ভূঞাপুরে বন্যা কবলিত ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস কার্যক্রম অনিশ্চিত

ভূঞাপুরে বন্যা কবলিত ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস কার্যক্রম অনিশ্চিত

 

কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে ক্লাস কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু বন্যার কারণে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ৭টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের  বন্যায় উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসা সহ ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিবন্দি হয়ে পড়ায় এসব বিদ্যালয়ে পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে ক্লাস কার্যক্রম চলবে তা নিয়ে সংষ্কার রয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অবিভাবক। এছাড়াও নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

পানিবন্দি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, চলতি মাসের ১২ তারিখে স্কুল খোলার কথা শুনে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বন্যার কারণে আমাদের স্কুল মাঠে ও ক্লাস রুমে  পানি থাকায় আমরা কীভাবে স্কুলে যাবো। সবাই স্কুলে যাবে, ক্লাস করবে কিন্তু আমার স্কুলে যেতেও পারবোনা, ক্লাসও করতে পারবোনা। সেজন্য আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বন্যা কবলিত উপজেলার দরিপাড়া নিকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম ও আসলাম হোসেন জানান, এখনো আমাদের স্কুল মাঠ হাঁটু পানি রয়েছে। আগামী ১২ তারিখ স্কুলে খুলে দিলে কিভাবে আমরা ক্লাস কার্যক্রম চালাবে তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। এছাড়াও আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও খানুরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান, আমাদের উপজেলাটি যমুনা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছর বন্যায় বিদ্যালয়ের মাঠে ও ক্লাস রুমে বন্যার পানি প্রবেশ করে। এর ফলে দীর্ঘ দিন ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।

এবছরের বন্যায় উপজেলায় অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর চলতি মাসের ১২ তারিখে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা থাকলেও বন্যার কারণে আমাদের পানিবন্দি বিদ্যালয় গুলোতে ক্লাস কার্যক্রম নিয়ে আমরা সংশয়ে রয়েছি।

উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার রেজাউল করিম জানান, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উপজেলায় এখনো ১০টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি রয়েছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্লাস কার্যক্রম চালাতে কোন সমস্যা হবেনা।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীনুর ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার এমজি মাহমুদ ইজদানী জানান, সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে সেসব প্রতিষ্ঠানে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও আমাদের শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বন্যা কবলিত স্কুলগুলো প্রতিনিয়ত তদারকি করছে।

//মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পাঁচ বছরেও আয়-ব্যয়ের হিসাব দেননি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রুটিন তৈরিতে ১১ নির্দেশনা দিয়েছে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *