পুতিন কেন ডনবাস নিয়ন্ত্রণে নিতে চান

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়া এবার তাদের সৈন্যদের কিয়েভ থেকে সরিয়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের দিকে নিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে এই যুদ্ধ অনেক দিন ধরে চলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলছেন, ইউক্রেনের এই প্রাচীন শিল্পাঞ্চলকে মুক্ত করা তার লক্ষ্য। কিন্তু সেটা কি সম্ভব হবে? তবে ইতোমধ্যে লক্ষ্য অর্জনে রুশ সেনারা ডনবাস ঘিরে ফেলেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের সুপ্রশিক্ষিত বাহিনীগুলোকে ইতোমধ্যেই পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ গত আট বছর ধরে সেখানে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে তাদের লড়াই চলছে। এসব যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও তারা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে।

ডনবাসে রাশিয়ার নতুন করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমাদের প্রত্যেক মিটার জমির জন্য আমরা লড়াই করবো।’

ডনবাস কোথায় এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

প্রেসিডেন্ট পুতিন যখন ডনবাসের কথা বলেন তখন তিনি ইউক্রেনের কয়লা এবং ইস্পাত-উৎপাদনকারী অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ দুটি অঞ্চল লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক-এর সমগ্র এলাকাকে বোঝান। এই এলাকা দক্ষিণের মারিউপোল বন্দরশহর থেকে শুরু করে উত্তরে রুশ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।

পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট নেটো মনে করে রাশিয়া এই অঞ্চল দখল করে নেয়ার মাধ্যমে দনিয়েৎস্ক থেকে ক্রাইমিয়া পর্যন্ত দক্ষিণ উপকূলে একটি স্থল করিডোর প্রতিষ্ঠার করতে চায়।

ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট বা রুসির স্যাম ক্র্যানি-ইভান্স বলেন, মূল বিষয় হলো – ক্রেমিলন এই অঞ্চলকে ইউক্রেনে রুশভাষীদের অংশ বলে চিহ্নিত করেছে যার অর্থ এই অঞ্চল ইউক্রেনের চেয়েও অনেক বেশি রাশিয়ান নাগরিক রয়েছে। তবে এসব অঞ্চলে হয়তো রুশভাষী লোকেরাই বসবাস করেন, কিন্তু তারা এখন আর রুশপন্থী নন।

এদিকে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর রাশিয়া দাবি করছে যে, তারা লুহানস্ক অঞ্চলের ৯৩ শতাংশ এবং দোনেৎস্কের ৫৪ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে পুরো অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নিতে হলে রুশ প্রেসিডেন্টকে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

পুতিন কেন ডনবাস নিয়ন্ত্রণে নিতে চান

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা পূর্বাঞ্চলে গণহত্যা পরিচালনা করছে, যদিও তার এই অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন পূর্বদিকের এসব অঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ ছিলো ইউক্রেনের হাতে। বাকি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পরিচালনা করতো যারা সেখানে আট বছর আগে শুরু হওয়া যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগেভাগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুটো এলাকাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। রাশিয়া যদি এই দুটো বৃহৎ অঞ্চল জয় করতে পারে, তাহলে প্রেসিডেন্ট পুতিন দেখাতে পারবেন যে, এই যুদ্ধ থেকে তিনি কিছু একটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

পুতিনের কৌশল কী

রাশিয়ার সৈন্যরা উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই অঞ্চল অনেক বৃহৎ। এছাড়াও এখানকার ভৌগোলিক জটিলতাকেও ছোট করে দেখা যাবে না বলে মনে করেন লন্ডন কিংস কলেজের সংঘাত ও নিরাপত্তা বিষয়ক অধ্যাপক ট্রেসি জার্মান।

সাত সপ্তাহের যুদ্ধের পরেও রাশিয়া তাদের সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ দখল করতে পারেনি। কিন্তু তারা ইজিওম শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলে প্রবেশের জন্য এই শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক জার্মান আরো বলেন, আপনি যদি দেখেন ইজিওমে তারা যেটা করছে তা হলো – এখান দিয়েই প্রধান মহাসড়কগুলো গেছে, যার অর্থ হচ্ছে তারা তাদের যুদ্ধ-সামগ্রী আনার ক্ষেত্রে এসব রাস্তা ও রেলপথ ব্যবহার করবে। রাশিয়ার পরবর্তী বড় টার্গেট হবে স্লোভিয়ান্সকের একটি সড়ক। এই শহরে সোয়া এক লাখ মানুষের বাস। রুশসমর্থিত বাহিনী ২০১৪ সালে শহরটি দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু পরে সেটি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দখলে চলে যায়। রাশিয়ার আরো একটি বড় টার্গেট হবে দক্ষিণ দিকে ক্রামাটরস্ক শহর দখলে নেয়া।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলছে – ইউক্রেন যদি স্লোভিয়ান্সক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে দুটো অঞ্চল দখলে রাশিয়ার অভিযান ব্যর্থ হতে পারে। সূত্র : বিবিসি

English Dainikbiswa

পাকিস্তানে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি, রিজার্ভ সংকট ও অর্থনৈতিক সংকট

পাকিস্তানে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি, রিজার্ভ সংকট ও অর্থনৈতিক সংকট

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে সরিয়ে বর্তমানে দায়িত্বে নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এমন এক সময়ে তারা সরকার গঠন করেন, যখন দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে।

দেশটির শীর্ষ দৈনিক ডন এ বিষয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, যেকোনো সংজ্ঞায়, পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। স্বীকার্য যে, নতুন জোট সরকার ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, আর্থিক ও চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের দ্বারা জর্জরিত অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হচ্ছে। পাকিস্তানের অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ডনে প্রকাশিত সম্পাদকীয়টির হুবহু নিচে অনুবাদ তুলে দেয়া হলো-

শাহবাজ শরিফের নতুন জোট সরকার এমন এক অর্থনীতির উত্তরসূরি, যেটিতে মুদ্রাস্ফীতি চরম রূপ নিয়েছে। ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি, বিনিময় ভারসাম্যহীনতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী শওকত তারিনের যুক্তি, ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার সময় তেহরিক-ই-ইনসাফ যে অর্থনীতি পেয়েছিল, সেটিকে আরও ভালো অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে। যা অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু অর্থনীতিকে আরও উন্নত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া কিংবা মুদ্রাস্ফীতিতে-জর্জরিত নাগরিকদের দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা নতুন সরকারের জন্য একটি ভয়ানক কঠিন কাজই হবে। তাই বলে পরিস্থিতি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কোনোভাবেই সহায়ক হবে না। বরং তাতে জটিলতা আরও বাড়বে।

মঙ্গলবার তাড়াহুড়ো করেই একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাকিস্তানের অর্থ উপদেষ্টা হতে যাওয়া মিফতাহ ইসমাইল। এতে দুই অর্থবছরের রাজস্ব হিসাব ও বিনিময় ভারসাম্যহীনতার ঘাটতি নিয়ে তিনি কথা বলেন। ঘটনার উপরের দিক হচ্ছে এটি। কিন্তু এ রকম বাড়াবাড়ি আমরা আগেও দেখেছি। প্রতিটি নতুন সরকারই অপ্রয়োজনীয়ভাবে পূর্বসূরিদের সুনামহানি করতে অর্থনৈতিক সংকটকে বাস্তবতার চেয়ে আরও বড় করে তুলে ধরে আসছে।

বর্তমান সময়ে পাকিস্তানে চলতি হিসাব ভারসাম্যে ঘাটতি ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু মিফতাহ ইসমাইলের দাবি অনুসারে বর্তমানে সেই ভারসাম্যহীনতা দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছানো অসম্ভব।

সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।

পাকিস্তানের রাজস্ব ঘাটতিও দিনে দিনে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। আর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছয় শতাংশের কিছুটা বেশি হতে পারে। আগের সরকারের আমলেও ঠিক এই হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি রাজস্ব বছরে তা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাবে বলে দাবি করা একটু অতিরিক্তই হয়ে যাবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমান অর্থবছরে পাকিস্তানের বাহ্যিক অর্থায়ন পরিচিত উৎসগুলো থেকেই পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।

দেশটির অর্থনীতি যে মারাত্মক সংকটে, তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ যে অর্থনীতি পেয়েছিল, বর্তমানে তা আরও খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। এই ঘটনাকে অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। আগের সরকার তৃতীয় দফায় ধনীদের কর মওকুফ করায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিতে বিলম্ব করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা।

চীনও আড়াইশ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ দেওয়ার অঙ্গীকার করেও সময় নিচ্ছে। তারা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল যখন প্রত্যাশা মতো ফিরে আসে, তখন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির কাছে অঙ্গীকার রক্ষার প্রতিজ্ঞা করেন মিফতাহ ইসমাইল। চীনও সাহায্যের হাত বিস্তৃত করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এভাবে বাড়তে শুরু করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থনীতিকে জোরালো ভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তানের নতুন শাসকেরা বড় কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে কিনা। তা নিশ্চিত করতে হলে রাজস্ব খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি করের মাধ্যমে রাজস্ব আয় আরও সম্প্রসারিত করতে হবে, ক্ষমতাবানদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না। তাদের কাছ থেকে যথাযথভাবে কর আদায় করতে হবে। ধনীরা যাতে কর না দিয়ে রেহাই পেয়ে না যান।

আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে স্টিল মিল ও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারিকরণ করতে হবে।

রফতানি চাঙ্গা করাসহ আমদানির অর্থ পরিশোধের জন্য উল্লেখযোগ্য উৎপাদন বাড়াতে শাসন ও নীতিগত সংস্কারে মনোযোগ দিতে হবে। এসব রাজস্ব ও উৎপাদনশীলতা সংস্কারে জোট সরকারের হাতে খুব সময়ও নেই। কিন্তু দীর্ঘ স্থায়ীভাবে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঠামোগত পরিবর্তনে এই সরকারকেই হাত দিতে হবে। কাজেই নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা জন তুষ্টিমূলক পদক্ষেপ নেবে না বলেই আশা করা যায়।

English Dainikbiswa

কোলের শিশুকে গুলি করা ৩ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

৫টি ব্লিচিং পাউডারের ট্রাকে আগুণ 

আমেরিকা আমিরাতের যুবরাজের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক// 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওস নামে একটি সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে। গত মাসে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থিত সামরিক বাহিনী গত জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে হামলা চালানোর পর আমিরাত এবং আমেরিকার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়।

হুতিদের হামলা প্রতিহত করার ব্যাপারে আমেরিকার পক্ষ থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে আমিরাত মনে করে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।

ব্লিংকেন এই ক্ষমা চাওয়ার মধ্যদিয়ে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।

মরক্কোয় বৈঠকের সময় ব্লিংকেন স্বীকার করেন, হুতিদের হামলা মোকাবেলার জন্য আমেরিকার পক্ষে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এবং এজন্য ব্লিংকেন দুঃখিত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরাতের যুবরাজের কাছে একথা পরিষ্কার করেছেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে আমেরিকা অত্যন্ত মূল্যবান মনে করেন এবং অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় আমেরিকা তার অংশীদারদের পাশে থাকবে।

গত জানুয়ারি মাসে হুতি যোদ্ধারা ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ে হামলা চালায়। সেসময় আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে তিনজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছিলেন।

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয় তাতে আমেরিকার পক্ষে ভোট না দিয়ে আমিরাত ভোটদানে বিরত থাকে।

এর কাছাকাছি সময়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আমিরাত সফর করেন। এসব ঘটনায় আমেরিকা হাতাশা প্র্রকাশ করে।

English Dainikbiswa

পুতিন বলেছেন বিশ্বে আপাতত রাশিয়ার জ্বালানীর বিকল্প নাই

 

পুতিন বলেছেন বিশ্বে আপাতত রাশিয়ার জ্বালানীর বিকল্প নাই

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, রাশিয়া তার জ্বালানি  ধীরে ধীরে দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ক্রমবর্ধমান বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে দেবে।

অপরদিকে পশ্চিমাদের কাছে জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দেবে।

দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে জ্বালানি পাঠানোর জন্য রাশিয়া বিষয়টি বিশ্লেষণ করবে এবং অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করবে।

তিনি হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, পশ্চিমারা রাশিয়ার জ্বালানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার যে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেটি বিশ্বের ওপর ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কারণ বর্তমান বিশ্ব রাশিয়ার জ্বালানি ছাড়া চলতে পারবে না। পুতিনের দাবি, বিশ্বে আপাতত রাশিয়ার জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার জ্বালানি কোম্পানি ও তাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ইউরোপের কাছে বিকল্প জ্বালানির কোনো বিকল্পের অস্তিত্ব নেই।

পুতিন আরও বলেন, হ্যাঁ এটি (রাশিয়ার জ্বালানির বদলে অন্য দেশের জ্বালানি ব্যবহার করা) সম্ভব। কিন্ত এখন এটার কোনো অস্তিত্ব নেই। এটা সকলেই জানে।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে আপাতত বেশি কোনো জ্বালানি নেই। অন্য দেশ থেকে জ্বালানি আনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে, যা ইউরোপে পাঠানো সম্ভব নয়- অনেক সময় নেবে এবং ইউরোপের মানুষের জীবন মানের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং ইউরোপের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

তাছাড়া বর্তমানে বন্ধু নয় এমন দেশের কাছে রাশিয়ার নিজস্ব মুদ্রা রুবলে গ্যাস বিক্রির যে নির্দেশনা পুতিন দিয়েছেন সেটিও মানার অন্য অনুরোধ করেছেন এবং ডলার ও  ইউরো থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার জন্য বলেছেন। সূত্র: সিএনএন

English Dainikbiswa

রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাশিয়ার মিসাইলবাহী জাহাজ গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়া বলছে, কৃষ্ণসাগরে তাদের নৌবহরের এক ফ্ল্যাগশীপ জাহাজ আগুন এবং গোলাবারুদ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, মিসাইলবাহী জাহাজ মস্কভার সব ক্রুকে জাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, এবং আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলছে, মস্কভায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে জাহাজে রাখা গোলাবারুদ একের পর এক বিস্ফোরিত হয়।

কীভাবে এই আগুন কেন লাগে সে সম্পর্কে বিবৃতিতে কোনো কারণ দেখানো হয়নি।

তবে ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর বলছেন, ইউক্রেন বাহিনীর ছোঁড়া দুটি নেপচুন মিসাইল মস্কভার ওপর আঘাত হেনেছে।

কৃষ্ণসাগরের এই নৌবহর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষভাবে মারিউপোলের ওপর, মিসাইল হামলা চালানো হয়।

ফ্ল্যাগশীপ জাহাজ হচ্ছে কোনো নৌবহরের নেতৃত্বদানকারী জাহাজ যেটি অধিনায়ক ব্যবহার করেন।

নৌবহরের অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ফ্ল্যাগশীপ জাহাজ সাধারণত খুবই দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী হয়।

ক্রুজার মস্কভা ২০০০ সাল থেকে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবহরের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল।

রাশিয়া ম্যারিটাইম স্টাডিজ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মাইকেল পিটারসন বিবিসিকে জানান, ১২ হাজার ৫০০ টন ওজনের জাহাজ মস্কভা রুশ নৌশক্তির অন্যতম প্রতীক।

সিরিয়াসহ রাশিয়ার বহু সামরিক অভিযানে এই জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো এখন ইউক্রেনের ওপর হামলার কাজে এই জাহাজটি ব্যবহার করা হলেও ১৯৮০ দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ইউক্রেনের এক ডকইয়ার্ডে জাহাজটি নির্মাণ করা হয়।

বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাংক গার্ডনার বলছেন, সামরিক এবং মনোবলের দিক থেকে এটা রাশিয়ার জন্য বড় আঘাত।

মস্কভা জাহাজ নিয়ে আলোচনা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধের গোড়ার দিকে।

সে সময় একটি দ্বীপ স্নেক আইল্যান্ডে এই জাহাজ গিয়ে সেখানে মোতায়েন সব ইউক্রেনীয় সৈন্যকে আত্মসমর্পণ করার জন্য হুমকি দেয়।

কিন্তু ওই জাহাজ থেকে মিসাইল হামলার মুখে ইউক্রেনের সৈন্যরা জবাব দেয়- জাহান্নামে যাও।

ফ্র্যাংক গার্ডনার লিখছেন, এখন মস্কভায় এই ঘটনার পর অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে রুশ জাহাজগুলোকে উপকূল থেকে আরো দূরে সরে যেতে হবে।

একদা ক্ষমতাধর জাহাজ মস্কভার এই পরিণতিকে এক উপযুক্ত বিচার বলে বিবেচনা করা যায়, তিনি লিখছেন। সূত্র : বিবিসি

English Dainikbiswa

সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে দেশের পরিবর্তন করা সম্ভব: সালাম মূর্শেদী এমপি

রাশিয়া বাল্টিক অঞ্চলে পরমানু অস্ত্র মোতায়ন করার চিন্তা করছে কেন…?

রাশিয়া বাল্টিক অঞ্চলে পরমানু অস্ত্র মোতায়ন করার চিন্তা করছে কেন…?

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। রাশিয়ার প্রতিবেশি দেশ সুইডেন ও ফিনল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেয়, তাহলে রাশিয়াকেও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনসহ বাল্টিক অঞ্চলে নিজের প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করতে হবে। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এ মন্তব্য করেছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার সঙ্গে এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকা ফিনল্যান্ড এবং তার প্রতিবেশী সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

বুধবার ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন জানান, ন্যাটোতে যোগ দেবে কি দেবে না, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় মেদভেদেভ বলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিলে ওই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে রাশিয়াকে বাল্টিক সাগরে তার স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হবে।

এ সময় তিনি হুমকির সুরে বলেন, রাশিয়া সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে পারে। তিনি বলেন, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে ‘পরমাণু মুক্ত’ বাল্টিক নিয়ে আর কোনো কথা হবে না। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে থাকা রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ, মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘সুইডেন, ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিলে বাল্টিক পরমাণু মুক্ত অবস্থায় থাকা নিয়ে কোনো কথা হতে পারে না, ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই হবে।’

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকা মেদভেদেভ বলেন, ‘আজ পর্যন্ত রাশিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, নিতে চায়ওনি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের বাধ্য করে- মনে রাখবেন, আমরা এমনটা করার প্রস্তাব দিইনি।’

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী।

যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের শহরগুলো ঘিরে রেখেছে রুশ সামরিক বাহিনী; হামলা চলছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও।

রাশিয়ার গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খারকিভ শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

English Dainikbiswa

ইয়াবা সহ বিক্রেতা গ্রেফতার বরগুনার তালতলীতে

সহস্রাধিক ইউক্রেনীয় সেনা মারিয়ুপোলে আত্মসমর্পণ করেছে- রাশিয়া

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ১৬২ জন আধিকারিক, তার মধ্যে ৪৭ জন মহিলা। আগে দুই বাহিনীর সংঘর্ষে শতাধিক জখম বলেও জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

পূর্ব ইউক্রেনের মারিয়ুপোলে এক হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এমনই দাবি করল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভৌগোলিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর মারিয়ুপোলের চার দিক ঘিরে ধরে লাগাতার আক্রমণ চালাচ্ছে রাশিয়া।

মস্কো থেকে এই সংক্রান্ত যে বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ‘মারিয়ুপোল শহরে ৩৬তম মেরিন ব্রিগেডের ১,০২৬ জন সেনাকর্মী তাঁদের অস্ত্র রেখে আত্মসমর্পণ করেছেন।’

আত্মসমর্পণকারী সেনার মধ্যে রয়েছেন ১৬২ জন সেনা আধিকারিক, তার মধ্যে ৪৭ জন মহিলা। তার আগে দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক জখম হয়েছেন বলেও জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

প্রসঙ্গত, পূর্ব ইউক্রেনের বন্দর শহর মারিয়ুপোল ভৌগোলিক দিক থেকে রাশিয়ার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাশিয়া অধিকৃত ক্রাইমিয়ার সঙ্গে অধুনা স্বাধীনতা ঘোষণা করা ডনেৎস্ক এবং লুহানস্ক এলাকাকে (ডনবাস এলাকা) যুক্ত করতে চায় মস্কো। এই সংযোগসাধনের জন্য প্রয়োজন বন্দর শহর মারিয়ুপোলে দখল কায়েম করা। সেই কারণেই মারিয়ুপোল রাশিয়ার কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত, এই শহর দখল লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই হাজারের উপর সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ইউক্রেনের দাবি।

 

রিজার্ভ চুরিতে নিউইয়র্কে করা মামলার রায় প্রকাশ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

নিউইয়র্কের আদালতে দায়ের করা রিজার্ভ চুরি মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক হেরে গেছে। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বিষয়টি জানা গেছে।

রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখের মধ্যে ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারের জন্য ২০২০ সালে এ মামলা করেছিল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট রায়ে ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই’ উল্লেখ করে তিন বছর আগে করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে সাইবার হ্যাংকিংয়ের চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ২০‌১৯ সালে করা মামলায় পক্ষভুক্ত ফিলিপাইনের একটি ক্যাসিনো মালিকের প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে দেশটির এনকোয়ারার ও ফিলস্টার সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে।

নিউ ইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট গত ৮ এপ্রিল এ রায় দেয় বলে ব্লুমবেরি রিসোর্টু কর্প সোমবার ফিলিপাইন স্টক এক্সচেঞ্জকে (পিএসই) জানিয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত এখতিয়ারের অভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা বাতিল করে দিয়েছে নিউ ইয়র্কের আদালত।

২০২০ সালে করা ওই মামলায় সোলারি রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো ও ম্যানিলা বে পরিচালনাকারী ব্লুমবেরি রিসোর্টু কর্প, রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্প (আরসিবিসি) এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছিল।

এর আগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয়া হয় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে।

রিজল ব্যাংকের এই শাখার মাধ্যমে লেনদেন হয় বাংলাদেশের রিজার্ভের রিজল ব্যাংকের। এই শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের রিজার্ভের ওই অর্থ স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

রিজার্ভ চুরির তিন বছরের মাথায় ওই অর্থ উদ্ধারের আশায় নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলা পরিচলানার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ল ফার্ম কোজেন ও’কনরকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিপূরণ ও আদায়ে এ মামলা দায়ের করেছিল বলে ২০১৯ সালের অক্টোবরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় মামলা নিষ্প‌ত্তিতে তিন বছরের মত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি।

আজমালুল হোসেন জানান, মামলার ১০৩ পৃষ্ঠার এজাহারে ১৫ জন ব্যক্তি ও সাতটি প্রতিষ্ঠানকে এ মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে রাখা হয়েছে বিবাদীর তালিকায়।

তিন বছর পরই গত ৮ এপ্রিল এ রায় হয় বলে জানায় এনকোয়ারার ডটকম। সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, আরসিবিসি ব্যাংকসহ ফিলিপাইনের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলায় অর্থ সরিয়ে নেওয়া/চুরি/অপব্যবহার, ষড়যন্ত্র ও প্রতারণায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এর আগে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের পক্ষ থেকে তাদের দেশের আদালতে একটি মামলা করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ওই মামলার রায়ে আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের পক্ষ থেকে তাদের দেশের আদালতে একটি মামলা করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ওই মামলার রায়ে আরসিবিসির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। সূত্র: বিডিজা

English Dainikbiswa

ডুমুরিয়ায় চিংড়ি তে অপদ্রব‍্য পুশ করার সময ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ও জেল জরিমানা

মঙ্গল গ্রহ এলন মাস্কের প্রধান লক্ষ্য নয়- রোগজিন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থা রোসকসমসের সিইও দিমিত্রি রোগজিন বলেছেন, আমেরিকান উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের আসল লক্ষ্য মঙ্গল গ্রহের উপনিবেশ নয়, শক্তি।

তার মতে, স্পেসএক্সের প্রধান মানবতার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান।

“এই মিডিয়া ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, যা তার নিজস্ব রকেট দ্বারা চালু করা তার কক্ষপথ নক্ষত্রমণ্ডল দ্বারা বিতরণ করা হবে। এখানে এটি – একটি “খাদ্য শৃঙ্খল” নির্মাণের পুরো যুক্তি। আমি তার ব্যবসায়িক প্রতিভাকে কৃতিত্ব দিই, যা অন্তত পশ্চিমা বিশ্বে “মনের” মালিক হওয়ার স্বপ্ন দ্বারা চালিত হয়। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি না হয়েও, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন হয়ে উঠবেন, এবং সম্ভবত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, “রোগোজিন বলেছিলেন।

তিনি মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট এবং স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট তৈরিকে শক্তির সাধনাও বলেছেন।

“তিনি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বেও একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ার লক্ষ্য রেখেছেন। আমি মনে করি যে তিনি যদি দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়, তবে রাজ্যে জন্মগ্রহণ করতেন, তবে তিনি অবশ্যই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেতেন এবং নির্বাচিত হওয়ার বিশাল সম্ভাবনা থাকত। তিনি, একজন অ-নেটিভ আমেরিকান হিসাবে, বোঝেন যে এটি অসম্ভব, এবং কর্মের একটি ভিন্ন অ্যালগরিদম বেছে নিয়েছেন, “তিনি বলেছিলেন। সূত্র: প্রাভদা

পৃথিবীতে নরকের জন্য প্রস্তুত হোন- বিশ্ব খাদ্য ব্যাংকের পরিচালক

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

বাইডেন এবং তার অধীনস্থ ইউরোপীয় নেতাদের অর্থনৈতিক যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ শীঘ্রই সমগ্র গ্রহে আঘাত হানবে। এটি প্রাথমিকভাবে খনিজ সারের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ঘটে, যার দাম কিছু দেশে ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। রাশিয়া এবং বেলারুশ বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সার সরবরাহ করেছে।

রাশিয়ান জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞাগুলি শুধুমাত্র বন্ধুত্বহীন দেশগুলির জন্য নয়, রাশিয়ার প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির জন্যও সরবরাহের পুরো সরবরাহকে ছিঁড়ে ফেলেছে।

“আপনি যদি মনে করেন যে আমরা এখন পৃথিবীতে নরক পেয়েছি, তাহলে আপনি প্রস্তুত হন,” বলেছেন বিশ্ব খাদ্য ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। “যদি আমরা উত্তর আফ্রিকাকে অবহেলা করি, উত্তর আফ্রিকা ইউরোপে আসছে। যদি আমরা মধ্যপ্রাচ্যকে অবহেলা করি, তবে মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপে আসছে।”

— ব্রিটবার্ট লন্ডন (@ব্রেইটবার্ট লন্ডন)

“শূণ্য [শস্য] বর্তমানে ইউক্রেনের বন্দরগুলি থেকে রপ্তানি করা হচ্ছে – কিছুতেই দেশ ছেড়ে যাচ্ছে না,” উল্লেখ করেছেন জর্গ-সিমন ইমারজ – যিনি একটি শস্য ব্যবসায়িক কোম্পানির নেতৃত্ব দেন – ইউক্রেনের বন্দরগুলির কথিত রাশিয়ান অবরোধের বিষয়ে৷

এই জাতীয় কারণগুলির ফলস্বরূপ, বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন যে একটি চরম বৈশ্বিক খাদ্য সংকট আসন্ন, জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে পশ্চিমাদের, বিশেষ করে, যদি এটি হয় তবে ‘পৃথিবীতে নরক’ অভিবাসী সংকটের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ক্ষুধার লড়াইয়ের জন্য আরও সংস্থান করবেন না।

“এই বছর কিছু অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার [খাদ্য সাহায্যে] প্রদানে ব্যর্থতার অর্থ হল আপনার দুর্ভিক্ষ, অস্থিতিশীলতা এবং ব্যাপক অভিবাসন হতে চলেছে,” গত মাসে ইইউ কর্মকর্তা এবং রিপাবলিকান সাউথ ক্যারোলিনার প্রাক্তন গভর্নর ডেভিড বিসলে সতর্ক করেছিলেন৷

কৃষিকাজের জন্য সার উৎপাদনে গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে  বাইডেনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এটিও তৃতীয় বিশ্বের জন্য যথেষ্ট বেড়েছে।

রাশিয়ায়, খাদ্যের দামও বেড়েছে, তবে পশ্চিমা দেশগুলির বিপরীতে, সামান্য। সূত্র: প্রাভদা

English Dainikbiswa

আন্তনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোনে কি বললেন

বিষাক্ত রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণ কি রাশিয়ার রাসায়নিক হামলা ?