ভূমি দস্যুতার অভিযোগে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান এখন কাঠগড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার:

সরকারী পদ পদবী ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান এখন আদালতের কাঠগড়ায়।

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ রহস্যজনক কারনে তিনি একই পদে নাঙ্গলকোট উপজেলায় কর্মরত। বহুবার বদলীর আদেশ তিনি আলাউদ্দিন চেরাগের বলে পাল্টিয়ে ফেলে আবার বহাল তবিয়তে।

এর মধ্যে নাঙ্গলকোটে নামে বেনামে বহু কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বিরোধপূর্ণ কোন জায়গায় খবর পেলেই বায়না করেন। তারপর প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করেন।

সম্প্রতি নাঙ্গলকোট পৌরসবাস্থ ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব দৈয়ারা গ্রামে প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ভূইয়ার বাড়ী সংলগ্ন একটি জায়গা ক্রয় করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান।

গত ১ মে ২০২৩ সকালে শুরু করেন দখল অভিযান। প্রধান শিক্ষকের বাড়ী ঘর জোর পূর্বক ভাংচুর, হামলা ও দখলের মিশনে লিপ্ত হন এই সরকারী কর্মকর্তা।

নাঙ্গলকোট এ আর হাই স্কুলের এই শিক্ষক বাড়ী ঘর ভাংচুর ও দখলের প্রতিকারের জন্য ৯৯৯ এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনা স্থলে আসে। থানা মামলা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে শালিসের আশ্রয় নিয়ে এই প্রবীণ শিক্ষককে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী, হত্যার হুমকি প্রদান করা হয়।

বাধ্য হয়ে তিনি পরবর্তীতে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের ৫নং আমলী আদালতে মামলা করেন। যাতে শাহজাহান ছাড়াও আসামী করা হয় মাহফুজ, শাহজাহান ভূইয়া, মিজানুর রহমান ও সাকিবকে।

ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতে ডিবিকে নির্দেশ দেন। যা ডিবির এসআই মিজানুর রহমানের তদন্তাধীন।

এলাকাবাসী প্রবীণ এই শিক্ষককের বাড়ী ঘরে হামলা, ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এই সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ডিজির ঠিকাদারের কাছে কোটি টাকা ঘুস দাবি

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের অধীন বিজি প্রেসের জন্য সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের (ডিজি) বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রতিষ্ঠান এত টাকা ঘুস দিয়ে মেশিন বিক্রয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একই মেশিন ক্রয়ে তিনি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস দিতে রাজিও হয়। এই আলোচনার মধ্যেই তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণ ঘুস নিয়ে প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়।

সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনা ও বই কিংবা ম্যাগাজিন ছাপার কাজের জন্য সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিনটির বাজার মূল্য সাড়ে ৭ কোটি টাকা। সেই মেশিন ক্রয়ে সরকারি বরাদ্দ প্রায় ১৬ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতার দরপ্রস্তাব ছিল ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। ডিজি যে প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তাদের দরপ্রস্তাব হচ্ছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে ৪০ লাখ টাকা বেশি মূল্যে মেশিনটি ক্রয়ের উদ্যোগ নেন তিনি। ঘুস দাবি এবং সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে না কিনে বাড়তি ৪০ লাখ টাকা দিয়ে মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়াসংক্রান্ত অভিযোগটি মন্ত্রণালয়ের কানে গেলে তা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিজি প্রেস একটি সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ের জন্য চলতি বছরের ৮ এপ্রিল টেন্ডার আহ্বান করে। এতে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এগুলো হলো-কেবিএ এবং জিসান ইন্টারন্যাশনাল। আর টেন্ডারে অংশ নেওয়ার আগেই হাইডেল বার্গ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মেশিন ক্রয় করার জন্য আলোচনা করেন মহাপরিচলক। তাদের কাছে এক কোটি টাকা ঘুস দাবি করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ঘুস দিতে রাজি হয়নি। পরে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে সরে যায়।

পরে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবিএ’র কাছ থেকে মেশিন ক্রয়ে ৭৫ লাখ টাকা ঘুস চান ডিজি। তাদের সঙ্গে ঘুসের টাকার লেনদেন নিয়ে আলোচনার সময় জিসান ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে মের্শিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের একেএম মাসুদুজ্জামান।

সূত্র জানায়, এ পর্যায়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও কাজ না পেয়ে কেএবি’র চেয়ারম্যান আলী আমজাদ হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে জনপ্রশাসন সচিব ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। এ পর্যায়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সিপিটিও এই কার্যাদেশ বাতিল করে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে গিয়ে ডিজিকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি। গত দুদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা বক্তব্য নেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করা হয় যুগান্তরের পক্ষ থেকে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী রোববার যুগান্তরকে বলেন, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ডিজিসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।

ডিজির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আরও বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে গভর্মেন্ট প্রিন্টিং প্রেসে শাখার অব্যবহৃত কোটি টাকা মূল্যের পিএস প্লেট উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন তিনি। কিন্তু কাগজপত্রে নামমাত্র মূল্যে বিক্রয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির যেসব পদে ওভারটাইম রয়েছে ওই পদে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বদলি করেন। যেসব ক্যাডার কর্মকর্তা তার কাজে দ্বিমত পোষণ করেন তাদের রাতারাতি অন্যত্র বদলি করেন। সংস্থাটির লাখ লাখ টাকা মূল্যের পুরনো আসবাবপত্র মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার অফিস সরঞ্জাম, কাজগপত্র, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত যাবতীয় স্টেশনারিজ কেনাকাটা হয়। সব শাখার কেনাকাটায় ১৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের মৌখিক নির্দেশ দেন মহাপরিচালক। তার এমন অন্যায় আদেশের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে সংস্থা থেকে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে যান উপপরিচালক (উপসচিব) হাসিনা বেগম। সংস্থাটির আরেক উপপরিচালক ব্রেনজন চাম্বুগং মহাপরিচালকের অন্যায় আবদারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করায় তাকেও বদলি করা হয়। অবশ্য পরে বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইস্কাটন নাভানা টাওয়ারে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে মহাপরিচলক একেএম মাসুদুজ্জামানের। ওই ফ্ল্যাটের যাবতীয় আসবাবপত্র তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপহার হিসাবে নিয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে তিনি ১৬ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, কয়েক মাস আগে এমআইসিআর চেক বই প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

দেশকে পাকিস্তানি পন্থায় পরিচালনা করতে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়: সালাম মূশের্দী এমপি

শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে পারে: দ্য হিন্দু

এমটিএফই হাতিয়ে নিয়েছে হাজার কোটি টাকা// ফাঁদে পড়েছে হাজারো যুবক

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

যুবক, ডেসটিনির পর এবার এমএলএম ব্যবসার নামে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। এমএলএম কম্পানির এই প্রতারণায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত দেশের লক্ষাধিক যুবক।

দুই সপ্তাহ আগে তথাকথিত সিস্টেম আপগ্রেডের মাধ্যমে সমস্যার শুরু। এর পর থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি থেকে কোনো টাকা তুলতে পারছিলেন না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় সব ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট ঋণাত্মক দেখানো শুরু করে অ্যাপটি। গ্রাহকদের পক্ষে স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের পর বিপুল লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছে অনিয়ন্ত্রিত এই সংস্থা।

এমটিএফই দাবি করেছিল, তারা কানাডায় নিবন্ধিত সংস্থা। এর কার্যক্রম শ্রীলঙ্কা, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ভারতেও ছড়িয়ে ছিল।

এসব দেশের ব্যবহারকারীদেরও পরিণতি একই।

সূত্র জানায়, ক্রিপ্টো, বৈদেশিক মুদ্রা, পণ্য, এমনকি বিদেশি স্টক পর্যন্ত নিজের ছায়া প্ল্যাটফরমে ট্রেড করার সুযোগ দিয়ে এই অ্যাপ সম্প্রতি অবিশ্বাস্য রকমের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ট্রেডিং থেকে উপার্জন এবং অর্থ পরিশোধের কথা বলে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের অবিশ্বাস্য সহজ পথে অর্থ আয়ের আমন্ত্রণ জানায়।

বাংলাদেশে মোট কতজন এই স্কিমের প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এর কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

তবে গ্রাহকদের বিভিন্ন দলের নেতারা অনুমান করছেন, এই সংখ্যা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ হতে পারে। তাঁদের ধারণা, এই কাণ্ডে প্রায় হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ ও নিষিদ্ধ। এর পরও কমপক্ষে ৫০০ ডলার বিনিয়োগ করলে দিনশেষে পাঁচ হাজার টাকা লাভ হবে—এমন কল্পিত মুনাফার লোভে শত শত মানুষ বিনিয়োগ করেছিলেন এই কম্পানিতে। অনেকে গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী বন্ধক রেখেও বিনিয়োগ করেছিলেন।

অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং বা বাইন্যান্সের মাধ্যমে তারা টাকা নিত। পরে স্থানীয় এজেন্টরা সেটি বাইরে পাচার করত। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মুনাফার লোভ দেখিয়ে টার্গেট করা হতো।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কম্পানির লেনদেন বা ট্রেড হতো সপ্তাহে পাঁচ দিন বাংলাদেশি সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। প্রতি সোমবার থেকে শুক্রবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ট্রেড হলেও সিইওদের জন্য লেনদেন হতো শনিবারসহ সপ্তাহে ছয় দিন। রবিবার বন্ধ থাকত। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মে এমএলএম ব্যবসা অবৈধ। যে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, সেটি দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমএলএম নিয়ে কাজ করে না। ডিজিটাল কমার্স নিয়ে কাজ করছে। তবে বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের  বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিষয়টি দেখভাল করে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মোহাম্মদ সাঈদ আলী বলেন, ‘এমএলএম বাণিজ্যে তদারকি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা কর্তৃপক্ষ নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা বিটিআরসিকে বলে কার্যক্রম বন্ধ করে দিই।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগ এমএলএম আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাইবার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম পঞ্জি মডেলে ব্যবসা করত। ভারত ও বাংলাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিনিয়োগকারী ছিল। তবে বেশির ভাগই বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী।

যা বলছেন বিনিয়োগকারীরা

কুমিল্লার মুরাদনগরে এমটিএফই বিদেশি অ্যাপের খপ্পরে ফেলে অর্ধশতাধিক যুবকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারকচক্র।

প্রথমে এই অ্যাপ নিয়ে আসেন মুরাদনগর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ধামগড় গ্রামের আবু ইসার ছেলে আহমেদ বিন শামীম। তিনি এই অ্যাপের টিম লিডার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন গুঞ্জোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে গোলাম মাওলানা টিটুকে। পরে এ উপজেলায় টিটুর নেতৃত্বে এমটিএফইতে কাজ করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র।

এই প্রতারকচক্র গ্রাহকদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নানা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অ্যপটি পরিচালনা করত।

মুরাদনগরের ভাঙ্গরা, পাইয়ব, নহল চৌমুমনি, পিংলাবাড়ি গাইতুলি এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে এই অ্যাপ যুবসমাজের মধ্যে ঝড় তোলে।

ধামগড় গ্রামের ভুক্তভোগী রমজান ও নাহিদ হাসান বলেন, আমরা এই অ্যাপ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমাদের এই অ্যাপের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন আহমেদ বিন শামীম। তখন তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ করলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা লাভ থাকবে। এই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করি, কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই আমাদের ব্যালান্স শূন্য হয় যায়।

তবে গোলাম মাওলা টিটুর ভাষ্য, ‘আমি এই অ্যাপের মালিক নই, অ্যাপটি একটি বিদেশি কম্পানির। যারা করেছে তারা বুঝেশুনেই করেছে। সব ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি আছে।’

এদিকে এক মাস আগে এক লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা কালাম নামের এক যুবক বলেন, আক্তার নামের এক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে তিনি এই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করেন।

 

তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করায় মৌকারা পীর তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

//স্টাফ রিপোর্টার //

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা মাদ্রাসা পীর মাও. নেছার উদ্দিন একি কাজ দেখিয়ে তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। অথচ টাকা নিয়ে কোন কাজ করেননি এ পীর। এ নিয়ে গত সংখ্যায় সবুজপত্র পত্রিকায় ও সবুজপত্র অনলাইন টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর মাও. নেছার উদ্দিন তড়িঘড়ি করে উপজেলা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় উপস্থিত প্রতিজন সাংবাদিককে দুই হাজার টাকা দিয়ে তার মাদ্রাসার জন্য আরো টাকা ছান মানুষের কাছে। যা শাক দিয়ে মাছ ডাকার মতন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌকারা মাদ্রাসায় মাও. নেছার উদ্দিন পীরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। যার কারণে ছারছিনা দরবার শরীফ সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। এক সময় সারাদেশে প্রথম স্থানে থাকা মাদ্রাসাটি পড়াশোনা মান কমে গিয়ে পিচিয়ে পড়েন। যা বর্তমানে ৯ম কিংবা ১০ম রয়েছে। বাধ্যতামূলক লিল্লাহ বোডিংয়ে ৪৫০ জন ছাত্রদের প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন ভাতা নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশ করেন। ভয়ে কোন ছাত্র মুখ খুলছে না। নিরবে কেঁদে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকরাও থাকেন ভয়ে।

পীর মানে আমরা জানি আল্লা ওয়ালা ব্যাক্তি। যার কোন দুনিয়াবি লোভ লালসা থাকবে না। টাকার পিছনে ছুটবেন না। টাকাই তার পিছনে ছুটবে। মৌকারা মাদ্রাসার পীর মাও. নেছার উদ্দিনের বিষয়ে উল্টো। গত (৪ আগস্ট) শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যে ভাবে মানুষের কাছে টাকা চাচ্ছেন। মনে হয় তিনি একজন টাকা ওয়ালা পীর। টাকা ছাড়া কিছু বুঝেন না তিনি। তার নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের কারণে বর্তমানে মাদ্রাসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

বরুড়ায় শামীমের জমজমাট মাদক বাণিজ্য

//স্টাফ রিপোর্টার//

কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় বহুল আলোচিত শামীমের বিরুদ্ধে মাদকের জমজমাট ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের ভাতেশ্বর গ্রামের আব্দুর রহিম মজুমদারের ছেলে নিজেই একজন মাদক সেবী হিসেবে  বহুল পরিচিত।  সেই সাথে এলাকায় মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রক। বিএনপি’র স্থানীয় পর্যায়ের এই নেতা এখন টগ অব বরুড়া।

এলাকার যুব সমাজ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী নিয়ে অবিভাবকরা শামীমের মাদক ব্যাবসায় উ্যকন্ঠিত।

বিএনপির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ও স্হানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা পর্দার আড়ালে থেকে তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

গাছ খেকো শামীম  হিসেবেও আরেক পরিচিতি রয়েছে তার। ২০২১ সালে চাঁদপুর জেলা পরিষদের মালিকানাধীন গাছ অবৈধভাবে রাতের আধারে কেটে সংবাদ শিরোনাম হন তিনি।  আড্ডা ইউনিয়নের ভাতেশ্বর গ্রামে জেলা পরিষদের গাছ কেটে সরকারী মামলায় আসামী হয়ে জেল খাটেন তিনি।

এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ বহু অবৈধ সিন্ডিকেটের গডফাদার হিসেবে তার ব্যপক পরিচিতি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পুনরায়  প্রকাশ্য দিবালোকে ভাতেশ্বর, রহিমানগর সড়কে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন শতাধিক গাছ কেটে ফেলে এই শামীম।

বিষয়টি জানাজানি হলে গাছগুলো সরাতে গিয়ে সে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন  পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাদল ও ইউপি মেম্বার গোলাম সারওয়ার  দুলালের তত্বাবধানে আলামত হিসেবে কয়েকটি গাছ এখনও সংরক্ষিত আছে। গাছের  টুকরোগুল গায়েব করে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য শামীমের বাবা আবদুর রহিমের বিরুদ্ধেও এলাকায়  চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে যে বাড়ীতে তারা  বসবাস করছে তা হিন্দুদের তাড়িয়ে দিয়ে দখল করে।

এলাকাবাসী মাদক ব্যাবসায়ী শামীমের বিরুদ্ধে আইণগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামণা করেন।

রামপালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষক মিজানুর রহমান বরখাস্ত

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খানম স্বাক্ষরিত রা.পাই. মা. বা.বি ২২/২০২৩ নং স্মারকের আদেশে অর্থনৈতিক তসরূপ ও শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৬ জুলাই তাকে বরখাস্ত করেন।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান ওই বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এ বিষয়ে বরখাস্তকৃত মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কেন বরখাস্ত করা হয়েছে সেটি তার জানা নেই।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খানম জানান, মিজানুর রহমান কে অর্থনৈতিক তসরূপ ও শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ করায় পর পর দুইটি কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে এ বরখাস্ত করা হয়।

ডুমুরিয়ায় টাটা কোম্পানীর নকল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরির অর্ধ কোটি টাকার ক্যামিক্যাল উদ্ধার। ভ্রাম‍্যমান আদলত একজনকে কারাদণ্ড

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় টাটা কোম্পানীর  নকল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরির অর্ধ কোটি টাকার ক্যামিক্যাল রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত একজনকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। নকল কোম্পানি প্রোপাইটার কে গ্রেফতার সহ  ভ্যানচালককে  জিজ্ঞাসাবাদে জন্য আটক করেছে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। ২০ জুলাই  বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নরনিয়া এলাকার মাহাবুর রহমানের বাড়িতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শরীফ আসিফ রহমান ।

ভ্রাম্যমান আদালত ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমীন জানান গত বুধবার বিকেলে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন আলী গাজীর ভ্যানে ১৯ টি প্লাষ্টিকের ড্রাম ও ৪০টি কাগজের কার্টুনে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মূল্যের নকল কীটনাশক নিয়ে একই জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় বিক্রির জন্য যাচ্ছিলেন। ভ্যানটি যশোরের  রাজগঞ্জ নামক স্থানে পোঁছালে টাটা কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে ভ্যানচালক ঝিকরগাছা সড়কের সন্ধান জানতে চায় ।

এসময় তিনি ভ্যানে তাদের কোম্পানির কীটনাশক দেখে সন্দেহ করে ভ্যান চালকের গতিরোধ করেন। ভ্যান চালকের কাছ থেকে কৌশলে জানতে পারেন খুলনা জেলার চুকনগরের একটি কোম্পানি থেকে এই কীটনাশক ঝিকরগাছায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন তিনি টাটা কীটনাশক কোম্পানির এমডি কেশব কুমার সাধুকে বিষয়টি জানান। তার নির্দেশে ভ্যান চালকসহ কীটনাশক গুলো সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটায় নেওয়া হয়। এরপর কোম্পানীর লোকজন চুকনগরের নরর্নিয়া এলাকায় এসে  টাটা কোম্পানীর লোগো লাগানো কীটনাশক কোম্পানির  সন্ধান পান।  বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমানকে অবহিত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান খবর পেয়ে  বৃহস্পতিবার বিকেলে নরর্নিয়া এলাকার মাহাবুর রহমান মোড়ল(৫০) এর বাড়ির একটি তালাবন্ধ ঘর থেকে নকল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরীর ক্যামিক্যাল উদ্ধার করেন। পুলিশ সুত্র জানান এ কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক মাহাবুব রহমান মোড়লকে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ৩দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন।  এছাড়া ভ্যানচালক কে জিজ্ঞাসাবাদ ও ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের নওয়াব আলী গাজীর ছেলে মেসার্স জেনারেল এগ্রো এর প্রোপাইটার  সুলতান গাজী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে নকল কীটনাশক তৈরী ক্যামিক্যাল রাখার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়। এব‍্যাপারে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলার  প্রস্তুতি চলছে । আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকার নকল কীটনাশক ও কীটনাশক তৈরির ক্যামিক্যাল জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে।

রূপসায় প্রতিবন্ধীর নিকট ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের অর্থ দাবি

//বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনা রূপসা উপজেলার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এর বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার  এর নিকট  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে জাবেদ আলী নামে  প্রতিবন্ধী।

অভিযোগকারী হলেন আইজগাতী ইউনিয়নের আইজগাতি গ্রামের আফছার আলীর ছেলে জাবেদ আলী।

অভিযোগে জানা যায়,খুলনা জেলার রূপসা উপজেলাধীন ১নং আইজগাতি মৌজার এস এ ৩৭৬ নং খতিয়ানের এস এ ৭৬১,৭৬৯ ও ৭৭৯ নং দাগের০. ৪৭ একর বাস্ত শ্রেণীর জমির ভিপি সম্পত্তির ভিপি লীজ কেস নং ০১/২০০২-২০০৩মূলে আমি

দরখাস্তে সাক্ষরকারীসহ ৫জন বাংলা   ১৪২৪ সাল পর্যন্ত লীজের টাকা পরিশোধ করিয়া দখলে  থাকা অবস্থায় ১৪২৯ সন পর্যন্ত লীজ নবায়নের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি রূপসা বরাবর আবেদন করি।

উক্ত লিজ নবায়নের জন্য নৈহাটি ইউনিয়নভূমি সহকারী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন সহকারী কমিশনার ভূমি রুপসা।

সে মোতাবেক নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গত ১৫/৯/২০২২ ইং তারিখে যথারীতি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়াছেন এবং উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার পর সহকারী কমিশনার ভূমি রূপসা খুলনা তাহার দপ্তরে কর্মরত সার্ভেয়ার  আতিকুর রহমানকে ২৮/২/২৩  তারিখের মধ্যে সরজমিনে উক্ত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু উক্ত ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করিয়া কালক্ষেপণ করেন।

পরবর্তীতে প্রতিবন্ধী জাবেদ  গত ১৪-৬-২০২৩ তারিখে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে সার্ভেয়ারকে আমার উক্ত লীজ কেসের তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি।

সার্ভেয়ার   জানান যে প্রতিবেদন পাঠাইতে গেলেতো কমপক্ষে তাহাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে।

আমি তাকে অনেক অনুরোধ করিয়াছি যে আমি একজন ভূমিহীন প্রতিবন্ধী মানুষ। প্রতিবন্ধী মানুষ এত টাকা দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।

কিন্তু কোন রুপ অনুরোধ কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে  বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে  দরখাস্ত দাখিল করেন জাবেদ আলী।

ভূমি অফিসের ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে ১৯জুন ২৩ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জাবেদ।

এ ব্যাপারে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। ঐঘটনার কোন ফাইল আমার দপ্তরে তদন্তের  জন‍্য  আসে নাই।

থুলনার রূপসায় রেখা বেগমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখলের চেষ্টা

//রূপসা প্রতিনিধি//

থুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে নদীর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারী ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখল নেওয়ার চেষ্টায় অব্যাহত একটি কু—চক্রী মহল। প্রকল্পে দলিল প্রাপ্ত রেখা বেগম অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ রেখা বেগম জানায়, শিয়ালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২০/০৭/২০২২ সালে দলিল প্রাপ্ত হই এবং ২৬ নং ঘরটি আমি ভোগ অধিকার পেয়েছি। তারপর থেকে ঐ ঘরে আমি (স্বামী পরিত্যাক্ত) বসবাস করে আসিতেছি। অথচ কয়েকদিন আগে ৩ দিনের জন্য আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যাই। সেখান থেকে ফিরে দেখি আমার ঘরের দরজার সিটকেনী সহ তালা ভাঙ্গা এবং অন্য এক মহিলা তার মালামাল নিয়ে আমার ঘরের ভিতর থাকছে। এটা দেখে আমি হতবম্ব হই। আমি ঘরে না থাকা স্বত্বেও আমার ঘরে রেখে যাওয়া টাকা ও মালামাল উধাও! খুজে পাই নাই। এরপর জানতে পায়— সাবেক (ওয়ার্ড মেম্বর) সজিব, দীদার ও তানভীর ষড়যন্ত করে ঐ মহিলার বেশ কিছু টাকা খেয়ে আমার ঘরে উঠিয়েছে।

উল্লেখিত তানভীর গাজী আশ্রয়ণে (সভাপতি) নামে পরিচিত, তার স্ত্রীর ঘর নং—৭। এ ঘটনার কিছুদিন আগে তানভীর আর একটি বিবাহ করে আমার ঘরে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাঁর কথায় রাজি না হওয়ায়, সে বলে তুই এ ঘরে কিভাবে থাকিস তা আমি দেখে নিব। তার দেখা সে দেখে নিয়ে বিপদগ্রস্ত করেছে আমাকে।

আমি বিষয়টি সজিবের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, তুমি আমাকে ৫ হাজার টাকা দিলে ঐ মহিলাকে নামিয়ে ঐ ঘরেই তোমাকে উঠিয়ে দিব। এরপর প্রায়ই আমার কাছে টাকা চাইত। এরপর উপায়ন্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

অভিযুক্ত তানভীর জানায়, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলেও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আপনারা সেলিনার কাছে শোনেন, সে যা বলবে তাই সত্য।

অভিযুক্ত সজিব জানায়, আমি চেয়ারম্যানের হুকুমে তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে সেলিনাকে ঘরে উঠিয়ে দিই। তবে রেখার কাছ থেকে টাকা—পয়সা নেইনি। আমাকে পরে চেয়ারম্যান বলেছেন, ঐ মহিলার ঘরের দলিল থাকা স্বত্বেও তাঁর ঘরের তালা ভেঙ্গে অন্যকে উঠানো সম্পূর্ন ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমান দখলদার সেলিনা জানান, সজিব, দীদার ও তানভীর বলেছে চেয়ারম্যান নাকি ঐ ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে আমাকে থাকতে দিতে। এটি কার ঘর, তা আমি আগে জানতাম না।

ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোল্যা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান বলেন, এ ঘরের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে তদন্তর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সরোজমিনে তদন্তপূর্বক ২/১ দিনের মধ্যে সঠিক তথ্যর প্রতিবেদন জমা দিব। আমাকে সজিব, তানভীর ও দীদার, সেলিনার সমস্যার কথা জানালে, আমি ওদেরকে রেখা বেগমের সাথে কথা বলতে বলেছি যে কিছুদিনের জন্য ওর ঘরে সেলিনাকে থাকতে দেয় কি—না। কিন্তু তাঁরা তা না করে সরকারী ঘরের তালা ও সিটকেনী ভেঙ্গে ফেলে। তাদের এই ভাঙ্গার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান বলেন, শিয়ালী এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। প্রতিবেদন আসলে অপরাধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

র‌্যাব পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারণাকারী গ্রেফতার

সাইফুল্লাহ নাসির,  বরগুনা প্রতিনিধিঃ

র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প গত ১৫/০৬/২০২৩ইং তারিখে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানা হতে র‌্যাবের ভুয়া ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম (৪০) নামের এক প্রতারক’কে গ্রেফতার করে।

ঘটনাক্রমে জানা যায়, গত ১৮/০৫/২০২৩ইং তারিখে শহীদুল ইসলাম(৪০), পিতা- মোসলেম প্যাদা, সাং- বড় গাবুয়া, পোষ্ট- ছোট গাবুয়া, থানা- গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী নামক ব্যাক্তি নিজেকে র‌্যাবের ক্যাপ্টেন মোঃ মনিরুজ্জামান পরিচয়ে বরগুনা জেলার আমতলী থানার বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার(৩৮)’কে মোবাইলে কল দিয়ে নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং টাকা দাবি করে। সে বলে যে, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানায় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির নিকটে এবং সে মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার(৩৮)’কে যেকোনো মূহূর্তে মিথ্যা মামলায় ফাসাতে পারে বলে জানায় ও তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার নিকট টাকা দাবি করে। সে টাকা দিতে রাজি না হলে আসামী পুনরায় তাকে কল দিয়ে টাকা দাবি করে। এতে সে প্রাণভয়ে নিরুপায় হয়ে আসামীর দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে আসামী তাকে পুনরায় একাধিকবার কল করে বিভিন্ন ভয়-ভীতির মাধ্যমে আরোও টাকা দাবি করে।

সে প্রতারনার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুনরায় আর টাকা প্রদান না করে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫/০৬/২০২৩ইং তারিখ রাত আনুমানিক ২২৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জনাব তুহিন রেজা’র নেতৃত্বে আসামীকে গলাচিপা থানাধীন বড় গাবুয়া সাকিনস্থ তার নিজ বসতবাড়ির উঠান হতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে তার নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল ও ০২ টি বিকাশ নম্বর সম্বলিত সীমকার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী শহীদুল ইসলাম (৪০) ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে। সে আরও জানায়, সে ভুয়া ও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষদের ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে।