যশোরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য জীবন-জীবিকা শাপলা-শালুক নির্ভর হয়ে পড়েছে

যশোরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য জীবন-জীবিকা শাপলা-শালুক নির্ভর হয়ে পড়েছে

যশোর জেলার সদরের২৬ টি বিলসহ অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি অভয়নগর উপজেলার ভবদহ নামক স্থানে অবস্থিত ২১, ০৯ ও ০৬ ভেন্টের স্লুইসগেটের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো।কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে উল্লেখিত স্লুইসগেটসমূহ পানি অপসরণের কার্যকারী ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে  আশির দশকে শুরু হওয়া সমস্যা আজ একাবিংশ শতাব্দীতে বিষবৃক্ষের ন্যায় মহীরুহ ধারণ করছে।বিভিন্ন সময়ের অতিবৃষ্টির জন্য অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি প্লাবিত হয়ে দশ লক্ষাধিক লোককে স্থায়ীভাবে পানি বন্ধী করে রাখে এবং বদ্ধপানিতে বাড়িঘর,রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজ মসজিদ-মন্দিরে অবস্থান করায় অমানবিক জীবন যাপন করতে হয়। এমনি কি মানুষ মারা গেলে দাফন করতে দূরে উঁচু জায়গায় নিয়ে।

উল্লেখিত ২৭ টি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য অধিকাংশ বিলে ফসলাদি হয় না শুধুমাত্র মাছ চাষ হয়।বিল বোকড়ের কিছু অংশ,সুন্দলীর খোল বিল,শুড়ীর ডাঙ্গীর বিল,ঝিহিরের বিল,রাজাপুরের বিল, ডুমোর বিল, ধলের গাতী বিল, ফেহেলির বিল রাজাপুরের উত্তরে, মাগুরার বিল, শা- মান্দার তলার বিল, ভাতার মারীর বিল জয়পুরের পশ্চিমে, হরিণার বিল খোরচে ডাঙ্গা ও বলা ডাঙ্গার বিল,ভাতুড়িয়া প্রভৃতি বিলের উপরের অংশে মাছ চাষ হলেও একটি বিরাট অংশ শাপলা, শালুক, পানি ফলে ভরে থাকে। ফলে  প্রাকৃতিকভাবে ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক এই তিন মাস এ অঞ্চলের বিলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শাপলা,শালুক ও পানি ফল জন্ম নেয়। এই শাপলা,শালুক ও পানি ফল পুষ্টি গুণ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর তাই এই সকল বিলের শাপলা,শালুক ও পানি ফল ভবদহ এলাকার একটি বৃহদাংশের  জনগণের খন্ডকালীন জীবন ও জীবিকার অবলম্বন হয়ে  দাঁড়িয়েছে।

রাতের এক প্রহর বাকি থাকতেই ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় এই শ্রেণীর লোকের জীবিকার সংগ্রাম।পরিবারের সকলে মিলে ভাড়া করা নৌকা বা নিজস্ব নৌকায় বিলে যায়।পরিবারের কর্তা বৈঠা চালায় বিলের পানিতে। চলমান নৌকায় বসে বা পানিতে নেমে পরিবারের  সদস্যরা  শাপলা,শালুক ও পানিফল তোলে নিয়ে আসে  উঁচু জায়গাতে।তারপর পরিবারের সকলে মিলে শালুক ও পানি ফল গুলি পরিষ্কার করে এবং ১০ থেকে১৫ টি শাপলা একত্র করে আঁটি বাঁধে।আঁটি বাঁধা শেষ হলে ভোরের আলো ফুটে বের হওয়ার আগেই এই পানিফল,শালুক ও শাপলাগুলো ভ্যানে করে বা নিজের কাঁধে করে নিয়ে ৫/৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নওয়াপাড়া বাজারে নেয় বিক্রি করার জন্য।একজন সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ আঁটি শাপলা, কিছু পানিফল ও শালুক সংগ্রহ করতে পারে।প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হয় হয় ১০ টাকা করে।শালুক আর পানিফলগুলো নিজেদের খাবার জন্য রেখে দেয়।ফলে একজন সর্বোচ্চ ৫০০ শত টাকার শাপলা বিক্রি করতে পারে।

দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির জন্য যেখানে মধ্যম আয়ের লোকেদের নাভিশ্বাস সেখানে শাপলা বিক্রির এই স্বল্প টাকায় একজন শাপলা বিক্রেতাকে চালাতে হয় ৬/৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারকে।এইভাবে শাপলা বিক্রির স্বল্প টাকায় ভবদহ এলাকার শতাধিক পরিবার অতিকষ্টে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছে।

প্রকৃতি প্রদত্ত এই শাপলা ফুল যেমন হাজারো মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে তেমনি ভবদহ এলাকার একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হতদরিদ্র  মানুষের জীবিকার অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শাপলা ভবদহ জনপদের একটি বিরাট অংশের কাছে ঈশ্বর প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহারে পরিণত হয়েছে।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

“বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা একদমই নেগলেটড” পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *