খুলনায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব, শিক্ষক গ্রেফতার.

//রূপসা, প্রতিনিধি//

খুলনার রূপসা উপজেলার ৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের  ডোবা গ্রামের বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব এবং বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তিশ্বর বিশ্বাস বিদ্যালয়ের নবম দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের সাথে বিভিন্ন সময় অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন।

সর্বশেষ তিনি ঋতু বৈরাগী এবং সমাপ্তি বৈরাগী নামে ২ স্কুল ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ই আগস্ট ২০২২ এর বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত উক্ত প্রধান শিক্ষক সহ সকল শিক্ষককে আবদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

খুলনায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব, শিক্ষক গ্রেফতার.

আজ বেলা ১২টার দিকে রূপসা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে।

নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নন্দিনী শীল ,  সুজয় বৈরাগী ,  রুপম মহন্ত অভিযোগ করে বলে উক্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছাত্রীদের সাথে প্রাইভেট পড়ানো কালীন সময়ে অসৌজন্য মূলক আচরণ করতেন।

সর্বশেষ তিনি সমাপ্তি বৈরাগী নামে দশম নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বডি রিলেশন এর প্রস্তাব দে।

এর প্রেক্ষিতে আজ সকল ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে মানববন্ধন এবং সমাবেশ করে ।

পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে বিদ্যালয়ের চেয়ার , টেবিল ,ব্যবহারিক জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

এ সময় প্রধান শিক্ষককে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মারধর করার চেষ্টা করে ।

অবশেষে প্রধান শিক্ষককে থানা পুলিশ আটক করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ব্যাপারে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তিস্বর বিশ্বাস জানান ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিলো।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে নাজেহাল করছে।

তবে এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া তাছনিম তিনি বলেন প্রধান শিক্ষককে আমরা আইনের আওতায় এনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকে স্কুলের সামনে শত শত অভিভাবকরা এসে ভিড় করে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ তুলে ধরে।

বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরা উক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেনে।

ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা , উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া তাছনিম,রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন ,৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান বিদ্যালয়  পরিদর্শন করেন।

Daily World News

টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার প্রতিবাদে আমতলীতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতার ছবিতে জুতা, ঝাড়ু নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ মিছিল

গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে ঢাকায় খুন হলো আমতলীর মেয়ে, গৃহকর্তী আটক

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে টেপুরা গ্রামের রেখা বেগম (২০) নামে এক কিশোরী ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রেখার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন গৃকর্তী রেখাকে পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

এঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ রেশমা নামে ওই গৃহকর্তীকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে ৪ আগস্ট বনানী থানার ২৩/এ সড়কের ৮৬ নং বাড়ীর নবম তলায়।

আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের টেপুরা গ্রামের নিহত গৃহকর্মী রেখা বেগমের (২০) খালা পারভীন বেগম জানান, নিহত রেখার বাবা দুধা গাজী ২০ বছর পূর্বে এবং তার মা রাজিয়া বেগম ১৮ বছর পূর্বে মারা যান।

মা বাবা হীন এতিম রেখাকে আমি লালন পালন করি। অভাবের তারনায় রেখাকে নিয়ে ২০১০ সালে আমরা ঢাকায় চলে যাই। আমার স্বামী রাজ মিস্ত্রীর কাজ করে। যে বছর আমরা ঢাকা যাই তার কয়েকদিন পর ১০ বছর বয়সে রেখা ঢাকার বিমান বন্দর এলাকা থেকে হারিয়ে যায়। এর পর রেখাকে আমরা আর খুজে পাইনি।

২ বছর আগে রেখা গ্রামের বাড়ি ফিরে আসে। তখন সে জানায় বনানী থানার ৮৬ নম্বও বাড়ীর ২৩/এ সড়কের রেশমা বেগম নামে এক গৃহকর্তীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেয় সে। ওই গৃহকর্তী তালাক প্রাপ্তা ছিল।

তার বাবার নাম মোকছেদ আলী। গৃহকর্তী ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রেখাকে বেতনের কোন টাকা পয়সা না দেওয়ায় ২০১৯ সালে সে পালিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসে।

ওই গৃহকর্তী তখন ফোনের মাধ্যমে রেখাকে তার বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তার বকেয়া সকল টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রেখা তার গৃহকর্তীর কথা বিশ্বাস করে সে আবার তার বাসায় ফিরে যায়।

ওই বাসায় ফিরে যাওয়ার পর রেখার সাথে বাড়ির লোকজনের ফোনের সকল যোগোযোগ বন্ধ করে দেয় গৃহকর্তী রেশমা বেগম। রেখাকে কখনো বাসার বাইরে কিংবা অন্য কারো সাথে মিশতে দিত না গৃহকর্তী রেশমা বেগম।

রেখার স্বজনরা কেউ ওই গৃহকর্তীর বাসা চিনত না। রেখা পালিয়ে বাড়ি আসার পর শুধু ফোনে যোগাযোগ করেছে। রেখাকে নিয়ে যাওয়ার পর রেখার সকল স্বজনদের ফোন নম্বর ব্লাক লিস্টে ফেলে রাখায় তারা আর কেউ ওই গৃহকর্তীর সাথে যোযোগ করতে পারেনি বলে অভযোগ খালা পাভীনের।

পারভীন আরো অভিযোগ কওে বলেন, সম্প্রতি রেখা তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়ায় গৃহকর্তী রেখাকে নির্যাতন করে। এ নির্য়াতনেই তার মৃত্যু হয়।

বনানী থানার এসআই গুলশান আরা জানান, গত ৪ আগস্ট গৃহকর্তী রেশমা বেগম থানায় ফোন করে জানান তার বাসার গৃহকর্মী অত্মহত্যা করেছে। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আমরা তার বাসার বাথরুম থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তখন গৃহকর্তী রেশমাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসি।

লাশ আনার পর রেখার কোন স্বজন না থাকায় ময়না তদন্ত করে বেওয়ারিশ হিসেবে মেডিকেলের হিম ঘরে রাখি। গৃহকর্তী রেশমাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে রেখার ঠিকানা প্রদান করায় আমতলী থানার মাধ্যমে সোমবার সকালে তার স্বজনদের খবর দেই। মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে স্বজনরা রেখার মরদেহ নিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই গুলশান আরা জানান, লাশের শরীরের অনেক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

রেখার চাচা মজিবুর রহমান গাজী অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে রেখা রেশমা বেগমের বাসায় কাজ করে। এ পর্যন্ত কোন টাকা পয়সা দেয় নাই।

তার পাওনা টাকার না দেওয়া একবার সে বাড়ি চলে এসেছিল। ফিরে যাওয়ার পর তাকে ব্যাপক নির্যাতন করেছে। ধারনা করা হচ্ছে পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্য তাকে ওই গৃহকর্তী মেরে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরো বলেন, রেখার শরীরে বটির কোপসহ মারধরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এঘটনার বিচার চাই।

বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, গৃহকর্মী রেখাকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষ দিয়ে আমতলীতে মেরে ফেলা হয়েছে লাখ টাকার মাছ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে পুর্ব শত্রুতার জেরে এক মৎস্য চাষীর পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ লাখ টাকার নিধন করেছে প্রতিপক্ষরা।

জানা গেছে,উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের এক মৎস্য চাষির পুকুরে বিষ দিয়ে লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে প্রতিপক্ষরা।

শনিবার (৬ আগষ্ট) সকালে প্রতিদিনের মতো পুকুরে মাছের খাবার দিতে গেলে মাছগুলো ভেসে উঠতে দেখেন চাষি মোশারেফ হাওলাদার।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষি মোশারেফ হাওলাদার ও শামীম মৃধা জানান,বাড়ির পাশের পুকুরে তারা মাছ চাষ করে আসছেন।পুকুরে বিভিন্ন জাতের পনের থেকে বিষ মণ মাছের পোনা ছেড়েছেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে মাছগুলো বিক্রির উপযোগী হওয়ার কথা। এরই মধ্যে শনিবার সকালে পুকুরে মাছের খাবার দিতে গেলে দেখেন পুকুরে পোনা মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে।দুপুরের পুকুরের বাকি মাছ গুলোও মরে ভেসে উঠে। এতে তার প্রায় অনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মোশারেফ হাওলাদার অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশী মৃত্যু কাঞ্চন খানের পুত্র শাহিন মাস্টার গংদের সাথে তার বিরোধ চলছিল। আমার সন্দেহ শাহিন মাস্টার ও তার লোকজন আমার পুকুরে বিষ দিয়ে মাছগুলো মেরে ফেলেছে। মোশারেফ হাওলাদার আরও বলেন, শাহীন মাস্টার গংরা এর আগেও আমাদের দুই লক্ষ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে।

এবিষয়ে আমি আমতলীর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শাহীন মাষ্টার,হানিফ খান ও মোঃ নুরুল ইসলামসহ আরও ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা করেছি,বর্তমানে মামলাটি আমতলী থানা পুলিশের তদন্তাধীন আছে।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহীন মাস্টার বলেন, আমরা এই কাজ করি নাই। আমাদের হয়রানী করার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ,কে,এম মিজানুর রহমান বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনার তালতলী রাখাইনদেরকে বন্যশুকর দিয়ে হয়রানি

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে বিভিন্ন পাড়ার রাখাইনরা তাদের গৃহপালিত পশু শুকর সরবরাহ করার সময় বন্য শুকর দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে বনবিভাগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন বাংলাদেশ আধিবাসী ফোরামের বরগুনা ও পটুয়াখালী আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মি. মংথিনজো।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ১৩টি রাখাইন পাড়ায়ই তারা তাদের শুকর গৃহে পালন করে আসছে। সেই সুবাদে গত ২৬ জুলাই উপজেলার সওদাগর পাড়ার মি:থানতে মং এ ছেলে দীনমজুর মি:চানমং সে তার গৃহপালিত শুকরটির ৩৮ কেজি মাংস কুয়াকাটার এক আত্মীয়ের আয়োজনে তাদের বাড়ীতে সরবরাহের সময় কতিপয় অর্থলোভী বাংঙ্গালী মুসলমানদের সহযোগীতায় কলাপাড়ার নিজামপুর খেয়াঘাটে কোষ্টগার্ড সদস্যরা খামখেয়ালী ভাবে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে মহিপুর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। বনবিভাগ ওই মাংসকে বন্য শুকরের ৮০ কেজি মাংস এবং বন ও পরিবেশের আনুমানিক ১লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে বন্যপ্রাণি নিরাপত্তা ২০১২ আইনের ৩৪ এর (ক) ও (খ) ধারামতে আদালতে প্রেরন করেন। আদালত ওই মি: চানমংসেকে জেলহাজতে প্রেরন করেন। এ ছাড়াও চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারী উপজেলার তাঁতিপাড়া নিবাসী মৃতু মি:নোজাঅং এর পুত্র মি:নেওয়েনচো নিজের গৃহে পালিত শুকর কলাপাড়ার মহিপুরের মি:শুখরঞ্জন শীলের কাছে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। শুখরঞ্জন ওই শুকরটি নেয়ার সময় উপজেলার নিশানবাড়ীয়া খেয়াঘাটে টহলরত বন প্রহরীরা আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্রয় ও বিক্রেতা উভয়কে ২হাজার টাকা জরিমানা ও মুছলেকা রেখে শুকরসহ উভয়কে ছেড়ে দেন।
রাখাইন সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মি. মংচিন থান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ আমাদের হয়রানী করার জন্য একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছে। আমরা ওই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সরকারের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে সুবিচারের প্রত্যাশা করছি।

অভয়নগরে পাঁচটি গাঁজার গাছসহ মিরাজ মোল্লা আটক

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশায় অভিযান চালিয়ে  বসত বাড়ির পাশে কলা বাগান থেকে ৫টি গাঁজার গাছসহ মিরাজ মোল্লা (৪০) নামে এক ব‍্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। জানাগেছে, উপজেলার সোনাতলার মুন্সিপাড়া নামক স্থান থেকে ১আগষ্ট (সোমবার) দিবাগত রাত আনুমানিক ১’টার সময় ওই ব‍্যক্তিকে আটক করেছে অস্থায়ী ফাঁড়ির পুলিশ ।

আটককৃত আসামি সোনাতলার মৃত-মকছেদ মোল্লার ছেলে। সোনাতলার পুলিশ ফাঁড়ির  উপ- পরিদর্শক( এস আই) মোঃ নাসিম উদ্দিন জানান, আমিও এএস,আই নাসিম উদ্দিন সরদার সহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ১’টার দিকে ৫টি গাঁজার গাছসহ মিরাজ মোল্লা নামক এক ব‍্যক্তিকে আটক করি। এব‍্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে শামিম হসান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে সোনাতলা ক‍্যাম্পের পুলিশ পাঁচটি গাঁজার গাছসহ মিরাজ মোল্লা নামে এক মাদক বিক্রেতাকে অভয়নগর থানায় সোপর্দ করেছে। আটক মিরাজের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুমকিতে অধ্যক্ষ-কলেজ শিক্ষিকার কল রেকর্ড ফাঁস! ফেসবুকে ভাইরাল

//মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধি//

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া আজিজ আহম্মেদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও সহকর্মীর পরকিয়াসহ অনৈতিক কর্মকান্ডের ছেদ পরায় বাদানুবাদের ৯মিনিট ১৬সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় সর্বত্র সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। রবিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কলেজ অধ্যক্ষ অবশ্য কলরেকর্ডটি তার নয় বলে দাবি করেছেন।

কল রেকর্ডটিতে শোনা যায়, কলেজ অধ্যক্ষ আহসানুল হক তার অনৈতিক কর্মকান্ডের সহকর্মী একই কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষিকা শিলা রাণীর হালদারকে ক্ষিপ্তকন্ঠে বলছেন, আমার বাসায় গিয়ে আমার সাথে যা করছো সেগুলোকি ভিডিও করে সবাইরে দেখাইছো? আর এখন বাহিরে সব  বলে বেড়াচ্ছ। তোরে আমি অনেক সুযোগ দিছি- এছাড়াও তোকে আমি অনেক কিছু দিয়েছি তুই এখন আর আমার ফোন ধরোনা। এখন তোর অনেক মানুষ হইছে। তুই আর কখনো আমার সামনে আসবি না আসলে তোর খবর আছে। আর আমি চাইলে তুই এতদিন কলেজে থাকতে পারতি না, তবে তুই কেমনে কলেজে থাকো তাও আমি দেখে নিব।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ আহসানুল হকের বিরুদ্ধে কলেজটিতে সীমাহীন অনিয়ম-দূর্ণীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ জাল-জালিয়াতি ও নারী কেলেংকারীর অসংখ্যে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সহকর্মী শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেয়া, একান্তে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ানোর স্ক্যান্ডাল এখন সবার মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এসকল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের একাধিক প্রমান ও হাতে নাতে ধরা পড়লেও কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের নিকটাত্মীয়তার কারণে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তিনি (অধ্যক্ষ) ধামাচাপা দিয়ে বহাল তবিয়তে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো: জসিম উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ আহসানুল হক একজন দুশ্চরিত্রের লোক। তার নানা কুকীর্তিতে কলেজটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। সহকর্মী নারী শিক্ষিকাদের উত্যক্ত করা তার স্বভাবে পরিনত হয়েছে। ওনার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।

শিলা রাণী হালদারের স্বামী প্রণব ব্যাপারী কল রেকর্ডের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আহসানুল হকের দ্বারা আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্থ। তার কুপরামর্শে আমার সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে। অধ্যক্ষের অনৈতিক চাপ ও নানা প্রলোভনে শিলার দ্বারা আমার বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা দিয়ে দুরত্বের সৃষ্টি করেছে। আমি এখনও চাই অধ্যক্ষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক বাদ দিয়ে সে (শিলা) আমার সংসারে আসুক, আমি বিনা বাক্যে তাকে ঘরে তুলতে চাই।

অধ্যক্ষ আহসানুল হক কলরেকর্ডসহ আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি প্রযুক্তির সৃষ্টি, তার বিরোধী একটি চক্র সামাজিক ভাবে তাকে (অধ্যক্ষ) হেয় করতে বানানো অডিও রেকর্ডটি ছড়াচ্ছে। ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডের পরুষকন্ঠটি তার কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটি তার কন্ঠ নয়, কলেজের কিছু দুস্টচক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে এটি তৈরী করে ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল ইমরান বলেন,  কল রেকর্ডের বিষয়টি আমি শুনেছি, ওই কলেজের বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে আমরা তদন্ত রিপোর্টে বিষয়টি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে পাঠাব।

বরিশাল ডিএনসি অভিযানে ১২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল প্রতিনিধি //

বরিশাল নদী বন্দর এলাকা থেকে ১২ কেজি গাঁজাসহ গোলাম রাব্বি (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এ সময় মামুন হাওলাদার (৩৬) নামে এক ব্যক্তি পালিয়ে যান। শনিবার (৩০ জুলাই) সকালে তাকে আটক করা হয়। আটক রাব্বি বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের দিনার এলাকার বাসিন্দা। আর মামুন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোল্লারহা ইউনিয়নের বৈশাখিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক ইশতিহাক হোসেন বলেন, শনিবার সকাল পাঁচটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। নদী বন্দরের তিন নম্বর গেটের সামনে থেকে রাব্বিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তাসহ আটক করা হয়। পরে বস্তার ভেতর তল্লাশি করে পলিথিন ও স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ৬ টি পোটলা থেকে ১২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, এ সময় রাব্বির সঙ্গে থাকা মামুন হাওলাদার কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে আটক ও পলাতক ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে মামলায় রাব্বিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

বরিশালে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৭

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

বরিশালে মাদক বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকসহ ৭জনকে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। পৃথক এ অভিযানে ১৩শ পিচ ইয়াবা, ৬ কেজি গাঁজা এবং ২৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। বিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ জুলাই রাত ২: টায় কাউনিয়া থানাধীন বিসিসি ৭নং ওয়ার্ডস্থ ব্রাঞ্চরোডস্থ তৃতীয় পুকুর কসাই কালাম এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া রাসেল হাওলাদারের ভাড়াটিয়া বসত ঘরে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মোঃ রাসেল হাওলাদার (২৫)কে ৭৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। রাসেল হাওলাদার বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী এলাকার মোঃ কামাল হাওলাদারের ছেলে। রাসেলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

অপরদিকে বিএমপি বন্দর থানার অভিযানিক টিম-২ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ জুলাই রাত ১০:৫০ মিনিটে  ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডস্থ চরআইচা আনন্দ বাজারের আবু মোল্লার বি‌ল্ডিং এর সাম‌নে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোঃ রাহাত হাওলাদার (২২)কে এক কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। রাহাত ওই এলাকার মোঃ এনা‌য়েত হাওলাদ‌ারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ জুলাই দুপুর ২ টায় বন্দর থানাধীন ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ বাংলা‌লিংক টাওয়া‌রের সাম‌নে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোঃ সা‌ব্বির হাওলাদার (২১)কে ৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়। সাব্বির হাওলাদার ওই এলাকার মোঃ র‌ফিক হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৫ জুলাই সাড়ে ৬টায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন বিসিসি ২৩নং ওয়ার্ডের হাতেম আলী চৌমাথা সংলগ্ন মার্কাজ মসজিদের পশ্চিম পাশে নবগ্রাম রোডস্থ মোঃ বশির খাঁন এর চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোঃ আবুল হাসান ওরফে পলাশ হাসান (৪১)কে ২০ (বিশ) বোতল ফেনসিডিল সহ আটক করা হয়। মোঃ আবুল হাসান ওরফে পলাশ হাসান যশোরের মৃতঃ আমির হোসেনের ছেলে। সে নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের ফজলু কবিরাজ এর ভাড়াটিয়া। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১২টায় বন্দর থানাধীন ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডস্থ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোঃ আল-আমীন মল্লিক (৩৫)কে ৫০০ (পাঁচশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। মোঃ আল-আমীন মল্লিক নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের মোঃ কাঞ্চন মল্লিকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টায় কোতয়ালী মডেল থানাধীন বিসিসি ২৩নং ওয়ার্ডস্থ থানাকাউন্সিলের দক্ষিণ পাড় ইসলাম পাড়া মোঃ শহিদুল ইসলাম খানের ভাড়াটিয়া মোঃ সুজন হাওলাদার প্রকাশ অপু হাওলাদারের বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৫ (পাঁচ) কেজি গাঁজা ও ৫ (পাঁচ) বোতল ফেন্সিডিল সহ মোঃ সুজন হাওলাদার প্রকাশ অপু হাওলাদার (৩৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ কলি বেগম (৩০) আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Daily World News

মৎস্য সপ্তাহে আমতলীতে অবৈধ জাল উচ্ছেদ

গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে ৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার মদের চালান

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয় জব্দ করা মদের দুটি চালানে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চালান দুটি ধরা পড়ায় সেই তৎপরতা ভেস্তে

শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর টিপর্দিতে সালাউদ্দিন পার্কিং স্ট্যান্ড এর সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক ঢাকাগামী বিভিন্ন মালবাহী ট্রাক এবং কন্টেইনারসহ টেইলার তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহজনক দুইটি কন্টেইনার টেইলার তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের নির্ধারিত মূল্য ৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাটসহ যার মূল্য ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করা দুই কনটেইনার বিদেশি মদ জব্দ করার পর র‍্যাব জানাল যে এর পেছনে রয়েছে একটি পারিবারিক সিন্ডিকেট। বাবা ও দুই ছেলের ওই সিন্ডিকেট ভুয়া গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নামে দুবাই থেকে মদের এই বিশাল চালান দেশে আনার চেষ্টা করে।

টিভি, গাড়ির পার্টস ও গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মদের ব্যবসা করছিল একটি চক্র। চক্রটির মূল হোতা আজিজুল ইসলাম ও তার দুই ছেলে আহাদ ও আশিক। এ ঘটনায় দেশি ও বিদেশি মুদ্রাসহ আহাদ ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

রোববার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গাড়ির পার্টস ও গার্মেন্টস পণ্যের আড়ালে একটি চক্র অবৈধভাবে মদ আমদানি করে আসছিল। শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর টিপর্দিতে সালাউদ্দিন পার্কিং স্ট্যান্ড এর সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক ঢাকাগামী বিভিন্ন মালবাহী ট্রাক এবং কন্টেইনারসহ টেইলার তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে সন্দেহজনক দুইটি কন্টেইনার টেইলার তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩৬ হাজার ৮১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের নির্ধারিত মূল্য ৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাটসহ যার মূল্য ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

আল মঈন বলেন, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার ওয়ারীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রা আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা, ১৫ হাজার ৯৩৫ নেপালি রুপি, ২০ হাজার ১৪৫ ভারতীয় রুপি, ১১ হাজার ৪৪৩ চায়না ইওয়ান, ৪ হাজার ২৫৫ ইউরো, ৭ হাজার ৪৪০ থাই বাথ, ৯ সিংগাপুর ডলার এবং ১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা যাচাই করে দেখা যায়, তারা মূলত ঈশ্বরদী ও কুমিল্লার একটি ভুয়া গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের সুতা ও ববিনের ঘোষণা দিয়ে এসব মদ আমদানি করেছিল। মদ জব্দের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে নাজমুল মোল্লা ও সাইফুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে সিন্ডিকেটের হোতা আজিজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান আশিক ও আবদুল আহাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। আশিক ও আহাদ হলেন দুই ভাই এবং আজিজুল ইসলাম তাদের বাবা।

আবদুল আহাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির উল্লেখ খন্দকার আল মঈন জানান, এই পিতা-পুত্র সিন্ডিকেট মূলত বিদেশ থেকে ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি করে। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে তারা দুবাই থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিশাল মদের চালান ‌আনে এবং এগুলো আবার তাদের সিন্ডিকেটের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বন্দর থেকে খালাস করিয়ে নেয়।

এই মদের চালান মুন্সীগঞ্জে তাদের ওয়্যারহাউসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিভিন্ন স্বনামধন্য বারে সেগুলো সরবরাহ করার কথা ছিল।

আহাদ ধরা পড়লেও তার পিতা আজিজ ও বড় ভাই আশিককে গ্রেফতার করতে পারেনি র‍্যাব। তারা দুজন শনিবার ভোরে দুবাই চলে যান। আহাদও দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানায় র‍্যাব।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি নেওয়ার পর মদ বোঝাই দু’টি কনটেইনার নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে শনিবার জব্দ করা হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনার দুটির ক্ষেত্রে  আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) জালিয়াতি ও মিথ্যা ঘোষণার আশ্রয় নিয়ে ডেলিভারি নেওয়া হয়। উভয় কনটেইনারে ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে মদ রয়েছে, গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে ট্রেইলার দুটির অবস্থান শনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হন  কাস্টম, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা

Daily World News

ডুমুরিয়ায় ইউপি সদস‍্য এসোসিয়েশন কমিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ

মাগুরা মহম্মদপুরের চর-ঝামা গ্রামে কিশোর হাসিব হত্যাকাণ্ড

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা//

মাগুরার মহম্মদপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ ছাত্রদল নেতা মাসুদের লোকজন। নিহত হাসিব উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চর ঝামা গ্রামের মৃত শায়েখ মুন্সির ছেলে।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসিব ঝামা বরকতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়া লেখা করত। তিন বোন দুই ভাই মধ্যে হাসিব সবার ছোট ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে চর ঝামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে একই এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে সুমনের (১৫) মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনা সুমন বাড়িতে গিয়ে জানানোর পরে সুমনের সাথে ২০-৩০ জন লোকজন ডাল, সরকি, রামদা,সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে একা বসা থাকা হাসিব উপর হামলা করে সরকি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, সেখানে পৌছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান হাসিব আরও আগেই মারা গেছে । বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। থেমে থেমে কিছু সময় সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর করা হয় এসময় সাইফার (৬০), মনোয়ারা খাতুন (৪০) সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে । পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে সাইফার ও মনোয়ারাকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা।

এর আগে শুক্রবার মধুমতি নদীর পাড়ে তাস খেলা নিয়ে ওই গ্রামের লুৎফর মোল্যার ছেলে ইউসুফ ও আশরাফুল সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। অনেকের ধারনা ফুটবল খেলার আড়ালে প্রকৃতপক্ষে সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হাসিবকে হত্যা করা হয়েছে।

রাত ৯টার দিকে হাসিবের মৃত্যুর খবর শুনার পর থেকে মধুমতি নদীর পূর্ব পাড়ে দুর্গম চর ঝামা গ্রামে হাসিবের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।নিহতের মা মাজেদা খাতুন, ভাই, বোন ও প্রতিবেশীদের কান্নার আহাজারি চলছে। পিতৃহারা বাড়ির নিরিহ ছোট ছেলেকে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা সকলেরই অজানা।

নিহত হাসিবের বড় ভাই আমানত মুন্সী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, খেলা বা জমিজমা নিয়ে কিংবা ওই দুই পক্ষের কারও সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে তার নিরপরাধ ভাইকে কেন খুন করল ঘাতকরা? নিরপরাধ হাসিব হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে ন্যায়বিচারের দাবি করেন এলাকাবাসী সহ তার পরিবার।

হাসিবের নিহতের খবর পেয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন মাগুরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সলিমুল্লা ও শালিখা সার্কেল মো. হাফিজুর রহমান।

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, পূর্ব বিরোধ ও আজকের ফুটবল খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে হাসিবকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা যাচ্ছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে উক্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় দোষীদের আটকের চেষ্টা চলছে।