ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে নবম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

 ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সোমবার (৩১) রাব্বিলা আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। রাব্বিলা আক্তার হরিপুর উপজেলার আমগাঁও ইউনিয়নের আমগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের মেয়ে। এবং আমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রমতে গত ৩০ মে রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে পরিবারের সকলের অগোচরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ শয়ন ঘরের শরের সাথে গলায় ফাঁস দেয় রাব্বিলা। সকালে পরিবারেরর লোক দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে রাব্বিলার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সংশ্লিষ্ট ইউপি পাভেল তালুদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

হরিপুর থানার ওসি আওরঙ্গজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় তারা লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে জেলা এডিএম বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। এডিএম’র অনুমতিক্রমে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং এনিয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

//মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ডাঃ সাবিরার মৃত দেহে ধারালো অস্ত্রের ৩টি আঘাতঃ ৩ জন গ্রেফতার

ঘুর্ণীঝড় ইয়াসে বাগেরহাট রামপালে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

ঘুর্ণীঝড় ইয়াসে বাগেরহাট রামপালে প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

 

ঘুর্ণীঝড় ইয়াসে বাগেরহাট  ভাসমান নদীর সাথে সংগ্রাম ও সংকটে জীবন যাদের বহমান তারা হলো বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলা উপজেলার বাশিন্দা। ঝড় আসে, আসে জলোচ্ছ্বাস তবু কাঁটে জীবন তাদের স্বপ্নবোনা রোদে। সিডর, আইলা, বুলবুল, ফণী ও ইয়াসসহ অতিতের বিভিন্ন ঘুর্ণীঝড় থেকে আমাদের নিরলসভাবে রক্ষা করেছন ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবন। বেঁচে থাকুক সুন্দরবন বেড়ে উঠুক আমাদের নিম্নাঞ্চলের লবণ জলের সাহস।

 

বাগেরহাটের রামপালে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি, পুকুর, চিংড়ি ঘের, নলকুপ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, হাস-মুরগী ও মানসম্মত পায়খানা ডুবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরসূত্রে জানা যায় ঘুর্ণীঝড় ইয়াসে মোট দশটি ইউনিয়নে প্রায় ৬ কোটি ৮৯ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩ শত ৪ টাকার ক্ষতি হয়েছে। রামপালের অধিকংশ মানুষই মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারনে মৎস্য সেক্টরেই সবচেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, উপজেলার মোট দশটি ইউনিয়নে ২৭ হাজার ৮ শত ১ টি মৎস্য ঘের ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে।

 

১৪৪৪.৮৭ হেক্টর আয়তনের মৎস্য ঘেরগুলোর ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫ কোটি ২৪ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরের হিসাব মতে বিভিন্ন ক্ষতির সংখ্যা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান জানান, ৪ হাজার ৮ শত ৪৫ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘর ০২ টি, আংশিক ক্ষতি ৩৩ টি, মৃত হাঁস ০৮ টি, মুরগী ৩৩ টি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় ০২ টি, গভীর নলকুপ আংশিক ১৫ টি, অগভীর নলকুপ আংশিক ০৮ টি, মানসম্মত পায়খানা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৫০০ টি এবং আংশিক ০১ টি হাসপাতাল। উপজেলা প্রকৌশলী, গোলজার হোসেন জানান, ঘুর্ণীঝড় ইয়াসে জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল বাতাসে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ০৪ টি রাস্তার দুপাশ ভেঙে আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

 

বাঁশতলী ইউনিয়নের গিলাতলা শিকি রোডটি ৬ কিলোমিটার রাস্তাটি ০২ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। হুড়কা ইউনিয়নের নলবুনিয়া থেকে বাবুরবাড়ি পর্যন্ত ২২৫০ মিটার রাস্তাটি ১২ শ মিটার আংশিক ক্ষতি, ভাগা থেকে কাপাশডাঙ্গা রাস্তাটি ১৩ কিলোমিটার রাস্তাটি ০২ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি এবং বাইনতলার সকুরহাট থেকে আলীপুর পর্যন্ত ০৩ কিলোমিটার রাস্তাটি ০১ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন বলেন, দুর্যোগের উপরতো আমাদের কোনো হাত নেই তবু প্রতিটি মানুষকেই আমরা সচেতন করছি। এছাড়া দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি যেনো কমানো যায়, মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আশা যায় এই বিষয়ে আমরা সচেনত রয়েছি।

 

পাশাপাশি দুর্যোগের পরবর্তীতে সরকারি সহায়তা প্রত্যেকেই পান এটা আমি নিশ্চিত করবো এবং এজন্য সরকারি নিয়মানুযায়ী যে পরিমান ত্রাণ আসবে আমরা সেগুলোকে দুর্যোগ কবলি মানুষদের বণ্টন নিশ্চিত করবো। উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

//এ এইচ নান্টু, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ডাঃ সাবিরার মৃত দেহে ধারালো অস্ত্রের ৩টি আঘাতঃ ৩ জন গ্রেফতার

 

ডাঃ সাবিরার মৃত দেহে ধারালো অস্ত্রের ৩টি আঘাতঃ ৩ জন গ্রেফতার

 

আজ সোমবার রাজধানীর কলাবাগানের একটি বাসা থেকে কাজী সাবিরা রহমান (৪৭) নামের এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রিন লাইফ হাসপাতালের রেডিওলোজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। নিহতের পিঠে দু’টি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুরে সাবিরার লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্ত করতে যায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ সময় ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, ডা. সাবিরা ৫০/১ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি ফ্ল্যাটের দু’টি রুম অন্য একজনকে সাবলেট দিয়েছেন

 সকালে সাবলেটে থাকা তরুণী কানিজ ফাতেমা হাঁটতে বের হয়েছিলেন। পরে ঘরে ফিরে দেখেন চিকিৎসক সাবিরার রুম বন্ধ। রুমের ভেতর থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। এ সময় তিনি দারোয়ানকে ডেকে তারা চাবি এনে তালা খুলে দেখতে পান চিকিৎসক নিচে পড়ে আছেন। সবাই ভেবেছিল চিকিৎসক আগুনে পুড়েছে। পরে ডিবি এসে তার গলায় একটি ও পিঠে দু’টি আঘাতের চিহ্ন পায়। তদন্ত করছি। আশা করছি দ্রুত রহস্য উদঘাটন করবো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড।

এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন পর্যন্ত তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তারা হলেন- সাবলেট থাকা এক শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু ও বাড়ির দারোয়ান রমজান।

ডিবি সূত্র জানায়, ডা: সাবিরা দুটি বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্বামী চিকিৎসক ছিলেন। তিনি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। পরে সাবিরা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী সামসুদ্দিন আজাদ ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বনিবনা ছিল না তার।

সাবিরার দুই সন্তান রয়েছে। তার আগের স্বামীর ঘরে একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়েকে নিয়ে কলাবাগানের এই বাড়িতে থাকতেন সাবিরা। গত রাতে মেয়েটিকে গ্রিন রোডের নানার বাসায় রেখে এসেছিলেন তিনি। রাতে বাসায় একা ছিলেন সাবিরা।

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনায় কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের অনুদান (চেক) প্রদান

বিনা অপরাধে জেল খাটছেন ক্রিকেটার হতে আসা আবু ইউসুফ লিমন

 

বিনা অপরাধে জেল খাটছেন  আসামি না হয়েও একটি খুনের মামলায় চাঁদপুরের কচুয়ার যুবক আবু ইউসুফ লিমন। ২০২০ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ক্রিকেটার হতে ঢাকায় এসেছিলেন কচুয়া উপজেলার আবু ইউসুফ ওরফে লিমন (২১)।

 

মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে প্রশিক্ষণ নিতেন তিনি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ হন তিনি। খোঁজ না পেয়ে গত ২০২১ সালের ১৪ জানুয়ারি কচুয়া থানায় ডায়েরি করেন তার বাবা। কিছুদিন পর জানতে পারেন একটি হত্যা মামলায় তার ছেলে লিমন কাশিমপুর কারাগারে জেল খাটছেন।

 

লিমনের বাবা নুরুজ্জামান জানান, গত বছর রবিউল ইসলাম আপন নামের এক ব্যক্তি আমার নাম্বারে ফোন দিয়ে বলেন- আপনার ছেলে বিকেএসপিতে আছে। আপনারা চিন্তা করবেন না, আপনার ছেলে ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়িতে চলে আসবে।

 

কিছুদিন পর ছেলে কারাগারে থাকার খবর পেয়ে তার সঙ্গে কাশিমপুর কারাগারে দেখা করি। তার কাছ থেকে জানতে পারি- আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি ও টাকার লোভ দেখিয়ে কোর্টে পাঠায় রবিউল ইসলাম ওরফে আপন।

 

আদালতে আমার ছেলে নিজেকে রবিউল হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। ছেলের মুক্তি চেয়ে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করি। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে গত ২ মার্চ ডিবি পুলিশকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেন।

 

বিষয়টি তদন্ত করে ডিবি পুলিশ গত ২ মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসে বদলি সাজা খাটার চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।

 

ইমরান খান হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি শেখ হৃদয় ওরফে রবিউল ইসলামের স্থলে লিমনকে তার পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করায়।

 

এ অবস্থায় রবিউলের আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। এ আবেদনের ওপর আগামী ২ জুন ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আদেশের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি রবিউল ইসলাম গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার আসুতিয়া গ্রামের মতিউর রহমান মোল্লার ছেলে। নারীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে বিত্তশালীদের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিত রবিউল ও তার সহযোগীরা।

 

তাদের কবলে পড়েন সিআইডি পুলিশের এসআই মো. মামুন ইমরান খান। এরপর তাকে ধরে নিয়ে হত্যার পর পেট্রল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে গাজীপুর বনে ফেলে দেয় হত্যাকারীরা।

 

এ ঘটনায় নিহত এসআইয়ের ভাই বাদী হয়ে ঢাকার বনানী থানায় ২০১৮ সালের ১০ জুলাই মামলা করেন। এই মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ঢাকার ১ নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু হয় মামলার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

 

একই মামলার ৬ নম্বর আসামি হলেন রবিউল ইসলাম ওরফে আপন, সোহাগ, হৃদয়। তিনি পলাতক রয়েছেন। কিন্তু তার পরিবর্তে চাঁদপুরের কচুয়ার এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান লিমন গত ২০ অক্টোবর ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। রবিউলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। সেসব মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন।

 

লিমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম সরদার জানান, লিমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার আইনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. নুরুজ্জামান। এক ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। পিতা নুরুজ্জামান কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। ছোটবেলা থেকেই তার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল।

 

সেই সূত্র ধরেই ইউসুফ রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বর সেকশনে এক মেসে ভাড়া থাকতেন। ছোটখাটো কাজ করে যা আয় করতেন তা দিয়ে সিটি ক্লাবে কোচ সবুজের অধীনে ক্রিকেট খেলা শিখতেন। সেখান থেকে আসামি রবিউলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে লিমনের। লিমন আসামি রবিউল ইসলামের জায়গায় আত্মসমর্পণ করেছে। তাকে তারা রবিউলের জায়গায় না গেলে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার মতো হত্যা করে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেবে- এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করায় বলে জানান আইনজীবী।

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ আত্মহত্যা প্ররোচনা: আরাফাতের জামিন না মঞ্জুর

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নলকুপে জ্বলছে গ্যাস: বাপেক্স এর টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত

 

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নলকুপে জ্বলছে গ্যাস, চন্দনাইশের হাশিমপুর ৪ নং ওয়ার্ডে নলকুপে দেখাগেছে অনবরত গ্যাস উঠছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাশিমপুরের পাল পাড়ার মৃত রবিন্দ্রপালের পুত্র অমরপাল তার বসতঘরের পাশে গত ২ মে ৭ হাজার টাকায় নলকুপ বসানোর কাজ শুর করে ৭০ ফুট পাইপ ভিতরে প্রবেশের পর পানির লেয়ার পেতে শত চেষ্টা তদবীর চলালেও পানি তো মিলছেইনা, বরং বিধি বাম, পানির বদলে মিলছে গ্যাসের ফোয়ারা।

২১দিন প্রানপন প্রচেষ্টা যেন গুঁড়ে বালি। নলকুপের মিস্ত্রী আজিজ বলেন আমার ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের যেন সমাহার।

পানির বদলে গ্যাসের উল্কা জনমনে শঙ্খা দেখা দিয়েছে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে নলকূপ বসানোর কার্যক্রম। এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফরহাদ উদ্দিন বলেছেন, তিনি বিষয়টি অমল পালের পুত্র শিমুলের কাছ থেকে জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

এ দিকে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহ আলম খান বলেন, নলকূপ থেকে গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি অগে থেকে কেউ তাকে জানাননি তবে ২৭ মে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। হাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাস নির্গত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে অবহিত করেছি।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আলী বলেন, লিখিত আবেদন পেলে আমরা ঘটনাস্থলে আমাদের টিম পাটিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা যে কূপ গুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করি তার গভীরতা প্রায় ১২ হাজার ফুট । চন্দনাইশে ৯৫ ফুট গভীরতার নলকূপ থেকে যে গ্যাস নির্গত হচ্ছে তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সুযোগ নেই।

 

অন্যদিকে (বাপেক্স লিমিটেডের ভূ-তত্ত বিভাগের মহা ব্যবস্থাপাক মো. আলমগীর হোসেন জানান, স্বল্প গভীরতায় নলকূপ দিয়ে বের হওয়া গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন (বাপেক্স মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন করলে একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্গত গ্যাসের নমুনা ও প্রেশার পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার ২৭ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও ফায়ার সার্ভিসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসবেন।

 

//মোঃ হামিদুর রহমান সাকিল, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে হামলা, গ্রেফতার ৫

একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিল কে এই হুইপ

 

একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যিনি জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন সামছুদ্দিন আহম্মদ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। একজন ৮০ বছর বয়সী সেই মুক্তিযোদ্ধাকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। শুধু তা-ই নয়, তাকে লুঙ্গি খুলে বাজারে ঘোরানোর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার দোষ তিনি হুইপ, তার ভাই ও ছেলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ।

 

এই বৃদ্ধ বয়সে এসে এভাবে অপমানিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদ। পটিয়ায় সরেজমিনে গেলে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘হুইপ ও তার পরিবারের লোকজন মানুষের ওপর জুলুম করে। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমাকে তার রোষানলে পড়তে হয়েছে। আমার ওপর নেমে এসেছে খড়্গ। আগে হুমকি দিত হুইপের ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব। এখন হুইপ নিজেই হুমকি দিচ্ছেন। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। হুইপ কখন কী করে, তার কোনো ঠিক নেই।’

 

সামছুদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘আসলে হুইপ সামশুল হক আওয়ামী লীগের লোক নন। তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের ভেতর নালার ওপরে ছোট্ট একটি দোকান করতেন। সেখান থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে রাতারাতি পাল্টে গেছেন। বিশেষ করে সংসদ সদস্য এবং হুইপ নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। যেন রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। তিনি আগে কী ছিলেন, আর এখন কী হয়েছেন, পটিয়ার মানুষ সবই জানে।’

বয়োজ্যেষ্ঠ এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আসলে পটিয়ার অবস্থা অনেক খারাপ। অনেক ভয়াবহ। এর একমাত্র কারণ হুইপ। পটিয়ায় তার কথাই চূড়ান্ত। এর বাইরে কারো কোনো কথা টেকে না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনগণ, সবাইকেই তার নির্দেশ মেনে চলতে হয়। কেউ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না। আমি তার বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোষানলে পড়েছি।’

 

হুইপ সামশুল হকের সঙ্গে একসময় সুসম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে হঠাৎ বদলে যান সামশুল। আওয়ামী লীগের জন্য বছরের পর বছর যারা নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন, প্রতিপক্ষের মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের দল থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করলেন তিনি। পক্ষান্তরে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির লোকজনকে আওয়ামী লীগে ঢোকাতে লাগলেন। আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাদের সরিয়ে দলের বড় পদে বসাতে শুরু করেন অনুপ্রবেশকারীদের।

 

 

 এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে হুইপ আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। আমাকে শাসাতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে আমি এই অবিচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখি। এর পর থেকেই হুইপ আমার পেছনে উঠেপড়ে লেগেছেন।’ তিনি বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের শাসন চলছে, আর পটিয়ায় চলছে জিয়ার সেই বিচ্ছু সামশুর দুঃশাসন।

 

তিনি আরো বলেন, ‘হুইপের ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব আমাকে লুঙ্গি খুলে জনসমক্ষে ঘোরানোর হুমকি দিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে, তা কখনো ভাবতেই পারিনি। এখন আমি পুরো পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। নিজেও ঘর থেকে বের হই না।

 

আমি এসব বিষয় নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। ১৯৬২ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছি আমরা। জিয়া ও এরশাদ সরকারের সময় কত নির্মম নির্যাতনের কবলে পড়েছি। তার পরও দলের আদর্শ ছাড়িনি। এখন শেষ বয়সে এসে আবার হুইপের নির্যাতনের কবলে পড়েছি। আওয়ামী লীগের লোক হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই নির্যাতন সহ্য করে চলতে হচ্ছে।’

 

তিনি জানান, এখানকার বালু, মাটি সব হুইপের নিয়ন্ত্রণে। পটিয়া-বোয়ালখালী রোডকে কেন্দ্র করেই কোটি কোটি টাকা আয় করেন হুইপ। এই রোডের কাজে তিনি কাউকে সম্পৃক্ত হতে দেননি। সব নিজে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ছাড়া হুইপের একটাই কথা, ‘চেয়ারম্যান বানালে আমি বানাব। মেম্বার বানালে আমি বানাব।’ এসব কথা বলে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় বাণিজ্য করেছেন।

 

হুইপের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সামশুল হক চৌধুরীর ভাইও এখানকার সব কাজে হস্তক্ষেপ করেন। হুইপ অবৈধ সব কাজ-কর্ম তাঁর ভাইকে সামনে রেখে করান। পটিয়ায় মাটি কাটা থেকে শুরু করে সব কাজে হুইপের ভাই নবাবকে টাকা দিতে হয়। সরকারি-বেসরকারি সব কাজেই টাকা দিতে হয়।

 

টাকা না দিলে কাজ হয় না। এসব কারণে পটিয়ায় রাস্তাঘাটসহ সরকারি বিভিন্ন কাজ নির্ধারিত সময়ে হয় না। এক বছরের কাজ শেষ করতে দু-তিন বছরও লেগে যায়। এর কারণ হলো হুইপ ও তাঁর ভাইয়ের অত্যাচার। পটিয়ায় কোনো শান্তি নেই?। হুইপ সামশুল হক তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পটিয়াকে চালাচ্ছেন। পুরো পটিয়াকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন।

 

হুইপের অতীত স্মরণ করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘গ্রামে তাঁদের শুধু একটা মাটির ঘর ছিল। সেই ঘরে তিনটা রুম ছিল। এ ঘরেই তাঁরা চার ভাই, মা-বাবা ও বোনদের নিয়ে থাকতেন। তাঁদের তেমন সহায়-সম্পদ ছিল না। পরবর্তী সময়ে এরশাদের আমলে রিয়াজউদ্দিন বাজারে নালার ওপরে ছোট একটা দোকান দেন তাঁরা।

 

এ দোকানই তাঁদের মূল উপার্জনের পথ ছিল। এর আয় দিয়ে কোনোমতে তাদের পরিবার চলত। এই মাটির ঘরে থেকেই সংসদ সদস্য হন হুইপ। সংসদ সদস্য হয়েই তাদের উত্থান। রাতারাতি ওপরে উঠতে শুরু করেন সামশুল হক। ২০১০-১১-এর পরে তারা পুরো পটিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। এসব নিয়ে কথা বলায় একে একে আমাকে দলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলাম। সেখান থেকেও আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদ ১৯৭২ সালে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ১৯৭৫ সালের পর হন পটিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিলেন পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

 

এই মুক্তিযোদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বয়স শেষ। বুড়ো হয়ে গেছি। এখন আর কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। এখন শুধু একটাই চাওয়া, আমি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। দেখা করে হুইপের অপকর্মগুলো নেত্রীকে জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, নেত্রী সব জানলে হুইপের অপকর্মের দাগ আওয়ামী লীগের গায়ে লাগতে দেবেন না। কারণ তিনি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন। এটা আমি বিশ্বাস করি। এ জন্যই আমি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। নেত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, পটিয়া আওয়ামী লীগকে রাহুমুক্ত করেন। পটিয়া আওয়ামী লীগকে তৃণমূলের কর্মীদের আওয়ামী লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন।’

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পটুয়াখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩ ও দুই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 

 

পটুয়াখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩ ও দুই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

পটুয়াখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় সদর উপজেলার ২ নং বদরপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী হামলায় তিনজন গুরুতর আহত ও দুই নারীকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি বুধবার (২৬’মে-২০২১ ইং) তারিখ আনুমানিক বিকেল ৫.৩০ মিনিটের সময় ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের আবাসন সংলগ্ন মন্টু খানের মুদি দোকানের সামনে ঘটেছে।
আহতরা হলেন:  আল-আমিন মৃধা (২৫), লিটন মৃধা (৩৫), ফোরকান মৃধা (৫৫), উভয় পিতাঃ মৃত মজিদ মৃধা। হামলাকারী হলেন, [১]. শানু আকঁন (৫৫), পিতাঃ মৃত কালু আকঁন, [২]বেল্লাল আকঁন (২৮), [৩].নাজমুল আকঁন (২২), [৪].ইমরান আকঁন (১৮), উভয়-পিতাঃ শানু আকঁন, [৫]. মঞ্জু আকঁন (৪২), পিতাঃ মৃত কালু আকঁন, [৬]. সিদ্দিক মৃধা (৪৫), [৭]. নিজাম মৃধা (৪০), উভয় পিতাঃ সামেজ মৃধা।
এবিষয়ে মৃত- হাজি আমজেদ আলী খাঁনের ছেলে মোঃ মোতালেব খাঁন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পুর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা চেষ্টার উদ্দেশ্যে অত পেতে থাকা বিবাদিরা এ হামলা চালায়।
উল্লেখিত বিষয়ে আরও বলা হয় বিবাদিরা এলাকার খারাপ প্রকৃতির লোক তাদের জনবল বলিয়ান এছাড়াও মাদক সেবন ও অন্যের জমি জোর করে দখল করা সহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।এলাকার শালিশ বিচার আইন কানুনের তোয়াক্কা করে না।ঘটনার দিন পরিকল্পিত ভাবে বিবাদীগন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র ,লোহার রড, লাঠি, বাশ, নিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ৭-৮ জন অত পেতে ছিলো ঘটনার স্থানে উপস্থিত হলে আতর্কিতভাবে হামলা চালায়।এসময় লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে পেটাতে থাকে এবং ছুরি দিয়ে গলায় জখম করে আঘাতে আহতদের ঠোট, গলা, পিঠ, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়
এছাড়াও মোসাঃ মানুজা বেগম ও বেবি নামের দুই নারীকে কাপড় চোপড় টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানির লজ্জার ঘটনা ঘটায় এবং আহত ব্যাক্তিদের দুজনের গলায় থাকা দুটি স্বর্নের চেইন বিবাদীরা জোর পুর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় যাহার মুল্য আনুমানিক ১ (লক্ষ) ৩০ (হাজার) টাকা।
তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে সকলের সামনে হত্যার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে স্থানত্যাগ করে বিবাদীরা। পরে আহতদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।আহত ব্যাক্তিরা বর্তমানে হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।
এব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার চেষ্টা করেও কাউকে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাদ ভেঙে লোকালয়ে পানি

 

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ- পশ্চিমের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর,আশাশুনি,তালা,কয়রাসহ কয়েকটি উপজেলা বুধবার ভোর থেকে দমকা বাতাসসহ ঝড়ো হওয়া বইছে এবং সাথে সাথে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

ইয়াস ও চলমান পূর্ণিমার জন্য নদী ও সমূদ্রের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩/৪ ফুট উপরে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কয়েকটি স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে সমূদ্রের নোনাপানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাদ ভেঙে লোকালয়ে পানি

এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা,কৈখালী, মুন্সিগঞ্জ,পদ্মপুকুর ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১৫ স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি জনগণের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে।

এছাড়া, কপিলমুনি,তালা ও কয়রার অনেক জায়গায় জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে।তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে সাতক্ষীরা, আশাশুনি ও শ্যামনগরের ৫৫ টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বুধবার সকাল ০৭ টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত জোয়ার থাকায় এবং গতবারের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাঁধের অনেক জায়গায় সংস্কার না হওয়ায় এবারের জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা জেলার উপকূলবর্তী গ্রামগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় জনগণ।

 

এসব এলাকার স্থানীয় জনগণ নিজেদের রক্ষা করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন। সাতক্ষীরায় ১৪৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ১ হাজার ৫ শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মানুষের আশ্রয়ের জন্য। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা ৭৫ হাজার বলে জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবু জার গিফারি।

কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে গুলি পূর্ব থেকে প্রস্তুত রাখা ও মাইকিং করা হলেও সাধারণ জনগণ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনার কয়রায় ইয়াসের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত, খোলা হয়েছে সহস্রাধিক সাইক্লোন সেল্টার

খুলনার কয়রায় ইয়াসের প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত, খোলা হয়েছে সহস্রাধিক সাইক্লোন সেল্টার

 

খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস’র প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি প্রবেশ, খোলা হয়েছে সহস্রাধিক সাইক্লোন সেল্টার।

সিডর, আইলা, বুলবুল, আম্পানের ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি উপকূলের মানুষ। এখন নতুন করে এসেছে ইয়াস। ইয়াসের প্রভাবে খুলনার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস’র প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার শ্রীপদ মন্ডলের বাড়ির সামনে বুধবার (২৬ মে) দুপুরের প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাদ ভেঙে লোকালয়ে পানি

এছাড়া মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়ায় কপোতাক্ষ নদের পাউবোর বেড়িবাঁধে প্রায় ১০ স্থানে ভেঙে লোনা পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। মঠবাড়ি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, দশালিয়ায় পাউবোর বেড়িবাঁধ ১০টি স্থানে প্রায় ১শ হাত জায়গায় প্রবল জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে মাছের ঘের, বিশাল ফসলি জমি। এ এলাকার ৩১/৩২টি পরিবারের মধ্যে ৭/৮টি পরিবারের বসত বাড়ির মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। শত চেষ্টা করেও বেড়িবাঁধ রক্ষা করা যায়নি।

কয়রার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বাধীন সমাজকল্যাণ যুব সংস্থার সভাপতি মো. আবু সাঈদ খান বলেন, কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার শ্রীপদ ন্ডলের বাড়ির সামনে দুপুরের জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। পূর্ণিমার প্রভাবে কপোতাক্ষ নদের পানি বেড়ে বেড়িবাঁধ উপচেও অনেক স্থানে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এ নিয়ে এলাকার হাজারো মানুষ আতঙ্কে আছেন।

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাদ ভেঙে লোকালয়ে পানি

স্থায়ীদের অভিযোগ, বার বার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলেও টেকসই বাঁধ নির্মাণে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। কখনো কখনো দায়সারা কাজ হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা মানুষের কষ্টের কথা কখনোই বিবেচনায় নেয়নি। যে কারণে আম্পানের এক বছর পার হতে না হতেই আবার ইয়াস’র প্রভাবে পানিতে ডুবতে হচ্ছে।

 

এছাড়া মঙ্গলবার দিনব্যাপী চলে রোদ-মেঘের লুকোচুরি খেলা। থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। খুলে রাখা হয়েছে সহস্রাধিক সাইক্লোন শেল্টার।

এদিকে সিপিপি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীর পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলয়া এবং নিরাপত্তায় কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

খুলনার আঞ্চলিক আবহাওয়া কার্যালয়ের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরূল আজাদ বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস' এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাদ ভেঙে লোকালয়ে পানি

তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দুই দিনে খুলনায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৯ মিলিমিটার এবং সোমবার ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়াদ্দার বলেন, খুলনার ৯ উপজেলার ১ হাজার ৪৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যমান ৩২৪টি। এ ছাড়া স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা মিলিয়ে আরও ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ধারণক্ষমতা প্রায় চার লাখ। প্রস্তুত রয়েছে ১১৬টি মেডিকেল টিম। নির্দেশনা পাওয়ামাত্র স্থানীয়দের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে।

পুলিশ প্রশাসন, সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবীরা প্রস্তুত রয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

খুলনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ হলো কয়রা। উপজেলায় ১৫৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ।

পাউবো সাতক্ষীরা বিভাগ-২-এর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, কয়রা উপজেলার ২৪টি স্থানের বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ইয়াসের প্রভাব থেকে কয়রাবাসীকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে সেই স্থানগুলোতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে যায়। জোয়ারের পানি এমন থাকলে খুব বেশি সমস্যা হবে না। তবে যদি পানির উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট হয়, ও বাতাসের তীব্রতা বাড়ে, তাহলে বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

খুলনার কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানি বেড়েছে। দু-একটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। এসব স্থানে চেয়ারম্যান, স্বেচ্ছাসবক, স্থানীয় জনগণ বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন। উপজেলায় ১১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মানুষের ব্যবস্থা রয়েছে।

পাইকগাছা ইউএনও এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার ১০৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৯ হাজার মানুষ থাকতে পারবে। ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতত রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩০ হাজার বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রাখা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় ১১টি মেডিকেল টিম রয়েছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স, পাঁচটি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুইটি নসিমন প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতি জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য। ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলার গড়ইখালী উত্তর পুংখালী এবং দেলুটির একটি বেঁড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। সোলাদানা ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থা নাজুক। অতিজোয়ারে কী অবস্থা হবে বোঝা যাচ্ছে না। প্রচুর জোয়ারের চাপ। দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ জোয়ারের পানি উপচে পড়া।

দাকোপ ইউএনও মিন্টু বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় ১২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ৮০ হাজারের বেশি মানুষ থাকতে পারবে। ইতোমধ্যে খাবারের ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলয়া জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কোন ছুটি নেই। কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন। মানুষের নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, সাইক্লোন শেল্টারসহ সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলাকে। বেড়িবাঁধকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মেডিকেল টিম, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও পর্যাপ্ত শুকনা খাবার প্রন্তুত রাখা হয়েছে।

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ঘূর্নিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বললেন এমপি সালাম মূর্শেদী

 

 

অতি প্রবল তান্ডবে উড়িষ্যা উপড় বইছে ঘুর্নিঝড় ইয়াস (ভিডিও)

 

অতি প্রবল তান্ডবে ঘূর্ণিঘঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছে।

রাজ্যের বালেশ্বরের কাছে ধামরায় ঘণ্টায় ১৫৫ কি.মি বেগে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে এটি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের বুলেটিনে জানিয়েছে, উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণে ইয়াস-এর স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার। আগামী ৩ ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে।

এই মুহূর্তে ধামরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্ব উত্তর-পূর্ব, দিঘা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিম ও বালেশ্বর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে ইয়াস-এর চোখ।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়িষ্যার বালেশ্বরের কাছে ধামরায় আছড়ে পড়তে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ১৩০-১৪০ কি.মি। সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫ কিমি।

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ঝড়ের মুখে সবচেয়ে বেশি পড়বে পূর্ব মেদিনীপুর। আজ সকাল থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়ের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৯০-১০০ কি.মি। সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৪৫ কিমি।

তবে কলকাতায় ঝড়ের দাপট তুলনায় কম হবে। কলকাতায় আমপানের মতো পরিস্থিতি হবে না বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চলীয় কর্মকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝড় মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে।

 ।। আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ঘূর্নিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবেলায় সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বললেন এমপি সালাম মূর্শেদী