চাঁদপুরের আদম ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন প্রতারণা করে গাড়ী বাড়ির মালিক

//বিশেষ প্রতিনিধি//

দীর্ঘদিন প্রতারণার মাধ্যমে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আদম ব্যবসা চালাচ্ছেন চাঁদপুর সদরের ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন। আর এতে করেই তিনি গাড়ি বাড়ি ও প্রচুর অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন। চান্দ্রা ইউনিয়নের বাংলাবাজারে ৩ তলা ফ্লাট বাসা ও পার্শ্ববর্তী বাখরপুরে রয়েছে তার নামে বেনামে আলাদা বাড়ি ও জমি। বখাটে ছেলেকে সম্পদ দেখাশোনায় কিনে দিয়েছেন দামী মোটর গাড়ি। বাবুল হোসেনের কৌশলী নানান প্রতারনা যেন রুপকথার গল্পকেও হার মানায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চারিত্রিক ভাবেও বাবুল হোসেন অত্যান্ত নিকৃষ্ট ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক। একাধিক বিবাহ ছাড়াও নারীদের প্রতি তার কুনজরের খবর জানেন এলাকাবাসী। আর তার আদম ব্যবসা ও নামে বেনামের সম্পত্তি দেখা শুনা করে এলাকার কেশোর গ্যাং চক্রের মূল হোতা তার ছেলে বখাটে জিয়া উদ্দিন।

১২ মার্চ শনিবার চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদে প্রতারক বাবুল হোসেন ও তার ছেলে জিয়া উদ্দিনের এসব তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এক নারী (তার স্ত্রী দাবীকারী) শিউলি বেগম।

তিনি বাবুল হোসেন ও তার ছেলে জিয়া উদ্দিনের শাস্তি দাবী করে আরো বলেন, বাবুল হোসেন এর প্রথম স্ত্রী মোমিনা বেগম তাকে চাচাতো বোন পরিচয় দিয়ে ভুল বুজিয়ে বাবুল হোসেনের সাথে জোড়পূর্বক বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর ব্যবসার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা বাবুল হোসেন হাতিয়ে নেন। টাকা নিয়ে সে দীর্ঘদিন যাবৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর তার ছেলে জিয়া উদ্দীন নানাভাবে ফোনে আমাকে হুমকি ধমকিও দেয়। এতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এদিকে আদম ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন ও তার ছেলে জিয়া উদ্দিন কে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খানজাহান আলী কালু পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, বাবুল হোসেন ও তার ছেলে জিয়া উদ্দিনের নামে অভিযোগ পেতে পেতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। তিনি গোপনে আদম ব্যবসা করতো তা আমি জানতাম না। বাবুল হোসেন ও তার ছেলে জিয়া উদ্দীন মিলে বিদেশ পাঠানোর নামে বহু মানুষের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগের রয়েছে। এছাড়াও তার স্ত্রী মোমিনা স্বামীকে চাচাতো ভাই পরিচয় দেখিয়ে এক অসহায় নারীকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করিয়ে সেখান থেকেও ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ার গুরুতর অভিযোগ পেয়েছি। আমি দেশের প্রচলিত আইনে প্রশাসনের নিকট তার শাস্তি কামনা করছি।

এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে গেলে জিয়া উদ্দীন নামের ওই যুবক বক্তব্য দিতে অস্বকৃতি জানায়। তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জিয়া উদ্দীনের পিতা বাবুল হোসেন বলেন, আমি আদম ব্যবসা করতাম এটা সত্য। করোনার কারনে কয়েক জন বিদেশ যেতে পারেনি। তাদের থেকে যে টাকা নিয়েছি তা ধীরে ধীরে পরিশোধ করে দিচ্ছি। প্রতারণার মাধ্যমে শিউলী বেগমকে বিয়ে করেছি তথ্যটি সঠিক নয়। উল্টো তাকে আমি ২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। মানুষ ঠকিয়ে বাড়ী গাড়ী করাসহ অন্যান্য অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে জানিয়েছেন।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

সাবেক সংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল কবির স্মৃতি গোল্ডকাপের কোয়াটার ফাইনাল সম্পন্ন

দুশ্চরিত্র পুলিশের নাটকীয় বিয়ে ও অর্থ আত্মসাৎ

দুশ্চরিত্র পুলিশের নাটকীয় বিয়ে ও অর্থ আত্মসাৎ

//বিশেষ প্রতিনিধি//

চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার  মোকলেছ পাটওয়ারী,মাতাঃ শাহিদা  বেগম, ৩ নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের  পূর্বচর কৃষ্টুপুর গ্রামের স্হানীয় বাসিন্দা

চাকুরীরত আছেন শাহাদৎ হোসেন,কক্সবাজার ফাঁড়ি থানায় কর্মরত, শাহাদৎ হোসেন দূর্চরিত্রবান প্রকাশ পেল,নিজ থানায় একি ওয়ার্ডের প্রতিবেশী মিসেস মিক্তা আক্তারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে অন্ন ইউনিয়নের কাজীর নিকট নিকাহ নামার মাধ্যমে শরিয়া মোতাবেক বিবাহ করেন।

বিবাহের একসপ্তাহ ভালো কাটছিলো মিতু ও শাহাদৎ দম্পতীর,নিজ আর্থিক সার্থ হাসিলের উদ্ধেশ্যে স্ত্রী মিতু ও তাহার পরিবার কে বলে,,,তাহার ব্যাংক লোন পরিশোধের প্রয়োজনে টাকার প্রয়োজন,মিতুর পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে চাপপ্রয়োগ করে ১০ লক্ষ টাকা ক্যশ হাতিয়ে নেয়,এর কিছু দিন পর আরও আড়াই লক্ষ্য টাকার জন্যে চাপপ্রয়োগ করে।

এর কিছু দিন পর সে মিতুকে বিভিন্ন ভাবে অপবাদ দিতে শুরু করে,এবং বাজে ব্যবহার করে,এরপর মিতু ও তাহার পরিবার খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারে শাহাদৎ মিতুর পূর্বে আরও একটি বিয়ে করেছে,প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে দ্বিতিয় বিয়ে করেন।

এবিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি কে মিতুর পরিবার জানান,,মিতুর পূর্বে একটি বিয়ে হয়েছে এবং তাহার একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে,স্বামী প্রবাশে থাকায় মিতুর সাথে মুঠফোনে শাহাদৎ এর কথোপকথন এর ধারাবাহিকতায় দুজনের মধ্যে প্রেমের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।

মুঠফোন,মেসেঞ্জার ও ওয়ার্টসাফে তাদের প্রেমের বিনিময়ে শাহাদৎ মিতুকে তাহার স্ত্রী হিসেবে সারাজীবনের জন্যে পাওয়ার কথা প্রকাশ করেন।

এখন শাহাদৎ স্ত্রী মিতুর কোন খোঁজখবর না নিয়ে,তাহাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে,এবং শাহাদৎ তাহাকে ডিভোর্স দিবে বলে মিতু ও তাহার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে থ্রেড ও ভয়প্রধান করছে বলে মিতু ও তাহার পরিবার জানান।

এমনকি পুলিশ শাহাদত কাজী কে ও সাক্ষীগণ কে বিভিন্ন ভাবে চাপপ্রয়োগ করছে এমনকি বিবাহের কাবিননামা ১০’লক্ষ টাকার হইতে কমানোর জন্যে মিতুকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এবং অসহায় মিতুর পরিবার বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এর সঠিক বিচারের দাবী করেন।

বরিশাল শেবাচিমে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তার

পলাশ চন্দ্র দাসঃবরিশাল//

ভুয়া চিকিৎসকের অভিযোগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাকিবুল ইসলাম (১৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঘোরাঘুরির সময়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাকিব ঝালকাঠি জেলার পৌর এলাকার রাজের বাড়ির বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে।

শেবাচিমের নবজাতক বিভাগের দায়িত্বরত রেজিষ্টার ডা. মো. আফজাল হোসেন জানান, ওই ওয়ার্ডে এক যুবককে সন্দেহজনক চলাফেরা করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিছুই বলতে পারেননি। তখন ওই যুবককে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভুয়া চিকিৎসক সেজে অনেকে মেডিকেলে প্রবেশ করেন। যার কারণে অসস্তিতে পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে।’তবে এ বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার কথা জানান এই পরিচালক। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবককে বরিশাল কোতয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশ

ভোট দিতে এসে জানলেন ভোট স্থগিত, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে অনিয়ম ও পক্ষ-পাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে।অদৃশ্য কারনে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ায় ভোটাররা ভোট দিতে এসে জানলেন ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভোটার অথবা প্রার্থীদের কোন ধরনের লিখিত ব্যাখ্যা দেয়া না হলেও নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা তালতলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির শংকায় তাৎক্ষনিকভাবে নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি প্রার্থী ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও দাতা সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন সিকদার অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন গত ২রা মার্চ ২০২২ খ্রিঃ তারিখ সম্পন্ন হয়েছে। অভিভাবক সদস্য নির্বাচন শেষ হলে প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ শফিউল আলম (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) গত ০৭ ই মার্চ ২০২২ খ্রিঃ তারিখ রোজ রবিবার বেলা ১২ টার সময় সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য্য করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইদ্রিসুর রহমানকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

ওই তারিখ অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়ার জন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। অতঃপর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সকল ক্যাটাগরির নির্বাচিত সদস্যগণকে ৭ মার্চ ২০২২ খ্রিঃ তারিখ সভাপতি নির্বাচনের জন্য সকলকে অবহিত করেন। ধার্য্য তারিখে সকল ক্যাটাগরির সদস্যগণ সভাপতি নির্বাচনের জন্য বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ শফিউল আলম (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন স্থগিত করার কথা জানায়।

নির্বাচিত সকল ক্যাটাগরির সদস্যগণ প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট মুঠোফোনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশক্রমে সভাপতি নির্বাচনের কার্যক্রম নোটিশ ব্যতীত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্কুলের সভাপতি পদ প্রার্থী ভোটার ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সভাপতি পদপ্রার্থী ও জমিদাতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল প্রিজাইডিং অফিসারের যোগসাজসে আমি যাতে সভাপতি নির্বাচিত না হতে পারি সে জন্য ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন বন্ধ করেছেন। তিনি অতিদ্রæত নির্বাচন দেয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ  কাওছার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

কোন দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারালেন ডিএসসিসি সহকারী প্রকৌশলী ?

দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারালেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সহকারী প্রকৌশলী (পুর) আ হ ম আব্দুল্লাহ হারুন। তার বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সচিব আকরামুজ্জামানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে অপসারণের বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তিনি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ না করে ভৌতিক এবং অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করে আর্থিক ক্ষতি করেছেন। ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালীন আব্দুল্লাহ হারুন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় একটি দরপত্র আহবান করে।

এতে কমলাপুর টিটিপাড়া থেকে দক্ষিণ কদমতলী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রেললাইনের দুই পাশে জমা মানববর্জ্য মাটি ও রাবিশ অপসারণ এবং ডাম্পিং করার কাজটিকে তিন গ্রুপে ভাগ করে ২৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। এতে বিভিন্ন অনিয়ম এবং কাজের পরিধি ও নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। যেখানে মোট বর্জ্য মাটি ও রাবিশ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টন। যার মধ্যে বর্জ্যরে পরিমাণ হবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টন।

অবশিষ্ট এক লাখ ১৫ হাজার টন মাটি ও রাবিশ যা বিক্রয়যোগ্য থাকলেও তা ডাম্পিং বাবদ দরপত্র ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১৯-এর ৬৪ (২) বিধি অনুসারে জনস্বার্থ ও করপোরেশন স্বার্থ রক্ষার্থে চাকরি থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

চক্রব্যূহে ইউক্রেন// রাশিয়া চার দিক থেকে ঘিরে হামলা: কোন কোন জায়গা দখল…

 

বরিশাল সরকারি পানির লাইন বিক্রি, প্রতিবাদ করায় হামলা

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে এলাকাবাসীর জন্য দেওয়া গভীর নলকূপ।আর একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের আখের গুছাতে এলাকা বাসিদের জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থে পার্শবর্তী এলাকায় পানির লাইন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়৷

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ৬নং ওয়ার্ড হাটখোলা এম ই পি সংলগ্ন গলির বাসীন্দা মোঃ রফিক হাওলাদার,পানির লাইন বিক্রি করার প্রতিবাদ করায় গত (২৮ ফেব্রুয়ারী) সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকা একই এলাকার বাসিন্দা সোনাই(৫০) আল আমিন, (৩০) পিতা আকবর মিস্ত্রী, আরিফ (২৪) পিতা ইউসুফ,মনি (৫৫) স্বামী আকবর মিস্ত্রী,মাহফুজসহ ১০/১৫ জন মিলে তাদের উপর হামলা চালায়। এছাড়াও পূর্বের শত্রুতার জেরধরে বিভিন্ন সময় মাদক, মিথ্যা মামলা, হুমকি ধামকীসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় ক্ষতি ও প্রাননাশের হুমকি স্বরুপ কথা বলেন।

এসময় তার ডাক চিৎকার শুনে ঘটনা স্থানে ছুটে আসেন দলিল উদ্দিন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছদ্মনাম রিয়া আক্তার (১৩), বাবাকে উদ্ধার করতে এসে সন্ত্রাসীদের হাতে শ্লীলতাহানি ও হামলা শিকার হয় শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বরিশাল শে-র ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

এবিষয়ে ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খান মোহাম্মদ জামাল হুসাইন বলেন আমাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি বলছে, আমি তাদের সুস্থ হয়ে আসতে বলছি, দু পক্ষের কথা শুনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে ফ্ল্যাটে ঢুকে খুন

বাগেরহাটের রামপালে মোংলা উপজেলা পরিষদের ড্রাইভার রাজু’র বিরুদ্ধে জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালের দুর্গাপুর-শরাবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ড্রাইভার মো. রাজু’র বিরুদ্ধে অন্যের জমি নিজ দখলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও জমির মালিক বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে এমন অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী খায়ের ফকির জানান, গত ২০১৮ সালে জমি দাবী করে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন নূরুল ইসলাম, ঝর্ণা ও আকলিমা গংরা। সেটি বর্তমান বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ ফকিরকে সালিশ মিমাংসা করে দেয়ার নির্দেশ দেন মেয়র। তিনি সালিশ মিমাংসা করে জমি বন্টন করে দেন। উক্ত শালিসনামায় ওই রাজু’র স্বাক্ষর রয়েছে।

এরপরেও ওই সালিশ অমান্য করে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ড্রাইভার শেখ রাজু আহমেদ ও আমেনা বেগম তর্কিত জমিতে বালি ভরাট করতে থাকলে ভুক্তভোগীরা এবার উল্টো মেয়র বরাবর লিখিত আবেদন করেন। যা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সমাধানের নির্দেশ দেন। ওই অবস্থায় রাজু গংরা বাগেরহাটের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে একটি ১৪৪ ধারার অভিযোগ এনে পিটিশন মামলা করেন। যার নং ২৬৭/২০২১ (রামপাল)। যা শুনানি অন্তে বিজ্ঞ আদালত মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে খারিজ করেন বলে ভুক্তভোগী খায়রুল দাবী করেন।

এরপর ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম ও একই আদালতে প্রতিকার চেয়ে একটি ১৪৪ ধারার পিটিশন মামলা করেন। যার নং ১১৫/২০২২ যা চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম বলেন, এসএ ৫৭ নং খতিয়ানের ৮৭/২৮৪ দাগের ০.০৬৮৬ একর জমি প্রকৃত মালিকদের নিকট থেকে ক্রয় করেন। ওই জমি তিনি নামপত্তনও করে নেন। প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী হওয়ায় জমি বুঝে নিতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন উপজেলা পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন রাজু। তিনি তার জমি বুঝে নিতে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র এর জোর হস্তক্ষেপ দাবী করেন। এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা পরিষদের ড্রাইভার মো, রাজু শেখের ০১৭৩৫-৭৪৮১৬২ নং মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ বা মামলা করিনি। কোথাও কোনো শালিসে আমি স্বাক্ষর করিনি বলে চ্যালেঞ্জ করেন। অহেতুকভাবে আমাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে খায়রুল এমনটি করছে। আমি অনেক পূর্বে জমিতে আছি। ওর জমি দখলের প্রশ্নই আসে না।

ঝর্ণা, আকলিমা, নূরুল ইসলাম ও আমেনার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

বাগেরহাটের রামপালে খালথেকে অজ্ঞাত ব‍্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

খুলনার বটিয়াঘাটায় আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি দখল।। ফাঁসলেন সাবেক ইউপি সদস্য

//স্টাফ রিপোর্টার//

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার ০৫ নং ভান্ডারকোট ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের মৃত আকবর আলী হাওলাদারের পুত্র সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার(৬০) নামে আশ্রয়ন প্রকল্পের জমি দখল করে হতদরিদ্র পরিবারের মানুষের হয়রানিসহ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৯.০২.২২ ইং তারিখ রোজ রবিবার বিকাল আনুমানিক ৪টায় উপস্থিত স্থানীয় ভুক্তভোগীরা এসব কথা বলেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প পাঞ্জেখানা জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ হালিম শেখ বলেন, ১৯৯৭ সালের ১৯ মে কক্সবাজার জেলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। পরিদর্শনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দুঃখ কষ্ট সহ্য না করতে পেরে তাৎক্ষণিক পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন।

তারাই পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্বাসিত ভূমিহীন,গৃহহীন, দুর্দশাগ্রস্থ ও ছিন্নমূল পরিবারের স্বামী-স্ত্রী যৌথ নামে ভূমির মালিকানা স্বত্বের দলিল/ কবুলিয়ত সম্পাদন, রেজিষ্ট্রি ও নামজারী করে দেয়া হয়।পুনর্বাসিত পরিবার সমূহের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, কবর স্থান, পুকুর ও গবাদি পশু প্রতিপালনের জন্য সাধারণ জমির ব্যবস্থা করা হয়। সেই মোতাবেক এই প্রকল্পটির সংরক্ষণ ও বন্টনের দায়িত্ব আমাদের ছিল। আমরা সাময়িক ভাবে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার কে স্বর্তসাপেক্ষে ভোগদখলের দায়িত্ব পালন করতে বলি।

কিন্তু তিনি মামলা-হামলা ও  ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের নেয্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। আশ্রয়ন প্রকল্পের দেয়া জমিতে ঘের থাকায় সকলের একান্ত বিশ্বস্ততায় দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানে তিনি মাছ চাষ করে প্রতিবছর প্রচুর টাকা উপার্জন করেছেন। আমাদের একমাত্র ইবাদতের ঘর ভান্ডারকোট আশ্রয়ণ প্রকল্প পাঞ্জেখানা জামে মসজিদের কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করেনি। যেখানে কথা ছিল এই আশ্রয়ন প্রকল্পের দেয়া জমির হারি বাবদ যে অর্থ আসবে সেই অর্থ দিয়ে তিনি মসজিদেই উন্নয়ন করবেন।

আমরা যখনই জমির হারি বাবদ টাকা চাইতে গেছি তখনই গালাগালাজ ও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।মাঝে মাঝে আমাদের দু’একজনের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি খাদ্য সহায়তা ছাড়া কিছুই দেননি। তাদের মতে, তিনি মৌখিকভাবে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা দেখাশোনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন ০১.০৭.২০ তারিখ পর্যন্ত।নির্দিষ্ট সময়ে মেম্বার সাহেব কে জানানো হলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ঘুরাতে থাকে। অত্র মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম মৌলঙ্গি বলেন,আমরা দীর্ঘদিন সময় দেয়া সত্ত্বেও তিনি আমাদের হুমকি দিয়ে বলতে থাকে “আমার ইচ্ছা মতো যতদিন চাইবো ততদিন ভোগদখল করবো”কোন অবস্থাতেই আমাকে সরাতে পারবে না। তিনি কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক দখল করে আমাদের জিম্মি করে রেখেছিল।নির্বাচনের পর জেলা ও উপজেলা নির্বাহী প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অত্র আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে আসলে তাদের কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরি।

উক্ত জমির সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের বলেছিলেন এখন থেকে প্রকল্পটি মুক্ত আপনাদের সম্পদ আপনারা দেখবেন এখানে অন্য কারো দেখার বা ভোগ করার সুযোগ নেই। আমরা তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকলে সম্মিলিত হয়ে আমাদের মসজিদসহ জায়গা দখলমুক্ত হয়ে ফেরৎ পেলাম।

এখানে কোন মাছ না থাকায় আমাদের ঘেরে চারা মাছ ছেড়ে দিয়ে বিজয়ের হাসিতে হাসিতে পারলাম। মোঃ আলমগীর আলী হাওলাদার সাবেক মেম্বারদের সাথে উক্ত আশ্রয়ন প্রকল্পের অভিযোগ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মোবাইল নাম্বার টি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

নড়াইলে ভাষা শহিদদের স্মরণে লাখো মোমবাতি প্রজ্জলন

কারাগারে মসুর ডাল সরবরাহে জালিয়াতি ও  দুর্নীতি

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

কারাগারে মসুর ডাল সরবরাহে বড় ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগার মিলে ৮টি কারাগারে একযোগে গুরুতর এ অনিয়ম করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় তালিকাভুক্ত ঠিকাদারের বাইরে ঢাকার একজন ভুসি ব্যবসায়ীকে বাজারমূল্যের নামে উচ্চমূল্যে মসুর ডাল সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া বেশিরভাগ কাগজপত্র জাল। এমনকি পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অথচ ব্যাংক সার্টিফিকেটসহ জাল কাগজপত্র যাচাই করে দেখেনি দায়িত্বশীল কেউ। এ বিষয়ে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের হাইপাওয়ার তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এ রকম চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অধিকতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অধিকতর তদন্তে দুদক থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদকের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ‘সুরক্ষা সেবা বিভাগের বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনে অনেক কিছুই বেরিয়ে এসেছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করাসহ তদন্ত প্রতিবেদনটি অনেক শক্তিশালী। তবে এখন বিষয়টি দুদকের বিধিবিধানের ফরমেটে এনে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে বলা হয়েছে-মূলত এখানে একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে। যার মাধ্যমে সিপিটিউ (সেন্টার প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট) সিস্টেমে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের বিষয়টি পেন্ডিং রোধে একদিকে ১ম সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে নির্ধারিত মূল্যে কারাগারসমূহে ডাল সরবরাহ না করার অজুহাত সৃষ্টি করা হয়। অপরদিকে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরাসরি মসুর ডাল কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। এর ফলে সরকারকে আর্থিকভাবে সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সরাসরি ক্রয়-প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৭৪(১)(২)(৩) ও (৪), ৭৫(৩), ৭৬(ঙ) ও ১২৭ (২.গ)-তে বর্ণিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিধানসমূহ উপেক্ষিত করা হয়েছে। প্রত্যেক কারাগারের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার, পূর্বের মেয়াদে ডাল সরবরাহকারী ঠিকাদার যারা দুঃসময়ে কমমূল্যে অতিরিক্ত মসুর ডাল সরবরাহ করেছেন, এমনকি ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্মেন্ট প্রকিউরমেন্ট) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের সবাইকে বাদ দিয়ে জালজালিয়াতির কাগজপত্র সৃষ্টি করে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান হানিফ এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭৫ টাকা কেজিদরে মসুর ডাল কেনার ক্ষেত্রে পিপিআর-২০০৮ এর বিধি লঙ্ঘন করা হয়। এটি করতে গিয়ে বিধি মোতাবেক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়, যা দুরভিসন্ধিমূলক, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির শামিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন, কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এর সাবেক সিনিয়র জেল সুপার এবং কারা অধিদপ্তরে কর্মরত রত্না রায়, চট্টগ্রাম কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার এবং বর্তমানে সিলেটে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি পদে কর্মরত কামাল হোসেন, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার এবং বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত সুব্রত কুমার বালা, গাজীপুরের সাবেক জেল সুপার এবং বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত মো. নেছার আলম, নরসিংদীর সাবেক জেল সুপার এবং বর্তমানে মাদারীপুরে কর্মরত নজরুল ইসলাম, দিনাজপুরের সাবেক জেল সুপার এবং বর্তমানে গাজীপুরে কর্মরত বজলুর রশীদ আখন্দ, কক্সবাজারের সাবেক জেল সুপার এবং বর্তমানে দিনাজপুরে কর্মরত মোকাম্মেল হোসেন। এছাড়া কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ।

এছাড়া এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সিপিটিইউ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (সর্বনিম্ন দরদাতার কাছে পণ্য সরবরাহের জন্য প্রস্তাব) গ্রহণ না করা সর্বনিম্ন দরদাতারা। পিপিআরের বিধি মোতাবেক সতর্কমূলক নির্দেশনা অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া দর প্রস্তাব উপস্থাপনের সঙ্গে জড়িত কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও দায় এড়াতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ২ সদস্যের তদন্ত কমিটি ২৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় গত ২৭ জুন। কমিটির অপর সদস্য মন্ত্রণালয়ের অগ্নি-১ শাখার একজন উপসচিব। জুলাই মাসে তদন্ত প্রতিবেদনটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়। দুদক এখন অধিকতর তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৯ ডিসেম্বর এ বিষয়ে কিছু তথ্য জানতে চেয়ে কারা প্রধানকে চিঠি দেওয়া ছাড়াও ২ জানুয়ারি সরাসরি কারা অধিদপ্তরে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট টিম।

তদন্ত কমিটি তাদের মতামতে জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি খাদ্যপণ্য সংগ্রহ বা কেনার ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি হলো অন্যতম প্রতিষ্ঠান। পিপিআরের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী টিসিবির মাধ্যমে উল্লেখিত খাদ্যপণ্য সরাসরি কেনাকাটা করাই ছিল কারা কর্তৃপক্ষের জন্য সর্বোত্তম পথ। কিন্তু তা করা হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রশ্ন উত্থাপন করলে কেন্দ্রীয় এবং জেলা কারাগারের জেল সুপাররা জানান, টিসিবি এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে তারা মসুর ডালের দর সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার হানিফ এন্টারপ্রাইজের দরের সঙ্গে (৭৫ টাকা) মিল থাকায় ঠিকাদারের কাছ থেকে মসুর ডাল সংগ্রহ করেন। কিন্তু দামের মিল থাকা সত্ত্বেও তারা কেন টিসিবি কিংবা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে মসুর ডাল কেনেননি সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য তথ্য : কক্সবাজার কারাগারের তথ্য পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলা হয়, স্থানীয় যেসব ঠিকাদার করোনা পরিস্থিতির দুর্দিনে আগের মূল্যে মসুর ডাল সরবরাহ করেছিলেন তাদের বাদ দিয়ে সুদূর ঢাকায় অবস্থানরত হানিফ এন্টারপ্রাইজকে কেন ডাল সরবরাহের অফার দেওয়া হলো সেটি বোধগম্য নয়। মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা এবং সর্বোপরি কারা অধিদপ্তরও বিতর্কিত প্রস্তাবটি অনুমোদন করে দিলেন। এসব প্রশ্নের সদুত্তর কেউই তদন্ত কমিটির কাছে দিতে পারেননি। অথচ এহেন প্রক্রিয়ায় ডাল কিনে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। নরসিংদী, কুমিল্লা এবং কাশিমপুর কারাগারের ডাল কেনা প্রসঙ্গে বলা হয়, এসব কারাগারের তালিকাভুক্ত স্থানীয় ঠিকাদাররা সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের দাবি রাখলেও তাদের কাছ থেকে দর প্রস্তাব নেওয়া হয়নি।

ইজিপিতে সর্বনিম্ন দরদাতার সিদ্ধান্তটি সিপিটিইউ সিস্টেমে পেন্ডিং দেখানোর বিষয়টিও তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। মূলত শুরু থেকেই এখানে একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে। যারা সিপিটিইউ সিস্টেমে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের বিষয়টি পেন্ডিং রাখতে সক্ষম হয়। যাতে ১ম সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদাররা কারাগারে ডাল সরবরাহ করেনি বলে অজুহাত সৃষ্টি করা যায়। এ চক্রান্তে তারা সফল হয় এবং তাদের সরাসরি ডাল কেনার পথকে সুগম করে।

অভিযুক্ত ঠিকাদার হানিফ এন্টারপ্রাইজ ডাল কেনার এ প্রক্রিয়ায় যেসব কাগজপত্র দাখিল করেছে তার বেশিরভাগ জাল বা নকল। এমনকি যে ব্যাংক সার্টিফিকেট বা পারফরম্যান্স গ্যারান্টির কাগজ জমা দিয়েছে, তাও জালজালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকের ঢাকার মৌলভীবাজার শাখা থেকে একই স্মারকে একাধিক ব্যাংক সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। যাতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। শুধু প্রাপকের জায়গাটিতে ফটোকম্পোজের মাধ্যমে পরিবর্তন করে কোথাও সিনিয়র জেল সুপার বা কোথাও জেল সুপার লেখা হয়েছে। একই ভাষায় এবং একই বিষয়ের ওপর লিখিত অথচ এই ব্যাংক সার্টিফিকেট সব কারাগার এবং কারা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন। অবাক বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট জেল কর্তৃপক্ষ এবং মূল্যায়ন কমিটির সদস্যরা নকল ব্যাংক সার্টিফিকেটসহ দাখিলকৃত নকল কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে দেখার প্রয়োজনও মনে করেনি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হানিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নিজে একজন ভুসি বিক্রেতা। অথচ তাকে দেওয়া হয় মসুর ডাল সরবরাহের অফার লেটার। এছাড়া স্থানীয়ভাবে প্রতিটি কারাগারের জন্য তালিকাভুক্ত যোগ্য ঠিকাদার থাকা সত্ত্বেও ঢাকা থেকে শুধু হানিফ এন্টারপ্রাইজকেই মনোনীত করা হয়েছে। এখানে সব রহস্য লুকিয়ে আছে।

এদিকে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকে যুগান্তরের কাছে দাবি করেন ডাল কেনায় কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেল সুপার বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে ডাল কিনতে ওপর থেকে বাধ্য করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি চলে যাবে। এছাড়া করোনা মহামারির কঠিন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে এভাবে সরাসরি ডাল কেনা হয়। সূত্র: যুগান্তর ।

পড়ুণ দৈনিক বিশ্ব

English Dainikbiswa

সত্যকে মুছে ফেলা যায় না, ইতিহাস ঠিকই ফিরে আসে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মাগুরায় ওয়াপদা’র জায়গায় মৎস্য ঘের খনন চলছে, কর্তৃপক্ষ নিরব

সুজন মাহমুদ, মাগুরা।

মাগুরা মহম্মদপুরের রাজাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত রাহাতপুর স্লুইসগেট হতে উত্তর দিকে খাল পাড় দিয়ে সামান্য এগিয়ে যেতেই চোখে পড়বে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের।দেখে মনে হবে এটা কোন ব্যক্তির নিজস্ব জমিতে ঘের খনন চলছে আসলে তা নয় ঘেরের পূর্ব পাশে অন্তত ১০ মিটার দৈর্ঘ্য করে পুরো জমির পূর্ব পাশ কাটা হচ্ছে।নেই ওয়াপদা’র কোন লিখিত অনুমতি।ঘের খননের মাটি চলে যাচ্ছে স্থানীয় ইট ভাটা গুলোতে।এছাড়াও মহম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এই ব্যবসা ও অবৈধ দখল।আর ইট ভাটার নিয়ন্ত্রিত এসব অবৈধ থ্রি-হুইলার ও ট্রাক্টর গাড়ির কারণে একদিকে যেমন রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছে আবার কেউ পরপারে পাড়ি জমাচ্ছে।স্থানীয় মানুষের দাবি এসব অবৈধ যানবাহন ও অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,রাজাপুরের গনেশ নামের জনৈক ব্যক্তি সহ আরও ২/৩ জন এই ঘের খননের সাথে জড়িত রয়েছে।