রূপসায় অ-প-হৃ-ত স্কুল ছাত্রী উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

খুলনার রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর সাকিন এলাকা থেকে স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রূপসা শ্রীফলতলা থানা ক্যাম্প পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এর আগে বুধবার (১৬ এপ্রিল) রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের নবপল্লী এলাকায় বিশেষ অভিযান মো. হিমেল হাওলাদার সোহাগ (২৮) নামে এক অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনায় রূপসা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সোহাগকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপহৃত ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ঐ স্কুল ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতকালে হিমেল হাওলাদার বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো। ভুক্তভোগীর বাবা-মা বিষয়টি জানার পর হিমেল হাওলাদারকে অনুরোধ করে যেন তাদের মেয়েকে আর উত্যক্ত না করে। কিন্তু হিমেল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৯ এপ্রিল সকালে রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুর সাকিনস্থ এলাকা থেকে মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আইচগাতীর নবপল্লী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

খুলনায় বিএনপি সভাপতির অফিসের নিচে গু-লি-র ঘটনায় জামায়াত নেতার ছেলে গ্রেপ্তার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

খুলনার বসুপাড়ায় সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতির অফিসের নিচে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান খান তুষার নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাতে তাকে সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত যুবক ওই এলাকার সাবেক জামায়াতের নেতা ও জামায়াত সমর্থিত খুলনা সিটির করপোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুনসুর আলীর ছেলে। এর আগে ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান তুষারের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তুষারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই বলেন, বুধবার রাতে বসুপাড়া এলাকার ফার্মেসী মলিক আতিকুর রহমান বাদী হয়ে তুষারসহ আরও কয়েকজনের নামে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতে পৌনে ৩ টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানার সবুজবাগ এলাকা থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। হামলার ঘটনা ব্যাপারে জানতে তুষারকে পরবর্তীতে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

তবে এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা জানতে চাইলে তুষার এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য বুধবার রাত ৯ টার দিকে বসুপাড়া কবরখানা গেট সংলগ্ন একটি ফার্মেসীকে লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট্র হয়ে রেক ভেঙ্গে দেওয়াল ছিদ্র হয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে ওই দিন রাতে বেচে যান ফার্মেসী মালিক আতিকুর রহমান। এ ঘটনার পরপর ওই এলাকায় উপস্থিত জনতা গুলির শব্দে আতংকগ্রস্থ হয়ে দিকবিদিক দৌড়াতে থাকে। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে গাড়ির ধাক্কায় এক মটরসাইকেল চালক নিহত

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের ফকিরহাটে গাড়ির ধাক্কায় এক বাইসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের মূলঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো: আতিয়ার রহমান (৫০) বাগেরহাটের যাত্রাপুর এলাকার মরহুম ইমান উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিসমিল্লাহ ফিড মিলস লিমিটেডের কর্মচারী ছিলেন।

মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নুরুজ্জামান জানান, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আতিয়ার রহমান রাতে ডিউটি করে বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। মূলঘর এলাকায় রাজপাট-সোনাখালী মোড়ে এসে পৌঁছলে পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কের ওপর পড়ে যান। এ সময় দ্রুতগামী অপর একটি গাড়ি তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তবে গাড়ি দু’টি শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান ওসি।

তিনি আরো জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোংলায় নদী থেকে অজ্ঞাত মহিলার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

মোংলা ঘষিয়া খালি পিকনিক কর্ণার সংলগ্ন নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত নারীর ভাসমান অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, মোংলার ঘষিয়াখালি চ্যানেলের নদীর পাড়ে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে মোংলা নৌ পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃতের নাম বা পরিচয় জানা যায়নি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আনিসুর রহমান বলেন, এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না, লাশটি যেহেতু অজ্ঞাত। সুরতহাল করার পরে পাওয়া যাবে কি ঘটনা। লাশ উদ্ধার করে বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রূপসায় মাংস ব্যবসায়ীর লাশ নদী থেকে উদ্ধার

//আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

মাংস ব্যবসায়ী জুয়েল শেখ এর  লাশ  সেনের বাজার এলাকার নদীর চর থেকে  উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সে আইচগাতি ইউনিয়নের সেনের বাজার এলাকায় মাংস বিক্রি করতেন এবং উপজেলার সিংহের চর এলাকার জনৈক জহুর শেখের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহফুজুর রহমান বলেন, রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকার মাংস বিক্রির টাকাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৩ কসাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জুয়েল শেখ ও রুবেল শেখ মাংস ব্যবসায়ী আরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হাসপাতালে সে মারা যায়।

