রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চুরির মালামালসহ চোর চক্রের ৩জন গ্রেফতার

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চুরির সময় মালামালসহ ৩ চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে রামপাল থানা পু্লিশ। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটককৃতরা হলো, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া গ্রামের আবু জাফরের পুত্র পারভেজ শেখ (২৪), মৃত আবু জাফরের পুত্র সালাম শেখ (৩৫) ও মো. ইয়ামিন শেখের পুত্র ধলু শেখ (২৪)।

জানা গেছে, গত ৩ জুলাই রাত অনুমান ২ টার সময় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে বিএফসিএল এর নির্মাণাধীন অডিটোরিয়ামের উত্তর কোনায় ওয়াচ টাওয়ারের পাশে একদল চোর তামার তারসহ মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিকিউরিটি ইন-চার্জ মো. মনিরুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় ৪০ কেজি তামার তার, বিভিন্ন প্রকারের পাইপ ও লোহার ২০০ কেজি মালামাল উদ্ধারসহ চোরদের আটক করা হয়। আটককৃতদের বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে একটি চোর চক্র সিন্ডিকেট করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে চুরি করে আসছিল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারিপশে নজরদারী বৃদ্ধি করি। কারা কারা এই চুরির সাথে জড়িত তাদের সম্পর্কে তথ্য নিই। এদের শেল্টারদাতা ও গডফাদারদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করি। যে কারণে গত দুই মাস দায়িত্ব পালনকালে চুরি শূণ্যের কোঠায় আনা সম্ভব হয়েছে। সূত্র জানায়, জনৈক ওলিউল্লাহ নামের এক ব্যাক্তির ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চুরির সাথে জড়িত রয়েছে।

এদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্হা গ্রহন না করায় চুরি থামানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা দাবী করেছেন।

বাগেরহাটের রামপালে ব্যাবসায়ী বিধানকে হত্যাচেষ্টার প্রধান আসামী আটক

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে বেকারি ব্যাবসায়ী বিধান সাহাকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার (৩ জুলাই) মামলাটি করেন ভিকটিম বিধান সাহা।

পু্লিশ প্রধান আসামী মো. ইসমাইল ইজারদার (১৯) কে গ্রেফতার করে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। আটক ইসমাইল পেড়িখালী গ্রামের জাফর ইজারদারের পুত্র।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন রাত পৌনে ১০ টায় উপজেলার পেড়িখালী বাজারের ভাই ভাই বেকারির কারখানায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ব্যাবসায়ী বিধান সাহা। আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ব্যাবসায়ী বিধানকে হত্যার উদ্যেশে কাঠের চলা দ্বারা মাথায় উপুর্যুপরি আঘাত করে। এতে বিধান সাহা গুরুতর আহত হন।

সোমবার (৩ জুলাই) রাতে মামলা দায়ের করার পরপরই পু্লিশ ইসমাইলকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, ইসমাইল ওই কারখানায় কর্মরত ছিল। বেকারি মালিকের খারাপ আচারণের কারণে তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সে স্বীকার করে।

বাগেরহাটরে রামপালে টাকা আত্মসাত মামলায় পল্লীসঞ্চয় ব্যংকের নূরুলআমিন কারাগারে

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটরে রামপাল পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মাঠকর্মী খান নূরুল আমিনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর আদালত -২ বিচারক মো. খোকন শেখ উভয় পক্ষের শোনানি শেষে নূরুল আমিনের পূর্বের  জামিনের আদেশ বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যংকের আইন কর্মকর্তা ও বাগেরহাট জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী আবু জাহিদ মল্লিক। নূরুল আমিনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিজ্ঞ আইনজীবী শেখ আব্দুল ওয়াদুদ।

মাঠকর্মী নূরুল আমিনের স্ত্রী ও রামপালের পল্লী সঞ্চয় ব্যংকের সাবেক ম্যানেজার হামিমা সুলতানার বিষয়ে আগামী ধার্য তারিখে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, রামপাল পল্লী সঞ্চয় ব্যংকের শাখা ব্যাবস্হাপক হামিমা সুলতানা ও তার স্বামী মাঠকর্মী খান নূরুল আমিন ব্যংকের ও গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় ধারাবাহীকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ব্যংকার দম্পতির বিরুদ্ধে প্রথমে বিভাগীয় মামলার পরে রামপাল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়। তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ন্যাস্ত করা হয়।

বাগেরহাটের রামপালে সিআইডির অভিযানে অনলাইন জুয়াড়ি রিপনসহ আটক -২

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে ই-ট্রানজেকশন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সৈয়দ সোহাগ হোসেন (২৯) ও শেখ রিপন উদ্দিন নামে দুই জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি পুলিশ। এসময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন জুয়ায় ব্যবহৃত মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) দুপুরে বাগেরহাট সিআইডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান রন্টু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার সোহাগ রামপাল উপজেলার বৃচাকশ্রী গ্রামের সৈয়দ মুনতাজ আলীর ছেলে ও রিপন উদ্দিন উপজেলার কুমলাই গ্রামেরশেখ আলী আকবরের ছেলে।

সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান রন্টু জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম বহির্ভূতভাবে ই- ট্রানজেকশন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করে আসছে অনলাইন জুয়ার একটি চক্র। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এসময় হাতে নাতে নগদ টাকা, মোবাইল ও কম্পিউটারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট সিআইডি পুলিশের এসআই তুষার দেবনাথ বাদী হয়ে রামপাল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান সিআইডি পুলিশের এই কর্মকর্তা।

খুলনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী কে গ্রেফতার করছে র‌্যাব

আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো:
স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রী। ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির ঘটনা।

পরবর্তীতে এক ই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি স্কুল ছাত্রীর বাবার মোবাইল ফোনে কল করে এক ব্যক্তি জানায় ভিকটিম তাদের নিকট আছে এবং তার মেয়েকে ছাড়িয়ে নিতে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।

এ বিষয় কাউকে জানালে বড় ধরণের ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেয়। ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি র‌্যাবকে জানানোর পরে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী মোঃ নবী মোল্লা ও কবির মোল্লাদেরকে গ্রেফতার করে এবং তাদের হেফাজত হতে ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে শিশু ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে খুলনার লবনচরা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচারকার্য শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী মোঃ নবী মোল্লাকে যাবজ্জীবন সাজা সহ ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ০৬ (ছয়) মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
সাজা হওয়ার পর আসামী মোঃ নবী মোল্লা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে উক্ত আসামীর অবস্থান নিশ্চিত করে।

৬ জুন ২০২৩ তারিখ র‌্যাব-৬ (স্পেশাল কোম্পানি) খুলনার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে যাবজ্জীবন সাজা ও অর্থদণ্ড প্রাপ্ত অপহরণকারী মোঃ নবী মোল্লা(২৮)কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে খুলনার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমতলী মেয়রের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, মুঠোফোন জব্দ

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে “ঈদ উপহারের নামে টিসিবির পণ্য বিতরণ” শিরোনামে অনলাইন পোর্টাল “বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকম” এ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা ও ওই প্রকাশিত নিউজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেইজবুক) প্রচার করে মানহানি করায় ওই পোর্টালের আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্তপূর্বক ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। আজ শনিবার দুপুরে বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করে আমতলী থানা পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম আমতলী পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী (পরিছন্নতা কর্মী) ছিলেন। তাহার দায়িত্বে অবহেলা ও অসৎ আচরনের কারনে তাহাকে চুক্তিভিত্তিক চাকুরী থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় পৌরসভার মাসিক পানির বিল ও পৌর কর পরিশোধ না করায় গত ১২ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে আমতলী পৌরসভার ওয়াটার সুপার মোঃ রুবেল মিয়া বিধি মোতাবেক তাকে বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু বিলে উল্লেখিত তারিখে পানির বিল পরিশোধ না করায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে তার বাসার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারন হিসেবে বিবাদী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমানকে অযথা দায়ী করে বিভিন্ন সময় স্বাক্ষীসহ স্থাণীয় লোকজনের নিকট তাহার সম্পর্কে মানহানীকর কুটুক্তি করিতে থাকেন। বিষয়টি বাদীসহ পরিবারের লোকজন জানিতে পারিয়া বিবাদী মনিরুল ইসলামকে এহেন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করলে এতে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখ রোজ শুক্রবার রাত ১০.১৯ টায় অনলাইন পোর্টাল “বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকম” এ বিবাদী মোঃ মনিরুল ইসলাম নিজ নামে “ঈদ উপহারের নামে টিসিবির পণ্য বিতরণ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।

প্রকাশিত ওই সংবাদে বিবাদী বরগুনার আমতলী পৌরসভা কার্যালয়ে ঈদের উপহারের নামে টিসিবির পণ্য বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকাল থেকে পৌরসভায় মেয়রের কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে টিসিবির পণ্য দেয়া হয়, সেটা সোস্যাল মিডিয়ায় মেয়রের ঈদ উপহার বলে প্রচার করা হয়। এতে ক্ষুব্দ ও বিভ্রান্তের মধ্যে পড়ে পৌরসভার সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলেন টাকা দিয়ে মাল কিনেছি আবার উপহার। আবার এক ভূক্তভোগী বলেন, টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে গিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই, গরমের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে অনেক যুদ্ধ করে মাল পেয়েছি। কাল ঈদ টিসিবির পণ্যটা আগে পেলে আমাদের জন্য সুবিধা হত। অনেক টিসিবির পণ্য সময়মত না পেয়ে অনেক আগেই বাজার থেকে বেশী দামে কিনে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রকাশিত সংবাদে টিসিবির ডিলার, ট্যাগ অফিসার, ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য রয়েছে। তাহারা কেহই বিষয়টি জানেন না বলে সংবাদে উল্লেখ আছে। ওই সংবাদের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে দুপুর ২.০০ টায় তার নিজ নামে ব্যবহৃত ফেইজবুক আইডিতে মেয়রের অনুমতি না নিয়ে তার ছবি, পরিচিতি ও অসত্য তথ্য দিয়ে উল্লেখিত সংবাদের লিংক ও “সংবাদ কর্মীর বাসার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়” শিরোমান প্রচার করেন।

মামলার বাদী মেয়র মতিয়ার রহমানের ভাগ্নে মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনলাইন পোর্টাল “বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডটকম” এ উল্লেখিত সংবাদটি আমি, আমার মামা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও স্বাক্ষীগন মুঠোফোনে দেখে একে অপরকে জানাই। প্রকাশিত সংবাদটি আদৌ সত্য নহে। ওই দিন মেয়র মহোদয় তার ব্যক্তিগত তরফ থেকে আলাদা প্যাকেটে তাহার কর্মী ও স্থাণীয় দুঃস্থ,,সহায় মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার যেমন ১ প্যাকেট সেমাই ও ১ প্যাকেট দুধ বিতরণ করেছেন এবং ডিলারের অনুরোধে সে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধণ করেছেন। যাহা উপস্থিত সাংবাদিকসহ সকলেই অবগত আছেন। বিবাদী মনিরুল ইসলাম পূর্বের ক্ষোভ থেকে আমাদের পরিবারকে স্থাণীয় জনসাধারনের কাছে অপদস্থ, হেয় প্রতিপন্ন করতে কৌসলে অসত্য তথ্য দিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ছোট করেন। যাহার কারনে মেয়র মহোদয় ও আমরা পারিবারিকভাবে মানহানির স্বীকার হওয়ায় বিবাদী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিবাদী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করার পরে তার তদন্তভার আমার উপড় অর্পিত হয়েছে। আজ দুপুরে বিবাদী মনিরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।

খুলনায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী কৃষ্ণ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব‍্যুরো:

র‌্যাব-৬, (স্পেশাল কোম্পানি) খুলনার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন করিমনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত মাদক কারবারি কৃষ্ণ শীলকে গ্রেফতার করেছে।

সে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা।

র‍্যাব জানায়, কৃষ্ণ শীল পিরোজপুর জেলার কুখ্যাত মাদক কারবারি। সে দীর্ঘদিন যাবত পিরোজপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গত ২০১৭ সালে আইন শৃংখলা বাহিনী কৃষ্ণ শীলকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেফতার করে এবং পিরোজপুর নেছারাবাদ থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচারকার্য শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামী কৃষ্ণ শীলকে ৬ বছরের সাজাসহ ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ০৩ (তিন) মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
এছাড়াও আরও একটি মাদক মামলায় আসামী কৃষ্ণ শীলকে ২ বছরের সাজাসহ ২০০০/-(দুই হাজার) টাকা জরিমানা প্রদান করেন।
কৃষ্ণ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়ায়। পরবর্তীতে র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে উক্ত আসামীকে গত ১২ মে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে মারধর মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬

//আ: রাজ্জাক শেখ,খুলনা ব‍্যুরো//
খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন কয়রা উত্তরচক আমিনিয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ৫মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কয়রাতে আসেন।
পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদানের জন্য মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নিয়োগ বোর্ডকে ক্রমশ চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধিরা চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে পরীক্ষার কার্যক্রম শেষে গাড়ি যোগে নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন। এমতাবস্থায় তাদের বহন করা নিয়োগ বোর্ডের গাড়িটি ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যান ও তাঁর লোকজন গাড়িটি আটকে দেয়। এ সময় অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ইউপি চেয়ারম্যানের কথামতো নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে।

পরে চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি কক্ষে অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে আটক করে মাদ্রাসার প্রধান করনিক আসামী কামরুল তার কাছ থেকে জোরপূর্বক নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর নেয়। পরে আহত অবস্থায় অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনা জেলার কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে র‍্যাব-৬ খুলনার একটি আভিযানিক দল আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযান অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় ৬ মে ২০২৩ তারিখ র‌্যাব-৬ (স্পেশাল কোম্পানি) খুলনার একটি আভিযানিক দল গোপন সূত্রে জানতে পারে যে, উক্ত মামলার অন্যতম আসামী কামরুল ইসলাম খুলনা জেলার কয়রা থানা এলাকায় অবস্থান করছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একই তারিখ খুলনা জেলার কয়রা লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী কামরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জেলার কয়রা থানায় হস্তান্তরের করা হয়েছে।

র‍্যাব ১৮টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রিপনকে গ্রেফতার করেছে

//খুলনা ব‍্যুরো//

দীর্ঘদিন যাবত পলাতক ১৮টি মামলার গ্রেফতারী পরায়না শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজীব হাসান @রিপন চৌধুরীকে ঢাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। রিপন চৌধুরী যশোরের একজন চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী।

সে গত ২০১৪ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বোমা ও পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনসাধারণের মারাত্মক ক্ষতিসাধনসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে।

তার বিরুদ্ধে ১৩টি বিস্ফোরক তৎসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, ১টি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা, ২টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাসহ ২ টি হত্যা চেষ্টার মত ঘৃণ্য অপরাধের মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।

সে দীর্ঘদিন যাবত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে পলাতক ছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে র‍্যাব-৬ (যশোর ক্যাম্প) খুলনার একটি আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং উক্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ডিএমপি ঢাকার লালবাগ থানা এলাকায় আসামী রাজীব হাসান চৌধুরী (৪৫) আত্মগোপনে আছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি ৬ মে ২০২৩ তারিখ ভোরে ডিএমপি ঢাকার লালবাগ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ রাজীব হাসান চৌধুরী @রিপন চৌধুরী(৪৫)কে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ২০১৪ সাল হতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংঘটিত করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত আসামী তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করেছে।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীকে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খুলনায় পলাশ হত্যা মামলার  আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬

খুলনা ব‍্যুরো:

র‍্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে খুলনায়  পলাশ হাওলাদার (২৩)  হত‍্যা মামলার আসামী সজীব কে গ্রেফতার করেছে।

পলাশ  খুলনা সদর থানাধীন মাথাভাঙ্গা এলাকার শিউলি বেগম এর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,  গত ৬ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পলাশ নিজ বাসা হতে বাজার করার উদ্দেশ্যে বের হয়।

পথিমধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সজীবসহ কয়েকজন আসামীরা তাকে ও তার বন্ধুকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এসময় তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে আসামিরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজনের সহায়তায়  পলাশ ও তার বন্ধুকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসা পলাশ হাওলাদার (২৩)কে মৃত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে নিহতের মা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে র‍্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) খুলনার একটি আভিযানিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-৬ (সদর কোম্পানি) খুলনার  ৪ মে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেএমপি খুলনার লবণচরা থানাধীন হরিণটানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী  মোঃ সজিবুর রহমান @ সজিব (২৩) কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজীব উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে।  আসামী সদর থানার বাসিন্দা হওয়ায় তাকে খুলনার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।