গড়াই শুকিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির খোজে সবাই

 

গড়াই মুকিয়ে যাবার জন্য কুষ্টিয়ার বেশীর ভাগ এলাকায় দেখা গিয়েছে বিশুদ্ধ পানির  চরম সংকট।  গ্রাম বা শহরের প্রায় অধিকাংশ জায়গায় টিউবওয়েল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না পরিমান মত পানি। কুষ্টিয়ার গড়াই নদী আজ প্রায় মৃত অবস্থা। বসন্তের শুরুতেই পানির প্রবাহ নেই গড়াই নদীতে। গড়াই এখন পরিনত হয়েছে ছোট খালে। গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর অধিকাংশ পিলার  আটকে গেছে চড়ে। সেই সাথে নেমে গেছে পানির স্তর। এর প্রভাবে কুষ্টিয়া পৌর এলাকাসহ আসে পাশের অধিকাংশ নল কুপে উঠছে না পানি।

সেইসাথে  পৌরসভার থেকে সরবরাহকৃত সাপ্লাই পানির উৎপাদনও কমে গেছে অনেক।

প্রায় সব এলাকায় পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে নলকূপ গুলো পানি পাচ্ছেনা।

অতিশয় বৃষ্টি পাত না হলে সমস্যা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মনেকরা হচ্ছে ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় কুষ্টিয়ায় চলতি খরা মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির এমন সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট নিচে পানির স্তর নেমে আসায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। শহরতলীসহ পৌরসভার প্রায় অর্ধেক টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে । টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় শহরের বেশীর ভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে প্রায় ৭ মাস বৃষ্টি না হওয়া এবং কুষ্টিয়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মার শাখা নদী গড়াই এর অববাহিকায় পানি না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পৌরসভার মধ্যে ৩৭ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। এই হোল্ডিংয়ের আওতায় ৪ হাজার ৬ শত টিউবওয়েল স্থাপন করা আছে । চলতি খরা মৌসুমে পানির স্তর স্বাভাবিক ভাবে ২৪ ফিট থাকার কথা থাকলেও সেখানে পানি স্তর আরো ৮/১০ ফিট নিচে নেমে গেছে। ফলে টিউবওয়েল গুলোতে পানি উঠছে না।

সমস্যা শহরের কমলাপুর, থানাপাড়া, আমলাপাড়া, কুঠিপাড়া এলাকায় সংকট বেশি দেখা দিয়েছে

শুষ্ক মৌসুমে গড়াই নদীতে পানি না থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকা গুলোতে পানি সংকট তীব্রতা ধারন করেছে। এছাড়াও শহর ও শহরতলী এলাকায়, হাউজিং এলাকাসহ শহরের সব স্থানে একই অবস্থা কম বেশি বিরাজ করছে।

পৌরসভার সূত্র আরো জানায়, পৌরসভার মধ্যে অনেকে পানির সংযোগ লাইন নেয়নি। বর্তমানে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়ায়, মানুষ ছুটে আসছে পৌরসভাতে। প্রতিদিন প্রায় ৪০/৪৫ টি আবেদন পড়ছে পানির লাইন নেয়ার জন্য। সংযোগ দেয়া হচ্ছে প্রায় ২৫টি। চলতি বছরের গত তিন মাসে মোট ৪ শত ৬৮ টি পানির সংযোগ লাইন দেয়া হয়েছে- জানুয়ারী মাসে ১০০টি, ফেব্রুয়ারী মাসে ৯০টি ওবং মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি ২৭৮ টি সংযোগ লাইন দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনই পৌর বাসিন্দারা টিউবওয়েলে পানি না ওঠার অভিযোগ নিয়ে আসছে। তাদেরকে পৌরসভার পানির সংযোগ লাইন নেয়ার জন্য আহবান করা হচ্ছে। এ সংকট দেখা দেয়ায় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিদিন ২০/২৫ টি পৌরসভার বিশুদ্ধ পানির সংযোগ লাইন দেয়া হচ্ছে। পানির লেয়ার অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে । আগামী ৫/৭ দিনের মধ্যে বৃষ্টি পাত না হলে সমস্যা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মোঃ তৈমুর জানান, কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় ওয়াটার টেবিল ওয়াইজ আমরা কাজ করছি। প্রতি শুস্ক মৌসুমে বিষয়টি মনিটরিং করা হয়ে থাকে। তারপর টিউবওয়েল দেয়ার চেষ্টা করি। তবে এ বছর পানির স্তর অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। এর আগে তারা টিউবওয়েল দিতাম, সেখানে ৮০ ফিট হাউজিং এর স্থলে এখন ১০০ ফিট দিতে হচ্ছে। যাতে করে শুস্ক মৌসুমে পানি ওঠে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছুটা পানির স্তর নেমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, সেগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে এরমধ্যে কুষ্টিয়া শহরে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

স্বাভাবিক ২০ ফিট স্তরের স্থলে ৩০ ফিট নিচে পানির স্তর নেমে গেছে। অর্থাৎ ১০ ফিট পানি নিচে নেমেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, কুষ্টিয়া শহরের বেশির ভাগ বাসা বাড়ীতে ইচ্ছা মত টিউবওয়েল এবং পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। যার ফলে এ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে কুষ্টিয়া পৌরসভার মধ্যে যাতে পানি সংকট না হয় সে জন্য চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে কুষ্টিয়া পৌরসভাকে ৭ টি প্রডাক্শন টিউবওয়েল হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শহরে পৌরসভার মধ্যে যে সমস্ত বিল্ডিংগুলো হচ্ছে, মালিকরা নিজেরাই ইচ্ছা মাফিক টিউবওয়েল ও পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি উত্তোলন করছে। ফলে এঅবস্থা দেখা দিচ্ছে। আগামী ৫০ বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরে পানির স্তর ভূগর্ভস্থরের আরো নিচে নেমে পানি সংকটের ভয়াবহতা তীব্র রূপ ধারণ করবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাবে।

এজন্য আগে থেকেই পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিটি বাসাবাড়ীতে পানির লাইন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

// রিপোর্টার: সুমাইয়া আক্তার //

‘মুভমেন্ট পাস’ কি শিং মাছ কিনতে যাওয়ার জন্য…! পুলিশ হতবাক….!!!

 

কোভিড-১৯ এর ঝড়ের গতির সংক্রমণ ঠেকাতে আট দিন সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণার ফলে আলোচনায় মূখ্য এখন  মুভমেন্ট পাস’।

সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে এই   মুভমেন্ট পাস। জরুরিভিত্তিতে বাইরে যাওয়ার জন্য পুলিশের চালু করা এই পাসের ওয়েবসাইটে ৩৩ ঘণ্টায় সাত কোটি ৮১ লাখ নাগরিক হিট করেছে। সবারই প্রয়োজন  মুভমেন্ট পাস।

এমন অবস্থায় কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনেই অতি প্রয়োজনীয় মুভমেন্ট পাসের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে ‌এমনটাই দাবি পুলিশের।

মুভমেন্ট পাসের পাওয়ার সাইটটি নিয়ন্ত্রণ করতে যখন হিমসিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ তখন জানা গেল, চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি কোনো প্রয়োজনে নয়, শুধু মাত্র বাজার থেকে শিং মাছ কিনতে মুভমেন্ট পাস ব্যবহার করেছেন এক নগরবাসী।

এবং এমন কাণ্ডে সেই ব্যক্তিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে কর্তব্যরত সার্জেন্ট।

সূত্র জানায়, মুভমেন্ট পাস নিয়ে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে মোটরসাইকেল যোগে মালিবাগ বাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। পথে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনের চেকপোস্টে পুলিশ তাকে ধরলে তিনি তার মুভমেন্ট পাস দেখান।

কোথায় আর কেন যাচ্ছেন জানতে চাইলে সত্যটাই জানান ওই ব্যক্তি। বলেন – বাজারের উদ্দেশে মালিবাগ যাচ্ছেন। তাই বলে উত্তরা থেকে!  জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন মালিবাগ বাজারে শিং মাছ পাওয়া যায় কাই ওখানে যাচ্ছি।

এমন জবাবে যারপরনাই হতাবাক হন পুলিশ সদস্যরা…। করোনার এই সংক্রমণে মুভমেন্ট পাস নিয়ে শিং মাছ কিনতে যাওয়া বিষয়টি হজম হয়নি পুলিশের। বিষয়টিকে মুভমেন্ট পাসের অপব্যবহার বলে মনে হয় ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যরত সার্জেন্টের।

যে কারণে শিং মাছ প্রিয় ওই ব্যক্তিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন সার্জেন্ট শেখ জোবায়ের আহমেদ।

// দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক //

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মধু সংগ্রহকারী আহত

 

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাঘের আক্রমণে এক মধু সংগ্রহকারী আহত হয়েছেন। আহতের নাম রবিউল ইসলাম (২০) শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের হালিম শেখের ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিম সুন্দরবনের হলদেবুনিয়ার আমড়াতলি এলাকায় মধু সংগ্রহকালে এ ঘটনা ঘটে।

রবিউলের সঙ্গীরা জানান, গত ১লা এপ্রিল বুড়িগোয়ালিনী থেকে মধু সংগ্রহের পাস নিয়ে সুন্দরবনে মধু আনতে যান তারা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে সুন্দরবনের আমড়াতলি এলাকায় মধু সংগ্রহ করার সময় হঠাৎ একটি বাঘ রবিউলের ওপর আক্রমণ করে বনে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

সঙ্গে থাকা তার সহযোগীরা একযোগে জোরে হাঁকডাক করলে বাঘ রবিউলকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বনের এক কিলোমিটার ভেতর থেকে তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় তাকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

//সাতক্ষীরা সংবাদদাতা//

৩০ দিন রোজা এবং শরীরিক উপকারীতা

 

৩০ দিন রোজা এবং শরীরিক উপকারীতা

প্রতি বছর কোটি কোটি মুসলমান রোজা রাখেন সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থেকে।

কয়েক বছর ধরে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজা পড়েছে গ্রীষ্মকালে। ফলে এসব দেশের মুসলিমদের রোজা রাখতে হচ্ছে গরমের মধ্যে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে।

ইউরোপের কোনো কোনো দেশে কুড়ি ঘণ্টাও রোজা রাখতে হচ্ছে।

কিন্তু মুসলিমরা যে এক মাস ধরে রোজা রাখেন, সেটা তাদের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

প্রথম কয়েক দিন : সবচেয়ে কষ্টকর

শেষবার খাবার খাওয়ার পর আট ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কিন্তু মানুষের শরীরে সেই অর্থে রোজার প্রভাব পড়ে না।

আমরা যে খাবার খাই, পাকস্থলীতে তা পুরোপুরি হজম হতে এবং এর পুষ্টি শোষণ করতে অন্তত আট ঘণ্টা সময় নেয় শরীর।

যখন এই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকে যে গ্লুকোজ, সেটা থেকে শক্তি নেয়ার চেষ্টা করে।

শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে, তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

তবে যেহেতু রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা কমে যায়, ওই কারণে হয়তো কিছুটা দুর্বল এবং ঝিমুনির ভাব আসতে পারে।

এছাড়া কারো কারো ক্ষেত্রে মাথাব্যাথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে।

এ সময়টাতেই আসলে শরীরে সবচেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগে।

৩ হতে ৭ রোজা : পানিশূন্যতা থেকে সাবধান

প্রথম কয়েক দিনের পর আপনার শরীর যখন রোজায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন শরীরে চর্বি গলে গিয়ে তা রক্তের শর্করায় পরিণত হচ্ছে।

কিন্তু রোজার সময় দিনের বেলায় যেহেতু আপনি কিছুই খেতে বা পান করতে পারছেন না, তাই রোজা ভাঙ্গার পর অবশ্যই আপনাকে সেটার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে।

নইলে আপনি মারাত্মক পানি-শূন্যতায় আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে গরমের দিনে যদি শরীরে ঘাম হয়।

আর যে খাবার আপনি খাবেন, সেটাতেও যথেষ্ট শক্তিদায়ক খাবার থাকতে হবে। যেমন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা এবং চর্বি।

একটা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সব ধরণের পুষ্টি, প্রোটিন বা আমিষ, লবণ এবং পানি থাকবে।

৮ হতে ১৫ রোজা : অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শরীর

এই পর্যায়ে এসে আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারছেন যে আপনার শরীর-মন ভালো লাগছে, কারণ রোজার সাথে আপনার শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।

ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের ‘অ্যানেসথেসিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের’ কনসালট্যান্ট ড. রাজিন মাহরুফ বলেন, এর অন্যান্য সুফলও আছে।

‘সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাই এবং এর ফলে আমাদের শরীর অন্য অনেক কাজ ঠিকমত করতে পারে না, যেমন ধরুণ শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে।’

‘কিন্তু রোজার সময় যেহেতু আমরা উপোস থাকছি, তাই শরীর তখন অন্যান্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। কাজেই রোজা কিন্তু শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এটি শরীরের ক্ষত সারিয়ে তোলা বা সংক্রমণ রোধে সাহায্য করতে পারে।’

১৬ হতে ৩০ রোজা : ভারমুক্ত শরীর

রমজান মাসের দ্বিতীয়ার্ধে আপনার শরীর কিন্তু পুরোপুরি রোজার সাথে মানিয়ে নেবে।

আপনার শরীরের পাচকতন্ত্র, যকৃৎ, কিডনি এবং দেহত্বক এখন এক ধরণের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাবে। সেখানে থেকে সব দূষিত বস্তু বেরিয়ে আপনার শরীর যেন শুদ্ধ হয়ে উঠবে।

‘এ সময় আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পাবে। আপনার স্মৃতি এবং মনোযোগের উন্নতি হবে এবং আপনি যেন শরীরে অনেক শক্তি পাবেন’, বলছেন ড. মাহরুফ।

‘শরীরের শক্তি জোগানোর জন্য আপনার আমিষের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক হবে না। যখন আপনার শরীর ‘ক্ষুধার্ত’ থাকছে তখন এটি শক্তির জন্য দেহের মাংসপেশীকে ব্যবহার করছে। এবং এটি ঘটে যখন একটানা বহুদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে আপনি রোজা রাখছেন।’

‘যেহেতু রোজার সময় কেবল দিনের বেলাতেই আপনাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তাই আমাদের শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট খাবার এবং তরল বা পানীয় গ্রহণের সুযোগ থাকছে রোজা ভাঙ্গার পর। এটি আমাদের মাংসপেশীকে রক্ষা করছে এবং একই সাথে আমাদের আবার ওজন কমাতেও সাহায্য করছে।’

তাহলে রোজা রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো?

ড. মাহরুফ বলেন, অবশ্যই, তবে একটা ব্যাপার আছে।

‘রোজা রাখা শরীরের জন্য ভালো, কারণ আমরা কী খাই এবং কখন খাই সেটার ওপর আমাদের মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। এক মাসের রোজা রাখা হয়তো ভালো। কিন্তু একটানা রোজা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া যাবে না।

‘শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটানা রোজা রাখা কোনো উপায় হতে পারে না। কারণ একটা সময় আপনার শরীর চর্বি গলিয়ে তা শক্তিতে পরিণত করার কাজ বন্ধ করে দেবে। তখন এটি শক্তির জন্য নির্ভর করবে মাংসপেশীর ওপর। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কারণ আপনার শরীর তখন ক্ষুধায় ভুগবে।’

ড. মাহরুফের পরামর্শ হচ্ছে, রমজান মাসের পর মাঝে মধ্যে অন্যধরণের রোজা করা যেতে পারে। যেমন ৫:২ ডায়েট (পাঁচ দিন কম খেয়ে দুদিন ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করা)। যেখানে কয়েক দিন রোজা রেখে আবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাওয়া-দাওয়া করা যেতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক।।

মরা খালে জলের হাসি- কৃষক জেলে বাজায় বাঁশি

 

নদী বেষ্টিত জনপদের নাম মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া।পুরো উপজেলায় রয়েছে ২০টিরও বেশি ছোট বড় খাল।যা দীর্ঘ্য দিনের পলি ও নোংরার পরতে গভীরতা হারাতে বসেছে।কিছু কিছু খাল রয়েছে অবৈধ দখলদারদের হাতে।

এতে দুশচিন্তায় শঙ্কিত ছিলো স্থানীয়রা।এমন প্রতিকূল অবস্থা থেকে খাল গুলোতে সুদিন ফিরানোর লক্ষ্যে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নে সু-পরিকল্পিতভাবে মরা খালে মিষ্টি পানির সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধিতে জাপান ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ইউনিয়ন ব্যাপি শুরু হয়েছে মরা খাল পুনঃরুদ্ধার ও খনন প্রকল্পের কাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,জাপান ভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার সরাসরি অর্থায়নে উপজেলা এলজিইডির তত্বাবধায়নে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির (পাবসস) এর উদ্যাগে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।প্রকল্পের স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে এলাকা ভিত্তিক ৬০০ সদ্যসের একটি বিশাল কমিটি নিয়মিত তদারকিতে অত্যান্ত দ্রুততার সাথে এগুচ্ছে প্রকল্পটির কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায় প্রতিদিন অন্তত ১২ ঘন্টা চুক্তিতে তিনটি ভেকু দ্বারা চলছে খাল থেকে মাটি উত্তোলনের কাজ।

এই বিষয়ে ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্জিঃ সাঈদ মোঃ লিটন জানান নানা প্রতিকূলতা মধ্যে দিয়েও কাজটি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি বলে এলাকাবাসি অত্যান্ত খুশি আনন্দিত হয়েছে।

এলাকার মানুষের অনেক দিনের চাহিদা ছিলো জলাধার স্রোতস্বিনী বহতা খাল।এ জনপদে খাল কৃষি কাজ সহ মৎস আহরনে যেমন গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে তেমনি সাধারণ মানুষে দৈনন্দিন নানা কাজে উপকারে বয়ে আনবে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন,এমন উদ্যোগ আমাদের অনেক দিনের আশা-প্রত্যাশা ছিলো।এই প্রকল্প এই জনপদের পরিবেশে সেই সোনালী দিন ফিরিয়ে আনবে।

চরপাথালিয়া গ্রামের কৃষক আমীর আলী বলেন,ছোড বেলায় আমরা এই খালে মাছ ধরছি,খালের তে পানি জমিনে দিছি ফসল ফলাইছি।আমার মনে হয় সেই সুদিন ফিরা আইতাছে বাজান।

 

সৈয়দ মোঃ শাকিল, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ।

 

 

 

।।প্রসঙ্গ ভবদহ। করোনা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে উভয় সংকট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কৃপাদৃষ্টি কামনা।।

 

করোনার বৈশ্বিক মহামারীতে সমগ্র বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের অবস্থাও হতাশা ব্যাঞ্জক।করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার যেভাবে গাণিতিক হারে বাড়ছে তাতে সামনের দিনগুলো নিয়ে জাতি সশঙ্কিত। শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের লকডাউন। লকডাউনসহ সরকারের দেওয়া ১৮ দফাসহ আরও অনেক নির্দেশনা।

ইতিমধ্যে সরকার ঘোষিত লকডাউন উপেক্ষা করে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বানিজ্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজপথে নেমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার জন্য নুন্যতম সুযোগটা আদায় করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

পরিবহন মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি থাকায় তাদের দাবি আদায় করা সম্ভব পর হয়েছে।

কিন্তু যশোর সদরের কিছু অংশ, অভয়নগর,মনিরামপুর, কেশবপুর ও খুলনার ডুমুরিয়ার একটা অংশ নিয়ে গঠিত দীর্ঘদিনের সমস্যাবহুল ভবদহ এলাকার সাধারণ জনগণ, কৃষক, কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোন সংগঠন না থাকায় আশির দশকে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আজও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর মতো বয়ে বেড়াচ্ছে।

গ্রীষ্মের দাবাদহে যখন দেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির তখন ভবদহ এলাকার ২১ বিলের অনধিক ৪০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে ডুবে আছে। বিলগুলোর মধ্যে মনিরামপুর ও অভয়নগরের বিল কেদারিয়া, বিল গান্ধী মারী, চাতরার বিল, নুনের বিল, বিল ঝিকরা, ধলের বিল,ডুমুরের বিল, শালিখার বিল,ফাহালের বিল, ভায়নার বিল, মাঠের ডাঙার বিল, বিল পায়রা, বিল কপালিয়া, আড়পাতার বিলের ৩০ হাজার হেক্টর জমি ও কেশবপুর উপজেলার বক উড়ার বিল,বাগডাঙার বিল, ভাটবিলার বিল, নড়ের বিল, জিয়লদহের বিল, বিল খুকশিয়া, বিল ভায়নাসহ অনেকগুলি কুড় বিল নিয়ে ১০ হেক্টর জমি আজও পানিকে অপসরণ করে সূর্যের আলো দেখতে পায়নি।

 

ভবদহ জলাবদ্ধতা

 

অপরদিকে বিপরীত চিত্র দেখা যায় অত্র এলাকার ভৈরব, শ্রীনদী, হরি, টেকাসহ সকল নদ-নদী গুলো পলি জমে ভরাট হয়ে পানি শূণ্যতায় ভুগতে ভুগতে মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বিলগুলো থেকে পানি অপসরণের কোন পথ নেই।

বাংলাদেশ সরকারের নদ- নদী খাল খননের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ভবদহ এলাকার নদ-নদী খননের জন্য ব্যয় হলেও হরিলুটের খৈয়ের মতো সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া কোন ভাল ফলাফল পাওয়া যায়নি। গত কয়েকদিন আগের ছবি দেখলে বাস্তব চিত্রটা পরিলক্ষিত হয়।

ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পর থেকে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরের অনেক লোক শিল্প নগরী নওয়াপাড়ায় দৈহিক শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু সেখানেও বিধিবাম।

একদিকে বাপদাদার থেকে প্রাপ্ত পৈত্রিক সম্পত্তি দীর্ঘদিন অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে অন্যদিকে বাঁচার জন্য কায়িকশ্রম বিক্রির জন্য নওয়াপাড়া শিল্প নগরীর যে বিভিন্ন কার্গোতে কাজ করতো সেখানে করোনার কারণে পূর্বের ন্যায় মালামাল ওঠানামা কম হওয়ায় কায়িকশ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধের পথে।ফলে অত্র এলাকার অধিকাংশ লোক খাদ্য, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ঝঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

ভবদহ এলাকার কৃষি ও কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের এই মানবেতর জীবন-যাপন থেকে বাঁচানোর জন্য ফসলী জমিগুলো পানির নিচে থেকে উদ্ধার করার জন্য নদ- নদী খননসহ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত টিআরএম প্রকল্প যেমন চালু করা প্রয়োজন তেমনি সাধারণ জনগণকে বাঁচানোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এনে প্রত্যেক পরিবারের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। আর এগুলো যদি না করা হয় তাহলে ভবদহ এলাকার জনগন আস্তে আস্তে ডাইনোসরের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আর তাই বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রার্থনা করছি।

 

// রিপোর্টার স্বীকৃতি বিশ্বাস //

একজন সারমিন সালাম- হয়ে উঠেছেন জনদরদি- মানবতার প্রতীক

 // আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা //

স্বামী হারা এক অসহায় স্ত্রী অনেক স্বপ্ন নিয়ে  তার একমাত্র পুত্র হাবিব (১০) কে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন ছেলেকে  কোরআনে হাফেজ হিসাবে গড়ে তুলবেন।

কিন্তু হটাৎ বাধা হয়ে দাড়ালো ছেলেটির চোখের সমস্যা ।

পড়াশুনা করতে পারে না।

ছেলেটির বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলা পাচানী গ্রামে। একই গ্রামের পাচানী দবির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে হাবিব। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করে দিন-মুজুর মা।

অসহায় মা রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন  জনের কাছে সহযোগিতার জন্য যান সন্তানের চোখের চিকিৎসার জন্য। ছেলেটির মা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারবে না যে তার ছেলে এক সময় অন্ধ হয়ে যাবে তাও চিকিৎসার অভাবে।

সাহায্যের জন্য এমন সময় কাউকে পাশে না পেয়ে রূপসার এক গন মাধ্যম কর্মীর  মাধ্যমে শরণাপন্ন হন খুলনা-৪ আসনের  সংসদ সদস্য ও অসহায় মানুষের ভালবাসার সেই মহান ব্যাক্তি আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও তার সহধর্মিনী মানবতার মূর্ত প্রতীক সারমিন সালামের কাছে।

সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় গরীব, অসহায়,দু:স্থ মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসার কারনে  মানবতার মা‌‌  উপাধী অর্জন করেছেন।

শিশুটির মায়ের সাথে সকলের প্রিয় মা সারমিন সালাম কথা বলেন এবং  তাকে আশ্বস্ত করেন যে চোখের সমস্যার চিকিৎসার সম্পূর্ন অর্থ সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘ সংগঠনটি ব্যয় করবে অর্থাৎ সে নিজেই দিবে।

একথা অনুযায়ী শিশুটির মায়ের কাছে  তাঁর হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয় এমপির চীফ কো-অডিনেটর নোমান ওসমানী রিচি  ও সালাম মূশের্দী সেবা সংঘের টিম লিডার সামসুল আলম বাবুর কাছে।

তারা বাড়ি এসে সেই আর্থিক সহায়তা শিশুটির মায়ের হাতে তুলে দেন।

শুধু তাই না সারমিন সালাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ও চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়।

আর্থিক সহায়তা করার মুহূর্তে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এমপি পত্নী মিসেস সারমিন সালাম কথা বলেন।

সেই কোরআনে হাফেজি পড়া শিশু হাবিবের সাথে ও শিশুটির মায়ের সাথে কথা বলার সময় আবেগ ঘন একটি মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। শিশুটি সহ তার মা এবং এমপি পত্নী নিজেও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

এভাবেই রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার মা হয়ে সকলের মাঝে সারাজীবন বেচে থাকবেন মিসেস সারমিন সালাম।

এই সকল বিষয় শিশুটির মাতা বলেন, আমার  অনেক স্বপ্ন ছেলে হাবিবকে হাফেজ বানাব। বাবা ছাড়া ছেলেটাকে অনেক কষ্ট করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে ওর পড়াশুনা করাচ্ছি। কালো জ্বরের পর ওর চোখের এই সমস্যা ধরা পড়ে ৬বছর পর।

অনেক টাকা লাগবে ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে। কোথায় পাইব এ টাকা। সারাদিন চোখের পানি ঝরলেই গলেনি মানুষের মন।

অনেকের কাছে গেছি কেউ তেমন কোন সহযোগিতা করেনি। আমাদের প্রিয় এমপি ও তার স্ত্রী (ভাবী)সারমিন সালামের সাথে একজন যোগাযোগ করিয়ে দেন।

ভাবী আমার সব কথা শুনেন। তখন আমাকে বলেন হাবিবের চিকিৎসা আমি করিয়ে দিব। তুমি চিন্তা করিবে না। সেই মত আমার বাড়িতে এসে নগত টাকা দিয়ে যান তাদের কাছের মানুষ গুলো।

আমি কখন ও ভাবতে পারেনি আমার ছেলেকে ভাল চিকিৎসা করাব।

আজ আমার ছেলের ভাল চিকিৎসা করাতে যাচ্ছি যে মানুষটির জন্য আল্লাহ তাদেরকে ভাল রাখুন, সুস্থ রাখুন। আমি নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ ভাবী ও এমপি সাহেবকে হায়াত দান করুন। আমার মত অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতা করতে পারে সেই কামনা করি।

আইচগাতী সহ রূপসা উপজেলায় মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্খ বিধির নির্দেশনা: সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ

 

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী ও এনভয় গ্রুপের পরিচালক সারমিন সালামের  সার্বিক  সহযোগিতায়-  ৮ এপ্রিল সালাম মূশের্দী সেবা সংঘের আয়োজনে দিনব্যাপী রূপসা উপজেলার  আইচগাতী সহ উপজেলার বিভিন্ন  ব্যস্ততম চলাচলের জায়গায় মাষ্ক বিহীন পথচারীদের মাঝে বিনামূল্য  মাষ্ক বিতরন  সহ করোনা ভাইরাস দ্বিতীয় ঢেউ  মোকাবেলা করার জন্য পথচারী ও সাধারন মানুষের মাঝে গণসচেতনতা মূলক প্রচারনা ও আলোচনা করা হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত এ  মাক্স বিতরণ ও আলোচনায়  প্রধান অতিথি হিসাবে মাক্স বিতরণ করেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য  অধ্যক্ষ ফ ম আ: সালাম।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও আইচগাতী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল।  জেলা  সেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মোঃ মোতালেব হোসেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক মোঃ ইমদাদুল ইসলাম ইমদাদ ও সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হাবিব।

 

অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি  মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারন সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান লিটন,শ্রীফলতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইসহাক সরদার,এমপির প্রধান সমন্বয়কারী ও যুবলীগ নেতা মোঃ নোমান ওসমানী রিচি,সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টীম লিডার সামসুল  আলম বাবু, আওয়ামীলীগ নেতা মিয়া আরিফ হোসেন,এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ,আওয়ামীলীগ নেতা শেখ আবুল হোসেন,সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোঃ শিমুল হোসেন ও মোঃ সিদ্দিক চৌধুরী সহ নেতৃবৃন্দ প্রমূখ।

// আ: রাজ্জাক সেখ, খুলনা ব্যুরো//

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতার চরম বর্হিঃপ্রকাশ নয় কি…..!

 

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব যখন বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামি নিয়ন্ত্রণের জন্য হোমকোয়ারেন্টেন,আইসোলেশন,সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের জন্য জনগণকে সচেতন করার কাজে  দিশেহারা তখনও কিছু মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক অসচেতনতা এবং দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা বড়ই কষ্ট দায়ক।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায় পারিবারিক ভ্রমনের ক্ষেত্রে দ্বিচক্রযান মোটরসাইকেলের বহুল ব্যবহার। একটি মোটর সাইকেলের ধারণ ক্ষমতা বা সীট ক্যাপাসিটি ০২ টি।পথে চলতে অহরহ চোখে পড়ে একটি পরিবারের সকল সদস্য ( কমপক্ষে ০৪ জন) একটি মোটর সাইকেলে যাতায়াত করেন।কিন্তু চলতি পথে যদি দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে হয়তো এমনও হতে পারে একটি পরিবার শেষ হয়ে যেতে পারে। যা আমাদের সকলের বিবেচনায় আনা দরকার।

করোনার এই মহামারীও মধ্যে গতকালও দেখা যায় কিছু লোক একটি মোটর সাইকেলে করে বিকালে পারিবারিক ভ্রমনে বেরিয়েছে যাদের অধিকাংশ মাস্কছাড়া ও একটি মোটরসাইকেল পুরো পরিবার।যা পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হয়।লকডাউনের জন্য বিনা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার কথা থাকলেও এভাবে পারিবারিক ভ্রমন কতটা যুক্তি সংগত তা ভেবে দেখার জন্য পুলিশের নয় ব্যক্তি সচেতনতায় যথেষ্ট।

 

করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ কতদিকে সামলাবে? একদিকে চোর-ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদক পাচারকারী, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ নিজেদের কিছু প্রশাসনিক কাজ তো আছেই।এরপরে নতুন করে শুরু হয়েছে করোনার উপদ্রব সাথে সাথে দেশের জনগণকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখার জন্য গণসচেতনতা ও মাস্ক ব্যবহারসহ সামাজিক সচেতনতা।

 

তাই দেশের নাগরিক  হিসাবে সকলের নৈতিক দায়িত্ব সরকার ও সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরকে সহযোগিতা করে করোনার এই মহামারী থেকে সোনার বাংলাকে রক্ষা করা।

// স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

এ কেমন সেতু…! যে সেতুর আগে রয়েছে ২০০ গজ সাঁকো

 

টাঙ্গাইলের একপারে গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ভাদাই। ওপারে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের নরপাড়া। মাঝে যমুনার মৃতপ্রায় শাখা লৌহজং।

নদীর বুকে কোটি টাকার সেতু। কিন্তু সেতুর এক পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় পারাপারে ভোগান্তি মানুষের।

জানা যায়, আশপাশের আট গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে গোপালপুর উপজেলা পরিষদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নির্মাণ করে এ সেতু। ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, ৪০০ গজ দীর্ঘ নদীর মাঝখানে ৬০ ফিট দীর্ঘ সেতু নির্মাণের পর উভয় পাড়ে নতুন সংযোগ রাস্তা করার কথা। প্রায় আট টন কাবিখার চালের বিনিময়ে সেতুর টাঙ্গাইল অংশে মাটি ভরাট করে নতুন সংযোগ রাস্তা করা হয়। কিন্তু ব্রিজের জামালপুর অংশে মাটি ভরাট হয়নি, রাস্তাও হয়নি।

ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম জানান, পিংনা ইউনিয়ন পরিষদকে একাধিকবার অনুরোধ সত্ত্বেও ঐ অংশে মাটি ভরাট বা রাস্তা করা হয়নি। এমনকি ঐ অংশে সেতু পর্যন্ত বাঁশের সাঁকো নির্মাণেও তারা অনীহা দেখায়। এমতাবস্থায় মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ প্রতি বছর ৩০/৩৫ হাজার টাকা খরচ করে ঐ অংশে ২০০ গজ দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেয়।

ভাদাই গ্রামের প্রবীণ ফুল মিয়া জানান, বিশাল জনপদ সোনামুই, হরিষা ও ভাদাই গ্রামের ৭ হাজার মানুষ খুবই অবহেলিত। গ্রামে কোনো উচ্চবিদ্যালয় নেই। গ্রামের চার শতাধিক ছাত্রছাত্রী সেতু পাড়ি দিয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলার বাশুরিয়া শামসুন্নাহার হাইস্কুলে পড়ালেখা করে। এলাকার বাসিন্দারা পিংনা-ভূঞাপুর সড়ক হয়ে জেলাসদর টাঙ্গাইল ও ঢাকায় যাতায়াত করে। কৃষিপণ্য সোনামুই হাটে বিপণনেও এই সেতু পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু সেতুর এক অংশে বাঁশের সাঁকো থাকায় যান পারপার করা যায় না। ফলে সেতুটি কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না।

গোপালপুর উপজেলা এলজিইডি জানায়, জনদুর্ভোগের অবসানে উপজেলা প্রশাসন সেতু ও এক অংশে সংযোগ রাস্তা করেন। কিন্তু সরিষাবাড়ী অংশে রাস্তা না হওয়ায় সেতুর সুবিধা পাচ্ছেন না মানুষ। পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেন দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, জামালপুর অংশে মাটি ভরাট ও রাস্তা নির্মাণে বাধা থাকায় কাজ করা যায়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ হবে। গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, জামালপুর জেলা প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব দেখানোয় সেতুর ঐ অংশে খুব তাড়াতাড়ি সংযোগ রাস্তা হবে বলে আশাবাদী তিনি।

মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: