শরীয়তপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলার বাদী ছিলেন জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের ফাজিল মোল্লা ছেলে আমির হোসেন মোল্লা বুক ফুলিয়ে এই বাংলার জমিনে নিশ্চিন্তে ওরা বসবাস করছে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) এ বিষয়ে মুখ খুললেন পালেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক আকন্দ। আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের চিন্হিত করেছিলাম।
এক সময় স্বাধীনতা এন্ট্রি একজন আমাদের দেশে (পালেরচর) ছিলো। সে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলার সাথে জড়িত ছিলো। আমির মোল্লা যে মুজিবকে হত্যার জন্য মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলা করেছিলো। বাঙালি জাতিসহ আমার এলাকার কেউ মামলা মানেনি , মানতে পারে নাই। বর্তমানে আমির মোল্লাকে ধরার জন্য আমাদের দেশের যুবক শ্রেণী, মুক্তিযুদ্ধারা স্বাধীনতার বিপক্ষের লোকজন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে অনেক খোঁজা খুঁজি করছে।
ঐ সময় তাকে ধরতে পারলে জীবন্ত কবর দিতো কিন্তু পায়নি। শেখ মুজিবরের বিরুদ্ধে এতো বড় একটি ষড়যন্ত্রের মামলা কেউ মানতে পারে নাই। সবার ধারণা ছিল, ওকে ধরতে পারলে জ্যান্ত কবর দিবে কিন্তু তাকে খুঁজে পায় নাই। সেই আমির হোসেন মোল্লা উধাও হয়ে গেলো দেশ থেকে। এই দেশে তার কোন বাড়ি ঘর নাই। তার বাবার নাম ছিলো ফাজিল মোল্লা তাদের বাড়ি-ঘর পদ্মা নদীতে ভেঙে নিয়ে গেছে।
ভেঙে নেয়ার পরে সে এই দেশে আর বাড়ি-ঘর করে নাই। তারা ঢাকার শহরে চলে গেছে। ঢাকা শহরে গিয়ে আমির মোল্লা সে বিভিন্ন পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করতে চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারে নাই। সে অপরিচিত জায়গায় লুকায়িত ছিলো। যদি কেউ জানতে পারতো সে কথায় আছে তাহলে তাকে জ্যান্ত কবর দিতো। খুবই দুঃখজনক আমাদের দেশে স্বাধীনতার এন্ট্রি এমন একটি লোক যে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছে! এমন একটা লোক এখানে জন্ম হয়েছে একথা বলতে আমার খুব কষ্ট হয়।
কিভাবে এটা করলো? তিনি আরও বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলার সাথে জড়িত হয়ে সে তছনছ করার চেষ্টা করেছিলো। ইনশাআল্লাহ সে পারে নাই। মিথ্যা-মিথ্যাই, প্রমাণ করতে পারে নাই। যে কারণেই বাংলার যুবকরা তাকে ধরার জন্য আনাচে কানাচে খোঁজাখুঁজি করেছিল। তাকে ধরতে পারে নাই। লুকিয়ে ছিলো ঢাকার শহরে। তারপর শুনছি তার স্ত্রী মারা গেছে। পরে সে বিয়ে করেছিল এক হিন্দু মেয়ে। ঐ হিন্দু মেয়ে নিয়ে ঢাকার শহরে থাকতো, এখন কোথায় বাসা আছে আমি জানি না।
তবে তার হিন্দু স্ত্রীর ঘরে বাচ্চাকাচ্চা আছে। কিন্তু তাদের সন্ধান আমার জানা নেই। সবাই জানতো আমির হোসেন মোল্লা, বিশ্ব ব্রেইনী, বিশ্ব ক্রিমিনাল, বিশ্ব বাটপার এলাকায় এই ধরনের নামে আখ্যায়িত ছিলো। আমির হোসেন মোল্লা গরিবেরচর ইউনিয়নে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তৈরি করতে চেয়েছিলো,কিন্তু এখানে সে সুবিধা করতে পারে নাই। কারণ এখানে স্বাধীনতার পক্ষের লোক বেশি ছিলো। তাদের বসতভিটা নদী ভেঙে নেয়ার পর সে রুপবাবুর হাট মল্লিকবাড়িতে একবার এসেছিল।
মৃত্যুর বিস্তারিত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছিনা। আমি যদি এই রহস্য উদঘাটন করতে পারি, সে কখন মারা গেলো, কিভাবে মারা গেলো। তাহলে আমি পরবর্তীতে আপনাদের অবহিত করবো। ফাজিল মোল্লার বংশের এখানে কেউ নাই। তার বংশের সবাই ঢাকা থাকতো। সবাই মারা গেছে বলে জানান তিনি। এসময় এলাকার অনেক মানুষ তার কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো।
সেই সাথে এলাকার নবীন ও প্রবীণ অনেকেই এঘটনা শুনেছেন বলে জানান।
উল্লেখ, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানে দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ছিলা তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগ নেতা ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল।
// স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ ইকবাল মোরশেদ //
কুমিল্লায় ১০০ কেজি গাঁজা নিয়ে ২ জন মানুষ কি করল দেখুন

