আমতলী পৌর নির্বাচন মেয়র পদে ১০ কাউন্সিলর পদে ৪৬ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র দাখিল

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মনানয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেয়র পদে ১০ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন প্রার্থী ।

আমতলী উপজেলা নির্বাচন অফিস ও রিটার্নি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জন মনে পত্র দাখিল করেছেন। প্রার্থীরা হলো বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নাজমুল আহসান, মো. জিল্লুর রহমান রুবেল মোক্তার, মো. আবুল কালাম আজাদ, জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা, নুসরাত জাহান লিমু, কামাল মৃধা, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. ইফতেকার হাসান ও জেসিকা তারতিল যুথি।

সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারন ৯টি ওয়ার্ডে ৩৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ।

নির্বাচনে প্রার্থীতা বাছাই হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, বাছাইয়ে বাদ পরাদের আপিল নিষ্পত্তি হবে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ ফেব্রুয়ারি, প্রতিক বরাদ্দ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ভোট গ্রহন করা হবে ৯ মার্চ।

বরগুনা জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল হাদী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত মেয়র পদে ১০ জন এবং সংরক্ষিত পদে ৯ এবং সাধারন কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

পকিস্তানের নির্বাচন-ফলাফল-সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপোড়েন চলছিল। সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সেনাপ্রধান আসিম মুনির পিটিআইকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে এমন কোনো অস্ত্র নেই, যা ব্যবহার করেননি। একপর্যায়ে মামলায় জর্জরিত কারাবন্দী ইমরান ও তাঁর দল পিটিআই নির্বাচন থেকে ছিটকেও পড়ে। ইমরান হতোদ্যম হননি। দলের নেতাদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরাই পিএমএল (এন) ও পিপিপির (জারদারি-ভুট্টো) সঙ্গে লড়ে দারুণভাবে জিতে আসেন। রাজনৈতিক ভাষ্যকারেরা অবশ্য বলছেন, কাহিনির সমাপ্তি ঘটছে না এখনই।

পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মূল দুই চরিত্রে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তাঁর রাজনীতিকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে পর্দার পেছন থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন কোনো অংশ নেই, যা তিনি ব্যবহার করেননি। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও কাজে লাগিয়েছেন। নির্বাচনে পিটিআই অনুসারী স্বতন্ত্র সদস্যরা যে ফলাফল করেছেন, তাতে আসিম মুনিরের চেষ্টা যে ব্যর্থ হয়েছে তাতে সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নেই।

মামলাজর্জরিত ও কারাবন্দী খান নির্বাচন ও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পেরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড় করাতে বাধ্য হন। কারণ পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পিটিআইয়ের প্রতীক স্থগিত করে দিয়েছিল। এত বাধাবিপত্তি, এমনকি খানের সহকর্মীদের কেউ কেউ বেঁকে বসার পরও পিটিআই প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে লড়ে একক বৃহত্তম গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আসিম মুনিরের প্রিয় দুই দল শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) কিংবা ভুট্টো-জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে এই দুই দলের চেয়ে পিটিআই জাতীয় পরিষদে বেশি আসন জিতে নিয়েছে। এর অর্থ হলো প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ইমরান খান তাঁর ভোটারদের ধরে রাখতে পেরেছেন।

(রোববার দুপুরে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন যে ফল ঘোষণা করে সে অনুযায়ী, ২৬৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন পিটিআই অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরপরই পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭টি আসন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে একটি আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ২৬৫ আসনে ভোট হয়েছে। একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।)

যেহেতু কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, পাকিস্তানকে এখন জোট সরকারের দিকে যেতে হবে। সরকার গঠনের জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পাকিস্তানের সংবিধানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ৩৩৬ আসনের মধ্যে ২৬৬টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় (এবার ২৬৫টি আসনে অনুষ্ঠিত হয়েছে)। ৬০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত এবং দলগুলোর দেওয়া তালিকার ওপর আনুপাতিক হারে বণ্টন হয়। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন পেতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। আর সংখ্যালঘুদের জন্য আছে ১০টি আসন।

পাকিস্তানের ভেতরে একটি পক্ষ রয়েছে যারা চায় সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে পৃথক থাকুক। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এই ফলে তারা আনন্দিত। তারা আশা করছে এই জয়ের দরুন জাতীয় ইস্যুতে সেনাবাহিনীর যে ভূমিকা তার পুনর্মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তাদের এই আশা খুব সম্ভবত পূরণ হবে না। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পেশাদারত্ব ও রাজনীতি এ দুই নিয়েই থাকবে। আসিম মুনিরও ইমরান খানের প্রতি তাঁর যে শত্রু মনোভাব তা জারি রাখবেন, নইলে তাঁর নিজের অবস্থানই নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

যেহেতু দল হিসেবে পিটিআই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, ফলে তারা নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসন পাবে না। এ কথা সব দলের জন্যই প্রযোজ্য। এই আসনগুলো ছাড়া কোনো দলই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। পিটিআইকে সংরক্ষিত আসন পেতে হলে ছোট কোনো দলের সঙ্গে জোট করতে হবে। সেদিক থেকে এক সদস্যের মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন (এমডব্লিউএম) একটি বিকল্প হতে পারে। এই দলটি এসেছে খাইবার-পাখতুনখওয়া থেকে। এমডব্লিউএমের সঙ্গে জোট করলে পিটিআই তাদের (এমডব্লিউএমের) ব্যানারে নারী ও সংখ্যালঘুদের আসন পেতে পারে। কিন্তু এতেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কারণ ক্ষমতায় যেতে হলে পিটিআইকে নিদেনপক্ষে ১৬৮টি আসন পেতে হবে। অন্য দলগুলো নিজেরা কিংবা মুনিরের চাপে খানের সঙ্গে জোটে যাবে না।

বর্তমান পরিস্থিতে সরকার গঠনে পিপিপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা সিন্ধু ধরে রেখেছে, পাঞ্জাবেও আসনসংখ্যা বাড়িয়েছে। সন্দেহ নেই, মুনির পিএমএল (এন) এবং পিপিপিকে হাত মেলাতে আহ্বান জানাবেন। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই নির্বাচনের আগে আমরা পিএমএল (এন) নেতা এবং নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফকে পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) সরকার গঠন করতে দেখেছি। সরকার গঠন নিয়ে দুই দলের মধ্যে কথা হচ্ছে। কিন্তু তাদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাও কঠিন হবে, কারণ দুই দলেরই নিজ নিজ স্বার্থ আছে। সম্ভবত, মুনির ও তাঁর কোটাভুক্ত জেনারেলরা পাকিস্তানের ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ দুই দলকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য করবে। পিএমএল (এন) ও পিপিপির জোট সরকার হয়তো নওয়াজ শরিফের চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যে খায়েশ তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তারপরও পিএমএল (এন) জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এই নির্বাচনের ফলাফল আসলে কি বার্তা দেয়? ইমরান খান খাইবার পাখতুনখোয়ায় আধিপত্য জারি রেখেছেন। এত বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি জাতে পাঠান এবং জাতিগত কারণেই তিনি তাঁর লোকজনের সঙ্গে ছিলেন। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো ইমরান খান পাঞ্জাবেও এগিয়ে ছিলেন, সেখানকার ভোটারদের যে সমর্থন তা একচুলও নড়েনি। রাজনৈতিকভাবে পাঞ্জাব খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। এই বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশির ভাগ সদস্যই পাঞ্জাবি।

গত বছরের ৯ মে ইমরান খানের সমর্থকেরা সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় হামলা চালায়। মূলত ইমরান ও মুনিরের সম্পর্কেও ফাটল ধরে এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই। পরবর্তী নয় মাসে, সেনাবাহিনী বারবার বলার চেষ্টা করেছে খান ও পিটিআই দেশপ্রেমিক নয়, এবং আদতে সেনাবাহিনীই দেশের অখণ্ডতা ও মতাদর্শগত ঐক্যকে অটুট রাখতে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা পরিষ্কার যে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই প্রচারণার তিল পরিমাণ প্রভাবও খানের সমর্থকদের ওপর পড়েনি। কিন্তু খানের প্রতি সমর্থনের মানে এই নয় যে পাকিস্তানিদের দেশটির সেনাবাহিনীর প্রতি যে আস্থা তা তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর প্রতি পাকিস্তানিদের জোর আস্থা আছে। বিশেষ করে তারা মনে করে ‘চির’শত্রু ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে সুরক্ষা দিতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে থাকে।

প্রশ্ন হচ্ছে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইমরান খানের অসাধারণ কৃতিত্বের পর উচ্চ আদালত তাঁদের সিদ্ধান্তের প্রতি আরেকবার আলোকপাত করবেন কি না। এতে হয়তো ইমরান খান কারামুক্ত হতে পারবেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে খানের এত এত কর্মীর উপস্থিতিও বিচার বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য চাপের কারণ হতে পারে।

সেনাবাহিনী ও জোট হয়তো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যদের ভাগিয়ে আনার চেষ্টা করবে, কিন্তু ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাদের অনেকেই খানের অনুগত থাকবেন। শিগগিরই খান হয়তো বিচারিক ছাড় পাবেন না, কিন্তু এটাও সত্য একপর্যায়ে গিয়ে আদালত তাঁকে বেরোতে দেবেন। আদালত যদি তা-ই করে, তাহলে ইমরান পাকিস্তানেই থাকবেন। তিনি তেমন মানুষ নন যে বিদেশে নির্বাসনে যাবেন।

সেনাবাহিনীর ভেতরে ইমরান খানের একটা সমর্থন আছে, সেটা সর্বজনবিদিত। ৯ মের পর থেকে মুনির কঠোরভাবে ইমরানপন্থীদের দমিয়ে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে কর্প কমান্ডারও আছেন। এই নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীতে ইমরানের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাবের পুনর্জীবন ঘটতে পারে, যা মুনির ও আইএসআই আবারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন বলেই মনে হয়।

পাকিস্তানের ভেতরে একটি পক্ষ রয়েছে যারা চায় সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে পৃথক থাকুক। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এই ফলে তারা আনন্দিত। তারা আশা করছে এই জয়ের দরুন জাতীয় ইস্যুতে সেনাবাহিনীর যে ভূমিকা তার পুনর্মূল্যায়ন হবে। কিন্তু তাদের এই আশা খুব সম্ভবত পূরণ হবে না। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পেশাদারত্ব ও রাজনীতি এ দুই নিয়েই থাকবে। আসিম মুনিরও ইমরান খানের প্রতি তাঁর যে শত্রু মনোভাব তা জারি রাখবেন, নইলে তাঁর নিজের অবস্থানই নড়বড়ে হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ভিভেক কাটজু ভারতের সাবেক কূটনীতিক। মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও থাইল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিবন্ধটি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এ প্রকাশিত। ইংরেজি থেকে অনূদিত।

Daily World News

পাকিস্তান জাতীয় নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল

পাকিস্তান জাতীয় নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনের তিন দিন পর রোববার পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন ইসিপি। সেখানে কোনো দল সর্বশেষ কতটি আসন পেয়েছে সেটি জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২৬৪ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০১ আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর পরই পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজ (পিএমএল-এন) ৭৫ আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৪ ও মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম) ১৭ আসনে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১৭ আসন।

এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলকে দেশটির জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ১৩৪ আসনে জয়ী হতে হবে। পাকিস্তানে ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় সরকার গঠনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডন ও জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ৮৮, ১৮ ও ৯০ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ১৫ ফেব্রুয়ারি এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে শনিবার দেশটির সেনাপ্রধান বলেন, পাকিস্তানের ‘স্থিতিশীল শক্তি’ দরকার এবং ‘নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৬ আসনের মধ্যে ২৬৫ আসনে (একটি স্থগিত) ভোট হয়েছে। একটি আসনে ফল স্থগিত থাকার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৬৪ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। এ ছাড়া বাকি ৭০ আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০ নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের।

আগামী কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিলেন কে. এম. ফরিদ হাসান

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

আগামী কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা দেন, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কে.এম.ফরিদ হাসান। বৃহস্পতিবার বিকালে কচুয়া প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষনা দেন তিনি।

এসময়ে তিনি বলেন, আমি ছোট বেলায় মাদ্রাসায় পড়েছি কর্মজীবন শুরু করার পর থেকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি, তাঁতীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, পরে বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের পাশে থেকেছি। ভোটারদের ভালবাসা ও সমর্থনে আশাকরি নির্বাচনে আমার জয়লাভ হবে। তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের চার ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের মধ্যে কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল,সাধারন সম্পাদক কাজী ছাইদুজ্জামান সাইদ,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শুভংকর দাস বাচ্চু,নির্বাহী সদস্য খান সুমন, প্রদ্যুত কুমার মন্ডল,সদস্য নকীব মিজানুর রহমান,শহীদুল ইসলাম খোকন, মঈনুল ইসলাম শিকদার, মো.রুম্মান প্রমুখ।

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা’র প্রতিবাদে রূপসায় মানববন্ধন

..এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

 রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদীতভাবে মিথ্যা মামলা’র প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে গত ৮ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় রূপসা ঘাট এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম কাজল।

এ সময় উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক নাজমূল হুদা অঞ্জন এর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন- অয়াস কুরুনি বাবু, জনি হাওলাদার, দ্বিপ খান, রাসেল শেখ, মো.নোমান সৈকত, আবির শেখ, তাইম ইসলাম, সাব্বির শেখ, শুভ ইসলাম, নাসিফ রায়হান, সজিব শেখ, মুস্তাকিম শেখ, বাধন খান, আসিফ শেখ, বাবু শেখ, মিসকাত মোল্লা, তুরান শেখ, রনি শেখ,মো. রনি শেখ, মো.শাওন, মো. অনিক, মো. ফাহিম, মো. যোবায়ের, যুবনেত  কামরান মোল্লা, ইয়াসিন হাওলাদার, রায়হান মাষ্টার সহ আরো অনেকে প্রতিবাদ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে।

খুলনায় সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান হালিমা বেগম

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম কিনেছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও খুলনা বিভাগীয় কমিটির নেত্রী, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী মোছা: হালিমা বেগম।

মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। খুলনা থেকে তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তিনি।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে হালিমা বেগম বলেন, নির্বাচিত হলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই। স্মার্ট বাংলাদেশ তো এমনিই হবে না, অনেক কাজ আছে। সামাজিক ও নানামুখী উন্নয়ন করতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য যত কাজ করা যায়, সবটাই করব। এলাকায় গিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মানুষের কী অসুবিধা আছে, কীভাবে বসবাস করছে  সবই দেখতে হবে।

হালিমা বেগম খুলনার খালিশপুর উপজেলার মুজগুন্নী হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন রয়েছে তার। কৃষক পিতা আব্দুল সরদারের  ৬ সন্তানের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ কণ্যা তিনি। স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকতেন তিনি। বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রলীগ,কৃষকলীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত। নারী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি রৌপ্য পদক অর্জন করেছেন। অসহায় দুস্থ মানুষের সহযোগিতা, চিকিৎসা সেবা প্রদাণ করাসহ নানা সামাজিক কাজও করেন তিনি।

ইউক্রেন চরম দুর্নীতিতে পরে গেছে- জেলেনস্কির অবস্থান নড়বরে- পশ্চিমাদের সহায়তায় বাধা

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইউক্রেনে দুর্নীতি নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য ফাঁস হলো, সেটা একটি জটিল গল্প। এই কেলেঙ্কারিটা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে। ১ লাখ মর্টার সেলের (যার মূল্য ৪০ মিলিয়ন ডলার) কিনতে অর্থ পরিশোধ করা হলেও মর্টার সেলগুলো সরবরাহ করা হয়নি। এই কেলেঙ্কারির গল্প যখন সামনে এল, তখন দুর্নীতি নিয়ে গবেষণা করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে ইউক্রেন এযাবৎকালের সবচেয়ে সেরা স্কোর করেছে।

টিআইয়ের সূচকে ইউক্রেনের এই অগ্রগতি থেকে বোঝা যায়, ঘনিষ্ঠজনসহ দুর্নীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভলোদিমির জেলেনস্কি যে প্রচেষ্টা নিয়েছেন, তার কিছুটা অগ্রগতি ঘটেছে।

পক্ষান্তরে মর্টার সেল কেলেঙ্কারি পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়, ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে দুর্নীতি কতটা বিস্তার লাভ করেছে ও কতটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এই দুর্নীতি এমন এক সময়ে জেঁকে বসেছে, যখন ইউক্রেন বড় ধরনের অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতি ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের সমস্যা। কিন্তু গত ১০ বছরে ইউক্রেন নিয়ে টিআইয়ের যে ধারণাসূচক, তাতে দেখা যায়, দেশটি দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতি করে চলেছে। রাশিয়া ও আজারবাইজনকে বাদ দিলে ইউরোপের আর কোনো দেশে ইউক্রেনের মতো এতটা দুর্নীতি নেই।

দুর্নীতির এই মহামারির মধ্যেও দুই বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন এখনো টিকে আছে। তারা রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে অবিস্মরণীয় প্রতিরোধক্ষমতা দেখিয়ে চলেছে। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের এসব কেলেঙ্কারিসহ অন্য যেসব দুর্নীতি তাতে বলা যায়, ইউক্রেনকে এখনো প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। দুর্নীতি ইউক্রেনকে আরেকটি অস্তিত্বের হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। আর সেটা ঘটছে সে সময়েই, যখন দেশটির টিকে থাকা না-থাকা পশ্চিমা অস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল।

হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, জার্মানির প্রভাবশালী ডানপন্থী বিরোধী দল এএফডি ইউক্রেনকে আর অর্থ ও অস্ত্রসহায়তা না দেওয়ার জন্য দুর্নীতির অকাট্য যুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তদারকির ঘাটতির মানে হচ্ছে, ইউক্রেনকে দেওয়া আমেরিকার সহায়তা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পকেটে চলে যাওয়া।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যখন ইউক্রেনকে সহযোগিতা দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক বাড়ছেই এবং দেশগুলোর নির্বাচনী প্রচারণায় সেটি অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন তহবিল তছরুপের এসব অকাট্য প্রমাণ ইউক্রেনকে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে কঠিন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

জেলেনস্কির নড়বড়ে অবস্থান

পশ্চিমা সমর্থন অব্যাহত থাকা নিয়ে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি যখন সৃষ্টি হয়েছে, তখন দেশের ভেতরে জেলেনস্কির অবস্থানও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে জেলেনস্কির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল দুর্নীতি তিনি উচ্ছেদ করবেন। কিন্তু তার সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দুর্নীতি সেই প্রতিশ্রুতির ওপর জোর আঘাত হানল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য দমন-পীড়ন হচ্ছে।

বর্তমান কেলেঙ্কারি ইউক্রেনের রাজনৈতিক বিভাজনকেই গভীর করবে। যুদ্ধকৌশল নিয়ে বিভেদ সৃষ্টিকারী বিতর্ক যখন তুঙ্গে এবং এ বিষয়ে ইউক্রেনের সামরিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার মতবিরোধের বিষয়টি যখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে, সে সময়ে জেলেনস্কির কাছে রাজনৈতিক বিভাজন কাম্য কোনো বিষয় হতে পারে না।

জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনিকে বরখাস্ত করবেন কি না কিংবা সেই ক্ষমতা তাঁর আছে কি না, সেটা একদমই পরিষ্কার নয়। বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সেনাপ্রধানকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। কিন্তু জালুঝনি সেটা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জেলেনস্কি ও জালুঝনির মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ অভিযান তেমন কোনো সাফল্য বয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায়, সেটা চরম রূপ ধারণ করে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জেলেনস্কি তাঁর শীর্ষ জেনারেল জালুঝনিকে নিন্দা করেন। এর কারণ হলো জালুঝনি প্রকাশ্যে বলেন, যুদ্ধ অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে গেছে। আরেকটি জল্পনা ডানা মেলেছে, জালুঝনি রাজনীতিতে আসতে চলেছেন এবং জেলেনস্কির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন। ডিসেম্বর মাসের এক জরিপ বলছে, ৬২ শতাংশ ইউক্রেনীয় বলছেন, তাঁরা জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন আর জালুঝনির ওপর আস্থা রাখছেন ৮৮ শতাংশ।

দুর্নীতি-কেলেঙ্কারি ও ইউক্রেনের ক্ষমতাকাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের খবর—দুইয়ের কোনোটাই রাশিয়ার সঙ্গে জয় তো দূরে থাক পরাজয় এড়াতে ইউক্রেনীয়রা একটা বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি করতে পারছে—পশ্চিমাদের মধ্যে এই আস্থা আনবে না। আর এ ধরনের আস্থা ছাড়া, সহযোগিতার ব্যাপারটা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জোরালো অস্ত্র ছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর আইনসভা থেকে সহযোগিতা অনুমোদনের ব্যাপারটি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো, দুর্নীতি ইউক্রেনের টিকে থাকা না-থাকার মূল প্রশ্নটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দুর্নীতিই ইউক্রেনের একমাত্র সমস্যা নয় কিংবা এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই ধারণার কারণে  ইউক্রেনের ভেতরের রাজনীতি যেমন জটিল হয়ে উঠছে আবার পশ্চিমা সমর্থনের ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হচ্ছে।

দুর্নীতির কারণে ইউক্রেন ভেঙে যাচ্ছে, সেটা ঠিক নয়। কিন্তু যুদ্ধের মধ্যে দুর্নীতি এমন বাজে একটা ব্যাপার, যার কারণ ইউক্রেন ভেঙে যেতে পারে। কেননা, দুর্নীতি ইউক্রেনের ভেতরে ও বাইরে বড় প্রভাব ফেলছে।

Daily World News

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

কচুয়া আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক আর নেই

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি//

উপজেলা আওয়ামীলীগের  সাধারন সম্পাদক ও গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  এস এম আবু বক্কর সিদ্দিক(৬১) মৃত্যুবরন করেছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার বেলা দেড়টায় ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করে। সে দির্ঘদিন হার্টের  সমস্যা ভুগছিলেন। মৃত্যুকানে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা ও এক স্ত্রী সহ অনেক গুনগ্রহী রেখে গেছেন। তিন দশকের অধিককাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সকাল ৯ টায় কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাকে রাখা হবে এরপর পরিষদ কার্যালয় তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, সকাল ১১ টায় গোপালপুর শহীদ আসাদস্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, বাহেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় সহ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠন, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন,গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ,কচুয়াা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন।

একজন শীতার্ত মানুষের গায়ে একটি কম্বল দিতে পারা অনেক আনন্দের বিষয়: সালাম মূর্শেদী এমপি

//আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী  বলেছেন, শীতের কষ্ট সেই বুঝবে যার কাছে শীত নিবারণের মতো কোনো বস্ত্র নেই। শীতার্থ মানুষের কষ্ট লাঘবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে কম্বল বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

সেই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম হয়ে সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।

একজন শীতার্থ মানুষের গায়ে একটি কম্বল দিতে পারা অনেক আনন্দের বিষয়। আমাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে জনসেবায় নিজেকে আত্মনিবেদন করতে হবে।

    রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ২৮জানুয়ারী বিকাল ৩টায়  কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে  জুম কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদীর নিজস্ব অর্থায়নে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন

উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের আহবায়ক মোঃ মফিজুল ইসলাম।

উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের আয়োজনে কম্বল  বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমদাদুল ইসলাম, আইচগাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আসাদুজ্জামান।

 জেলা শ্রমিকলীগ নেতা হায়দার আলীর পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন  যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্রমিকলীগ নেতা কবির শেখ, লিটু বিশ্বাস, ইসহাক শেখ,  বাবুল হাওলাদার, রেজাউল ইসলাম,হাসান বেপারী, আব্দুল জব্বার শেখ, মনিরুজ্জামান হাতেম,  ছাত্রলীগ নেতা শেখ রিয়াজ, শেখ রাসেল, নোমান সৈকত প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায়  উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

ভৃমি মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন মানবিক মূল‍্যবোধ,জাতিয়তাবাদী, আর্দশ  ও দেশ প্রেম একটি জাতির মুল চালিকাশক্তি।  আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত ধরে বাংলাদেশ  স্বাধীন হয়েছে তারই সুযোগ‍্য কন‍্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন‍্য বাংলাদেশ উন্নযন হয়েছে। যারা গনতন্তের কথা মুখে বলে তারা কি করেছে তাহা সকলের অজানা নয়।

বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর  রহমান সহ পরিবারের সদস‍্য এবং জতিয় চার নেতাকে হত‍্যা করে জাতিকে কংলকিত করেছে। দেশের  মানুষ এখন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত কিন্ত কতিপয় মানুষের মানসিকতা  মূল‍্যবোধ আমাদেরকে হতাশ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ডুমুরিয়া  উপজেলা  প্রশাসনের আয়োজনে   উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায়  প্রধান অতিথি  সরকারি কমাকর্তা কর্মচারীদের উদ‍্যেশে বলেন আমরা ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি মানুষের অধিকার সেবা পাওয়া তার অধিকার। একজন ক্ষুদ্রতম মানুষ হলে রাষ্ট্রর কাছে তিনি সেবা প্রত‍্যাশী। তাকে সম্মান করতে হবে এটাই বঙ্গবন্ধুর  চেয়েছিলেন। দূনীতিমুক্ত মড়েল উপজেলা  হিসেবে  কাজ করতে সকলকে আহবান জানান।  বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ,

 আরো বক্তব্য দেন  উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আশিষ মোমতাজ,  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন পারভিন রুমা,  থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি)সুকান্ত সাহা, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার  কর্মকর্তা ডাক্তার কাজল সরকার , উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম,সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ,

 বান্দা কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের অধ‍্যক্ষ সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডল,ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম   ও চুকনগর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ‍্যক্ষ মনিরুল ইসলাম ব্রাউন,    উপজেলা  আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন জোয়াদার, আওয়ামী লীগ নেতা মোল্ল‍্যা সোহেল রানা,মজিদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান,

 ইউপি চেয়ারম‍্যান গাজী তৌহিদুজ্জামান ও সুরজিৎ বৈধ‍্য , গাজী হুমাউন কবির বুলু

উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম,কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, সমাজসেবা অফিসার সুব্রত বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনা মজুমদার, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মোঃ রুহুল্লা, আনসার ভিডিবি কর্মকর্তা মিশু দে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ শাহাঙ্গীর আলম,   পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আব্দুল মতিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম,ডুমুরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সক্টার র মোঃ মনির হোসেন,  ষ্টোশন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম,মহিলা স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম,

ইউপি চেয়ারম‍্যান  শেখ দিদারুল হোসেন, গোপাল চন্দ্র দে, মোঃ জহুরুল হক, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মনোজিৎ বালা, রফিকুল ইসলাম হেলাল, মোল্ল‍্যা মাহাবুর রহমান সহ সুশীল সমাজের মানুষেরা।