সৌদি আরবে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশ

সৌদি আরবে জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের সমালোচনার নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের মন্ত্রী ডা. আব্দুল লতিফ আল শাইখের জারি করা এক নির্দেশনায় জুমার খুতবায় তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলা হয়। তাবলিগ জামাত নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশনা দেওয়া হয় এতে।

সৌদির ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এক টুইটে মন্ত্রণালয় কর্তৃক লিখিত আরবি খুতবাতে তাবলিগ জামাতের কাজের নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ জামাতের ওপর দেওয়া হয়েছে কিছু অভিযোগ।

সৌদি সরকারের ওই ঘোষণায় বলা হয়, এটি (তাবলিগ জামাত) সন্ত্রাসবাদের একটি প্রবেশপথ। এদের বিপদ সম্পর্কে মানুষকে বোঝান। এদের ভুলগুলো তুলে ধরুন।

তাবলিগ জামাতের পাশাপাশি দাওয়া নামে আরেকটি সংগঠনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। মন্ত্রী টুইটে জানিয়েছেন, মসজিদে ইমামদের তাদের ভাষণে উল্লেখ করা উচিত এরা কীভাবে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ১৯২৬ সালে দাওয়া নামে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।

উইকিপিডিয়া বলছে, তাবলিগ জামাত ভারতীয় উপমহাদেশকেন্দ্রিক একটি ধর্মপ্রচার আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে— মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং যা মুসলিমদের ও নিজ সদস্যদের সেভাবে ধর্মচর্চায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করে, যেভাবে নবী মুহাম্মাদের (সা.) জীবদ্দশায় তা চর্চা করা হতো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাবলিগ জামাত ভারতের দেওবন্দভিত্তিক সুন্নি মুসলিমদের সংগঠন। অন্যদিকে সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী কট্টর ওয়াহাবি ও আহলে হাদিস মতাদর্শের অনুসারী। তাই সৌদিতে প্রকাশ্যে তাবলিগ জামাতের কাজ করা যায় না এবং সৌদি সরকার মাঝেমধ্যেই এ দলটি সম্পর্কে সতর্ক করে খুতবা দেয়। কিন্তু এ বছরই প্রথম অহিংস এ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

সৌদি সরকারের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের এমন নির্দেশনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিম স্কলাররা।

ভারতের বিখ্যাত আলেম শায়খ সালমান হুসাইনি নদবী এ বিষয়ে সৌদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাৎক্ষণিক আরবি ও উর্দু ভাষায় এর প্রতিবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের এ সৌদি সরকার আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এজেন্ট হয়ে যে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে কাজ করছে সেটি এমন নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট হলো। তবে এ বিষয়ে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বাংলাদেশের গবেষক আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী বলেন, সৌদি সরকারের ফরমান, অভিযোগ ও খুতবা প্রচারের বিষয়ে আমার মূল্যায়ন দেশটির বড় আলেমদের কাছে পৌঁছানো হবে। শাসক পর্যায়েও পৌঁছে যাবে ইনশাআল্লাহ। ২০ জন আরব আলেমকে নিয়ে আমরা জুম মিটিং করছি। এ ধারা চলতে থাকবে। তারা কারেকশন দিতে পারেন কিন্তু শতবর্ষী একটি দীনি আন্দোলনকে এভাবে একতরফা নিন্দা ও নিরুৎসাহিত করতে পারেন না। মিথ্যা প্রচারণা শুনে তাবলিগি কাজের বিরুদ্ধে অপবাদ দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, সৌদি সরকারের প্রজ্ঞাপনটির বক্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে খুবই মর্মাহত হয়েছি। তারা এ কথা কোথায় পেলেন যে, তাবলিগিরা কবরকে সেজদার স্থান বানায়? দুনিয়ার কোথাও এমন নেই, হতে পারে না। তাদের এ কথা তুলে নিতে হবে। সাবকন্টিনেন্টের আলেমদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। বিশ্বের কোটি কোটি তাবলিগ সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

অবশেষে দেশেই ফিরছেন ডা. মুরাদ হাসান

যুক্তরাষ্ট্রের ৬ রাজ্যে ৩২২কি:মি: বেগে টর্নেডো, নিহত শতাধিক

//আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ//

যুক্তরাষ্ট্রের ৬ অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে শুধু কেনটাকিতেই ৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

প্রায় ৩২২ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়া ঝড়ের কবলে পড়ে জুড়ে অসংখ্য বাড়ি, দোকান নষ্ট হয়েছে। খবর বিবিসির।

কেনটাকির বিভিন্ন জায়গায় চারটি টর্নেডো আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি টর্নেডো প্রায় ৩৬৫ কিলোমিটার জুড়ে আঘাত হেনেছে।

সব শহর মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে। কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার বলেন, আমি এমন বিধ্বংসী ঝড় দেখিনি।

কেনটাকিতে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছেন। সংখ্যাটা ৭০-এর উপরেও হতে পারে। দিনের শেষে ১০০ ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার থাকবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পূর্ণ বিবরণ

মাননীয় সভাপতি,

আসসালামু আলাইকুম।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার ‘Presidency of Hope’ (প্রত্যাশার নেতৃত্ব) টেকসই পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবে যেখানে কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না।

নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক ৭৬তম অধিবেশনে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বিদায়ী সভাপতি Volkan BOZKIR কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের যে, আমি এ নিয়ে ১৭ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমার দেশ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি।

সাধারণ পরিষদের এই ৭৬তম অধিবেশনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অব্যাহতভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। করোনার নতুন ধরনের মাধ্যমে অনেক দেশ বার বার সংক্রমিত হচ্ছে। এ মহামারিতে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ সঙ্কটকালে নিবেদিত সেবা ও আত্মত্যাগের জন্য আমি সম্মুখসারির সকল যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কোভিড-১৯-এর নির্মম বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘প্রত্যাশা’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। বহুপাক্ষিকতাবাদ ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দৃঢ় সমর্থক হিসেবে বাংলাদেশ এই সঙ্কটকালে জাতিসংঘকে আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। সব ধরনের মতভেদ ভুলে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ‘অভিন্ন মানবজাতি’ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য আবারও এক সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

এ বছরটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বছর। এ বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। একইসঙ্গে আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করছি।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর আজীবন নিঃস্বার্থ সংগ্রাম ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আমাদের এনে দিয়েছে স্বপ্নের স্বাধীনতা। আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাঁদের অসীম বীরত্ব ও আত্মত্যাগে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। আমাদের জাতির পিতা ছিলেন বহুপাক্ষিকতাবাদের একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি জাতিসংঘকে জনগণের ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র’ মনে করতেন।

আমাদের জাতিসংঘ অভিযাত্রার প্রথম দিনে ১৯৭৪ সালের ২৫-এ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত তাঁর ঐতিহাসিক একমাত্র ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “আত্মনির্ভরশীলতাই আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ উদ্যোগই আমাদের নির্ধারিত কর্মধারা। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যায় অংশীদারিত্ব আমাদের কাজকে সহজতর করতে পারে, জনগণের দুঃখকষ্ট লাঘব করতে পারে।”

বঙ্গবন্ধু এমন একটি বিশ্ব গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, আগ্রাসন ও পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি থাকবে না। সাতচল্লিশ বছর আগের তাঁর সে আহ্বান আজও সমভাবে প্রযোজ্য। এ জন্য আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের যে কোনো উদ্যোগে সমর্থন ও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য হিস্যা দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি যেকোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান, রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা- এসব আমাদের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কতিপয় উদাহরণ মাত্র।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল পাঁচটি অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম। জিডিপি-তে আমরা বিশ্বের ৪১তম। গত এক দশকে আমরা দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছি।

এ সময়ে আমাদের মাথাপিছু আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২,২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছি।

গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৩ দশমিক ৬৭-এ কমে এসেছে। প্রতি লাখ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ১৭৩-এ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্য মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম। ২০১৪ সাল থেকে এ সূচকে বাংলাদেশ আঞ্চলিক প্রতিবেশি দেশগুলোর চাইতে এগিয়ে আছে।

আমাদের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছে। আমরা ব্যাপকভাবে ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ কর্মসূচির সম্প্রসারণ করেছি। ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২১’ অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সূচকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে আছে। এ সাফল্যের মূলে রয়েছে নারীর উন্নতি ও ক্ষমতায়নে বিপুল বিনিয়োগ। এ বিনিয়োগ আমাদের  রূপান্তরসক্ষম উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছে।

এ বছর আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের মাইলফলক অর্জন করেছি। এখন আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও টেকসই বদ্বীপে রূপান্তর করা।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিভিন্ন সময়ে আমরা ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে  প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি। সময়োচিত পদক্ষেপ ও আমাদের জনগণের বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে ২০২০ সালেও আমরা ৫ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি।

মাননীয় সভাপতি,

অনাদিকাল হতে মানবজাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি এবং মানবসৃষ্ট নানা সংঘাত ও দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে। এতদসত্ত্বেও বুকে আশা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানবজাতি এসব পাহাড়সম সমস্যা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

এই মহামারিও এমনি একটি সঙ্কট যেখান থেকে বহু মানুষের টিকে থাকার অনুপ্রেরণামূলক এবং উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরছি :

প্রথমত, কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর এ মহতী অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন।

সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, এ যাবৎ উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলো ১ শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছে।

জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।

তাই আমি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।

দ্বিতীয়ত, এ মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক Intergovernmental Panel on Climate Change-এর ওয়ার্কিং গ্রুপ-১ এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে। ধনী অথবা দরিদ্র – কোন দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টারস অব ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে আমরা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০’ এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’ (COP) এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন আমাদের নতুন নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।

তৃতীয়ত, মহামারির প্রকোপে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।

চতুর্থত, কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে। স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি। এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির অন্যতম সভাপতি হিসেবে, আমরা আশা করি যে দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।

পঞ্চমত, মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁরাও সম্মুখসারির যোদ্ধা। তবুও তাঁদের অনেকে চাকরিচ্যুতি, বেতন কর্তন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সঙ্কটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

ষষ্ঠত, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমরা আশা করি আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।

সভাপতি মহোদয়,

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের উপরই নির্ভর করে। আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তি। ‘শান্তির সংস্কৃতি’ প্রস্তাবনার প্রধান প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের করাল থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বজায় রেখেছি। শীর্ষস্থানীয় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য আজ আমরা গর্ববোধ করি। মহমারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবিধানের আলোকে আমরা সর্বদা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই প্রত্যয় থেকেই আমরা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছি। এ বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় সভাপতি,

কোভিড-১৯ মহামারি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে এটি বৈশ্বিক সংহতি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরেও আলোকপাত করেছে।

সর্বজনীন বিষয়গুলোতে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন নতুন অংশীদারিত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারবো।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিসংঘই হোক আমাদের ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল। আসুন, সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।

শেষ করার আগে, সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আমি ও আমার ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই। আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। দেশে ফিরে আমি মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করি। জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যে আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

সূত্র:বাপ্র.

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ, অসচ্ছল ও অসহায় ক্রীড়াসেবী এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে :সালাম মূশের্দী

 

২০৪ কোটি টাকার হীরা কপাল কেটে  নিয়ে পালালেন ভক্ত

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র‌্যাপার  লিল উজি ভার্ট অদ্ভুত সব কাণ্ড করে ভক্ত-অনুরাগীদের বিস্মিত করেন ।

হঠাৎ ইচ্ছা হলো নিজের কপালে অমূল্য হীরা বসাবেন। যেটি কপালের টিপ হিসেবে জ্বলজ্বল করবে।

যেমন খুশি তেমন সাজোর মতোই কাণ্ডটি করলেন। সত্যি সত্যিই কপালের ওপর ছুরি-কাঁচি চালিয়ে বসালেন হীরা। যেনতেন হীরা নয়, ১১ ক্যারেটের ২৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাপি হীরা বসালেন তিনি কপালে।

অর্থাৎ লিল উজির হীরার টিপটির মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৪ কোটি টাকা!

কিন্তু এত দামি হীরা তার কপালে সইল না। এক লাইভ শোয়ে এসেই ২০৪ কোটির হীরা হারিয়ে ফেললেন এই র্যা প সিঙ্গার।

অবশ্য লিল হীরা হারাননি, শোয়ের দর্শকদের কেউ একজন তার কপাল কেটে হীরা নিয়ে চম্পট দিয়েছে।

সম্প্রতি মিয়ামিতে আয়োজিত রোলিং লাউড ফেস্টিভ্যালে শো’য়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন লিল উজি ভার্ট। শো চলাকালীন গান গাইতে গাইতে তিনি নেমে আসেন দর্শকদের মাঝে। আর সেখানেই ঘটে গেল বিপত্তি।

ওই গান পরিবেশনার সময় তাকে ঘিরে ধরেন শ্রোতারা। ভিড়ের মাঝে আচমকাই কেউ লিলের কপাল থেকে হীরা বের করে নেন! প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি লিল। এর পরই কপালে ব্যথা অনুভব করেন। দর্শকরা দেখেন লিলের কপাল থেকে রক্ত ঝরছে।

শো থামিয়ে চিকিৎসা নেন লিল। লিল এখন সুস্থই আছেন। কিন্তু হীরে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান।

কপালে প্রায় ২০৪ কোটি টাকা মূল্যের হীরা বসিয়ে রাতারাতি আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন লিল। এখন হীরা হারিয়ে ফের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এলেন লিল।

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ঠাকুরগাঁওয়ে দুই উপজেলায় পানিতে  ডুবে ৩ নারীর মৃত্যু   

 

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে দেশটির ওপর এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলা, যা নাইন/ইলেভেন নামে পরিচিত, তার ২০তম বার্ষিকী।

ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে ২০০১ সালে আল-কায়দার চালানো এই আক্রমণে নিউ ইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ার এবং ওয়াশিংটনের পেন্টাগন আক্রান্ত হয়। আরেকটি বিমান কোথাও আঘাত হানার আগেই বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ এই হামলায় নিহত হন প্রায় তিন হাজার লোক ।

এই ঘটনা সারা বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে বিশ্বের পরবর্তীকালের অনেক ঘটনাপ্রবাহে, নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এবং বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের জীবনেও।

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে
নিহতের একজন স্বজন তার নাম পড়ে শোনাচ্ছেন।

নাইন/ইলেভেনের পরপরই আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয়দাতা তালেবান-শাসনাধীন আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়। এর ২০ বছর পর এবছরেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তাদের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে, এবং ক্ষমতায় ফিরে আসে তালেবান।

দিনটি উপলক্ষে শনিবার সকালে আয়োজিত এক স্মারক অনুষ্ঠানে নিউ ইয়র্ক শহরের স্মৃতিসৌধে নিহতদের স্বজনরা এক এক করে তাদের প্রিয়জনের নাম উচ্চারণ করেন। এসময় অনেককে নিরবে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় স্থানীয় সময় সকালে । মোট ছয়টি মুহূর্তে পালন করা হয় নিরবতা – ২০ বছর আগে ঠিক যে সময়টায় ছিনতাই করা বিমান দিয়ে টাওয়ার দুটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, যখন টাওয়ারগুলো ধসে পড়েছিল, আরও রয়েছে পেন্টাগনে আঘাত হানার মুহূর্ত, এবং চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হবার মুহূর্তগুলো।

২০ তম ৯/১১ যেভাবে পালিত হলো যুক্তরাষ্ট্রে
হামলার পর দমকল বাহিনীর উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ।

 

প্রথম নিরবতা পালন করা হয় ৮টা ৪৬ মিনিটে, ঠিক যে সময়ে উত্তর টাওয়ারে প্রথম হামলাটি চালানো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দিনটি উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি আজ নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া এবং ওয়াশিংটন- এই তিনটি স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

তিনি বলেন, “কতো সময় পার হয়েছে সেটা কোনো বিষয় নয়, এই স্মরণ অনুষ্ঠান সবকিছু ফিরিয়ে আনে যেন মনে হয় এই খবরটা আমি মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে পেয়েছি।”

সাবেক প্রেসিডেন্টরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। যার আমলে এই হামলা চালানো হয়েছিল সেই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ পেনসিলভেনিয়ায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন সেসময় তারা যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন সেটা বর্ণনা করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আজ নাইন/ইলেভেনের ২০তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেজ, ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুল ফন ডার লাইন এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টুইট করে বলেছেন, “আমরা কখনও ভুলবো না। আমরা সবসময় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করবো।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, “১১ই সেপ্টেম্বর আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে স্বাধীনতা সবসময়ই নাজুক।”

আমেরিকার জন্য এক কঠিন সময়ে এ অনুষ্ঠান হচ্ছে।

নাইন/ইলেভেনের হামলার সূত্র ধরেই আফগানিস্তানে আশ্রয় পাওয়া আল-কায়দার ওপর আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র – যাতে ক্ষমতাচ্যুত হয় তৎকালীন তালেবান শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু তার ২০ বছর পর মার্কিন বাহিনী এ বছরই আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে, আর তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করেছে।

এসব ঘটনা প্রবাহের কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নীতি ও আফগানিস্তান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার – কড়া সমালোচনার শিকার হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

//আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আফগানিস্তান থেকে উচ্চমাত্রার গোপন দলিল হাতিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান

নারীদের বিদেশ পাচারের জন্যই বিয়ে করত লিটন

 

আইসল্যান্ডে বিশ্বের বৃহত্তম কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ কারখানা চালু হয়েছে

//আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

আইসল্যান্ডে বিশ্বের বৃহত্তম কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ কারখানা চালু হয়েছে। এই ফ্যাক্টরীতে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে পাথরে পরিণত করবে।

বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ধরার জন্য বিশ্বের বৃহত্তম কারখানা আইসল্যান্ডে কার্যক্রম শুরু করেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ হ্রাস জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।

এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত একটি উন্নয়নশীল প্রযুক্তি প্রদর্শন করে কিন্তু সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন করে যে এটি আসলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

এটা কি পলাতক জলবায়ু পরিবর্তন থেকে গ্রহকে বাঁচানোর একটি ভবিষ্যৎ দৃষ্টি, অথবা একটি নিষ্ফল খরচ যা CO2 নির্গমন হ্রাস করার জরুরী থেকে বিভ্রান্ত করে?

যেসব কোম্পানি প্ল্যান্ট, ক্লাইমওয়ার্কস এবং কার্বফিক্স তৈরি করেছে তাদের মতে, ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার সময় ORAKA প্লান্টটি প্রতি বছর ৪০০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাস থেকে বের করবে।

এখানে বছরে ৪০০০ টন কার্বণ-ডাই অক্সাইড পাথরে তৈরী করে তা মাটির নিচে চাপা দেওয়া হবে।

সূত্র: বিবিসি।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এহসান গ্রুপের রাগীব আহসান

বরিশালে বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিন থেকে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী  আটক

ভিডিও দেখুন….

 

 

আমেরিকায় তৈরি বিপুল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তালেবানের হাতে এল কিভাবে

 

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে তালেবান।  ২০ বছর আগে আফগানিস্তান তালেবানের দখলে ছিল।  মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তেই নাটকীয়ভাবে দেশটি দখল করে নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

এদিকে, কাবুল দখলের মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, রাতারাতি বিপুল সামরিক শক্তিরও অধিকারী হয়ে গেছে তালেবান। আমেরিকায় তৈরি আধুনিক নানা সমরাস্ত্র এখন তাদের হাতে।

গত দুই দশকে আফগান বাহিনীকে এসব অস্ত্র, সামরিক যান, গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার দিয়েছিলে আমেরিকা। এখন তাদের পরিত্যক্ত ১১ সামরিক ঘাঁটিসহ ন্যাটো সেনাদের ফেলে যাওয়া সব অস্ত্রই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।

মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত আধুনিক সামরিক যান হামভিতে এখন উড়ছে তালেবানের পতাকা। এমন দুই হাজারের বেশি সাজোয়া যান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি। যেগুলোর প্রত্যেকটির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি।

দীর্ঘদিন ধরেই কালাশনিকভ, একে-৪৭ এর মতো অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে তালেবান যোদ্ধারা। এখন তাদের হাতে শোভা পাচ্ছে এম-ফোর কার্বাইন এবং এম-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্র। কারণ মার্কিনিদের ফেলে যাওয়া আধুনিক সব অস্ত্রাগারের দখল এখন তালেবানের হাতে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গত ২০ বছরে তারা আফগান বাহিনীর পেছনে খরচ করেছে ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাদের কিনে দিয়েছে অত্যাধুনিক সব সার্ভেইল্যান্স ইকুইপমেন্টস। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যার প্রায় সবই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেসব অস্ত্র আফগান বাহিনীকে দিয়েছিল তা এখন তালেবানের হাতে চলে গেছে। আফগানিস্তান থেকে যখন মার্কিনিদের সরিয়ে আনা হচ্ছিল তখনই তারা এসবের দখল নেয়। এতেই পরিস্কার যে সেখানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

১১টি সামরিক ঘাঁটি দখল করে শুধু যুদ্ধযান বা অস্ত্রই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ টুয়েন্টি নাইন সুপার টুকানো যুদ্ধবিমান, ব্ল্যাকহক, স্কাউট অ্যাটাক, স্ক্যানঈগল মিলিটারি ড্রোন’সহ দুই শতাধিক হেলিকপ্টার পেয়েছে তালেবান। এমনকি ভারতের এম-৩৫ হেলিকপ্টারও দখলে নিয়েছে তারা।

বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার আর আধুনিক যুদ্ধযান নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া তালেবান এগুলো পরিচালনা করতে পারবে না বলেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: ফ্রান্স২৪, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট, ফার্স্ট পোস্ট

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মহম্মদপুরে চৌবাড়ীয়া গ্রাম পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

 

এবার মহাকাশে পাড়ি দিলেন অ্যামাজনের কর্ণধার বেজোস

জেফ বেজোস  বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের মহাকাশে পাড়ি দিলেন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় নিজের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের তৈরি মহাকাশযান দ্য নিউ শেপার্ডে চড়েই আরও ৩ সঙ্গিসহ মহাকাশে পাড়ি দেন অ্যামাজনের কর্ণধার বেজোস।

মহাকাশে বেজোসের সঙ্গী হন তার ভাই মার্ক বেজোস। এছাড়াও ৮২ বছর বয়সী নারী পাইলট ওয়ালি ফাঙ্ক এবং ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। তাদের এই যাত্রায় কোনো পাইলট কিংবা ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না।

নিউ শেফার্ড তাদের পৃথিবী থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে কারম্যান লাইনের উপরে নিয়ে যায়, যেখানে তারা ভর শূন্যতা উপভোগ করেন।

ছয়জনের উপযোগী ওই ক্যাপসুলটি থেকে পরে প্যারাসুট ব্যবহার করে পৃথিবীতে নেমে আসেন। সবমিলিয়ে এই ভ্রমণের মেয়াদ ছিল ১০ মিনিট ৩২ সেকেন্ড।

তবে বিশ্বের অন্যতম টেক জায়ান্ট বেজোসের ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ছোট্ট একটা গ্যারেজে অনলাইনে বই বিক্রির মাধ্যমে।

সেখান থেকে বর্তমানে অ্যামাজন, ব্লু অরিজিনসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মালিক বেজোস। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেবে অনুযায়ী ২০২১ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২০,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

জগন্নাথপুরে হাজী শাহজাহান মিয়ার উদ্যোগে হাজারো নারী-পুরুষের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ

 

ভিডিও দেখুন……

কানাডায় ‘কানাডা ডে’তে অ্যালবার্ডার ১০ গির্জায় ভাঙচুর

 

বৃহস্পতিবার দেশটিতে ‘কানাডা ডে’ উদযাপনের আগ মুহুর্তে এ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ভাঙচুর হয়।

এসব ভাঙচুরের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অন্তত দুটি পরিত্যক্ত স্কুলে গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার সম্পর্ক আছে বলে পুলিশ মনে করছে।

ক্যালগেরি শহরের একাধিক গির্জায় ভাঙচুরের পাশাপাশি কমলা ও লাল রং ছিটানো হয়েছে এবং কোথাও কোথাও দরজা ও দেয়ালে হাতের রঙিন ছাপ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

অ্যালবার্ডার প্রিমিয়ার জেসন কেনি গির্জায় এ ধরনের হামলায় ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

চলতি বছরের মে ও জুনে পরিত্যক্ত দুই আবাসিক স্কুলে প্রায় এক হাজার অচিহ্নিত কবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে উত্তর আমেরিকার এ দেশটিতে বিভিন্ন গির্জায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

সরকারি অর্থায়নে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর পরিচালনায় ওই স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিশুদের রাখা হতো।

১৮৬৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এসব বোর্ডিং স্কুলে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি আদিবাসী শিশুকে তাদের পরিবারগুলো থেকে নিয়ে এসে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল।

এসব শিশুদের প্রায়ই তাদের নিজেদের ভাষায় কথা বলতে ও তাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে দেওয়া হতো না। তারা ছিল অপুষ্টির শিকার; তাদেরকে এমনকী শারীরিক ও যৌন নিগ্রহও সইতে হয়েছে।

২০১৫ সালে কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন আবাসিক স্কুলগুলোর ওই চর্চাকে ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ আখ্যা দেয়।

যারা এসব বোর্ডিং থেকে শেষ পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পেরেছে তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, ক্ষুধা আর একাকিত্ব তাদের তাড়া করে ফিরত; স্কুলে নিয়মিত ভয় দেখানো ও বল প্রয়োগ করা হতো।

কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার ওই স্কুলগুলোর আচরণের জন্য ২০০৮ সালে ক্ষমা চেয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্কুল পরিচালনার ভার যাদের দায়িত্বে ছিল, সেই রোমান ক্যাথলিক গির্জার পক্ষ থেকে এখনো দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পোপ ফ্রান্সিসকে কানাডায় এসে উনিশ ও বিশ শতকে আবাসিক স্কুলগুলোতে আদিবাসী শিশুদের ওপর করা নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অচিহ্নিত এসব কবর আবিষ্কারের পর অনেকে সরকারের প্রতি ১ জুলাই ‘কানাডা ডে’ উদ্‌যাপন বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অ্যালবার্ডার প্রিমিয়ার কেনি জানান, বৃহস্পতিবার ক্যালগেরির যেসব গির্জায় ভাঙচুর চালানো হয়েছে, তার মধ্যেই একটি ইভাঞ্জেলিকাল গির্জাও আছে।

যেসব দেশে প্রায়শই গির্জায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, সেসব দেশ থেকে আসা শরণার্থীরাই ক্যালগেরির এই ইভাঞ্জেলিকাল গির্জাটির অনুসারী, বলেন কেনি।

“শান্তিমতো নিজেদের বিশ্বাসের চর্চা করতে পারবে, এই আশা নিয়ে এসেছিল তারা কানাডায় এসেছিল। গির্জায় হামলার ঘটনায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে,” টুইটারে দেওয়া পোস্টে বলেছেন তিনি।

ক্যালগেরির পুলিশ জানিয়েছে, গির্জাগুলোতে ভাঙচুর হয়েছে বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে। একটি গির্জার জানালে ভেঙে ভেতরেও রং ছিটানো হয়েছে।

কোথাও কোথাও রং দিয়ে ‘২১৫’ ও ‘৭৫১’ লেখা হয়েছে। মে’তে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পরিত্যক্ত একটি স্কুলে ২১৫টি অচিহ্নিত কবর আবিষ্কৃত হয়েছিল। জুনে সাসকাচোয়ানের অন্য একটি পরিত্যক্ত স্কুলে মেলে আরও ৭৫১টি। এসব কবর আদিবাসী শিশুদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুটি স্কুলই রোমান ক্যাথলিক গির্জা পরিচালনা করতো। সূত্র: বিডি নিউজ২৪

//দৈনিক বিশ্ব অনলাইন ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

খুলনায় শেখ আবু নাসের হাসপাতালে ৪৫ বেড নিয়ে করোনা ইউনিট চালু

 

ইরাক যুদ্ধের হোতা যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড রামসফেল্ড মারা গেছে

ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার নিউ মেক্সিকোর তাওস এলাকায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

রামসফেল্ড ইরাক যুদ্ধের হোতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় দেশটির সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন।

২০০৩ সালে সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুতের অভিযোগ তুলে ইরাকে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করে তাকে ফাঁসিতে ঝোলায় যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে যখন লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেন, রামসফেল্ড তখন ইরাকে হামলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি ইরাকে হামলাকে প্রেসিডেন্ট বুশের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

গুয়ানতানামো বে ও আবু গারিব কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোর পক্ষেও অবস্থান ছিল রামসফেল্ডের। আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়েও রামসফেল্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ডোনাল্ড রামসফেল্ড ইরাকে আমেরিকার যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। ২০০২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি সঠিক বলতে পারব না যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক যুদ্ধ পাঁচদিন, পাঁচ সপ্তাহ কিংবা পাঁচ বছর স্থায়ী হবে। কিন্তু এর থেকে বেশি দিন স্থায়ী হবে না সেটা আমি বলতে পারি।

অথচ এখনও ইরাকে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। দেশটিতে এখন পাঁচ হাজার ২০০ মার্কিন সেনা রয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুই হাজার ২০০ সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

রামসফেল্ড কারাবন্দিদের ২০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নিয়ম তৈরি করেছিলেন। এই ২০ ঘণ্টার মধ্যে চারঘণ্টা কাপড় খুলে, ভয় দেখিয়ে ও কষ্টদায়ক অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের নিয়ম ছিল। এই জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

রামসফেল্ডের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ইরাক যুদ্ধের সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ। তিনি বলেন, তিনি রসিক এবং বড় হৃদয়ের ভালো মানুষ ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন। রামসফেল্ড যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ ও উন্নত করেছেন।

কিন্তু এক টুইট বার্তায় কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফাস্ট এমেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের প্রধান ও সাবেক আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়নের উপআইন পরিচালক জামি জাফের বলেন, রামসফেল্ডের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে শত শত কারাবন্দি নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে নিয়ে প্রত্যেক শোক আলাপের পূর্বে এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

//দৈনিক বিশ্ব, অনলাইন ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

করোনা ভাইরাসে খুলনায় গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৩৫,শনাক্ত ১২৫০