ভিজিডির চাল নিতে যাওয়া খলিলকে চড় থাপ্পর মারল চেয়ারম্যানের লোকজন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের অনুসারীর বিরুদ্ধে খলিল নামের এক দিনমজুরকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার কয়েকজন অনুসারী সটকে পড়েন।

শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, দুপুরে ভিজিডির চাল দেওয়ার সময় দিনমজুর খলিলকে কে বা কারা লাথি মেরেছে, তা আমার জানা নাই। তবে-ওই সময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী ও তার অনুসারী তুহিন বিধিবর্হিভূতভাবে পরিষদে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন। এ সময় দলের নেতাকর্মীদের চালের কার্ড না দিলে কয়েকজন কর্মীকে দিয়ে আমাকে লাঞ্ছিত  করলে ঘটনাস্থলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমি এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী, এমপি গোলাম ফারুখ পিংকু ও নয়ন ভাইকে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেব।

ভুক্তভোগী দিনমজুর খলিলের অভিযোগ, তার কাছে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত দুটি টোকেন ছিল। ওই টোকেনগুলো নিয়ে তিনি চাল নিতে পরিষদে যান। দুটি টোকেন দেখেই চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার দুইজন অনুসারী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়থাপ্পড় মারেন। শত শত লোকজনের সামনে তাকে ‘চাল চোর’ বলেও অপমান করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে ভিজিএফের আওতায় ইউনিয়নের দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর আগে দুস্থদের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত টোকেন সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একাধিক টোকেন নিয়ে যে কেউ চাল নিতেই পারে। পাড়া প্রতিবেশীদের চাল একজনে গিয়ে পরিষদ থেকে নিয়ে আসে। ওই দিনমজুর একাধিক টোকেন নিয়ে চাল নিতে গিয়ে কোনো অন্যায় করেননি।

বামনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী বলেন, কোনো অসহায় লোকের গায়ে হাত তোলা অপরাধ। ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন কাজটি ঠিক করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান অসুস্থ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একজন ১০ কেজি করে চাল পাবেন। কিন্তু ওই দিনমজুর দুই-তিনটা টোকেন নিয়ে আসছিল। সে চাল নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা আটকিয়েছে। এতে সুমন পাটোয়ারী ও তুহিনসহ দলের কয়েকজন কর্মী আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করেছে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে এখনো বিচার পাইনি। আমার প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।

বামনী ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভিজিডির কার্ড ও চাল বিতরণ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক পিআইওসহ চারজন কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সালাম জুটমিলের আগুণ নিভেছে, ছিলনা অগ্নিনিরাপত্তা বা ফায়ার এক্সিট

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

টানা ৮ ঘণ্টা দাউদাউ আগুনে পুড়ে যাবার পর খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসায় সালাম জুট মিলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ও নৌবাহিনীর দুইটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বুধবার রাত ২টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন চলছে ডার্মিংয়ের কাজ । এ ঘটনায় জুট মিলের চারটি গোডাউনে থাকা কাঁচা পাট ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত করা সব পাটই পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগা জুট মিলে কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। বারবার এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে, পাটের আগুন হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আসতে এত সময় লেগেছে।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আমার স্টেশনের ১১টা ইউনিট কাজ করেছে। আমারও একটি গাড়ি আছে, তবে সেটি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গাড়ি না। সেটা না ধরলে ১০টা ইউনিট হবে। আর প্রতিটি গাড়িতে দুইটি করে পাম্প থাকে। আমরা ২০টা পাম্প সেট করেছি, কমপক্ষে ২২-২৩ লাইন খুলেছি। পরে দেখলাম আমরা একটা প্রান্তে ঢুকতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত আমার একটি ইউনিট রয়েছে, যেটা কোথাও কাটাকাটি করা লাগলে আমরা ব্যবহার করি। সেটিকে রেসকিউ ইউনিট বলা হয়। পরে ওই ইউনিট দিয়ে আমরা পেছন থেকে দুইটা দেয়াল কাটি।

তিনি বলেন, জুট মিলের দেয়ালগুলো ১২ ইঞ্চির। আর এটা একটা জেলখানার মতো জায়গা। ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু করছে যেন মানুষ অপরপাশ দিয়ে না আসতে পারে। একটা করিডোরও তো রাখা যেতো। ২টা মানুষ যে এক্সিট হবে হেরও পথ রাখে নাই। দুইটা গেট রাখত।

এর আগে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার এই জুট মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। এরপর একে একে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয় ১১টি ইউনিট। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় নৌবাহিনীর ২টি ইউনিট।

এদিকে, জুট মিলের মালিক এম এম এ সালাম জানিয়েছেন, আগুনে প্রায় ৭৫০ টন রপ্তানি উপযোগী পাটজাত পণ্য ছাড়াও প্রায় ৩৫ হাজার মণ কাঁচা পাট এবং মিলের যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্সে তার ৫০ কোটি টাকার ইনস্যুরেন্স করা ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Daily World News

খুলনায় সালাম জুটমিলে ভয়াবহ আগুন – নিয়ন্ত্রণে ১৬ ইউনিট

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের নিদের্শনা  অনুসরণ করবেন –  নির্বাচন কমিশনার

খুলনায় সালাম জুটমিলে ভয়াবহ আগুন – নিয়ন্ত্রণে ১৬ ইউনিট

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

খুলনার রূপসা উপজেলায় বেসরকারি সালাম জুট মিল নামে একটি পাটকলে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৮টার দিকে নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট যোগ দেয়।

আগুন লাগার কারণ এবং হতাহতের কোনো খবর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুকনো পাট হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। একটি সুতা ও রপ্তানিযোগ্য পাটজাত পণ্য সেখানে মজুত করা ছিল। ২০১২ সালের দিকে সালাম জুট মিলটি চালু হয়। এখানে মূলত পাটের সুতা উৎপাদন করা হতো। প্রথমে জুটমিলটির ৩ নম্বর গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বিভিন্ন গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

মিল কর্তৃপক্ষ বলেছে, মিলটিতে উৎপাদিত সাড়ে ৭০০ টন সুতা মজুত ছিল। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুল কাদির বলেন, বিকাল ৫টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার জানান, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ করে মিলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের খুলনার বয়রা, রূপসা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ১৬টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন এখনো জ্বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনে অনেক পাট পুড়ে গেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

দুস্হদের ভিডাব্লিউবি কার্ডে চাল নিচ্ছেন ইউপি সদস্যদের স্ত্রী-কন্যা

//বিশেষ প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে দুস্থদের জন্য ভিডাব্লিউবি কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকারের অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তামূলক এ কর্মসুচিতে নিজেদের স্ত্রী-কন্যার নামে প্রতিমাসে ভিডাব্লিউবি’র ৩০ কেজি করে চাল উত্তোলন করছেন দুই ইউপি সদস্য।এছাড়াও ভিডাব্লিউবি কার্ড যার নামে বরাদ্দ তিনি নিজেই জানেনা তার নামে বরাদ্দ রয়েছে।সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে ভিডাব্লিউবি প্রকল্পের এসব অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তরা হলেন,উপজেলার ৭ নং আড়পাংগাশিয়া  ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল ও ১নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল ইসলাম খবির উদ্দিন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,চলতি অর্থবছরে ভিডাব্লিউবি কর্মসূচির উপকারভোগী  নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল স্বচ্ছল ব্যাক্তি হওয়া সত্বেও তার স্ত্রী মোসাঃ সাবিনা বেগম (২১) এর নামে উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন,যার কার্ড নং- ১০৩। এছাড়াও ১নং ওয়ার্ডের সদস্য খবির উদ্দিনের কন্যা কামরুন্নাহার (২৭) সেও উপকারভোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।যার কার্ড নং ১৪।এরা উভয়েই

ভিডাব্লিউবি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের জন্য প্রতিমাসে বরাদ্দকৃত ৩০ কেজি চাল তুলছেন।

এছাড়াও ঐ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাচানের স্ত্রী শিউলী বেগমের নামে ভিডাব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ থাকলেও তা তিনি আদৌও বরাদ্দের কোন চাল পাননি।

স্ত্রী ও কন্যার নামে ভিডাব্লিউবি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের বক্তব্য জানার জন্য ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য কামরুল ইসলাম খবির উদ্দিনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই বিষয়ে ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল এর বক্তব্যের জন্য তার বাড়ীতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এরিয়ে গেলেও ইউপি সদস্য জুয়েলের বাবা বলেন,এই চাল দলীয়ভাবে পেয়েছি।

আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা জানান,বিষয়টি খুবই দু:খজনক। যখন উপজেলা কমিটি থেকে তালিকা চাওয়া হয় তখন প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যদের কাছ থেকে দুস্থদের নামের তালিকা নেওয়া হয়। ওই সদস্যরা তালিকায় তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম দিয়েছেন যেটা তিনি পরে জেনেছেন। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপ কুমার পাল বলেন,আমি এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।আমাকে আপনারা সকল তথ্য দিয়ে আগে একটু দেখার সুযোগ দিন। আমি সেগুলো না দেখে এবিষয়ে কোন সাক্ষাৎকার দিব না।

এ বিষয়ে উপজেলা ভিডাব্লিউবি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম  বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

হারিয়ে গেছে আশির দশকের সেই অডিও ক্যাসেট

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

আশির দশকের মাঝামাঝি ও নব্বই দশকের শুরুতে বাংলাদেশের তারুণ্যের মাঝে ছিল দারুণ এক উত্তেজনা। অভাবনীয় উন্মাদনা আর সে সময়টাকে অভিহিত করা যায় ক্যাসেট যুগ মিউজিকের যুগ ব্যান্ড এর যুগ হিসেবে। প্রায় পুরো তরুণ সমাজের চিন্তা জগতকে আছন্ন করে রেখেছিল ব্যান্ড মিউজিক। অল্প সময়ের মধ্যে শহর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ব্যান্ড মিউজিক। গীটারের টুং টাং ধ্বনিতে মোহিত হত সে সময়ের তারুণ্য গায়ে হলুদ। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ, সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ব্যান্ড মিউজিক ছাড়া কল্পনাই করা যেত না।

আশির দশকে গ্রামীণ জনপদে টেলিভিশন তো নয়ই, রেডিও-টেপেরও খুব একটা প্রচলন ছিল না। দেখা গেল, গ্রামের কোনো এক বাড়িতে টেপে অডিও ক্যাসেট ঢুকিয়ে বাজানো হচ্ছে বাউলগান যাত্রাগান, মালজোড়াগান অথবা কেচ্ছাকাহিনি। তো এটিকে কেন্দ্র করে জড়ো হতেন আশপাশের পাড়া- মহল্লার অসংখ্য শ্রোতা বিশেষ করে কাজ শেষে সন্ধ্যার পর কিংবা বর্ষার অলস দুপুরে পানিবন্দী হাওরবাসীর কাছে এই টেপই ছিল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম।

আর তাই যে গ্রামে টেপ অর্থাৎ ক্যাসেট প্লেয়ার রয়েছে, তাঁদের অলস সময়টুকু কাটত সেটির সাহায্যে গান, কেচ্ছা কিংবা লোকনাট্য শুনে শুনে। অনানুষ্ঠানিক উৎসব ছাড়াও গ্রামীণ বিয়ে কিংবা যাত্রীবাহী নৌকায় মাইকসহযোগে টেপরেকর্ডারের সাহায্যে এসব ক্যাসেট বাজানো হতো।

ক্যাসেট ছিল আমাদের গান শোনার একমাত্র ভরসা অথচ আজ ক্যাসেট নেই বললেই চলে।সিডি, ডিভিডি দখল করে নিয়েছে ক্যাসেটের স্থান তবে অনেক জনপ্রিয় এই সিডি ও ডিভিডিও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারছেনা প্রযুক্তির নিত্যনতুন আবিষ্কারের কারনে এগুলোও আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।১৯৫৮ সালে  RCA Victor প্রথম স্টেরিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন যার সাইজ ছিল ৫”x৭” এবং এটি ছিল প্রি রেকর্ড করা তাই এটি ব্যার্থ হয়। ১৯৬২ সালে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি ফিলিপস সর্বপ্রথম কমপেক্ট অডিও ক্যাসেট আবিস্কার করেন এবং বাজারজাত করেন।উন্নত মানের ১/৮ ইঞ্চি পলিষ্টার টেপ দিয়েই এটি তৈরি হয়।

রেকর্ড ও প্লেব্যাক স্পিড ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১.৭/৮ ইঞ্চি।যখন ক্যাসেট পূর্নতা পায় তখন এর দুটি সাইডে ৩০/৪৫ মিনিট সময় প্লেব্যাক করা যেত। এরপর ফিলিপস ও সনির যৌথ প্রচেষ্টা শুরু হয় ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৮২ সালে এই দুই কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় সিডি আসে বাজারে। এর পর আমরা সিডির জনপ্রিয়তা দেখলাম, ক্যাসেট হারিয়ে গেল। সিডি বাজারের দখল নিল এই সিডিও আজ প্রায় বিলুপ্ত।সিডির ক্যাপাসিটি হচ্ছে ৭০০ এমবি এবং সময়ের হিসেবে প্রায় ৮০ মিনিট।

এক সময়কার তুমুল জনপ্রিয় ক্যাসেট স্থান হারালো সিডি ও ডিভিডি আবিস্কার হওয়ার পর। আর প্রযুক্তির কল্যানে ও ইন্টারনেটের প্রসারে আমরা এখন অনলাইনে গান শুনি,মূভি দেখি। মোবাইলে গান শুনি, কেন সিডি কিনব? আর প্রযুক্তির সর্বশেষ সংযোগ এফ.এম রেডিও। বিশ্বব্যাপি এখন এফ.এম. রেডিওর জয়জয়কার। এক একটা মিউজিক ষ্টেশান এখন মানুষের পকেটেই থাকে। তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে অডিও ক্যাসেট হারিয়েছে তার দাপট হারিয়ে গেছে আশির দশকের সেই অডিও ক্যাসেট।

Daily World News

গজারিয়ায় সাংবাদিক শাহাদাত হোসেনের ইফতার মাহফিল

মোংলায় প্রায় ৭ কেজি গাঁজাসহ আটক- ৬

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মামলা করার অভিযোগে কেসিসির ৩৭ কর্মচারী চাকরিচ্যুত

আইনুন নিশাত মনে করেন- যশোর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনীর কিছু অঞ্চল সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

১০০ বছরের মধ্যে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ও চাঁদপুর থেকে ফেনী—এসব অঞ্চলের দক্ষিণাংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে বলে মনে করেন পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন–বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তাঁর আশঙ্কা—এ পরিবর্তন ৫০ বছরের মধ্যেও হয়ে যেতে পারে। এমনকি ঢাকার চারপাশের জমিও লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে।

‘উপকূলের জীবন ও জীবিকা: সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত এসব কথা বলেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সংলাপের আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)।

সংলাপে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন আইনুন নিশাত। ১৯৫টি দেশ একমত হওয়ার পর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইপিসিসি।

রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব—এই সারির মধ্যাঞ্চল লবণাক্ত হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ঢাকা শহর খুব উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২৫ ফুট। ঢাকা শহরের চারপাশ লবণাক্ত হয়ে যাবে। কামরাঙ্গীরচর বা জিঞ্জিরার উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট। এসব এলাকা পানির তলায় চলে যেতে পারে।

লবণাক্ততা একটি গুরুতর সমস্যা উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশ ভারতকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সম্মতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে লবণাক্ততা সমস্যার শুরু। উজান থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে লবণাক্ততা বাড়া শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, নদী পানির সঙ্গে পলিমাটিও নিয়ে আসে। সরকার নদী খননের নামে কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। এসব টাকা কোনো কাজে আসবে না। কারণ, খনন করার পর আবার পলি এসে দু-এক বছরের মধ্যে তা ভরাট হয়ে যায়।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী এবং বেসরকারি সংস্থা ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভের গবেষণা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল ফারুক।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ধরার সহ–আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা ও ধরার সহ–আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী।

ধরার সদস্যসচিব শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন ধরার সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার উপকূলীয় অঞ্চলের ভুক্তভোগীরাও এ সময় কথা বলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারীর ইস্রাফিল বয়াতী, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মুহাম্মদ আল-ইমরান, বরগুনার তালতলীর আরিফুর রহমান প্রমুখ।

বিকৃত ইচ্ছার পুলক মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হতে চেয়েছিল

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রসু খাঁ, এরশাদ শিকদার, বাবু শেখ বা মাহফুজ-সবারই ছিল বিকৃত ইচ্ছা। অস্বাভাবিক মনোবাসনার কারণে তারা হয়ে উঠেছিলেন সিরিয়াল কিলার। আর তাদের আদলে মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার স্বপ্ন ছিল রাজধানীর দক্ষিণখানের এসএম ওয়াহিদ হোসেন ওরফে পুলকের।

ইচ্ছা পূরণের যথেষ্ট উপদান আছে তার মধ্যে। মাদকের নেশার চেয়েও তার কাছে বেশি নেশা জমেছিল মানুষ হত্যার।

প্রথম খুন করার পর সে তার মাকে জানিয়েছিল, একে একে নিজ চাচার পরিবারের সবাইকে (পরিবারের নয় সদস্য) হত্যা করবে। এরপর এলাকার অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবে। উত্তরা অপরাধ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেষ্টা চালাবে পুরো ঢাকার অপরাধ জগতের ডন হওয়ার। তার থাকবে গাড়ি-বাড়ি এবং লাশঘর। কিন্তু অঙ্কুরেই বিনাশ হয়েছে পুলকের এই স্বপ্নের।

নিরাপত্তাকর্মী হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ২১ মার্চ দক্ষিণখান বাজার এলাকা থেকে পুলককে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছে একটি লোহার ছুরি পাওয়া যায়।

গ্রেফতারের পর ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানায় পুলক। বর্ণনা করে খুনি হয়ে ওঠার লোমহর্ষক ঘটনা।

ডিবি জানায়, ২০১০ সালে পুলকের বাবা মারা যান। এরপর তার চাচা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। এতে তার মেজাজ বিগড়ে যায়। একপর্যায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার পরিকল্পনা করে।

গত ১৮ মার্চ দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন খোরশেদা নামে এক নারী। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো ১৭ মার্চ তার স্বামী আফিল মিয়া নাইট ডিউটি করতে রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে দক্ষিণখান বাজারে যান। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় দক্ষিণখান চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের পাশে পড়ে ছিল। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে কেসি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। খোরশেদা সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। জানতে পারেন, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাকে বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

ঘটনার পর থানা পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি এবং ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আলামতের পাশাপাশি আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারী হিসাবে পুলককে চিহ্নিত করে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফিল মিয়া এবং এসএম ওয়াহিদ হোসেন পুলক একই এলাকার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। পুলক মাদকাসক্ত ও বেকার যুবক। মাদকাসক্ত হওয়ায় পুলককে তার চাচা আফিল প্রায়ই শাসন করত। মাঝেমধ্যে গালাগাল করত। এতে পুলকের মনে ক্ষোভ জন্মে।

ঘটনার দিন পুলক তার বন্ধু কায়েস ও লিয়নকে নিয়ে স্থানীয় এমরাত হোসেন স্কুল মাঠে ইয়াবা সেবন করে। রাত ২টার দিকে আফিল মিয়াকে চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের সামনে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পায়। রাত সোয়া ২টার দিকে সে আফিল মিয়ার সামনে যায়। কথা বলার একপর্যায়ে তার কোমড়ে থাকা ছুরি দিয়ে আফিল মিয়ার বুকে আঘাত করে। এতে ভিকটিম মাটিতে লুটে পড়ে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুল আলম মুজাহিদ যুগান্তরকে বলেন, পুলকের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল-সে দক্ষিণখানে কসাইবাড়ী থেকে উত্তরখানে কাঁচমুগা পর্যন্ত এলাকার অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। তাকে সবাই এক নামে চিনবে। পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কথায় উঠবে-বসবে। তার একটা লাশঘর থাকবে। যেখানে সব সময় ৪-৫টি লাশ থাকবে। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রক। মানুষ হত্যাকে সে নেশায় পরিণত করতে চেয়েছিল। ইয়াবা সেবন করে সে যে ‘পিনিক’ পেয়েছে, মানুষ হত্যা করে তার চেয়ে বেশি ‘পিনিক’ পেয়েছে বলে পুলক ডিবিকে জানিয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

উঠোনে গাঁজা চাষ,গাছসহ ব্যবসায়ী আটক

ফকিরহাটে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মহিলা মাদক কারবারি আটক

থ্রি ইডিয়টসের ফুংসুক ওয়াংচুক নামের ‘র‍্যাঞ্চো’ লাদাখে আমরণ অনশন করছেন কেন…

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ফুংসুক ওয়াংচুক বললে এখনো অনেকের চোখে ভেসে ওঠে বলিউডের সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর আমির খানের মুখ। ফুংসুক ওয়াংচুক ছিলেন ওই সিনেমার সেই নায়ক, যার ডাক নাম ছিল ‘র‌্যাঞ্চো’। তাঁর খোঁজে তিন বন্ধু পাড়ি দিয়েছিলেন লাদাখের রাজধানী লেহ।

সিনেমার সেই ‘র‌্যাঞ্চো’ বাস্তবে লাদাখের অতিপরিচিত পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, পরিবেশ রক্ষাসহ কয়েকটি দাবিতে তিনি ‘আমরণ অনশন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। আজ বুধবার ১৫ দিনে পড়ল তাঁর অনশন। খোলা আকাশের নিচে মাইনাস ১৫ ডিগ্রিতে তাঁর সঙ্গে দিনরাত অতিবাহিত করছেন আরও অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জন লাদাখবাসী। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এখনো হেলদোলহীন।

ম্যাগসাইসাইজয়ী সোনম ওয়াংচুক আজ বুধবার সরাসরি জানতে চাইছেন, লাদাখের পর্বতরাজি বিভিন্ন শিল্প সংস্থা ও খনির কারবারিদের কাছে বেচে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেছে কি না।

সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর সঙ্গীরা আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন ৪ মার্চ। সেই দিন কেন্দ্রীয় সরকার লাদাখবাসীদের জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। প্রতিবাদে ৬ মার্চ থেকে সোনম ও তাঁর অনুগামী সমর্থকেরা আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নেন।

ওই দিন থেকে খোলা আকাশের নিচে রচিত হচ্ছে ওয়াংচুক ও তাঁর সহযোগীদের দিবারাত্রির কাব্য। তাঁদের আন্দোলনে প্রতিদিন যোগ দিতে হাজির হচ্ছেন লাদাখের হাজার হাজার মানুষ। রুখু লাদাখের পাহাড় ও নদী পেরিয়ে সেই আন্দোলনের ঢেউ ভারতের মূল ভূখণ্ডের প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে যৎসামান্যই। তাতে বাস্তবের ‘র‌্যাঞ্চো’ যদিও ভ্রুক্ষেপহীন। তাঁর কথায়, সত্যের পথে থাকলে জয় অবধারিত।

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে গড়ে তোলা হয়েছিল দুই পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। অবিভক্ত ওই রাজ্যে বিধানসভা ছিল। কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরকে বিধানসভা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেছে। রাজ্যের মর্যাদা জম্মু-কাশ্মীর এখনো পায়নি। হয়নি বিধানসভার নির্বাচনও। লাদাখবাসীও পায়নি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো।

অনশনরত সোনম ওয়াংচুক সেই কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে এক বার্তায় বলেছেন, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট ও ২০২০ সালের পার্বত্য পরিষদের নির্বাচনের সময় বিজেপির সরকার বলেছিল, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের রক্ষাকবচ দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি তাদের বিপুল ভোটে জয়ী করেছিল।

তার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষার ধারকাছে দিয়ে সরকার হাঁটেনি। বরং ৪ মার্চের বৈঠকে জানিয়ে দেওয়া হয় ষষ্ঠ তফসিল দেওয়া যাবে না। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বা বিধানসভাও নয়।

কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) ও লেহ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওই বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অথচ আগে তিনি বারবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী জমি, চাকরি ও সংস্কৃতি রক্ষায় লাদাখের রক্ষাকবচের ব্যবস্থা সরকার করবে।

সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কেডিএ ও লেহ অ্যাপেক্স কাউন্সিলও সহমত, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার কারণে লাদাখের জমি ও খনিজ পদার্থের ভার ধীরে ধীরে শিল্পপতিদের হাতে চলে যাবে, যার ফলে ভঙ্গুর লাদাখের পরিবেশ বিপন্ন হবে। সোনমের আন্দোলন তাই দ্বিমুখী। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা।

সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল অনুযায়ী আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় তফসিল উপজাতি অধ্যুষিত মোট ১০টি জেলা রয়েছে, যেখানে তাদের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা জারি রয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর লাদাখে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষণব্যবস্থা চালু হয়নি। বিধানসভার মতো গণতান্ত্রিক কাঠামোও দেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো গণতান্ত্রিক রীতিও নেই। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি চালিত হচ্ছে দিল্লির মর্জিমাফিক। তাদের নিযুক্ত আমলাদের দিয়ে।

সোনম ওয়াংচুকের অভিযোগ, মানুষের মোহভঙ্গ ঘটেছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় লাদাখে সেনাদের মনোবলও ভেঙে পড়ছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ লাদাখের পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করানোর পাশাপাশি সোনম ওয়াংচুক চান লাদাখের জন্য পূর্ণ রাজ্য ও ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদা।

সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)। আজ তারা গোটা লাদাখে অর্ধদিবস ধর্মঘট পালন করে। ২৪ মার্চ, অনশন আন্দোলনের ২১তম দিনে লাদাখের পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সহমর্মিতা জানানোর আবেদন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।

রোজা || সেহেরিতে কি খেলে এবং কি না খেলে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে জেনে নিন…

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক //

দেখতে দেখতে চলে এলো পবিত্র রমজান মাস। আজ যদি চাঁদ দেখা যায় তবে কাল থেকে রোজা শুরু। এই রমজান মাসের গুরুত্ব মুসলিমদের জন্য অনেক বেশি। এই মাসটা ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন।

ভোররাতে উঠে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করেন তারা। এরপর মাগরিবের আজানের সঙ্গে রোজা ভেঙে ফেলেন ইফতারি খেয়ে। এই সময় খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল নিতে হবে। যেহেতু সেহরি দিনের প্রথম খাবার, তাই কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরী, নাহলে সারাদিন রোজা রাখায় অসুবিধা হতে পারে।

সেহরিতে যা খাওয়া উচিৎ

  • শর্করাযুক্ত খাবার দেহে শক্তির যোগান দেয়। বিশেষ করে দানাদার শস্যের তৈরী খাবার যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস, বার্লি ইত্যাদি খাবার অনেকটা সময়ের জন্য দেহে শক্তির যোগান দেয়। তাই এ জাতীয় খাবার সেহরিতে খাওয়া উচিৎ। এতে করে দেহে সারাদিনের শক্তি সঞ্চয় হবে।
  • ফলমূল ও সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ। এছাড়াও দেহের পানির স্বল্পতা দূর করতেও অবদান রাখে। বিশেষ করে তরমুজ, কমলার মতো ফল এবং শসা, টমেটোর মতো সবজি দেহের পানির ঘাটতি দূর করে। তাই সেহরিতে সালাদ হিসেবে বা এমনিও খেতে পারেন এসব ফল ও সবজি।
  • প্রোটিনযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ বোধ করতে সাহায্য করে।

রোজা রেখে দৈনন্দিন কাজ কর্মে সক্রিয় থাকার জন্য সেহরিতে প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরী। বিশেষ করে দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, চর্বিহীন মাংস, মাছ এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মাঝে মটরশুটি, মসুর ডাল, ছোলা, বাদাম এসব খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

  • কিছু চর্বিযুক্ত খাবার আছে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সেগুলো সেহরিতে যুক্ত করতে পারেন। যেমন অ্যাভোকাডো, বাদাম, জলপাইয়ের তেল এবং স্যালমনের মতো স্বল্প চর্বিযুক্ত মাছ এসব চাইলে খেতে পারেন সেহরিতে।
  • রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা অনেকেরই দেখা দেয়। এজন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিৎ। এছাড়াও চিনিমুক্ত ফলের রস, ডাবের পানি বা ভেষজ চা-ও খেতে পারেন।

সেহরিতে যা খাবেন না

  • অতিরিক্ত তেল বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার অস্বস্তির কারণ হতে পারে। সারাদিন রোজা রেখে শারীরিক অস্বস্তির সৃষ্টি যেন না হয় সেজন্যই সেহরিতে এজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ।
  • অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এতে করে শর্করার মাত্রা ওঠা-নামা করতে পারে যার ফলে শক্তি সঞ্চিত থাকতে সমস্যা হতে পারে। চেষ্টা করবেন সাদা চিনি এড়িয়ে চলার জন্য। এর বিকল্প হিসেবে খেতে পারেন গুড়, মধু বা এজাতীয় খাবার।
  • লবণাক্ত খাবার বেশি খেলে পানির তৃষ্ণা বাড়তে পারে। সেহরিতে এরকম খাবার এজন্য এড়িয়ে চলাই ভালো।
  • ঝাল মশলাযুক্ত খাবার খালি পেটে খেলে অস্বস্তি ও অম্বল হতে পারে। যদি সেহরিতে এজাতীয় খাবার খান তাহলে সারাদিন অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। তাই এগুলো না খাওয়াই ভালো। অনেকেই আছেন ভাতের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খেতে পছন্দ করেন, সেহরিতে সেটিও এড়িয়ে চলা উচিৎ।
  • ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন চা, কফি এগুলো অতিরিক্ত পান করলে পানি পান করার তৃষ্ণা বেড়ে যায়। তাই চা-কফি প্রেমীদের সেহরিতে এগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। একান্ত না পারলে ভেষজ চা খেতে পারেন কারণ সেগুলো ক্যাফেইনমুক্ত। সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

 

পিরোজপুরে ত্রিমুখি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ যাত্রী নিহত

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

পিরোজপুরের সদর উপজেলায় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুরের পাড়েরহাট বন্দর সড়কের বেলতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ওসি মো আশিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন কয়েকজন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও চারজন মারা যান।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি