খুলনায় কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

 

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে খুলনা জেলায় দুইশত ৯৭ জন কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে অনলাইলে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে আছেন। করোনা মোকাবেলার সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সেক্টরে প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে ৩৮ লাখ মানুষকে আর্থিক সহায়তায় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সিটি মেয়র করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

 

অনুষ্ঠানে মেয়র প্রত্যেক কর্মহীন শিল্পী, কলা-কুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

 

খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর টিএম জাকির হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ। অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদিকুর রহমান খান।

//আ: রাজ্জাক, খুলনা ব্যুরো//

বরিশালে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে  ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ও জরিমানা

 

 বরিশালে ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। রাস্তায় বেড়েছে রিক্সাসহ ব্যক্তিগত যানবাহন। বেড়েছে মানুষ চলাচল। খুলেছে অনেক দোকানপাট। নগরীর ৩টি প্রবেশদ্বারে সকালের দিকে বহিরাগত প্রবেশে কড়াকাড়ি করে পুলিশ। তবে বিকেলে ঢিলেঢালা হয়ে যায় সব কিছু।

অপরদিকে লকডাউন ও স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৩ জন ব্যক্তির নিকট থেকে ৪ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

প্রথম দফায় ৭ দিনের কঠোর লকডাউনের মেয়াদ আরও ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। সে হিসেবে বুধবার টানা অষ্টম দিনে বরিশালে লকডাউন চলছে ঢিলেঢালাভাবে। আগের ৭ দিনের চেয়ে রাস্তায় বেড়েছে রিক্সা ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ও মুদী দোকান ছাড়াও অনেক দোকান খুলেছে। রাস্তায় বেড়েছে মানুষ চলাচল। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাউকে দেখলেই দোকানের শাটার আটকে দিচ্ছেন দোকানীরা।

 

লকডাউন বাস্তবায়নে সকালের দিকে পুলিশ নগরীর ৩টি প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট স্থাপন করে বহিরাগতদের ফিরিয়ে দেয়। অপ্রয়োজনীয় যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করে তারা। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুলিশের তৎপরতা কমে যায়। রাস্তায় বেড়ে যায় মানুষ এবং যানবাহন।

 

এদিকে লকডাউন ও স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে বুধবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন এবং নিশাত ফারাবীর নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্য বিধি এবং লকডাউন উপেক্ষা করায় ১৩ জন ব্যক্তিকে ৪ হাজার ৯শ টাকা জরিমানা আদায় করেন। জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেন

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

মহামারী করোনার কারণে ঋণের কিস্তি দিতে না পারলেও খেলাপি নয়

করোনা সংক্রমণের কারণে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেসব উদ্যোক্তা সমস্যায় পড়েছেন তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাড়তি তিন মাস সময় পাবেন। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা কিস্তি দিতে না পারলেও খেলাপি হবেন না। পাশাপাশি দণ্ড সুদ ও অতিরিক্ত ফি, চার্জ বা কমিশনও আদায় করা যাবে না।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘ঋণ, লিজ, অগ্রিম শ্রেণিকরণ’ বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মহামা‌রি করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রেণিকরণ বিষয় ইতোপূর্বে শিথিলতা আনা হয়েছিল।

কোভিডে উদ্ভূত কোনো কারণে যেসব গ্রাহক ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়বেন তাদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের মার্চ মাসের ঋণের কিস্তি জুন মাস পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহক। এ সময় ঋণ বিরূপমানের শ্রেণিকরণ (খেলাপি) করা যাবে না। একইসঙ্গে দণ্ড সুদ ও অতিরিক্তি ফি, চার্জ বা কমিশনও আদায় করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো যা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।

অনলাইন ডেস্ক।।

যশোরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। এই বিপর্যয় কাটানোর জন্য আজ আবারও লকডাউনের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

করোনার ঢেউয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ঢাকায় সবসময় বেশি হলেও সেই সংখ্যা বিভাগ ও জেলায় ক্রমানয়ে গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০ এপ্রিল-২০২১ রোজ মঙ্গলবার যশোর জেলার সকল উপজেলার জনগণের নমুনা বিভিন্ন ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করা হয়।নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় মোট আরটি. পিসিআর নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৪০৭ জনের। তাদের মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ৯৫ জনের এবং নেগেটিভ এসেছে ৩১২ জনের। আক্রান্তের হার ২৩.৩৪%। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে ৩৬২ নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে ৯২ জনের। আক্রান্তের হার ২৫.৪১%।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় কোন করোনা পজেটিভ পাওয়া যাইনি। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এন্টিজেন টেষ্ট করা হয় ২৬ জনের।

আক্রান্ত হয়েছে ০৩ জন।আক্রান্তের হার ১১.৫৩%। করোনায় আক্রান্তের হার যে হারে বৃদ্ধি হচ্ছে তাতে করোনার বিরুদ্ধে প্রত্যেকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজে সচেতন হওয়া ও আশেপাশের সকল সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা,মাস্ক ব্যবহারে উদ্ধুদ্ধ করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

‘কঠোর লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে

 

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউনের’ সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

গতকাল রোববার রাতে কমিটির এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সুপারিশ করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা।

সারাদেশে করোনার উচ্চ সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ জানিয়ে চলমান এক সপ্তাহের লকডাউন শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

এছাড়া ধীরে ধীরে লকডাউন শেষ করার পূর্ব পরিকল্পনা তৈরির রাখার পরামর্শও দিয়েছে কমিটি।

সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন চলছে। ২১ এপ্রিল তা শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই কমিটি এই পরামর্শ দিল।

এদিকে লকডাউন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে সভা হওয়ার কথা। সেখানে পরিস্থিতি বিবেচনা করে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে কি না সেটা ঠিক হওয়ার কথা ।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে থেকে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ তীব্র হয়।

সংক্রমণ ঠেকাতে ৫ এপ্রিল থেকে প্রথম দফায় সাত দিনের ‘লকডাউন’ শুরু হয়। তবে তার ধারাবাহিকতা চলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত।

এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফয় কঠোর লকডাউন দেয় সরকার, যা চলবে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি কমপক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউন সুপারিশ করেছিল। সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের লক ডাউন ঘোষণা করায় কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপিতে বলা হয়, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে দুই সপ্তাহের কম লকডাউনে কার্যকর ফলাফল আশা করা যায় না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার বিষয়টি কমিটি উপলব্ধি করে। তবে, বেসরকারি দপ্তর, ব্যাংক খোলা রাখা, ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল, ইফতার বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভিড় লকডাউনের সাফল্যকে অনিশ্চিত করে।

লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যসেবা, ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য জরুরী সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। খোলা রাখা যাবে এমন জরুরি সেবার তালিকা প্রকাশ করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

‘অন্যথায় বিরূপ পরিস্থিতির আশংকা রয়েছে। চলমান লকডাউনে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচলে বাধা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটনা ঘটেছে।’

কাঁচা বাজার আবারও উন্মুক্ত স্থানে বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় কমিটি।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

 

জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও আইন বর্হিভূত যান চলাচলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন

 

করোনার বৈশ্বিক মহামারী নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেকে স্বস্ব অবস্থান থেকে দেশ ও দেশের আপামর জনগণকে ভাল রাখার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে। করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এই আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যে কিছু মানুষের অসহযোগিতার জন্য বারে বারে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।

“করোনা মহামারীর সংক্রমণ এড়াতে, ঘরের বাইরে না যাওয়া অতি প্রয়োজন”- এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ ১৮ এপ্রিল -২০২১ রোজ রবিবার সকাল থেকে ০৫ম দিনের মতো লকডাউন বাস্তবায়নের কাজ করছে জেলা প্রশাসন যশোর ও যশোর জেলা পুলিশ। যশোর জেলার বিভিন্ন বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং প্রয়োজন ব্যাতীত বাইরে বের হলে আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ও ব্যস্ততম স্থান দড়াটানা মোড়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও আইন বর্হিভূত যান চলাচল ঠেকাতে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ সময় জনগণকে ঘুর মুখী করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা,অনুমতি বিহীন যানবাহন আটকসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

আসুন আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে করোনার সুনামি থেকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারির বাইরে না যাই। নিজ নিজ পরিবার, সমাজ থেকে আরো বেশী সচেতন হই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি,অতিপ্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বের হই।আর যদি নিতান্তই ঘর থেকে বের হতে হয় তাহলে মাস্ক ব্যবহার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে বের হই।

একমাত্র সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব এধরণের মহামারী থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা।

 //নিজস্ব প্রতিনিধি//

কোমরে অক্সিজেন বেঁধে ক‌রোনা আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে এক ছেলের ছুটে চলা

 

মহামারী করোনাভাইরাসের এই সময়ে অনেককেই একা একা স্বজন ছাড়া দিন কাটাতে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই আছেন তারা দিনের পর দিন স্বজনের দেখা পান না। এই কঠিন সময়ে মা-ছেলের একটি ছবি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, ছেলে শরীরের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে রে‌খে‌ছেন। মোটরসাইকেলের পেছ‌নে ক‌রোনায় আক্রান্ত মা ব‌সে আছেন। সেই  স্কুল শিক্ষিকা মা‌কে লকডাউ‌নের সময় মোটরসাইকেলে ক‌রে শ‌নিবার (১৭ এপ্রিল) বি‌কে‌লে শের ই বাংলা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে‌ছেন তার ছে‌লে।

লকডাউ‌নে মা-ছে‌লের এমন বিরল দৃশ্য শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ গেট সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে স্থা‌নীয়রা ধারণ ক‌রে‌ছেন। এমন‌কি সেখানে চেকপোস্টে উপস্থিত থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল‌টি হাসপাতা‌লে পৌঁছা‌নোর জন্য সাহায্য ক‌রে‌ছে।

ক‌রোনায় আক্রান্ত ওই রোগী হ‌চ্ছেন, রেহেনা পারভীন (৫০)।  তি‌নি ঝালকাঠীর নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী। রে‌হেনা‌কে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক হ‌চ্ছেন তারই ছে‌লে জিয়াউল হাসান টিটু।

জিয়াউল হাসান টিটু জানান, গত বুধবার তার মার করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে লকডাউনের মধ্যেই মায়ের জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেলে টিটু নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে হাসপাতে নিয়ে আসেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল বলেন, লকডাউনে বের হওয়ার কারণ জানতে চেকপোস্টে যথা নিয়মে তাদের থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি এলে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক তার শরীরের সঙ্গে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। আর পেছনে তাকে ধরে যে নারী বসে আছেন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক।

সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন। এভা‌বেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

//নিজস্ব সংবাদদাতা//

চালু হচ্ছে “ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল”

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ঢেউ বাংলাদেশে টর্ণেডোর মতো বিধ্বংসীরূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের যে বিভৎস্যরূপ তাতে দেশের জনগণ যতটা না শঙ্কিত তার থেকে অধিক শঙ্কিত সরকার ও স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত কর্মকর্তাসহ ডাক্তার ও নার্সরা।

একদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে সাধারণ হাসপাতালের বেড, পর্যাপ্ত অক্সিজেন অক্সিজেনের সরবরাহের সীমাবদ্ধতার সাথে জড়িত হয়েছে আইসিইউ-এর প্রকট সংকট।

আর এই সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে ১৮ এপ্রিল -২০২১ রোজ রবিবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ করোনা হাসপাতাল। ১০০০ বেডের এই হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছে “ ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল। ”

এখানে ১০০ শয্যার আইসিইউ এবং ১১২ টি এইচডিইউ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা রয়েছে।এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক,৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফ এবং ওষধ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

হাসপাতালটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

চট্টগ্রাম গত ২৪ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু-৭, নতুন সনাক্ত-৩০২

 

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫২ জনে। এ সময়ে ৩০২ জনের দেহে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত- চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৪৬ হাজার ৬৮২ জন। গতকাল ১৭ এপ্রিল (শনিবার) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ৫ টি ল্যাবে ১ হাজার ২৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎ মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ৭৬ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৫০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ( চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ৯৩ জন, চট্টগ্রাম ভেটেনারী অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৩০ জনের, বেসরকারী ইম্পেরিয়াল ল্যাবে ৪৯ জন, মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ১২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্- হয়েছেন ৩০২ জন। উক্ত সময়ে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুরবণ কারী সকলে মানগরীর বাসিন্দা। এ পর্যন্- চট্টগ্রামে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৫২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২২৬ জন নগরীর এবং ৭৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত দাবি করে ১০ টি বৈজ্ঞানিক কারণ প্রকাশ করেন গবেষকরা

 

কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাস বায়ুবাহিত নয় বলে এত দিন দাবি করে আসা হয়েছে। কিন্তু সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলো আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ ল্যানসেট’-এ।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডার ছয় গবেষক যুক্ত আছেন এই গবেষণায়। নিজেদের দাবির পেছনে অন্তত ১০টি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের বক্তব্য, জীবাণুটি বায়ুবাহিত হওয়ার পক্ষেই প্রমাণ বেশি।

এই ছয় বিজ্ঞানীর দেখানো দশটি বৈজ্ঞানিক কারণ হলো:

১) সুপার-স্প্রেডার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ, কোন পরিসরে ঘটেছে, ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, এসব খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট শ্বাসপ্রশ্বাসে নির্গত জলকণা বা ড্রপলেটসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো অসম্ভব।

২) পাশের ঘরে ছিলেন, সংক্রমিতের মুখোমুখি হননি, তাও করোনা আক্রান্ত হন।

৩) আক্রান্তদের ৩৩ থেকে ৫৯% উপসর্গহীন। সে ক্ষেত্রে কীভাবে ছড়াচ্ছে?

৪) বাইরের তুলনায় ঘরের ভেতরে বেশি সংক্রমণ ঘটছে।

৫) হাসপাতালের কর্মীরা পিপিই পরেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

৬) কোভিড আক্রান্তের ঘরের বাতাসে ভাইরাস মিলেছে।

৭) কোভিড হাসপাতালের এয়ার ফিল্টারে ভাইরাস পাওয়া গেছে।

৮) খাঁচা-বন্দি প্রাণীরা সংক্রমিত হয়েছে এয়ার ডাক্ট থেকে।

৯) কোনো গবেষণায় এ পর্যন্ত ভাইরাসটি বায়ুবাহিত না হওয়ার পক্ষে প্রমাণ নেই।

১০) ড্রপলেটসে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ বিশেষ নেই।