ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ; সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে …. রূপসায় জেলা প্রশাসক মিজ্ হুরে জান্নাত

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ হুরে জান্নাত বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, এর আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উৎস ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় মশার প্রজননের তৈরি হচ্ছে এবং কোন এলাকাগুলোতে ঝুঁকি বেশি, এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, অভিযান পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সেটিও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাজার, সড়কের পাশসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা অন্য কোনো বস্তুতে পানি জমে থাকলে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষ যদি এসব বিষয়ে সচেতন হয়, তাহলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কোন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দ্রুত সেই এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর লক্ষণ, মশার প্রজননস্থল এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানাতে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই; সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। প্রশাসন মাঠপর্যায়ে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে জনগণের অংশগ্রহণ যুক্ত হলে উদ্যোগগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে। ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ, তাই এর নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় পর্যায় থেকে দ্রুত তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি চলমান কার্যক্রম। এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান নয়। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিক সবার দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং অন্যদেরও সচেতন করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই আতঙ্ক নয়, সম্মিলিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ আয়োজিত ডেঙ্গু মশাবাহিত ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি (অতিরিক্ত) এস এম নুরুন্নবী, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আছাফুর রহমান।

সেমিনার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাঃ ইব্রাহিম হাওলাদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. নাসির উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিএসবি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক শাবানা, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বাবু, ইনতাজ মোল্যা, হোসনেয়ারা পারভিন হেনা, নাজমা বেগম, বিএনপি নেতা শিহাবুল সরদার, সাজ্জাত হোসেন, জাহাঙ্গীর হালদার, নজরুল ইসলাম, জাকির শেখ, আকতার শেখ প্রমুখ।

এর পূর্বে তিনি নৈহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে দেবীপুর এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা ও অতিরিক্ত কৃষি অফিসার সুজিত মন্ডল।

এছাড়া তিনি রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সরকারি দপ্তরসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডি-নথির মাধ্যমে অফিসিয়াল পত্র নিষ্পত্তি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন এবং রূপসা থানা, উপজেলা ভূমি অফিস ও আঠারোবেকী নদীর তীরে অবস্থিত আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

কর্মকর্তা শূন্য রূপসা উপজেলা পরিষদ: ‘ধার-দেনা’ কর্মকর্তা ও জোড়াতালির প্রশাসনে নাগরিক সেবা স্থবির

//এম মুরশীদ আলী//

তৃণমূলের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল উপজেলা পরিষদ। সরকারি নিয়মে সপ্তাহে ৫ দিন পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও খুলনার রূপসা উপজেলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। রূপসা উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি দপ্তরসহ ৩৩টি সরকারি দপ্তরের অধিকাংশই এখন অভিভাবকশূন্য। স্থায়ী কর্মকর্তার অভাবে অন্য উপজেলা থেকে ‘ধার-দেনা’ করে আনা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা নিচের পদের কর্মচারীদের দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এতে সেবা নিতে এসে মাসের পর মাস চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ টেবিলেই দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্তারা অনুপস্থিত। সেবাগ্রহীতারা কোনো কাজে দপ্তরে গেলে সহকারীরা মুখস্থ উত্তর ছুঁড়ে দেন ! ‘স্যার- জেলা অফিসে মিটিংয়ে আছেন’ অথবা ‘ট্রেনিংয়ে গেছেন’। সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস নির্ধারিত থাকলেও জেলা অফিসের কাজের বাহানায় অনেকেই এক থেকে দুই দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই ঢিলেঢালা উপস্থিতির বিষয়টি জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আদৌ তদারকি করেন কি না?

দপ্তরগুলোর বেহাল দশা ও জোড়াতালির প্রশাসন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়: রূপসা উপজেলায় স্থায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেই। তেরখাদা উপজেলার এসিল্যান্ড এস এম নুরুন্নবীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি সপ্তাহে মাত্র ২ দিন এখানে বসেন। ফলে ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে এসে মানুষ চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল :

কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক পদোন্নতি পেয়ে গত ১৩ আগস্ট বদলি হন। এরপর থেকে বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরিকুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন রূপসায় দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে খামারিরা সময়মতো সেবা পাচ্ছেন না।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস:

সম্প্রতি ফকিরহাট উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অতিরিক্ত হিসেবে রূপসায় ২৮ দিন দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এরপর দাকোপ উপজেলার কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামকে সপ্তাহে ২ দিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর:

এখানকার প্রকৌশলী জয় প্রকাশ মজুমদার গত চার মাস ধরে প্রশিক্ষণে আছেন। তবে দীর্ঘদিনেও তাঁর স্থলে কোনো অতিরিক্ত কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাসেল দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন ।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়:

গ্রামীণ উন্নয়ন ও ত্রাণ কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান এই কার্যালয়ে স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। তেরখাদা উপজেলার পিআইও হানিফ শিকদার সপ্তাহে মাত্র ১ দিন এসে কোনোমতে ফাইল সই করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়: রূপসার সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার পদোন্নতি পেয়ে গত ৬ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প অটোমেশন অফিসে যোগদান করেন। এরপর ফুলতলা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. তুষার আলমকে সপ্তাহে ২ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জমি রেজিস্ট্রেশন করতে এসে দূর-দূরান্তের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

আইসিটি অধিদপ্তর:

উপজেলা আইসিটি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত গড়হাজির থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর অন্য কোনো উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব না থাকলেও  মাঝেমধ্যে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।

উপজেলা ভূমি অফিস (সার্ভেয়ার) :

এই দপ্তরের সার্ভেয়ার জেলা অফিস থেকে সপ্তাহে মাত্র ২ দিন আসেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই দুই দিনেও তাঁকে ঠিকমতো পাওয়া যায় না।

অন্য উপজেলায় দায়িত্ব পালন ও প্রশাসনিক সংকট। এদিকে রূপসার কর্মকর্তারাও অন্য উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় রূপসার অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রূপসা উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা অজিত কুমার ঘোষকে সপ্তাহে ২ দিন খুলনা খানজাহান আলী থানা কার্যালয়ে ডিউটি করতে হয়। ফলে রূপসার নির্ধারিত কর্মদিবসের দুই দিন তিনি অনুপস্থিত থাকেন। একইভাবে রূপসা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ সপ্তাহে ২ দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তেরখাদায়।

এদিকে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে আছেন সানজিদা রিক্তা। তিনি বর্তমানে বেশ কিছুটা অসুস্থ থাকলেও জনসেবা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অতিরিক্তরা রূপসা অফিসে সপ্তাহে কোনদিন থাকবেন, তা দপ্তরে নেই দিন-ক্ষন। এতে করে জনসাধারণ বিভিন্ন সেবায় ফলপ্রসু সেবা পাচ্ছেন বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় দেখা দিয়েছে। তাছাড়া কোন কোন দপ্তরের কর্মকর্তা সকাল ৯ টায় অফিস টাইম থাকলেও আসেন ১০ টার পরে এবং বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অফিস করার সময় থাকলেও চলে যান চারটার পূর্বে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবাগ্রহীতারা এসে ফিরে যাচ্ছেন শূন্য হাতে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা জানান, সময় মত অফিসে আসা এবং বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অফিসে দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে নজর দেওয়া হবে এবং যেসব দপ্তরে কর্মকর্তা নাই তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। অফিস শেষে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা পদায়ন করে উপজেলার সার্বিক প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রূপসাবাসী।

প্রাকৃতিক জলাশয়, খাল-বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করণে রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের নদী-খাল, বিল, প্লাবন ভূমি ও জলাশয় আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ। এসব জলাশয় রক্ষা করা শুধু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে সরকারি খাল, বিল বা জলাশয় দখল করে রাখবে এটি বিএনপি সরকার কোনোভাবে মেনে নেবে না। দখল ও ভরাটের কারণে অনেক জলাশয়ের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। তাই অবৈধ দখলে থাকা জলাশয়গুলো চিহ্নিত করে জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হয়ে সেগুলো রক্ষা করতে হবে। উদ্ধার জলাশয়গুলোকে কীভাবে সংরক্ষণ ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।

খাল-বিলের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। যাতে বর্ষার পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং প্লাবন ভূমিতে দেশীয় মাছ প্রজনন বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এতে একদিকে জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরো বলেন, খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে একসময় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর পরিমানে মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে জলাশয় ভরাট, দখল, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ ও অবৈধভাবে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছ কমে গেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। মাছের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ যে পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হচ্ছে, এগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের একটি অংশ। এই পোনাগুলো যাতে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ যেন অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধন না করে এবং বিষ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার না করে সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খননের যে যুগান্তকারী নীতি গ্রহণ করেছিলেন, সেটি ছিল মানুষের জীবন-জীবিকা ও দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে খাল খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে।

খাল খনন মানে শুধু পানি চলাচলের পথ তৈরি করা নয়, এর সঙ্গে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকা সরাসরি জড়িত। বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খাল-বিলে প্রবেশ করতে পারে, পোনা মাছ বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হয় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এতে জেলে ও মৎস্যজীবী মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে মাছের যোগান। তাই খাল খননের পাশাপাশি খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি সবসময় কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও সাধারণ মানুষের অধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলে, বিএনপি জনগণের দল। রাষ্ট্রের সম্পদ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, এগুলো জনগণের কল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের সকলকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই একমাত্র বিএনপির লক্ষ্য।

তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে রূপসা উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্লাবন ভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধান ক্ষেত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি মোট ১৬টি জলাশয়ে মৎস্য পোনা বিতরণ শেষে ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুঁটিমারি খাল, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও রূপসা থানা পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার জাহিদ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্য সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা বিএনপির সদস্য আনিচুর রহমান, আরিফুর রহমান, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবীর, ইলিয়াজ হোসেন, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ফিরোজ মাহমুদ, শামীম হাসান, খান আলিম হাসান, জাহিদুল ইসলাম রবি, মোকাররম হোসেন, তরিকুল ইসলাম রিপন, এসএম আবু সাঈদ, নাঈম আহম্মেদ, মোস্তাহিন শিকদার, গোলাম রসূল, জাহিদ শেখ প্রমূখ।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী//

‘মানুষ, পৃথিবী এবং সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রূপসায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে  আলোচনা সভা গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষরতা দিবসে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম স্থানে শাহরিয়ার ইসলাম সাফা, দ্বিতীয় স্থানে জায়মা হায়দার এবং তৃতীয় স্থানে জামিলা খাতুনদের পুরস্কৃত করা হয়।

রূপসায় সাক্ষরতা দিবস পালিত ; হাতের লেখা বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মুহা. আবুল কাশেম। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মাসুদ রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ভেটেরিনারি সার্জন বৃষ্টি ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুন নেছা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আলী আকবর,  এসআই নাজমুল হুদা।

সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষার আলো একজন মানুষের জীবনকে যেমন পরিবর্তন করতে পারে, তেমনি একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিরক্ষরতা দূর করার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার সুযোগের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও বাস্তবজীবনমুখী শিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি সচেতন, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিরক্ষরমুক্ত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হতে পারে একটি উন্নত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রধান শিক্ষক সজীব কুমার মহলী, শেখ লুৎফর রহমান, শ্যামল দাস, শাবানা, মাসুদ আলম, আবু বক্কর সিদ্দিক, কামরুল ইসলাম, শেখ সালাউদ্দিন আহম্মেদ, নাজমা পারভিন, জাবেদা পারভিন, শিপ্রা রানী, পারভিন সুলতানা, আঃ সত্তার, নাসরিন সুলতানা, মোতাহার হোসেন, মোঃ নজরুল ইসলাম, এসএম রাকিবুল ইসলাম, আ: সত্তার খান, সুলতানা জাহান, এসএম কামরুল ইসলাম, লক্ষ্মী রানী, শিক্ষা দপ্তরের মোঃ ফয়সাল, আল মামুন গাজী, মুরাদ শেখ, প্রদীপ দত্ত, শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম সাফা প্রমূখ।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রূপসা ঘাটের টোল আদায় অনিয়ম ও পন্টুন গ্যাংওয়ে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা// 

রূপসা উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতি নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা বলেন- রূপসা খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এঘাটে জনপ্রতি ৭ টাকা খরচ, মাঝিরা নিচ্ছে ৫ টাকা এবং টোলে ২ টাকাসহ যাত্রীদের ব্যাগ ও বিভিন্ন মালামাল পার করতে আরো অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। অথচ ঘাটের গ্যাংওয়ে এত জরাজীর্ণ, ছোট বড় সকলের চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া মাঝি এবং টোল আদায়কারীর ব্যবহার অতি দুঃখজনক। খেয়া পারাপারের প্রতি নৌকায় লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সকল সমস্যার সমাধান অতিদ্রুত করার জন্য খুলনা বিআইডব্লিউটিএ প্রতিনিধি এবং রূপসা ঘাট ইজারা নেওয়া প্রতিনিধি উপস্থিত রেখেছি এবং তাদের বক্তব্যে সমস্যার সমাধান দ্রুত করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় রূপসা ঘাটের টোল আদায় অনিয়ম ও পন্টুন গ্যাংওয়ে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস বিআইডব্লিউটিএ

এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান ও মাইকিং করার ব্যবস্থা গ্ৰহন হয়েছে। মাদক ক্রয়-বিক্রয়, অবৈধ মাটি কাটা, বালু উত্তোলন এবং অবৈধ ট্রলি চলাচল ও তৈরির কারখানা বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। জন্ম মৃত্যু নিবন্ধনের হার ত্বরান্বিত করতে ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের বিষয় কাজ করতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। এ সকল বিষয়ে গত ৩১ আগষ্ট সকাল ১১টায় অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আইন-শৃঙ্খলা সভায় খন্ড খন্ড বক্তব্যের প্রতি উত্তরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। সকলের সহযোগিতা নিয়ে সম্মিলিতভাবে সমাধান করতে পারলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব হবে বলে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভারপ্রাপ্ত এস এম নুরুন্নবী,

রূপসা থানা ওসি তদন্ত মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে উপর বক্তৃতা করেন- উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাইফুর রহমান মোল্লা, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, রূপসা জামায়াত ইসলামী আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, খুলনা বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী ঋদ্ধি রুবায়েদ, প্রভাষক পিনজিরা খানম, কাজদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা শফিউদ্দিন নেছারী, শিক্ষক শাবানা, রূপসা ঘাট ইজারা আ. হ. ম এন্টারপ্রাইজের পক্ষে বক্তৃতা করেন ধীমান মহলদার স্বাধিন, রূপসা মাঝি ঘাট ইউনিয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারেজ আলী প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন বৃষ্টি ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহা: আবুল কাশেম, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার উল কুদ্দুস, সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ, সমবায় কর্মকর্তা জান্নাতুন নেছা, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল, রূপসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন, রূপসা শিল্পকলা একাডেমীক সঙ্গীত শিক্ষক অসিম কুমার নীলমনি, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রভাষক মেজবাহ উদ্দিন সেলিম, পিঠাভোগ ডিজিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ পদ রায়, জামায়াত নেতা হাফেজ মো. জাহাঙ্গীর, রূপসা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ওবায়দ হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেয়ারটেকার আব্দুস সালাম প্রমুখ।

অপরদিকে- নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রূপসা উপজেলার সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়েছে। সর্বশেষ রূপসার বিভিন্ন ক্লাবে ফুটবল বিতরণ করা হয়।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

// এম মুরশীদ আলী //

রূপসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়ক উপকরণ স্কুল ব্যাগ বিতরণী গত ২৭ আগষ্ট সকালে উপজেলা মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক সেন্টারের অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৬০ জন সহ ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাগ এবং প্রত্যেক স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তা বলছেন- দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষায় স্কুলের চতুরপাশে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, রূপসায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার রেজাল্টের পর শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার জন্য স্কুল ব্যাগ দেওয়ার আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া সামনে নতুন করে ফুটবল প্রতিযোগিতা আসছে, সেখানে প্রাথমিকে যারা ক্লাস ফাইভে আছে তারা কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। খুব শীঘ্রই এই প্রতিযোগিতাটা শুরু হবে। তাদের প্র্যাকটিসের জন্য ফুটবল দেওয়া হলো।

রূপসায় বৃত্তিপ্রাপ্ত অসচ্ছল মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল বিতরণ

আজ আমি অবাক হলাম যে, ছোট্ট শিক্ষার্থীরা মাইক্রোফোন ধরে এতো মানুষের সম্মুখে বক্তৃতা দেওয়াতে বোঝা যায়, তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে যাবে। এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনের শক্তি অভিভাবক ও স্কুল শিক্ষক। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষকতা সবসময় মহান পেশা। আপনারা শিক্ষক দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করছেন বলেই আজকে এই শিক্ষার্থীরা বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের এগিয়ে নেওয়ার সাথে তার মাঝে মানবিকতাটা তৈরি করার কাজটিও আপনারা অবশ্যই করবেন। আজকের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের দায়িত্ব নিতে হলে নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। এখান থেকে তোমারা শিক্ষা বয়সে মোবাইলে ভিডিও দেখা এবং নেশায় আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারলে, তোমার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় সফল হওয়া সম্ভব বলে মনে করি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) মুহা: আবুল কাশেম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মো. মাসুদ রানা ও (এটিও) আলী আকবর।

এসময় অভিভাবদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- সরদার শাহজাহান আলী এবং শিক্ষকদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- প্রধান শিক্ষক মোতাহার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবানা, শ্যামল কুমার দাস, আব্দুর সাত্তার খান, শেখ লুৎফার রহমান, জবেদা পারভীন সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপসায় কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন! ফুটবল ও গাছের চারা বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী //

রূপসায় ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণের পাশাপাশি ফুটবল ও গাছের চারা বিতরণ গত ২৪ আগষ্ট দুপুরে অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ ও ক্লাবে ফুটবল দিয়ে খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিতরণী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা।

রূপসায় কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন! ফুটবল ও গাছের চারা বিতরণ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল কুদ্দুস, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল ও কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন।

রূপসায় কিশোরীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন! ফুটবল ও গাছের চারা বিতরণ

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, মাওলানা শফিউদ্দিন নেছারী, মনিরুজ্জামান, কৃষ্ণ পদ রায়, সরোজ কুমার হালদার, যশোমন্ত ধর, অমলনাথ শিকদার, বিউটি পারভিন, চাঁদ সুলতানা, মধু আজিজা সুলতানা, মধু মঙ্গল মল্লিক, দীপ্তিশ্বর বিশ্বাস, লক্ষন কুমার সাহা, বেল্লাল হোসেন, ক্রীড়া শিক্ষক আঃ রহমান, বিপ্লব সরদার, আঃ কাদের,উপজেলা পরিষদের রাজিবুল হাসান মুন্না সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান  শিক্ষকবৃন্দ। উপজেলা প্রশাসন ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২টি করে ফুটবল, ৪ হাজার ৭০০টি স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং ১ হাজার ৬০০টি গাছের চারা বিতরণ করেন।

জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের মৎস্যখাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি প্রকৃত যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে- রূপসায় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধনীতে এমপি হেলাল

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার জন্য যারা যোগ্য, তাদেরই এসব সুবিধা দিতে হবে। যারা এসব কার্ডের জন্য জরিপ করবেন এবং কার্ড বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, তাদের অবশ্যই স্বচ্ছতা, সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। কে কোন দলের কৃষক, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী এসব বিবেচনা করা যাবে না। যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাকেই সরকারি সুবিধা দিতে হবে। জনগণের হক জনগণকেই দিতে হবে।

