ঠিকাদারির আড়ালে দেলুর হাজার কোটির অবৈধ দোকান বাণিজ্য: হাজারো ব্যবসায়ী নি:স্ব

মার্কেটের আসল মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়েছেন এক ঠিকাদার। ঠিকাদারির আড়ালে কৌশলে বহু বছর ধরে ৮২৪টি দোকান নিজের দখলে রেখে চালাচ্ছেন ভাড়া-বাণিজ্য। প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় কোটি টাকা।

 

 

শুধু ভাড়া নয়, ৯১১টি অবৈধ দোকান বরাদ্দের নামে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে কয়েকটি খাত থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তার পকেটে পুরেছেন।

 

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী চার ব্যবসায়ী তাকে আসামি করে আদালতে পৃথক চারটি মামলা করেছেন। দেড় যুগ ধরে এই নৈরাজ্য চলছে নগর ভবনের কয়েক শ গজ দূরে ফুলবাড়িয়ার নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে।

 

যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তীরসেই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু অবৈধ দোকানবাণিজ্য কবজা করতে তিনটি মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে রেখেছেন ২৬ বছর ধরে

 

এক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সমিতির নির্বাচন আটকে রাখার অভিযোগও আছে। এই পদের প্রভাবেই দোকান-বাণিজ্যের ফাঁদ তৈরি করেন।

 

সেই ফাঁদে পা দিয়ে এখন হাজারো ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। ভুক্তভোগী একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে চেকের মাধ্যমে ৩৫ কোটিসহ বিভিন্ন সময়ে শতকোটি টাকা ‘ঘুস’ দেওয়ার বিষয় ফাঁস এবং এ ঘটনায় খোকনকে আসামি করে মামলা করে ব্যাপক আলোচিত হন ওই ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু।

 

এদিকে তার (দেলুর) সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে কয়েক শ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন।

 

অবৈধ পথে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগ করেছেন সেকেন্ড হোম প্রকল্পে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেতে ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

 

ঠিকাদারির আড়ালে অবৈধ দোকান-বাণিজ্য চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘এই তিনটি মার্কেটে তৈরি অবৈধ দোকান এরইমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। যিনি দোকানগুলো বানিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতারিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্তসাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দীর্ঘদিন দখলে রেখে ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি প্রকৌশল বিভাগ দেখে থাকে।’

 

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুন্সি আবুল হাশেম যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্মাণাধীন মার্কেটে দোকান ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঠিকাদারের আইনগত কোনো এখতিয়ার নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে মার্কেট পরিদর্শন করে অভিযুক্ত ঠিকাদার দেলুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তারা। এখনো এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

দেলোয়ার হোসেন যা বললেন : উল্লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার। সরকারি নিয়ম মেনেই সিটি করপোরেশনের নির্মাণকাজ করে থাকেন।

 

তার কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে করপোরেশনের কোনো অভিযোগ নেই। ঠিকাদারির পাশাপাশি তিনি আমদানি-রপ্তানি, হাউজিং, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ী হিসাবেই তিনি নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পদ দখলের অভিযোগ মিথ্যা।

 

মার্কেটে অবৈধ দোকান তৈরি করে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করা ও ভাড়া-বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের টেন্ডার ও কার্যাদেশ অনুযায়ী মার্কেট নির্মাণ করেছেন। কোনো অবৈধ দোকান তৈরি ও ভাড়া-বাণিজ্যের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

 

একটি মহল মার্কেটের দখল নিতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে কোথায় মামলা করল তাতে কিছু যায়-আসে না। সম্পদের অনুসন্ধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুদক সম্পদের হিসাব চেয়েছিল, দিয়ে দিয়েছি।

 

তবে অনুসন্ধানকারী দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেন মিথ্যাচার করেছেন। সম্পদের তথ্য দিতেও তিনি গড়িমসি করছেন। বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি।’

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফের আমল থেকেই দেলোয়ার হোসেন দেলু করপোরেশনের ঠিকাদারি শুরু করেন। তার মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন একের পর এক মার্কেট নির্মাণের কাজ পায়।

 

বিএনপি-আওয়ামী লীগ সব আমলেই তিনি নগরভবনে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ঠিকাদারির আড়ালেই তিনি শুরু করেন ‘দোকান-বাণিজ্য’। অবৈধ এই বাণিজ্য কবজায় রাখতে দখল করেন নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ।

 

