Evalyতে গ্রাহকের ৩৩৮ কোটি টাকারহদিস নেই: আইনি ব্যবস্থা

৪ জুলাই  বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৪ জুলাই পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টের কাছ থেকে নেওয়া ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে টাকা আত্মসাৎ কিংবা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ইভ্যালি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে যেসব বিষয় ওঠে এসেছে আমরা সেগুলোই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান বাণিজ্য  মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।

 

ইভ্যালির কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে ২১৪ কোটি টাকা, আর মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়েছে ১৯০ কোটি টাকার। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু সম্পদ আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা।

সিটি মেয়রের নামে ভাউচার করে টাকা আত্মসাৎ: ঠিকাদার আটক

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নামে ভাউচার করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ঠিকাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলি কনস্ট্রাকশন’ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আকবারুজ্জামানকে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

পুলিশ ঠিকাদারকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এই মামলায় ৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যারা সকলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুব ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

গ্রেফতার আকবারুজ্জামান বরিশাল শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ নং প্যারারা রোডে বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসায়িক অংশিদার মেহেদী হাসান সুমনের সাথে ‘পলি কনস্ট্রাকশন’র চেয়ারম্যান আকবারুজ্জামানের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ মেটাতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও অংশ নেন। কাগজপত্র উপস্থাপন করলে দেখা যায়, সিটি মেয়রের নামে ভাউচার করে বড় একটি অংকের টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদার আকবারুজ্জামান। এই বিষয়টি মেয়রকে অবহিত করা হয়ে কাগজপত্রসহ ঠিকাদারকে বাসভবনে তলব করেন। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে না পারায় পরবর্তীতে  কোতয়ালি পুলিশ ডেকে তাকে তুলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় বরিশালের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া বাদী হয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা করেছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আকবারুজ্জামানকে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

//নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

কঠোর লকডাউনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলছে বাস

নড়াইলের কালিয়ায় করোনায় ২ জনের মৃত্যু

 

মাগুরা সদরের আসবা কালীমন্দিরের সরকারি টাকা লোপাটের অভিযোগ

 

মাগুরা সদরের কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আসবা গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালীমন্দির শুরু থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চলে আসছিলো কিন্তু গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মাগুরা জেলা পরিষদ উক্ত মন্দিরে ১ লক্ষ টাকা উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ দেয়।

এবং এই অনুদানটি আসবা মন্দিরে বরাদ্দের জন্য একই গ্রামের মহিলা ইউপি সদস্য কানন বালা দে এবং অত্র এলাকার জেলা পরিষদের সদস্য জনাব তুষার সাহেব অনেক কষ্ট করে করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহিলা ইউপি সদস্য কানন বালা দে।

কানন বালা দে আরও বলেন,১ লক্ষ টাকা অনুদান আনতে জেলা পরিষদের সদস্য জনাব তুষার সাহেব কে খরচের জন্য ২৭ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়া হয়েছে এবং উক্ত মন্দিরে একটি টিউবওয়েল স্থাপন করতে হয়েছে এছাড়া ৪৮ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে আর সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে।

উক্ত মন্দিরের সভাপতি জনাব লিটু অভিযোগ করে বলেন,অত্র মন্দিরে ১ লক্ষ টাকা অনুদান পাওয়ার কথা শুনে আমরা জেলা পরিষদে যোগাযোগ করেছি আমরা জেনেছি যে ওই টাকা দিয়ে টিউবওয়েল বসানোর কোন নিয়ম নেই। তাছাড়া এই মন্দিরের সভাপতি হিসেবে জনাব লিটুকে এই অনুদানের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি এমনকি তিনি আরও বলেন কম দামী টিন ও কাঠ দিয়ে মন্দিরের চালা করা হয়েছে। যা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত কাজে সংশ্লিষ্ট কাঠমিস্ত্রী।

স্থানীয় আরও কয়েকজন বলেন,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করায় স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য কানন বালা কে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সামাজিক ভাবে বয়কট করেছে এবং তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ নিয়ে অত্র এলাকায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এবিষয়ে আরও বিশদভাবে জানতে জনাব তুষার এর সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়েছি।

 //সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

কৃষকদের সরকারি  প্রণোদনা দেয়া অব্যাহত: সালাম মূশের্দী এমপি

 

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ইউএনও’র ভয়াবহ দুর্ণীতি প্রমাণিত

 

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ইউএনও’র তত্বাবধানে থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক জনগুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্পেও ভয়াবহ দুর্নীতির থাবা আঘাত হেনেছে। তাও আবার সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরাসরি এই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি এ সংক্রান্ত সরকার নির্ধারিত কমিটির ধার ধারেননি। ২১৭টি ঘর নির্মাণ প্রকল্পে নিজস্ব রাজমিস্ত্রি নিয়োগ দেওয়াসহ সব কেনাকাটা একাই করেছেন। বিধিবহির্ভূতভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে কোনো কিছু অবহিত না করে ব্যাংক লেনদেনও করেছেন নিজেই। আবার কাজ শেষ না করেই তুলে নিয়েছেন পুরো বিল। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায়। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রশাসন ক্যাডারের ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। উপসচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত।

সাবেক ইউএনও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ তদন্তে গত জানুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভাগীয় মামলা দায়ের করে। এরপর ১৮ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীরকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিটি ২৭ জানুয়ারি তদন্তকাজ শুরু করে ২০ জুন শেষ করে। ২১ জুন জনপ্রশাসন সচিবের কাছে ১০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। যেখানে অভিযুক্ত উপসচিব শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, শফিকুল ইসলাম ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীন এলাকার ভূমিহীনদের জন্য ২১৭টি ঘর নির্মাণে সরকার অর্থ বরাদ্দ করে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ১ লাখ টাকা খরচ ধরে প্রকল্পে মোট ব্যয় হয় ২ কোটি ১৭ লাখ।

 

অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-১. আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কমিটি থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে এককভাবে কাজটি করেন। এমনকি কাজ তদারকি করার জন্য কমিটির কাউকে সংযুক্ত করেননি। ২. নিকটাত্মীয় পরিচয়ে সৈয়দপুর এলাকার জনৈক হামিদুল হক মিস্ত্রিকে মৌখিকভাবে কাজের ঠিকাদার নিয়োগ করেন। ৩. প্রকল্পের কাজে কাঠ সরবরাহকারী সোহরাব আলীর বকেয়া প্রায় ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেননি। ৪. তারা মেম্বার নামে আরও একজন কাঠ সরবরাহকারীর পাওনা ১ লাখ টাকা পরিশোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। ৫. আব্দুস সালাম মিস্ত্রিকে মোট ২৮টি ঘরের কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১২টি ঘরের মজুরি পরিশোধ করা হলেও বাকি ১৬টি ঘরের মজুরি বাবদ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। ৬. কামরুল ইসলাম নামে আরও একজন মিস্ত্রির পাওনা রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ৭. খুঁটির ফর্মা তৈরির মজুরি ও রড সরবরাহ বাবদ ১ লাখ ১১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে নুরুন্নবী সরকার নামে একজন সাব-ঠিকাদারের। ৮. পাওনাদার হিসাবে অভিযোগকারীদের সঙ্গে মৌখিকভাবে কাজের চুক্তি করেন ইউএনওর নিয়োগকৃত ঠিকাদার হামিদুল হক মিস্ত্রি। হামিদুল হক ইউএনওর পূর্বপরিচিত এবং আত্মীয় হওয়ায় পাওনাদাররা বাকিতে মালামাল সরবরাহসহ কাজ করেন। ফলে এর দায়দায়িত্ব ইউএনওর ওপর বর্তায়। ৯. বর্তমান ইউএনও জাহিদ হোসেন যোগ দেওয়ার পর জানতে পারেন বেশকিছু কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। ১০টি ঘরের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ৬৭টি ঘরের কাজও অসম্পন্ন ছিল। কোনোটির দরজা, কোনটির জানালা এবং কোনোটির চালা ছিল না। এসব কাজ বর্তমান ইউএনও সম্পন্ন করেন। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযুক্ত ইউএনও অর্থ জোগান দিলেও এখনো তার কাছে লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছেন বর্তমান ইউএনও। কিন্তু অদ্যাবধি তা পরিশোধ করেননি। ১০. ইউএনওর নিয়োগকৃত আত্মীয় কাম ঠিকাদার হামিদুল হক মিস্ত্রি কাজের একটা পর্যায়ে সাব-কন্ট্রাক্টরদের পাওনা পরিশোধ না করে পালিয়ে যান। কিন্তু এ বিষয়ে ইউএনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। ১১. প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া সত্ত্বেও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমকে দিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের ঘরগুলো উদ্বোধন করেন। অথচ প্রকল্পের বিপরীতে সমুদয় অর্থ তিনি তুলে নিয়েছেন, যা আর্থিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গৃহ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কর্মকর্তা এককভাবে ঘর নির্মাণ করে নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। তদন্ত কমিটি গৃহ নির্মাণ কমিটির কার্যবিবরণীর কপি দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। অফিস সুপার নিজাম উদ্দিন তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মরত থাকাকালীন তিনি এ সংক্রান্ত বরাদ্দের বিষয়ে জানেন না।

 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহ নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব হচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহ আলম মোল্লা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২১৭টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ আসে। কিন্তু ঘর নির্মাণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

 

তদন্ত কমিটি এ সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখতে পায়, বরাদ্দপ্রাপ্ত অর্থ বিলের মাধ্যমে উত্তোলনের জন্য সোনালী ব্যাংক কাজীপুর শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। হিসাব খোলার সময় অফিস সুপার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং ইউএনও স্বাক্ষর করলেও পরে টাকা উত্তোলনের সময় উচ্চমান সহকারী নথিটি সরাসরি ইউএনও বরাবর উপস্থাপন করেন এবং তার (ইউএনও) স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এখানে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি নিজে একাই করেছেন, যা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের শামিল।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন সাব-ঠিকাদারি ও মিস্ত্রির টাকা পাওনার বিষয়টি সত্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলার একজন সম্মানিত ব্যক্তি। ফলে তার এমন ভূমিকা খুবই অনভিপ্রেত। তদন্ত কমিটি মনে করে, ইউএনও যদি সংশ্লিষ্ট কমিটিকে যথাযথভাবে এ কাজে সম্পৃক্ত করতেন, তাহলে এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি এড়ানো সম্ভব হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাই তার কোনো অনৈতিক কাজের কারণে উপজেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি কমিটিকে পাশ কাটিয়ে এককভাবে কাজ করে এবং নিরীহ শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ না করে অন্যায় করেছেন। এছাড়া তিনি এককভাবে কাজ করে সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ও নীতি লঙ্ঘন করেছেন।

 

সূত্র জানায়, বিভাগীয় মামলার তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি হিসাবে এখন বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম। অর্থাৎ তিনি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে শাস্তি বা দণ্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। সূত্র: যুগান্তর

//দৈনিক বিশ্ব অনলাইন ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাঁশখালীতে প্রিয় শেখেরখীল ব্লাড ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

 

চট্টগ্রামের পটিয়ার নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে ৩জন আহত

 

চট্টগ্রামের পটিয়ার নির্মাণাধীন সেতুর গার্ডার ধসে ৩ শ্রমিক আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পটিয়া উপজেলার কালারপুল এলাকায়। ঘটনায় আহত শ্রমিকরা হলেন, মোহাম্মদ রবিউল (৩০), ফেরদৌস (৪০), মোহাম্মদ মফিজ (২৮)। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে পটিয়ার কালারপুল এলাকায় নির্মানাধীন সেতুর কাজ চলমান অবস্থায় ক্রেনের ত্র“টির করানে তিনটি গার্ডার বিকট শব্দে ধসে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় তিন জন শ্রমিক আহত হয়।

এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, ভেঙ্গে পড়া গার্ডার গুলোর দুইটির দূরত্ব মাত্র দুই মিটার। সে কারনে বসানের সময় তিনটি গার্ডার নদীতে পড়ে যায়। সেতু নির্মানের কোন ত্র“টির কারনে এটি হয়নি। কোন ধরনের অনিয়মও হয়নি। তবে টিকাদারের ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলার সীমান্ত এলাকা কালারপুলে এ সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। এটি কালারপুল সেতু নামে পরিচিত। দোহাজারী সড়ক বিভাগের অধীনে নিমাণধীন সেতুটির নির্মাণকাজ পেয়েছে রানা বিল্ডার্স ও হাসান বিল্ডার্স নামে দুটি টিকাদারী প্রতিষ্টান।

তবে পরবর্তীতে হাতবদল হয়ে বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান।

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

শাটডাউন বাস্তবায়নে  নাগরিক সম্পৃক্ততা থাকতে হবে: বিসিসি

চলমান লকডাউনে যশোর জেলার সকল এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ করার নির্দেশ

 

অভয়নগরে (প্রা:) হাসপাতালে চিকিৎসা নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য

 

অভয়নগরে (প্রা:) হাসপাতালে চিকিৎসা , যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠা ( প্রাঃ) হাসপাতাল, বিগত প্রায় পাঁচমাস পূর্বে জেলা সিভিল সার্জনের ঝটিকা অভিযানে মুষ্টিমেয় কয়েকটি (প্রাঃ) হাসপাতাল সিলগালা করে বন্ধ ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু বাকি সমালোচিত ক্লিনিক গুলো কেন যে বন্ধ হলোনা তা অভয়নগর বাসির মনে প্রশ্ন জেগেছে ৷

নওয়াপাড়ায় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে চলছে রমরমা গলাকাটা বানিজ্য ৷ গ্রাম্য-হাতুড়ে ডাক্তার নামধারীরা এইসব হাসপাতালে বড় শিশু ডাক্তার সেজে বসে থাকে ৷ জানাগেছে , চিকিৎসা সেবার নামে গড়ে উঠা প্রাইভেট হাসপাতালের নিয়োজিত কিছু দালাল চক্র দুর-দুরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল নিরীহ রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ৷ হাসপাতাল গুলো চলছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে ৷

ফলে সাধারণ মানুষ অর্থ খরচ করেও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৷ এসব হাসপাতালের মালিকরা বছরে লক্ষ লক্ষ অর্থ বানিজ্য করে আসছে ৷ সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে , হাসপাতাল গুলোয় ১০ শয্যার অনুমতি থাকলে ও পাওয়া গেছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০শয্যা বিশিষ্ট ৷ যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ ৷

এসব (প্রাঃ) হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা,অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে ৷ সপ্তাহে একদিন ডাক্তার সিরিয়াল দিয়ে একের পর এক কসাইয়ের মত রোগি অপারেশন করে চলে যায় ৷ রোগিদের দেখাশোনা করে তথাকথিত সেবিকারা ৷

রোগির অবস্থা যখন মারাত্মক মৃৃৃৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ে তখন হাসপাতালের মালিকেরা রোগিকে যশোর,খুলনা অথবা রাজধানীতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ৷ ফলে রোগি হাসপাতাল ত্যাগ করলে পরবর্তীতে নানান জটিলতায় ভূগে মৃৃৃত্যুর মুখে পতিত হয় ৷ আরো অভিযোগ উঠেছে যে, অভয়নগরে শিশু বিশেষজ্ঞ কোন ডাক্তার নেই , অথচ নবজাতক শিশুর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় অনবিজ্ঞ ওয়ার্ড বয় ও সেবিকাদ্বারা ৷

অক্সিজেন লাগিয়ে তিন চারদিন পার করতে পারলেই তাদের বাণিজ্য ৷ পরবর্তীতে অক্সিজেন ও বেড ভাড়াবাবদ মোটা অংকের ভাউচার ধরিয়ে দেয় রোগির অভিভাবকের কাছে ৷ সেবা নিতে এসে প্রতারিত হচ্ছে অসহায় হত দরিদ্রসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ ৷

এভাবে যাতে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে প্রতারিত না হয় তাই এ ব্যাপারে তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা সিভিল সার্জনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভূক্তভোগী সাধারণ রোগিরা ৷

// মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

 

রাস্তা নির্মাণের আড়ালে কোটি টাকার অর্থ-বাণিজ্য

 

রাস্তা নির্মাণের আড়ালে কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এলজিইডি কর্তৃক বরাদ্দকৃত রাস্তা নির্মাণে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের পাঁচটি রাস্তা নির্মাণের কাজ দেয়া হয় ঠিকাদার বিশ্বজিৎ কে।আর বিশ্বজিৎ এই কাজ ঠিকাদার মঞ্জু নামের একজন কে হস্তান্তর করেন।

 

পাঁচটি রাস্তার মধ্যে তিনটির পাকাকরণের কাজ শেষ না হতেই রাস্তা ভেঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।আর বাকি দুটির কাজ এখনো চলমান। এলাকাবাসীর অভিযোগ রাস্তাগুলোতে নিম্নমানের কনক্রীট ব্যবহার করা হয়েছে। নাম্বার বিহীন ইট, বালুর পরিবর্তে মাটি দেয়ার কারনে নির্মানের পনেরো দিনের মধ্যে রাস্তা ভেঙ্গে পরেছে।

 

তাছাড়াও ব্রীজের গাইডওয়ালে রড, সিমেন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র মাটি,বালু এবং নাম্বার বিহীন ইট ব্যবহার করায় এগুলো আপনা আপনি ভেঙে যাচ্ছে। এদিকে বিষয়টি নজরে আসলে এলাকাবাসীর পক্ষে ভবানীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ফজলুল হক দুলাল এলজিইডি কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার কে নিম্নমানের কাজের জবাবদিহিতা চেয়ে আদালতের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করেন।

 

তাছাড়া ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল দিলে রিছিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার মঞ্জু এলজিইডি কর্মকর্তার সহায়তায় রাস্তা নির্মাণের নামে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করেছেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকা কামিয়েছেন । এ বিষয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

// স্টাফ রিপোর্টার //

 

Dainik Biswa

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক লিডার, ভিখারি অস্ত্রসহ গ্রেফতার

জগন্নাথপুরে ভুমিহীন সেজে প্রকৃত ভুমিহীনের জমি দখল : এলাকায় তোলপাড়

 

জগন্নাথপুরে ভুমিহীন সেজে নান রকম দুর্ণীতি করে যাচ্ছে জনৈক ব্যক্তি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কুবাজপুর গ্রামের দিনমজুর ও অস হায় পরিবারের ভুমিহীন বন্দোবস্তের জায়গা একই গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উটেছে।

 

বার বার গরীব ও অসহায় পরিবারকে ভুমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভুমিহীন সেজে প্রকৃত ভুমিহীনের জমি দখলে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ফলে নানা লাঞ্চনা- বঞ্চনার শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অবশেষে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছে।

 

অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুবাজপুর গ্রামের ভুমিহীন রফু মিয়া পীর ও তার স্ত্রীর নামে কুবাজপুর মৌজায় ১ একর ভুমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হলে সরেজমিনে দখল প্রাপ্ত হয়ে সরকারের সন সন খাজনা ও নামজারীসহ চলমান জরিপে ফাইনেল ফর্সা তাদের নামে প্রস্তুত হয়।

 

রফু মিয়া পীর ও তার স্ত্রী, ১ ছেলে, ৫ মেয়ে ওয়ারিশান রেখে মারা গেলে বন্দোবস্তের ভুমির নজর পড়ে এলাকায় ভুমিখেকো হিসেবে পরিচিত গ্রামের সাজ্জাদুর রহমান ঝুনু মিয়ার । তিনি সু-কৌশলে জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। বছরের পর বছর নানা হয়রাণির পর শুরু করেন জমি দখলের নানা পরিকল্পনা।

 

সাজ্জাদুর রহমান ঝুনু মিয়া এলাকার প্রভাবশালী ও লন্ডন প্রবাসী পরিবারের মধ্যে একজন হলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকার থেকে ২ টি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ২ একর জমি ভাগিয়ে নেন তাদের পরিবারে । প্রায় ২/৩ মাস পূর্বে ভুমিহীন রফু মিয়ার জমিতে ঝুনু মিয়ার লোকজন রাতারাতি মাঠি কাটা শুরু করলে বাধা দেন ছেলে আনোয়ার শাহ ও তার বোনেরা। বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।

 

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে ইউপি সদস্য মিলাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ফল পাননি ভুক্তভোগী পরিবার। রফু মিয়ার জমিতে ছেলে আনর শাহ কাজ করতে গেলে বাধা হয়ে দাড়ান ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া।

 

তাদের নির্দেশে ভুমিহীন মৃত রফু মিয়া পীরের মেয়ে শিনারা বেগম (৩৫) কে মারধোর করে মিনার ও রিয়াদ। আহতাবস্থায় তাকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসলেও ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া সময় ক্ষেপন করে আবারও জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেন।

 

মৃত রফু মিয়া পীরের ছেলে ভুক্তভোগী আনোয়ার শাহ, মেয়ে সাফিয়া বেগম, রাহেনা বেগম, শিবজিয়া বেগম, শিনারা বেগম, শেফালী বেগম, কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন আমরা গরীব ও অসহায়। আমাদের কথা কেউ শুনেনা।ভুমিহীন বন্দোবস্ত মূলে আমাদের পিতা মৃত রফু মিয়া ও মাতার ওয়ারিশ হিসেবে আমরা দাবীদার। এলাকার ভুমিখেকো ও প্রভাবশালী ঝুনু মিয়া ও তার ছেলে মিলাদ মেম্বার এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির মিনার, রিয়াদের অত্যাচার- নির্যাতনে আমরা অতীষ্ট।

 

জমি থেকে বার বার মারধোর করে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। গ্রামের ধন্যাঢ্য ও লন্ডনী পরিবার হয়েও একই পরিবারে ২ টি ভুমিহীন বন্দোবস্ত নিয়ে আমাদের জমিসহ বহু জায়গা দখল করে রেখেছে। বর্তমানে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণিসহ আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৬ নং রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা বলেন মৃত রফু মিয়া পীর ও তার পরিবারের লোকজন ভুমিহীন এবং বন্দোবস্ত পেয়েছে এটা সত্য।

 

আমার পরিষদের একজন ইউপি সদস্য উক্ত ভুমি দখল করেছে বলে ভুক্তভোগীরা আমাকে জানিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমি বার বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটি পক্ষ না মানায় বিষয়টি সমাধান হচ্ছেনা। জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই রাজিব রহমান বলেন বিষয়টি নিয়ে আমরা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি।

 

ইউপি সদস্য মিলাদ মিয়া বার বার সময় নিয়েও কাগজপত্র নিয়ে আসছেনা। গরীব ও ভুমিহীন পরিবারের কাগজপত্র দেখেছি। শান্তি শৃংখলার স্বার্থে উভয়পক্ষকে জমিতে না যেতে বলা হয়েছে। ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য মিলাদ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মারধোরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন দখলীয় জমি সরকারি হলেও এখন আমাদের মালিকানা। উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। কারো জমি আমরা দখল করিনি।

 

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা এই ভুমিখেকো পরিবারের কবল থেকে রক্ষা ও সরকার হতে প্রাপ্ত ভুমি ফেরত পেতে সরকার সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।

 

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

শিবগঞ্জে নিসচা’র সহযোগিতায় পাকা  মুদির দোকান পেল  প্রতিবন্ধি শাকিল 

 

আদালতের রায় উপেক্ষা করে জোড়পূর্বক জমি দখল করে ঘর নির্মাণ

 

আদালতের রায় উপেক্ষা করে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের মধ্য ভাটেরচর গ্রামে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মহামান্য আদালতের রায় উপেক্ষা করে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও অবৈধভাবে ৩০/৪০ জন লোক নিয়ে জোড়পূর্বক অবৈধভাবে অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে দেখা যায় বিবাদী রাজেস তার সিন্ডিকেটের সহায়তায় অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে অবৈধ ক্ষমতাবলে বাদী সাইদুল বাশারের জায়গা জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করে। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ স্থান ত্যাগ করার পর তারা (দখলাদর চক্র) আবার পুনরায় সংগঠিত হয়ে কাজ শুরু করে এবং অবৈধ দখল চলমান রাখে।

 

অভিযোগকারী বাদী সাইদুল বাশার বলেন গত ২০১৮ সালে দখলকারী রাজেস এই জমি নিয়ে আদালতে আমার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা রুজ করে। তার প্রেক্ষিতে গত বছর অক্টোবর ২০২০ সালে মহামান্য আদালত আমার পক্ষে রায় প্রদান করে। অথচ সেই রায় উপেক্ষা করে আদালতকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে আজ তারা লোকজন নিয়ে জোড় পূর্বক ভাবে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে।

 

আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াতে তাদের সাথে বিবাদে না জড়িয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করি। পুলিশ পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও তারা পুলিশ কে অবজ্ঞা করে অবৈধ দখল কাজ চালায়। বিবাদী সূত্র জানায় আমাদের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে। আমরা আমাদের ক্রয় করা সম্পত্তিতেই বৈধ উপায়ে বাড়ী নির্মাণ করছি।

 

এই বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন গত তিন দিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। আজ তাদের এই কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে দফায় দফায় পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

//সৈয়দ মোঃ শাকিল, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

হরিপুরে টিউবওয়েলের পানি পান করে এক শিক্ষক পরিবারে ৫ জন অজ্ঞান

 

কালিয়ার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা দুর্ণীতির বরপুত্র!

 

কালিয়ার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সেবা প্রার্থীরা ১৬ মার্চ ওই কর্মকর্তার দূর্ণীতির চিত্র তুলে ধরে নড়াইল জেলা প্রশাসাক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। পহরডাঙ্গা ইউনিয়নবাসী ওই কর্মকর্তার অপসারন দাবি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার অনিয়ম, দুর্ণীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। তিনি প্রায় এক বছরের অধিককাল পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তা ভুমি অফিসে আসার পর ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়না।

 

মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন বাহিরে আছি আপনি সন্ধার পর মিরাজের বাড়িতে আসেন। সাক্ষাতের পর পূর্বের দাখিলা দেখালে তিনি তার কোন মুল্যায়ন না করে বলেন, এ দাখিলা সঠিক নিয়মে কাঁটা হয়নি এবং পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিভাবে দিয়েছে সেটা তার ব্যাপার। আমার কাছ থেকে নিতে হলে গোড়া থেকে খাজনা পরিশোধ করতে হবে বলে অতিরিক্ত টাকার হিসাব দেন এবং ওই টাকার আংশিক দাখিলায় তুলে বাকীটা নিজেই আত্মসাৎ করেন।

 

দাখিলায় কম টাকা উঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আপনাকে অল্পের ভিতরে হিসাব দিয়েছি, অতিরিক্ত টাকা অডিট খরচ বাবদ রাখছি। এছাড়া ভুমি দস্যুদের সাথে আতাৎ করে সরকারী জমির মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার নামে। জমির নামজারী করার নিয়ম জানতে গেলে ওই কর্মকর্তা ভূমি মালিকদের তার সাথে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন এবং বলেন আমার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নামজারী হবেনা। এভাবে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব চাপিয়ে দেন।

 

অবশেষে সেবা প্রার্থীরা জমি ঠিক করার জন্য ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীরা উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার যোগসাজসে সরকারী গাছ কেঁটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যা ৪০/৫০ হাজার টাকা দাবী করে এবং বিধবা মহিলাদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়।

 

নারীলোভী, ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার এহেন কর্মকান্ডে ইউনিয়নবাসী সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিডিও ও অডিও রেকর্ড প্রমান স্বরুপ সংরক্ষিত আছে বলে তারা জানান। পাশাপশি তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইউনিয়নবাসী মন্তব্য করেন।

 

পূর্বে ও ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদ মোল্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী, বাগুডাঙ্গা গ্রামের মোস্তফা শিকদার (৭৫) বলেন, আমার ও শরিকদের নামীয় পর্চার ৭ শতক জমির দাখিলা কাটতে আমি দেড় মাস যাবৎ ঘুরতেছি। নায়েব সাহেব বলেছেন ২১শত টাকা লাগবে নতুবা হবেনা। অনেক অনুরোধ করে ৪৫০ টাকায় রাজি করিয়েছি তাও শুধু ঘুরাচ্ছে। অথচ আগের নায়েব এই জমির দাখিলায় ১৫০ টাকা নিয়েছিল। আমি বৃদ্ধ মানুষ এভাবে আসা যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়।

 

এই ঘটনা সাংবাদিকদের বলায় নায়েব আমাকে জালিয়াত বলেছে। কেন আমায় উনি জালিয়াত বললেন, এর যথাযথ প্রমান উনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি। আমি আমার এ অপমানের সুষ্ঠ বিচার চাই। সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে অনেক ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।

 

চরসিংগাতী গ্রামের মুরসালিন, জানান, তিন/চার মাস আগে ৫০০ টাকা নিয়ে তাকে একটি ভুয়া দাখিলা দিয়েছেন, বল্লাহাটি গ্রামের মামুন মোল্যা, জানান, বাসায় বসে আমায় দাখিলা কেটে দিয়েছে ২৭০০ টাকা লেখা কিন্তু নিয়েছে ৫৫০০ টাকা, পাখিমারা গ্রামের ডাঃ বোরহান জানান, দাখিলায় লেখা ৩৬০০ টাকা কিন্তু নিয়েছে ৯৫০০ টাকা, এভাবে পহরডাঙ্গা গ্রামের হাবিবুর রহমান, মেহেদী হাসান, ও লাভলু শেখ, সরসপুরের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম, বল্লাহাটির মুরাদ মোল্যা প্রমুখ অভিযোগ করেন।

 

ভুক্তভোগীরা এর উপযুক্ত বিচারসহ ওই নায়েবের অপসারন দাবী করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যা প্রথমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে তিনি আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি মাহমুদ মোল্যার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা প্রশাসক জনাব মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ততাধীন আছে। তদন্তে দোষী প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

//মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী, নড়াইল জেলা//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাম মূর্শেদী