এ ঘটনার পরপর স্থানীয়রা কসাই জুয়েল শেখকে ধাওয়া দিলে আত্মরক্ষার্থে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়। পরবর্তীতে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায় না। রোববার সকাল সোয়া ৯ টার দিকে নদীতে ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কসাই জুয়েল শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাংস ব্যবসায়ী আরিফ হত্যা মামলার  আসামি জুয়েল ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনার সদর এলাকার মাংস ব্যবসায়ী আরিফ রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকার রুবেলে মাংসের দোকানে টাকা আনতে যায়। সেখানে গেলে মাংস বিক্রেতা জুয়েল ও রুবেলের সাথে আরিফের কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যাযে তারা দু’ভাই আরিফকে ধারালো চা পাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। প্রথমে তাকে খুলনা সদর হাসপাতালে এবং পরে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

স্বামীকে হত্যার পর বুকের ওপর ‘সরি জান আই লাভ ইউ’ লিখে স্ত্রীর আত্মহত্যা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার  ভোররাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এক ভাড়াটিয়া বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৪৫) ও তার স্ত্রী নাজমিন (৩০)। আবুল কালাম আজাদ কলারোয়া থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছোট স্ত্রী নাজমিন প্রথমে স্বামী আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করেন। এরপর একটি চিরকুট লিখে নিজেও গলায় ফাঁস দেন। চিরকুটে লেখা ছিল-“আমি কিছু শেষ করে দিলাম। আমি ২.৩১ মিনিটে মারছি, এবার আমিও মরছি। একা হলেও বাঁচবো না, কারণ শারমিন ও তার পরিবার আমাকে শেষ করে দেবে। তাই আমরা দুইজন মরে গেলাম। এবার তোমরা সংসার করো, ভালো করে। আর কেউ বিরক্ত করবে না। আমার ছেলে কষ্ট পাবে, তারপরও কালামের জন্য আমি সবাইকে কষ্ট দিলাম। তবুও সে আমাকে কষ্ট দিল, শয়তান একটা। নাজমিন হত্যার পর আবুল কালাম আজাদের বুকের ওপর কলম দিয়ে লেখেন-“সরি জান, আই লাভ ইউ”। পরে নিজেই আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম আজাদের দুই স্ত্রী ছিলেন। তবে বড় স্ত্রী শারমিনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল না। ছোট স্ত্রী নাজমিন একসঙ্গে বসবাসের দাবি জানিয়ে বড় বউ শারমিনকে ফোন করেন। কিন্তু শারমিন রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়েছে। আমি নিজেও গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হলো ছনের গুদাম

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের ভাঙর এলাকায় র্দূবৃত্তদের দেয়া আগুনে ৭টি ছনের গাদা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ছনের গাদাগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মজুদকৃত ছিল। এ ঘটনায় ছন ব্যবসায়ী ওসমান আলী, মধু হাওলাদারসহ ৭ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ছন ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, এত পরিশ্রম করে জমানো ছন এক রাতেই পুড়ে গেল। আমরা এখন কী করে জীবন চালাব, বুঝতে পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত র্দূবৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় দোকানদার আজম বেগ গভীর রাতে আগুন দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। এসময় তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ছনের গাদাগুলো পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী ওসমান আলী জানান, সুন্দরবন থেকে ছন সংগ্রহ করে নৌকা যোগে এনে কয়েকজন মিলে ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ব্যবসা না করার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তারা এই ছনের গুদামে রাতের আঁধারে আগুন লাগিয়েছে। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। প্রশাসনের নিকট আবেদন দুর্বৃত্ত কারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাটের রামপালে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপির ছাত্র দলের ৪ নেতা কর্মী আহত ঘটনায় মামলা

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

রামপালের কুমলাই গ্রামের লোহারডাঙ্গি মৎস্য ঘেরে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। উপজেলার কুমলাই গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাদী হয়ে রামপাল থানায় মামলাটি করেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ইংরেজি ৯ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১১ টায় উপজেলার কুমলাই গ্রামের লোহারডাঙ্গি মৎস্য ঘেরের বাসায় কাজ করছিলেন শেখ সোহেলসহ অন্যান্যরা। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী খান ফকরুল, খান বিলাল, খান ইকবাল, খান উজ্জ্বল, খান নুরুজ্জামান, খান নাজমুল, খান রেজাউল, খান ইব্রাহীম, হালিমা বেগম,রোজিনা বেগম,তানিয়া বেগম, খাদিজা বেগম, তরফদার ফিরোজ, খান হাবিবুল্লাহ, খান হাবিব, ফকির বায়েজিদ, শাফায়েত মীরসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন আসামী সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় গুরুতর আহত হন শেখ সোহেল(৩৫), শেখ মিরাজ কুদ্দুস (২৪), শেখ আবু সাইদ (৪২) ও শেখ ফেরদাউস (৩০)। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে খুমেক হাসপাতালে ভার্তি করা হয়। আহতরা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে রামপাল থানার ওসি মো. সেলিম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনা ও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত দুই জনকে আটক করি। বাকীদের ধরার জোর চেষ্টা চলছে।

বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত -১৫

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেপাড়া বাজারে ধোপাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে দেপাড়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। হামলায়। হামলায় বিএনপির সভাপতি প্রার্থী মোঃ লিয়াকত হোসেনসহ অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে লিয়াকত হোসেনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এবং লিয়াকত হোসেনের ভাই শওকত হোসেন ও যুবদল নেতা জুয়েল রানাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় আহত লিয়াকত হোসেন জানান, আসন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দেপাড়া বাজার থেকে ধোপাখালি যাচ্ছিলাম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আফজাল হাওলাদারের নেতৃত্বে কাদের, আলমগীর, শিমুল, শ্রমিক লীগ নেতা সুমন, আফজাল হাওলাদার, হেদায়েত, ইস্কান্দার, ফজু, হুমায়ুন ইশারাত মেম্বার সহ ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসীরা  পূর্ব পরিকল্পিত মোতাবেক রামদা, লোহার রড, ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমিসহ আমার ১৫জন দলীয় নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি আরো জানান, আসন্ন বিএনপির সভাপতি পদে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে আফজাল হোসেন ও তার নাতি শ্রমিক লীগ নেতা সুমন আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

হামলার ঘটনায় কচুয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম তৌহিদুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনা শুনেছি। বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি।

ঘটনার বিয়ে আফজাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ও তার কোন নেতৃবৃন্দ জড়িত নন বলে জানান।

এ ঘটনায় কচুয়া উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রাশেদুল ই্সলাম বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উক্ত ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের চিতলমারীতে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ আহত -১০

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের চিতলমারীতে কলাতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিবির মাস্টার গ্রæপ ও মোস্তাফিজুর রহমান কচি গ্রæপের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রæয়ারী) দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার চরচিংগুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টুংগিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ ঘটনায় পরস্পবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, কিবির মাস্টার গ্রæপের আরিফুজ্জামান (৪৫), দবির শেখ (৪০), ভুলু মোল্লা (৫০) ও আব্দুল আলী (৩০)। মোস্তাফিজুর রহমান কচি গ্রæপের আহতরা হলেন খাদিজা বেগম (২৯), ইউনুছ শেখ (৫৫), ওসমান শেখ (৪০), কদম আলী (৪৫) ও শাহিদা বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে আরিফুজ্জামান ও খাদিজা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

কিবির মাস্টার জানান, মঙ্গলবার কলাতলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন ছিল। তার পক্ষের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন শাহিন শেখ। অপরদিকে মোস্তাফিজুর রহমান কচির পক্ষের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন অহিদুজ্জামান ঠান্ডা ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন মো. ইউনুছ। দুপুর ২ টার দিকে ৫০টি ভোট বাকি থাকতে কচির লোকজন যখন বুঝতে পারে তারা ঠকে যাবে, তখন তারা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ৬ থেকে ৭ জনকে আহত জখম করে।

মোস্তাফিজুর রহমান কচি জানান, তার পক্ষের লোকজন জয়লাভ করেছে। এমনটা শুনতে পেরে কিবির মাস্টারের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে ৭ থেকে ৮ জনকে গুরুতর জখম করেছে। আহতদের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টুংগিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চিতলমারী উপজেলা শাখার আহবায়ক মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, ‘সম্মেলন কেন্দ্রের ৫০০ গজের মধ্যে কোন ঘটনা ঘটেনি। কলাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী কিবির মাস্টারের ছেলে ও তার লোকজনের উপর দুর্বৃত্তরা হামলা হামলা চালিয়েছে। এর সাথে আওয়ামী মাইন্ডের লোকজনও জড়িত আছে। যদি বিএনপির লোকজন জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংহঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

চিতলমারী থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।