ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস উল্টে নিহত ৩

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বাবনাতলা নামক স্থানে বাস উল্টে তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে রাস্তার ওপর ইমরান পরিবহণ নামে একটি বাস উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার পানদুড়িয়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম সুরুজ (৪৫) ও অজ্ঞাত দুই যুবক, তাদের বয়স আনুমানিক (৪৮) ও (৩০)।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটের সময় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমরান ট্রাভেলস (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৩০২০) নামে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। যার ফলে বাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়ে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত এক যাত্রী জানান, মনে হয় গাড়ির ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়েছিল। যে কারণে হঠাৎ বাউলি দিয়ে রাস্তার ওপর গাড়িটি উল্টে যায়।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এএসআই আবু সাঈদ বলেন, সড়কের ওপর ইমরান পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন ও ভাঙ্গা হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়ার পথে আরেকজন মারা যায়।

চীনা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার গুগলের প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে গ্রেফতার

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চুরির অভিযোগে চীনের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গ্রেফতার ওই ব্যক্তির নাম লিনউই ডিং। ৩৮ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি লিও ডিং নামেও পরিচিত।

ফরাসি বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, লিনউই ডিং গুগলে চাকরি করতেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি গুগলের চাকরি ছেড়ে দেন। এর আগে প্রায় এক বছর ধরে তিনি চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি পাচার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মেরিক গারল্যান্ড আরও বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি চুরি বরদাশত করবে না বিচার বিভাগ। কারণ এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ারে বলেছেন, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আমেরিকার উদ্ভাবন চুরি করতে চেয়েছিল।

লিনউই ডিংয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে তিনি গুগলে যোগ দিয়েছিলেন। গুগলের সুপারকম্পিউটিং ডেটা সেন্টারগুলোতে সফটওয়্যারের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত তিনি।

ট্রাংকে ভরে ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৭ই মার্চের ভাষণের ফিল্ম

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান।

ঐতিহাসিক সেই ভাষণটি যারা চলচ্চিত্রে ধারণ করেছিলেন, তাদের একজন হলেন তখনকার ফিল্‌মস ডিভিশনের ক্যামেরাম্যান আমজাদ আলী খন্দকার ।

তিনি বলছিলেন, “আমি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান ফিল্মস ডিভিশনে সহকারী ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতাম। ফিল্মস ডিভিশনের আবুল খায়ের আমাদের বলেছিলেন , সাত তারিখ শেখ মুজিবের ভাষণ হবে – তোমরা তৈরি থাকো। আমরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ফিল্ম, স্ট্যান্ড, ম্যাগাজিন – এসব নিয়ে সকাল বেলাই হাজির হয়ে যাই।”

“লোকে লোকারণ্য সেই সভায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিলেন। আমি আর মোবিন ভাই কাজ করলাম। আরেকজন ক্যামেরাম্যান ছিল সে কালীমন্দিরের ওপর থেকে লংশটটা নিলো। আমাদের ক্যামেরাটা মঞ্চের ওপর ছিল, সেটা বঙ্গবন্ধুর ওপর ধরা ছিল।”

“ফিল্মস ডিভিশনের কোন ল্যাবরেটরি ছিল না। ল্যাব ছিল এফডিসিতে। তখন বঙ্গবন্ধুর কোন ফিল্ম ডেভেলপ করা খুব মুশকিল ছিল। আমরা ‘সাইক্লোন, নির্বাচন’ এরকম বিভিন্ন নামে বঙ্গবন্ধুর ফিল্মগুলো ডেভেলপ করিয়ে নিয়ে আসতাম।”

সাতই মার্চের সেই ভাষণ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এর দুই সপ্তাহ পরেই ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা। শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ।

“ঢাকা শহর রক্তে রক্তাক্ত হয়ে গেল” – বলছিলেন আমজাদ আলি খন্দকার। “আমাদের মনে হলো বঙ্গবন্ধুর এই ফিল্ম তো জ্বালিয়ে দেবে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গেছে, এই ফিল্ম না থাকলে কিছুই তো আমরা পাবো না।”

“সচিবালয়ের ভেতরে আমাদের অফিস ছিল তখন। খায়ের সাহেবের অনুরোধে আমি শুধু একা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সচিবালয় থেকে ফিল্মটা নিয়ে বের হয়ে যাই। খায়ের সাহেব যখন আমাকে বিদায় দেন তখন তিনি আমার হাতটা ধরে একটা ঝাঁকুনি দেন, বললেন ‘আমজাদ আল্লা হাফেজ’। উনি ভেবেছিলেন আমি হয়তো আর ফিরে আসবো না।”

“আমি সদরঘাট থেকে একটা বিয়াল্লিশ ইঞ্চি ট্রাংক কিনলাম। সেই ট্রাংকের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর আগের যত ভাষণ, ফিল্ম – যা রেকর্ড করা ছিল তার সব নিয়ে আমি সচিবালয় থেকে বেরোই। সচিবালয় থেকে বেরোনো খুব দুরুহ ব্যাপার ছিল, সব গেটেই পাহারা দিতো অবাঙালিরা।”

এপ্রিল মাসের আট বা নয় তারিখে আমি সচিবালয় থেকে বেরিয়েছিলাম। দোহার থানায় ছিল মজিদ দারোগার বাড়ি। সেই খানে নিয়ে এই ট্রাংকটা আমি সংরক্ষণ করি। পরে আরো নিরাপত্তার জন্য চরকোষা বলে একটা গ্রাম আছে, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধানের গোলার মধ্যে সেটা রাখা হয়।”

“পরে খায়ের সাহেব ভারতে চলে যান। ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করার পর সেই সব ফিল্ম তিনি ভারতে নিয়ে গিয়েছিলেন।”

“নয়মাসের যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে সেই ফিল্মগুলো আবার সরকারি কোষাগারে ফেরত আসে।”

আমজাদ আলি খন্দকার বলছিলেন, “আমি মনে করি এই ভাষণটা হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিল। এমন কোন কথা নেই যা বঙ্গবন্ধু এতে বলে যান নি।” সূত্র: বিবিসি বাংলা

কি করি আর কি যে বলি বুঝে ওঠার আগেই আবার গুলিয়ে যাই- দেখেন তো আপনি বোঝেন কিনা–?

//বিনোদন প্রতিবেদক//

চায়ের কাপে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ মাথায় আসলো যে এই চা চীনা শব্দ। আবার বিস্কুট ফরাসি শব্দ। বিস্কুটের সাথে থাকা চানাচুর হিন্দি।

.চায়ে যে চিনি ও পানি থাকে সেখানে চিনি চীনা অথচ পানি হিন্দি শব্দ। আবার চা ভর্তি পেয়ালাটা ফারসি কিন্তু কাপটা ইংরেজি শব্দ। এদিকে ইংরেজি শব্দটাই আবার পর্তুগিজ।

.চা চীনা হলেও কফি কিন্তু তুর্কি শব্দ। আবার কেক পাউরুটির কেক ইংরেজি, পাউরুটি পর্তুগীজ।

.একটু দামী খানাপিনায় যাই। আগেই বলে রাখি, খানাপিনা হিন্দী আর দাম গ্রীক। রেস্তোরাঁ বা ব্যুফেতে গিয়ে পিৎজা, বার্গার বা চকোলেট অর্ডার দেয়ার সময় কখনো কি খেয়াল করেছেন, রেস্তোরা আর ব্যুফে দুইটাই ফরাসী ভাষার, সাথে পিৎজাও। পিৎজাতে দেয়া মশলাটা আরবি। মশলাতে দেয়া মরিচটা ফারসি!

.বার্গার কিংবা চপ দুটোই আবার ইংরেজি। কিন্তু চকোলেট আবার মেক্সিকান শব্দ। অর্ডারটা ইংরেজি। যে মেন্যু থেকে অর্ডার করছেন সেটা আবার ফরাসী।

.ম্যানেজারকে নগদে টাকা দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন, নগদ আরবি, আর ম্যানেজার ইতালিয়ান।

আর যদি দারোয়ান কে বকশিস দেন, দারোয়ান ও তার বকশিস দুটোই ফারসি।

.এবার চলুন বাজারে, সবজি ফলমূল কিনতে। বাজারটা ফারসি, সবজিও। যে রাস্তা দিয়ে চলছেন সেটাও ফারসি। ফলমূলে আনারস পর্তুগিজ, আতা কিংবা বাতাবিলেবুও। লিচুটা আবার চীনা, তরমুজটা ফারসি, লেবুটা তুর্কী। পেয়ারা-কামরাঙা দুইটাই পর্তুগীজ। পেয়ারার রঙ সবুজটা কিন্তু ফারসি।

.ওজন করে আসল দাম দেয়ার সময় মাথায় রাখবেন ওজনটা আরবি, আসল শব্দটাও আসলে আরবি। তবে দাম কিন্তু গ্রীক, আগেই বলেছি।

.ধর্ম কর্মেও একই অবস্থা। মসজিদ আরবি দরগাহ/ঈদগাহ ফারসি। গীর্জা কিন্তু পর্তুগীজ, সাথে গীর্জার পাদ্রীও। যিশু নিজেই পর্তুগীজ। কেয়াং এদিকে বর্মিজ, সাথে প্যাগোডা শব্দটা জাপানি। আর, মন্দিরের ঠাকুর হলেন তুর্কী।

.আর কি বাকি আছে? ও হ্যাঁ। কর্মস্থল! অফিস আদালতে বাবা, স্কুল কলেজে কিন্ডারগার্টেনে সন্তান। বাবা নিজে কিন্তু তুর্কী, যে অফিসে বসে আছেন সেটা ইংরেজি, তবে আদালত আরবি, আদালতের আইন ফারসি, তবে উকিল আরবি।.

ছেলে যে স্কুলে বা কলেজে পড়ে সেটা ইংরেজি, কিন্তু কিন্ডারগার্টেন আবার জার্মান!

.স্কুলে পড়ানো বই কেতাব দুইটাই আরবি শব্দ। যে কাগজে এত পড়াশোনা সেটা ফারসি। তবে কলমটা আবার আরবি। রাবার পেনসিল কিন্তু আবার ইংরেজি!

.পুরো স্ট্যাটাস মনে না থাকলে অন্তত এটা মনে রাখবেন যে মন শব্দটা আরবি।

.শব্দের কেচ্ছা-কাহিনী এখানেই খতম। তবে কেচ্ছাটা আরবি, কাহিনীটা হিন্দি, উভয়ের খতমটা আরবিতে। মাফ চাইলামনা বা সরি বললাম না, কারণ মাফটা আরবি আর সরিটা ইংরেজি।

এইসব রিসার্চ করার পরে তো আমি নিজেই আউলাই গেছি ভাই।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রাজধানীর বেইলি রোডে  বহুতল একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানোর পর হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

গতকাল রাতে বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেটি সাততলা। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া ওপরের তলাগুলোতেও রয়েছে খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে ভবনের সপ্তম তলা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনতে থাকেন তাঁরা।

ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত দুইটার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৮ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং ১৪ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান। তাঁদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

এর আধা ঘণ্টা পর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালেও একজনের মরদেহ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়েছে। হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ছিল। এরপর ভবনে তল্লাশি চালিয়ে অচেতন অবস্থায় অনেককে বের করে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের একটি ফ্রিজার ভ্যানে বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

রাত সোয়া একটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভবন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অচেতন অবস্থায় ৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। যাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাঁদের মধ্যে ২১ জন নারী ও ৪ শিশু রয়েছে। এর বাইরে ১৫ জন নারীসহ ৭৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া অন্য সব তলায় রেস্তোরাঁ ছিল। এসব রেস্তোরাঁয় অনেক গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, এ ঘটনায় যাঁরা হতাহত হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন। তাঁদের শরীরে পোড়ার ক্ষত তেমনটা দেখা যায়নি।

ভবনে উদ্ধারকাজে যুক্ত ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সিঁড়িতে বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। সেগুলোতে আগুন ধরে যাওয়ায় লোকজন বের হতে পারেননি।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে র্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ওই ভবনের নিচতলায় একটি কফির দোকান রয়েছে। সেখানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন।

বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।

তদন্ত কমিটি

এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই ভবনে আর কোনো মৃতদেহ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আজ সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরেকবার তল্লাশি চালাবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। সেখানে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের একজন সহকর্মীর কন্যা মারা গেছেন। পুলিশ হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। দোয়া করবেন যে ৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের জীবন যেন রক্ষা পায়।’

ঢাকা মেডিকেলে মর্মান্তিক দৃশ্য

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

ভবন থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাত একটার পর সেখানে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায়। একের পর এক অ্যাম্বুলেন্সে হতাহত ব্যক্তিদের সেখানে আনা হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীদের নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেন নির্বিঘ্নে হাসপাতালে প্রবেশ করানো যায়, সে জন্য জরুরি বিভাগের ফটকে ট্রলি প্রস্তুত রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিদের বের করে নেওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণকক্ষে। কক্ষের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

আগুন লাগার পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা বেশির ভাগই হাত-পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। আহত দ্বীন ইসলাম (২৮) ভবনের সপ্তম তলার একটি রেস্তোরাঁর বাবুর্চি। তিনি জানান, আগুন লাগার পর ইন্টারনেটের তার বেয়ে নিচে নামতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার ছিঁড়ে পড়ে গিয়ে আহত হন তিনি। আহত আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন জুয়েল (৩০), জোবায়ের (২০), আরিফ (২০), ইকবাল (৩৫), উজ্জ্বল সরদার (২৩), রাকিব (২৫), শাকিল (২২), ওমর ফারুক (৪৩), সিজান (২৫), রাসেল (৩৫) ও ইমরান (১৪)।

Daily World News

তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

১৩৪ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেফতার মালয়েশিয়ায়

সাতক্ষীরায় পানিতে দাঁড়িয়ে জানাযা ও ইটের তৈরি কবরে দাফন

সাতক্ষীরায় পানিতে দাঁড়িয়ে জানাযা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর,কালীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ উপকূলীয় অধিকাংশ এলাকা বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি,ফসলের মাঠ,মাছের ঘের,গৃহপালিত গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি সবই কোন না কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।এমন কি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও কাপড় চোপড়েরও সমস্যা দেখা যাচ্ছে নিম্ন আয়ের অধিকাংশ পরিবারে।
অর্ধাহারে অনাহারে থাকা লোকগুলো এতো সমস্যার পরে ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সহায় সম্বল হারানো লোকগুলো নিজেদেরকে পরিবেশের সাথে অভিযোজিত করার জন্য ধনী-গরীব, জাতি ভেদাভেদ ভুলে স্ব উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণে নারীপুরুষ কিশোর- কিশোরী হাতে হাত রেখে কাজ করছেন এবং অনেকাংশেই সফল হয়েছেন।
কিন্তু নতুন করে কাল হয়ে দেখা দিয়েছে আষাঢ়ের মুষলধারের বৃষ্টি। অতি বৃষ্টির ফলে আবারও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে সাতক্ষীরা র সমূদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো। ইয়াসের ফলে জমে থাকা পানির সাথে বৃষ্টির পানি যুক্ত হয়ে সাতক্ষীরার প্রতাপ নগর ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক গ্রাম আজ প্লাবিত। মানুষ মারা গেলে শেষ দাফনের পূর্বের কাজগুলো করার মতো কোন পরিবেশ যেমন নেই তেমনি নেই কবর দেওয়ার মতো সামান্য উঁচু জায়গায়ও।
আর তাই এক এলাকা থেকে পার্শ্ববতী দূরে কোন উঁচু জায়গায় তার কবরের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। কিন্তু সেটাও যখন সম্ভব হচ্ছে না তখন পানির ভিতর ইট দিয়ে গেঁথে কবর তৈরি করে ও পানির ভিতর দাঁড়িয়ে জানাযা শেষ দাফন ও কাফনের কাজ শেষ করতে হচ্ছে। আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার প্রতাপ নগর ইউনিয়নে এভাবেই পানির ভিতর দাঁড়িয়ে অতিকষ্টে মৃতের জানাযা শেষে ইটের তৈরি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরে যেহেতু ভাঙা বেড়িবাঁধ অতিক্রম করে প্রবল বেগে জোয়ারের পানি আসবে তখনও আবার মৃতের স্বজনদের পাহারা দিতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা যাতে করে স্রোতের বেগে কবর ভেঙে লাশ ভেসে চলে না যায়।আর এভাবেই চলছে সমূদ্র উপকূলীয় মানুষের জীবনের হার মানা না বাস্তবধর্মী জীবনমূখী জনজীবন। দেশের সকল জনগণ যখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার সাথে বেঁচে থাকার লড়াই করছে তখন উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণ করোনাকে নয় মৃত্যুর পর শেষ ঠিকানা কবরের ব্যবস্থা করা ও প্রিয়জনের কবর রক্ষা করাই লড়াই করছে। যা দেখার কেউ নেই।
ইয়াসের পর থেকে অত্র এলাকার জনগণ-১.ত্রাণ নয় পরিত্রাণ ,২. বেড়িবাঁধ মেরামত নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ,৩. উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষা,৪. সাইক্লোন সেন্টার নয়, নিরাপদ আশ্রয়, ৫. সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা ,৬. সুন্দরবনের সুরক্ষা ও৭. সেনাবাহিনী দ্বারা নদ- নদীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি সমূহ জানিয়ে আসছেন।কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা গুলো বলা ও শুনার লোক খুঁজে পাচ্ছে না।
আর তাই উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের আক্ষেপ, আমরা উপকূলীয় লোকগুলি সত্যি হতভাগা আমাদের দেখার জন্য না আছে জনপ্রতিনিধি না আছে সরকার।সারাদেশ করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই করছে আর আমরা করছি মৃত্যুর পরে শেষ ঠিকানা পাওয়া জন্য পানির ভিতর কবর তৈরি করে জোয়ারের হাত থেকে সেই কবর রক্ষা করার লড়াই!

শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম অনুমোদন।। রূপসার আইচগাতীতে শ্রমিকলীগের আনন্দ মিছিল

 

খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খুলনা তিন উপজেলায় শেখ রাসেল স্টেডিয়াম,একনেকে’অনুমোদন হওয়ায় গতকাল শুক্রবার বিকালে রূপসা উপজেলা জাতীয় শ্রমিকলীগ আইচগাতী ইউনিয়ন শাখার উদ্যাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক আনন্দ মিছিল বের হয়।

 

মিছিলটি আইচগাতীর বারোপূর্নের মোড় হতে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেনেরবাজার ফেরিঘাট চত্তরে গিয়ে শেষ হয়।

 

ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত -সভাপতি শেখ মোঃ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা শ্রমিকলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ মারুফ,আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব শেখ আসাদুজ্জামান,উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক রাজিব দাশ টাল্টু, এইচ এম রোকন,জেলা শ্রমিকলীগ নেতা মোঃ বারেক খাঁন,সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মোঃ সরদার নুর ইসলাম,শ্রমিকলীগ নেতা খোকন হাওলাদার, মোঃ আজিজুর রহমান আজিজ, আসরাফুল ইসলাম আসাফাত,মোঃ এরশাদুজ্জামান,মোঃ জহির রায়হান, মোঃ সোহাগ শেখ,মোঃ রায়হান বাচ্ছু,খুরশিদা বেগম,মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ, মোঃ সিদ্দিক চৌধুরী, মোঃ আলি আকবর হাওলাদার,মোঃ রুহুল গাজি, শ্রী মিন্টু দাশ, বুলবুল শেখ,সোহাগ হাওলাদার,জুয়েল শিকদার,রাশিদা বেগম, আরজ আলী বিশ্বাস বাবু,সহ নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

Dainik Biswa

খুলনায় ১হাজার ৩৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে জমি ও ঘর 

রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম অনুমোদন।। আনন্দ মিছিল

যশোরে আজ আক্রান্তের রেকর্ড সর্বোচ্চ ২৯১ জন, মৃত্যু ৪ জন

 

 বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামির অপ্রতিরোধ্য গতির জন্য সারা বিশ্বের ধনীগরিবসহ সকল দেশের ব্যবসা,বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত পৃথিবীর মানুষকে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে বিশাল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু মিছিল দেখতে গিয়ে অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে ।

 

করোনার কারণে একদিকে যেমন মানুষকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা সহ্য করতে হচ্ছে ঠিক অন্যদিক লক্ষ লক্ষ লোক কর্মস্বংস্থান হারিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে কোমনমতি শিশুসহ কোটি কোটি শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার জন্য শিক্ষার মূলস্রোতধারা থেকে বঞ্চিত হয়ে শিক্ষণ ক্ষতিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর একটি সক্ষম শিক্ষিত,উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণীর বেকার যুবক- যুবতী কর্মস্বংস্থান না পেয়ে হতাশার গহীন সমূদ্রে নিমজ্জিত হতে চলছে।

 

এমনি এক ক্রান্তিকালে দেশের সকল জনগণের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ও দেশের সার্বিক মঙ্গলকামনায় করোনা সংক্রমণের অক্টোপাস থেকে রক্ষার জন্য লকডাউন কার্যকরভাবে পালনের জন্য অনুরোধের পর অনুরোধ করছেন সরকার প্রধান।কিন্তু কে শোনে কার কথা।লকডাউনের পালনের প্রতি যেমন অনিহা তেমনি অনিহা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ অস্ত্র মাস্ক ব্যবহারসহ হাতধোঁয়া,সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলার বিষয় সমূহ।

 

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যখন করোনার মৃত্যু মিছিল প্রতিহত করার জন্য হাসপাতাল,ক্লিনিক,ডাক্তার,নার্স ও জীবনদায়ী অক্সিজেন সংকটে পড়ে বিশ্বের কাছে নিজেদের দুর্বলতার জন্য আত্মসমর্পণ করছে তখনও আমরা দেশের জনগণ করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অতি মাত্রায় সংক্রমক ডেল্টাকে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করি নাই ।

 

এছাড়া সরকার যখন সীমান্তবর্তী জেলা সমূহে করোনার অতিমারীর জন্য বিশেষ লকডাউন দিচ্ছে তখনও বেহুশের মতো ঘরের বাইরে অবাধে চলাচল করেছি।যার পরিনাম আজ স্বচক্ষে দেখতে হচ্ছে।

 

আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার যশোর জেলার স্বাস্থ্যবিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় ৬০৬ জনের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে ২৯১ জনের শরীরে।শনাক্তের হার ৪৮.০১ শতাংশ।

 

এর মধ্যে শুধু যশোর জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে সনাক্ত হয়েছে একদিনের সর্বোচ্চ ২৯১ জন।তাদের মধ্যে ৯ জন ভারত ফেরত।

 

একই সময়ে মারা গেছেন ৪ জন।

 

৪ জনের মধ্যে ২ জন করোনা রোগী এবং অপর ২ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।আরও দুঃখের বিষয় অভয়নগর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ২ জন করোনা রোগীর শরীরে ব্লাক ফাঙ্গাসের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

 

বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে১০৮ জন যা করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটের আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি।

 

এদিকে যশোর জেলায় করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। যখন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাবে তখন রোগী হস্তান্তর করা হবে।

// নিজস্ব প্রতিবেদক //

Dainik Biswa

খুলনায় ১হাজার ৩৫১টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে জমি ও ঘর 

যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত ২০৩ জন ও মৃত্যু- ৪ জন

আজ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু ৬ আক্রান্ত ২২২

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার বৈচিত্র্যতা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। শহরমুখী করোনার ভারতীয় ধরণ ডেল্টা এখন শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই বরং সীমান্তবর্তী ১৩ জেলায় সাথে আরও ৩৫ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।অন্যদিকে করোনার সাথে খুলনা বিভাগের খুলনা জেলায় ১ জন ও যশোর জেলার অভয়নগরে ২ জন করোনা রোগীর শরীরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ব্লাক ফাঙ্গাস।

 

ফলে খুলনাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহে আগামী দিনগুলিতে যে মৃত্যুর মিছিল হতে চলেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে করোনার উপসর্গ থাকলেও শহর ও গ্রাম উভয় জায়গার লোকদের করোনা টেষ্ট করানোর প্রতি এখনও অনিহা রয়েছে। শুধু তাই নয় করোনার উপসর্গ থাকার পরও লকডাউন মানছেন না।

 

এছাড়া অনেকেই হোম করেন্টাইনে থাকছেন না,মাস্ক ব্যবহার করছেন না, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন নাএমন কি নির্দ্বিধায় গড়িতে চলাফেরা করছেন এবং হাটবাজার ও জনসমাগম স্থলে অবাধে বিচরণ করছেন।আর এভাবে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক অসচেতনতা জন্য করোনার সংক্রমণ নির্দিষ্ট একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং সমগ্র দেশের ৬৪ টি জেলায় ছড়িয়ে পড়বে এবং আমাদের দেশের এই অর্ধমৃত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা নিম্নতম স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

 

ইতিমধ্যে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল গুলিতে যে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট রয়েছে তার ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি আছে।আর তাই বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে যুক্ত করার চিন্তা ভাবনা করছে সরকার । আজ ১৮ জুন-২০২১ রোজ শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সিভিল সার্জনের দেওয়া তথ্য মতে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন ৬ জন।তাদের মধ্য ৫ জন করোনায় আক্রান্ত ও একজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

 

গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৬২ টি নমুনা পরীক্ষায় ২২২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় সনাক্তের হার ৩৯.৫০ শতাংশ। ৫৬২ টি নমুনার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিল ৩৯২ টি।

 

এই ৩৯২ টি নমুনার মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ১৫১ ফলে শুধু খুলনা জেলায় সনাক্তের হার ৩৮.৫২ শতাংশ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষায় যে ২২২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে তার মধ্যে খুলনা জেলার ১৫১ জন,বাগেরহাট জেলার ৪২ জন, যশোর জেলার ১৪ জন, সাতক্ষীরার ৭ জন, নড়াইলের ৫ জন ঝিনাইদহের ১ জন, পিরোজপুরের ১ জন ও বরিশালের ১ জন।

 

আরও জানা যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে আজ পর্যন্ত ১৬৮ জন ভর্তি রয়েছেন।

 //নিজস্ব প্রতিবেদক//

Dainik Biswa

বরিশালের সেই ফেন্সি আজিম শটগানসহ পাথরঘাটায় আটক

যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত ২০৩ জন ও মৃত্যু- ৪ জন

 

যশোরে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত ২০৩ জন ও মৃত্যু- ৪ জন

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে।প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার যেভাবে সাইক্লিক ওয়ার্ডারে বাড়ছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে বাংলাদেশই আর কয়েকদিনেই বিশ্বের মধ্য করোনার সবচেয়ে বড় হটস্পটে পরিণত হতে চলেছে।সীমান্তবর্তী ১৩ টি জেলাসহ পার্শ্ববর্তী আরও ২২ টি জেলাতেও করোনার সংক্রমণও মৃত্যুর হার সুপার পাওয়ার নিয়ে আর্বিভূত হয়েছে।

 

আর এ সকল দিক বিবেচনা করে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাছাড়াও বিভিন্ন বিভাগ ও বিভাগের জেলা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ক্ষুদ্র পরিসরে পকেট লকডাউন কার্যকরের জন্য স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । এতো কিছুর পরেও ব্যক্তি,পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মাস্ক ব্যবহার,হাত ধোঁয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,জনসমাগম এড়িয়ে চলাসহ সামাজিক সচেতনতার বিষয়সমূহ অবহেলা করার চরম বর্হিপ্রকাশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন করোনার সার্বিক পরিস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে। যার ফলাফল খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার করোনার রির্পোটে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

 

১৭ জুন-২০২১ রোজ বৃহস্পতিবার যশোর জেলার সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০৩ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। পরীক্ষায় সংক্রমনের হার ৪১.৫৯ শতাংশ। এছাড়া মৃত্যু বরণ করেছেন ৪ জন।

 

এরমধ্যে ২ জন মৃত্যু বরণ করেন যশোর জেনারেল হাসপাতালেের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবংঅপর ২ জন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা মৃত্যবরণ করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ইউনিটটি ইতিপূর্বেই পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আরও ১১ জন ভর্তি রয়েছেন।ঠিক একই অবস্থা আইসোলেশন ওয়র্ডেও। করোনার উর্দ্ধগতি রোধে একদিকে যশোর জেলা প্রশাসন লকডাউন বাস্তবায়নের সাথে সাথে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সীমান্তবর্তী উপজেলার গ্রাম পর্যায়েও কার্যকর ভূমিকার জন্য সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি টহলও জোরদার করেছেন।

 

আর অন্যদিকে যশোর জেলা সিভিল সার্জন বলেন, করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে যশোর জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ওয়ার্ড খোলার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা কার্যক্রম বাড়ানোর হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

Dainik Biswa

রাণীশংকৈলে নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য পান করে বৃদ্ধার মৃত্যু