উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র জিতু// বয়স ১৬ নয় ১৯// বান্ধবীকে হিরোইজম দেখাতে শিক্ষককে হত্যা করে

উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র জিতু// বয়স ১৬ নয় ১৯// বান্ধবীকে হিরোইজম দেখাতে শিক্ষককে হত্যা করে

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বান্ধবীকে হিরোইজম দেখায়

ঢাকার সাভারে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতু স্কুলের বান্ধবীকে হিরোইজম দেখাতে গিয়ে তার শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানিয়েছেন।

উৎপল হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিতুকে গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

জিতুকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদে কী জানা গেল, তা নিয়ে পরের দিন ব্রিফিংয়ে আসেন র‌্যাবের মুখপাত্র।

গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার অযাচিতভাবে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে শিক্ষক উৎপল নির্দেশ দেন। এই ঘটনায় সে তার শিক্ষকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ওই ছাত্রীর কাছে নিজের হিরোইজম দেখানোর জন্য তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সে গত ২৫ জুন একটি ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প স্কুলে নিয়ে আসে এবং তা শ্রেণিকক্ষের পেছনে লুকিয়ে রাখে ও তার শিক্ষককে আঘাত করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

 পরে কলেজ মাঠে ছাত্রীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে শিক্ষক উৎপল কুমারকে মাঠের এক কোনে শিক্ষককে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিতু তার কাছে থাকা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে বেধরক আঘাত করতে থাকে। জিতু তার শিক্ষককে প্রথমে পিছন থেকে মাথায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।

উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র জিতু

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার জিতু এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সে শিক্ষা জীবনে বিরতি দিয়ে প্রথমে স্কুল পরে মাদ্রাসা ও সর্বশেষ পুনরায় স্কুলে ভর্তি হয়। সে ওই স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। সে স্কুলে সবার কাছে একজন উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মারামারিসহ স্কুলের পরিবেশ নষ্টের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ও স্কুল চলাকালীন ছাত্রীদের ইভটিজিং ও বিরক্ত করত; স্কুল প্রাঙ্গনে সবার সামনে ধূমপান, স্কুল ইউনিফর্ম ব্যতিত স্কুলে আসা-যাওয়া, মোটর সাইকেল নিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করত।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, জিতুর নেতৃত্বে এলাকায় একটি কিশোর গ্যাঙ গড়ে তোলে। গ্যাঙ সদস্যদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে যত্রতত্র আধিপত্য বিস্তার করত। পরিবারের নিকট তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে গ্রেফতার জিতু তার অনুসারী গ্যাঙ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তাদের উপর চড়াও হতো ও বিভিন্ন সময় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে শোডাউন দিত বলে জানা যায়।

১৯ বছরের জিতু

 ঢাকার আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যায় মামলার এজাহারে আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতুর বয়স ১৬ বছর লেখা হলেও র্যা ব তার বয়স ১৯ বছর বলে জানাচ্ছে।

র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলছেন, জিতুর জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডে যে জন্মতারিখ রয়েছে, তা এজাহারের সঙ্গে মিলছে না।

বৃহস্পতিবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জিতুকে গ্রেফতারের পর তার কলেজ থেকে জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়। সেখানে তার জন্মতারিখ রয়েছে ২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি।

সে অনুযায়ী তার বয়স ১৯ বছর। কিন্তু মামলার এজাহারে লেখা ১৬ বছর।

শনিবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ায় হাজিউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ওই স্কুলের শিক্ষক উৎপল সরকারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জিতু। পরে চিকিৎসাধীন সোমবার ভোরে মারা যান উৎপল।

এ ঘটনার পর স্কুলশিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে শামিল হন। মামলায় জিতুর বয়স ১৬ লেখার বিষয়টি নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।

আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি অপরাধের বিচার হয় কিশোর আইনে। সেই সুবিধা পাইয়ে দিতে জিতুর বয়স কম দেখানো হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও স্থানীয়রা তুলেছেন।

র্যাব কর্মকর্তা আল মঈন বলেন, তার শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সময় ব্রেক ছিল। প্রথমে তাকে স্কুলে ভর্তি করে পরিবার। দ্বিতীয় শ্রেণিতে তাকে জোর করে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়।

এর পর তাকে আবার স্কুলের নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। এ ছাড়া তার উচ্ছৃঙ্খল জীবন ও বেপরোয়া চলাফেরার কারণেও শিক্ষাজীবনে ছেদ পড়ে।

কমান্ডার মঈন বলেন, বয়স ১৯ নিশ্চিত হওয়ার পর র্যাব অপরাধী হিসেবে তার নাম প্রকাশ করেছে। এখন বিষয়টি নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করবে। তবে আমরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে এই সার্টিফিকেট নিয়েছি।

বুধবার বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে এক বন্ধুর বাড়ি থেকে জিতুকে গ্রেফতার করে র্যাব। ভোর থেকে ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিল সে।

শিক্ষক উৎপল

শিক্ষক উৎপল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০১৩ সালে আশুলিয়ার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে যোগ দেন। তিনি ওই কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম, চুলকাটা, ধূমপান করা ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত বিষয়ে সোচ্ছার ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলাধুলা পরিচালনা করাসহ শিক্ষার্থীদের সুপরামর্শ, মোটিভেশন ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখতেন।

Daily World News

তালতলীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর, আহত- ৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *