মানবসেবা ও জনকল্যাণমূখী কাজের জন্য সারমিন সালাম পেয়েছেন রিয়েল হিরো আ্যাওয়ার্ড

মানব কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন মানুষের জন্য যে নারী তিনি হলেন সারমিন সালাম। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এনভয় গ্রুপ-এর পরিচালকের দায়িত্বে পালন করে চলেছেন দক্ষতার সাথে। সফল মানবসেবী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে অনেক কৃতিত্ব রয়েছে তার।

সকল শ্রেণীর পেশার মানুষের সাথে হাসি দিয়ে কথা বলেন এবং সুন্দর ব্যবহার, সেবামূলক কর্মকান্ড দিয়ে আজ প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। কারো কাছে প্রিয় ভাবী, কারো কাছে শ্রদ্ধেয় চাচিমা। তার মানব সেবায় আকৃষ্ট হয়ে কেউ কেউ তাকে জন ’দরদী মা’ স্বীকৃতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ভাবেও মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য পেয়েছেন রিয়েল হিরো আ্যওয়ার্ড। পুরস্কারটি হাতে তুলে দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান। গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার হোটেল লা মেরিডিয়ান থলে ডটকম এর আয়োজনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও দেশবরেণ্য তারকা ফুটবলার ও বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীর সহধর্মীনি। স্বামীর সহযোগিতা, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় তিনি মানব কল্যাণে নিজেকে আজ মানব সেবাই শীর্ষে রয়েছেন। একজন নারী যে জাতীয় জীবনে, সংসার জীবনে, নারীর কল্যাণে এবং কর্মজীবনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে সারমিন সালাম তার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

মানবসেবা ও জনকল্যাণমূখী কাজের জন্য সারমিন সালাম পেয়েছেন রিয়েল হিরো আ্যাওয়ার্ড

এনভয় গ্রুপের পরিচালক হিসেবে নারী শ্রমিকদের জন্য, মাতৃত্বকালীন ছুটি, দুগ্ধদান মহিলাদের ব্রেস্ট ফিডিং সেন্টার, শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। যার ফলে এনভয় গ্রুপে সকল শ্রমিকদের কাছে তিনি মানবতার মা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। তার অধীনে রয়েছে ১৩টি গার্মেন্টস শিল্প। যেখানে প্রায় বিশ হাজার নারী পুরুষ শ্রমিক কর্মরত আছেন। আর এই বিপুল সংখ্যক নারীদের দক্ষ করে তোলা এবং নারীবান্ধব কর্ম পরিবেশ তৈরিতে এনভয় গ্রুপের পরিচালক হিসেবে সারমিন সালামের অবদান অগ্রগণ্য।সারমিন সালাম মানব সেবার ব্রত নিয়ে নিরলস ছুঁটে চলছেন স্বামীর নির্বাচনী এলাকা খুলনার রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলাসহ খুলনার প্রত্যন্ত এলাকায়। এই তিন উপজেলার সাংবাদিকসহ গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে দাঁড়ান তিনি।

একজন নারী, মা ও মানবসেবী হিসেবে তার অবস্থান সমানুপাতিক গতিতে বিদ্যমান। সালাম মূর্শেদী ও সারমিন সালাম দাম্পতির এক মেয়ে ও দুই ছেলেসহ তিন সন্তানকে গড়ে তোলার সিংহ ভাগ কৃতিত্বের দাবিদার মা সারমিন সালাম। স্বামী সালাম মূর্শেদী বারবার অকপটে স্বীকার করেন।

বড় মেয়ে শেহরিন সালাম ঐশী যখন লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তেন তখন মমতা মাখানো হাতে মেয়ের পছন্দের খাবার রান্না করে প্রতি সপ্তাহে ছুঁটে যেতেন সুদূর লন্ডনে মেয়েকে দেখভাল করার জন্য তিনি। এভাবে সন্তানদের সঠিক পরিচালনা, উৎসাহ-অনুপ্রেরণা, আদর-ভালবাসা ও বন্ধুসুলভ আচরণ দিয়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আজ সফল মানুষরূপে গড়ে তুলেছেন। তাইতো শেহরিন সালাম ঐশী দেশের সর্বকনিষ্ঠ ব্যারিস্টার হয়েছেন। কিছু আগে হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়ে তরুণ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের ব্যবসায়ী অঙ্গনে সুনাম অর্জন করে যাচ্ছেন। বড় ছেলে ইসমাম সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আজ সফল একজন ব্যবসায়ী। ছোট ছেলে আইয়ান সালামকে আমেরিকান ইন্টারন্যশনাল স্কুলে দশম গ্রেডে ও পবিত্র কোরআনের হাফেজ করে তুলছেন।

জাতীয় জীবনে অর্থনীতি, রাজনীতির পাশাপাশি নিজের সংসার জীবন ঠিক রেখে, নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কল্যাণে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশেষ অবদান রেখে চলছেন বহুগুণে গুণান্বিত এই নারী। স্বামীর পাশাপাশি সারমিন সালাম মানবিক অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলছেন। তাইতো সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব স্বামীর সহযোগী হিসেবে সবসময় সকল কাজে সহযোগীতা করে চলছেন। সালাম মূর্শেদীর অর্থ-বিত্ত, নাম, যশ-খ্যাতি তার পিছনে স্ত্রী সারমিন সালামের অবদান কল্পনাতীত।

মানুষকে সেবা দেওয়া জন্য সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘ, সালাম মূর্শেদী ব্লাড ব্যাংক, সারমিন সালাম অক্সিজেন ব্যাংক, সারমিন সালাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পূর্ণবাসন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন । এ সমাজসেবক চক্ষু রোগী এবং ক্যান্সার রোগীসহ বিভিন্ন রোগের কারনে অসুস্থ্য প্রায় ৫শতাধিক মানুষকে নিজ অর্থে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেছেন। শীতের সময় গভীর রাতে শীতবস্ত্র নিয়ে মানুষের দরজায় দাড়িয়েছে। সারমিন সালাম ছোট বেলা থেকে পর উপকারী ছিলেন। তিনটি উপজেলার দুঃস্থ মহিলাদের বুনিয়াদ সুদৃঢ় করার জন্য ছাগল ও শতাধিক মহিলাকে সেলাই মেশিন প্রদান করেছেন। করোনায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ ঘোষিত রূপসার ‘রিয়েল লাইভ আঁখি’কে তার স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার গার্মেন্টস স্থাপনের মেশিনারিজ দিয়েছেন। অনেক কন্যা দ্বায়গ্রস্থ বিধবা মায়ের মেয়েদের নিজ অর্থায়নে বিবাহের ব্যবস্থা করেছেন এই সারমিন সালাম।

মানব দরদী সারমিন সালাম ১৯৬৯ সালে ২২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ সালেহিন, মাতা ফিরোজা সালেহিন। তিনি ধানমন্ডি গার্লস স্কুল ঢাকা ১৯৮৪ সালে এসএসসি ও হলিক্রস গার্লস কলেজ হতে ১৯৮৬ সালে এইসএসসি পাস করেন এবং ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। সারমিন সালাম একজন সাহিত্য অনুরাগী। কবিতা পড়তে ও লিখতে তার ভীষণ ভাল লাগে।

সারমিন সালাম বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। যতদিন বাচবো নিজেকে মানব সেবাই নিয়োজিত রাখব। মানব সেবার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে তা অন্য কিছু করে সে আনন্দ পাওয়া যায় না। মানুষের ভালবাসা নিয়ে বেচে থাকতে চাই।

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রূপসায় জুম কনফারেন্সে এমপি সালাম মূর্শেদীঃ আয়নাল গাজী  দক্ষ ও পরিশ্রমী নেতা ছিলেন