//নিজস্ব প্রতিবেদক//
রাজধানীর শাহজাহানপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহিদুলের গাড়িচালক মুন্না।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তরা টিপুকে লক্ষ্য করে এ গুলি চালায় বলে জানান স্থানীয়রা।
এই ঘটনায় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুসহ এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক মুন্না বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গাড়িচালক মুন্না বলেন, আমরা গাড়িতে করে শাহজাহানপুর বাগিচা মসজিদের দিক দিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। রাস্তায় ট্রেনের সিগন্যাল দিলে গাড়ি থামিয়ে সিগন্যাল ছাড়ার অপেক্ষা করতে থাকি। হঠাৎ বাঁ পাশ দিয়ে সন্ত্রাসীরা আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। জাহিদুল ভাইয়ের বাঁ হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। কাউকে চিনতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার মুখে হেলমেট পরা ছিল।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে, কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। সন্ত্রাসীরা যখন এলোপাথাড়িভাবে গুলি করতে থাকে তখন আমার হাতে গুলি লাগে সঙ্গে সঙ্গে আমি সিট ভেঙে দিয়ে শুয়ে মারা যাওয়ার ভান করি। তখন তারা আমাকে মৃত ভেবে চলে যায় এবং আমি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসি।
পুলিশ বলছে, টিপুর গাড়ি আমতলা রেলগেটে পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে দুই দুর্বৃত্ত গাড়ির কাছে যায়। পরে গাড়ির জানালা দিয়ে টিপুকে লক্ষ্য করে ৮-১০ রাউন্ড গুলি করে। একটি গুলি টিপুর মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়। এসময় বিপরীত পাশের জানালা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া গুলিতে রিকশা আরোহী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতি (১৮) নিহত হন। জাহিদুল ইসলাম টিপু বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও টিপু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ডলির স্বামী।
মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থল সিআইডি ক্রাইম সিনসহ আমরা পরিদর্শন করেছি। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজসহ নমুনা সংগ্রহ করেছি।
উল্লেখ্য, রাজধানীর শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ৩ নম্বর ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিপু। এ সময় সামিয়া আফরিন প্রীতি (২৪) নামে এক রিকশাযাত্রীও নিহত হন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর ব্যক্তিগত গাড়িচালক মুন্না। জাহিদুলের গাড়ির পাশ দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন শিক্ষার্থী প্রীতি। দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তিনিও বিদ্ধ হন। পরে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত প্রীতি বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। গুলিবিদ্ধ গাড়িচালক মুন্না বর্তমানে ঢামেকে চিকিৎসাধীন।

