এমপি তন্ময়ের পরিচয়ে হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে বড় বড় চাকরীর প্রতারণা

 

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে কারারক্ষীর চাকরি গেছে। তারেক সরকার নামের ওই কারারক্ষী আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য পরিচয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলে ফোন দিতেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অধিদপ্তরের প্রধানদের।

তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০২০ সালে প্রতারণার অভিযোগে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে কারারক্ষীর চাকরি হারান নরসিংদীর তারেক সরকার। সচিব থেকে শুরু করে মন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনী ও অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহে ছিলো তার।

ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে হোয়াটস অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলেন তন্ময় পরিচয়ে। সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাকরির সুপারিশ করতেন আর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লুটে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় পরিচয়ে চাকরির তদবির করতে প্রতারক তারেক সরকার কারা উপমহাপরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করলে সন্দেহ হয় তার। ভিন্ন মাধ্যমে নিশ্চিত হন পাতা হয়েছে প্রতারণার ফাঁদ।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন জানান, যখন আমার সঙ্গে কথা বললেন, আমি বললাম যে আরেকটা নাম্বারে তো আরেকজন কথা বলেন।

তখন উনি যাচাই-বাছাই করে নাম্বারটা দিতে বলেন এবং সেভাবেই এটা ভুয়া বের হয়।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের (গোয়েন্দা) উপ কমিশনার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ভোটকেন্দ্র ভাঙচুর, সহিংসতায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সে যারা মন্ত্রণালয়ের প্রধান তাদের নাম্বার স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছে।

তাকে যদি আমরা আইনের আওতায় না আনতে পারতাম, হয়তো ভবিষ্যতে সে এরকম আরো প্রতারণার আশ্রয় নিতো।’সূত্র : ডিবিসি নিউজ

//অনলাইন নিউজ//

বিশুদ্ধ পানির জন্য…

জেলহ্ত্যা দিবসের কিছু ঘটনা: খাপড়া ওয়ার্ড: দেশের ইতিহাসে প্রথম জেল হত্যা

বৈশাখের মধ্য গগণে সূর্যের তেজ ফুটছে সেদিন। কৃষ্ণচূড়ার আগুন লেগেছে যেন নগরে। রাজশাহী জেলের জানালা দিয়ে এগিয়ে আসা কৃষ্ণচূড়ার আগুন রাঙা ডাল দেখবে সমস্ত কক্ষ, আকাশে বাতাসে তার রঙ আজ। কে জানত ধূসর মাখা এক বিকেলে নামবে লাশের মিছিল। শ্রাবণের অঝোর বর্ষণের মতো ঝরবে রক্ত। রাজশাহী জেলের ভিতরে আরেক জেল যেন খাপড়া ওয়ার্ড। টালির ছাদ, চারপাশে দেওয়াল।

যেভাবে খাপড়া ওয়ার্ডে প্রতিবাদের সূচনা

পাকিস্তানে আমলে কারাবন্দীদের উপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালানো হতো নানা অজুহাতে। অমানবিক নির্যাতনের সঙ্গে কম খাবার দেওয়া হতো, তামাক খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল পুরোদমে। পশুর মতো ব্যবহার করা হতো বন্দীদের সঙ্গে। তেলের ঘানি টানানো, গম মাড়াই, পেষাই সহ নানান কাজ করতে হতো বন্দীদের। আর কাজ করতে দেরী হলে কিংবা করতে গিয়ে খানিকটা বিশ্রাম নিলে ভয়াবহ অত্যাচার নেমে আসত তাদের উপর।

প্রথমে রাজশাহী কারাগারের কমিউনিস্ট বন্দীরা প্রথম ওই অমানবিক শাস্তির প্রতিবাদ করেন। চলে অনশন। ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য কারাগারগুলোতেও। ১৯৪৯ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ও রাজশাহী কারাগারে বন্দীরা চার দফায় মোট ১৫০ দিন অনশন করলেন। খুলনা কারাগারে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কমিউনিস্ট আন্দোলন কর্মী বিষ্ণু বৈরাগীকে। ঢাকা কারাগারে জোর করে খাওয়াতে গেলে ৮ ডিসেম্বর শিবেন রায়ের মৃত্যু হয়। অথচ প্রচার করা হয় শিবেন রায় ও বিষ্ণু বৈরাগী আত্মহত্যা করেছে। এর আগে যেসব বন্দীরাই প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের পর আত্মহত্যা করতে চেয়েছে অভিযোগ এনে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। অন্যদিকে রাজবন্দীদের সঙ্গে থাকতে দেওয়া হলো তাদের।

রাজবন্দীরা আসায় একদিকে শাপে বর হলো সাধারণ বন্দীদের জন্য। কারণ সাধারণ বন্দীরা নীরবে চোখ বুজে সহ্য করে গেলেও রাজবন্দীরা প্রতিবাদ করতেন। রাজবন্দীদের সঙ্গে থাকতে গিয়ে বিষয়টি অনুধাবন করল সাধারণ বন্দীরা। প্রতিবাদে বন্দীরা বলল, কারাগারে নির্যাতন চালানো যাবে না। বন্দীদের ভালো খাবার দিতে হবে। অন্যদিকে বিষ্ণু বৈরাগী ও শিবেন রায়ের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাসে সারাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিচ্ছিন্নভাবে বন্দীরা কারাগারের ভিতরেই প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অংশ নেন। সঙ্গে সঙ্গে বন্দীদের উপর নেমে আসে অসহনীয় নির্যাতন। যখন কারাগার কর্তৃপক্ষ দেখল অত্যাচারেও কাজ হচ্ছে না, তখন কারা কর্তৃপক্ষ হিন্দু, মুসলমান ও আদিবাসীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়।

বন্দীরা তখন তা বুঝে ফেলে। রাজশাহী কারাগারের রাজবন্দীরা নির্যাতন বন্ধের দাবি ও সাম্প্রদায়িক উসকানির প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি দেন। সেই চিঠিতে কারারক্ষী ও কারাগারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিটি অভিযোগ ও সুস্পষ্ট বিবরণ ছিল। এই চিঠিতে কারাবন্দীদের সমস্যা সমাধানে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে কোনো উত্তর আসেনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। জবাব না পেয়ে বন্দীরা ৫ এপ্রিল অনশন শুরু করেন। ক্রমে অনশনকারীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে রাজবন্দীদের দাবির খবর পৌঁছায় আইজি প্রিজন আমীরউদ্দিনের কাছে। তিনি রাজশাহী সফরে এসে কয়েদী ও সাধারণ বন্দীদের বলেন অনশন ত্যাগ করার জন্য কিন্তু রাজবন্দীরা তা মানবেন না বলে জানিয়ে দেন। এর পরই তিনি রাজবন্দীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হন। কারা অভ্যন্তরে কমিউনিস্ট বন্দীরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ১২ জন প্রতিনিধি পাঠালেন। বৈঠকের প্রথমেই মেজাজ হারিয়ে আইজি প্রিজন আমীর হোসেন প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ বন্দী, কয়েদিদের সমস্যা নিয়ে রাজবন্দীরা কেন আন্দোলন করছে? উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোনো সমাধান ছাড়াই এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটে। তখনও দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলেনি কারাগার কর্তৃপক্ষ। অনশন চালিয়ে যান বন্দীরা।

তখন ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ আইনে আইজি প্রিজন আমীর হোসেন জেল সুপার ডব্লিউ এফ বিলকে পরামর্শ দিলেন রাজবন্দীদের কয়েকজনকে সরিয়ে নিয়ে গেলেই অবস্থার সমাধান হবে। কিতু রাজবন্দীরা কেউই খাপড়া ওয়ার্ড ছেড়ে যেতে রাজী হলেন না। নির্দেশনা অনুযায়ী বলা হয়েছিল কমিউনিস্ট বন্দীদের ১৪ নম্বর সেলে যেতে হবে। ওই সেলটি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য। কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগীদের রাখা হতো। কারাগারে মারা যাওয়া বন্দীদের ময়নাতদন্তও হতো সেখানে। তখন কমিউনিস্ট বন্দীরা কারা কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।

এদিকে সাত দিন চেষ্টা করেও যখন দেখা গেল কোন অগ্রগতি হচ্ছে না তখন রাজবন্দী ও কয়েদীদের কয়েকজন প্রতিনিধিদের জেল গেটে ডেকে এনে অনশন প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হলো। কিন্তু বন্দীরা অনড়, আগে তাদের দাবি মানতে হবে। এপ্রিল আইজি প্রিজন আশ্বাস দিলেন বন্দীদের শারীরিক নির্যাতন করা হবে না। নিজের পয়সায় বন্দীরা তামাক কিনে খেতে পারবে। এদিকে আইজি প্রিজন এটাকে দেখলেন ফায়দা লোটার বড় সুযোগ। তিনি আড়াই হাজার কয়েদীকে একত্র করলেন রাজশাহী কারাগারের খেলার মাঠে। সেখানে সমবেত বন্দীদের উদ্দেশ্যে বললেন, কমিউনিস্টরা বাইরে কিছুই করতে পারছে না। আর এখন জেলে এসে আপনাদের উসকে দিচ্ছে। সুবিধা লোটার চেষ্টা করছে আপনাদের উসকে দিয়ে। আপনারা কমিউনিস্টদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনবেন না। অন্যদিকে আমীর হোসেন রাজবন্দীদের কক্ষে গিয়ে বললেন, ‘জেলের ভিতরে আপনারা বিপ্লবের নামে যে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করছেন তার পরিণাম শিগগির দেখতে পাবেন।’

এই পরিস্থিতিতে খাপড়া ওয়ার্ডের ভেতর রাজবন্দীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলে সারারাত।

২৪ এপ্রিল ১৯৫০

ভোরের দিকে বন্দীরা কিছু সময় ঘুমিয়ে ও নাস্তার খাওয়ার পর সকাল ৯টায় ফের আলোচনা শুরু করেন। ওই সময় জেল সুপার ডব্লিউ এফ বিল ওয়ার্ডের ভেতর ঢুকে বন্দীদের আবারও ১৪ নম্বর সেলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। জেল সুপার উত্তেজিত হয়ে ওয়ার্ডের দরজা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তার পথরোধ করে দাঁড়ান বাবর আলী, দেলোয়ার ও রশিদ উদ্দিন। বিলের হান্টারের আঘাতে বাবর আলীর কব্জি ভেঙে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হুইসেল বাজান। সঙ্গে সঙ্গে ৪০ জন কারারক্ষী খাপড়া ওয়ার্ড ঘিরে ফেলে। ওয়ার্ডের ভেতর কমিউনিস্ট বন্দীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেন, দরজা আটকে রাখতে হবে। তারা নারিকেলের ছোবড়া, চৌকি, তোশক বালিশ ও শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজা আটকে রাখেন। প্রসাদ রায় ছুটে গিয়ে দরজায় কাঁধ লাগান। বাইরে থেকে পুলিশ ধাক্কা দিতে থাকলে দরজা না খোলায় পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ প্রসাদ রায় মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়েন। বেপরোয়া পুলিশ ঢুকে পড়ে ওয়ার্ডের ভেতরে। রাইফেলের গুলির শব্দ আর অসহায় বন্দীদের আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে কারাগারের বাতাস। খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দীদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। তারা পুলিশের লাঠির আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারাগারে। ঘটনাস্থলেই মারা যান ছয় জন। আহত হন ওয়ার্ডের সবাই। খাপড়া ওয়ার্ডে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন কুষ্টিয়া মোহিনী মিলের শ্রমিক নেতা হানিফ শেখ। চারপাশের নিস্তব্ধতা দেখে যখনই খুলনার ছাত্র নেতা আনোয়ার মাথা তোলেন ঠিক তখনই একটি গুলি এসে লাগে তার মাথায়। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। তার মাথার খুলি উড়ে গিয়ে পড়ে পাশে নারকেলের ছোবড়ার মধ্যে।

পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওয়ার্ডের ভেতর ঢোকেন জেল সুপার বিল। খুঁজে বের করেন রাজবন্দীদের নেতা আবদুল হককে। তাকে পেয়ে বিল রাগে দিশাহারা হয়ে হান্টারের শক্ত অংশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। রক্তাক্ত আবদুল হক মেঝের ওপর পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান। এই দৃশ্য দেখে গুলিবিদ্ধ রাজশাহীর বিজন সেন চিৎকার করে ওঠেন, ‘আমরা মরিনি কমরেড! আমরা জিতব। আগামী দিন আমাদের।’ এর পরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বাকিরা।

কেবল গুলিবর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি পুলিশ ও কারারক্ষীরা। আরেকদল পুলিশ এসে অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে আহত বন্দীদের উপর। এক বন্দী তখন তীব্র তৃষ্ণায় পানি পান করতে চাইলেন জেলার মান্নান সিপাহীকে নির্দেশ দিলেন সে বন্দীর মুখে প্রস্রাব করতে।

এর মধ্যে কারাগারের বাইরে থেকে রাজশাহীর পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্টকে খবর দেওয়া হয়েছিল যে রাজবন্দীরা জেলগেট ভেঙে পালাচ্ছে। তিনি কারাগারে এসে দেখেন পুরোটাই মিথ্যা এবং সাজানো। রক্তাক্ত খাপড়া ওয়ার্ড দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে জেলার ও জেল সুপারকে গালাগাল করতে করতে পুলিশ নিয়ে চলে যান।

সেদিন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সাত জন কমিউনিস্ট নেতা-কর্মী। আহত হয়েছিলেন ৩২ জন।

খুলনার আনোয়ার হোসেন, রংপুরের সুধীন ধর, কুষ্টিয়ার হানিফ শেখ, ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য ও কুষ্টিয়ার দেলোয়ার হোসেন। বেলা ৩টায় গুরুতর আহত সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ, আবদুল হক, কম্পরাম সিং, প্রসাদ রায়, বাবর আলী, আমিনুল ইসলাম বাদশা, শ্যামাপদ সেন, সত্যেন সরকার, সদানন্দ ঘোষ দস্তিদার, অনন্ত দেব, আবদুস শহীদ, প্রিয়ব্রত দাস ও নূরুন্নবী চৌধুরীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে মারা যান দিনাজপুরের কম্পরাম সিং। আহত অবস্থায় পরে শহীদ হয়েছিলেন বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা বিজন সিং ও তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কম্পরাং সিং।

খাপড়া ওয়ার্ডে শহীদ প্রত্যেক বন্দীর লাশ গুম করে ফেলেছিল জেলার ও পুলিশ। শহীদদের কোন আত্মীয়স্বজনকে খবরটুকুও দেওয়া হয়নি। আর যেসব বন্দী আহত হয়েছিলেন তারা বেশীরভাগই পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলেন। খাপড়া ওয়ার্ড গণহত্যা ছিল উপমহাদেশের প্রথম জেল হত্যা।

কিন্তু দীর্ঘদিন এই হত্যাকাণ্ডের খবর জানেনি সাধারণ মানুষ। সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায় এই হত্যাকাণ্ড। খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসে ১৯৫৮ সালে সেখানে গুরুতর আহত আব্দুস শহীদের মাধ্যমে। তিনি খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিজের লেখা একটি বই ফেরি করে জানিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষকে।

আজ ২৪ এপ্রিল রাজশাহীর কুখ্যাত খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডের দিন। খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডে শহীদ রাজবন্দীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সূত্র: খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ড ১৯৫০/ মতিউর রহমান

//অনলাইন ডেস্ক//

ঈদেই সালমান খানের সুপার এ্যাকশন সিনেমা ‘রাধে’

 

আগামী ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের নতুন সিনেমা ‘রাধে’। ২০২০ সালে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা আটকে যায়। তবে, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ তাদের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছে।

জিনিউজ জানিয়েছে, ‘রাধে শুধু প্রেক্ষাগৃহে নয়, জিপ্লেক্স ও টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে মাত্র ২৯৯ রূপি বা ৩৪০ টাকায় দেখা যাবে।’

‘রাধে’ ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়ান্টেড’ সিনেমার সিকুয়েল বলে ধারণা করছেন অনেকেই। আগের পর্বের মতো এটিও পরিচালনা করেছেন প্রভুদেবা।

আজ ২২ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ‘রাধে’র ট্রেলার। এরই মধ্যে ট্রেলারটি নেটিজেনে ঝড় তুলেছে। ট্রেলারে নিজের মেজাজেই দেখা গেছ সালমান খানকে। অ্যাকশন, রোম্যান্স ভরা ছবিতে তার বিপরীতে আছেন দিশা পাটানি। খল নায়কের চরিত্রে দেখা যাবে রণদীপ হুদাকে। এছাড়া, একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন জ্যাকি শ্রফ।

এর আগে, গত জানুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে ‘রাধে’ মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সালমান খানকে  চিঠি লিখেছিলেন সিনেমা প্রদর্শকরা।

অনলাইন ডেস্ক।।

 

পটুয়াখালীতে যৌতুকের টাকা না পেয়ে শশুরের জমি দখলের অপ-ততপরতা

 

পটুয়াখালী সদর উপজেলা ১১ নং আউলিয়া পুর (পূর্ব বাদুরা) ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সামচু এর মেয়ের জামাই কে যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে, জামাই (শশুর ও স্ত্রীকে) মারধর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ২৪/৪/২১ ইং রোজ শনিবার সকল ১০,৩০ মিনিট এর সময়।

ঘটনা সুত্রে জানাযায়, ৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউ পি সদস্য মোঃ কালাম ও কৃষক মোঃ সামচু এরা দুইজন সৎ ভাই। কিন্তু মোঃ কালাম সৎ ভাই মোঃ সামচু এর মেয়ে মোসাম্মদ লিমাকে ছেলের বৌ করেন ২০১৫ সালে।

এই বর ও কনে এক বছর সংসার ভালো ভাবেই করেন। হঠাৎ করে বর মোঃ সাইফুল স্ত্রী লিমাকে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিতে পারলে শশুরের জমি দখলের চেষ্টা।

স্ত্রী লিমা স্বামী সাইফুল কে এ ব্যাপারে নিষেধ করলে স্বামী সাইফুল স্ত্রী লিমাকে অনেক মারধর করেন। লিমার বাবা মেয়ে ও জামাই কে ধরতে গেলে, জামাই সাইফুল ও বেয়াই কালাম মিলে মার ধর করেন লিমাকে ও তার বাবাকে এবং জায়গার চতুর্পাশে থাকা বেড়া চাটি ভেঙ্গে ফেলেন।

৯৯৯ কল দিলে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্দেশে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই পক্ষকে উপস্থিত পুলিশ অভিচার ২৫/৪/২১ ইং রোজ রবিবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় উপস্হিত থাকার জন্য বলেন। ভুক্তভোগী লিমা বলেন, আমার বিবাহের বয়স ৬ বছর আমাদের সংসারে ১ টি পুত্র সন্তান দান করেন আল্লাহ তায়ালা।

আমি কয়েক বার আমার বাবা মা’য়ের কাছ থেকে টাকা এনে দিয়েছি। তার পরো আমার উপরেও আমি এই অমানবিক নির্যাতনের শিকার।

আমার স্বামী মোঃ সাইফুল প্রতিদিন বলেন আমার বাবা-র কাছ থেকে টাকা আনতে আমি না শিকার করলে আমার বাবার নিজ ক্রয়ে করা সম্পত্তি দকল করার জন্য চেষ্টা করলে, আমার বাবাকে,আমাকে অনেক মার ধর করে আমি বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তিন তলায় সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছি।

আমার বৃদ্ধ বাবাকে আমার শশুর, স্বামী মিলে মার ধর করে আমি এর সঠিক বিচারের দাবি করছি বাংলাদেশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।

//মোঃ তুহিন শরীফ, নিজস্ব প্রতিনিধি//

 

English Version…

বিশুদ্ধ পানির জন্য…..

এর থেকে করোনার ভয়াবহ চিত্র আর কি হতে পারে…!!! মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের লাশ

 

ভারতের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার চিত্র সামনে এলো এক ছবিতে। মায়ের পায়ের কাছে পড়ে আছে করোনায় মারা যাওয়া সন্তানের লাশ। ভারতের উত্তর প্রদেশের বারনাসী শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে ছবিটি তোলা হয়।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্লান্ত-বিধ্বস্ত মা চন্দ্রকলা সিং একটি ইলেকট্রিক অটোরিকশায় বসে আছেন। আর তার পায়ের নিচে পড়ে আছে ২৯ বছরের ছেলে বিনিত সিংয়ের লাশ। গত সোমবার সকালে চন্দ্রকলা সিং তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিনিতের করোনা হয়েছে জানিয়ে তাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়।

মা চন্দ্রকলা সিং বলেন, ওরা বললো এর করোনা হয়েছে। তাকে এখান থেকে নিয়ে যান। আমার সন্তান, আমার বাছা শ্বাস নিতে পারছিল না। আমরা অক্সিজেন আর অ্যাম্বুলেন্স চাইলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। পরপর দু’টি হাসাপাতালেও গিয়ে কাজ হয়নি।

 

ঘটনার দিন অটোরিকশায় করে প্রথমে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বিনিতকে। সেখান থেকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতারালে নিয়ে গেলে তারাও ফিরিয়ে দেয়। পরে তৃতীয় হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যায় বিনিত।

অনলাইন ডেস্ক।।

কুমিল্লায় বিদেশি নাগরিকসহ জাল ডলার তৈরির পাঁচ সদস্য গ্রেফতার

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গাসিগ্রাম থেকে জাল ডলার তৈরি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তার নাম জোসেফ (৪১)। তিনি গিনি দেশের নাগরিক বলে জানা গেছে। 

এছাড়া বাকি চারজন হলেন, গাসিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ওদুদ সরকার(৪০), বেলায়েত হোসেন (২৮), বাউল আলামিন দেওয়ান (২৮) ও আলী আশরাফ মিয়া (৩৫)।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে গাসিগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল ডলার তৈরির সরঞ্জামসহ ওই পাঁচজন প্রতারক চক্রের সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল ডলার তৈরি করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। 

অনলাইন ডেস্ক।।

বাঁচতে চান এমএম কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রী সোমা রায়

 

যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের মেধাবী শিক্ষার্থী সোমা রায় (২৬)। মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য ৭-৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।

কিন্তু এত টাকা জোগাড় করতে পারছে না তার দরিদ্র পরিবার। সোমার বাবা শহরের একটি সুপার শপে সামান্য বেতনে চাকরি করেন। মা সবিতা রায় গৃহিণী। তিনিও অসুস্থ। আর একমাত্র ছোটভাই এবার এইচএসসি পাস করেছে।

সোমার সুচিকিৎসার জন্য এত টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। মানুষের সহযোগিতা পেলে মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবনটা ফিরে পাবেন। সংসারের হাল ধরতে পারবেন।

জানা যায়, যশোর শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার বাসিন্দা অশোক রায় ও সবিতা রায় দম্পতির একমাত্র মেয়ে সোমা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত হোম টিউটর, দক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষক এবং গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারের একজন সার্ভিস হোল্ডার হিসেবে সংসারের হাল ধরেছিলেন।

সোমার ইচ্ছা ছিল একজন আদর্শবাদী শিক্ষিকা হয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গের উপক্রম। তিনি মরণব্যাধি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত। সংগ্রামী সোমা রোগাক্রান্ত হওয়ায় তার পরিবার, সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।

তার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। যশোর ও খুলনায় চিকিৎসা শেষ করে বর্তমানে বাড়িতেই ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত অপারেশন করালে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ভারতে নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।

অশোক রায় জানান, নিজেরা নিরক্ষর হলেও দুই ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করেছি। তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। সোমা পড়াশুনায় মেধাবী। সে সংসারের হাল ধরেছিল। হঠাৎ তার অসুস্থতা সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অসুস্থতা নিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে।

গত মাসে হঠাৎ করেই আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তার মরণব্যাধি ব্রেন টিউমার। চিকিৎসকেরা জানিয়েছে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাগবে।

কিন্তু আমার কাছে এত টাকা সংগ্রহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সোমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

যোগাযোগ: ডাচ্ বাংলা ব্যাংক-নিজস্ব অ্যাকাউন্ট- সোমা রায় ১৬৩১৫১০১৯৫৯৮৪ (ব্র্যাঞ্চ-যশোর- কোড ১৬৩)।

//অনলাইন ডেস্ক//

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি: গবেষকের দাবী

 

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি এক ভারতীয় গবেষক দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিদ্ধার্থ বর্মা সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু পাবলিক টয়লেট নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ৩ ঘণ্টা ধরে প্রায় ১০০ বার বোতাম টিপে পানি ঢালার সময়ে টয়লেটগুলোর বাতাস তারা পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, ফ্লাশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জীবাণুরা প্রায় ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠে সেখানে ২০ সেকেন্ড ধরে ভেসে থাকতে পেরেছে।

এই তথ্য থেকে অনেকের দাবি, ভারতের মতো দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এই ধরনের পাবলিক টয়লেটগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

‘ফিজিক্স অব ফ্লুইড’ নামক জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে সিদ্ধার্থ দাবি করেছেন, সাধারণ টয়লেটের মতোই যে সব টয়লেটে শুধুমাত্র পুরুষদের পেশাবের জায়গা থাকে, সেগুলোর বাতাসেও ৩ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট মাপের জলকণা ভেসে বেড়ায়।

এগুলো আকারে এতটাই ছোট, যে এরা সহজেই বহুক্ষণ ভেসে থাকতে পারে। এর ফলে ইবোলা থেকে করোনাভাইরাস- সব ধরনের জীবাণুরই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়।

//অনলাইন ডেস্ক//

Corona Virus News..

খুলনায় করোনায় কর্মহীনদের মাঝে সিটি মেয়রের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় করোনায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শনিবার দুপুরে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, করোনায় নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করা যাবে না

। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানো সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে মহামারী মোকাবেলায় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তার সবই সফল হয়েছে। এবারেও মহামারীতে সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছেন। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে দরজি, ইজিবাইক চালক, দুস্থ নারী, বাস চালক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচশত জন কর্মহীনের মাঝে চাল, ডাল, আলু ও সবজি বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে খুলনা জেলা প্রশাসন মানবিক সহায়তা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। লকডাউন চলাকালে খুলনা মহানগর এবং উপজেলাসমূহে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর কবির, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম জাহিদ হোসেন ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুন্সি মোঃ মাহবুব আলম সোহাগ। খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 //আ:রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

আরও পড়ুন…

বাঁশখালীতে হতদরিদ্রদের মাঝে আবছার উদ্দিন চৌধুরী জান্টুর ইফতার সামগ্রী বিতরণ

  করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া ও হতদরিদ্র গরীব অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপির নির্দেশনায় এমপির চাচাতো ভাই বিশিষ্ট সমাজ সেবক আবছার উদ্দিন চৌধুরী জান্টুর পক্ষ থেকে নিজস্ব অর্থায়নে ৭নং সরল ইউনিয়নের পাইরাং, জালিয়াঘাটা,মিনজির তলা, কাহারঘোনান ও সরল নোয়াপাড়া এলাকায় প্রায় তিন’শ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর নিজ বাস ভবনের সামনে থেকে শুরু করে ২৩ এপ্রিল শুক্রবার জুমার পর থেকে মিনজির তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরল ১নং ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় প্রথম ধাফের ২দিনব্যাপী এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।

এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ কালে স্থানীয় মান্যগণ্য ও ছাত্র লীগ, যুবলীগ,আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আবছার উদ্দিন চৌধুরী জান্টু বলেন,করোনা ক্লান্তিকাল সংকটে পড়া হতদরিদ্র,গৃহবন্দী কর্মহীন অসহায় সর্বস্থরের মাঝে আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপির নির্দেশনায় আমার নিজস্ব অর্থায়নে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম প্রথম দাফে শুরু করেছি।

এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে আমার ৭নং সরল ইউনিয়ন এর প্রতিটি ওয়ার্ডে আমার সামর্থের আলোকে বিতরণ করে যাবে বলে জানান। সাথে সাথে সামর্থবান সকলকে অসহায় মানুষের মাঝে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও আহবান জানান।

//মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী, চট্রগ্রাম//