“রাজনৈতিক চক্রবূহের কবলে ভবদহের জলাবদ্ধতা”- ১০লক্ষ মানুষের কান্না

“রাজনৈতিক চক্রবূহের কবলে ভবদহের জলাবদ্ধতা”- ১০লক্ষ মানুষের কান্না

 

যশোরের দুঃখ হিসাবে খ্যাত মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর, যশোর সদর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ২৭ টি বিলের তীরবর্তী বসবাসরত ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত দুইশতাধিক গ্রামীণ জনপদের ১০ লক্ষাধিক জনগণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় ঠিকাদার ও মাছ চাষে জড়িত ক্ষমতাধর মালিকপক্ষ।

এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চক্রবূহ। দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবনধারাকে জিম্মি করে বর্গীদের ন্যায় কোটি কোটি টাকা লুট করার যে হীনমন্যতা তা দেশদ্রোহীতাকে হার মানায়।

ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধ মানুষের দীর্ঘদিনের এই চরম সংকট নিরসনের জন্য আজ ২৪ আগস্ট-২০২১ রোজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ যশোর নীলরতন ধর রোডে অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বক্তব্য রাখেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হামিদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক চৈতন্য কুমার পাল। বক্তরা বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। কিন্তু একটি অসাধু ও সিন্ডিকেট চক্র এতই ক্ষমতাবান যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েই চলেছেন। ফলশ্রুতিতে ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে নদীর মোহনা পর্যন্ত ৫০/৬০ কিলোমিটার নদী পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে এবং ঐ এলাকার হরিহর, শ্রী,টেকাসহ সকল নদী তার গভীরতা ও গতিপথ হারিয়ে মৃতপ্রায় নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে নদী তার স্বাভাবিক জীবন ও যৌবন হারিয়ে উচ্ছল জোয়ার- ভাটা খেলতে পারেনা।

ফলে ঐ এলাকার ২৭ টি বিলের পানি বের হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিনতির কথা বারবার বলা সত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উল্লেখিত বিষয়ে কর্ণপাত না করে গাদ্দার ও গণ-দুশমনের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। বক্তরা ভবদহ এলাকায় বিভিন্ন সময় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে টিআরএম ( টাইডার রিভার্স ম্যানেমেন্ট সিস্টেম)- ই সর্বাপেক্ষা পরীক্ষিত, সফল ও জনমূখী প্রকল্প।

এমনই পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত টি.আর.এম চালু ও আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত এবং সংস্কার না করা হয় তাহলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ২০০ গ্রামের ১০ লক্ষাধিকেরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হবে। শুধু তাই নয়- এলাকার ঘর- বাড়ি,রাস্তাঘাট,স্কুল-কলেজ, কবরস্থান-শ্মশান, মসজিদ-মন্দির আবারও পানির তলে চলে যাবে এবং ভবদহ জনপদের মানুষকে তার চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে একাত্তর সালের মতো হয়তো আবারও দেশের মধ্যে বা পাশ্ববর্তী দেশে উদ্বাস্তুের মতো জীবন যাপন করতে হবে।

আর তাই ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে নেতৃবৃন্দ ৬টি দাবি উত্থাপন করেন।

দাবী গুলো হলো-

১। এই মুহূর্তে বিল কপালিয়ায় টি.আর.এম চালু করে নদীকে রক্ষা করা

২। অবিলম্বে বিল কপালিয়ায় টি.আর.এম বাস্তবায়ন, হরি শ্রী নদীতে পড়া পলি অপসারণ করা। পলি মাটি নদীগর্ভে নয়- নদী পাড়ের বাইরে ফেলা,

৩। পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া টেকা-মুক্তেশ্বরী নদী সংস্কার করা

৪। আমডাঙ্গা খাল প্রশস্থ ও গভীর করা। আমডাঙ্গা খালের স্লুইচগেটের পূর্বাংশে অবিলম্বে খালের দুই পাশে স্থায়ী টেকসই প্রাচীর নির্মাণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া,

৫। লুটপাটের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৫০ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাতিল করা,

৬। সমগ্র কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে কার্যকরী করা এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোকে কাজ মনিটরিংয়ের সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান ভিটু, তসলিমুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা নারায়ন চন্দ্র মল্লিক, শিবপদ বিশ্বাস,  রাজু আহমেদ, শিশির মন্ডল, আব্দুল মজিদ, অমিতাব মল্লিক, কিংকর বিশ্বাস, রবি মল্লিক প্রমুখ।

// নিজস্ব প্রতিনিধি //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, চাকু ও চায়নিজ কুড়ালসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *