টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি বন্ধ, ২০গাড়ি শুটকি পুরিয়ে পেলে বার্মার নাসেগা বাহিনী

  //সৈয়দ আলম, টেকনাফ, কক্সবাজার//

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে আজ ৮দিন ধরে।। ১৪ নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু শহর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে কোনো পণ্য আসছে না। একইভাবে টেকনাফ থেকে পণ্য মিয়ানমারে যাচ্ছে না। টেকনাফ স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সংঘর্ষ। এ কারণে রাখাইনের আকিয়াব জেলা শহর মংডু থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আসা বন্ধ হয়ে গেছে। আজ জুৃমাবার  ১০দিন ধরে এ বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মূলত বন্ধই রয়েছে। এতে করে প্রতিদিন গড়ে তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ  সরকার।

সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে ৪৭ টনের একটি হিমায়িত মাছের চালান টেকনাফে এসেছিল। মিয়ানমারের মংডুর অবস্থান টেকনাফের উল্টো পাশে নাফ নদীর ওপারে। টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে শহরটির দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন এ বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরা। টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোঃ  জসিম উদ্দিন চৌধুরী তিনি বলেন, দশ  দিন ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আগে আসা আদা, নারিকেল, আচার, সুপারি, শুঁটকিসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে টেকনাফ স্থলবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বন্দরের জেটি ফাঁকা পড়ে আছে। কোনো কার্গো ট্রলার বা জাহাজ নেই। কার্যক্রম না থাকায় বন্দরের কর্মরত শ্রমিকেরা অলস সময় পার করছেন। এদিকে এ স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে টেকনাফ-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক দোকানপাটও প্রায় বন্ধ। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের প্রধান ফটকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জটলা দেখা গেলেও  আজ কোনো যানবাহন চোখে পড়েনি। নাফ নদীতেও নেই পণ্যবোঝাই ট্রলার-জাহাজ। তবে বন্দরের খোলা জায়গা ও ওয়্যারহাউসে মিয়ানমার থেকে আগে আসা বিভিন্ন ধরনের কাঠ, আদা, শুকনা সুপারি, শুঁটকি, নারিকেল, আচারসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুত রয়েছে।টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শুনেছি, তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ চালু হবে তা–ও বলা যাচ্ছে না। এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বন্দরকেন্দ্রিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ১৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে। দেশটির স্থানীয় প্রশাসন আকিয়াব শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। স্থলবন্দরের শ্রমিকনেতা  আজগর মাঝি বলেন, বন্দরে মালামাল ওঠা–নামার কাজের জন্য ছয় শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন। টানা দশ  দিন কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন এসব শ্রমিকরা  আয় না থাকলে অনেকের ঘরে চুলা জ্বলে না। মিয়ানমার থেকে হিমায়িত মাছ আমদানিকারক এম কায়সার বলেন, হঠাৎ করে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মিয়ানমারে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বেশ কিছু পণ্য আটকা পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি কারক।  তার মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছসহ পচনশীল নানা পণ্য। এসব পণ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনতে না পারলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ, আদা, শুঁটকি ও সুপারি আমদানি করেন সিএন্ডএফ এজেন্ট  ওমর ফারুক। তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে ১ হাজার ৩০০ টন পেঁয়াজ ও আদা আমদানি হয়েছে মিয়ানমার থেকে। এর বাইরে আরও ৬০০ টন পেঁয়াজ, ৪০০ টন আদা কিনে রাখা হয়েছিল আমদানি কারকের  এখন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় এসব পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা জনক  তৈরি হয়েছে। এর বাইরে ৪০০ টন শুঁটকি ও সাড়ে ৫০০ টন সুপারি মিয়ানমারে আটকে আছে।  এই ব্যাপরে কর্মকর্তা থেকে জানতে চাইলে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা এ এস এম মোশাররফ হোসেন  তিনি বলেন, হঠাৎ করে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দিনে তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  পাশাপাশি

এমএইচ ট্রেডিং সিএন্ডএফের প্রধান  এমএ হাসিম ও কর্মচারী নেজাম বলেন মিয়ানমার সরকারি কর্মরত ব্যক্তিরা   মাছের  গাড়ি  লোড করার অনুমতি  দিলেও বাংলাদেশ আশার জন্য অবশেষে   ২৩নভেম্বর বৃহস্পতিবার  দুপুরে ২০টি মাছের গাড়ি পুড়িয়ে দিল মিয়ানমার বিজিবি ও নাসেগা) মংডুর  রহমতের সহ চার জনের মালামাল

সাবেক এমপি আউয়ালের ছেলে মদসহ গ্রেফতার

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য একেএম আউয়ালের ছেলে আব্দুর রহিম ঐতিহ্যকে (২৯) বিদেশি মদসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পুলিশ  আরও তিনজনকে  গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকার ধানমন্ডি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন- রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে রিহাম খান, একই এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে রাকিব উজ্জামান সজিব ও মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ এলাকার শেখ মোজাম্মেল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ জীবন।

বুধবার তাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশাররফ হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক মো. শরিফুল ইসলাম।

অন্যদিকে তাদের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানাধীন কনকর্ড মমতাজ করিম হ্যারিটেজের লেভেল-২ কফি এভিনিউ রেস্টুরেন্টের ৩য় তলায় আসামিরা মাদক নিয়ে এসে সেবন করে। তারপর রেস্টুরেন্টের নিচের রাস্তার ফুটপাতের ওপর মাতলামি করে জনসাধারণের বিরক্তি ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে রাকিব ও জীবনকে আটক করে।

এরপর রেস্টুরেন্টের নিচের ফুটপাত থেকে অপর দুজন ঐতিহ্য ও রিহামকে আটক করে। এ সময় তাদের প্রাইভেটকার থেকে দুই বোতল বিদেশি মদ জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। সূত্রঃ যুগান্তর

দুই শর বেশি মাফিয়া আসামিকে ২২০০  বছরের কারাদণ্ড

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

ইতালির স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মাফিয়া মামলায় দুই শর বেশি আসামিকে মোট দুই হাজার ২০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিন বছর ধরে চলা বিচারকাজ শেষে গত সোমবার রায় দেওয়া হয়। রায়ে মাফিয়া গোষ্ঠী ‘দ্রাংগেতা’র সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মাদকপাচার থেকে চোরাচালানের মতো বিভিন্ন অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ইতালির একজন সাবেক সিনেটরও রয়েছেন।

এ সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন দণ্ডিতরা। দ্রাংগেতা ইউরোপের সবচেয়ে প্রভাবশালী অপরাধ সংগঠনগুলোর একটি। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন এ মামলায় ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে রাজনীতি ও সমাজের ওপর মাফিয়া গোষ্ঠীর ব্যাপক প্রভাবই ফুটে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ওই মামলায় স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের মতো উচ্চ আয়ের মানুষও দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ইতালির প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধের সুদূরপ্রসারী প্রভাব সামনে এসেছে।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হলেন আইনজীবী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির দল ফোরজা ইতালিয়ার সাবেক সিনেটর জিয়ানকার্লো পিত্তেলি। একটি মাফিয়াসদৃশ সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের জন্য তাঁকে ১১ বছরের সাজা দেওয়া হয়। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে আরো রয়েছেন সরকারি কর্মী ও বিভিন্ন শিল্প-কারখানার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বৈধ অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দ্রাংগেতার অনুপ্রবেশের জন্য তাঁরা সমালোচিত হয়েছিলেন।

মামলায় শতাধিক আসামি খালাস পেয়েছেন। সহিংসতার শঙ্কায় মামলার বিচারকদের বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

ইতালির দক্ষিণের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চল কালাব্রিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ‘দ্রাংগেতা’। একে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সন্ত্রাসী দল বলে মনে করা হয়। বিশ্বের কোকেন বাজারের আনুমানিক ৮০ শতাংশই এই মাফিয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।

এই গোষ্ঠীর বার্ষিক আয় ছয় হাজার কোটি ডলারের আশপাশে।  সূত্র : বিবিসি

রামপালে নাশকতার মামলায় বিএনপির সন্দিগ্ধ ৫ নেতাকর্মীসহ গ্রেফতার- ৬

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে সন্দিগ্ধ নাশতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। রবিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ও সোমবার (২০ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রামপাল থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

গত ইংরেজি ১৪-০৮-২০২৩ তারিখের করা ০৮ নং মামলার সন্দিগ্ধ আসামীরা হলেন, উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের শেখ শওকতের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান লিটু (২৫), পেড়িখালী গ্রামের খালিদ মল্লিকের ছেলে তন্ময় মল্লিক (২৮), দলদাহ গ্রামের দেলোয়ার খানের ছেলে ইমরান খান (২৬)। গত ইংরেজি ০৭-১০-২০২৩ তারিখের করা ০৪ নম্বর মামলার আসামীরা হলেন, উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের মিন্টু পাটোয়ারীর ছেলে মারূফ পাটোয়ারী (১৯) ও একই গ্রামের আজিম শেখের ছেলে মো. ওমর ফারুক জনি (১৯)। অপর জন হলেন জিআর ০২/২২ নং মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী উপজেলার আদাঘাট গ্রামের ফরিদ শেখের ছেলে শিমুল শেখ (৩০)।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম আসামীদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রামপাল থানায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। কারো বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মানুষের জানমাল রক্ষায় কোন প্রকার শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বাগেরহাটের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল রায়ই বহাল থাকছে- হাইকোর্ট

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের আগের দেওয়া রায় বহাল থাকছে।

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন।

এর আগে, গত ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আবেদনের শুনানির দিন পিছিয়ে আজ রোববার ধার্য করে আপিল বিভাগ।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে রিট করেন সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি।

রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ। একই সঙ্গে আদালত এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সনদ দেন। এরপর রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর দলটির পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল (সিপি) করা হয়।

২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।

 

 

আমতলীতে বাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার-৯

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বিএনপি- জামায়াতের টানা দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথমদিনে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাংগাশিয়ায় বাস পোড়ানোর ঘটনায় ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামী করে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুড়ে যাওয়া শাকুরা পরিবহনের চালক আবুল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।পুলিশ বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

আজ ১০ই নভেম্বর গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের৷ টানা  দ্বিতীয় দফা অবরোধ চলাকালে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে মধ্য তারিকাটায় আমতলী-তালতলী সড়কে সাকুরা পরিবহন (ঢাকা মেট্টো-ব- ১১-৮৫৭১) নামক ঢাকাগামী একটি পরিবহনে দুর্বৃত্তরা ভাংচুর করে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে বাসটি সম্পূর্ন পুড়ে যায়।

পরিবহনটি রাত ৯টার সময় তালতলী থেকে ৪জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পথিমধ্যে ঘটনাস্থলে আসা মাত্র দুর্বৃত্তরা সড়কের উপরে গাছের গুড়ি ফেলে বাসটির গতিরোধ করে ভাংচুর ও পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে।

ঘটনা শুনে আমতলী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীও সহায়তায় বাসের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনলেও পরিবহনটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ ঘটনায় মামলার পর-পরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,বশির হাওলাদার,মাসুম হাওলাদার, কাওছার হাওলাদার,লোকমান হাওলাদার,মাসুম তালুকদার,আল-আামিন প্যাদা, খবির হাওলাদার,বাবুল হাওলাদার ও আবুল হাওলাদার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ জানান,গ্রেফতার  হওয়া ৯ জনের মধ্যে বশির, খবির ও আল-আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, বাস পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৯ জনকে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতার এর জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

Daily World News

তালতলীতে থানা হাজতের ছবি ফেসবুকে চলছে সর্বত্র সমালোচনা

আগামী  ১৬ নভেম্বর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে রিভিউ শুনানি

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন শুনানি আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানি হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর মামলাটি শুনানির জন্য আপিলের ৫ নম্বর তালিকায় থাকবে।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ (এএম) আমিন উদ্দিন। আর আদালতে এদিন রিটকারীর পক্ষে সময় আবেদন করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড এম. আশরাফুজ্জামান খান।

উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের ৯৪টি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরে ৯০৮ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে পুরো রায়টি বাতিল চাওয়া হয়।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তার গেজেট হয়। এরপর ওই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। পরে ৯ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই রিটে রুল জারি করেন। এরপর ২০১৬ সালের ৫ মে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান-পরিপন্থি বলে রায় ঘোষণা করেন। একই বছরের ১১ আগস্ট তার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।

এরপর আপিল আবেদন করা হয়। ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর নয়জন অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ওই বছরের ২০১৭ সালের ৮ মে শুনানি শুরু হয়ে ১১ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। এরপর ওই বছরের ১ আগস্ট ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। যেখানে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, সংসদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পর্যবেক্ষণ রাখা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে বিচারপতি সিনহার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে ওঠেন সরকারি দলীয় আইনজীবীরা। জাতীয় সংসদেও এ রায় ও প্রধান বিচারপতির অনেক সমালোচনা করা হয়। এরপর ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সংসদে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব গৃহীত হয়। তারই প্রেক্ষাপটে রিভিউ আবেদন দায়ের করা হয়।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে মূল প্রসঙ্গ ছাড়াও অপ্রাসঙ্গিকভাবে অনেক কিছু টেনে আনার কারণেই সরকার ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (২০১৭ সালের) ২৪ ডিসেম্বর আবেদন দাখিল করে।

এ রায় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পরে ১৩ অক্টোবর তিনি বিদেশে চলে যান। ১০ নভেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

যে যুক্তিতে রিভিউ করা হয়, সংবিধানের তফসিলে সন্নিবেশিত ১৯৭১-এর ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ উল্লেখ করে রিভিউ আবেদনে বলা হয়েছে, একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের ফাউন্ডিং ফাদার রূপে স্বীকৃত। আপিল বিভাগ ‘ফাউন্ডিং ফাদার্স’ বহুবচন শব্দ ব্যবহার করে ভুল করেছেন। তাই এর পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। রায়ের একটি অংশে পর্যবেক্ষণে ‘আমিত্ব’ ধারণা থেকে মুক্তি পেতে হবে বলে যা উল্লেখ আছে, সে প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ আবেদনে যুক্তি দেখিয়ে বলছেন, আদালতের এ পর্যবেক্ষণ ভিত্তিহীন ও অপ্রত্যাশিত। যা আমাদের এ মামলার বিবেচ্য বিষয় নয়। এটি সংশোধনযোগ্য।

ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের আরেকটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘১. আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংসদ এখনো শিশুসুলভ। ২. এখনো এই দুটি প্রতিষ্ঠান মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।’ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি হচ্ছে— এ পর্যবেক্ষণ আদালতের বিচার্য বিষয় নয়। বিচারিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনযোগ্য।

আরেকটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘সংসদীয় গণতন্ত্র অপরিপক্ব। যদি সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে তা হবে আত্মঘাতী।’ এর সুরাহা চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আদালতের এ পর্যবেক্ষণ শুধু অবমাননাকরই নয় বরং ভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্ন। আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ অন্য একটি অঙ্গের বিরুদ্ধে এরূপ মন্তব্য করতে পারে না। এটা বিচারিক মন্তব্য নয়, এ মন্তব্য করে আদালত ভুল করেছেন, যা সংশোধনযোগ্য ও বাতিলযোগ্য।

 

বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ইয়াবা বড়িও  আইস উদ্ধার

//সৈয়দ আলম টেকনাফ, কক্সবাজার//

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে [২ বিজিবি] ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ  পিস ইয়াবাবড়ি ও ২ কেজি ১২৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করছে।

মঙ্গলবার [০৭ সেপ্টেম্বর ]সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ [২ বিজিবি] ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, গোপন সংবাদ ভিত্তিতে টেকনাফ সদরের নাজির পাড়া এলাকার আলি আকবরের মাছের ঘের সংলগ্ন এলাকা থেকে ২ লাখ পিস ইয়াবা ও টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড নাইট্যং পাড়া’স্থ বরফ কল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ১২৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, উদ্ধারকৃত মাদকের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও, তাদের সনাক্ত করার জন্য ব্যাটালিয়ানের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রামপালে ধর্ষণে অন্তঃসত্বা তরুণীর আদালতে জবানবন্দি; মামলা তুলে নিতে হুমকি

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ধর্ষিতা অন্তঃসত্ত্বা তরুণী (১৭) এর পিতা বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করে বিপাকে পড়েছেন। আসামীর প্রভাবশালী পিতামহ তার লোকজন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ভিকটিমের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবী করেছেন।
জানা গেছে, রামপাল উপজেলার বর্ণি ছায়রাবাদ গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কলেজ পড়ুয়া মেয়ে (১৭) কে ধর্ষণ করে তারেক হাসান বাপ্পি নামের এক লম্পট। এ ঘটনায় বাদী হয়ে বাগেরহাটের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত -২ এর আদালতে একটি মামলা করেন ভিকটিমের পিতা। আদালতের বিচারক গত ইংরেজি ১২ অক্টোবর শুনানি শেষে রামপাল থানা পুলিশের ওসিকে এজাহার করে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। রামপাল থানার ওসি আদেশের কপি পেয়ে গত ইংরেজি ০১-১১-২০২৪ তারিখ মামলাটি রুজু করে গৌরম্ভা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দীনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা রবিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (রামপাল) এর আদালতে ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে হাজির করে ২২ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করিছেন।
বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ইংরেজি ১০-০৪-২০২৩ তারিখ উপজেলার গৌরম্ভা গ্রামের ইকবাল গাজীর ছেলে তারেক হাসান বাপ্পি ভিকটিমের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ধার নেয়। আসামী বাপ্পী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭ টায় তাদের বাড়ির পাশে স্থাপিত গ্রামীণ ফোনের টাওয়ারের ফাঁকা পাহারাদারের রুমে নিয়ে যায়। টাকা দিতে একটু দেরি হবে বলে ভিকটিমকে অপেক্ষা করতে বলে। এদিকে সন্ধা গড়িয়ে রাত হয়ে যায়। আসামী বাপ্পী ভিকটিমকে জড়িয়ে ধরে বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়ার এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে ভিকটিম কান্না করতে থাকলে তাকে বিবাহ করবে বলে সান্ত্বনা দেয়। এরপরে সে বলে একথা কাউকে বললে তোমার মা বাবার ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখায়। আর বেশী বাড়াবাড়ি করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোমার ভিডিও ছেড়ে দিবো। এতে কলেজ পড়ুয়া ওই তরুণী ভীত হয়ে পড়ে। ওইদিন রাত ৯ টায় বাড়িতে গিয়ে ভিকটিম তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে ভিকটিমের পিতাকে ঘটনাটি জানালে সে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। পরে আসামী বাপ্পির পিতার কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন। আত্ম সম্মানের চিন্তা করে আসামী বাপ্পী ও তার পিতা ইকবাল গাজীকে বিষয়টি জানিয়ে গোপনে মিমাংসার চেষ্টা করেন। লম্পট আসামীর পিতা তাদের তাড়িয়ে দেন।

গত ইংরেজি ২৮-০৮-২০২৩ তারিখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভিকটিমকে পরীক্ষা করালে ২১+ সপ্তাহের গর্ভবতী বলে ডাক্তার রিপোর্ট দেন। বর্তমানে ভিকটিম ২৯ সপ্তাহের গর্ভবতী। গরীব ও অসহায় বাদী আসামীর বাড়িতে গিয়ে তার কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীর পিতা তাদের তাড়িয়ে দেন।
এরপর সমাজপতিদের দ্বারেদ্বারে ধর্ণা দিয়ে কোন ফয়সালা না পেয়ে অবশেষে বাগেরহাটের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এ মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তারেক হাসান বাপ্পীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পিতা ইকবাল গাজীকে পাওয়া গেলেও তিনি সাংবাদিকদের বসতে বলে গা ঢাকা দেন, যে কারণে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক গত ইংরেজি ২৬ অক্টোবর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর পাঠানো কপি হাতে পেয়েই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ভিকটিম কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে ইতিমধ্যে ২২ ধারার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। আসামী আটকের জোর চেষ্টা করছি।

রামপালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রবিবার (০৫ নভেম্বর) রাতে আটক করে পুলিশ। আটককৃত ছয়জনকে সোমবার (০৬ নভেম্বর) বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার উজলকুড় গ্রামের মৃত ইজার উদ্দিন শেখের ছেলে মিস ৩৯/২০২২ মামলার আসামি হারুন শেখ (২৫), ভাগা গ্রামের মৃত তোরাব আলীর ছেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭৪/২০২৩ নং মামলার আসামি শেখ নুর ইসলাম (৩৫), কাপাসডাঙ্গা গ্রামের মৃত মোসলেম ইজারাদারের ছেলে জিআর ১০৮/২০২৩ নং মামলার আসামি মো. নুরুল ইসলাম ইজারদার (৩২), উজলকুড় গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে সিআর ৭৭/২০২৩ নং মামলার আসামি মো. ইয়াছিন শেখ (৪০), সুলতানীয়া গ্রামের মহসিন শেখের ছেলে মো. খালিদ হোসেন (৪০) ও বাঁশতলী গ্রামের মো. ইলিয়াস হোসেন ছেলে সিআর ১৯৩/২০২৩ নং মামলার আসামি মো. বেল্লাল হোসেন (২২)। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী আটক ও বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।