খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা

খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত গাছিরা

বরিশাল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এক সময় খেজুর গাছে ভরপুর ছিল শীত আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। বিকেল হলেই গাছে হাঁড়ি বসাতেন আবার সকাল হলে রস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে আসতেন।

কেউ কেউ বাজারে রস বিক্রি করতেন আবার কেউ স্বজনদের বাড়িতেও পাঠাতেন। কালের বিবর্তনে এসব এখন ইতিহাসের পাতায় জড়ো হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে গাছ। তবে গত কয়েক বছর ধরে বদলে গেয়েছে বরিশাল  উপজেলার চিত্র। প্রতিবছর শীতে চাহিদা বাড়ছে  খেজুরের রসের । রস কিনতে বাগানে ভিড় করেন বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। শীতের প্রতিটি সকালেই এই বাগানগুলোতে লেগে থাকে রসমেলা উৎসব। প্রকৃতিতে বইছে শীতের আগমনী বার্তা। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর হালকা কুয়াশায় প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি।

একইসঙ্গে খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুত হতে দেখা গেছে বরিশাল উপজেলার  গাছিদেরও। সরেজমিনে ঘুড়ে উপজেলা দেখা  যায়,১০ থেকে ১৫ টি খেজুরের গাছ নিয়ে গড়ে ওঠে এক একটি বাগান। শীত আসলে প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন মহল্লার বাসিন্দারা ভিড় করতে থাকেন বাগানে। এ বছরও সেই আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে ছোট বড় বাগানগুলিতে। রস সংগ্রহের জন্য এখন গাছকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গাছিরা।

এদিকে ঝালকাঠি  উপজেলার পৌরসভা এলাকার পোনাবালিয়া  গ্রামের  খেজুরের বাগানের খেজুরের রস সংগ্রহকারী মিন্টু মিয়া বলেন,তিনি কয়েক বছর ধরে এই বাগান থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে এলাকার বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তাই তিনি শীতের আগমনে খেজুর গাছের পরিচর্যা করছেন। তিনি প্রতি বছর শীতের শুরু  থেকে শেষ পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করে থাকেন।শীতের সময় খেজুরের  রস বিক্রি করে স্বাচ্ছন্দ মতোই চলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ২০ দিন হয়েছে কাজ শুরু করেছি। গাছের ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ধারালো দা (গাছিদা) দিয়ে খেজুর গাছের সোনালী অংশ বের করে (যাকে বলে চাঁচ দেওয়া) নোলন স্থাপনের কাজও শেষ। কিছুদিন পরই গাছে লাগানো হয় মাটির পাতিল। এরপরই শুরু হয় সুস্বাদু খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। তা দিয়ে তৈরি হবে নানা ধরনের শীতের পিঠা ও পায়েস।

মিন্টু মিয়া আরও বলেন, গাছ একবার ছাঁটলে তিন-চার দিন রস সংগ্রহ করা যায় এবং পরবর্তীতে তিন দিন শুকাতে হয়। এভাবে কাটলে গাছের রস সুমিষ্ট হয়। রস সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। রস সংগ্রহের পর হাড়ি পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হয় অথবা আগুনে ছেকে নিতে হয়। এতে সংগৃহীত রসে গাঁজন বন্ধ হয়।

ঝুঁকি নিয়েই কোমরে রশি (দড়ি)বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করেন গাছিরা। প্রতিদিন বিকেলে ছোট-বড় মাটির হাঁড়ি গাছে বাঁধা হয়, আর সকালে রস সংগ্রহ করা হয়। কেউ কেউ কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটে-বাজারে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস দিয়ে নানান ধরনের পিঠা ও পায়েস তৈরি করেন।

//পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাগেরহাটের মোংলায় কোটি টাকার অবৈধ বিদেশি কাপড় জব্দ করেছে কোষ্টগার্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *