১৬০ বিশ্বনেতা ড. ইউনূসের বিচার স্থগিত চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খোলাচিঠি

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

শান্তিতে নোবেলজয়ী, বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি লিখেছিলেন রাজনীতি, কূটনীতি, ব্যবসা, শিল্পকলা ও শিক্ষাক্ষেত্রের ৪০ জন বিশ্বনেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে টেড কেনেডি জুনিয়রের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বরা।

ওই খোলাচিঠির ধারাবাহিকতায় এবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০০ জনেরও বেশি নোবেল বিজয়ী সহ ১৬০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা একটি নতুন চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা, আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের মতো ব্যক্তিত্ব। উক্ত চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের একজন, রেজাল্টস অ্যান্ড সিভিক কারেজের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ডেলি-হ্যারিস এক বিজ্ঞপ্তিতে চিঠিটি প্রকাশ করেছেন।

চিঠির শুরুতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ সম্বোধন করে লেখা হয়েছে, আমরা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, নির্বাচিত কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতার পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে লিখছি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে আপনাদের জাতি যেভাবে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে আমরা তার প্রশংসা করি।

কিন্তু, সম্প্রতি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যে হুমকি দেখেছি তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া এবং নির্বাচনে প্রশাসন দেশের সব বড় দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগের দুটি জাতীয় নির্বাচনে বৈধতার অভাব ছিল।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের প্রতি যে হুমকি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তা হলো- নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের মামলা। আমরা উদ্বিগ্ন যে, সম্প্রতি তাকে টার্গেট করা হয়েছে। এটা ক্রমাগত বিচারিক হয়রানি বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে, আপনি অবিলম্বে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করুন।

তারপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সহ আপনার দেশের মধ্য থেকে নিরপেক্ষ বিচারকদের একটি প্যানেল দ্বারা অভিযোগের পর্যালোচনা করা হবে। আমরা নিশ্চিত যে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী এবং শ্রম আইনের মামলাগুলোর যে কোনও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করলে তিনি খালাস পাবেন।

আপনি জানেন যে, ‘কীভাবে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শূণ্য দারিদ্র্য, শূণ্য বেকারত্ব এবং শূণ্য নেট কার্বন নিঃসরণ আন্তর্জাতিক অগ্রগতির জন্য একটি শক্তি হতে পারে’ এ নিয়ে প্রফেসর ইউনূসের কাজ আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণামূলক।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিরা কীভাবে বৈশ্বিক অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন তিনি তার একটি প্রধান উদাহরণ। আমরা আন্তরিকভাবে কামনা করি তিনি যেনো নিপীড়ন বা হয়রানি মুক্ত হয়ে তার উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

চিঠির শেষে বলা হয়েছে, আমরা আশা করি, আপনি এই আইনি সমস্যাগুলোর সমাধান একটি সমীচীন, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়সংগত পদ্ধতি নিশ্চিত করবেন। এর পাশাপাশি আসছে দিনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন এবং সব ধরনের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান (প্রদর্শন) নিশ্চিত করবেন। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এই বিষয়গুলোর সমাধান করা হয় তা ঘনিষ্ঠভাবে নজরে রাখার জন্য আমরা বিশ্বের লাখ লাখ উদ্বিগ্ন নাগরিকদের শিবিরে যোগ দেবো’। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সরকার সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন অব‍্যহত রেখেছে: সালাম মূশের্দী এমপি

রামপালে পুলিশের পৃথক অভিযানে তামার তারসহ ২ চোর আটক

আগষ্ট ! বাঙালী জাতির শোকতাপের মাস

এম মুরশীদ আলী :

আগষ্ট ! বাঙালী জাতির শোকতাপের মাস। এ ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালণ উপলক্ষে ২৫ আগষ্ট জুম্মাবাদ রূপসা উপজেলা সদরস্থ নিজ অফিসে দোয়া-মাহফিল আয়োজন করেন- খুলনা জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আজিজুল হক কাজল।

দোয়া-মাহফিলে অংশগ্রহন করেন- খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি সফিকুর রহমান পলাশ, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমডি রকিব উদ্দীন, আওয়ামীলীগ নেতা আলমগীর মল্লিক, শক্তিপদ বসু, রূপসা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবি এম কামরুজ্জামান, রূপসা উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ মোঃ আবু তাহের, সদস্য সচিব আশরাফ আলী রাজ, সাবেক ছাত্রনেতা মাহির হোসেন, যুবলীগ নেতা মাহফুজর রহমান, জামাল ফকির, আরাফাত হোসেন সাকিব, মুরাদ মোল্যা, ইউপি সদস্য রঞ্জু হালদার, মুক্তাজুল ইসলাম সোহাগ, ইউসুফ শেখ, আঃ রহিম মিনা, মোঃ ইয়াকুব শেখ, মাহবুবর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, সোহেল শেখ, বায়জিদ শেখ, সোহেল রানা, রিপন সরদার, শাহরিয়ার অন্তু প্রমূখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন- মাওলানা ইব্রাহিম খলিল ফারুকী।

রামপালে তীব্র লবণাক্ততার মধ্যেও আমন চাষে ব্যাস্ত চাষীরা

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে আমন চাষীরা চারা রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। তীব্র লবণাক্ততার মধ্যে আগাম বৃষ্টি ও অনুকূল পরিবেশ তৈরী হওয়ায় চাষীরা বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে রোপন করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে কৃষকেরা কাঙ্খিত ফলনের আশা করছেন।

রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হচ্ছে। গত বছর (২০২১-২২) আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় এবং বৃষ্টি খুব কম হওয়ায় এবং জমিতে লবনের মাত্রা বেশী থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ওই বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। কিন্তু রোপন হয়েছিল ৭ হাজার ৮৩৮ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪১২ হেক্টর জমির চাষাবাদ কমে যায়। তার আগের বছরে (২০২০-২১) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ২০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছিল ৮ হাজার ২২০ হেক্টর।

চলতি আমন রোপনে খরিপ -২ এর ২০২৩-২৪ সালের ব্লকওয়ারী রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে গৌরম্ভা ইউনিয়নে হাইব্রীড ৬০ হেক্টর, উফশী ৩৬০ ও স্থানীয় জাতের ৯০ হেক্টরসহ মোট আবাদ হচ্ছে ৫১০ হেক্টর। উজলকুড় ইউনিয়নে হাইব্রীড ৫০, উফশী ৩০০ ও স্থানীয়সহ মোট ৪৪০ হেক্টর। বাইনতলায় হাইব্রীড ১১০, উফশী ৬৬০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৯১০ হেক্টর। রামপাল সদরে হাইব্রীড ৮০, উফশী ৪৮০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৭০০ হেক্টর। রাজনগরে হাইব্রীড ৫০, উফশী ৩০০ ও স্থানীয় ৮০ সহ মোট ৪৩০ হেক্টর। হুড়কায় হাইব্রীড ৯০, উফশী ৫৪০ ও স্থানীয় ১৪০ সহ মোট ৭৭০ হেক্টর। পেড়িখালীতে হাইব্রীড ৯০, উফশী ৫৪০ ও স্থানীয় ১৫০ সহ মোট ৭৮০ হেক্টর। ভোজপাতিয়ায় হাইব্রীড ৪০, উফশী ২৪০ ও স্থানীয় ৭০ সহ মোট ৩৫০ হেক্টর। মল্লিকেরবেড়ে হাইব্রীড ৩৭০, উফশী ২ হাজার ২২০, স্থানীয় ৪১০ সহ মোট ৩ হাজার হেক্টর। বাশতলীতে হাইব্রীড ৬০, উফশী ৩৬০ ও স্থানীয় ৯০ সহ মোট ৫১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে।

উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে হাইব্রীড ১ হাজার, উফশী ৬ হাজার ও স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৪০০ হেক্টর সহ মোট ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিরও বেশি আমন আবাদের আওতায় আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আরও কিছু বৃষ্টি হলে, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আশানুরূপ ফলন মিলবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারীভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পাওয়ার টিলার, রোপন যন্ত্র, বীজ সারসহ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ চাষীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপালে বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজী ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের করণীয় সম্পর্কিত করণীয় বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রামপাল থানার আয়োজনে ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগীতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় রামপাল থানার সভাকক্ষে এসআই ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, রামপাল থানার অফিসার ইন-চার্জ এস, এম আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রামপালের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার, উপজেলা দুদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক সহকারী অধ্যাপক আকবর আলী, উপজেলা বিবাহ রেজিস্টার কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, রামপাল সদর থানা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নূরুল ইসলাম, ইমাম হেমায়েত উদ্দিন, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা প্রমুখ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বলেন, মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িতদের প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, মানুষকে উষ্কানি দেওয়া ও গুজব ছড়ানো বন্ধ করা সম্ভব। খাবাপ মানুষ কে ভালোবাসা দিয়ে তাদের ভালো পথে নিয়ে আসাতে হবে। সকলের ভিতরে সামাজিক বন্ধন তৈরী করতে হবে। সমাজের সকলকে নিয়ে খারাপ লোকের তালিকা করুন। উগ্রবাদ পরিহার করে আলোর পথে আনতে হবে। ইসলামের আলোকে সবাইকে আলোকিত করুন। কোন এলাকায় কোন সমস্যা থাকলে নির্দিধায় আমাকে জানান। রাজনগর এলাকায় কতিপয় তার চোরদের চিহ্নিত করে তাদের ভালো পথে আনতে হবে। রাষ্ট্র বিরোধী পোষ্ট, প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না।
বাল্যবিবাহ প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। এবার থেকে বাল্যবিবাহের সাথে জড়িতদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এরপৃুর্বে বিশেষ অতিথি ফুলি সরকার পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধে পুলিশের ভূমিকা, ইমামগণের ভূমিকা ও বিবাহ রেজিস্টারগণের ভূমিকা বিষয়ে বিস্তরিত তুলে ধরেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে। এসডিজি বাস্তবায়নে বড় বাধা বাল্যবিবাহ। এর উত্তরণ ঘটাতে পারলে আমাদের জাতিকে একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলো ঘাতকরা–রামপালে সিটি মেয়র আ. খালেক

জেনিভা প্রিয়ানা, ষ্টাফ রিপোর্টার ||

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ঘাতকরা সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ঘাতকরা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল বাংলার ইতিহাসকে। কিন্ত তাদের সেই পরিকল্পনা সেদিন সফল হয়নি। তারা জানেনা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আর্দশকেই কখনো হত্যা করা যায় না। বাঙালি জাতি এখনো বঙ্গবন্ধুর আর্দশকে ধারণ করে বলেই প্রতিটা বাঙালির হ্নদয় বঙ্গবন্ধু জড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নিজের জীবন বাজি রেখে যেমন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে যাচ্ছেন তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যা, যুদ্ধাপরাধীর মঞ্চে যারা ছিলেন, তাদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ বির্নিমানে, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বাকস্বাধীনতা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামীতেও শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

মঙ্গলবার (২২ আগষ্ট) সন্ধা ৬ টায় উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের ঝলমলিয়া শহীদ মিনার চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্ট সকল শহীদদের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার গোলদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে আরো বক্তব্য দেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোল্লা আব্দুর রউফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে আরা মিলি, বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আবদুল্লাহ, রামপাল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত হোসেন কচি, হুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য পবিত্র পাড়ে প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিচিত্র বীর্য পাড়ে।

শোকসভায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্যর মাধ্যমে সূচনা শোক দিবসের সূচনা করা হয় এবং শেষে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের শহীদদের রুহের মাগফিরত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

Daily World News

রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদারসহ পৃথকভাবে ২ জনের আত্মহত্যা

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের নব রূপে সবুজায়ন

//লাকসাম, কুমিল্লা প্রতিনিধি//

পাহাড় হচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস, এটিকে সতেজ রাখার জন্য সামাজিক বনায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। দেশে বৃক্ষ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান প্রতি বছরের ন্যায় বনকর্মকর্তা এবং কর্মীদের বিরতিহীন পরিশ্রমে লালমাই পাহাড়ে নব রূপে সবুজায়ন হচ্ছে। এর ফলে একদিকে জনসচেতনতা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাছ লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। সবুজের সমারোহ

হয়ে ডানা মেলেছে রোপিত গাছের পাতা। এতে শুধু যে জনগণের ভাগ্যই পরিবর্তিত হচ্ছে তা নয়, দেশের পরিবেশ উন্নয়নেও এ বৃক্ষরাজি বিরাট ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে।

বৃক্ষরোপণ ও বনায়নে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য সামাজিক বনায়ন সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। এদিকে বনভূমির ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার  লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর মৌজায় সবুজায়নে ভরে উঠেছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা বিভাগের কোটবাড়ী রেঞ্জ অফিসের অধিনে ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ বিট বড় র্ধমপুর মৌজার ১৫টি দাগে জবর দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করে ২৫ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে বাগান সৃজন করা হয়।

এছাড়াও  জেলার লাকসাম ও নাঙ্গলকোট এসএফপিসি’র আওতায় উপজেলায় ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক বনায়ন করা হয়।

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগ কোটবাড়ী রেঞ্জ অফিসের অধিনে ২০২২-২০২৩ সালে সদর বিট বড় র্ধমপুর মৌজার ৯টি দাগে জবর দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করে সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ারের সহযোগিতায় এলাকার জনগণের সম্পৃক্ততায় ২০ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে বাগান সৃজন করা হয়।

এছাড়াও চলতি বছরে বড় ধর্মপুর মৌজায় আরো ১৮টি দাগে ২০ হেক্টর ভূমি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ভূমিতে ২০২৩-২০২৪ইং অর্থ বছরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছ।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুমিল্লা কোটবাড়ী রেঞ্জ অফিসের সদর বিটের অধিনে সদর দক্ষিণ উপজেলা লালমাই পাহাড় সবুজ বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ হ্রাস, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার উৎস হিসেবে বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, কোটবাড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খন্দকার ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাকর্মচারীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের সবুজায়নের ফলে বিলুপ্ত বন্যপ্রানী ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখির অবাধ বিচরণের ব্যবস্থা হয়। এবং প্রশাসন ও বন বিভাগের কঠোরতায় পশু-পাখি শিকার বন্ধ হয়েছে।

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের এ উদ্যোগকে বনপ্রেমি ও সাধারণ মানুষ প্রশংসা করেছেন।

কুমিল্লা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খন্দকার বলেন, টেকসই বন ও দরিদ্র জনগণকে উপকারভোগী হিসেবে সম্পৃক্ত করে পরিচালিত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে সুফল পাচ্ছে উপকারভোগীরা। সামাজিক বনায়নের ফলে অংশীদার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ভূমিহীন, দরিদ্র, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্থ গ্রামীণ জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।

Daily World News

ভূমি দস্যুতার অভিযোগে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান এখন কাঠগড়ায়

আমতলীতে শিক্ষার্থীদের যুদ্ধকালীন বীরত্বগাঁথা শোনানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আমতলীতে শিক্ষার্থীদের যুদ্ধকালীন বীরত্বগাঁথা শোনানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধকরনের লক্ষ্যে যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা শিক্ষার্থীদের শুনানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আমতলীতে শিক্ষার্থীদের যুদ্ধকালীন বীরত্বগাঁথা শোনানোর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহ-আবু-জাহের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি ও অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ শাহ আলম সরদার। বিষেশ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ নুরুল আমিন,আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এমএকাদের মিয়া, আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনা বী রমুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এ,কে,এম সামসুদ্দিন শানু, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার মোঃ হাতেম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক ও বীর মুক্তিযুদ্ধা মোঃ জলিলুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে পেরে অনেক শিক্ষার্থী আবেগআপ্লুত হয়ে পরেন। গল্পশুনানোর অনুষ্ঠান শেষে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগতা।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনাকে ভারত কি বার্তা দিতে পারে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত দুটি বার্তা দিতে পারে। জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যাবেন। ওই সময় এ বার্তা দেওয়া হতে পারে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছে আমেরিকা; কিন্তু আমেরিকার অবস্থানের সঙ্গে সহমত নয় ভারত। জি-২০ বৈঠকের আগে বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি।

যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তার বরাতে শনিবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ও জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার দুর্বল হলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কারো পক্ষেই সুখকর হবে না।

পরদিন রোববার বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু এক নিবন্ধ প্রকাশ করে। এতে আশঙ্কা করা হয়, শেখ হাসিনা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে হারলে বাংলাদেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়তে পারে।

এরপর আজ সোমবার টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল। প্রতিবেদনটি লিখেছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যাবেন। ওই সময় বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দুটি স্পষ্ট বার্তা দিতে পারে ভারত।

প্রথমটি হলো- বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। দ্বিতীয়ত আওয়ামী লীগকে সব চীনপন্থি ও ইসলামপন্থি নেতাদের বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের বেছে নিতে হবে।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার এক সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, শেখ হাসিনার জন্য এই দুই বার্তা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয়।

সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত ও মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও এবার দুই দেশ একই কথা বলছে। ভারতের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন জি-২০ সম্মেলনে যোগদানের জন্য দিল্লিতে থাকবেন তখন দুটি বার্তাই তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা সবসময় বলেছেন, তার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তবে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির গণতন্ত্রের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

যদিও নয়াদিল্লি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কখনই কোনো প্রশ্ন তুলেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়, ভারত নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে কোনো চিন্তা করবে না যতক্ষণ ফলাফল হাসিনার পক্ষে থাকে, কারণ নয়াদিল্লি ঢাকাকে তার প্রতিবেশীদের মধ্যে সবচেয়ে ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে বিবেচনা করে।

আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের অনেক ইচ্ছা পূরণ করেছে- ইসলামি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দমন থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে পণ্য চলাচলের অনুমতি দেওয়া পর্যন্ত। নয়াদিল্লির জন্য প্রাথমিক উদ্বেগের কারণ হলো, চীনের সঙ্গে হাসিনা সরকারের আপাত নৈকট্য। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ফ্যাক্টরটি ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একই অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় ও মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আলোচনায় যা প্রাধান্য পেয়েছে তা হলো-

১. বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোতে চীনপন্থি ও ইসলামপন্থিদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষই। দিল্লি সফরে হাসিনাকে এ উদ্বেগের কথা জানাবে ভারত।

২. উভয়পক্ষই একমত হয়েছে যে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতায়িত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনার সফরে ভারত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৩. ভারত ও আমেরিকা একমত হয়েছে যে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দাবি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে কোনো স্থান নেই।

৪. শেখ হাসিনা সরকারকে দুর্নীতি ও ব্যাংক খেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সমস্যাটি মোকাবিলা করতে হবে; যা সাধারণ বাংলাদেশিদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

৫. ভারতীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, ক্ষমতার পরিবর্তন হলে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসবে, যা এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং ভারতের নিরাপত্তা হুমকি দ্রুত বাড়বে।

৬. নয়াদিল্লির প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেছেন, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য বাইডেন প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে তাদের ভারতের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

ভারতের নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রটি জানিয়েছে, এ বিষয়গুলোই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

ঢাকার একটি সূত্রের বরাতে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যারা রাজনীতিতে আগ্রহী নয়, তারা জাতি গঠনের প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে উত্সাহিত হবে। ক্ষমতাসীন দলের চক্রের প্রতি আনুগত্য নয়, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সঠিক প্রার্থী বাছাই আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করবে…। সবশেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Daily World News

শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে পারে: দ্য হিন্দু

শেখ হাসিনাকে দুর্বল করলে ক্ষতি সবার : আমেরিকাকে নয়াদিল্লির বার্তা

শ্রীলঙ্কা ঋণের ৫ কোটি ডলার ফেরত দিল বাংলাদেশকে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ (রিজার্ভ) থেকে শ্রীলঙ্কাকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই ঋণের পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে  শ্রীলঙ্কা। আজ সোমবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক।

মেজবাউল হক বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল।

আজ সোমবার ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেরত এসেছে। আমরা আশা করছি বাকি ১৫০ মিলিয়ন ডলারও যথাসময়ে ফেরত দেবে দেশটি।’

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে চার কিস্তিতে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ। কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় এ ঋণ দেওয়া হয়েছিল দেশটিকে।

এক বছরমেয়াদি ওই ঋণের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন মাস করে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট (লাইবর) যোগ করে দেড় শতাংশ সুদ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট ৫০ মিলিয়ন ডলার বা পাঁচ কোটি ডলার ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দ্বিতীয় দফায় ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলার দেওয়া হয় ৩০ অক্টোবর। আর একই বছরের নভেম্বর পাঁচ কোটি ডলার দেওয়া হয় দেশটিকে।

এক বছরের ঋণ চুক্তির আওতায় গত বছরের আগস্ট, অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে নাজুক অবস্থায় থাকায় নির্ধারিত সময়ে ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় দেশটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসবা মতে, বর্তমানে দেশের রিজার্ভ আছে দুই হাজার ৯৩৮ কোটি (২৯.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি মতে, দেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দুই হাজার ৩১৪ কোটি ডলার বা ২৩.১৪ বিলিয়ন ডলার। এ রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের মতো আমদানি দায় (প্রতি মাসে ছয় বিলিয়ন ডলার হিসাবে) মেটানো যাবে।

দেশকে পাকিস্তানি পন্থায় পরিচালনা করতে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়: সালাম মূশের্দী এমপি

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো//

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর শেখানো পথ দিয়েই  হাঁটছেন। ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের হামলা থেকে আল্লাহ  শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। জনগণের হৃদয়ের উত্তাপ থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে।

২০০৪ সালে দেশের মানুষ যখন শেখ হাসিনার উপর বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন তখনি এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড গ্রেনেড হামলা চালায় জোট সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ইতিহাসের সবথেকে জঘন্য হত্যাকাণ্ড গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এ হামলায় জীবন দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কৃপায় বেঁচে গিয়েছিল আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশকে মেধা ও নেতৃত্ব শূন্য করতে তৎকালীন  জামায়াত-বিএনপির জোট সরকার যে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল সে ঘটনায় ২৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। দেশকে পাকিস্তানি পন্থায় পরিচালনা করতে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেনেড হামলায় যারা আহত হয়েছিল তাদেরকে চিকিৎসা সেবাও নিতে দেওয়া হয়নি যাতে তারা রাস্তায় মারা যায়। এই ছিল তৎকালীন জোট সরকারের ঘৃণ্য রাজনীতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা পরিণত হয়েছে।

বারবার বাধা এসেছে, যাতে কোনোমতেই আওয়ামী লীগ সরকারে আসতে না পারে। সেই বাধা, ওই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র, যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের যারা মাস্টার বা প্রভু, তারা কিন্তু সেই চক্রান্তে এখনও লিপ্ত।

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামীলীগের মূল শক্তি।

বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যাতে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেই জন্য আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানান।

রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে উপজেলা সদরস্থ দলীয় কার্যালয়ে গ্রেনেড হামলায় সকল শহিদদের স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিল ২১আগস্ট বিকালে  অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি পরিষদ চেয়ারম্যান  কামাল উদ্দীন বাদশা’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন  জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস‍্য আ:মজিদ ফকির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি খান শাহাজাহান কবীর প‍্যারিস, সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব, এমডি রকিব উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক আকতার ফারুক,প্রচার সম্পাদক আ:গফুর খান,  যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক স ম জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল জুনায়েদ, মিজানুর রহমান,আল মামুন সরকার।

বক্তৃতা করেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বিশ্বাস,  মনিরুজ্জামান মনি, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক,  বিনয় হালদার, মো:মঈন উদ্দীন, শক্তিপদ বসু,  মাহবুবুল আলম,হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আ:মান্নান শেখ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস, শ্রমীকলীগের আহবায়ক মফিজুল ইসলাম, সদস‍্য সচীব  আশরাফ আলী রাজ,  উপজেলা শ্রমীকলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি  এস এম এ তাহের, তাহিদ মোল্লা, ফরিদ শেখ,  ফ ম আইয়ুব আলী, আ:মজিদ শেখ,ইউপি সদস‍্য আলমগীর হোসেন শ্রাবণ, রেশমা আকতার,স্বপ্না পাল, লিপিকা  দাস, রাবেয়া আকতার, যুবলীগের  জসিম সরদার,  সুব্রত বাগচী,  রবিউল ইসলাম  মেজবাবুল আলম, খায়রুজ্জামান সজল, সৈয়দ হেলাল,  আবদুল্লা আল মামুন,  আশিষ বিশ্বাস, জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা, রোমেছা বেগম, কৃষকলীগের মাহমুদুল হাসান শামীম, ছাত্রলীগের সাফিউল ইসলাম হিমেলসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  এমডি রকিব উদ্দীন।