অঢেল সম্পদের মালিক তবু ২৭ বছর দাম্পত্যের পর হঠাৎ কেন দুজনার পথ গেল বেঁকে?

 

১৯৮৭ সালে একটি নৈশভোজে চার চোখ প্রথম এক হয়েছিল। এরপর সাত বছর চুটিয়ে প্রেম। অতঃপর বিয়ে।

এভাবে কেটে গেছে ২৭ টি বছর। দুজনে মিলে যে প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে সেটি সোনা হয়ে গেছে। মাইক্রসফট, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম আজ দিগবিদিক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সময়ে তাদের ঘর আলো করে এসেছেন তিন সন্তান।  সেই সম্পর্ককে আর বয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না। বলছি ধনকুবের দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটসের কথা।

সোমবার দীর্ঘ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিলেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি। টুইটার বার্তায় তারা এই ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দম্পতির হঠাৎ এই বিচ্ছেদের ঘোষণা অবাক করেছে বিশ্ববাসীকে।

এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা মানবহিতৈষী জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে রয়টার্সের মঙ্গলবার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক কি প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

বিল গেটস ও মেলিন্ডা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোর্টের দারস্থ হয়েছেন।  তাদের সম্পতি ভাগাভাগির ভারও আদালতকে দেওয়া হয়েছে।  তবে এসব বিষয়ে খুবই গোপনীয়তা অবলম্বন করেছেন বিল ও মেলিন্ডা। তাদের পরিবার কিংবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও কেউ মুখ খোলতে রাজি হয়নি।

কী কারণে দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেল সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি গোপন থাকুক সেটিই চাওয়া তাদের পরিবারের। যেমনটি জানা গেল এই দম্পতির বড় মেয়ের পোস্টে।

বিচ্ছেদের পর ইনস্টাগ্রামে জেনিফার গেটস লিখেছেন, আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটা দুঃসময় ছিল।’ জীবনের পরবর্তী ধাপে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি বোঝার জন্য সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ দেন গেটস দম্পতির বড় মেয়ে জেনিফার।

অনেকটা হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন দুজন। দুই সপ্তাহ আগেও মহামারি মোকাবিলায় লড়াইরত চিকিৎসাকর্মীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন দুজন। সেখানে জানান, করোনা আক্রান্তদের সহায়তায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

সোমবার টুইটারে পোস্ট করা যৌথ বার্তায় গেটস দম্পতি বলেন, ‘ব্যাপক চিন্তাভাবনা করে আমরা বিয়ের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তারা আরও লেখেছে, আমরা এটা আর বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমাদের জীবনের পরের ধাপে দম্পতি হিসেবে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব।’

বিচ্ছেদ হলেও দাতব্য কার্যক্রম একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রত্যয়ী বিল ও মেলিন্ডা গেটস। টুইটবার্তায় লেখেন, ‘গত ২৭ বছরে আমরা অসাধারণ তিনটি সন্তান পেয়েছি। এমন একটা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যে ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। আমরা যে বিশ্বাস থেকে ফাউন্ডেশনটি চালু করেছি, সেটা থাকবে। এই ফাউন্ডেশনের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাব।

বিল ও মেলিন্ডা মিলে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলেন। বিশ্বব্যাপী এ ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে এই ফাউন্ডেশন।

বিল এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আর মেলিন্ডা কো-চেয়ার ও ট্রাস্টি।

সর্বশেষ হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ফাউন্ডেশনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।

ওয়েবসাইটের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ১৯৯৪ ও ২০১৮ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী বিল ও ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা মিলে এই ফাউন্ডেশনে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন।

রয়টার্স বলছে, গেটস দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে কোনো জবাব মিলেনি।

// অনলাইন ডেস্ক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Microsoft Corporation 

কালবৈশাখী ঝড়

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় পরিবার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মির্জা ফখরুলের ফোন

 

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চায় পরিবার। এ জন্য সোমবার রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

এর আগে সোমবার ভোরের দিকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বিকালে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়। গত ২৭ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে  তিনি স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন।

এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে চায় পরিবার। তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। 

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে টেলিফোনে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে আলাপ করেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের অন্যান্যদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তীতে জানানো হবে।

এ ব্যাপারে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে টেলিফোন করা হলে তিনি তা ধরেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শরীফ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাননীয় মন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যগত বিষয়টি অবহিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো লিখিত আবেদন দেননি।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে লিখিত কোনো আবেদন এখনও করা হয়নি ।

এদিকে রাত ৮টার দিকে এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর কিনা, তিনি স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে  ডা. জাহিদ বলেন, করোনারি কেয়ার ইউনিটে যখন যে রোগী থাকেন তারা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নেন।  আমি উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ম্যাডাম স্বাভাবিকভাবেই শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোরে খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। এর পরপরই বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্তে ম্যাডামকে সিসিইউতে নেয়া হয়। তার রোগমুক্তির জন্য খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান ডা. জাহিদ।

কি কারণে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষের যে কোনো সময়, যে কোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ম্যাডামের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী যে চিকিৎসকরা  আছেন তাদের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাতে পারবো।

তবে খালেদা জিয়ার আবারও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান ডা. জাহিদ হোসেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তির পর সেখানে এক থেকে দুদিন রাখার কথা বলেছিলেন তার চিকিৎসকেরা। তখন তারা (চিকিৎসক) জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার করোনোর কোনো উপসর্গ নেই। তাই তাকে হাসপাতালের নন-কোভিড জোনে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একদিন পর চিকিৎসার জন্য অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় । গত রোববার মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে সব পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নতুন করে কিছু শারীরিক পরীক্ষাও দেন।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনা আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হলে ফলাফল আবারও পজিটিভ আসে। ‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরো ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তবে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র সব স্টাফরা ইতোমধ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন।

৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দু’ দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে  ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত। সূত্র: যুগান্তর

// অনলাইন ডেস্ক //

 পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ভবদহের জলাবদ্ধতা

করোনা পরীক্ষা সর্বোচ্চ ফি হতে পারে 2000 টাকা বেসরকারি পর্যায়ে…

 

কভিড-১৯ শনাক্তে বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর (রিয়েল টাইম-পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন) পরীক্ষার মূল্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে । তবে দুই পর্যায়ের প্রস্তাবিত মূল্যের মধ্যে রয়েছে অনেক ব্যবধান । কিট-রিএজেন্টের দাম কমায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি প্রস্তাব: পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকা করা হোক।

 

 

অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রস্তাব দিয়েছে সাধারণ এবং বিদেশগামী পর্যায়ে যথাক্রমে ৩০০০ ও ২৫০০ টাকা। এ ছাড়া বাড়িতে গিয়ে ৩৭০০ টাকা। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৫০০ টাকা ঠিক ছিল। তবে বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোভিড-১৯ পরীক্ষার মূল্য সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা হতে পারে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের শুরুর দিকে যখন দেশে করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছিল তখন একটি পিসিআর পরীক্ষা করাতে কিট-রিএজেন্টসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় ছিল ২৭০০ টাকা। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, স্টাফ বেতন ইত্যাদি মিলিয়ে ৩৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে কিট-রিএজেন্টসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে ৭০০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা হতে পারে।

 

এক সূত্র জানায়, এর আগেও একবার বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফি কমাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি। মূলত বেসরকারি পর্যায়ের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিকদের চাপের কারণেই আগেরবার দাম কমানো সম্ভব হয়নি। তবে এবার সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পরীক্ষার ফি কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

এবার দাম কমবে বলেই তারা মনে করছেন । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিঞা গত ২৬ এপ্রিল এ সংক্রান্ত চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে সভায় আরটি-পিসিআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনলাইন সভায় সংযুক্ত সবার মতামতের ভিত্তিতেই বেসরকারি পর্যায়ে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি ওই চিঠিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন ধরনের পরীক্ষার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।

 

১. সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে পিসিআর পরীক্ষায় বর্তমানে ব্যয় করতে হয় সাড়ে তিন হাজার টাকা; এখানে প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। বিদেশগামীদের পরীক্ষায় বর্তমানে মূল্য রয়েছে তিন হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য আড়াই হাজার টাকা। এ ছাড়া বাড়ি গিয়ে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে সেবামূল্য রয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা; প্রস্তাবিত মূল্য করা হয়েছে তিন হাজার ৭০০ টাকা।

 

এদিকে করোনা নির্ণয় পরীক্ষার মূল্য কমাতে সুপারিশ করেছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বুধবার গভীর রাতে এক সভায় কমিটি এ সুপারিশ করে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লা জানান, কোভিড পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় কিটের দাম ৩০০০/২৭০০ টাকা থেকে কমে ৮০০-১০০০ টাকায় নেমে এসেছে।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয় তারা। এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণের পরামর্শ দেয় পরামর্শক কমিটি।

 

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন যুগান্তরকে বলেন, ২০২০ সালে কিট-রিএজেন্ট-এর পেছনে ব্যয় হতো ২৭০০ টাকা। সেক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ৩৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কিটের দাম ৭০০ টাকায় নেমেছে। স্বাভাবিকভাবে এসব ক্ষেত্রে ওভারহেড ব্যয় হয় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে হাজার টাকার কম ব্যয় হচ্ছে।

 

এক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মূল্য কোনোভাবেই ২০০০ টাকার বেশি হতে পারে না। তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে এবং দেশের প্রয়োজনে কিট আমদানি পর্যায়ে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট মওকুফ করা যেতে পারে। পরীক্ষার মূল্য সহনীয় মাত্রায় এলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরীক্ষা করানোর হার বাড়বে। এতে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

 

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম যুগান্তরকে বলেন, পিসিআর পরীক্ষায় আগের তুলনায় বর্তমানে কিট ও রিএজেন্টের দাম কমেছে। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীও মূল্য কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাই অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

 

এখন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। অধ্যাপক খুরশীদ বলেন, এর আগেও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একবার মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল; কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এবার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে সভা করেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আশা করছি দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন হবে।

 

এর আগে গত বছরের জুন মাসের শেষদিকে করোনাভাইরাস শনাক্তের মূল্য নির্ধারণ করে সরকার। দেশে এ ভাইরাস আসার পর অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই পরীক্ষা সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে করা হতো। তবে জুন মাসের শেষদিকে সরকার পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করে। তখন সরকারি পর্যায়ে বুথে বা হাসপাতালে নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্য ধরা হয় ২০০ টাকা এবং বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা।

 

এ ছাড়া বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয় ২০ জুলাই থেকে। সেই সময় ৩৫০০ টাকা করে নেওয়া হতো করোনা পরীক্ষার ফি। পরবর্তী সময়ে ২৪ আগস্ট সরকার সেই মূল্য কমিয়ে এক হাজার ৫০০ টাকা করে।

 

এরপর আরেক দফা কমিয়ে প্রবাসী কর্মীদের পরীক্ষার মূল্য এক হাজার ২০০ টাকা করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ পর্যায়ে বুথে বা হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০০ টাকা এবং বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা।

// নিজস্ব প্রতিবেদক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

কুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়..

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আশংকা

 

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে ভারি বর্ষণও হয়েছে। এতে গরমে হাসফাঁস করা জনজীবনে স্বস্তি এসেছে।

সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঝড় শুরু হয়। এর আগে গত রাতেও ঢাকায় ঝড়বৃষ্টি হয়েছে।

রাত ১১টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলো অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস।

মধ্যরাতে ঢাকা, গাজীপুর, চাপাইনবাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঝড় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে আমের ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

অনলাইন ডেস্ক।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

 

করোনার ক্রান্তিকালে স্বল্পপরিসরে পালিত হলো “কুুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়”-র শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

 

  যশোর জেলার সদরের কিছু অংশ,অভয়নগর- মনিরামপুর- কেশবপুর- ফুলতলা,ডুমুরিয়ার একটা বৃহৎ অংশে বসবাস ছিল সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত অন্তঃজ শ্রেণীর ।তাদের অধিকাংশেরই পেশা ছিল কৃষিকাজ ও মাছধরা ।

লেখাপড়ার কোন বালাই ছিল না বললেই চলে।আর এজন্য উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের দ্বারা তারা সব সময় তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য ও অবহেলার স্বীকার হতেন। লেখাপড়া না জানার কারণে অর্থনৈতিকভাবেও ঠকানো হতো।এছাড়া এই অন্তঃজ শ্রেণীর লোকেরা যদি কেউ শিক্ষা গ্রহনের জন্য আশেপাশের কোন মক্তব/ পাঠশালায় গেলেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো, পর্যাপ্ত সু্যোগদিত না ববং লেখাপড়া না শেখার জন্য হিতোপদেশ দিত।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় অন্তঃজ শ্রেণীর ভিতর আত্মোপলব্ধি হলো যে শিক্ষা ছাড়া কোন মুক্তি নাই। কৃষিকাজের সাথে সাথে ছেলেমেয়েদের ভিতর জ্ঞানের আলো প্রবেশ করানো ছাড়া এ শোষণ, বঞ্চনা থেকে মুক্তি মিলবে না।

এ জন্য তারা যশোর সদর,অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ৯৬ টি গ্রামের অধিবাসীরা মিলে স্বউদ্যোগে ১৯১৮ সালে প্রথম অভয়নগর ও মনিরামপুরের সীমান্তবর্তী মশিয়াহাটীতে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ঐ বিদ্যালয়ে ছেলেদের পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হলেও মেয়েদের পড়ার কোন ব্যবস্থা হলো না। তখন তারা চিন্তা করলো শুধু ছেলেদের শিক্ষিত করলে সমাজ পরিবর্তন হবে না।

করোনার ক্রান্তিকালে স্বল্পপরিসরে পালিত হলো “কুুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়”-র শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

সমাজটাকে পরিবর্তন করতে হলে সমাজের একটা বৃহৎ অংশ মেয়ে, তাদেরও পরিবর্তন দরকার। আর তাদের পরিবর্তন করতে গেলে নারী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।মা যদি শিক্ষার আলো পায় তাহলে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে এই নারীরা বিরাট ভূমিকা রাখবে।

আর তাই সামাজিক শোষণ নিপীড়ন,অত্যাচার থেকে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নারীদের রক্ষার জন্য এবং নারীর হৃদয়ে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত করার মানসে যশোর জেলার মনিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নের নিভৃত পল্লীতে ১৯২১ সালের ২ মে কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়টি ১৯২৪ সালে বৃটিশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া,খেলাধূলাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন ছিল আশাব্যঞ্জক। কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের পূর্নজাগরণ হয়।সাথে সাথে ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে মেয়েদের বাল্যবিবাহ,যৌতুক,শিশু অধিকার ও নারী নির্যাতন রোধ হয়।

এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহন করে অনেক মেয়েই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,উকিল, সরকারি আমলা,স্কল- কলেজেরশিক্ষকসহ, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেশে ও দেশের বাইরে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত ও আলোক উজ্জ্বলিত। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে অত্র এলাকায় নারী শিক্ষার যেমন প্রসার ঘটেছে তেমনি অন্তঃজ শ্রেণীর সমাজে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে যা দেশের সার্বিক উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করেছে।

বিদ্যালয়টির শতবর্ষ পালন উপলক্ষে গত ২ বছর যাবত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কুলটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহন করে দেশে ও দেশের বাইরে যারা অবস্থান করছেন তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন অত্র বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সুযোগ্য সভাপতি অবসর প্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় সুনামি শুরু হওয়ায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকল কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্বল্প পরিসরে কোন অনুষ্ঠান ছাড়াই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষক মন্ডলী ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা মিলে কেক কেটে অনাড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে।

ফলে শিক্ষার্থী,অভিভাবকসহ সকল স্তরের জনগণের মধ্যে একটা অপূর্ণতা রয়ে গেছে। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের বর্তমান সভাপতি ডা. তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির কারণে নিরবে ও নিভৃতে বিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপন করা হলো কিন্তু এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাড়ম্বরে তাদের হৃদয়ে উদযাপন করেছে শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শততমবর্ষ উদযাপন সত্যি বিরল। কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি তাদের পূর্বের গৌরব গাঁথা ধরে রেখে আরও আরও অনেক পথ এগিয়ে যাক এবং নারী জাগরণের দ্বীপশিখা হয়ে প্রতিটি নারীর হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত হোক এই প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

// স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক //

আরও পড়ুন…

ভবদহের জলাবদ্ধতা

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

অভয়নগরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও তরিকুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

যশোরের অভয়নগরে বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় ৷
৩রা মে সোমবার শংকরপাশা গ্রামে তারেক জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ জিয়াউর রহমান ওরফে জিয়া মোল্যার সভাপতিত্বে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ৷ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,  তারেক জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির  যুগ্ন আহবায়ক মোঃ আজিজুর রহমান রিপন ৷
বিশেষ অতিথি অভয়নগর থানা  বিএন পির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ মতিয়ার রহমান ফারাজী,পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আবু নঈম মোড়ল, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ হারুনউর রশিদ(যশোর) , যশোর জেলা তারেক জিয়া পরিষদের  আহবায়ক মোঃ মুজা উদ্দীন আহম্মেদ কচি , বিএনপির সাবেক সাধারণ -সম্পাদক মোঃ গোলাম হায়দার ডাবলু কাজী, সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল টুলুসহ স্থানীয় থানা,পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠণের নেতৃবৃৃৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ৷
//মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি//

খালেদা জিয়া সিসিইউ তে থাতলেও ভালো আছেন: জানালেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক

 

ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের করোনারী কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া ‘স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন’ বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক ডা. ৎএজেডএম জাহিদ হোসেন।

সোমবার রাত ৮টায় এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা জানান তিনি।

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, করোনারী কেয়ার ইউনিটে উনি আছে। এই ইউনিটে যখন রোগী থাকে তখন তো সেটা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসই নেয়।

খালেদা জিয়া কেমন আছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দেখুন- আমি এখানে আসার কয়েক মিনিট আগে উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করে আসছি, আমি উনার সঙ্গে কথা বলে এসেছি। উনি কেমন আছেন খোঁজ নিয়েছি।

সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা বিকাল ৪টায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন।

অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, আজকে ভোরের দিকে উনি একটু শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। উনি যখন শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন চিকিৎসকরা উনাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর উনাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ম্যাডামকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমরা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করব যে, উনার (খালেদা জিয়া) রোগমুক্তির জন্য আপনারা মহান রাব্বুল আ’লামীনের কাছে দোয়া করার জন্য বলবেন।

কী কারণে শ্বাসকষ্টটা হলো প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহিদ বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে মানুষের যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। উনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং সেগুলো এখানকার চিকিৎসকরা কালেকটিভলি করছেন।সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদেশে কনসালটেন্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে।পরবর্তিতে বিস্তারিত জানা যাবে।

এভার কেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন। গত ২৭ এপ্রিল  ওই হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই তার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৪ দিন পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনও তার করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চেস্টের সিটিস্ক্যান ও কয়েকটি পরীক্ষার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ‘ফিরোজা’র বাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়াও আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হন। তবে ফিরোজার সব স্টাফরা ইতোমধ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন।

৭৫ বছ বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কারাগারে যেতে হয়। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া গুলশানে ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত। সূত্র: যুগান্তর

//অনলাইন প্রতিবেদন//

আরও পড়ুন…

চট্টগ্রাম করোনা আপডেট…

১০ কেজি গাঁজা ও ১ টি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 সারাদেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিরুদ্ধে ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই মাদক ব্যবসায়ীদের চোরাচালান। মাদক ব্যবসায়ীরা লকডাউনকে পুঁজি করে মাদকদ্রব্য চোরাচালান করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এই সুযোগকে সুচারুভাবে প্রতিহত করার জন্য সমগ্র দেশের জেলা পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় অব্যাহতভাবে চালু আছে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান।

তারই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা আজ কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার আমড়াতলী ইউনিয়নের পেয়ারতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা ও ১ টি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকসহ মাদক ব্যবসায়ী ১. চারু মিয়া ২. পুতুল আক্তার ও ৩. চামেলি বেগমকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আরও পড়ুন…

অলৌকিক মহামারি করোনা আতঙ্কে আজ দিশেহারা বিশ্ব মানব সংসার

 

মানব সৃষ্টি লগ্নের এ যাবত কালের এক যুগান্তকারী মরণঘাতী করোনা নামক এক বিষাক্ত ছোবলে দিশেহারা আজ এ আধুনিক বিশ্বের জনজীবন তথা বিশ্ব মানব সংসার! দিশেহারা আজ বিশ্ব মানব কল্যাণে আত্ম নিবেদিত সর্বদায় আত্মপ্রত্যয় ও আত্ম উৎসর্গে নিবেদিত বিশ্ব মানব কল্যান সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিক-বিদিক দিশাহীন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে চলে একটি নিরাপদ দিগন্তের গন্তব্যের সন্ধানে – কিন্তু, কোথাও নেই আজ সেই নিরাপদ অভয়ারণ্যে। এ বিশ্বলোকের সকল প্রান্তে ছেয়ে গেছে এ মহাকালিক ইতিহাস রচিত এ করাল করোনা সংক্রমণের বিষাক্ত ছোবল !

বর্তমান এ আধুনিক বিশ্বের রঙ্গময় মঞ্চে লোকেলোকারণ্যে, ব্যস্ততার জনপদে নেই কোনো মানবের কোলাহল- চারিদিকে কেবল শুন্য জনপদে অচিন আতঙ্কের নিঃশব্দ আর্তচিৎকারের নিদারুণ হাহাকার! কেউ জানে না বর্ণীল এ ভাইরাসের পরিসমাপ্তি কখন ঘটবে!

কখন আবার মানুষ ফিরে আসবে স্বাভাবিক জীবনের পথে। তবুও মানুষ যুগে যুগে এমন অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যার সম্মুখিন হয়ে ও, মানব তার বিবেকের বিকাশ ঘটিয়ে পুনরায় ঘুড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফিরে এসেছে মানবের স্বাভাবিক যাত্রা পথে! এবার ও পারবে মানব প্রাকৃতিক এ কঠিন দুযোর্গের অবসান ঘটিয়ে পুনরায় মানব জীবনের স্বাভাবিক যাত্রা পথে!

এ গভীর প্রত্যাশা আর মানব কল্যাণে আত্ম নিবেদিত জনগোষ্ঠীর দৃঢ় সংকল্পের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য আমরা জগতের সকল মানব একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা করি, মহাদয়াবান- পরমকরুনায় মায়ের মহান দয়ার মন্দিরে! জগতের সকল মানবের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা।

//  নিজস্ব প্রতিবেদক //

আরও পড়ুন…

 

চট্টগ্রামে করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৭ জনের মৃত্যু, নতুন সনাক্ত ১০৬

 করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়ে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে করোনায় সংক্রমণ হয়েছেন ১০৬ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা দাড়ালো ৫৩৫ জনে। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৫০ হাজার ২৮০ জন। আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে ৬৮৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১০৬ জনের দেহে করোনার সংক্রমণের সনাক্ত হয়েছে। তৎমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ৩৫ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ১০ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ( চমেক) হাসপাতাল ল্যাবে ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্’িতি পাওয়া গেছে। 
তা ছাড়া বেসরকারী শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২০ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৮ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ২ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। 
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত- হয়েছেন ১০৬ জন। উক্ত সময়ে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। 
আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো :