আদালতে মামলা করায় হত্যার হুমকি- পরিবারের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

আদালতে মামলা করায় হত্যার হুমকি- পরিবারের সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে চাঁদাবাজদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ভিকটিমসহ তার পরিবারের সদস্যরা। নিরাপত্তার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভিকটিম আবু সাইদের নাতী আসাবুর রহমান।

বুধবার বেলা ১২ টায় প্রেসক্লাব রামপাল এ এসে তিনি সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৩০-০৭-২০২৩ তারিখ রাত সাড়ে ১১ টায় বাড়ীতে যাওয়ার সময় পথরোধ করে তার আপন নানা চাঁদপুর গ্রামের ঔষধ ব্যাবসায়ী আবু সাইদ শেখ ও মামা নাজমুল হাসান কে হাতুড়ী, লোহার রড ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন সন্ত্রাসীরা।

বর্তমানে চারা খুলনা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। আহতের ঘটনায় বাগেরহাটের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (রামপাল) এর আদালতে ১৬ জনকে আসামী করে (পি- ৬৫/২০২৩) একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন ভিকটিম আবু সাইদের ছোট ভাই আনোয়ারুল ইসলাম। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি বাগেরহাটের সিআইডি কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আসামী করা হয়েছে, শংকনগর গ্রামের আবু হানিফ ওরফে হানু, আব্দুল্লাহ শেখ, গিয়াস উদ্দিন শেখ, মহসীন শেখ, লালু শেখ, সাইফুল্লাহ শেখ, চাঁদপুর গ্রামের মিজান শেখ, মিরাজুল শেখ, জসিম শেখ, সেলিম শেখ, কামাল শেখ, জামাল শেখ, আবু দাউদ মল্লিক, আ. হালিম সরদার ও এরশাদ শেখ কে। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, গত ইংরেজি ১৭ জুন শংকনগর মৌজার একটি জমির দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরদিন ১৮ জুুন ওই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে ১৪৪ ধারার একটি মিস মামলা করেন দায়ের করেন মামা ভিকটিম নাজমুল হাসান। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন প্রতিপক্ষগণ। তারা ভিকটিম আবু সাইদ ও নাজমুলের কাছে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লক্ষ টাকা চাদাঁ দাবী করেন এবং টাকা না দিলে জীবনে শেষ করে দেবেন বলে হুমকি দেন।

এরপরে গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১ টায় পিতা-পুত্র ফয়লাহাটের ঔষধের দোকানে বেচা-বিক্রি করে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে ভ্যানগাড়িযোগে চাঁদপুরের বাড়ীতে ফিরছিলেন। পথে কেরামত ও আলতাফের বাড়ীর সামনে পৌছলে সরকারী রাস্তায় ফেলে রাম দা, হাতুড়ী ও রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং হাত পা ভেঙ্গে দেয়।

ওই সময় আসামিরা ভিকটিমদের পকেটে থাকা দেড় লক্ষ টাকা ও একটি স্মার্ট ফোনসেট চাঁদা বাবদ নিয়ে নেয়। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আহতরা মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে ফিরলে আসামিরা এবার জীবনে শেষ করে দিবে বলে আশংকা প্রকাশ করে জেলা পু্লিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের নিরাপত্তা কামনা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *