Category: শিক্ষা
Education
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীর ফ্যান বিতরণ
যশোরের ৩ উপজেলায় চলমান “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল” কর্মসূচি বন্ধ
যশোরের ৩ উপজেলায় চলমান “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল” প্রকল্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক পুষ্টি মান বজায় রাখা, সার্বজনীন শিক্ষাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে শিশু শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যে যশোর জেলার ৩ টি উপজেলায় “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল” প্রকল্প চালু হয়।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, যশোর জেলার যশোর সদর, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় এ প্রকল্প চালু হয়।তিনটি উপজেলার মধ্যে যশোর সদর উপজেলার ২৫৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৭৫৪৮ জন শিশু শিক্ষার্থী, ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮২৯৩ জন শিশু শিক্ষার্থী ও চৌগাছা উপজেলার ১৩৯ বিদ্যালয়ের ২৮১০০ শিশু শিক্ষার্থী “ মিড ডে মিল” কর্মসূচির আওতায় থেকে উচ্চ পুষ্টি সম্পন্ন বিস্কুট খায়ানো হতো এবং একই সাথে ঝিকরগাছার ২০ বিদ্যালয়ের ৪২৫৪ শিশুকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পুষ্টি সম্পন্ন খিচুড়ি খাওয়ানো হতো।
সর্বসাকুল্যে ৫২৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লক্ষ ১০ হাজার শিশু শিক্ষার্থী এই “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল” কর্মসূচির সুবিধাভোগী ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনা শুরু হওয়ায় গত ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যায় চলমান “স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল” কর্মসূচি। শিশুদের পুষিহীনতার কথা বিবেচনা করে সরকার এই কর্মসূচি চালু করে।
কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী এ মাসেই “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল ” কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।আর এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশা সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবক ও শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সুবিধাভোগীরা চলমান কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানান।
আর এ “ স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল ” কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্টরা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ যদি বৃদ্ধি না করা হয় তাহলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে ও বহু শিশু পুষ্টিহীনতার স্বীকার হবে।
তাই কর্মসূচিটি চালু রাখার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকগণ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
// নিজস্ব প্রতিনিধি //
বাংলাদেশ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এসােসিয়েশন এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
বালিয়াডাঙ্গীতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভিত্তিস্থাপন উদ্বোধনে এমপি দবিরুল
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুর ১২ টার সময় ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ভিত্তি প্রস্তর ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জীর , উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম সুজন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য মইনুল হক, দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম ভাষানী প্রমুখ ।
// মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘প্রত্যাখ্যান’ করল টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর পেছনে করোনা পরিস্থিতি ও টিকার অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করেছে সরকার। অথচ এমন পরিস্থিতিতে কলকারখানা, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গণপরিবহন কোনোকিছুই থেমে নেই। শুধু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে ১ জুন থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি প্রকৃতি ক্লাসের মাধ্যমে তুলে ধরেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীবরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থী রিসা হায়দারের নেতৃত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন- নাফিস আরা রাফি, সানজিদা ইসলাম মীম, ইভানা জামান খান ঐশী, ফাতেমা রহমান বিথি, মো. ফাহাদুল ইসলাম প্রমুখ।
//মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি//
মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন
খুলনার রূপসায় ”অনুশীলন মজার স্কুলে”র নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ
শিক্ষায় ঝরে পড়া ও কর্মজীবী শিশুদের শিক্ষা জীবন নিশ্চিত করতে ২০১৫ সাল থেকে রুপসা উপজেলাতে কাজ করে যাচ্ছে “অনুশীলন মজার স্কুল” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
৮ মে বেলা ১১ টায় নৈহাটী ইউনিয়নের ইলাইপুরস্থ অনুশীলন মজার স্কুলের নবনির্মিত নিজস্ব ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা -৪ আসনের এমপি মহোদয়ের সহধর্মিনী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মিসেস সারমিন সালাম।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও অধ্যক্ষ ফ.ম. আব্দুস সালাম, সাবরিনা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শামছুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর খান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবিনা ইয়াসমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিনা পারভীন, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি আকলিমা খাতুন তুলি ও সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা রুনা, এমপির কো-অর্ডিনেটর নোমান ওসমানী রিচি, সালাম মুর্শিদী সেবা সংঘের টিম লিডার শামছুল আলম বাবু।
বিদ্যালয়ের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অলক চন্দ্র দাস এর সঞ্চালনায় শ্রমজীবী শিশুদের কল্যাণে করণীয় সম্পর্কে বক্তৃতা করেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, যুবলীগের সদস্য আশিষ রায়, ডিগ্রি কলেজের লেকচারার বিশ্বজিৎ পাল, রূপান্তরের প্রজেক্ট ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা, সাবেক ইউপি সদস্য জোসনা খাতুন প্রমূখ।
//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//
করোনার ক্রান্তিকালে স্বল্পপরিসরে পালিত হলো “কুুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়”-র শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী
যশোর জেলার সদরের কিছু অংশ,অভয়নগর- মনিরামপুর- কেশবপুর- ফুলতলা,ডুমুরিয়ার একটা বৃহৎ অংশে বসবাস ছিল সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত অন্তঃজ শ্রেণীর ।তাদের অধিকাংশেরই পেশা ছিল কৃষিকাজ ও মাছধরা ।
লেখাপড়ার কোন বালাই ছিল না বললেই চলে।আর এজন্য উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের দ্বারা তারা সব সময় তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য ও অবহেলার স্বীকার হতেন। লেখাপড়া না জানার কারণে অর্থনৈতিকভাবেও ঠকানো হতো।এছাড়া এই অন্তঃজ শ্রেণীর লোকেরা যদি কেউ শিক্ষা গ্রহনের জন্য আশেপাশের কোন মক্তব/ পাঠশালায় গেলেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো, পর্যাপ্ত সু্যোগদিত না ববং লেখাপড়া না শেখার জন্য হিতোপদেশ দিত।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় অন্তঃজ শ্রেণীর ভিতর আত্মোপলব্ধি হলো যে শিক্ষা ছাড়া কোন মুক্তি নাই। কৃষিকাজের সাথে সাথে ছেলেমেয়েদের ভিতর জ্ঞানের আলো প্রবেশ করানো ছাড়া এ শোষণ, বঞ্চনা থেকে মুক্তি মিলবে না।
এ জন্য তারা যশোর সদর,অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ৯৬ টি গ্রামের অধিবাসীরা মিলে স্বউদ্যোগে ১৯১৮ সালে প্রথম অভয়নগর ও মনিরামপুরের সীমান্তবর্তী মশিয়াহাটীতে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ঐ বিদ্যালয়ে ছেলেদের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও মেয়েদের পড়ার কোন ব্যবস্থা হলো না। তখন তারা চিন্তা করলো শুধু ছেলেদের শিক্ষিত করলে সমাজ পরিবর্তন হবে না।

সমাজটাকে পরিবর্তন করতে হলে সমাজের একটা বৃহৎ অংশ মেয়ে, তাদেরও পরিবর্তন দরকার। আর তাদের পরিবর্তন করতে গেলে নারী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।মা যদি শিক্ষার আলো পায় তাহলে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে এই নারীরা বিরাট ভূমিকা রাখবে।
আর তাই সামাজিক শোষণ নিপীড়ন,অত্যাচার থেকে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নারীদের রক্ষার জন্য এবং নারীর হৃদয়ে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত করার মানসে যশোর জেলার মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে ১৯২১ সালের ২ মে কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়টি ১৯২৪ সালে বৃটিশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া,খেলাধূলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন ছিল আশাব্যঞ্জক। কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের পূর্নজাগরণ হয়।সাথে সাথে ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের বাল্যবিবাহ,যৌতুক,শিশু অধিকার ও নারী নির্যাতন রোধ হয়।
এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহন করে অনেক মেয়েই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,উকিল, সরকারি আমলা,স্কল- কলেজেরশিক্ষকসহ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেশে ও দেশের বাইরে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত ও আলোক উজ্জ্বলিত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে অত্র এলাকায় নারী শিক্ষার যেমন প্রসার ঘটেছে তেমনি অন্তঃজ শ্রেণীর সমাজে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করেছে।
বিদ্যালয়টির শতবর্ষ পালন উপলক্ষে গত ২ বছর যাবত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহন করে দেশে ও দেশের বাইরে যারা অবস্থান করছেন তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন অত্র বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সুযোগ্য সভাপতি অবসর প্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামি শুরু হওয়ায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকল কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্বল্প পরিসরে কোন অনুষ্ঠান ছাড়াই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষক মন্ডলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা মিলে কেক কেটে অনাড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে।
ফলে শিক্ষার্থী,অভিভাবকসহ সকল স্তরের জনগণের মধ্যে একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ডা. তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির কারণে নিরবে ও নিভৃতে বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপন করা হলো কিন্তু এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাড়ম্বরে তাদের হৃদয়ে উদযাপন করেছে শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শততমবর্ষ উদযাপন সত্যি বিরল। কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি তাদের পূর্বের গৌরব গাঁথা ধরে রেখে আরও আরও অনেক পথ এগিয়ে যাক এবং নারী জাগরণের দ্বীপশিখা হয়ে প্রতিটি নারীর হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত হোক এই প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
// স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক //
সকল সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিট এর ভর্তি পরীক্ষা পরিবর্তন হয়েছে
১ম বর্ষ বিডিএস (২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ) কোর্সে সকল সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিট এর ভর্তি পরীক্ষা কোভিড-১৯ এর বর্তমান বাস্তবতায় ৩০/০৪/২০২১ খ্রিঃ তারিখের পরিবর্তে আগামী ১১/০৬/২০২১ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
//ডেস্ক নিউজ//
বাঁচতে চান এমএম কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রী সোমা রায়
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী শিক্ষার্থী সোমা রায় (২৬)। মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য ৭-৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।
কিন্তু এত টাকা জোগাড় করতে পারছে না তার দরিদ্র পরিবার। সোমার বাবা শহরের একটি সুপার শপে সামান্য বেতনে চাকরি করেন। মা সবিতা রায় গৃহিণী। তিনিও অসুস্থ। আর একমাত্র ছোটভাই এবার এইচএসসি পাস করেছে।
সোমার সুচিকিৎসার জন্য এত টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। মানুষের সহযোগিতা পেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবনটা ফিরে পাবেন। সংসারের হাল ধরতে পারবেন।
জানা যায়, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার বাসিন্দা অশোক রায় ও সবিতা রায় দম্পতির একমাত্র মেয়ে সোমা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত হোম টিউটর, দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক এবং গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারের একজন সার্ভিস হোল্ডার হিসেবে সংসারের হাল ধরেছিলেন।
সোমার ইচ্ছা ছিল একজন আদর্শবাদী শিক্ষিকা হয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম। তিনি মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। সংগ্রামী সোমা রোগাক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবার, সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
তার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। যশোর ও খুলনায় চিকিৎসা শেষ করে বর্তমানে বাড়িতেই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত অপারেশন করালে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারতে নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।
অশোক রায় জানান, নিজেরা নিরক্ষর হলেও দুই ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করেছি। তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। সোমা পড়াশুনায় মেধাবী। সে সংসারের হাল ধরেছিল। হঠাৎ তার অসুস্থতা সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থতা নিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে।
গত মাসে হঠাৎ করেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মরণব্যাধি ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে।
কিন্তু আমার কাছে এত টাকা সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সোমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।
যোগাযোগ: ডাচ্ বাংলা ব্যাংক-নিজস্ব অ্যাকাউন্ট- সোমা রায় ১৬৩১৫১০১৯৫৯৮৪ (ব্র্যাঞ্চ-যশোর- কোড ১৬৩)।
//অনলাইন ডেস্ক//
আজ বিশ্ব বই দিবস: আমাদেরকে অবশ্যই বইমুখী —- সাঈফী আনোয়ারুল আজিম
আজ বিশ্ব বই দিবস। ২৩ এপ্রিল সারা বিশ্বব্যাপী বই দিবস পালন করা হয়। বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে দিবসটির প্রচলন হয় ১৯৯৫ সালে। বই পাঠের অন্যতম নিরিবিলি জায়গা হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারে বই পড়ার মজাটাই আলাদা।
যারা বইপাঠকে নিজের আত্মার সাথে মিশিয়ে নিতে পেরেছেন, তারাই উপলদ্ধি করতে পারবেন এটি আত্মার জন্য কত বড় খোরাক। বই মানুষকে সভ্য করে তোলে। বিনয়ী হতে শেখায় । জ্ঞানের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। হাজার বছর আগের ইতিহাসকে তুলে ধরে খুব সহজে পাঠকের কাছে। প্রতিটি বইয়ের পাতায় পাতায় লুকায়িত থাকে অর্জন করার অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার। বইপড়াকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নত দেশের নাগরিকরা তাঁদের শয়নকক্ষকে লাইব্রেরি বানিয়ে নিয়েছে। তাঁদের ঘরের একটি কোণায় ছোট্ট গ্রন্থাগার না থাকলে তারা নিজেদেরকে খুব অপমানবোধ করে। অর্থাৎ বইটি তাঁদের জীবনসঙ্গীর মত।
তারা বইকে নিজের বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে। জীবন সংগ্রামে সাফল্য অর্জেনর জন্য তারা বইকে বেচে নেন।।তাইতো আজ উন্নত এবং বহুগুণে সমৃদ্ধ। আমাদের দেশের চিত্র কিন্তু ভিন্ন। আমরা নিজের গৃহ কিংবা শয়নকক্ষকে লাইব্রেরিতে পরিণত করতে পারিনি। তেমন আগ্রহও নেই বইপাঠের প্রতি। দেশের অধিকাংশ গণপাঠাগার পাঠকশূন্য। বুকশেলফে সারিবদ্ধ বই, পাঠক নেই, পাঠকের জায়গা দখল করে নিয়েছে পোকা মাকড়। তারা সেখানে একপ্রকার স্থায়ী বসত গড়ে তুলেছে, এগুলো যেনো একেকটা আস্তুতগাড়।
এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য চরম দুঃখ সংবাদ। আমরা দিনদিন বইবিমুখ জাতিতে পরিণত হচ্ছি। জ্ঞানের গভীরতা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। প্রযুক্তির ছোঁয়া আমাদেরকে কর্মেক্ষেত্রে বহুদুর এগিয়ে নিলেও মনুষ্য হিসেবে আমরা বহুদুর পিছিয়ে। সভ্যতার আলো বিমুখ এবং বিনয়ী হতে না পারায় আজ শিক্ষিত অশিক্ষিতজনেরা এমন সব কর্মকান্ড ঘটাই, যা আমাদেরকে অমানুষের কাতারে নিয়ে যায়। অর্থাৎ আমরা আকৃতি এবং পোশাকে- মানুষ হলেও মন মানসিকতায় মনুষ্যত্ববোধ অর্জন করতে পারিনি।
আমরা দিনদিন পশুত্বে পরিণত হচ্ছি। আমরা সভ্যতার আলো থেকে বহুদুর পিছিয়ে গেছি। টাকা আর রাতারাতি সম্পদশালী হওয়ার লোভ আমাদের অন্তরে জেঁকে বসেছে। এই লোভ আমাদের প্রজম্মকে ধ্বংস থেকে ধ্বংসের গহীন সাগরে নিয়ে গেছে। সর্বনাশা মাদক আমাদের পুরো প্রজম্মকে গ্রাস করেছে। পাড়ায় পাড়ায় কিশোর গ্যাং আমাদের সামাজ ব্যবস্থাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমাদের অন্তরের পাশবিকতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাইতো, যখন যা ইচ্ছা, তা করতে কোন দ্বিধাবোধ নেই আমাদের ।
ভালো আর মন্দের উপলদ্ধির জ্ঞান আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে। এসব কিছু একটিমাত্র কারণ, আমরা জ্ঞানের আলো থেকে দূরে সরে পড়েছি। যে জ্ঞানের আলো আমার জীবনকে প্রদীপ্তময় করে তুলবে, সে জ্ঞানের পাঠশালা থেকে আমরা বহুদুরে ছিটকে পড়েছি। আমাদের অন্তরে অন্ধকার জমাট বেঁধেছে। আলোর শিখা বিচ্ছুরিত হয়ে গেছে। তাইতো আমরা যখন যা খুশি করতে পারি। কোন লজ্জাবোধ নেই। দ্বিধাবোধ নেই। নেই বড়দের প্রতি সম্মান এবং ছোটদের প্রতি সেন্থ। পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা কিছু ঘটনা দেখে শিউরে উঠি। নিজেকে প্রশ্ন করি মানুষ কি এমন জঘন্য কাজ করতে পারে? কিন্তু আমার জানা নেই যে, সে আকৃতিতে মানুষ হলেও তার মনুষ্যত্ব হারিয়ে গেছে বহু আগে।
কারণ মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টির জ্ঞান তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। যদি আমরা সভ্য হতে চাই, তাহলে আমাদেরকে জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করতে হবে। বইপাঠের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। সেখানে সভ্যতার ছোঁয়া খোজতে হবে। যেতে হবে বইয়ের ঘর গ্রন্থাগারে। সেটি আলোর শিখা। জ্ঞানের প্রজ্জ্বলিত বাতিঘর। হৃদয়কে আলোকিত করার বাতবঘর। সেখান থেকে সভ্য হওয়ার, বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা লাভ করা যায়। আজকের বিশ্ব বই দিবসে এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক, আমরা বইমুখী হব। নিজের ঘরকে বইয়ের ঘরে পরিণত করব। লাইব্রেরিতে অধ্যবসায় করতে যাব। অন্তরে জমাটবেঁধে থাকা অন্ধকারকে জ্ঞানের আলোর মাধ্যমে ছোঁড়ে ফেলে দেব। হৃদয়ে জাগ্রত করব মনুষ্যত্ববোধ। আমাদের লক্ষ্য হোক, বই পাঠের জন্য সবাইকে আগ্রহী করে তুলব। প্রতিটি শিশু এবং যুবককে বই পাঠের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেব। মনে রাখতে হবে সন্তানের ভবিষ্যতের সাফল্যের একক বৃহত্তম সূচক হল বই। আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে শিশুকাল থেকে বইমুখী করে গড়ে তুলতে পারি। শিশুকাল থেকে সন্তানকে বইমুখী করে গড়ে তুলতে পারলে তার জীবনের পরবর্তী সময়গুলো বইপাঠের মধ্যদিয়ে অতিবাহিত হবে। সে জ্ঞানের শিকড় খেকে শেখরে পৌঁছাতে পারবে। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, জীবনে তিনটি জিনিষের খুব প্রয়োজন, সেটি হলো, বই,বই এবং বই।
আসুন আমরা বইমুখী হই। গ্রন্থাগারমুখী হই। নিজের আত্মাকে বইয়ের সাথে মিশিয়ে নিই। সভ্য এবং বিনয়ী হওয়ার জন্য জ্ঞানমুখী হই। বইপাঠের মধ্যদিয়ে একটি নতুন আলোর স্বপ্ন বুনি।
—– সাঈফী আনোয়ারুল আজিম উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ও গণমাধ্যমকর্মী।
//আ: জব্বার//