মামলার এজাহার : গত এপ্রিলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আলাদাভাবে চারটি মামলা করেন। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামি দেলোয়ার হোসেন জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের উত্তর পাশে দ্বিতীয় তলায় ১২ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১২/১ নম্বর দোকান বরাদ্দ দেন।

 

২০১৮ সালের ৬ জানুয়ারি এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৩০ লাখ টাকা। এককালীন এক হাজার টাকার নোটের ৩০টি বান্ডিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতির প্যাডে সই করে দোকানের বরাদ্দ দেন তিনি। কিন্তু চুক্তির শর্ত মোতাবেক সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে কামাল হোসেন ৩০ লাখ টাকা ফেরত চান।

 

টাকা ফেরত না-দিয়ে এখন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার হোসেনকে অনেক অনুরোধের পর যখন আমি দোকানের বৈধতা হিসাবে সিটি করপোরেশনের অনুমোদনপত্র পাইনি, তখনই বুঝেছি আমি প্রতারণার ফাঁদে পড়েছি। এখন আমার দোকানও নেই, টাকাও নেই। দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করায় উলটো হুমকির মধ্যে আছি।

 

আরেক ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আসামি দেলোয়ার হোসেন একজন প্রতারক, বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী। তিনি জাকির সুপার মার্কেটের সভাপতি হিসাবে মার্কেট ভবনের সি-ব্লকের বেজমেন্টের পূর্বপাশে ১৬ নম্বর দোকান সংলগ্ন এক্সট্রা ১৬/১ নম্বর দোকান (৮৫০ বর্গফুট) লিখিতভাবে বরাদ্দ দেন।

 

এই দোকান বাবদ তিনি নেন ৪৮ লাখ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি সিটি করপোরেশন থেকে দোকানের অনুমোদন করিয়ে দিতে না-পারলে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ২০২০ সালের ১ নভেম্বর আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। টাকা না-দিলে মামলা করার কথা বললে তিনি বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম ও হাবিবুর রহমানও তাদের মামলার এজাহারে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাদের মতো হাজারো ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেটে ৯১১টি অবৈধ দোকান বানিয়ে ওই সব ব্যবসায়ীকে সমিতির প্যাডে সই করে বরাদ্দ দেওয়ার নামে দেলোয়ার হোসেন হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত ২৫০ কোটি টাকা-এ অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব দোকান অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করেন।

 

এ ছাড়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, দেলোয়ার হোসেন তিন মার্কেটের বেজমেন্টে ৫৩৯টি দোকান তৈরি করে সেগুলোর নামজারির কথা বলে প্রতি দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকা হারে মোট ২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

 

বরাদ্দ ও ভাড়া-বাণিজ্য : ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক হিসাবে দেখা গেছে, তিনটি মার্কেটে অবৈধ ৯১১টি দোকানের প্রতিটি সর্বনিু ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেন দেলোয়ার হোসেন। গড়ে ২৫ লাখ টাকা হিসাবে ৯১১টি দোকান থেকে নেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। আর ৮২৪টি দোকানের ভাড়া থেকে প্রতিমাসে আদায় হয় প্রায় কোটি টাকা (দোকানপ্রতি গড়ে নয় হাজার টাকা)। এ খাত থেকে গত ১২ বছরে আদায় করা হয় অন্তত দু’শ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বেজমেন্টে দোকানের নামজারি খাত থেকেও কোটি কোটি টাকা আদায় করেন দেলু। সব খাত মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

নগর প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২০১৪ সালে নগর প্লাজার চতুর্থ ও পঞ্চম তলার নির্মাণকাজ পান দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন। দেড় বছরের মধ্যে ২০০ দোকানের নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু দোকানগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে কৌশলে নির্মাণকাজের সময় বাড়িয়ে নেন। এই ফাঁকে সব দোকান তিনি গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেন। দুই বছর ভাড়া-বাণিজ্যের পর তিনি দোকান বুঝিয়ে দেন। প্রতি দোকান থেকে আট হাজার টাকা হারে মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। এ হিসাবে দুই বছরে এ খাত থেকে তিনি ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন; যা নির্মাণকাজের বিলের চেয়েও বেশি। একই মার্কেটের ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকান তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেগুলো সিটি করপোরেশনকে বুঝিয়ে না-দিয়ে ভাড়া-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেলু। ২০১৮ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে এসব দোকান থেকে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টাকা হারে তিন বছরে ১২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন।

 

সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এই মার্কেটের ৪ ও ৫ তলার ২০০ দোকান একইভাবে দুই বছর আটকে রেখে ভাড়া-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে রাখেন অন্ধকারে। এখনো সিটি প্লাজার ৬, ৭ ও ৮ তলার ৩৪২টি দোকানের মধ্যে ২০০টি দোকান তিনি গোডাউন ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে তিনি এখন মার্কেটমুখী না-হলেও তার লোকজন প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা হারে ভাড়া তোলেন। তার মেয়েজামাই আফিফ জামান আবীর, ভাতিজা রবিন, শাওন, আরমান ও তারেক ভাড়া তোলার কাজ করেন। দেড় বছরে এসব দোকান থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ভাড়া-বাণিজ্য করেন দেলু। ২০২০ সালের শুরুতে দোকানগুলো গোডাউন হিসাবে ভাড়া দেওয়া হয়। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়া আদায় করা হয়েছে। ছয় মাসের ভাড়া এককালীন আদায় করা হয় বলেও জানান মোস্তাক।

 

জাকির সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জানান, তাদের মার্কেটের ২, ৩ ও ৪ তলার প্রতিটি ফ্লোরে ৯৪টি করে দোকান আছে। এগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন হৃদী কনস্ট্রাকশন এ কাজ পায়। ২০০৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে দোকানগুলো করপোরেশনকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুঝিয়ে দেওয়া হয় ২০১৭ সালে। কাজ ঝুলিয়ে রেখে প্রতিটি দোকান আট হাজার টাকা হারে ভাড়া দিয়ে এ খাত থেকে নয় বছরে তিনি হাতিয়ে নেন ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এই তিন ফ্লোরের নির্মাণব্যয় বাবদ ৩৫ কোটি টাকা বিলও পান দেলোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর তৃতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরের নির্মাণকাজ ঝুলিয়ে রেখে কোটি কোটি টাকার ভাড়া-বাণিজ্য করেন তিনি।

 

দুদকের অনুসন্ধান : জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন দেলুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কাজে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে দুদক থেকে একটি চিঠিও (স্মারক নম্বর : ০০.০১.০০০০.৫০১.০১.১১৮.১৯/৩২৪৩৬) দেওয়া হয়েছে দেলোয়ার হোসেনকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩টি মার্কেট দখল করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। চিঠিতে তার কর্মকাণ্ড, সম্পদসহ ৭টি ক্রমিকে নানা ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের দায়িত্বে আছেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলী। দুদক তার সম্পদের তথ্য পেতে দেশের ৬২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। এরইমধ্যে তার বিপুল সম্পদের ফিরিস্তি এসেছে অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে। দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

 

২৬ বছর সভাপতির পদ দখল : ১৯৯৪ সালে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১-এর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদ দখলের মধ্যদিয়ে উত্থান দেলোয়ার হোসেনের। এরপর দুই বছরের ব্যবধানে তিনি ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা, নগর প্লাজা ও জাকির সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির পদও দখলে নেন। ফুলবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী মহলে পরিচিতি পান ‘চেয়ারম্যান সাহেব’ হিসাবে। ২৬ বছর ধরে ওই তিন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন দেননি তিনি। যারা তার অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেছেন, তাদেরই তিনি নানাভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সরিয়ে দিয়েছেন।

এই পদের প্রভাবেই তিনি তিনটি মার্কেটে অবৈধ দোকান বানিয়ে বরাদ্দ দেন। ব্যবসায়ীরা বারবার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও তিনি নির্বাচন দেন না। সবশেষ গত ৮ মার্চ শ্রমভবনে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় জাকের সুপার মার্কেটের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ মার্চ শ্রম অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচন করতে বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। দেলোয়ার হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আমিনুল হকের মোবাইলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার কল করা হলে প্রতিবারই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি করোনায় আক্রান্ত।সূত্র: যুগান্তর

 //অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নওগায় চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার…

নওগাঁয় ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা টাকা চুরি হওয়ার একঘন্টার মধ্যে টাকা উদ্ধার এবং চোর আটক

 

 নওগাঁ শহরে প্রকাশ্যভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে টাকা চুরির এক ঘন্টার মধ্যে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের নিকট থেকে দুপুর সাগে 12 টায় নওগাঁ সদর মডেল থানা চত্বরে আয়োজিত কে কনফারেন্সে এতথ্য দিয়েছেন নওগাঁ’র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার  মোঃ রাকিবুল আকতার।

 

ঐ প্রেস কনফারেন্সে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে গত বুধবার দুপুর সারে বারো টায় নওগাঁ শহরের পার—নওগাঁ আলুপট্টিতে অবস্থিত কল্যানী ফিড মিলের ম্যানেজার পুলক কুমার কুন্ডু(38) এক্সিম ব্যাংক শাখা থেকে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকার চার টি পৃথক ব্যান্ডিলে মোট দুই লাখ টাকা তার প্যান্টের দুই পকেটে ভরে পূবালী ব্যাংক নওগাঁ শাখায় জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

পূবালী ব্যাংকের নীচে বাটার মোড়ে পৌঁছিলে ডক্টরস ফুড নামের একটি দোকানের সামনে ভীরের মধ্যে তাকে ফেলে দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি ব্যান্ডিল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় উক্ত পুলক কুন্ডু বাদী হয়ে নওগাঁ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।পেনাল কোডের ঐ মামলা নম্বর 6 তারিখ 05-05-2021 ধারা 379/411

মামলা দায়েরের সাথে সাথে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়ার নির্দেশে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে।সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল আকতার, সদর র্সাকেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

আবু সাঈদ, সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম জুয়েল এবং পুলিশ পরিদশক তদন্ত মু ফয়সাল বিন আহসান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো বগুড়া জেলা সদরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মৃত আলমের পুত্র মোঃসেলিম (24) মোঃমুকুলের পুত্র মোঃ আরিফ (25), মৃত লুৎফরের স্ত্রী মোছাঃ রিতু(45) সাইদুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ সেলিনা (38) এবংলালন ব্যাপারীর স্ত্রী মোছাঃ আয়শা (32) তাদের নিকট থেকে চুরি করে নেয়া পঞ্চাশ হাজার টাকার ঐ ব্যান্ডিল উদ্ধার করা করা হয়।  গ্রেফতারকৃতদের থানায় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার দুপুরেই কোটে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে এই সংঘবদ্ধ চোর চক্র আসন্ন ঈদকেসামনে রেখে নওগাঁ জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে চুরি করতো। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধীক মামলা রয়েছে। খুব শীগ্রই এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করা হবে।

//একেএম কামাল উদ্দিন , নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নওগাঁ র ১৩ হাজার কেজি আতপ চাল উদ্ধার

চট্টগ্রামে করোনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ১৫৫

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন ভাবে করোনায় আক্রান্ত- হয়েছেন ১৫৫ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা দঁাড়ালো ৫৪৫ জনে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্তর সংখ্যা দাড়ালো ৫০ হাজার ৭৭৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ৯ টি বিভিন্ন ল্যাবে ১ হাজার ৬৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৫৫ জনের দেহে করোনার সংক্রমণের সনাক্ত হয়েছে। তৎমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ২০০ টি নমুন পরীক্ষা করে ৪৭ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৩১৯ টি নমুনা পরীক্সা করে ২৩ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ( চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ৬৭ টি নমুনা পরীক্সা করে ১৩ জন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারীর এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১৭৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে।  
তা ছাড়া ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৫৩ টি নমুনা পরীক্সা করে ১৬ জন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৭১ টি নমুনা পরীক্সা করে ৯ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল (আরটিআরএল) ল্যাবে ৩৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৯ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। এ দিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারো শরীরো করোনার অস্তিত্ব মেলেনি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫৫ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। উক্ত সময়ে ৪ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। নতুন অঅক্রান্-দের মধ্যে নগরের ১২০ জন এবং উপজেলার ৩৫ জন। 
// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //

খুলনার রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবে ইফতার ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত

 

রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ৬ মে উপজেলা বিআরডিবি মিলনায়তে ইফতার ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক শেখের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, রূপসা কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ফ.ম. আ: সালাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন থানার ওসি তদন্ত মো: সিরাজুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আ:মজিদ ফকির, শিক্ষক বাকির হোসেন বাকু, এমপির কোয়াডিনেটর নোমান ওসমানী রিচি, নলধা মৌভোগ ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি, রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব, বিশিষ্ট সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম সুমন (মেজ ভাই), রূপসা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মাহাবুবুর রহমান, ফকিরহাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন, এক পরিবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এম হানিফ হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান।

 

আরও ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক তরুণ চক্রবতী বিষ্ণু, ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি জিএম আসাদুজ্জামান, ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন, এক পরিবার সংগঠনের আহবায়ক কামরুল হাসান দুলাল,বিশিষ্ট শিল্পপতি রনি সরদার, জেলা যুবদলের সহ সভাপতি মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা ছাএদলের সহ সভাপতি শাহ জামান প্রিন্স, দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার এম এ আজিম, ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আবদুল জব্বার শিবলী, আঃ মজিদ শেখ, কোষাধ্যক্ষ ফ ম আইয়ুব আলী, দপ্তর সম্পাদক চন্দন ভট্টাচার্য্য, প্রচার সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক নাজিম সরদার, সদস্য সাংবাদিক এইচ এম রোকন, বাংলাদেশ পোস্টের সাংবাদিক ইউসা মোল্লা, মিলন সাহা চিত্ত সেন, কুরবান শেখ, পারভেজ কবীর, আবু সাইদ, আশিকুজ্জামান সিয়াম, রনি খন্দকার, তারেক আজিজ, বদিউজ্জামান, ছাএলীগের জাহিদ, জাহাঙ্গীর শেখ, শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

// আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

অবৈধ শিশু খাদ্য তৈরী, মোবাইল কোর্টের জরিমানা

নিম্নমানের শিশু খাদ্য তৈরি করায় প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে মোবাইল কোর্ট

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন কাজ করছে সমগ্র বাংলাদেশে। এছাড়া ইদকে উপলক্ষ করে অনেক নামে বেনামে প্রতিষ্ঠান অপরিষ্কার নোংরা পরিবেশে, মানহীন সেমাইসহ শিশু খাদ্য তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন।

 

তারই ধারাবাহিকতায় আজ ০৬ এপ্রিল-২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার মুদাফা,বড় দেওড়া,টঙ্গী এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আয়াত ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে দেখতে পান অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে, সম্পূর্ণ নিম্নমানের ও ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে জুস,লিচি,আইস ললিসহ বিভিন্ন শিশু খাদ্য উপাদান তৈরি করছে।তাছাড়া এখানে প্রাণ কোম্পানির বিভিন্ন প্রোডাক্টের হুবহু অনুকরণে বোতল ডিজাইন ও প্রায় একই নামকরণে তৈরি করে ক্রেতাদের যেমন ঠকাচ্ছে তেমনি শিশুদের দীর্ঘ মেয়াদি শারীরিক সমস্যার কারণে বৃহৎ ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

আর তাই জনস্বার্থ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে আয়াত ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠান সিলগালা( সাময়িক বন্ধের আদেশ) করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দৈনিক বিশ্ব…

বরিশালে দেড় হাজার অসচ্ছল মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সামগ্রী বিতরন করা হয়

বিশ্বব্যাপি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া মানুষের জীবন যাপনের কথা বিবেচনা করে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ এর শুরু থেক বরিশাল জেলা প্রশাসন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ।
কর্মসূচির আওতায় আজ বৃহস্পতিবার (৬ই ) মে সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো শুভেচ্ছা উপহার সামগ্রী দেড় হাজার নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া দরিদ্র । দুঃস্থ, ভাসমান এবং অসচ্ছল মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়। উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল, লবন, চিনি, সেমাই দেওয়া হয়।
এসময় অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ জসীস উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম (এমপি)।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাইফুল হাসান বাদল, পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার) পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক, তালুকদার মোঃ ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন ।
আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড উপ-পরিচালক সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রাজিব আহমেদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বরিশাল প্রশান্ত কুমার দাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম বাড়ৈ, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুনিবুর রহমানসহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথি সাহায্য ত্রান সমাগ্রী বিতরনকালে পাণি সম্পদ প্রমিন্ত্রী বলেন, আপনারা স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করে চলাফেরা করবেন পাশাপাশি সবাই ঘরে থাকবো প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবো প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাহিরে যাবেন না।
এসময় তিনি বরিশাল নিরাপদে ঘরে অবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে তিনি ও বিশেষ অতিথি প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আগত দুস্থ,অসচ্ছল ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেন

 মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় মমতা ব্যানার্জীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় মমতা ব্যানার্জীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) এক বার্তায় এ অভিনন্দন জানান তিনি। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব সারওয়ার সরকার জীবন।

তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল বুধবার রাজ্যপালের কাছে শপথ নেন মমতা ব্যানার্জী। বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস।

অনলাইন ডেস্ক।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মমতার শপথ গ্রহণ….

ইরাকের দুই তেলকূপ ও নিরাপত্তাচৌকিতে আইএসের বোমা হামলা নিহত-১

 

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক শহরের কাছে অবস্থিত দুটি তেলকূপে বুধবার বোমা হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।

এ সময় আইএস সন্ত্রাসীরা পাশের একটি নিরাপত্তাচৌকিতেও হামলা চালায়। এতে এক পুলিশ নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।খবর রয়টার্সের।

বোমা হামলার পর তেলকূপে ওই এলাকায় আগুন ধরে যায়। তবে ইরাকের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বোমা হামলার কারণে বাই হাসান তেলক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। তেলকূপের কাছে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে তেল উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির আগেই দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

নিরাপত্তাচৌকিতে হামলায় পুলিশকে ব্যস্ত রেখে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনামতো ভেতরে ঢুকে তেলক্ষেত্রে বোমা হামলা করে। বোমা হামলার পর থেকে দুটি কূপেই তেল উত্তোলন বন্ধ আছে।

অনলাইন ডেস্ক।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

 

স্থগিত IPL: দেশে ফেরার আগে জস বাটলার নিজের ব্যাট উপহার দিলেন যশস্বীকে

 

আইপিএল স্থগিত হওয়ার পরের দিন গতকালই বুধবার (৫ মে) নিজেদের দেশে ফিরে এসেছেন ৮ ইংলিশ ক্রিকেটার। জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, স্যাম বিলিংস, ক্রিস ওকস, মঈন আলি, জেসন রয়, স্যাম কারেন এবং টম কারেনরা আহমেদাবাদ থেকে হিথরোতে পৌঁছে গেছেন। ইংল্যান্ডে ফেরার আগে বাটলার তার রাজস্থান রয়্যালস টিমের তরুণ সতীর্থকে দুরন্ত এক উপহার দিয়ে এসেছেন। 

 

টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্ববন্দিত নাম বাটলার। বিশ্বকাপ জয়ী উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তার নিজের  ব্যাটটা দিয়েছেন যশস্বীকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের নায়ককে সেই ব্যাটের ওপর বাটলার লিখে দিয়েছেন, “নিজের প্রতিভা উপভোগ করো যশ, আমার শুভেচ্ছা রইল।” 

 

রাজস্থানের হয়ে এই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচ প্রথম একাদশে জায়গা পাননি যশস্বী। রাজস্থান চেষ্টা করছিল বেন স্টোকসের বদলে ওপেনিংয়ে মনন ভোহরাকে খেলিয়ে সেট করানোর। কিন্তু ভোহরা দাগ কাটতে না পারায় বাটলারের সঙ্গে যশস্বীকে ওপেন করায় রাজস্থান। শেষ তিন ম্যাচে যশস্বী ৬৬ রান করেন।

 

এবারের আইপিএল দেখেছিল বাটলারের তাণ্ডবলীলা। আইপিএল ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির করেন তিনি। নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ৬৪ বলে ১২৪ রানের মারাকাটারি ইনিংস খেলেন ইংল্যান্ডের জস বাটলার। তার ব্যাটে ভর করেই এদিন রাজস্থান ২২০ রান তুলেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ ৫৫ রানে জিতেছিলেন বাটলাররা।

 

অন্যদিকে, যে ৮ জন ইংলিশ ক্রিকেটার ইংল্যান্ড ফিরেছেন, তাদের সকলকেই সেই দেশের সরকারের বেঁধে দেওয়া হোটেল ১০ দিন নিভৃতবাস কাটিয়েই নিজের ঘরে ফিরতে হবে। তবে এখনও ভারতে ইয়ন মর্গ্যান, ক্রিস জর্ডান ও দাউদ মালানের মতো বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার রয়ে গেছেন। অবশ্যই তাদেরকেও দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে বিসিসিআই।

// অনলাইন ডেস্ক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস-২০২০

মামুনুলকে জড়িয়ে আসামীর জবানবন্দি : নজরদারিতে ১১ মাদ্রাসা

 

হেফাজতের ডাকা হরতালের মূল উদ্দেশ্যই ছিল তাণ্ডব চালিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ আর ভাংচুর চালাতে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দিয়েছিলেন বিলুপ্ত হেফাজতের সাবেক নেতা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা। এমনকি তাণ্ডবে অংশ নিতে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছিল এ পরিকল্পনায়।

গত এক দশকে নারায়ণগঞ্জে নিজেদের শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে হেফাজত। আর এক্ষেত্রে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে হেফাজতপন্থি ইমামদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

 

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তারা হেফাজতের পক্ষে সমর্থন ও ফান্ড আদায়ের জন্য কাজ করতেন। পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত হেফাজতের নেতারা রিমান্ডে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।

 

এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের হাতে গ্রেফতার হওয়া এক হেফাজত নেতা প্রথমবারের মতো আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

ওই জবানবন্দিতে হেফাজত নেতা ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিক গত ২৮ মার্চ হরতালে তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীর কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান পাটোয়ারি হরতাল সফল করার উদ্দেশ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জ্বালাও-পোড়াওসহ গাড়ি ভাংচুরের দায়িত্ব দেন তাকে। গত ৪ মে বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুন কবীরের আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিক এসব তথ্য দিয়েছেন।

 

অপরদিকে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জের ৭ নেতা ও ১১টি মাদ্রাসাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটের কাছে সম্প্রতি গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকা মাদ্রাসাগুলোর অর্থ লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

 

তিনি জানিয়েছেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মনির হোসাইন কাশেমীসহ ৭ জন সন্দেহভাজন নেতাকেও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের (জেলা) পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, হরতালের সহিংসতায় আসামি আবু বকর সিদ্দিক মসজিদে ইমামতির আড়ালে হেফাজতের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। হরতালের দিন তাণ্ডবের ঘটনায় সরাসরি লিপ্ত ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে মহাসড়কে কর্মী সমর্থকদের জড়ো করেন। ওই দিনের সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

তিনি জানান, আদালতে স্বীকারোক্তি ছাড়াও গ্রেফতারকৃত আবু বক্কর আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া হেফাজত নেতাদের অনেককে শ্যোন অ্যারেস্ট করে আমরা রিমান্ডে তথ্য নেয়ার চেষ্টা করছি।

 

এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শুধুমাত্র কওমি মাদ্রাসাগুলোর ওপর ভিত্তি করে নারায়ণগঞ্জে গত এক দশকে হেফাজতে ইসলাম শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করেছে। বিশেষ করে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লার বক্তাবলী, আলীরটেক, সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জে হেফাজতের শক্তি সবচেয়ে বেশি।

 

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাণ্ডব নিয়ে হেফাজতের মধ্যে ২টি গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছিল। শহরকেন্দ্রিক নেতারা তাণ্ডবের বিপক্ষে থাকলেও কেন্দ্রীয় নেতা মনির কাশেমীর নেতৃত্বেই নারায়ণগঞ্জে বেশিরভাগ তাণ্ডব সংঘটিত হয়। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছিলেন এবং হরতালের আগে বিএনপির সাবেক এমপির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। এই কেন্দ্রীয় নেতা ২০১৯ ও ২০২০ সালে দেশের বাইরে বিএনপির খালেদা বিরোধী ও কিংস পার্টির সমন্বয়ে গঠিত একটি অংশের ডাকা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলেও আমাদের কাছে প্রমাণ আছে।

 

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যেই যে ১১টি মাদ্রাসাকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে সেগুলো হলো- সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের জামিয়াতুল আবরার হাফিজিয়া মাদ্রাসা, নয়া আঁটি কিসমত মার্কেটে অবস্থিত আশরাফিয়া মহিলা মাদ্রাসা, সানারপাড় আব্দুল আলী দারুস সালাম হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা, মাদানীনগরের মাওলানা শাইখ ইদরীম আল ইসলামী, মাদানীনগরের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা, নিমাই কাশারীর আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া নুরুল কোরআন মাদ্রাসা, মুক্তিনগর নয়াআঁটি ইফয়জুল উলুম মুহিউছউন্নহ আরবিয়্যাহ মাদ্রাসা, ভুইয়াপাড়া জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসা, সাইনবোর্ড জামিয়াতুল ইব্রাহিম মাদ্রাসা, মারকুজুল তাহরিকে খাতমি নবুয়াত কারামাতিয়া উলুম মাদ্রাসা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ সুমিলপাড়া নূরে মদিনা দাখিল মাদ্রাসা।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানিয়েছেন, যারা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রতিষ্ঠান বা তাদের ক্ষেত্রে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছি। এগুলো অব্যাহত থাকবে। সূত্র: যুগান্তর

।।অনলাইন ডেস্ক।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মূখ্যমন্ত্রী মমতা….