তিনি বলেন, জলাশয়গুলোকে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং দখলমুক্ত করতে হবে। খাল-বিল, নদী ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এগুলো সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই জলাশয় দখল করে কৃষক ও মৎস্যজীবীর অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না এবং  জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জলাশয় দখলমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ছাড়ব, মাছের উৎপাদন বাড়াব, আর কেউ সেই জলাশয় দখল করে সেই মাছ ভোগ করবে এটা হতে পারে না। জনগণের সম্পদ জনগণের জন্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। যারা জলাশয় দখল করে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। সে যত বড় নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, জনগণের সম্পদ দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই। এসব দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার কৃষি, মৎস্য ও জ্বালানি খাতসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়  খাল-বিল ও জলাশয় দখলমুক্ত রাখা এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সোচ্চার থাকতে হবে। কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আমাদের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ রক্ষা করা মানে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। কৃষি ও মৎস্যখাতকে সমৃদ্ধ করতে হলে জলাশয় রক্ষা, নদী-খাল দূষণমুক্ত রাখা, দখল বন্ধ করা এবং প্রকৃত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রূপসা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও জাতীয় মৎস্য পক্ষ রূপসা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সফল মৎস্য চাষী, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য একথা বলেন। এরপর তিনি দুপুরে

উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে ও ঘাটভোগ ইউনিয়নের নড়নীয়া বিলে মোট ১২০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

উপজেলা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতিকনা দাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন রূপসা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান, খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এনামুল কবীর সজল,

উপজেলা আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু।

অনুষ্ঠানে রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খন্দকার হিমেল, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম,সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফাদর, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক,পূর্ব রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির সভাপতি রুবেল মীর, মৎস্যচাষী খন্দকার শরিফুল ইসলাম, সুজন বসু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য আনিসুজ্জামান আনিস,আরিফুর রহমান আরিফ, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র,জেলা মহিলাদলের সাধারন সম্পাদক সেতারা বেগম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহানাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রয়েল আজম, বিএনপি নেতা এসএম আঃ মালেক, খান আনোয়ার হোসেন, মহিউদ্দিন মিন্টু, শরিফুল ইসলাম বকুল, আজিজুর রহমান, দিদারুল ইসলাম, মিকাইল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, জিয়াউল ইসলাম বিশ্বাস, ইলিয়াজ হোসেন,জেলা মহিলাদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরা বেগম, বাদশা জমাদ্দার, সাইফুল ইসলাম পাইক, আবুল কাশেম কালা, মহিতোষ ভট্টাচার্য, সৈয়দ মাহমুদ আলী, শামীম হাসান, প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, শাবানা,হাকিম কাজী, মোঃ সাজ্জাত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, সাবেক ছাত্রনেতা  খান আলিম হাসান, মাসুদ খান, মুন্না সরদার, আরিফ মোল্যা, জাহিদুল ইসলাম রবি, কামরুজ্জামান নান্টু, জেলা যুবদলের সদস্য তরিকুল ইসলাম রিপন,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রয়েল, রহিমা আক্তার নয়ন, ছাত্রদল নেতা কাজী জাকারিয়া, মো. দাউদ শেখ, এসএম আবু সাঈদ, মাহমুদুল হাসান, নাঈম ইসলাম, মনিশংকর রায়,  মিজানুর রহমান, সিহাবুল ইসলাম, মোল্যা দুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মোল্যা, আসলাম লস্কর, রহিমা আক্তার নয়ন প্রমূখ।

“কিচির মিচির” — রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা’র শুভ উদ্বোধন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্লে-জোন “কিচির মিচির” রূপসা উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে উন্নয়ন তহবিল থেকে নির্মিত করা হয়েছে। গত ৩ আগষ্ট বিকেলে শুভ উদ্বোধনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণে বর্তমান সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রি্কতা রূপসায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, আমি যখন এ উপজেলায় প্রথম যোগদান করি, তার কিছু দিনপর এ পথ দিয়ে হেঁটে চলার মধ্যে হঠাৎ একটি বাচ্চা এসে বললো, ম্যাম আপনিতো আমাদের নতুন নির্বাহী, আমাদের একটা পার্ক করে দিবেন। যেখানে আমারা দোলানায় দোল খাবো, ষড়াত খাবো, হাঁসের পিঠে নড়াচড়া করবো এবং হেসে-খেলে আনন্দ উপভোগ করতে পারবো। তার এ কথাগুলো অবশ্য কারোর শেখানো বুঝতে পারছিলাম। তারপরও ওর কথাগুলি আমার মনে মায়ার স্বরে জায়গা করে নেয়। ঐসময় শিশুটিকে আশ্বস্তী করি তোমার মনের আশা অল্পদিনের মধ্যেই পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। ঐ ছোট শিশুর কথা মনে রেখেই ‘কিচির মিচির’ পার্কের সৃষ্টি হয়েছে।

"কিচির মিচির" --- রূপসায় শিশুদের স্বপ্নের ঠিকানা'র শুভ উদ্বোধন

শিশুদের জন্য পার্ক নির্মাণ করাতে স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় শিশুদের নিয়ে ঘোরার মতো ভালো কোনো স্থান ছিল না। বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে হলে শহরের দিকে যেতে হতো। ছোট শিশুদের নিয়ে দূরে যাওয়া কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কিচির মিচির প্লে-জোনটি হওয়ার পর সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। শিশুরা একসঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ করে নিজেদের মধ্যে মিশছে। শিশুদের মুখের এই হাসির চেয়ে একজন বাবা-মায়ের কাছে বড় শান্তি আর কী হতে পারে। এটি শুধু একটি প্লে-জোন নয়, এটি আমাদের সন্তানদের আনন্দময় শৈশবের একটি সুন্দর ঠিকানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, রূপসা থানা ওসি আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আহসান হাবীব প্রামাণিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, ইউআরসি ইনসট্রাক্টর এহতেশামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বুরহান উদ্দীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বজলুর রশীদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম আলী আকবর, সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমরান হোসেন, আইচগাতী ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাসুম, শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক বিশ্বাস, নৈহাটি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস, টিএসবি ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাফুর রহমান, ঘাটভোগ ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু, প্রধান শিক্ষক সাবানা, শিক্ষক চন্দ্র শেখর পাল, শিক্ষক শামীমা নাসরিন, দিলারা খানম, সঙ্গীত শিক্ষক নীলমনি বিশ্বাস, ব্যবসায়ী ওবায়েদ ফারাজী প্রমূখ।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

//এম মুরশীদ আলী, খুলনা//

দেশের প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা স্বরুপ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্যে রূপসার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আবেদনকারীর নিয়োগ পরীক্ষা গত ২৯ ও ৩০ জুলাই উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সম্পন্ন হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে দেখা গেছে প্রায় ৮০০  পরীক্ষার্থী এ পদ ২ টিতে অংশগ্রহণ করেছে। এসময় আগত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, বেশ কয়েক বছর পরে স্থানীয় ভাবে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে খুবই ভালো লেগেছে। আশা করছি উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি সহযোগিতা নিয়ে দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো।

(ফ্যামিলি কার্ড) রূপসায় বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন

নিয়োগ বোর্ড কমিটির সদস্য সচিব সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম তরফদার জানান, সুপারভাইজার পদে ১০৭ জন এবং তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৬৫০ জন আবেদনকারীর মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে তথ্য সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী পদে ৭২ জন এবং সুপারভাইজার পদে ৬ জন। (মোট ৭৮ জন) অস্থায়ী ভিত্তিতে ৪৫ দিনের জন্য নিয়োগ পাইবেন। নির্বাচিতরা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রান্তিক ও নিম্নআয় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ পূর্বক স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সংরক্ষণ করবেন।

নিয়োগ বোর্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিক্তার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধি মোতাবেক মৌখিক ও ব্যবহারীক পরীক্ষা সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হয়েছে।

এ পরীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা কৃষি অফিসার তরুণ কুমার বালা, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, কমিটির সদস্য- মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন ও সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন।

You May Also Like