গাজা ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা তীব্র আকার নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ আশঙ্কা করছে পরিস্থিতি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সঙ্কট ‘একটা পূর্ণাঙ্গ মাত্রার’ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ৩৮ ঘণ্টা ধরে এক হাজারের ওপর রকেট ছুঁড়েছে বলে জানাচ্ছে ইসরায়েল। তারা বলছে বেশির ভাগ আক্রমণ হয়েছে তেল আবিবের ওপর।
ইসরায়েলও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার চালানো ইসরায়েলি হামলায় গাজার দুটি উঁচু টাওয়ার ব্লক বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের বেশ কিছু শহরে ইসরায়েলি আরবরা সহিংস বিক্ষোভ করেছে।

তেল আবিবের কাছে লড শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন চলমান সহিংসতায় তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
ছয়জন ইসরায়েলি মারা গেছে এবং গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে সোমবার থেকে হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৪৩ জন, যাদের মধ্যে ১৩জন শিশু।
সবশেষ মারা গেছে একজন ইসরায়েলি নাগরিক। গাজা ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে ছোঁড়া একটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্ত এলাকায় একটি জিপে আঘাত করলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে আরো দুজন।
জেরুসালেমের একটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশ এবং ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের জেরে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বিরাজ করার পর এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছে। ওই এলাকা মুসলিম এবং ইহুদি দুই ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র।
সহিংসতার পেছনে কারণ
পূর্ব জেরুসালেমে পাহাড়ের ওপর পবিত্র একটি স্থানে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পুলিশের মধ্যে কয়েকদিন ধরে সহিংসতা বৃদ্ধির জেরেই ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়।
এই স্থানটি মুসলিম এবং ইহুদি দুই ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র। মুসলিমদের কাছে এটি হারাম আল-শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে এটি টেম্পল মাউন্ট।
হামাসের দাবি ইসরায়েল সেখান থেকে এবং নিকটবর্তী মূলত আরব অধ্যুষিত শেখ জারাহ থেকে পুলিশ সরিয়ে নিক। সেখান থেকে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতে চায়।
হামাস এই পদক্ষেপ বন্ধ করার যে আলটিমেটাম দিয়েছিল, ইসরায়েল তা উপেক্ষা করলে হামাস রকেট নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
সূত্র : বিবিসি
// অনলাইন ডেস্ক //
———————-

