চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু রেকর্ড – ১১, নতুন সনাক্ত ১৭১

মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামে এক দিনে এত সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নি। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা দাড়ালো ৪৯৭ জনে। এ সময়ে ১৭১ জনের দেহে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত- চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৪৮ হাজার ৮৮৭ জন। তৎমধ্যে মহানগরে ৩৯ হাজার ২৪১ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৯ হাজার ৬৪৬ জন।
আজ ( রবিবার) সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ৬ টি ল্যাবে ১ হাজার ৩৩০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৭১ জনের দেহে করোনার সংক্রমণের সনাক্ত হয়েছে। তৎমধ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৩১৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ( চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ৪৬৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তা ছাড়া বেসরকারী ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১৫৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৪ জন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৩১২ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে।  চট্টগ্রাম সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১৪ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। অন্য দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব (চবি), কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম ভেটেনারী অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাব, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো  নমুনা পরীক্ষা করা হয় নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্- হয়েছেন ১৭১ জন। উক্ত সময়ে ১১ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুরবণকারীদের মধ্যে ৮ জন মহানগরীর ৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ১৪১, উপজেলায় ৩০ জন। এ পর্যন্- চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত- রোগিদের মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৯৭  জনের। তৎমধ্যে ৩৭০ জন মহানগরীর এবং ১২৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৩০ জন ব্যক্তি নতুন করে করোনায় আক্রান্ত- হয়েছেন। তৎমধ্যে সাতকানিয়ায় ৩ জন, আনোয়ারায় ১ জন, চন্দনাইশে ৬ জন, পটিয়ায় ১ জন, বোয়ালখালীতে ১ জন, রাউজানে ৬ জন, ফটিকছড়িতে ২ জন, হাটহাজারীতে ১ জন, সীতাকুন্ডে ৫ জন এবং মিরসরাই উপজেলায় ৪ জন।

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো :

আরও পড়ুন…

সেচ্ছাসেবী সংগঠন“ বৃহন্নলা”- তৃতীয় লিঙ্গরা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে

 

গত ০৮ মার্চ-২০২০ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে করোনা রোগী সনাক্ত হয়।প্রথম করোনা রোগী সনাক্তের পর দেশের সকল জনগণের ভিতর যে ভয়ভীতি পরিলক্ষিত হয় সময়ের সাথে সাথে তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।গতবছর দেখেছি নিজের সন্তান করোনা আক্রান্ত মাকে জঙ্গলে ফেলে গিয়েছে, স্ত্রী তার করোনা আক্রান্ত স্বামীকে ফেলে ছেলেমেয়ে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছে ।

আবার যদি কেউ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে তাহলে পরিবারের কেউ লাশ পর্যন্ত নিতে আসেনি।এমনি কি দাফন করার জন্য পুলিশ ও কতিপয় কিছু মানবিক গুণ সম্পন্ন করোনা যুদ্ধা ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তখন মনে হয়েছিল হয়তো মনুষ্যত্ববোধ মনে হয় চলেই গিয়েছে।কিন্তু না এবছর মানবিকতার কিছু অন্যন্য নজিরও চোখে পড়েছে যেমন- বরিশালে ছেলে নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে করোনা আক্রান্ত মাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে নিয়ে বাড়ি ফিরছে এবং দাফন নিয়ে যে ভয়ভীতি ছিল তাও দূর হয়েছে। করোনার সম্মূখ সারীর যুদ্ধা হিসাবে ডাক্তার, নার্স,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী,বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ,রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কিছু বেসরকারি সংস্থা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল।

কিন্তু এবছর রোগীর সেবা করতে সাধারণ মানুষেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।তেমনি আমরা সমাজের মানুষ যাদের অনেকটাই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখি,মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দিতেও দ্বিধা করি সেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং তাদের গঠিত সংগঠন “ বৃহন্নলা” ও স্বমহিমায় এগিয়ে এসেছে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে।

এই সংগঠনের তিন-চার সদস্য কাজ করছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের করোনা ইউনিটের সামনে। করোনা রোগী নিয়ে কোন অ্যাম্বুলেন্স থামতেই কমলা রঙের জ্যাকেট পরা ৩/৪ জন মানুষপ্লেকার্ড নিয়ে ছুটে আসে এবং ধরাধরি করে করোনা রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামায়।কেউ হাতে তুলে নেয় রোগীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।আবার কেউবা রোগীকে স্ট্রেচারে বসিয়ে নিয়ে যায় হাসপাতালে। এরা সবাই আমাদের কাছের মানুষ,আমাদেরই সমগোত্রীয় কিন্তু জেন্ডার গত সমস্যার জন্য আমাদের কাছে,আমাদের সমাজের কাছে অবহেলিত, নিষ্পেষিত।সামাজিক সুবিধা বঞ্চিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ,যাদের আমরা কটাক্ষ করে বলি হিজড়া।

এরা সকলে এদের গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “ বৃহন্নলা”- এর স্বেচ্ছাসেবক। করোনার সম্মূখসারির যুদ্ধা হয়ে কাজ করা মানুষ মুনমুন, রুহী ও চাঁদনী এবং তাদের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাদিকুল ইসলাম। করোনা আক্রান্ত রোগীকে যেখানে আত্মীয় স্বজনরা বয়কট করছে।আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া মানুষটির নিকটে আসছে না সেখানে “ বৃহন্নলা” – এর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো পরম মমতায়,আদরে ও যত্নে কাছে থেকে সেবাযত্ন করছে, সাহস যোগাচ্ছে এর থেকে আর বড় প্রাপ্তি একজন করোনার রোগীর জন্য কি হতে পারে? আর তাই তো মনে হয়- ” তোমরা কে বল আমায় অভিশাপ দিয়েছো আমি না হয় বৃহন্নলা হয়ে অজ্ঞাত বাসে কাটিয়ে দেব সারাটা জীবন। ” – একথা বলার দিন হয়তো শেষ হয়ে এসেছে ।

সময় এসেছে পারিবারিক,সমাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তনের। সময় এসেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বৃহন্নলাদের মৌলিক অধিকার সমূহ বাস্তবায়নের। আর সমাজের এই পিছিয়ে পড়া অংশকে যদি মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা না যায় তাহলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অনেকাংশে বিঘ্নিত হবে।সুযোগ ও সহযোগীতা পেলে এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোও আমাদের সমাজের জন্য, দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে তার অনেকগুলো দৃষ্টান্ত ইতিমধ্যেই তারা স্থাপন করেছেন।

// স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক //

বিশুদ্ধ পানির জন্য যোগাযোগ করুন…

আরও পড়ুন…

এর থেকে করোনার ভয়াবহ চিত্র আর কি হতে পারে…!!! মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের লাশ

 

ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার চিত্র সামনে এলো এক ছবিতে। মায়ের পায়ের কাছে পড়ে আছে করোনায় মারা যাওয়া সন্তানের লাশ। ভারতের উত্তর প্রদেশের বারনাসী শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে ছবিটি তোলা হয়।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্লান্ত-বিধ্বস্ত মা চন্দ্রকলা সিং একটি ইলেকট্রিক অটোরিকশায় বসে আছেন। আর তার পায়ের নিচে পড়ে আছে ২৯ বছরের ছেলে বিনিত সিংয়ের লাশ। গত সোমবার সকালে চন্দ্রকলা সিং তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিনিতের করোনা হয়েছে জানিয়ে তাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

মা চন্দ্রকলা সিং বলেন, ওরা বললো এর করোনা হয়েছে। তাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমার সন্তান, আমার বাছা শ্বাস নিতে পারছিল না। আমরা অক্সিজেন আর অ্যাম্বুলেন্স চাইলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। পরপর দু’টি হাসাপাতালেও গিয়ে কাজ হয়নি।

 

ঘটনার দিন অটোরিকশায় করে প্রথমে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বিনিতকে। সেখান থেকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতারালে নিয়ে গেলে তারাও ফিরিয়ে দেয়। পরে তৃতীয় হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যায় বিনিত।

অনলাইন ডেস্ক।।

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি: গবেষকের দাবী

 

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি এক ভারতীয় গবেষক দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিদ্ধার্থ বর্মা সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু পাবলিক টয়লেট নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ৩ ঘণ্টা ধরে প্রায় ১০০ বার বোতাম টিপে পানি ঢালার সময়ে টয়লেটগুলোর বাতাস তারা পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, ফ্লাশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জীবাণুরা প্রায় ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠে সেখানে ২০ সেকেন্ড ধরে ভেসে থাকতে পেরেছে।

এই তথ্য থেকে অনেকের দাবি, ভারতের মতো দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এই ধরনের পাবলিক টয়লেটগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

‘ফিজিক্স অব ফ্লুইড’ নামক জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে সিদ্ধার্থ দাবি করেছেন, সাধারণ টয়লেটের মতোই যে সব টয়লেটে শুধুমাত্র পুরুষদের পেশাবের জায়গা থাকে, সেগুলোর বাতাসেও ৩ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট মাপের জলকণা ভেসে বেড়ায়।

এগুলো আকারে এতটাই ছোট, যে এরা সহজেই বহুক্ষণ ভেসে থাকতে পারে। এর ফলে ইবোলা থেকে করোনাভাইরাস- সব ধরনের জীবাণুরই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়।

//অনলাইন ডেস্ক//

Corona Virus News..

খুলনায় করোনায় কর্মহীনদের মাঝে সিটি মেয়রের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শনিবার দুপুরে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, করোনায় নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করা যাবে না

। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানো সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে মহামারী মোকাবেলায় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তার সবই সফল হয়েছে। এবারেও মহামারীতে সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছেন। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে দরজি, ইজিবাইক চালক, দুস্থ নারী, বাস চালক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচশত জন কর্মহীনের মাঝে চাল, ডাল, আলু ও সবজি বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে খুলনা জেলা প্রশাসন মানবিক সহায়তা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। লকডাউন চলাকালে খুলনা মহানগর এবং উপজেলাসমূহে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 //আ:রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

আরও পড়ুন…

করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন ভাইরাল হওয়া মা-ছেলে

 

করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সেই সহকারি শিক্ষিকা রেহানা পারভীন।

শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তার ব্যাংকার ছেলেই তাকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনে থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা করে।

গত ১৭ এপ্রিল এম্বুলেন্স এবং কোনো যানবাহন না পেয়ে অক্সিজেন নিজ শরীরের সাথে বেঁধে করোনা আক্রান্ত মা রেহানা পারভীনের মুখে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে মোটরসাইকেলে করে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পৌছে।

পথে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলে সেটি ভাইরাল হয়। ঝালকাঠি কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট থেকে তার মাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন।

এখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ।

তাদের বাড়ি নলছিটি পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সূর্যপাশা গ্রামে।

১৭ এপ্রিল তার মা রেহানা পরভীনের অক্সিজেন সেচুরেশন ৭০ অবস্থায় নিজ শরীরে ৮ লিটার মাত্রার চলমান ২০ কেজি ওজনের অক্সিজেন সিলিন্ডার বেধে যে বাইকে করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ মায়ের ফুসফুসে অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৬ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন একই বাইকে।

// পলাশ চন্দ্র দাস: বরিশাল//

গাজীপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১৪ টি মামলায় ৯ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা আদায়

 

করোনার বৈশ্বিক মহামারী নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ ২২ এপ্রিল – রোজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জয়দেবপুর বাজার, আক্কাস মার্কেট,জয়বাংলা রোড,বোর্ড বাজার ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রোড এলাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

সরকারি নির্দেশনা মেনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ব্যতিত অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখা এবং করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর প্রচারণা চালানো হয়। এসময় অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ব্যতীত অন্য দোকান খোলা রাখা,মাস্ক না পরা, হেলমেট ও লাইসেন্স বিহীন যানবাহন চালানোর কারণে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ,নিয়ন্ত্রণ ও নির্মুল আইন ও সড়ক পরিবহন আইনে ০৭ টি মামলায় ৫৫০০/- ( পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা এবং চান্দনা চৌরাস্তা, নলজানি ও বাসন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে জনসমাগম করা ও মাস্ক না পরার জন্য আরও ০৭ মামলায় ৪০০০/- ( চার হাজার) টাকাসহ সর্বোসাকুল্যে ৯৫০০/-( নয় হাজার পাঁচশত) টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও পদ্মা সাটেল আরব ফ্যাশন লিঃ ও ব্যাং জিন বাংলাদেশ লিঃ নামক দুটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন। ফাক্টরি দুটি যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজ চলছে।

করোনাকালীন সময়ে তাদের অধিকতর সাবধনতা অবলম্বন ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন।

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল গির্জা মহল্লার ব্যবসায়ীকের মৃত্যু

 

করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লার এলাকার এক ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। মেসার্স সুলতান ইলেকট্রনিক্স নামক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক সুলতান বিশ্বাস বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

তিনি স্ত্রী ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুলতান বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির মানপাশা হলেও তিনি বরিশাল শহরের বিউটি রোডে ভাড়া থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। এই ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন গির্জা মহল্লা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন সিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিপ্লব।

ব্যবসায়ীর ছোট ভাই ইয়াকুব আলী জানান, লকডাউনের একদিন আগে অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল সুলতান বিশ্বাস জ্বরে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে স্বজনেরা শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। এবং সেখানে পরীক্ষায় তার করোনা পজিটিভ আসে।

এরপর থেকে তাকে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ব্যবসায়ীর অপর এক স্বজন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সুলতান বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে তাকে আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরে একটি আইসিইউ পাওয়া যায়নি। পরে বেলা আড়াইটার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীর লাশ গ্রামের বাড়ি মানপাশায় দাফন দেওয়া হবে। এদিকে সুলতান বিশ্বাসের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গির্জা মহল্লার ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে।’

// পলাশ চন্দ্র দাস::বরিশাল প্রতিনিধি //

গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ৩, নতুন সনাক্ত ২৭৮

করোনা ভাইরাসে আক্রান্- হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৮৫ জনে। এ সময়ে ২৭৮ জনের দেহে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দঁাড়ালো ৪৮ হাজার ১৩৯ জন। আজ (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবসহ চট্টগ্রামের ৮ টি ল্যাবে ১ হাজার ৭৬৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তৎ মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৪৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩২ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৫৯৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬২ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ( চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ২৭১ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্’িতি পাওয়া গেছে।

তা ছাড়া চট্টগ্রাম ভেটেনারী অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২৬৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১ জনের, বেসরকারী ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১৩৯ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪১ জন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যারেটরিতে ২৫৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৫৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়েছেন ২৭৮ জন। উক্ত সময়ে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুরবণ কারী সকলে মাহাগরীর বাসিন্দা।

// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //