খুলনায় করোনাকালে কর্মহীনদের মাঝে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন

 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে ঘরে থাকা কর্মহীন মানুষের মাঝে খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজন শনিবার হতে দ্বিতীয় পর্যায়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত ‘বেসরকারি মানবিক সহায়তা সেল’-এর আওতায় আজ দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় চত্ত্বরে কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, করোনা পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে ত্রাণ বিতরণে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, করোনাকালে সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে সবসময় আছে এবং থাকবে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করে ঘরে থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সিটি মেয়র সরকারের পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। মেয়র এধরণের উদ্যোগের জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র তিনশত জন কর্মহীন ইজিবাইক-থ্রি হুইলার শ্রমিক ও দোকান কার্মচারীর প্রতি জনের মাঝে সাত কেজি চাল, এক কেজি আলু, ডাল ৫০০ গ্রাম, তৈল ৫০০ গ্রাম ও সবজিসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

 

  //আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা  ব্যুরো//

গাছ থেকে সামান্য আম পাড়া নিয়ে শুধু সংঘর্ষ নয়: নিহত-১, আহত প্রায়-১০

 

গাছ থেকে আম পাড়া নিয়ে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে লিটন মিয়া (৪০) নামে এক যুবক নিহতের ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে। । এসময় আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের প্রায় ২০/২৫ টি বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটেরও ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

শনিবার সকাল ৭ টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মধ্যলালপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে নিহত লিটন উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মধ্যলালপুর এলাকার আব্বাছ আলীর ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার বিকালে গাছ থেকে কাঁচাআম পাড়াকে কেন্দ্র করে এলাকার কাঞ্জিবাড়ি ও উমরাবাড়ির শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে রাতেই উভয়পক্ষের লোকজন সালিশে বসেন। কিন্তু সেই সালিশ বৈঠক মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয়।

শনিবার সকালে  উমরাবাড়ির মিশ্রি মিয়ার নেতৃত্বে ১০/১২ জন কাঞ্জিবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের ২০/২৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে কাঞ্জিবাড়ীর লিটন মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এব্যাপারে  কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান জানান, একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

 

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

হুইপ শামসুল হকের চরম ভূমি জালিয়াতি

 

জাল-জালিয়াতি করে অন্যের জমি আত্মসাৎ করার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম পটিয়া আসনের এমপি ও হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তিনি বাসার বাবুর্চিকে জায়গার মালিক সাজিয়ে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমি আত্মসাৎ করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে হুইপের ভয়াবহ জাল-জালিয়াতির ঘটনা উঠে আসে।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘শামসুল হক চৌধুরীর জীবনটাই  জালিয়াতিতে ভরা। তার জালিয়াতির আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে বাবুর্চিকে জমির মালিক সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ করা। শামসুল হকের জালিয়াতির ফলে জমি হারানো ওই পরিবার প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ এপ্রিল বিসিএস প্রশাসনের সদস্য হিসেবে বাকলিয়া কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পের তিন গন্ডা দুই কড়া জমির বরাদ্দ পান আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল হায়দার মজুমদার। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ওই জমি বিক্রি করে দেন হাজী মোহাম্মদ শফিক আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে।

কিন্তু সহজসরল শফিকের জমির ওপর নজর পড়ে বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর। জমি গ্রাসের কাজে তিনি সহযোগিতা নেন হুইপের তৎকালীন ঢাকার বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমানের। ২০০১ সালে পরিকল্পনামতো সোলেমান বাবুর্চিকে মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সাজিয়ে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য খুরশিদা খানম নামে এক নারীকে রেজিস্ট্রি দেন। ওই দলিলের শনাক্তকারী ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী নিজে।

২০০২ সালের মাঝামাঝি জালিয়াতির বিষয়টা বুঝতে পারেন সোলেমান বাবুর্চি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হলফনামা দিয়ে জালিয়াতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সোলেমান বাবুর্চি।

এ সময় সাড়ে ৮ লাখ টাকার জমি কিনে প্রতারিত হয়েছেন তা বুঝতে পেরে খুরশিদার পরিবার শামসুল হককে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় এক প্রকার বাধ্য হয়ে তিনি সাড়ে ৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে জালিয়াতি করে নেওয়া জমিটি তার ভাই মাহাবুবুল হক চৌধুরীর নামে লিখে নেন। ২০০৬ সালে আমমোক্তারনামা দলিলমূলে জায়গাটির মালিক বনে যান শামসুল হক।

জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলে ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই জমির মালিকের ছেলে মোহাম্মদ মোক্তার সিএমপির বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর ৬৭০। ওই ডায়েরিতে  তিনি বিবাদী হিসেবে শামসুল হক চৌধুরীর নাম উল্লেখ করেন। থানায় ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, শামসুল হক চৌধুরী তার পৈতৃক সম্পত্তিতে যেতে বাধা দিয়েছেন। মারধরেরও হুমকি দিয়েছেন।

কী ছিল সোলেমানের সেই হলফনামায় : শামসুল হক চৌধুরীর প্লট জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খোলেন মোহাম্মদ শফিক আহমেদ সেজে জায়গা রেজিস্ট্রি দেওয়া শামসুল হকের বাসার বাবুর্চি মোহাম্মদ সোলেমান ওরফে সোলেমান বাবুর্চি। ২০০২ সালের ২৪ নভেম্বর সকালে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম শ্রেণির হাকিম আদালতে হাজির হয়ে হলফনামা দেন। ওই হলফনামায় সোলেমান ঘোষণা করেন, ‘আমি ঘোষণাকারী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম মতিন সাহেবের মাধ্যমে পরিচিতির সূত্রে উপরোক্ত এ কে এম মতিন, মুসলিম উদ্দিন এবং শামসুল হক চৌধুরীর একত্রে ভাড়ায় নেওয়া ঢাকাস্থ বাসায় আমি তাদের অধীনস্থ বাবুর্চি হিসেবে চাকরি নিই। ওইখানে চাকরি করা অবস্থায় চট্টগ্রামে ছুটিতে এলে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে শামসুল হক চৌধুরী আমাকে বলেন, তার এক চাচা বর্তমানে খুবই অসুস্থ আছেন। তার পক্ষে বর্তমানে চলাফেরা করা অসম্ভব। তাই তার পক্ষে একটি দলিলে রেজিস্ট্রি দিতে হবে। তার কথামতো রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে শামসুল হক চৌধুরীর উপস্থিত ও অনুগত কর্মচারী হিসেবে দলিলে টিপসই দিই। আমি কোনোরকমে সাধারণ পড়তে পারি ও দস্তখত জানি। কিন্তু শুধু টিপ দিতে হবে বলায় টিপ দিই। আমি উক্ত দলিলের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। উক্ত শামসুল হক চৌধুরীও সাক্ষী হিসেবে দস্তখত করেন। ইদানীং সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত দলিলে গ্রহীতাপক্ষ আমাকে মূল দাতা মনে করে ১৫ অক্টোবর, ২০০১ দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি উক্ত সম্পত্তির মালিক নই এবং আমি উক্ত শামসুল হক চৌধুরীর কথা ও নির্দেশমতো তার চাচার স্থলে টিপ দিয়েছি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের জটিলতা পরিহার করতে প্রকৃত তথ্য ও সত্য বর্ণনা করলাম। ১৫ অক্টোবর, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে আমার দেওয়া টিপের সত্যতা প্রমাণের জন্য নিম্নে আমার টিপ প্রদান করিলাম। অত্র হলফনামায় বর্ণিত উপরোক্ত বিষয়াদি আমার সজ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সত্য আমি স্বয়ং ঘোষণাকারী বিধায় উপরোক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত আছি।’ সূত্র: বা.প্রতিদিন

//ডেস্ক নিউজ//

চট্টগ্রামের বাশখালী বিদ্যুত কেন্দ্রে বেতনভাতা নিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ : মৃত্যু-১. আহত ২০

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রামের বাশখালী বিদ্যুত কেন্দ্রে বেতন ভাতা নিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে  এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছ,  আহত হয়েছে প্রায় ২০ জন।

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত দাবি করে ১০ টি বৈজ্ঞানিক কারণ প্রকাশ করেন গবেষকরা

 

কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাস বায়ুবাহিত নয় বলে এত দিন দাবি করে আসা হয়েছে। কিন্তু সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলো আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ ল্যানসেট’-এ।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডার ছয় গবেষক যুক্ত আছেন এই গবেষণায়। নিজেদের দাবির পেছনে অন্তত ১০টি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের বক্তব্য, জীবাণুটি বায়ুবাহিত হওয়ার পক্ষেই প্রমাণ বেশি।

এই ছয় বিজ্ঞানীর দেখানো দশটি বৈজ্ঞানিক কারণ হলো:

১) সুপার-স্প্রেডার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ, কোন পরিসরে ঘটেছে, ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, এসব খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট শ্বাসপ্রশ্বাসে নির্গত জলকণা বা ড্রপলেটসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো অসম্ভব।

২) পাশের ঘরে ছিলেন, সংক্রমিতের মুখোমুখি হননি, তাও করোনা আক্রান্ত হন।

৩) আক্রান্তদের ৩৩ থেকে ৫৯% উপসর্গহীন। সে ক্ষেত্রে কীভাবে ছড়াচ্ছে?

৪) বাইরের তুলনায় ঘরের ভেতরে বেশি সংক্রমণ ঘটছে।

৫) হাসপাতালের কর্মীরা পিপিই পরেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

৬) কোভিড আক্রান্তের ঘরের বাতাসে ভাইরাস মিলেছে।

৭) কোভিড হাসপাতালের এয়ার ফিল্টারে ভাইরাস পাওয়া গেছে।

৮) খাঁচা-বন্দি প্রাণীরা সংক্রমিত হয়েছে এয়ার ডাক্ট থেকে।

৯) কোনো গবেষণায় এ পর্যন্ত ভাইরাসটি বায়ুবাহিত না হওয়ার পক্ষে প্রমাণ নেই।

১০) ড্রপলেটসে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ বিশেষ নেই।

সাতক্ষীরায় বাস-পিকআপ সংঘর্ষ: মৃত্যু-২

 

সাতক্ষীরার সুভাষিনি এলাকায়  দু’টি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শ্রমিক নিহত ও আরো কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে তালা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা -খুলনা মহাসড়কের সুভাষিনি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শ্রমিক হলো সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার জাফরপুর গ্রামের মুন্না (২৫) পিতা আবু বক্কার একই শফিকুল ইসলাম (৩৪)। একটি পিকআপে করে ২০/২২ জন ইটভাটা শ্রমিক শরিয়তপুর এলাকার ইটভাটা থেকে কাজ শেষে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ফিরছিল। পথিমধ্যে ভোর রাত সাড়ে ৩ টার দিকে তালা উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের সুভাষিনি এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইটভাটা শ্রমিকদের বহনকারি পিকআপটি রাস্তার উপর উল্টে যায়। এসময় মুন্না ও শফিকুল ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এঘটনায় আহত হয় আরো কমপক্ষে ১০ জন। আহত ১০ জনকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তাদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

// মোঃ জাকির হোসেন, সাতক্ষীরা//

ছোটবেলার মিনা পাল হয়ে উঠল মিষ্টি মেয়ে কবরী

 

১৯৫০ সালের ১০ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্ম হয় কবরীর। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং ছবির মধ্যে দিয়ে সিনেমায় অভিষেক হয় ১৪ বছরের মেয়ে মিনা পালের, সেসময়ই নতুন নাম হয় কবরী।

সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাও কবরীকে যতটা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছিলেন, ততটা হয়তো বাংলাদেশের সিনেমা জগতে অন্য কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি।

আর সেজন্যেই ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

কৈশোর আর যৌবনের পাট চুকিয়ে ফেলার পরও ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে কবরীর সেই গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই ছিল। ২০১১ সালেও  এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এখনও দেখা হলে কেউ কেউ বলে- ‘আপনি ঠিক আগের মতই আছেন।’

কিন্তু কেউ কি কখনো একরকম থাকতে পারে! পারেনা… তখন আমি তাকে বলি, আপনি আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন বলেই এরকম মনে হয়।

অভিনেতা হিসেবে মানুষের হৃদয়ের কাছে যেতে পারা, মানুষের ভালোবাসার পাত্র হতে পারাটাই কবরীর সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন কবরীর সমসাময়িক অভিনয় শিল্পী মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা হিসেবেই বেশি পরিচিত।

তার মতে, কবরী তার অভিনয় দিয়ে মানুষকে যতটা প্রভাবিত করতে পেরেছেন, তেমনটা আর কেউ পারেননি।

সিনেমার পর্দায় বাংলাদেশি সাধারণ মেয়ে হিসেবে কবরীকে যেভাবে দেখা যেত, বাস্তবের গ্রামীণ নারী বা শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরের মেয়ের চরিত্রটা ঠিক সেরকম ছিল।

অভিনয় শিল্পী হিসেবে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সহজাত প্রবৃত্তি কবরীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা অবস্থান দিয়েছে বলে মনে করেন মাহমুদা চৌধুরী, যিনি চার দশকেরও বেশি সময় জড়িত ছিলেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার সাথে।

‘মিষ্টি মেয়ে’ ছাড়া তিনি ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ তার চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল।

১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ সিনেমায় দর্শক এক লাস্যময়ী কবরীকে আবিষ্কার করে। সেই চলচ্চিত্রের ‘সে যে কেন এল না, কিছু ভালো লাগে না’ গানটি এখনও বহু দর্শকের বুকে বাজে।

খুব বেশি মেক আপ করতো না, এমনকি চুলটাও একদম সাধারণ একটা মেয়ের মত রাখতো। যার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে খুব আপন হয়ে ধরা দিতো।

আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কবরী বলেছিলেন, ‘সুতরাং’ সিনেমার কিশোরী কবরী দর্শকদের কাছে যে এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, সেটা তিনি ভাবতেই পারেননি।

শুরুর দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তাকে প্রচুর রিহার্সাল করতে হয়েছিল ‘ভাষা থেকে চাঁটগাইয়া আঞ্চলিক টান’ এবং কথায় ‘নাকি নাকি ভাব’ দূর করতে।

কবরী বলেছেন, তখন চোখ তুলে তাকাতে সাহস পেপেতেন না, খুব লজ্জা পেতেন। সুভাষ দত্তই তাকে শিখিয়েছেন। কিন্তু ‘সুতরাং’এর পর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরপরের দুই দশকে ‘রংবাজ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’য়ের মত বহু ব্যবসা সফল এবং আলোচিত সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন।

বাংলাদেশের সিনেমায় ‘নায়ক রাজ’ হিসেবে পরিচিত রাজ্জাকের সঙ্গে তার জুটি এখন পর্যন্ত নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আলোচিত জুটি।

বাংলাদেশের সিনেমায় কিংবদন্তী তুল্য এই জুটি দর্শকদের কাছে যতটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, তার ধারে কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি আর কোনো জুটি।

কবরী মনে করতেন, রাজ্জাকের সঙ্গে অভিনয়ের সময় তাদের দু’জনের আবেগের অকৃত্রিমতার কারণেই জুটির রসায়ন মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে বা যুদ্ধ পরবর্তী উত্তাল সময়গুলোতে রাজ্জাক-কবরী জুটি তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সমাজের সাধারণ মানুষের চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করতো এবং মানুষকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিয়েছিল বলে এই জুটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের একজন সিনেমা গবেষক অনুপম হায়াৎ।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

 

দেশের বরেন্য চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী আর নেই…

দেশের বরেন্য অভিনেত্রি সারাহ বেগম কবরী আর নেই। তিনি বেশ কয়েকদিন ধরেই করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিতসাধীন ছিলেন।

কবরী সারোয়ার (জন্ম: ১৯ জুলাই ১৯৫০) (অন্য নাম: সারাহ বেগম কবরী) হলেন বাংলাদেশী অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ। তিনি বিংশ শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকের বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নায়িকা ছিলেন।

১৩ দিন করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে পরাজয় বরন করেন। শনিবার দিবাগত রাত ১২ঃ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

খুলনার রূপসার জনগণের ভালবাসায় শিক্ত ওসি মোশাররফ হোসেন

 

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জনবান্ধব, কর্মবীর আলোকিত মানুষ,সু- প্রশংসিত, খুলনার রূপসা উপজেলার সকল জনগণের সেবার মান উন্নত করার লক্ষে তিনি নিয়মিত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি হলেন থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন।

ইতিমধ্যে কর্ম ও জনসেবা দিয়ে সকল মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

থানার চৌকস পুলিশ অফিসার গন তাহার নির্দেশে ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে দিনরাত প্রহরায় নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছে।

যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় ও জনগণের যেকোন সমস্যার পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস এর মোকাবেলায় উপজেলার হাট-বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ প্রদানে কাজ করে চলেছেন।

নব-যোগদানকৃত ওসি মোশাররফ  মাদকদ্রব্য, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতিসহ  অনৈতিক কর্মকান্ড কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করার কাজে নিজেকে অব্যাহত রেখেছেন।

জনগণ তথা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ভদ্র আচরণ করে প্রমাণ করেছেন পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।

অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের এই অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ তার কর্মযজ্ঞ দিয়ে রূপসা থানার অতীতের জরাজীর্ণ রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

আইন শৃংখলা পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় এখন অনেক ভাল।

ওসি মোশাররফ এর  বিচক্ষণতা গরীব, দুঃস্থ,অসহায় পরিবারের সদস্যসহ সকল মহলের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার এই সুষম সেবা জনগণের মাঝে অটুট থাকুক এই প্রত্যাশা সকলের।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//