করোনা মহামারী পরিস্থিতি ধীরে ধীরে যখন উন্নতির দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই নতুন আরেকটি প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে দৌড়ের ওপর আছে আমেরিকা। নাম- হার্টল্যান্ড ভাইরাস।
আমেরিকার ছয়টি রাজ্যে এরিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন- সিডিসি এই ভাইরাসটি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ছড়িয়ে পড়া রাজ্যগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জর্জিয়ার ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, এই ভাইরাস করোনার মতোই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী। দ্রুত গতিতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
সংক্রমণ যে হারে ছড়াচ্ছে, মৃত্যুর হার তার তুলনায় কম। তবে বয়স্করা আক্রান্ত হলে তা বিপদজনক বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
জ্বর, মাথাব্যথা, পেট খারাপ, নাক থেকে জল ঝরে পড়া, ডায়ারিয়া, হাতে-পায়ে, গাঁটে গাঁটে ব্যথা, হার্টল্যান্ড ভাইরাসে আক্রান্তদের এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
প্রথম ২০০৯ সালে ভাইরাসটির খোঁজ পাওয়া যায়। পরে ২০২১ সালের মধ্যে জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, ক্যানসাস, কেনটাকিসহ ১১ রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে হার্টল্যান্ড ভাইরাস। সূত্রধ একাত্তর টিভি
রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে অন্তত ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় প্রায় তিন শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনে ভারি গোলাবর্ষণ চলেছে। শহরগুলোতে ছিল থমথমে পরিবেশ।
রাশিয়ার হামলায় প্রাণ হারানো এমন সামরিক ও বেসামরিক কর্মীকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। খবর মেট্রোর।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়ার পর ইউক্রেনের কয়েকটি শহরে বিভিন্ন দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, একেবারে নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার পাঁচটি বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে আরও একটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কয়েক পর্বে রাশিয়া হামলা করবে। হামলার সংখ্যা কেমন হবে এবং কত দিন ধরে চলবে আমরা তা জানি না। তবে আমরা ব্যাপক হামলার প্রাথমিক স্তর লক্ষ্য করছি। রাশিয়া কিয়েভ দখল করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দিয়ে আক্রমণ শুরু করা হয়। রাশিয়া ইউক্রেনে তিন অঞ্চল দিয়ে এই হামলা করে। এরমধ্যে একটি করা হয়েছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে অর্থাৎ ক্রিমিয়া থেকে খেরসনে। এছাড়া আরেকটি আক্রমণ করা হয়েছে উত্তর অঞ্চল থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইউক্রেনে তথা বেলারুশ থেকে কিয়েভে এবং তৃতীয় আক্রমণ করা হয়েছে উত্তরপশ্চিম এবং উত্তরপূর্ব ইউক্রেনে।
ইউক্রেনের বর্তমান সরকারকে হঠিয়ে রাশিয়া তাদের ইচ্ছা মতো চলবে এমন সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউক্রেন থেকে সব কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার বার্তাসংস্থা তাস ও ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
বুধবার থেকে কিয়েভে রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সরিয়ে নেয়া শুরু হলেও মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা জারি করে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইউক্রেনে রুশ কূটনীতিক মিশনের ওপর ‘একাধিক হামলা’র ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি এটাকে রাশিয়ার কূটনীতিকদের ওপর ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেন।
কিয়েভে রুশ দূতাবাস সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা তাস বুধবার জানিয়েছে, কূটনীতিকদের ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলো রাশিয়া। অপরদিকে ইউক্রেনও রাশিয়া থেকে তাদের সব নাগরিকদের সরে যেতে বলেছে।
সব মিলিয়ে ইউক্রেনে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমশও প্রকট হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, রাশিয়া যে কোন সময় ইউক্রেন দখল করে নেবে বলে তিনি মনে করেন। বেলারুশে রাশিয়ার সৈন্য মোতায়েন এবং মহড়া অব্যাহত রাখা তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তিনি বলেছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনের পাশে বেলারুশে তিরিশ হাজার সৈন্য মোতায়েন রাখার ব্যাপারে মস্কোর সিদ্ধান্ত এমন সঙ্কেত দেয়।
ইউক্রেন দখল করে নেবার ব্যাপারে রাশিয়ান সেনা কমান্ডারদের আদেশ দেয়া হয়েছে বলে অজ্ঞাতনামা এক মার্কিন গোয়েন্দার তরফ থেকে তথ্য পাওয়ার পর এমন বক্তব্য দিলেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন।
তবে ইউক্রেন বলছেন, আসন্ন হামলা সম্পর্কে এমন বক্তব্য ‘অসমীচীন’। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেক্সি রেজনিকভ বলেছেন, কাল অথবা পরশু’র মধ্যেই হামলা হবে এমন কোন লক্ষণ নেই কারণ রাশিয়া এখনো সীমান্তে কোন ‘স্ট্রাইক গ্রুপস’ বা হামলা দল তৈরি করেনি।
ইউক্রেন দখল করে নেয়ার চেষ্টা সম্পর্কিত এসব দাবি অস্বীকার করে আসছে প্রতিবেশী রাশিয়া। অভিযানের আশংকার মধ্যেই বেলারুশ বলেছে রুশ সৈন্যদের সাথে তাদের যে যৌথ সামরিক মহড়া চলছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ইউক্রেনে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
বেলারুশ বলছে পূর্ব ইউক্রেনের পরিস্থিতির অবনতি এ মহড়ার মেয়াদ বাড়ানোর একটি কারণ।
ইউক্রেনের পশ্চিমে ডনবাস অঞ্চলে দেশটির সরকারি বাহিনী এবং রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীদের মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও লড়াই অব্যাহত ছিল।
সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, “আমরা যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে যে বিষয়টি চরম গুরুতর। আমরা যেকোনো সময় হামলার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি।”
“ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান সরে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিটা মিনিট ব্যবহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে দেখবো অগ্রসর হওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ক্ষান্ত করা যায় কিনা।”
সিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে বলছে, আক্রমণের আদেশ পাওয়ার পর রুশ কমান্ডারেরা কিভাবে হামলা চালাবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইউক্রেনে হামলা শুরু হবে সাইবার আক্রমণ দিয়ে। তারপর স্থল বাহিনী রাজধানী কিয়েভ দখল করে নেয়ার আগে মিসাইল ও বিমান হামলা চালানো হবে।
অজ্ঞাতনামা মার্কিন গোয়েন্দা সিএনএনকে বলেছে, রাশিয়ান সেনাবাহিনীর অন্তত সত্তর শতাংশ এখন ইউক্রেন সীমান্তে অবস্থান করছে। হামলা করা যায় এমন দূরত্বে তারা অবস্থান করছে যা খুবই অস্বাভাবিক।
মার্কিন স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার স্যাটেলাইটে ধারণ করা নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। রাশিয়ান গ্যারিসন থেকে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে নতুন করে সেনা ও ভারি অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে তাতে দেখা যাচ্ছে। এতে করে হামলার জন্য রুশ বাহিনী কতটা প্রস্তুত তার ধারণা পাওয়া যায়, এমনটাই দাবি করছে ম্যাক্সার।
অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর মধ্যে আবারও ফোনে কথাবার্তা হয়েছে। তাদের মধ্যে পূর্ব ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মি. পুতিন ডনবাস এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন।
ফ্রান্স বলেছে, দুই নেতা পূর্ব ইউক্রেনে একটি যুদ্ধবিরতি করার জন্য একসাথে কাজ করতে রাজী হয়েছেন।
মি. পুতিন চলমান উত্তেজনার জন্য পাল্টা ইউক্রেনকে দোষারোপ করেছে। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সৈন্য বেলারুশ ছেড়ে যাবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর প্রতি প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রতিশ্রুতি আশাব্যঞ্জক। তবে “ইউক্রেন থেকে সেনা সরিয়ে রাশিয়াকে পিছু হঠার” ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেন-রাশিয়ার এই চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত সেই ২০১৪ সালে যখন ইউক্রেনে রুশ-পন্থী প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, রাশিয়া সৈন্য পাঠিয়ে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাইমিয়া দখল করে নেয়। একই সময়ে রাশিয়ার সাহায্যে জাতিগত রুশ বিদ্রোহীরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বড় একটি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
তখন থেকেই বিদ্রোহীদের সাথে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর থেকে থেকে লড়াই চলছে যাতে ১৪ হাজারেরও বেশি লোক মারা গেছে।
দু পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও একে অপরের প্রতি তা ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজ সেনা কমান্ডারদের ইউক্রেনে হামলার করার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন। এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা।
গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কিভাবে আক্রমণ করা হবে সে বিষয়ে কমান্ডাররা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, প্রথমে সাইবার আক্রমণ চালানো হবে। এরপর চালানো হবে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা। সর্বশেষ সীমান্তে অবস্থান নেওয়া সৈন্যরা যুদ্ধে জড়িয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালাবেন।
গণমাধ্যম সিএনএনকে নাম প্রকাশ না করে একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ার ৭৫ ভাগ সেনা এখন ইউক্রেন সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করা যাবে এমন দূরত্বে আছেন তারা। ইউক্রেনের দিকে এমনভাবে রাশিয়ার সেনাদের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি খুবই বিরল।
এদিকে ইউক্রেনকে কখনো ন্যাটোর সদস্য বানানো হবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে এ নিশ্চয়তা চেয়ে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু তারা এ দাবি মানবে না এমন ঘোষণা দেওয়ার পর ইউক্রেনে হামলা করার জন্য সেনাদের সীমান্তে জড়ো করেছেন পুতিন।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনকে তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে।
সম্ভব্য যুদ্ধে যেসব ইউক্রেনীয়দের ‘হত্যা করা হবে কিংবা ক্যাম্পে পাঠানো হবে’ তার তালিকা রাশিয়া ইতোমধ্যে করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘকে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি চিঠিও পাঠিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ওই চিঠির খবর এমন সময় সামনে এলো যখন ইউক্রেন সীমান্তের রুশ সেনা উপস্থিতি নিয়ে আসন্ন যুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ইউক্রেনে সম্ভাব্য ‘মানবাধিকার বিপর্যয়’ সম্পর্কেও বারবার সতর্ক করে আসছে ওয়াশিংটন।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন যুদ্ধে যেসব ইউক্রেনীয়দের হত্যা করা হবে বা ক্যাম্পে পাঠানো হবে রাশিয়ান বাহিনী তার তালিকা তৈরি করেছে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে সম্বোধন করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে যে রাশিয়ান বাহিনী সম্ভবত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে ছত্রভঙ্গ করতে কিংবা বেসামরিক জনগণের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনে চলমান সংকট নিরসনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছেন বলে স্থানীয় সময় গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বাইডেন-পুতিনের সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ২৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বৈঠক শেষেই দুই দেশের শীর্ষ ব্যক্তিদ্বয় সাক্ষাৎ করবেন।
এলিসি প্রাসাদ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রোববার ফোনে বাইডেন-পুতিন দুজনের সঙ্গেই কথা বলে ওই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আলোচনায় বসবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই আলোচনায় সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করবেন।
তবে এই আলোচনায় পক্ষ আসলে কারা সেটা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে রোববারই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিঙ্কেন জানিয়েছিলেন, চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেকোনো সময়, যেকোনো শর্তে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
ব্লিঙ্কেন রোববার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনে একটি টকশোতে বলেছিলেন, যা দেখতে পাচ্ছি তাতে বিষয়টি ভীষণ গুরুতর বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা একটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। তবে ট্রাংক এবং বিমান না সরা পর্যন্ত আমরা কূটনৈতিক উপায়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে প্রতিটি সুযোগ ও প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে চাই।
ব্লিঙ্কেন এর আগে সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’কে বলেছিলেন, বাইডেন স্পষ্ট করে বলেছেন যে যুদ্ধ আটকাতে তিনি যেকোনো সময়, যেকোনো শর্তে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত।
সাবেক সোভিয়েতভুক্ত ইউক্রেন কয়েক বছর আগে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে আগ্রহের কথা জানায়। এর পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তে ১ লাখেরও বেশি সেনা মোতায়েন রেখেছে। ইউক্রেনে হামলা করতেই এই সৈন্য সমাবেশ বলেও তাদের অভিযোগ।
মস্কো অবশ্য বারবার বলছে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই; ন্যাটোর তৎপরতা থেকে নিজেদের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে তাদের এই প্রয়াস।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সদস্যরা মস্কোর এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছে না।
ভিড়ে ঠাসা ব্যস্ত সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে একটি হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের সময়কার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি বিচে শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে। মিয়ামি বিচ পুলিশ এক টুইটে জানিয়েছেন, তারা স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ওই দুর্ঘটনার খবর পান।
টুইটারে মিয়ামি বিচ পুলিশ জানায়, পুলিশ ও মিয়ামি দমকল বাহিনীর সদস্যসহ জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত কয়েকটি সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (এফএএ) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ওই হেলিকপ্টারে তিনজন আরোহী ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনকে আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে মিয়ামি বিচ পুলিশ। ভিডিওতে দেখা গেছে আটলান্টিক মহাসাগরে আছড়ে পড়ছে হেলিকপ্টারটি। হেলিকপ্টারটি যেখানে আছড়ে পড়েছে তার কাছেই অসংখ্য মানুষ ছিল। তাদের কেউ সৈকতে সাঁতার কাটছিলেন, কেউ রোদ্রস্নান করছিলেন, কেউ সৈকতে হাঁটছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত তাদের কেউ আহত হননি।
This afternoon at 1:10 p.m., MBPD received a call of a helicopter crash in the ocean near 10 Street. Police and @MiamiBeachFire responded to the scene along with several partner agencies. Two occupants have been transported to Jackson Memorial Hospital in stable condition.
ব্রাজিলের পেট্রোপলিস শহরে প্রবল বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট কাদার স্রোতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হল অন্তত ১০৪ জনের। কাদার স্রোতে ঢেকেছে বহু ঘরবাড়ি। ভেসে গিয়েছে বহু গাড়িও। মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে কার্যত বিধ্বস্ত গোটা পেট্রোপলিস। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেখানকার সুন্দর রাস্তা। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, পেট্রোপলিসে গোটা ফেব্রুয়ারির গড় বৃষ্টিপাতের যে পরিমাণ, শুধু মঙ্গলবারের বৃষ্টিই তাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবারের ঘটনায় আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা হিলডার চোখে-মুখে। তিনি সে দিন বাড়ির কাছেই রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন আরও আট জন। হিলডার কথায় , ‘‘আমার বোনঝি ও তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে খড়কুটোর মতে ভেসে গিয়েছে কাদার স্রোতে। ওদের এখনও খুঁজে পাইনি। বাকিদের খবর জানি না। আমি কোনওক্রমে বেঁচে গিয়েছি। আমাদের শহরটা শেষ হয়ে গেল!’’
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রায় ৮০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। রিয়ো ডে জেনিরো-র গভর্নর ক্লদিয়ো কাস্ত্রো গত কাল জানিয়েছেন, পেট্রোপলিসে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও ল্যাম্পপোস্টে ঝুলছে গাড়ি, আবার কোথাও গাড়ি উল্টে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে দমকল ও সেনা। এখনও বহু জায়গায় কাদার স্তর রয়েছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো টুইট করে বিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠনের জন্য যথাযোগ্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাশিয়া সফর থেকে ফিরে আগামিকাল, শুক্রবারই তিনি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান। ইতিমধ্যেই তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের দুর্গতদের পাশে থাকার নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
পেট্রোপলিসে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদেশগুলো কয়েকদিন ধরে অব্যাহতভাবে সতর্কতা দিয়ে যাচ্ছে যে কোনো সময় ইউক্রেনে আক্রমণ করবে রাশিয়ার সেনারা।
তারা দাবি করছে যুদ্ধ করার যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন তার সবই সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংকেতের অপেক্ষায় আছে তারা।
মঙ্গলবার ক্রিমলিনে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে আসেন পুতিন। সেখানে যুদ্ধ করার বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেন তিনি।
যুদ্ধ করার বিষয়ে পুতিন বলেন, আমরা কি যুদ্ধ চাই না কি চাই না? অবশ্যই না। আর শুধুমাত্র এ কারণেই আমরা আলোচনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছি।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে কিছু সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে আলোচনার পথ বড় করার জন্য।
তবে পুতিন যুদ্ধ করতে চান না জানালেও আবার যুদ্ধ করার বিষয়ে আকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুতিন দাবি করেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাসে রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তিনি দ্রুত এটি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়টিই দাবি করা হচ্ছে, ডনবাস বা লুহানস্ককে গণহত্যা হচ্ছে এরকম দাবি করে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা করবে।