শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালে অষ্টমী পূজার সকালে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘিরপাড় মন্দিরের বিগ্রহের উপর পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন শরীফ রেখে দেওয়া হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের বিষবৃক্ষ রোপন করা হয়।ফলে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, সিলেট,বান্দরবান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পূজামন্ডপ ও স্থায়ী মন্দিরে আগুণ দেয়া, প্রতিমাসহ বিভিন্ন বীগ্র ভাংচুর করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সৃষ্টি করা হয়েছে।
এছাড়া শিশুসহ নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের মতো জঘন্য কাজ করা হয়েছে যা কোন স্বাধীন সার্বভৌম দেশে কাম্য নয়। একইভাবে একটি ১৫ বছরের কিশোরের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে গতপরশু রাতে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার অর্ধশতাধিক নিরীহ জেলে পরিবারের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে লুটপাট করা হয়েছে এবং আজও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি কাপড়ের দোকানে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআন ও ধর্মীয় অবমাননার দোহাই দিয়ে একটি মৌলবাদী গোষ্ঠীর এ ধরনের মানবিকতা বর্জিত ও বর্বোরচিত হামলা চালানোর প্রতিবাদে সারাদেশে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদসভা, মানববন্ধনসহ সম্প্রীতির র্যালির আয়োজন করে।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ ১৯ অক্টোবর -২০২১ রোজ মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘটিকায় গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি- যশোর জেলার আয়োজনে ১ নং আইনজীবী সমিতির সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি এ্যাড. আবুল হোসেন,জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড.কাজী ফরিদুল ইসলাম,গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু,এ্যাড.আমিনুর রহমান হীরু, এ্যাড. স্বপন কুমার ভদ্র,এ্যাড. বাসুদেব বিশ্বাস প্রমূখ।
বক্তরা বলেন, ধর্মীয় অবমাননার দোহাই দিয়ে রামু,নাসিরনগর,ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় একই কায়দায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রতিমা ভাংচুর, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটালেও কোন এক অদৃশ্য কারণে ঐ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা যায়নি।আর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বার বার এ ধরনের ঘটনা সংগঠনে উদ্ভুদ্ধ করেছে।এই বিচার হীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় বিচারের আহ্বান জানান ।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে শেখ রাসেল’র ৫৮ তম জন্মদিন পালিত

