যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসীক মানবিক অভিযান

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশওআজ ক্ষতবিক্ষত। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের অবস্থা দেশের অন্য জেলার থেকে একটু বেশি শোচনীয় । আর তাই যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগী ধারণের সক্ষমতা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায়,পথের ধারে,অ্যাম্বুলেন্সে বা ভ্যানের পরে করে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেছে।

ফলে হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে একটি শয্যা পাওয়া রীতিমত সোনার হরিণের মতো হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে হাসপাতালের স্বল্প সংখ্যক ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের অসহায়ের মতো আত্মসমার্পণ অন্যদিকে করোনার চিকিৎসার জন্য অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ ও আইসিইউ এর ব্যবস্থা না থাকায় রীতিমত চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমগ্র যশোরবাসীর জন্য।

তাই অনেক সচ্ছল, অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাধ্য হয়েই নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার এমনই লাজুক পরিস্থিতিতে চারিদিকে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর বিশাল মিছিল আর অক্সিজেনের অভাবজনিত কারণে করোনার রোগীদের অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে বেঁচে থাকার যে আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ করা যায় তাতে জনজীবনে দুর্বিসহ শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। করোনা আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসে সমগ্র যশোরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত।

যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসীক মানবিক অভিযান

 

সরকারি – বেসরকারি বড় বড় হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে চিকিৎসা সেবা দিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ। ঠিক জাতির এমনই একটি দুঃসময়ে যশোরের আপামর জনগণের ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছে মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ২০/২৫ জন স্বেচ্ছাসেবক । ২৭ জুন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি তারা করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে আছে।

তাদের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল শূণ্যহাতে।শূন্যহাতে যাত্রা শুরু করে আজ তারা যশোরবাসীর আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।যশোর শহরের ভিতর যদি কারো অক্সিজেন প্রয়োজন হয় তাহলে সর্বপ্রথমেই মানুষ স্মরণ করছে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের।একইভাবে খাদ্য সংকটে অথবা করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সংকটে পড়ে ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন হলে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে তাদের সমমনা কিছু অভিজ্ঞ ডাক্তারবৃন্দের নিকট থেকে ।

আর এই বিশাল কর্মযোগ্য সম্ভব হয়েছে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা ও মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের ঐকান্তিক চেষ্টা, শ্রম,মেধা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার জন্য। গতবছর করোনা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সরা স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও পোশাক সহায়তা,মাস্ক বিতরণ, করোনা টীকা গ্রহনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনসহ অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১১২ টি।এই সিলিন্ডারের মাধ্যমে ৩৩৮ জনকে ৯৯৭ বার অক্সিজেন সেবা দিয়েছেন।

সেবা দেওয়া ৩৩৮ জনের মধ্যে ২৯ জনকে একাধিকবার অক্সিজেন সেবা দিলেও করোনার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।বাকি ৩০৯ জন সুস্থতার দিকে। মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের মহা কর্মযোগ্যে ১৬৭০ জন দেশ-বিদেশের মানবিক বন্ধু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের কার্যক্রমকে গতিশীল করেছেন।

তাদের এই মানবিক কার্যক্রমকে চলমান রাখার জন্য সমাজের বিত্তবানসহ সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইলে Moitry Volunteers, AC/NO- 01411200021525, First Security Islami Bank Ltd. Jashore Branch পাঠাতে পারেন অথবা 01713078267 বিকাশ নম্বরে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।

উল্লেখ্য যতদিন করোনার প্রার্দুভাব থাকবে ততোদিন মৈত্রী ভলেন্টিয়ার্সদের এই সামাজিক স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজগুলো চলমান থাকবে।আর তাই সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 //স্বীকৃতি বিশ্বাস//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Daily World

যশোরে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বাউফলে ৪বারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন: সংবর্ধনা আ’মীলীগের

যশোরে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সারাদেশের চেয়ে সীমান্তবর্তী যশোর জেলায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি হওয়ায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ কঠোরতর লকডাউন বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে যশোর জেলা পুলিশকে।

অন্যদিকে ভারতের কোল ঘেষে যশোর জেলার অবস্থান হওয়ায় মাদক চোরাচালানির ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহৃত হয় যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা। ফলে মাদক চোরাচালানি রোধেও সর্বদা সজাগদৃষ্টি রাখতে হচ্ছে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষ টীমকে এবং প্রতিদিনই মাদক নির্মূলের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখতে হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুলাই -২০২১ রোজ রবিবার যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টীম চৌগাছা থানা পুলিশের সহায়তায় চৌগাছা থানা এলাকার সুখানপুকুরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুড়োপাড়া বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত পানবরজের নিকট থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সামাউল মন্ডল(৪৫), পিতা- মৃত আরশাদ আলী মোড়ল,গ্রাম- সুখপুকুরিয়া, থানা- চৌগাছা, জেলা- যশোরকে ২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করেন।

উদ্ধারকৃত গাঁজার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা। এসংক্রান্ত বিষয়ে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাউফলে ৪বারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন: সংবর্ধনা আ’মীলীগের

 

বাউফলে ৪বারের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন: সংবর্ধনা আ’মীলীগের

 

পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে একাধারে চতুর্থবারের মতো দায়িত্বভার গ্রহণ করায় চেয়ারম্যান এস.এম. ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা এবং নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

আজ রবিবার বেলা সারে দশটার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ওই সংবর্ধনা দেয়া হয়। চেয়ারম্যান এস.এম. ফয়সাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মোবাইল কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি সাবেক চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কালাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মোসারেফ হোসেন খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক জামাল হোসেন, বিশিষ্ঠ সমাজসেবক ও সিনিয়র সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নওমালা আ. রশিদ খান ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যপক আ.স.ম. কবীরুজ্জামান, বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য হারুন অর রশিদ খান, কালাইয়া ইদ্রিছ মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, কালাইয়া রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হাই প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, যুবলীগ সভাপতি মিজান মোল্লা এবং সাধারন সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহিন প্রমূখ। প্রধান অতিথি আ.স.ম. ফিরোজ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখন আপনারা জনগণের সেবক হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কর্মসূচীসমূহকে তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়ণের জন্য চেয়ারম্যান এবং মেম্বরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

সে হিসেব করে জনগণের সেবা করার আহবান জানান। এসময় তিনি আরো বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু নব্য আওয়ামী লীগ নামধারীরা ষরযন্ত্র করছে। ওই ষরযন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

//ইমাম হোসেন মনা, বাউফল// 

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

করোনা: চট্টগ্রামে মৃত্যু ১১ জন, নতুন আক্রান্ত ৮০১

করোনা: চট্টগ্রামে মৃত্যু ১১ জন, নতুন আক্রান্ত ৮০১

বৈশ্বিক মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে আরো ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৮০১ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত হয়েছে ৮৮৫ জনের। চট্টগ্রামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭৫ হাজার ৩৬৩ জন। রবিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন হতে এ তথ্য পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে ২ হাজার ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৮০১ জনের দেহে নতুন করে করোনা সনাক্ত হয়। তৎমধ্যে ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি ল্যাবে ২৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮১ জনের, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ২৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১৮ জন, সিভাসু ল্যাবে ৪৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৯ জনের দেহে করোনার জীবাণু সনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৮৪ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৯ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩১ জন, জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএল ল্যাবে ৫৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার ল্যাবে ৪৯ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জন, সেভরন হাসপাতাল ল্যাবে ৩৮৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১৫ জনের এবং এন্টিজেন টেস্টে ৮৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩২৪ জনের দেহের করোনা সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরের ৫৪৩ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪২ জন।
এদিকে আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলা ওয়ারী সংখ্যা হচ্ছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৩৮ জন, রাউজানে ৪০ জন, ফটিকছড়িতে ৫ জন, হাটহাজারীতে ৬৬ জন, সীতাকুন্ডে ১৯ জন, মিরসরাইতে ১২ জন, সন্দ্বীপে ২৩ জন, লোহাগড়ায় ৩ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, বাঁশখালীতে ২০ জন, আনোয়ারায় ২৮ জন, চন্দনাইশে ২ জন, পটিয়ায় ৩৬ জন এবং বোয়ালখালীতে ৩৭ জন রয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২ হাজার ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮০১ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট সনাক্তের পরিমান ৭৫ হাজার ৩৬৩ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তৎমধ্যে মহানগরে ৪ জন, উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৮৮৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগি মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে মহানগরে ৫৪৩ জন, উপজেলার ৩৪২।

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

 

কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

 //পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর নৌ থানা সংলগ্ন লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে মাঝ নদীতে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জামান জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত মৃতদেহের বয়স আনুমানিক ৫০ বছর হবে। পরনে লুঙ্গি ও গায়ে গেঞ্জি রয়েছে। তিনি বলেন সকালে কীর্তনখোলা নদীর মাঝে লাশটি ভাসতে দেখে জেলেরা থানায় খবর দেয়। পরে নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ওসি বলেন, ‘মৃতদেহের শরীর থেকে চামড়া খসে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে ৪-৫ দিন পূর্বে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। তবে লাশটি কোন দিক থেকে ভেসে এসেছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া

দিঘলিয়াতে ‘সালাম মুর্শেদী সেবা সংঘে’র মাক্স বিতরন

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, করোনার এই মহামারিতে আমার নির্বাচনী এলাকা রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ায় ‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘে’র মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা, অক্সিজেনের ব্যাবস্থা, চিকিৎসা ব্যাবস্থা করে যাচ্ছি, আজ তারই ধারাবাহিকতায় আপনাদের মাঝে এই মাক্স বিতরন করছি।

রোববার (২৫ জুলাই) বেলা ১১ টায় দিঘলিয়া উপজেলার পথের বাজারে ‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘে’র উদ্যোগে মাক্স বিতরন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একথা বলেন।

‘সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘে’র দিঘলিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি শেখ রিয়াজ এর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক শেখ আনিসুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খান নজরুল ইসলাম,সাধারন সম্পাদক মোল্লা আকরাম হোসেন,জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও এমপি মহোদয়ের উপদেষ্টা ফ ম আব্দুস সালাম,দিঘলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক খান হাবিবুর রহমান বিপুল,উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সেলিম মল্লিক,উপজেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শেখ রায়হান উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আনসার আলী,সাধারন সম্পাদক শেখ মুন্জুর হোসেন,সেনহাটী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান,উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের আহবায়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ,কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক খান আবু সাইদ,সালাম মূর্শেদী সেবা সংঘের টিম লিডার মোঃ সামসুল আলম বাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কে এম আসাদুজ্জামান,সদরের এমপি প্রতিনিধি মোঃ হাবিবুর রহমান তারেক, সৈয়দ জামিল মোর্শেদ মাসুম, শেখ রাজিবুল হাসান, শেখ সাইদুর রহমান, ফেরদাউস ইসলাম সোহেল, পরাগ পারভেজ রুবেল, শেখ আলামিন,স্বর্ণালী খাতুন,বুলবুল, শেখ শিহাদ,আশিক, জীবন , মোস্তফা,সহ প্রমুখ।

//আ:রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মহামারীতে অসহায়ের পাশে থাকাই আমাদের বড় কর্তব্য- এমপি সালাম মূশের্দী

 

 

কুমিল্লায় ৩ হাজার ৮০০ পিচ ইয়াবাসহ বাউলগানের ২ শিল্পী দম্পতি গ্রেফতার

 

অদৃশ্য শক্তি সম্পন্ন করোনার বাঁধভাঙা দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সমগ্র দেশের ন্যায় ভারতের সীমান্তবর্তী কুমিল্লার জেলার জনগণও দিশেহারা।অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় সীমান্তবর্তী জেলাসমূহ মাদকের ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহৃত হয়।ফলে জেলা শহর কুমিল্লাও এর ব্যতিক্রম নয়।আর তাই একদিকে করোনা অন্যদিকে মাদক এই দ্বৈত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। ফলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনকে করোনার বিধিনিষেধ পালনের জন্য যেমন কাজ করতে হচ্ছে অন্যদিকে মাদকের চেইনড্রিল ভাঙার জন্যও কাজ করতে হচ্ছে।

আর তাই কুমিল্লা জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার ইনচার্জের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে থানার পঞ্চবটী মাজার সংলগ্ন ৪ তলা দালানের ফ্লাটে অভিযান পরিচালনা করে স্মৃতি সরকার ও মোঃ সুমন মিয়া দম্পতির ঘরের ওয়ারড্রোবের ভিতরে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ হতে পলিথিনের প্যাকেটে রাখা ৩ হাজার ৮০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার পূর্বক দম্পতিকে গ্রেফতার করেন।উল্লেখ্য গ্রেফতারকৃত দম্পতি এলাকায় বাউল শিল্পী হিসাবে পরিচিত। তারা উভয়ই বাউলগানের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসায়ে জড়িত।

উপরে উল্লেখিত ঘটনায় কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

//নিজস্ব প্রতিনিধি//

১কেজি ৫০০ গ্রাম গাজা, ১টি মোটর সাইকেল ও নগদ টাকাসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরীঃ

আজ ২৫/৭/০৭/২০২১খ্রিঃ তারিখ সকাল ০৬:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি জনাব সুকান্ত সাহা নড়াইলের তত্ত্বাবধানে এস আই দেবব্রত চিন্তাপাত্র সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ নড়াইল সদর থানাধীন আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে অভিযান চালিয়ে মোঃ সেরেগুল ইসলাম সেতু (৩৬), পিং মৃত মিজানুর রহমান মোল্লা, সাং- বুড়িখালী, থানা ও জেলা নড়াইল গাঁজা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেলে যোগে যাবার সময় আসামির বাড়ির পাশে রাস্তার উপর থেকে গ্রেফতার করেন
আসামির নিকট থেকে ১, কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ও মাদক বহনকারী একটি বাজাজ CT- 100 মটরবাইক, নগদ- ৮০০০/-( আট হাজার) টাকা সহ গ্রেফতার করা হয়৷
পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন,আসামির বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে । নড়াইল জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

 

শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা করোনায় বিপন্নদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি- ড. শ্রী বীরেন শিকদার

 

আসলে মানবিকতার শীর্ষে আমাদের থাকতে হবে, এটাই আমাদের শপথ হওয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে যিনি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগান তিনি হচ্ছেন আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই এই দেশের খেঁটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি দরদ দেখিয়ে দেশকে পরিচালনা করে এসেছেন এবং দেশকে ভালো রেখেছেন। সুস্থ রাখার অভিপ্রায়ের লক্ষ্যে তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রয়াসে তিনি সফল হয়েছেন। করোনা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লড়াইটা ছিল প্রশংসনীয়। জীবন এবং জীবিকাকে পাশাপাশি রেখে মানুষ যেন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে না পড়ে সেটা দেখাই ছিল তাঁর কৌশলের প্রধান দিক। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা মহামারির মধ্যেও সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ অতিতের মতো মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৪১০তম পর্বে শনিবার (২৪ জুলাই) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার, সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ড. শ্রী বীরেন শিকদার বলেন, আজকে ভোরের পাতা লাইভ সংলাপে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ভোরের পাতা কর্তৃপক্ষসহ সঞ্চালক নাসির উদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের এই দিনে আমি আমার বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধা জানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যে মহামানবের অবদানে আজ আমরা লাল সবুজের পতাকা নিয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৫ আগস্টের সেই কালো রাতে তাঁর পরিবারের যেসব সদস্যরা শাহাদাতবরণ করেছিলেন। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ ইজ্জত হারা মা বোনদের। গভীরভাবে স্মরণ করি জাতীয় ৪ নেতাকে।

আজকে আলোচ্য বিষয় ‘করোনায় মানবিকতা’। বাংলাদেশে করোনার যে আগ্রাসন গত বছরের ৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে আমরা কিন্তু করোনাকে সফলভাবে মোকাবিলা করে চলে এসেছি। বাংলাদেশে করোনার আগ্রাসনের শুরু থেকেই জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রথম পর্যায়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছিল।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ সহ সব নেতাকর্মীরা প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করোনা মোকাবিলার জন্য আমাদের সীমিত সামর্থ্য ও স্বাস্থ্য সুবিধা ছিল সেটাকে মাথায় নিয়েই আমরা করোনা মোকাবিলা করে আসছি এখন পর্যন্ত। করোনাকালীন সময়ে আমাদের যে নেতাকর্মীরা আছেন তারা সবাই একেবারেই ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে শুরু করে সকল স্থানে যারা এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে তাদের সেবায় রত আছে। সারাদেশে তারা করোনায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। খাদ্য বিতরণ, সবজি বিতরণ, অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করে রাখা, মৃত্যু ব্যক্তির দাফন কাফন করেছে। করোনা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লড়াইটা ছিল প্রশংসনীয়। জীবন এবং জীবিকাকে পাশাপাশি রেখে মানুষ যেন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে না পড়ে সেটা দেখাই ছিল তাঁর কৌশলের প্রধান দিক। তবে মহামারির মধ্যে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ সংকটের মধ্যে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বরাবরের মতই। তাইতো আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এই করোনাকালে আক্রান্ত হয়েছেন, মারাও গেছেন অনেকে।

সহযোগী সংগঠনগুলো পৃথক পৃথকভাবে টেলি হেল্থ, ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার, লাশবাহী ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী (মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার) বিতরণের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা সত্যিকারের অর্থেই এই সাহায্যের যোগ্য তাদেরকেই এই সেবাগুলো দেওয়ার জন্য আমাদের মাঠ পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

যারা দৈনন্দিন কাজে নিয়োজিত তাদের কাছে যাতে সত্যিকার অর্থে এই সাহায্য সহযোগিতা পৌঁছায় সেজন্য সব প্রকার প্রচেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নেত্রীর নির্দেশে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান

 

 

 

আইসিইউ শয্যা তালিকায় যা আছে বাস্তবে তা নাই

আইসিইউ শয্যা করোনা চিকিৎসা তথা ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চিকিৎসার জন্য একটা বিশেষ বিষয় । দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে করোনা মহামারি প্রকট রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্ত রোগীর বড় অংশই ফুসফুসে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। যাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে আইসিইউর (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) প্রয়োজন হয়। ইতোমধ্যে দেশের পূর্ণাঙ্গ (৬৬০টি) আইসিইউ শয্যা কোভিড রোগীতে পূর্ণ।

এমনকি জোড়াতালি দেওয়া নামমাত্র আইসিইউগুলোর শয্যাও আর ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারিভাবে বলা হচ্ছে-তালিকাভুক্ত ১৩২১ শয্যার মধ্যে ১০৭৬টিতে রোগী রয়েছে। সেদিক থেকে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ মিলিয়ে আইসিইউ শয্যার ৮০ শতাংশই রোগীতে পূর্ণ। এ ধরনের শয্যার হিসাব নিয়েও গোলমাল আছে। এখনো তৈরি হয়নি; কিন্তু ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আইসিইউ বেড। এভাবে সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নেই। এ পরিস্থিতিকে চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারিভাবে কোভিড আইসিইউর তালিকা কাজির গরুর মতো। তালিকায় আছে বাস্তবে নেই।

 

সরকারের তালিকায় সারা দেশে ১৩২১টি কোভিড আইসিইউ সমমানের শয্যা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ফাঁকা আছে ২৪৫টি। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে শয্যা দেখানো হয়েছে ১২৫৯টি এবং এ মাসের শুরুতে দেখানো হয়েছিল ১১৬৫টি। এত স্বল্প সময়ে শতাধিক আইসিইউ শয্যা কীভাবে স্থাপন হলো, সে বিষয়ে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ১০টিতে এবং বেসরকারি ২৮টি হাসপাতালের ৮টিতে ফাঁকা নেই কোনো আইসিইউ শয্যা। করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত সাধারণ শয্যারও সংকট তৈরি হচ্ছে। রোগী বাড়লেই তীব্র হবে সাধারণ শয্যার অভাব।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশে যে পরিমাণ আইসিইউ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃত চিত্র সেরকম নয়। সরকারিভাবে আইসিইউ উপযোগী শয্যাগুলোকে আইসিইউ হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ আরও অনেক কম। তারা বলেন, রাজধানীর জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কোভিড আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১০টি। কিন্তু এর মধ্যে ভেন্টিলেশন সুবিধা আছে মাত্র ৪টিতে।

 

একই অবস্থা খুলনার অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেখ আবু নাসের হাসপাতালে। সেখানে ১০ শয্যার আইসিইউর মধ্যে চারটিতে সেবা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে শয্যা ফাঁকা দেখে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে রোগী পাঠান; কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে কোনো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা নেই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত শয্যাও তালিকাভুক্ত হিসাবে দেখানো হয়।

তারা আরও জানান, কোথাও কোথাও শয্যার সঙ্গে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, বিপ্যাপ বা সিপ্যাপ সংযোগ থাকলেই সেটা আইসিইউ বলা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে আইসিইউ নয়। এসব শয্যার কতগুলোয় শুধু উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। কতগুলোয় নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন সুবিধা দেওয়া যাবে। অর্ধেকেরও কম পরিমাণ শয্যায় ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন সুবিধা রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৩২১টি। এর মধ্যে রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালে ৩৯৩টি। ২৮টি বেসরকারি হাসপাতালে ৫০৫টি। ঢাকা শহরসহ ঢাকা জেলায় মোট আইসিইউ সমমানের শয্যা আছে ৯৬১টি। চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা ও উপজেলায় ১০৭টি। ময়মনসিংহ বিভাগে ২২টি, রাজশাহী বিভাগে ৫৮টি, রংপুর বিভাগে ৪৪টি, খুলনা বিভাগে ৭৪টি, বরিশাল বিভাগে ৩৩টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টি।

এর মধ্যে সিলেটে বর্তমানে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি নেই।

বরিশালে খালি আছে ১১টি, খুলনায় ১৬টি,  রংপুরে ২০টি, রাজশাহীতে ১৪টি, চট্টগ্রামে ২২টি,  ময়মনসিংহে ৮টি এবং ঢাকায় ১৫৪টি।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, কোভিড চিকিৎসায় আমরা আইসিইউর প্রাধান্য দিচ্ছি না। যে শয্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রোগী বাড়লে সংকট সৃষ্টি হবে। চাইলেই আইসিইউ করা যায় না, অনেক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত নার্স, চিকিৎসক প্রয়োজন। তাই যেসব স্থানে আইসিইউ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব স্থানে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার ব্যবস্থা করতে হবে।

জেলা-উপজেলায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দ্রুত সব জেলায় আইসিইউ করতে অবশ্যই সেটি করতে হবে। আইসিইউর যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। একটি শয্যাও যেন অব্যবহৃত না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আইসিইউ বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় অবশ্যই কার্যকর আইসিইউ প্রয়োজন। আইসিইউ শুধু একটি শয্যা নয়, রোগীর চিকিৎসায় এর সঙ্গে আরও অনেক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। কিন্তু বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ  স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক আইসিইউতে নেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্টিলেটর সুবিধা। অনেক আইসিইউতে নেই সিরিঞ্জ পাম্প, এবিজি মেশিন বা ডিফেব্রিলেটর। ফলে রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া হলেও তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদের্শনা মতে, একটি আদর্শ আইসিইউর জন্য বেশকিছু জিনিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেমন-আইসিইউ শয্যা, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ইনফিউশন পাম্প বা সিরিঞ্জ পাম্প, নেবুলাইজার মেশিন, পেশেন্ট মনিটর, পালস অক্সিমিটার, সাকশন মেশিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ১৩২১টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে ৬৬০টি। অর্থাৎ, অর্ধেক শয্যায় এ গুরুত্বপূর্ণ মেশিনটি নেই। ২৯৮টি ভেন্টিলেটর মেশিন কোভিড শুরুর আগেই ছিল। দেশে কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০০টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের (এইচএসএম) পক্ষ থেকে ১০০টি কেনা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কেনা হয় আরও ১৪৪টি এবং ইউনিসেফের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে ১৮টি। অর্থাৎ কোভিডকালীন আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হলেও সেগুলোকে পরিপূর্ণ রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া অনেক বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে নামমাত্রই সুবিধা দেওয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে শুধু শয্যা ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পীরগঞ্জে ইএসডিও মাইক্রোফিন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে অক্সিজেন কনসেনট্রেট হস্তান্তর

গাজীপুরে পোশাক কারখানা চালু রাখায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়