উপজেলা চাঁদপুরা ইউনিয়নের আঃ রহমান টিটুর তার পিতা আঃ রশিদ মিরা,ও তার মেয়েদের অত্যাচারে হেপি বেগম(৫০) নামে এক নারী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠে।চার সন্তানেরর জননী এই নারী গত (২৮মার্চ) সোমবার সকাল সাতটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদাপুরা ইউনিয়ন ৬ নংওয়ার্ড চরপত্তনিয়া গ্রামে নিজ ঘরে কীটনাশক পান করেন নারী।তার স্বামী ফারুক চৌকিদার গ্রামপুলিশে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে     আঃ রশীদ মিরা ও তার ছেলে গ্রাম পুলিশ ফারুক মিরার সাথে ঝামেলা চলছিলো,গত(২৩ মার্চ) ফারুক মিরা বাদী হয়ে তার বাবা ও ভাই বোনদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বন্দর থানার পুলিশ এ এস আই উজ্জ্বল কুমার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত (২৩মার্চ) ঘটনা স্থান পরিদর্শন করে দু’পক্ষকে এপ্রিল মাসের (২ তারিখ)  থানায় আসার জন্য বলে আসেন।কিন্তু শশুর, ননদ ও দেবোর টিটুর অত্যাচার সইতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয় নারী।এনিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কয়েক দিন ধরে কলহ চলছিল। সেই কলহের জেরে রোববার খুব সকালে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন হ্যাপি বেগম। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে একদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাতটার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠান এবং কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে হেপী বেগমের স্বামী গ্রাম পুলিশ ফারুক চৌকিদার(মিরা) বলেন, আমি ১৭/১৮ বছর ধরে এই জায়গায় বসবাস করে আসছি, কিন্তু আমার বাবা রশিদ মিরা ও ভাই টিটু ও বোনেরা মিলে আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে,আমি একজন গ্রাম রক্ষক (গ্রাম পুলিশ)হয়ে  বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও তাঁরা  কোনো পদক্ষেপ নেয়নি,যতদিন যাচ্ছে ততই আমার পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে আমার বাবা, ভাই টিটু ও বোনেরা।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন,স্থানীয় চেয়ারম্যান এর বাবা প্রাপ্ত মেম্বার আঃ বারেক হাওলাদার,আমার সাবেক ভিটায় ঘর উঠাতে নিষেধ করেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য (ফাঁস) গত (২৮মার্চ) সোমবার সকাল সাতটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ঐ নারী।বরিশালের স্থানীয় একাধিক পত্রিকায়,স্বামীর পরকীয়ার বলি স্ত্রী, প্রাণ গেল কীটনাশক পানে,শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।

যা রহস্য জনক মূলত বিষয় হলো পিতার সম্পত্তিতে বসবাস করে আসছেন তিনি এনিয়ে দন্দ থাকায় বন্দর থানায় অভিযোগ করেন।অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত (১৮মার্চ) সাহেবের হাট বাজারের একটি দোকান থেকে টাইপ করে,গত (২৩মার্চ) বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন,বিষয় দখলকৃত ভিটিতে ঘর তুলতে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে। বাদী মোঃ ফারুক মিরা পিতা আঃ রশিদ মিরা, সাং চরপত্তনিয়া। বিবাদী আঃ রশিদ মিরা পিতা মৃত রহম আলী মিরা।

উল্লেখ এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী এই মর্মে আবেদন করিতেছি যে, আমি আমার দখলকৃত ভিটিতে বিবাদীর অনুমতিক্রম প্রায় (পঞ্চাশ হাজার)টাকার মাটি কাটিয়াছি। এখন সে আমাকে ঘর তুলতে দেয় না। এই ভিটির ব্যপারে কয়েক বার বৈঠক বসিয়াছি।বিবাদী আমাকে ঘর তোলার ব্যপারে বর্তমান ইউপি সদস্যের কাছে বার বার বলার পর আমি মাটি কাটিয়াছি এবং ঘর তোলার কাঠ করিয়া মিস্ত্রী দ্বারা কাজ শুরু করার পাঁচ দিন পর বাঁধা দেয়। প্রকাশ থাকে যে, মেজ ভাই রফিক বিদেশ যাওয়ার জন্য ধার বাবদ মায়ের মারফত নগদ (ষাট হাজার) টাকা নিয়েছে। ঘর তুলতে গেলে আমার ভাই ও বোনেরা খুন জখমের হুমকি দিতেছে।তাই নিরুপায় হইয়া আপনার থানায় অভিযোগ করিলাম। অতএব যাহাতে আমার দখলকৃত ভিটিতে ঘর তুলতে পারি তাহার সুব্যবস্থা গ্রহনে জনাবের একান্ত মর্জি হয়।

ফারুক মিরার বড় মেয়ে ফারজানা আক্তার বলেন, আমার মায়ের সাথে, দাদা,চাচা টিটু ও ফুপুদের অত্যাচার সইতে না পেরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করার পথ বেঁচে নিয়েছে, আমরা চার ভাই বোন আজ দাদা ও চাচাদের কারনে এতিম হয়ে গেছি, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের কাছে দু’ হাত জোর করে বলছি এদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক,তা নাহলে ভবিষ্যতে ভয়ংকর রুপে আমাদেরকে ঘুম,খুনও,করতে দিদা বোধ করবে না।

স্থানীয় জলিল ও মিলন নামে দুই ব্যক্তী জানান, আঃ রহমান টিটু অদৃশ্য ক্ষমতাশীন ব্যক্তীর গাড়ি ড্রাইভ করে,একজন গ্রাম পুলিশ ও নিজের ভাইয়ের পরিবারের ওপর অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন ও মরে যাওয়ার প্ররোচনায় দিলে,আত্মহত্যা করে ঐ নারী। তার দৃশ্যমান ক্ষমতায় ভাইয়ের স্ত্রীর আত্মহত্যা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের পরকীয়া তথ্য দিয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায়। অভিযুক্ত আঃ রহমান টিটুকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।

সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুর রহমান মধু মুঠোফোন বলেন, বিষয়টি আমি জানি না, তবে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে আছি। একজন গ্রাম পুলিশের জমি সংক্রান্তে তার স্ত্রী যদি কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি গ্রাম পুলিশ ফারুকের সাথে আছি। চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হেপি বেগম আত্মহত্যা করার মূল কারন টাই আমি জানি না, তবে একটা বিষয় শুনছি তার ছেলে সাথে কবুতর নিয়ে ঝগড়া জাটি হয়, এরই জেরধরে কীটনাশক পান করে। ইউপি সদস্য আঃ আলিম বলেন, আমি জমি সংক্রান্তের বিষয়টি শুনছি তবে পরকীয়া প্রেম এটা শুনি নাই, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকার জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করছে বলে আমি মনে করি।

সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, কীটনাশক পানে নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। নারীর আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না।তবে জমি সংক্রান্তে  ফারুক বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় যদি নারী কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

English Dainikbiswa

কাল রোজা শুরু।। বাড়বেনা নিত্যপণ্যের দাম- বললেন ব্যবসায়ীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *