ইসলামী আন্দোলন ৫ দফা দাবিতে শনিবার ঢাকায় সমাবেশ করবে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশ করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে বিকাল ৪টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এ সমাবেশ হবে।

বুধবার বিকালে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আটিবাজার সূচনা কনভেনশন সেন্টারে এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

রেজাউল করীম বলেন, জাতীয় সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে রাজপথ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে বিগত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ন্যায় কলঙ্কিত নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়।

তিনি বলেন, সংবিধান রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে। তারাই বিগত দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল ও অবরোধ করেছে, ৫ শতাধিক মানুষ হত্যা করেছে। কাজেই সংবিধানের দোহাই সরকারের মুখে মানায় না।

দলের আমির বলেন, আওয়ামী সরকার দেশকে অকার্যকর করে বিচার ও আইন বিভাগকে ধ্বংস করেছে। নির্বাহী বিভাগ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকেও ধ্বংস করেছে। লুটেরা সরকারের একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের অবৈধ নির্বাচনে প্রজাতন্ত্রের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোট ডাকাতিতে সহযোগিতা করেছে তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন- ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

ভেড়ামারায় সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক নিহত হবার পর চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে হানিফ – ইনুর লোকজন- নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে চাপ হতেপারে ইনুর

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

রাজনৈতিকভাবে নানা কারণে আলোচিত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বাড়ি এ উপজেলায়। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হলেও এই দুদল এখন চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।

গত ৫ বছরে জাসদ নেতাকর্মীদের হাতে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুদলের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ জাসদের যুবসংগঠন যুবজোট নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আহ্বায়ক সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক।

২ আগস্ট তাকে কোপানো হয়। বুধবার তিনি ঢাকায় মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেড়ামারা এখন উত্তপ্ত। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জাসদ সমর্থিত কয়েকজনের বাড়িঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে জাসদ নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন ও তার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনসহ দলটির নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর জাসদ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ঐক্যে ফাটল ধরে। এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করে। হত্যাকাণ্ডের জের ধরে আওয়ামী লীগের লোকজন জাসদ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।

এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে জাসদের ভরাডুবির কারণে দ্বন্দ্বে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। স্থানীয় সরকারের তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-জাসদ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ হয় অনেকবার। মামলা হয়েছে একাধিক।

অপরদিকে ভেড়ামারার পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন জাসদ নেতা আব্দুস সালাম। গত বছরের ১১ মে সন্ধ্যায় আল্লারদরগা এলাকায় আব্দুস সালামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর পরিবারের ৬ জনসহ ২১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।

এসব ঘটনায় কুষ্টিয়া-২ আসানের বর্তমান সংসদ-সদস্য হাসানুল হক ইনুকে বেকায়দায় ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভোটে ইনু এমপি নির্বাচিত হলেও তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেন না। উলটো তার দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম, হত্যা, নির্যাতন চালাচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, তিনটা নির্বাচনে ইনু সাহেবের পক্ষে মাঠে নেমে কাজ করেছি। এমপি হয়ে উনি (ইনু) আমাদের কথা ভুলে যান। উলটো আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। এবার নির্বাচনে নেতাকর্মীরা ভোট দিলেও সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দেবেন বলে মনে হয় না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল হক বলেন, ‘জাসদ নেতাকর্মীরা এখানে অস্ত্রের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা বারবার আমাদের দলের নেতাদের ওপর হামলা করছে, মামলা দিচ্ছে। এতে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।’

২০০৮ সালের আগের প্রায় সব সংসদ নির্বাচনেই মশাল নিয়ে পরাজিত হন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এরপর মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে টানা তিনবার কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জোটের স্বার্থে ইনুকে আসনটি ছেড়ে দিয়ে ২০০৮ সালের পর তিনবারই কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে নির্বাচন করেন মাহাবুবউল আলম হানিফ।

এ সম্পর্কে ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে এসব ঘটতে পারে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাসদের সম্পর্ক আগের থেকে ভালো।’

জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম স্বপন বলেন, ‘ভেড়ামারায় যত ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয় ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত। এমনকি পাড়া-মহল্লার বিরোধে মারামারি-খুন হয়। এতে রাজনৈতিক কোনো বিষয় থাকে না। যদিও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী মহল এটাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে।’

এ বিষয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ‘২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বিএনপির ধানের শীষে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অংশটা (আওয়ামী লীগ নেতা) সব সময় এসব মারামারির পেছনে ইন্ধন জোগায়। যে কোনো আঞ্চলিক মারামারি, পারিবারিক শত্রুতা বা গোষ্ঠীগত শত্রুতাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন : ভেড়ামারা প্রতিনিধি জানান, যুবজোট নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয় প্রামাণিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় মহাশ্মশানে সমাধি স্থাপনের মাধ্যমে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে সঞ্জয়ের লাশ ভেড়ামারা শহরে গোডাউনমোড় এলাকায় বাড়িতে পৌঁছায়। রাতেই লাশ দেখতে যান আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি সঞ্জয়ের বাবা দুলাল প্রামাণিককে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘাতে না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

আর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মানব চাকী জানিয়েছেন, সঞ্জয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত থাকবে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

যুবজোট নেতা শোভন বহিষ্কার : সঞ্জয় প্রামাণিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা যুব জোটের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহজামাল পিন্টু স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোভনকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

Daily World News

অনাস্থার জবাবি বক্তৃতার পর লোকসভায় বিরোধীশূন্য জয় হলো নরেন্দ্র মোদী সরকারের

অনাস্থার জবাবি বক্তৃতার পর লোকসভায় বিরোধীশূন্য জয় হলো নরেন্দ্র মোদী সরকারের

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধীশূন্য লোকসভায় ধ্বনিভোটে জয় হল নরেন্দ্র মোদী সরকারের। আর বৃহস্পতিবার সেই অনাস্থা বিতর্কের জবাবি বক্তৃতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বস্তুত, মোদীর ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়েই ছিল নিজের সরকারের ‘সাফল্যের’ দাবি এবং জওহরলাল নেহরু থেকে মনমোহন সিংহ পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীদের জমানার ‘ব্যর্থতার’ প্রসঙ্গ। মোদীর বক্তৃতায় ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবের মূল আলোচ্য মণিপুরের প্রসঙ্গ না ধৈর্যচ্যূত বিরোধীরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। আর তার পরেই কার্যত বিরোধীশূন্য সভায় বিনা বাধায় মণিপুর-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা-পর্ব থেকে ইউপিএ জমানা পর্যন্ত উত্তর-পূর্বের প্রতি ‘কংগ্রেসের বঞ্চনা’ নিয়ে তাঁর বক্তব্য সভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত করান। দাবি করেন, শুধু মণিপুর কেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে কিছু বলারই অধিকার নেই কংগ্রেসের।

‘ইন্ডিয়া’র দাবি ছিল, মণিপুর নিয়ে সংসদে যাতে প্রধানমন্ত্রী মুখ খোলেন, সেই উদ্দেশ্যেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। বস্তুত, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বার বার দাবি সত্ত্বেও এক বারও মণিপুরের গোষ্ঠীহিংসা নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার যখন তিনি মুখ খুললেন, প্রশ্ন তোলার জন্য সভায় ছিলেন না বিরোধীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন, পরিকল্পনা মাফিক বক্তৃতায় প্রথম দেড় ঘণ্টায় এক বারও মণিপুর প্রসঙ্গ না তুলে বিরোধীদের অধৈর্য করে তুলেছেন মোদী। তাঁর লক্ষ্য ছিল, পরবর্তী সময় কার্যত বিরোধীশূন্য পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করা। এবং সেই লক্ষ্যে তিনি সফল।

বক্তৃতায় গোড়াতেই আত্মবিশ্বাসী মোদী বলেছেন, ‘‘ভগবান চান এনডিএ ২০২৪ সালেও সরকার গঠন করুক ভারতে। তার জন্যই তিনি বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে এই সুযোগ করে দিয়েছেন আমাদের।’’ আর সমাপ্তিপর্বে অনাস্থা প্রসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনাদের ধন্যবাদ। আমার একটা কথা অন্তত শুনেছেন। ২০১৮ সালে আমি আপনাদের বলেছিলাম ২০২৩-এ অনাস্থা আনার জন্য।’’ প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল চন্দ্রবাবু নায়ডুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছিল কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিজেপি-বিরোধী দল। বিজেপির সংখ্যাধিক্যের জোরে বিরোধীদের আনা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জয়ের হ্যাটট্রিক করবে বলেও দাবি করেছেন মোদী। সেই সঙ্গে বিরোধীদের ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন ২০১৮ সালে ফের অনাস্থা প্রস্তাব আনার। বস্তুত বৃহস্পতির বিকেলে তাঁর বক্তৃতায় ছত্রে ছত্রে ছিল বিরোধীদের প্রতি শ্লেষ। কখনও ট্রেজারি বেঞ্চের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘আপনাদের একটা গোপন কথা বলি, ঈশ্বরের কাছে এক অদ্ভুত বর পেয়েছেন বিরোধীরা। ওঁরা যাঁদেরই খারাপ চেয়েছেন, তাদেরই ভাল হয়েছে।’’ কখনও আবার বিরোধী বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে তাঁর খোঁচা, ‘‘বিশ্ব জুড়ে ভারতের ধন্য ধন্য হচ্ছে তাতে যাতে কারও ‘নজর’ না লেগে যায় তার ব্যবস্থা করেছেন বিরোধীরাই। বিরোধীরা কালো কাপড় পরে এসে ভারতের গায়ে কালো টিকা লাগিয়ে দিয়েছেন।’’

অনাস্থা বিতর্কে বিরোধীদের নানা ‘ক্ষমতার’ কথাও বলেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁদের এক অদ্ভুত চৌম্বকশক্তি আছে। ভারতের নামে দুনিয়ায় যে যেখানে যা-ই নেতিবাচক বলুন, তা ওঁরা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করে নেন। শুধু তা-ই নয়, সেই অভিযোগ যত ছোটই হোক না কেন, তার হয়ে প্রচারও চালান।’’ বিরোধীদের ‘ক্ষমতা’র কথা বলতে গিয়ে তিনটি উদাহরণও দেন তিনি— ১. প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার বানাতো এইচএএল, সেই সংস্থা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল এই বিরোধীরা। সেই এইচএএল এখন আরও উন্নতি করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। ২. বিরোধীরা এলআইসির নামে খারাপ কথা বলেছিল। সেই এলআইসিও সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। ৩. ২০১৮ সালে বিরোধীরা এনডিএ সরকার পড়ে যাবে বলেছিল। তার পর আরও বেশি ভোট পেয়ে এনডিএ সরকার আবার ক্ষমতায় এসেছে।

মণিপুরে মানা গান্ধীর ছবিতে!

নেহরু, ইন্দিরা, মনমোহনের জমানায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতি ধারাবাহিক বঞ্চনা হয়েছে দাবি করে মোদী বৃহস্পতিবার তাঁর আমলের ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ পেশ করেন। তার তা করতে গিয়ে অক্লেশে মনমোহন জমানায় কাজ শুরু হওয়া আগরতলা রেল প্রকল্পের পুরো কৃতিত্বও দাবি করেন মোদী। ইউপিএ সরকারের আমলে মণিপুরে ধারাবাহিক জঙ্গি হানার ঘটনা ঘটত এমনকী সরকারি দফতরে মহাত্মা গান্ধীর ছবির টাঙানো যেত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বুধবারের সেই মন্তব্যের— ‘‘মণিপুরে ভারতমাতাকে আপনারা হত্যা করেছেন।’’ মোদীর দাবি, ‘‘ওঁদের যা মনে আছে, সেটাই বলে ফেলেন। ওঁরা ভারত মাতাকে তিন টুকরো করেছেন।’’ এমনকি, ভারতকে ‘টুকড়ে টুকড়ে’ করার চক্রান্তকারীদের সঙ্গে বিরোধীরা হাত মিলিয়ে শিলিগুড়ির  ‘চিকেন নেক’ বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই ভারত থেকে আলাদা করতে চায় বলে দাবি করেন তিনি। যদিও কেন ৩ মে থেকে মণিপুরে হিংসা শুরু হলেও তিনি কেন সে রাজ্যে যাননি, তার ব্যাখ্যা দেননি মোদী।

উত্তর-পূর্বে ‘কংগ্রেসের অত্যাচার’

মোদীর দাবি ১৯৬৬ সালের ৫ মার্চ কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার মিজোরামে অসহায় মানুষের উপর বায়ুসেনার বিমান পাঠিয়ে বোমাবর্ষণ করিয়েছিল। যদিও ইতিহাস বলছে, সে সময় চিনের মদতেপুষ্ট মিজো বিদ্রোহীদের ঘাঁটির উপর হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ১৯৮৪ সালে পঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরে ঘাঁটি গড়া খলিস্তানী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন ব্লু স্টার’কে বৃহস্পতিবার ‘অকাল তখতের উপর হামলা’ বলেছেন তিনি। ১৯৬২ সালে চিনা হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর রেডিয়ো ভাষণকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘নেহরু সে সময় তাঁদের (অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিক) ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। সমাজবাদী পার্টিকে খোঁচা দিয়ে মোদীর মন্তব্য, ‘‘রামমনোহর লোহিয়া বলেছিলেন নেহরু ইচ্ছা করেই উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন করছেন না।’’ এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর সময় বেআইনি ভাবে ভারত মহাসাগরের কচ্চাতিভু দ্বীপ শ্রীলঙ্কাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্বে শীর্ষ পাঁচে ভারত

অনাস্থা বিতর্কে মোদীর মন্তব্য, ‘‘কংগ্রেসের সময় ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বে ১১ কিংবা ১২ নম্বরে ছিল। আমাদের সরকার দেশকে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় টেনে তুলেছে, বললেন মোদী। ওঁরা হয়তো ভাবেন, এ সব এমনি এমনি হচ্ছে। যেমন ওঁরা নিজেদের শাসনকালে বসে থাকতেন, আর ভাবতেন সব নিজে থেকে হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যা করেছি, তা সম্ভব হয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে।’’

Daily World News

শেখ হেলাল উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কচুয়ায় ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও টাকা বিতরণ করেন

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে দুস্ত ও গৃহহীনদের মাঝে নগদ টাকা ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ আগষ্ট) বেলা ১২ টায় উপজেলা পরিষদের চত্তরে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি উপস্থিত থেকে এ সব সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় ৩৫ জন দুস্তকে ২ বান্ডিল করে মোট ৭০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে মোট ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় যুবলীগের মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান।

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব,বিশেষ প্রতিনিধি//

১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ডের মাষ্টার মাইন্ড মানবাধিকার লঙ্খনকারী জিয়াউন রহমান এর মরণোত্তর বিচার ৭৫ এর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর ২১ আগস্ট হত্যাকান্ডের মাষ্টারমাইন্ড ও পলাতক আসামী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পাওয়া বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবীতে গতকাল সোমবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপি শেষে  উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক মানববদ্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা জিএম ফারুক হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দে, মোল্যা সোহেল রানা, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, মোল্যা জাহিদুল ইসলাম, শেখ ইকবাল হোসেন,শাহনেওয়াজ হোসেন শিমুল বিশ্বাস, কৃষকলীগের সভাপতি অরিন্দম মল্লিক, কাজী মেহেদী হাসান রাজা, আলহাজ্ব রবিউল ইসলাম আনটু, রাজিউল বারী সৈকত, বিশ্ব নাথ দে, প্রসুন বিশ্বাস পম্পী, মাহমুদ খান, আব্দুল হামিদ সরদার, যুব মহিলা লীগের সভাপতি শিমু আক্তার, সাধারন সম্পাদক বিভা বিশ্বাস, ছাত্রলীগের সভাপতি  খান আবুল বাশার ও সম্পাদক শেখ মাসুদ রানাসহ নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাটের রামপালে নায়ক শাকিল খানের লিফলেট বিতরণ পথ সভা

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা লিফলেট বিতরণ ও পথ সভা করেছেন আওয়ামীলীগ নেতা চিত্র নায়ক শাকিল খান। বৃহস্পতিবার (৩ আগষ্ট) দিনব্যাপী রামপালের বিভিন্ন এলাকায় ৩ শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এ সময় তিনি উপজেলার শরাবপুর ব্রীজ মোড়ে একটি পথ সভাও করেন। ওই সময় তার সাথে ছিলেন গৌরম্ভা ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব সরদারসহ প্রায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রামপাল ও মোংলার জনসাধারণের মাঝে সরকারের যে সব গণমুখী উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে তার ফিরিস্তি তু্লে ধরে নায়ক শাকিল খান বলেন, ১৫ আগষ্ট শোকের মাস।

শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আমরা মানুষের দ্বারে যাচ্ছি। সরকার এসডিজির রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা বাস্তবায়ন করেছে। পদ্মা সেতু, সারাদেশে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, গ্রামীন রাস্তাঘাট নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করে তা বাস্তবায়ন করেছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানান।

আগামীতে তার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। দিনব্যাপী রামপালের রাজনগর ইউনিয়ন, হুড়কা ইউনিয়ন, রামপাল সদর ইউনিয়ন, বাশতলী ইউনিয়ন, বাইনতলা ইউনিয়ন, উজলকুড় ইউনিয়ন ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগের গন বিক্ষোভ ও গন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

সারা দেশে বিএনপি জামাতের নৈরাজ‍্য অগ্নিসন্ত্রাস দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহতে বিএনপি,র জালাও পোড়াও কর্মকান্ড এর প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বিকেলে ডুমুরিয়া  উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসহযোগী সংগঠনের উদ্যেগে দলীয় কার্যলয়ে গন বিক্ষোভ গন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল খোকন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ‍্যাড রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবু সালেহ,  জেলা আওয়ামী লীগের সদস‍্য আজগর বিশ্বাস তারা, উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, আবু সাঈদ সরদার, প্রভাষক জিএম ফারুক হোসেন, মোল্ল‍্যা সোহেল রানা, মোল্ল‍্যা জাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি চৌধুরী রায়হান ফরিদ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, শাহানেওয়াজ হোসেন শিমুল বিশ্বাস, কাজী মেহেদী হাসান রাজা, মহিলা আওয়ামীলীগের  শোভা  রানী হালদার, তহমিনা বেগম, হাসনা হেনা, শারমিন পারভীন রুমা, সরদার মাসুদ রানা ছাত্র লীগের খান আবুল বাশার,সাধারন সম্পাদক  শেখ মাসুদ রানা, মাহাবুব আলম সোহাগ প্রমুখ।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদক এবং ইউপি চেয়ারম‍্যান গোপাল চন্দ দে, সুরজিৎ বৈধ্য, শেখ রবিউল ইসলাম, গাজী তৌহিদুজ্জামান  উপস্থিত ছিলেন।

রামপাল-মোংলার মানুষ পরিবর্তন চায় সেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তারা

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে সেচ্ছাসেবক লীগের ২৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন উপলক্ষে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

শনিবার বিকেল ৫ টায় ফয়লাহাটের বাসস্টান্ডের চত্তরে বাগেরহাট জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও বাশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইজারাদার ইদ্রিস আলী, বিশেষ অতিথি মোংলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মো. আবু সাইদ,  রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাওলাদার হাফিজুর রহমান, রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও রামপাল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. হামীম নূরী, মোংলা উপজেলা আওযামীলীগের সাংগঠনিক সম্পদক উৎপল কুমার মন্ডল, খুলনা জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শেখ মো. আবু হানিফ, রামপাল উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ভোজপাতিয়া ইউপি তরফদার মাহাফুজুল হক টুকু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন, মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান উদয় সংকর, উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সী বোরহান উদ্দিন জেড, গৌরম্ভা ইউপি চেয়ারম্যান সরদার রাজিব হোসেন, রামপাল উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সরদার বোরহান উদ্দিন, রামপাল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক শেখ সাদী, মোংলা উপজেলা ছাত্রলীগের  সভাপতি শিকদার ইয়াছিন আরাফাত, মোংলা উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমরান বিশ্বাস, রামপাল উপজেলা শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পদক ফকির রবিউল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন চয়ন মন্ডল।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সভায় বক্তারা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে শেখ পরিবারের যেকোন সদস্যকে প্রার্থী হিসাবে প্রত্যাশা করেন। প্রায় ছয় সহাস্রাধীক নারী পুরুষসহ নেতাকর্মী  উপস্থিত ছিলেন।

রামপালে বিএনপি-জামায়াতের ৩০ নেতার নামে নাশকতার মামলা, আটক-৮

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি ও জামায়েতের ৩০ জনসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামী করে নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ফয়লাহাটের পু্লিশ ফাড়ির ইন-চার্জ এসআই খন্দকার আব্দুল মবিন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রামপাল থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় নাশকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর উদ্যেশ্যে সমবেত হয়ে বিষ্ফোরক পদার্থ মজুদ করা, হোফাজতে রাখা এবং বিষ্ফোরণ ঘটানোসহ সহায়তা করার অপরাধ করেছে আসামীরা এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

আটক আসামীরা হলেন, উপজেলার হুড়কা গ্রামের বাবুল শেখ (৫৫), সোনাতুনিয়া গ্রামের মো. আল আমিন শেখ, গোবিন্দপুর গ্রামের আ. কাদের মোল্লা (২৮), শ্রীরম্ভা গ্রামের মো. হেমায়েত শেখ (৪৫),কালিকাপ্রসাদ গ্রামের মোজাম্মেল শেখ ((৪৩), প্রসাদনগর গ্রামের মো. নাজিবর শেখ (৪৬), প্রসাদনগর গ্রামের মো. আ. হালিম (৪৬),চাকশ্রী গ্রামের মো.হুমায়ুন কবির সাগর (২৮)।

বুধবার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে আসামীদের আটক করে পু্লিশ। এছাড়াও আসামী করা হয়েছে,  উপজেলা বিএনপির সদস্য শেখ ফিরোজ কবির, আমিরুল ইসলাম কুটি, মুজিবর জোয়ারদার, আকবর হোসেন আকো, আলী আকবর সম্রাট, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মল্লিক জিয়াউল হক জিয়া, সদস্য সচিব আলমগীর কবির বাচ্চু, ছাত্র দলের আহবায়ক মোল্লা তারিকুল ইসলাম শোভন, সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দকে।

আটক আসামীদের দখলে থাকা ৪ টি অবিষ্ফোরিত ককটেল, ২ টি বিষ্ফোরিত ককটেলে অংশ, ১৮ টি রড, ২৩ টি বাঁশের লাঠি, ২ টি হাসুয়া ও ১১ জোড়া স্যান্ডেল জব্দ করা হয়েছে।

মামলা দায়ের, আলামত জব্দ ও ৮ জন আসামীকে আটক করে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম।

রামপালে ৪ নেতার গ্রেফতারে বিএনপির নিন্দা

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপির ৪ জন নেতাকে আটক করেছে। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার ১২ টায় বাগেরহাটের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃত বিএনপি নেতারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মুজিবর রহমান বাবুল, গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেমায়েত শেখ ও বাইনতলা ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রনেতা  হুমায়ুন কবির সাগর ও উজরকুড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আ. কাদের মোল্লা।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছন, বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি জানান, কোন প্রকার সমন ছাড়া গ্রেফতার করেছে রামপাল থানা পুলিশ। এখনও পুলিশি অভিযান চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করতেই পুলিশের এ অবৈধ গ্রেফতার অভিযান চলছে। আমি পুলিশের এ অবৈধ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে পু্লিশ জনগণের সেবায় তাদের সর্বোচ্চ পেশাধারীত্বের পরিচয় দিবে। সেটি না করে তারা আওয়ামীলীগের সরকারকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে অহেতুক প্রতিপক্ষ বানানো হচ্ছে। সংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষভাবে পু্লিশ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবে সেটাই আমরা প্রত্যাশা করছি এবং অবিলম্বে সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছি।