আমতলীতে দায়িত্নে অবহেলায় অধ্যক্ষ সহ শিক্ষক-কর্মচারীদের শো’কজ 

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বরগুনার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুচ আলীসহ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।১৭ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরগুনার আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১৭ মে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষার্থীদের ‘কৃষি শিক্ষা’ বিষয়ের প্রশ্নপত্রের স্থলে হল কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বিষয়ের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেছেন মর্মে একটি অভিযোগ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়। আপনাদের এহেন কর্মকাণ্ড বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এর ১৮.১ (গ) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

এমতাবস্থায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে তার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও সাময়িক স্থগিত/স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না মর্মে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরে মহা-পরিচালক বরাবর জবাব দিতে হবে।’ এ নোটিশের খবর আমতলী পৌছলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা।

জানা গেছে,আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণে পরীক্ষা দিতপ না পেরে ৫৫ পরীক্ষার্থী কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়। পরীক্ষার্থী তানহা,হাবিুল্লাহ, আয়শা, ও আবিদা বলেন,চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে না পারায় আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল হয়নি। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জাকির হোসাইন বলেন, নোটিশের জবাবের আলোকে বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাঙ্গলকোটে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে স্কুলে তালা

//নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//

কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও একাধিক এসএসসি পরিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন না করার অভিযোগে  উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউপির চাটিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে স্কুলে তালা দিয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা তালা বন্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, চাটিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুল হক বিভিন্ন অনিয়ম করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং এসএসসি পরিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তাদের মূল সার্টিফিকেট ও কাগজপত্র নিয়েও প্রায় ৮ জন শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে না দেওয়া, এবং নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে ক্লাস ছুটি, দীর্ঘ নয় মাস প্রতিষ্ঠানে ক্লাস না করে বেতন তোলারসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ এনে সোমবার সকাল ১০ টা থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রায় ৩ ঘন্টা প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকে অবরুদ্ধ করে স্কুলের মূল পটকে তালা দিয়ে রাখে।

পরে সাংবাদিক ও স্হানীয়েদর সহযোগিতায় স্কুলের তালা খোলে সকল শিক্ষককে অবমুক্ত করা হয়।

এই বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ক্লাস বর্জন করেছি, আমাদের সমস্যা সমাধান না হলে আমরা উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করবো।

অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল হক নিজের অবহেলার দোষ শিকার করে বলেন, সমস্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে এবং পরিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন করে দেওয়া হবে।

স্কুল সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে আমি জানি না এবং জানতেও চাই না, আপনারা ব্যাবস্থা নেন।

ডুমুরিয়ায় ব্র‍্যাকের আয়োজনে স্কুল শিক্ষার্থীদের তরুন‍্যের জ্ঞান মেলা, কুইজ বির্তক ও চিত্রাংঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় ব্র‍্যাকের আয়োজনে রাইট হিয়ার রাইট নাউ –  ২ অধিকার এখানে এখনই প্রকল্পের ইযুথ গ্রুপের সার্বিক সহযোগিতায় ১১ সেপ্টেম্বর  সোমবার  সকালে সাহস নোয়াকাঠী মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ে তরুনদের জ্ঞান মেলার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ব্র‍্যকের জেলা সমন্বয়কারী শিপ্রা রানী বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব‍্য দেন সহকারী কমিশনার ভূমি আশিষ মোমতাজ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামছুজ্জামান, সহকারী মাধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার ধননজয় মন্ডল, ব্র‍্যাক অধিকার এখানে এখনই প্রকল্পের এরিয়া কো-অডিনেটর মো: জিল্লুর রহমান, প্রাধান শিক্ষক পরিতোষ মন্ডল, স্কুল ম‍্যানেজিং কমিটির সদস‍্য মোল্ল‍্যা মোহাববত হোসেন, অধিকার এখানে এখনই প্রকল্পের ডিওএম শিখা রানী, ইযুথ গ্রুপের মো: ফয়সাল হোসেন,  এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল মতিন,সহকারী শিক্ষক আ: মান্নান,বিপুল জোর্দ্দার, পবিত্র কুমার বাছাড়,ইযুথ গ্রুপের রাব্বি, বিপুল, সোনিয়া, ইমরান, দিপ্তী রানী প্রমুখ। আলোচনা শেষে কুইজ,  বির্তক ও চিত্রাংঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরন করা হয়।

উন্নত দেশ গঠনে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: সালাম মূশের্দী এমপি

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনা-৪আসনের সংসদ সদস‍্য আব্দুস সালাম মূশের্দী বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ সরকার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে ব্যাপক কাজ করেছে।

সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

এই সরকার দেশের সব স্কুল-কলেজের পাশাপাশি আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতেও একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উন্নত দেশ গঠনে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, একটি জাতিকে সুস্থভাবে গড়তে শিশুদের শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি, অবকাঠামো নির্মাণ, স্কুল জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্তিসহ অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ রেখেছে।

দেশে এখন কোনও কিছুর অভাব নেই। জনগণের প্রয়োজনে সব করা হচ্ছে। দেশ এখন উন্নয়নের আলোয় আলোকিত। আর এসব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার জন্যই।

আজ ১০সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় রূপসা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে  এক  মতবিনিময় সভায়  প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান এর সভাপতিত্বে  ও  শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন  জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ  ফ ম আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, ওসি তদন্ত মো:সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদস‍্য আ: মজিদ ফকির,  উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু,  সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব, ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ,ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ হালদার সহাকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা, ইউআরসি ইন্সটাকটর  মো: নসিবুর রহমান, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, আ:সাত্তার খান  শ্যামল কুমার দাস,  মাসুদ আলম,সালাউদ্দীন আহমেদ, মোতাহার হোসেন, আবুল কাশেম, নিশিত রঞ্জন মহলী, মারুফ মোড়ল  শাবানা খানম, তারিকুল ইসলাম শহিদুল ইসলাম, সাগরিকা সাহা, সুলতানা জাহান, পারভীন সুলতানা, নাসরিন নাহার লিপি,রোমেছা সুলতানাসহ অনেকেই  উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার ৬৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন এবং

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সভাপতিদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করেন প্রধান অতিথি।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১২টায় সামন্তসেনা দারুসুন্নাত ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী  সম্প্রসারণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি আব্দুস সালাম মূশের্দী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন

থানা অফিসার ইনচার্জ মো:শাহিন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ  ফ ম আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশল  মো: আশরাফুল হক,  আ:মজিদ ফকির ,  সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, ইমদাদুল ইসলাম, মাদ্রাসা সুপার মো:শফিউদ্দীন নেছারী, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো:ইলিয়াজ শেখসহ শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

Daily World News

৩৫০ সিসি মোটরসাইকেল এখন আপনিও চালাতে পারবেন

ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিত’র উদ্যোগে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়ণরত শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

খুলনার ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিত’র উদ্যোগে উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়ণরত শিক্ষার্থীদের মাসিক উপবৃত্তি প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ লক্ষে ১৪ আগস্ট  সোমবার সকালে চুকনগরস্হ দলিত হাসপাতাল মিলনায়তনে দলিত’র নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যদেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস, এম কামরুজ্জামান। তিনি যুবদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া ও সুন্দর ক্যারিয়ার গঠনের পরামর্শ প্রদান করেন।

এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলিত’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস ধরা দেবী দাস, দলিত আয়ুর্বেদিক ল্যাব এর ম্যানেজার প্রভাষ কুমার দাস, স্পন্সরশীপ অফিসার বিপ্লব মন্ডল, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নেপাল চন্দ্র দাস ও বিপ্লব দাস নীরব।

স্পন্সরশীপ অফিসার  অঞ্জনা দাসের সঞ্চালনায় ওই সেমিনারে দলিত’র বিভিন্ন কর্ম এলাকার ১৩০জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

 

অপরাধ প্রবণতা রোধে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা

//আ: রাজ্জাক শেখ,খুলনা ব‍্যুরো//

শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে রোধ, সাইবার ক্রাইমসহ সামাজিক নানা বিষয়ে সচেতনতা বিষয়ক সভা রূপসার দুটি স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার(১৪ আগষ্ট) সকালে রূপসার নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও শ্রীফলতলা ইউনিয়নের কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট স্কুল হলরুমে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক কথা বলেন থানার ওসি তদন্ত মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গিবাদ, মাদক, সাইবার ক্রাইম, ইভটিজিং এবং বাল্য বিবাহ নিয়ে সচেতন করতে রূপসা থানা পুলিশের টিম বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শিক্ষার্থীদের সাথে লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ রোধে ভূমিকা রাখা, মাদককে না বলা, সাইবার ক্রাইম বিষয়ে সচেতনতা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চারসহ সামাজিক নানা বিষয়ে সচেতন করতে বক্তব্য রাখেন।
এসময় ইন্টারনেট-ফেসবুক ব্যবহারে সচেতন হতে সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা দেন ওসি সিরাজুল ইসলাম।

সচেতনতা বিষয়ে আলাপকালে ওসি মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে সচেতন করতে এবং তাদের দিক-নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে এভাবে সভা করছি। এতে করে শিক্ষার্থীরা সচেতন হচ্ছে। তারা ব‍্যক্তিগত ভাবে, পরিবার ও আশেপাশের লোকজনদেরও সচেতন করতে পারবে। যাতে করে অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা করি।’

এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, থানা পুলিশের সদস্য ও ছাত্র ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

আজ থেকে ৪৩দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব কোচিং সেন্টার

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৭ আগস্ট। চলতি বছরের এ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে প্রায় দেড় মাস দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (১৪ আগস্ট) থেকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

গত ৮ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, সব শিক্ষা বোর্ড, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা পর্যায়ে সব প্রশাসনিক পদে দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ কোচিং খোলা রাখলে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানাসহ সিলগালা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। গত বছর (২০২২ সাল) পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ জন।

বন্যার কারণে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে। যে চার বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে নতুন সময়সূচিও প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি গত ৮ জুন প্রকাশ করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আবুল বাশারের সই করা সূচিতে জানানো হয়, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

প্রথমে বহু নির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করায় মৌকারা পীর তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

//স্টাফ রিপোর্টার //

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা মাদ্রাসা পীর মাও. নেছার উদ্দিন একি কাজ দেখিয়ে তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। অথচ টাকা নিয়ে কোন কাজ করেননি এ পীর। এ নিয়ে গত সংখ্যায় সবুজপত্র পত্রিকায় ও সবুজপত্র অনলাইন টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর মাও. নেছার উদ্দিন তড়িঘড়ি করে উপজেলা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় উপস্থিত প্রতিজন সাংবাদিককে দুই হাজার টাকা দিয়ে তার মাদ্রাসার জন্য আরো টাকা ছান মানুষের কাছে। যা শাক দিয়ে মাছ ডাকার মতন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌকারা মাদ্রাসায় মাও. নেছার উদ্দিন পীরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। যার কারণে ছারছিনা দরবার শরীফ সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। এক সময় সারাদেশে প্রথম স্থানে থাকা মাদ্রাসাটি পড়াশোনা মান কমে গিয়ে পিচিয়ে পড়েন। যা বর্তমানে ৯ম কিংবা ১০ম রয়েছে। বাধ্যতামূলক লিল্লাহ বোডিংয়ে ৪৫০ জন ছাত্রদের প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন ভাতা নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশ করেন। ভয়ে কোন ছাত্র মুখ খুলছে না। নিরবে কেঁদে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকরাও থাকেন ভয়ে।

পীর মানে আমরা জানি আল্লা ওয়ালা ব্যাক্তি। যার কোন দুনিয়াবি লোভ লালসা থাকবে না। টাকার পিছনে ছুটবেন না। টাকাই তার পিছনে ছুটবে। মৌকারা মাদ্রাসার পীর মাও. নেছার উদ্দিনের বিষয়ে উল্টো। গত (৪ আগস্ট) শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যে ভাবে মানুষের কাছে টাকা চাচ্ছেন। মনে হয় তিনি একজন টাকা ওয়ালা পীর। টাকা ছাড়া কিছু বুঝেন না তিনি। তার নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের কারণে বর্তমানে মাদ্রাসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

শিক্ষকরা আন্দোলনে কেন, শিক্ষানীতি কোথায়?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের (সরকারীকরণ) দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে ১১ জুলাই থেকে এই কর্মসূচি চলছে।

গত দুই সপ্তায় যারাই প্রেসক্লাবের সামনে গিয়েছেন, তারা দেখেছেন ক্লাসরুমের শিক্ষকরা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর হওয়ার কথা জানালেও সাড়া দেননি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, এবার জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত, কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে আন্দোলনরতদের ফেরাতে ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিদিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা গেছে। বাতিল করা হয়েছে গ্রীস্মকালীন ছুটিও। কিন্তু তবু শিক্ষকদের টলানো যায়নি।

আন্দোলনের ১৬তম দিনে ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উদ্দেশে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করে আপনি যেভাবে উসকে দিচ্ছেন, দয়া করে আর কোনো অস্তিত্বে আঘাত না দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। না হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে যাবো না।’

তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। ১৯ জুলাই তিনি আন্দোলনরত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে (জাতীয়করণ) আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তবে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা আছে কি নেই, সেটাসহ শিক্ষা, শিক্ষকদের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান্নোয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করবে। আরেকটি কমিটি আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। গবেষণাভিত্তিক এই দুই কমিটির প্রতিবেদনের পর এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ১৫ দিন অনশন করেছিলেন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকেরা। ওই সময়ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েক দফা দাবিতে শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নামে। কিন্তু কেন বারবার এই জাতীয়করণের আন্দোলন?

প্রায় দুই বছর করোনার অতিমারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখা-পড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষকেরা ক্লাসরুমের বদলে কেন রাজপথে? জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো প্রতিশ্রুতি পেতেই কী এই চাপ? আর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজশিক্ষক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও কেন সুযোগ সুবিধার জন্য এখানে আন্দোলন করতে হয়?

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার ২২। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪টি। বাকিগুলো বেসরকারি। মোট শিক্ষক আছেন পৌনে তিন লাখের মতো। বেসরকারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই এমপিওভুক্ত। এর মানে হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনের মূল অংশসহ কিছু ভাতা পান। তবে সার্বিকভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা খুবই কম।

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পড়ান। কিন্তু তাঁদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা এক নয়। এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকার থেকে মূল বেতন পুরোটাই পান। কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল ফারাক।

সরকারি শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা পান মাত্র এক হাজার টাকা। সরকারি শিক্ষকেরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের সমান। বেসরকারি শিক্ষকেরা পান মাত্র ২৫ শতাংশ। চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। তাদের কোন পেনশন নেই, বদলি নেই।

এ তো গেল শুধু মাধ্যমিকের কথা। মাধ্যমিকের প্রায় ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নয় হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত যেখানে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক আছেন। কলেজ আছে অন্তত চার হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৪০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষক একই ধরনের বৈষম্য নিয়ে আছেন। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, সরকার এমপিওভুক্তি বাবদ এখন বছরে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দেয়। জাতীয়করণ করলে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু এর বিপরীতে শিক্ষার্থীর ফি থেকে শুরু করে নানাভাবে যে আয় আসবে তাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

এটি সত্যি, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বরাদ্দ যেমন কম, তেমনি কম শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও। এসব কারণেই এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবীরা এখন শিকক্ষতা পেশায় আসেন না, বিশেষ করে বেসরকারিতে। তবে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটাও যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। বিশেষ করে এমপিওভুক্তির নামে অনিয়মের উদাহরণ তো ভুরি ভুরি। এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কথাগুলো মনে করা যেতে পারে।

২০১৮ সালের ২৭ জুলাই তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ”আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্যে এমপিওভুক্তি চরমভাবে দায়ী। এমপিওভুক্তি যতটা না উপকার করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে অপকার। গণহারে স্কুল তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়নি। কতটুকু মান অর্জন করলে সরকার বেতন ভাতা দেবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দরকার ছিল। সেটি না করায় এর কুফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।”

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সময় এসেছে এমপিওভুক্তি কতোটা অবদান রেখেছে তা নিয়ে গবেষণা জরুরী। বেতন ও সুযোগ সুবিধা কমন সেটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মান কেমন? কতোগুলো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, লাইব্রেরি, বা গবেষণাগার আছে?

একই প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যন্ত জন্য। শিক্ষার মান নিয়ে তো প্রশ্নের শেষ নেই। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কারিগরী শিক্ষা বা দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ার বদলে শুধুমাত্র জিপিএ-৫ নির্ভর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগুজে সনদ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কতোটা জরুরী? এমপিওভুক্তি, সারাদেশের কলেজগুলোতে গণহারে অনার্স চালুর পর এখন আবার জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা কতোটা সঠিক তা নিয়ে গবেষণা জরুরী।

মুক্তিযুদ্ধের পর কথা ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা হবে একমুখী,সর্বজনিন ও অবৈতনিক। ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও তা উল্লেখ ছিল। অথচ দেশে নানামুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আর মাধ্যমিক স্তর হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এ জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষানীতির এসব আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ১৩ বছর হতে চলল। এগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে যে আইন করার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। বরং জোড়াতালি দিয়ে সব চলছে।

প্রশ্ন হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, কারা শিক্ষক হবেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কী হবে, কোন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি আগাবে সেসব নির্ধারণ জরুরী। সবাইকে বিশ্ববিদ্যাালয়ে পড়তে হবে, সবাইকে সনদ নিতে হবে, এই ধারণা থেকে এখন বেরিয়ে আসা জরুরী। এখন সনদ নয় বরং দক্ষতাই জরুরী। কারিগরি, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশ আগাতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশ লাখ লাখ ছেলেমেয়ে সনদ নিয়ে বের হচ্ছে যারা একটা চাকুরির জন্য হাহাকার করছে।

গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বছর দুয়েক আগের এক জরিপে উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বেকার। ফলে চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থান কম থাকায় শিক্ষিতদের বড় একটি অংশ হতাশায় ভুগছেন। অনেকে আবার আত্মহননের মতো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন।

তথ্য বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো, আর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অধিভুক্ত কলেজ আছে ২ হাজার ১৫৪টি। এগুলোর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। সম্মান পড়ানো হয় এ রকম সরকারি-বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ৫৫৭।

শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশে প্রতিনিয়ত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। ১০ বছর আগেও বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির বাজারে যুক্ত হতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে চার-পাঁচ লাখে উন্নীত হয়েছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী শহর ও শোভন কাজ করতে চান। কিন্তু শহরে যত চাকরিপ্রার্থী প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে, সেই পরিমাণ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। দেশে প্রতিবছর শ্রমশক্তিতে যোগ হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। কাজেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সত্যিকারভাবে ভাবতে হবে। শুধুমাত্র সনদধারী গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা শিক্ষায় যতটা উন্নত, তার চেয়ে বেশি উন্নত যুগোপযোগী শিক্ষায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়। সুইজারল্যাণ্ড, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অধিকাংশ মানুষ আমাদের মতো মূল ধারার বদলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ। অথচ বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বাড়াতে গেলে সমাজে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যে সামাজিক ট্যাবু আছে সেটি ভাঙতেই হবে।

জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হয় এরপর কারিগরী শিক্ষার দিকে একটা বড় অংশ চলে যেতে পারে। এখানেও দক্ষ শিক্ষক জরুরী। দক্ষ শিক্ষক থাকলে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম তৈরি হবে যারা দেশে ও বিদেশে সব জায়গাতেই নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন।

এখানে প্রবাসী কর্মীদের বিষয়টি চলে আসে। বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি লোক প্রবাসে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই অদক্ষ। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করে বাংলদেশিরা। অন্যদিকে তুলনামূলক দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। ভারতের মতো বাংলাদেশও যদি দক্ষ লোক পাঠাতে পারতো তাহলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আসতে পারে যেটি এখন ২০ থেকে ২২ বিলয়নে আটকে আছে।

আবার দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি দক্ষ উদ্যোক্তাও তৈরি করতে হবে যাতে একজন উদ্যোক্তা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্যও যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। আসলে সত্যিকারের শিক্ষক বা প্রশিক্ষক না থাকলে উন্নত জাতি গড়ে তোলা কঠিন। আর দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক পেতে হলে ভালো বেতন-ভাতা দিতে হবে যেন সবাই শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এখানে যদি নানা ধরনের বৈষম্য থাকে আর সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা ক্লাসরুমের বদলে রাজপথে থাকবেন যেটি দেশ জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

শিক্ষাকে বলা হয় একটা জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড ভালো না হলে দেশের অগ্রগতি কঠিন। কাজেই একটা দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরী বা উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, কতো ধরনের শিক্ষা একসঙ্গে চলবে নাকি একমুখী শিক্ষা হবে, কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হবে, তাদের বেতন কাঠামো কেমন হবে এগুলো ঠিক করা জরুরী।

অবার গণহারে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমপিওভুক্তি কিংবা জাতীয়করণে কী লাভ হয়, কলেজে কলেজে অনার্স আর জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা জরুরী নাকি কারিগরী শিক্ষা, গণহারে জিপিএ-৫ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাগুজে সনদ কোনটা জরুরী সেগুলো ভাবতে হবে। সার্বিকভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার একটা টেকসই কাঠামো না দাঁড়ালে এমন সংকট চলতেই থাকবে। সবমিলিয়ে সরকারের এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে শিক্ষকদের কয়েক বছর পর আবার রাজপথে নামতে না হয়। আবার মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষকেরও কথাও ভাবতে হবে। এই দুটোই যে পরষ্পরের পরিপূরক!

শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে যে গবেষণার কথা বলেছেন তাতে নিশ্চয়ই বিষয়গুলো উঠে আসবে। তবে এই মুহুর্তে সবার আগে জরুরি শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরানো। আর সেই দায়িত্ব তো সরকারকেই নিতে হবে! সূত্র: ডিডাব্লিউ

Daily World News

১১ বছর/ মামলার ১০০তম ধার্য তারিখ আজ: সাগর-রুনী হত্যা

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিত-এর উদ্যোগে গতকাল রবিবার চুকনগর দলিত হাসপাতাল মিলনায়তনে  এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দলিত শিক্ষার্থীদের  এক সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার  অনুষ্ঠিত হয় ।

দলিত এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস ধরা দেবী দাস-এর সভাপতিত্বে  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলিত-এর, নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস,  আরো উপস্থিত ছিলেন দলিত এর স্পন্সরশীপ অফিসার অঞ্জনা দাস, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নেপাল চন্দ্র দাশ, বিপ্লব দাস, চিন্তা দাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন স্পন্সরশীপ অফিসার বিপ্লব মন্ডল। অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেন।

এসএসসি পরবর্তীতে তারা কোথায় কি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দলিত এর বিভিন্ন কর্মএলাকার মধ্যে ২জন এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ক্রেষ্ট ও উপহার সহ মোট ১৩৫ জন ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।