তিস্তা প্রকল্পে চীনের প্রস্তাব// বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এগোবে যদি ভরতের আপত্তি থকে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন বলেছেন, তিস্তা প্রকল্পে চীনের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি থাকলে ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এগোতে হবে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ২১ ডিসেম্বর বলেছেন, এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তিস্তা নদীবিষয়ক কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আসন্ন নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। তিস্তা নদীর উন্নয়নে চীন কাজ করতে আগ্রহী। আশা করছি, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব।

চীনের রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কী? বাংলাদেশ চীনের কাছে তিস্তা নদীর উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব করেছে কি না। এই প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল এবং ব্যয় কত? এ সকল প্রশ্নের উত্তরে সেহেলী সাবরীন বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা সহযোগিতা করে আসছে। তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা করার ব্যাপারেও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিবেচনা করে দেখবে।

চীন বলছে নির্বাচনের পর তিস্তা প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। কিন্তু চীন যেখানে তিস্তার কাজ করবে, তার থেকে শিলিগুড়ি করিডোর খুব দূরে নয়। শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারত ‘চিকেন্স নেক’ নামেও অভিহিত করে। দেশটি মনে করে, তিস্তা উন্নয়নে কাজের নামে চীন এটাকে নিজেদের কবজায় নিতে চায়। এ কারণে ভারত তার চিকেন নেকের সামনে চীনের উপস্থিতি দেখতে চায় না। এ ক্ষেত্রে তিস্তায় চীনের কাজ নিয়ে ভারতের আপত্তি কতটুকু আমলে নেওয়া হবে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে সেহেলী সাবরীন বলেন, এ রকম অনুমাননির্ভর প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা সহজ নয়। এ রকম কোনো প্রস্তাব যদি থাকে, তখন ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এগোতে হবে।

আমতলীতে সাংবাদিকদের সাথে বিএমএসএস কেন্দ্রীয় মহাসচিবের মতবিনিময়

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি বিএমএসএস এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব সুমন সরদার এর সাথে বরগুনার আমতলী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আজ (২৬শে ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটি বিএমএসএস এর আমতলী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএমএসএস এর আমতলী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়কালে বিএমএসএস এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব স্হানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের স্বার্থে একে অপরের পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান সেই সাথে তিনি আরও বলেন,সাংবাদিকদের স্বার্থে বিএমএসএস সবসময় পাশে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন, বিএমএসএস এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল্লাহ নাসির,প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ সকাল এর সম্পাদক মীর দিনার হোসাইন,যশোর জেলা সভাপতি ও এশিয়ান টিভি’র জেলা প্রতিনিধি নাসিম রেজা,আমতলী রিপোর্টার্স ফোরাম এআরএফ এর সভাপতি পারভেজ রানা, সাধারণ সম্পাদক শিলা সুমাইয়া,বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব আমতলী উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিপ্লব চন্দ্র দাস,আমতলী অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রনি মল্লিক সহ স্হানীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ।

জেনে নিন এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী কিকি দায়িত্ব পালন করবে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

নির্বাচন উপলক্ষ্যে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ সময়ে সশস্ত্র বাহিনী কী দায়িত্ব পালন করবে তা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

যে দায়িত্ব পালন করবে সশস্ত্র বাহিনী

  • ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের ৭ম ও ১০ম অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
  • রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনী অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান করবে।
  • সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা/উপজেলা/ মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
  • রিটার্নিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদার প্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে কিংবা ভোটগণনা কক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।
  • সশস্ত্র বাহিনীর টিমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে এবং আইন, বিধি ও পদ্ধতিগতভাবে কার্যক্রম গৃহীত হবে।
  • উপকূলবর্তী এলাকায় নৌবাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।
  • ঝুঁকির বিবেচনায় রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা কম/বেশি করা যাবে।
  • পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
  • বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার ও পরিবহণ বিমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও বাহিনীসমূহের অনুরোধে উড্ডয়ন সহায়তা প্রদান করবে।
  • সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে এলাকাভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
  • বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে চাহিদামতো আইনানুগ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

রামপালে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রামপাল থানা পুলিশের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ফয়লাহাট বাসস্ট্যান্ড চত্বরে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টায় রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, রামপাল-মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার, উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন জেড, ভোজপাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তরফদার মাহাফুজুল হক টুকু, বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, রামপাল সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দীন, গৌরম্ভা ইউপি চেয়ারম্যান মো. রাজিব সরদার, বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল্লাহ, রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান সুলতানা পারভীন ময়না, ওসি (তদন্ত) বিধান চন্দ্র প্রমুখ।

আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান বলেন, পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। আমরা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তিতে সবাইকে কাজ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠ স্বাভাবিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা কাজ করছি। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সবাই সজাগ থাকবেন। কোন প্রার্থীর অধিকার যেন ক্ষুন্ন না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে বা করার অপচেষ্টা চালালে তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। রামপালবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে যা যা করা যায় সেটি আমরা করবো। এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। #

বিজয় দিবসে লাকসামে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়াতুন নবী মজুমদারের স্মৃতি চারণ অনুষ্ঠান 

//জামাল উদ্দিন স্বপন, লাকসাম//

লাকসামের ঐতিহ্যবাহী বাতাখালী হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় বিজয় দিবস উপলক্ষে

ইসলামী জিনিয়াস প্রতিযোগিতার অডিশন রাউন্ডের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা,এনজিও নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান জনার হায়াতুন নবী মজুমদার তার স্মৃতি চারণ করেন।

লাকসাম উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের  সভাপতি আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজান, কোরআন তেলওয়াত ও গজল প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্জিনিয়ার  মীর মোশারফ হোসেন,  মাওলানা মোঃ আবু তোহা, সিনিয়র সাংবাদিক এম এস দোহা, ইন্জিনিয়ার আরিফুর রহমান আরিফ,  ডেল্টাল সর্জন ডাঃ মাঈনুদ্দীন খন্দকার,  মাস্টার  আবদুস সাত্তার, আবদুল মতিন, সাপ্তাহিক সবুজপত্র সম্পাদক জামাল উদ্দীন ভুইয়া, মাদরাসার মোহতামিম ক্বারী মাওলানা মোঃ নাজমুল হাসান প্রমুখ।

ইসলামী জিনিয়াস প্রতিযোগিতার জুরি বোডের প্রধান গাজীমুড়া কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস মাওলানা মোঃ আবদুল হালিম,জুরিবোড সদস্য  মুফতি মাওলানা মোঃ আবু ইউসুফ ও  মোঃ ওমর হোসাইন ব্ক্তব্য রাখেন।

উক্ত ইসলামি জিনয়াস প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলার ৪১ প্রতিষ্ঠানের ৬৬জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহণ করেন।

কত হাজার কোটি টাকা বাজেট এবারের নির্বাচনে….!

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য ধরা হয়েছে বিশাল বাজেট । এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৭৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যয় হবে প্রায় ১২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বাকি ১০৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমে। একক হিসাবে প্রতিটি আসনের নির্বাচন আয়োজন করতে ইসির (নির্বাচন কমিশন) ব্যয় হচ্ছে ৭ কোটি ২২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। ইসিসংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে যে অঙ্কের টাকা ব্যয় হচ্ছে, তা বিগত সব নির্বাচনের ব্যয়কে ছাড়িয়ে যাবে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭০০ কোটি টাকা। যদিও পরে তা অনেক বেড়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খরচ হয় প্রায় তিনশ কোটি টাকা। যদিও ওই সময়ে ১৫৩টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। বাকি আসনগুলোতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির ব্যয় হয় প্রায় দুইশ কোটি টাকা।

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, জাতীয় সংসদের মতো আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যয়ও অনেক বাড়বে। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় ৫২০টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রতিটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করতে ইসির খরচ ধরা হচ্ছে তিন কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি। চলতি অর্থবছরে ইসির জন্য সংস্থান করা বাজেটে জাতীয় সংসদ ও উপজেলা মিলিয়ে ১৪৫৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশোধিত বাজেট প্রস্তাবে ২৪৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩৮৯২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের এ বাজেট অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। নির্বাচন আয়োজনে চলতি অর্থবছরে বাড়তি টাকা চেয়েছে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠান। চলতি অর্থবছরেই জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচন হবে।

ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু সিসি ক্যামেরা না থাকায় নির্বাচনের বাজেট থেকে ২০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা খরচ কমছে। অন্যথায় ব্যয় আরও বাড়ত।

নির্বাচনে ব্যয় বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তারা অর্থমন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন।

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের মধ্যে ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ নির্বাচনে ২৭টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। বিএনপিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসেনি। এ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ১৮৯৫ প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে এবার ‘পরিচালন’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা’-এই দুই খাতেই ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেশি ধরা হয়েছে। দুই খাতের ব্যয় এবার কাছাকাছি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন পরিচালনা খাতের প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে। এবার নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের ব্যয় সে অনুপাতে অনেক বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ কয়েকটি কারণে খরচ বাড়ছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী, ২০টি অর্থনৈতিক কোড থেকে নির্বাচনের সামগ্রিক ব্যয়ের টাকা ছাড় করে থাকে নির্বাচন কমিশন। ইসির প্রস্তাবিত বাজেটে ওই ২০টি অর্থনৈতিক কোডের ১৭টিতেই ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একটিতে ব্যয় কমানো ও দুটিতে বিদ্যমান বাজেট বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০টি অর্থনৈতিক কোডের মধ্যে ‘সম্মানি’ খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। চলতি বছরের বাকি ৬ মাসের জন্য এ খাতে ইসি ব্যয় ধরেছে ১১৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে সংস্থান রয়েছে ৫৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ইসি এ কোডেই ৬৬৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করেছে। সম্মানি খাতের ১১৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরে অন্যান্য যেসব নির্বাচন বা উপনির্বাচন হবে সেখানকার ব্যয়ও এ খাত থেকে বহন করবে ইসি।

ভোটের কাজে নিয়োজিতদের সম্মানি বাড়ার কারণে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে। চলমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় নয় লাখ প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ১ দিনের সম্মানি পেয়েছিলেন। এবার তাদের ২ দিনের সম্মানি ও যাতায়াত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত নির্বাচনে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এবার নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ৯ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৭ হাজার টাকা ও পোলিং কর্মকর্তারা ৫ হাজার টাকা হারে পাবেন। গত নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তিন হাজার এবং পোলিং কর্মকর্তারা দুই হাজার টাকা হারে ভাতা পেতেন।

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে খোরাকি ভাতা পান বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়ক ও পেশকাররা। তাদের খোরাকি ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনি মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদেরও আগের চেয়ে বেশি দিন রাখা হবে। ভোটকেন্দ্র বাড়ায় তাদের বেশি সংখ্যক সদস্যও মোতায়েন করতে হবে। চলতি অর্থবছরে বাকি সময়ের জন্য খোরাকি ভাতা খাতে ৬৪৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা ধরেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ১৫০ কোটি ১১ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। ইসি এ কোডেই ৪৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এছাড়া যাতায়াতের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন খাতে ব্যয় বাড়িয়ে ২২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা করেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার সদস্যদের আপ্যায়ন ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কার্যালয় ও সংস্থার আপ্যায়ন ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় ধরেছে ইসি।

ভোটকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য চার্জার লাইট, ক্যালকুলেটর, স্ট্যাপলার পিনসহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি কেনাকাটা হয়। চলতি অর্থবছরে অন্যান্য মনিহারি খাতে ৩১৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রচার ও বিজ্ঞাপন কোডে ৯৫ কোটি ১২ লাখ টাকা, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কোডে ২৩৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা, পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট কোডে ২১৭ কোটি ২১ লাখ টাকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Daily World News

উপজেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময় করেন ওসি রূপসা

উপজেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময় করেন ওসি রূপসা

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

রূপসা থানার নবাগত  অফিসার ইনচার্জ জনাব শওকত কবীর আজ ১৯ডিসেম্বর দুপুরে  থানা কার্যালয়ে রূপসা উপজেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময় করেন।

এ সময় ওসি মহোদয় প্রতিনিধিদের আইন শৃংখলাসহ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন।

আগামী ২৫ডিসেম্বর  সম্প্রদায়ের সব থেকে আনন্দের বড়দিন। এই দিনটিকে উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই পালন করার সকল ধরনের আইন-শৃংখলা সঠিক রাখার সহযোগিতার প্রদান করেন।

এ সময় প্রতিনিধিরা বলেন, থানা অফিসার ইনচার্জ ও পুলিশ সদস‍্যগণ সব সময়ের জন্য আমাদের  সহযোগিতা করেন।

আমরা কোন ঘটনা ঘটলে ফোন দিলেই তারা তাৎক্ষণিক ভাবে ছুটে গিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। যে কারণে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ধন‍্যবাদ জানান পুলিশ সদস‍্যদেরকে।

মহান বিজয় দিবস উদযাপনে আমতলীতে ছিল নানা ধরণের আয়োজন

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বরগুনার   আমতলীতে উদযাপন করা হচ্ছে মহান বিজয় দিবস ১৬ডিসেম্বর। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির শুরুতেই শনিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩১বার তপ্পোধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এরপর প্রথমে উপজেলা প্রশাসন,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড,পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি,আমতলী পৌরসভা, বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সকল শহীদদের স্মরণে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এম,এ কাদের মিয়া,উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম,আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান,উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবর রহমান,সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবদুল্লাহ আবু জাহের,আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুদ্দিন শানু সহ উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান,রাজনৈতিক সাংবাদিক,সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপজেলার একে সরকারি স্কুল  মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইএমএফ সনকারের প্রতি খুশি হয়েছে এবং কিছু পরামর্শ দিয়েছেন

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধি সহায়ক সংস্কারে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এজন্য কঠোর আর্থিক নীতিমালা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে আইএমএফ মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ। তিনি বলেছেন, একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে ভার্চুয়ালি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের প্রথম পর্যালোচনা শেষে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৬৮৯ মিলিয়ন ডলার অনুমোদনের দুদিন পর তিনি এ কথা জানালেন।

ব্রিফিংয়ে রাহুল আনন্দ বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বেশিরভাগ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ও সংস্কারে প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছে। কঠিন সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ সত্ত্বেও সামগ্রিক কর্মসূচির কর্মক্ষমতা সন্তোষজনক হয়েছে।

এ প্রচেষ্টার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কোভিডের পর থেকেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ভালো করছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সেই লাগাম ছুটে যায়। এরপর ব্যাংক সুদহারের সীমা তুলে নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে সুদহারের সীমা তুলে নিয়েছে। ফলে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে সুদ এখন ১১ শতাংশের বেশি। এই কঠোর অবস্থা কিছুদিন বহাল রাখতে হবে। এটি আমাদের পরামর্শ ছিল। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, এই চড়া সুদহারের সময় যেন আবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে না যায়। অর্থাৎ মুদ্রানীতি আরও সঙ্কোচন করতে হবে বলে জানান রাহুল আনন্দ।

এ সময় বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে যেতে কয়েকটি ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে হবে বলে তিনি উল্লে­খ করেন। প্রথমত, কর রাজস্ব বৃদ্ধি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। তাহলে কর্তৃপক্ষ সামাজিক উন্নয়ন ও জলবায়ু খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে। ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধি ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে জনসাধারণের আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক নীতি কাঠামো আধুনিক ও নীতি সঞ্চালন উন্নত করতে হবে। তাহলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে। বিনিময় হার কাঠামো আধুনিক ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আরও সংস্কার বাহ্যিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করবে।

তৃতীয়ত, ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে আর্থিক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলায় সংস্কারের দিকেও মনোনিবেশ করা উচিত।

আইএমএফের এশীয় ও প্যাসিফিক বিভাগ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশের ওপর কান্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশ করে আইএমএফ। ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা রয়েছে। ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশে আইএমএফের প্রতিনিধি জয়েন্দু দেও সংযুক্ত ছিলেন।

আমতলী মুক্ত দিবস আগামীকাল || জানা-অজানা ঘটনাবলী

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

আগামীকাল ১৪ ডিসেম্বর। ১৯৭১ এই দিনে বরগুনার আমতলী থানা হানাদার মুক্ত হয়েছিল। ১১ ডিসেম্বর বরগুনার বুকাবুনিয়া ক্যাস্প থেকে নৌকা যোগে প্রয়াত হাবিলদার হাতেম আলী, আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে দু’দল মুক্তিবাহিনী পঁচাকোড়ালিয়া হয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে আসে। ১২ ডিসেম্বর আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদারের নেতৃত্বে একদল মুক্তি বাহিনী কুকুয়া ইউনিয়নের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পৌছেন। ওইখানে প্রয়াত সাবেক এমপি নিজাম তালুকদারের নেতৃত্বে অস্থায়ী ক্যাস্প করা হয়। অপরদিকে গলাচিপার মুজিব বাহিনীর হারুন-অর-রশিদ ও আবদুর রব মিয়ার নেতৃত্বে একদল মুক্তিকামী যোদ্ধা ওই ক্যাম্পে আসেন। দু’গ্রুপ আমতলী থানা মুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন।

এদিকে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সভাপতি এবিএম আসমত আলী আকন,ন্যাপ নেতা গাজী আমীর হোসেন ও স্কুল শিক্ষক দলিল উদ্দিন মিয়া আমতলী থানা শান্তিপূর্ণ ভাবে মুক্ত করতে মুক্তি বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। ওই সময় আমতলী থানায় কোন পাক বাহিনী ছিল না। থানায় ছিলেন ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়া, কয়েক জন পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী। ১৩ ডিসেম্বর সকালে তারা ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়ার সাথে বৈঠক করেন।

ওসি শান্তিপূর্ণভাবে আমতলী থানা মুক্তি বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে ক্যাম্পে তাদের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠায়। এ চিঠি মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্পে মধ্যস্থতাকারীরা পৌছে দেয়। মুক্তি বাহিনীর সদস্যরা সন্ধ্যায় থানার পশ্চিম প্রান্তে চাওড়া নদীর পাড়ে একে পাইলট হাই স্কুল সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ওদিকে ওসি রইস উদ্দিন ভুইয়ার পাঠানো চিঠিটি ছিল একটি পাতানো ফাঁদ। মুক্তি বাহিনীরা থানায় আসলে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ওসি’র এ পরিকল্পনা  মুক্তি বাহিনী জেনে যায়। রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে মুক্তি ও মুজিব বাহিনী যৌথভাবে “জয় বাংলা” শ্লোগান দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। জবাবে রইস উদ্দিন ও রাজাকার বাহিনী বর্ষার মত গুলি ছোঁড়ে। শুরু হয় যুদ্ধ। রাতভর গুলি বিনিময়ে এক নৌকার মাঝি শহীদ হয় (তার নাম পাওয়া যায়নি)। কাক ডাকা ভোরে গলাচিপার মুজিব বাহিনীর গেরিলা যোদ্ধা হারুন-অর-রশিদ মতান্তরে ফেরদৌস হায়দার নদী পার হয়ে থানার প্রাচীর ঘেঁষে একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পরে। অপরদিকে মুক্তিকামী জনতা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে থানার দিকে আসতে থাকে এবং মুক্তিবাহিনী নদী পাড় হয়ে উত্তর প্রাপ্ত থেকে থানার দিকে অগ্রসর হয়। অবস্থার বেগতিক দেখে ওসি রইস উদ্দিন, পুলিশ ও রাজাকার বাহিনী সাদা পতাকা উত্তোলন করে আত্মসমর্পনের আহবান জানান।

১৪ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় মুক্তি ও মুজিব বাহিনী যৌথ ভাবে এবং জাগ্রতজনতা “জয় বাংলা” শ্লোগান দিয়ে থানার প্রথম ফটকে প্রবেশ করে। এ সময় ওসি রইস উদ্দিন ভূইয়া ও তার বাহিনী অস্ত্র তুলে আত্মসমর্পন করে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস ও নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার ওসি রইস উদ্দিনসহ তার সহোযোগীদের আটক করে। মুক্তিযোদ্ধা আফাজ উদ্দিন বিশ্বাস আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং উপস্থিত জনতা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আমতলী থানাকে মুক্তাঞ্চল ঘোষনা করা হয়।

Daily World News

বরগুনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের’ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত