পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীতে চাঞ্চল্যকর মনির হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-১

 

পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানাধীন বড়বাইশদিয়া ইউনয়িনের টুঙ্গিবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির সিকদার (৪২) (মুদি দোকানদার) পিতা-মোসলেম সিকদার, গ্রাম-কাটাখালী, থানা-রাঙ্গাবালী জেলা-পটুয়াখালী গত ১৪-০৫-২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ১১:১৫ ঘটিকায় নিজ বাড়ী থেকে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার শেষে দোকানে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়।

 

রাত অনুমান ১১:৩০ ঘটিকায় রাঙ্গাবালী থানাধীন টুঙ্গিবাড়ীয়া সাকিনস্থ কাটাখালী এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জনৈক জাফর আকন এর বাড়ীর দক্ষিন পাশে কাঁচা রাস্তার উপর পৌঁছাইলে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা মনির সিকদারকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়।

মোঃ মনির সিকদারকে তার আত্মীয়-স্বজন কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।

 

এ সংক্রান্তে তার পিতা মোঃ মোছলেম সিকদার (৬৫), পিতা-মৃত বেলায়েত সিকদার, সাং-কাটাখালী, ০৫নং ওয়ার্ড, থানা-রাঙ্গাবালী জেলা-পটুয়াখালীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাঙ্গাবালী থানার মামলা নং-১০, তারিখ-১৫-০৫-২০২১ খ্রি: ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। ক্লুলেস এই খুনের ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পরপরই জনাব মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ পিপিএম, পুলিশ সুপার পটুয়াখালী মহোদয়ের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) এর নেতৃত্বে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের একটি চৌকস টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন।

 

ঘটনা সংগঠিত হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উক্ত টিম ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং আসামী মোঃ জাকির আকন (৩৮), পিতা-মৃত হানিফ আকন, সাং-টুঙ্গিবাড়ীয়া, থানা-রাঙ্গাবালী জেলা-পটুয়াখালীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ জাকির আকনের স্ত্রী মোসাঃ নাছিমা বেগমের সাথে ভিকটিম মোঃ মনির সিকদার এর পরকীয়া প্রেমের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতিভাবে অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় ভিকটিম মোঃ মনির সিকদারকে খুন করেছে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে প্রতিয়মান হয়েছে।

 

গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের প্রচষ্টো অব্যাহত রয়েছে।

// মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশাল নগরীতে ফেসবুক লাইভে এসে আকাশ নামক যুবকের আত্মহত্যা

 

বরিশাল নগরীতে ফেসবুক লাইভে এসে আকাশ নামক যুবকের আত্মহত্যা

 

 বরিশালে ফেসবুক লাইভ দিয়ে আকাশ (১৮) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তবে কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি। সোমবার (১৭ মে) বিকেল ৪টার দিকে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া হাওলাদার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই আকাশের মা কহিনুর বেগম ছেলের ঝুলন্ত দেহ নামিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকাশের সৎ বাবা কাওছার ও কহিনুর বেগম পশ্চিম কাউনিয়া হাওলাদার সড়কের সুমনের বাসায় থাকতেন। আকাশ বাসায় একা থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভ দিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

 

এ সময় আকাশের বিভিন্ন বন্ধুরা কমেন্টস করতে দেখা যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আকাশের মা কহিনুর এসে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে সাড়া না পাওয়ায় জানালা দিয়ে ছেলেকে আড়ার সাথে ঝুলতে দেখেন।

পরে তিনি জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ছেলেকে নামিয়ে বর্তমান স্বামী কাওছারকে সাথে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সযোগে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

আকাশের বাবা কবির হোসেন মুঠোফোনে জানান, সকালে তিনি তার বাসায় ছেলেকে রেখে গেছেন। বিকেলে লোক মারফত জেনে ঘটনাস্থলে এসে কাউকে না পেলে মেডিকেল আসেন।

তিনি জানান, আকাশের মা কহিনুর বেগম ৪ বছর পূর্বে তাকে ছেড়ে কাওছার নামে একজনকে বিয়ে করেন। এছাড়া ছেলে দুই বাসায়ই মাঝে মধ্যে থাকতো বলেন তিনি। কি কারণে আকাশ আত্মহত্যা করেছে তা তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে নিহত আকাশের মায়ের মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

এদিকে খবর পেয়ে কাউনিয়া থানার এসআই রাহাতুল, এএসআই জামাল ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই কাওছার ও কহিনুর ছেলে আকাশকে নিয়ে মেডিকেল চলে যায়। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিটিএসবি এবং সিআইডি পুলিশ।

 

 // পলাশ চন্দ্র দাস :: বরিশাল //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নড়াইলের লোহাগড়ায় ১ কেজি ৬০০ গ্রাম গাজাসহ সেতু আটক

পটুয়াখালী উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশুখাদ্য বিতরন

পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়। বুধবার ১১ টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের আয়োজনে প্রায় ১০০ জন অসহায় হতদরিদ্র শিশু পরিবারের মধ্যে শিশু খাদ্য বিতরন করা হয় ।

শিশু খাদ্যের মধ্যে ছিল খেজুর,চিনি,বিস্কুট, সুজি,মুসুরী ডাল,ফুটিকা জুস,তৈল, চাল,মুড়ি ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট। এ সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লতিফা জান্নাতীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ গোলাম সরোয়ার।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকতা মার্জিন আরা মুক্তা, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ সোহেল,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহানা হোসেন মিকি, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহম্মেদ ও পিআইও মোঃ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য লোকজন।

। মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধি।

————————————–

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ঈদের ছুটি শেষ বাংলাবাজার ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল: স্বাস্থবিধি লঙ্ঘিত

 

ঈদের ছুটি শেষ বাংলাবাজার ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল: স্বাস্থবিধি লঙ্ঘিত

 

ঈদের ছুটি শেষ, কর্মস্থলে ফিরতে থাকা দক্ষিণবঙ্গের ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে বাংলাবাজার ঘাটে। সোমবার ভোর থেকে দক্ষিণ বঙ্গের ২১ জেলার হাজার হাজার মানুষ বাংলাবাজার ঘাটে এসে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন। এদিকে আজও শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতে যাত্রীর প্রচুর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে যাত্রীরা।

 

যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে ভেঙে ভেঙে। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও। যাত্রীদের সুবিধার্থে ঘাট ও আশপাশ এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। কাজ করছে মেডিকেল টিম। তবে স্বাস্থবিধি মানার কোনো বালাই নেই। ফ্রিস্টাইলে মানুষ চলাচল করছে।

 

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে ঢাকামুখী মানুষের যাত্রা অব্যহত রয়েছে। ফেরিঘাটের সবগুলো ঘাট চালু থাকায় শিমুলিয়া থেকে একযোগে তিন-চারটি ফেরি যাত্রী ও হালকা যানবাহন নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে।

 

বাংলাবাজার ঘাট থেকে ঢাকামুখী হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়ার দিকে ছেড়ে যাচ্ছে। বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে এই মুহূর্তে ১৭ ফেরি সচল রয়েছে।

 

ঈদের ৩দিন পরও শিমুলিয়া থেকে দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে সোমবার ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে একটু কম। ভোর থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকামুখী যাত্রী চাপ বাড়ছে। ঢলের মতো রাজধানীমুখী মানুষ বাংলাবাজার ঘাটে এসে জড়ো হচ্ছে। তবে গাদাগাদি রোধে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। যাত্রীদের চাপ সামাল দিনে রবিবার থেকে দুইটি নতুন ফেরি যোগ করেছে বিআইডব্লিউটিসি।

 

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া থেকে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ট জাহাঙ্গীর মেরামত শেষে এবং ডাম্ব ফেরি রানীক্ষেত নামে ফেরি ২টি বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে মাইকিং করে ফেরিগুলোতে সুশৃংখলভাবে উঠতে যাত্রীদের বাববার সতর্ক করা হচ্ছে। যাত্রীদের নির্বিঘেœ গন্তব্যে পৌছাতে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক পুলিশ, র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার মো: সালাউদ্দিন বলেন, ‘আজ ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি। যাত্রী পারাপার নির্বিঘœ করতে একটি রো রো ও একটি ডাম্ব ফেরি যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।’

 

মাদারীপুর পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘কর্মস্থলমুখো যাত্রীদের পাশাপাশি ঘরে ফেরা যাত্রীদের চাপও রয়েছে। যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ঘাট এলাকায় ২ শতাধিক পুলিশ, র্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ পর্যাপ্ত আইন শৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। মেডিকেল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কোথাও কোন বিশৃংখলা দেখা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

 মাদারীপুর, সংবাদদাতা ॥

———————————

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

আজ শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

 

আজ ১৭ মে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪০তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি বাংলার মাটিতে পা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। এরপর তারা দীর্ঘ ছয় বছর বিদেশেই কাটান। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। বিমানবন্দরে উপস্থিত লাখো নেতাকর্মীর সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।

’ তিনি আরো বলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’

শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনের পর দলের নেতারা তার হাতে তুলে দেন দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যের সাফল্য গাঁথা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা। এর পর থেকে শেখ হাসিনা দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে টানা আটবার নির্বাচিত হয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। টানা তিনবারসহ মোট চারবার তিনি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েছেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় দলীয় সভাপতির স্বদেশ ফেরার দিনটি উদযাপনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশের জনগণের প্রতি আহবান জানান।

কর্মসূচি : বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশব্যাপী প্রতি বছর বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করলেও এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার চার দশক : বদলে যাওয়া বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী। গতকাল আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির উদ্যোগে এক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং বেলা ৩টায় মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও সারা দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে।

// দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নড়াইলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে আহত-১৫, শংকাজনক ৫ জন

পরেশ রাওয়াল বেচে আছেন…! নিজেই বললেন- ‘মারা যাইনি, ঘুমাচ্ছিলাম’…

 

বলিউড অভিনেতা  পরেশ রাওয়াল বেচে আছেন…! তার মৃত্যু সংবাদ নিয়ে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই অভিনেতার ভক্তরা এই খবরে রীতিমতো ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু এই খবর নিয়ে মুখ খুললেন পরেশ রাওয়াল নিজেই।

মজার ছলে ভক্তদের জানিয়ে দিলেন, খবরটি ভুল ছিল। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশের কথায়, সুন্দর এক জবাবের মধ্যে দিয়েই অভিনেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরেশ রাওয়ালের ‘কমিক টাইমিং’ সবার সেরা। কী লিখেছিলেন অভিনেতা?

টুইটারে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘অভিনেতা পরেশ রাওয়াল প্রয়াত। শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।’ একই সঙ্গে অভিনেতার একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি, যেখানে ছবির সামনে জ্বালানো ছিল মোমবাতি। যদিও অনেকেই এই খবর বিশ্বাস করতে চায়নি।

এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণের পরেই একটি টুইট করেন পরেশ রাওয়াল নিজেই। নিজের মৃত্যুর খবর সংক্রান্ত পোস্টটির একটি স্ক্রিনশট তুলে তিনি বলেন, ‘ ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখিত,সকাল ৭টার পরও ঘুমাচ্ছিলাম’।

তার এই পোস্ট সামনে আসার পরেই রীতিমতো হাসির রোল উঠেছে নেট দুনিয়ায়। নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, নিজের উত্তর মধ্য দিয়েই পরেশ রাওয়াল বুঝিয়ে দিয়েছে, কেন থাকে সেরা কমেডিয়ান বলা হয়। এদিকে, অভিনেতা নিজে টুইট করে মৃত্যুসংবাদ ভুল বলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ভক্তরা। বর্তমানে ‘হাঙ্গামা ২’ ছবির শুটিং করছেন এই অভিনেতা।

অনলাইন ডেস্ক।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত: প্রধান আসামি গ্রেফতার

 

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত: প্রধান আসামি গ্রেফতার

 

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহতের মামলায় প্রধান আসামি চালক শাহ আলমকে (৩৮) গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে ঢাকার শাহবাগ পুলিশের হেফাজত থেকে ওই স্পিডবোটচালককে রোববার সন্ধ্যায় শিবচর চরজানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাকের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে স্পিডবোটচালক ঘাতক শাহ আলমকে আদালতে তোলা হবে।

এর আগে গত ৪ মে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে স্পিডবোটের দুজন মালিক ও শিমুলিয়াঘাট ইজারাদারসহ চারজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে শিবচর থানায় চরজানাজাত নৌপুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে, যার মামলা নং- ০৭(০৫) ২১ ধারা- ২৮০/৩০৪-ক/৩০৪ (সংযোজিত) ৩৩৮/১৮৮/১০৯ পেনাল কোড। এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

চরজানাজাত নৌপুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, গত ৩ মে সকালে কাঁঠালবাড়ীর বাংলাবাজার পুরনো ঘাটের পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্পিডবোট ডুবিতে তিন শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এ সময় পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

 ওই সময় চালক গুরুতর আহত হন। তাকে ওই দিন শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে (ঢামেক) চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ চালককে গ্রেফতার না করলেও তাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখে। চালক শাহ আলম দীর্ঘ ১২ দিন পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। চালক শাহ আলম রোববার শারীরিক কিছুটা সুস্থ হলে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) তাকে  রাত ৮টার দিকে ছাড়পত্র দেয়।

পরে শাহবাগ পুলিশের হেফাজতে থাকা শাহ আলমকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরজানাজাত নৌপুলিশ স্টেশনের উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন সরকার নিয়ে আসেন।

নৌপুলিশ স্টেশনের এসআই আল আমিন সরকার জানান, স্পিডবোটের চালক শাহ আলমের নিজের স্থায়ী কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ভাতা ঈদগাহপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে। তার নিজস্ব কোনো বাড়িঘর নেই। চালক শাহ আলমের বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।

এ ছাড়া স্পিডবোটের মালিক চান্দু মোল্লা ওরফে চান মিয়া মৃধাকে গত ৯ মে র্যা ব আটক করে। পরে তাকে মাদারীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়। পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলেও ঈদের ছুটির কারণে ওই সময় শুনানি হয়নি।

তবে আগামী ১৮ মে আদালতে স্পিডবোটের মালিক চান্দু মোল্লার রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে বলে চরজানাজাত নৌপুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. আবদুর রাজ্জাক নিশ্চিত করেন।

আসামি চান্দু মোল্লা ওরফে চান মিয়া মৃধা মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের জসলদিয়া গ্রামের মৃত আনু মৃধার ছেলে।

শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্পিডবোটের চালক শাহ আলমকে রাতে শিবচর থানাহাজতে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

// অনলাইন ডেস্ক //

————————

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

”রফিকুল ইসলাম টাওয়ার” – টাঙ্গাইলে হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতা বিশিষ্ট মিনার

 

 

ফ্যাসিস্ট ইসরায়েল কর্তৃক বর্বোরচিত হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইঙ্গ- মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় ১৯৪৮ সালে উদ্বাস্তু ইহুদিরা ফিলিস্তিনের মাটিতে আশ্রয় নেয় এবং ভূমি ও রাষ্ট্র লাভ করে।যার নাম ইসরায়েল।

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের আধিপত্য ও দখলদারিত্ব মনোভাব ক্রমানয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।তারা বার বার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিতর ঢুকে স্থলপথ ও আকাশ পথে হামলা চালায়। স্থল পথে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করেও বেওনেট দিয়ে খুৃঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভাবে খুন করছে শিশুকিশোর আবালবৃদ্ধবনিতা এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধর্ষণ করছে ফিলিস্তিন কিশোরী ও নারীদের।

 

আকাশ পথে মুহুর-মুহুর বোমা ফেলাচ্ছে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন লোকালয়ের ভবন,দূতাবাস, হাসপাতাল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে।ফলে ফিলিস্তিন রূপান্তরিত হচ্ছে মৃত্যু নগরীতে।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সব সময় নির্লজ্জ ও বেহায়ার মতো ইসরায়েলের পক্ষ অবলম্বন করায় আরবের পূর্ণভূমি যুগের পর যুগ ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। আর তাই ফিলিস্তিনিদের উপর আধিপত্যবাদ ফ্যাসিস্ট ইসরায়েল কর্তৃক বর্বোরচিত হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ( মার্কসবাদী) যশোর জেলার উদ্যোগে আজ ১৬ এপ্রিল-২০২১ রোজ রবিবার বিকাল ৪ঃ৩০ ঘটিকায় নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

 

জেলা সাধারণত সম্পাদক কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা নেতা কমরেড মিজানুর রহমান, কমরেড সখিনা বেগম দিপ্তি, যুবনেতা মঞ্জুরুল আলমসহ আরও অনেকে।

 

বক্তরা ইসরায়েল কর্তৃক এই বর্বোরচিত নৃশংস হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং জাতিসংঘসহ বিশ্ববিবেককে ফিলিস্তিনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার উদ্বার্ত আহ্বান জানান।

 

// নিজস্ব প্রতিবেদক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে আগার ফাউন্ডেশন…

 

 

নড়াইলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে আহত-১৫, শংকাজনক ৫ জন

 

নড়াইলের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নড়াগাতী থানার ৬ নং খাশিয়াল ইউনিয়নের পেঁচিডুমুরীয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোল্যা ও শেখ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন্য আহত এবং ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। ১৬মে (রবিবার) সাড়ে ১১ টার দিকে উভয় পক্ষ ওই গ্রামের মাঠে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

আহতরা হলেন ওই গ্রামের ইঞ্জাল মোল্যার ছেলে রব্বিল মোল্যা (৩৫), দলিল উদ্দিন মোল্যার ছেলে মশিয়ার (৪০), ফুরকান শেখের ছেলে মহিদ শেখ (৪০), রকিব শেখ (৩৮) ও হাবিব শেখ (২৮), গিরু মিয়ার ছেলে বিপুল (৪০) ও মৃত মালা শেখের ছেলে হান্নাত শেখ (৬০), মৃত নজিম শেখের ছেলে মিটু শেখ (৪৫), ইসলাম শেখ (৪০), রবি শেখ (৩০) রইচ শেখ (২৭)সহ অজ্ঞাত দু’জন।

 

আহতদের কালিয়া স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রব্বিল শেখ, হাবিব শেখ ও হান্নান শেখসহ ৫ জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়া তাদেরকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ওই গ্রামের মোল্যা ও শেখ গ্রুপের মধ্যে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অজুহাতে দ্ব›দ্ব লেগেই থাকে।

তারই জেরে উভয় পক্ষ এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী (নড়াইল) প্রতিনিধি:

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

“চলো পাল্টাই বাংলাদেশ” 

 

”রফিকুল ইসলাম টাওয়ার” – টাঙ্গাইলে হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতা বিশিষ্ট মিনার

 টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণাধীন ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। সেই মসজিদের পাশেই এবার নির্মাণ হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিনার যার নাম হবে ”রফিকুল ইসলাম টাওয়ার”। মিনারটি উচ্চতা হবে ৫৭তলা ভবনের সমান বা ৪৫১ ফুট। এই মিনারের ৫০তলা পর্যন্ত থাকবে লিফট সুবিধা।
নির্মাণ শেষ হলে দিল্লির ২৪০ ফুট উঁচু কুতুব মিনারকে পেছনে ফেলে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিনার হবে এটি। এখান থেকেই আযান দেওয়া হবে। এদিকে মসজিদের কাজও প্রায় ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ও শুরু হয়েছে। মসজিদটি এক নজর দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। বিশেষ করে শুক্রবারে এই মসজিদে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
বাকি কাজ শেষ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছেন নির্মাতারা। মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হুমায়ন কবির বলেন, মসজিদটি উপজেলার নগদ শিমলা ইউনিয়নের পাথালিয়া গ্রামে যমুনার শাখা ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত। এই নদীটি মসজিদের সৌন্দর্যকে দিয়েছে এক ভিন্নমাত্রা।
২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে শুরু হয় ২০১ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ কাজ। এ কাজের উদ্বোধন করেন তার মা রিজিয়া খাতুন। নির্মাণাধীন মসজিদে ২০১৮ সাল থেকে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
এখানে শবে-বরাত ও শবে-কদর উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের বাম পাশে মাজারের মতো একটি স্থাপনা রয়েছে, সেখানে একজনের কবর দেওয়ার মতো জায়গা ফাঁকা রাখা আছে।
সেখানে সমাহিত হবেন মসজিদের নির্মাতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালের চারদিকে এক সারি টাইলস লাগানো হয়েছে, যাতে খণ্ড খণ্ড করে পুরো পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ। মেহরাবের পাশে মরদেহ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হয়েছে।
এখানে থাকবে জানাজার ব্যবস্থা। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন এই মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও এতে যুক্ত করা হবে সহস্রাধিক বৈদ্যুতিক পাখা। মসজিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১৪৪ ফুট করে। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির ছাদের মূল গম্বুজের উচ্চতা ৮১ ফুট। এই গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ১৭ ফুট উচ্চতার আরও ২০০ গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের চার কোণায় রয়েছে ১০১ ফুট উঁচু চারটি মিনার।
এছাড়াও ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে। গম্বুজ আর মিনারগুলোতে দৃষ্টিনন্দন উন্নত মানের টাইলস লাগানো হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে বিনামূল্যে হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মসজিদের পাশেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান।
মসজিদের সামনে রয়েছে কয়েকটি দোকান। খাবার হোটেলসহ আরও আছে শো পিস, আচার, খেলনাসহ বেশ কিছু পণ্যের দোকান। পাশেই রয়েছে ছোটদের জন্য ট্রেন, নাগরদোলা, নৌকা দোলনি ইত্যাদি খেলার ব্যবস্থা। মসজিদের আধা-কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হয়েছে হেলিপ্যাড।
এছাড়াও মসজিদ ঘিরে আশেপাশে ফাইভ স্টার হোটেল ও আবাসিক হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জামালপুর থেকে আসা আনিছুর রহমান বলেন, ফেসবুকে ছবি দেখে মসজিদটি দেখার সিদ্ধান্ত নেই। জুমার নামাজ আদায়ের আগে মসজিদের চার পাশ, নিচে-উপরে ঘুরে দেখেছি। সব দেখার পর খুবই ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, মসজিদের কারণে এলাকার রাস্তাঘাটসহ সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে। শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এই গ্রামটি দেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ চিনতে পারছে। মসজিদের তত্তাবধায়ক হুমায়ন কবির বলেন, মসজিদের কাজ মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নিজ অর্থায়নে শুরু করলেও বর্তমানে সবার সহযোগিতায় করা হচ্ছে। মসজিদের বাকি কাজটুকুও সবার সহযোগিতায় করা হবে। করোনাভাইরাসের কারণে মসজিদের কাজ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণ কাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হবে। এছাড়াও সৌদি আরবের কাবা শরীফের ইমামকে দিয়ে জুমার নামাজ পড়ানোর মধ্য দিয়ে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ আদায় শুরু হবে। এ প্রসঙ্গে মসজিদের নির্মাতা ও মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। বিশ্বের সব মসজিদের চেয়ে এর কারুকাজ একটু অন্যরকম।
নির্মাণকাজ শেষ হলে কাবা শরীফের ইমাম এসে নামাজে ইমামতি করে এর উদ্বোধন করবেন। নির্মাতাদের প্রত্যাশা, এ স্থাপনাটি বিশ্বের দরবারে মসজিদের গ্রাম পাথালিয়া ও বাংলাদেশকে নতুন করে তুলে ধরবে। এটি পরিদর্শন করতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটবে।                                 
    //মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি//