মিশরের সোহাগ শহরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৩২, আহত অর্ধ-শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক।।

মিশরের সোহাগ শহরের উত্তরে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৩২ জন নিহত ও অন্তত ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে ৩৬টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজত- পুলিশ সংঘর্ষ নিহত- ৪, আহত ১০

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার জন নিহত ও ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মাদরাসার ছাত্র একজন পথচারী রয়েছেন। নিহত চার জনের মরদেহ এ রিপোট লেখা পর্যন্ত (সন্ধা ৭টা) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত তিন মাদরাসা ছাত্র হলেন, জাহাংগির আলম, মেরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম। নিহত পথচারীর  পরিচয় জানা যায় নি।

জানা যায়, আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের প্রতিবাদে হাটহাজারী মাদরাসা ও পাশ্ববর্তী কয়েকটি মসজিদ থেকে খন্ড খন্ড ভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন হেফাজতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। মিছিলটি হাটহাজারী থানার দিকে এগুতে চাইলে পুলিশ বাধা প্রদান করলে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।  এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পাল্টা টিয়ারসেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে সংঘর্ষ আরো বেড়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার উভয় পক্ষের সংঘর্ষের এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামীর অনুসারীরা মিছিলের চেষ্ট কারে। পুলিশ বাধা দিলে তারা হাটহাজারী থানায় প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষ চলাকালে রাস্তায় পুলিশ অবস্থান নিলে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে হেফাজতের অনুসারীরা পুলিশের প্রতি ইট পাটকেল ছুড়েছে।

হেফাজতে ইসলামের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদরিস দাবী করে বলেছেন পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৭ জন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

বিকালে চমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হামলা, ভাংচুর

আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হঠাৎকরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে এক দল যুবক।

আজ (শুক্রবার) বিকালে ১৫-২০ জনের একদল যুবক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রবেশ করে ভাংচুর চালান বলে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ন কবির। তিনি বলেন, হাটহাজারীতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৪ জনকে হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মরদেহের সঙ্গে থাকা স্বজনরা জরুরি বিভাগে হামলা করে ভাংচুর চালান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভুইয়া জানান, ১৫-২০ জনের এক দল যুবক হঠাৎ এসে হাসপাতালে হামলা করে ভাংচুর করেন। এ সময় জরুরী বিভাগের ওয়ার্ড সর্দার মো: এনায়েত আহত হন।

চট্টগ্রামের দোহাজারীতে ১০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ আটক ২

মোকতার আহমদ,  চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি//

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ১০ হাজার ইয়াবাসহ মো. আরাফাত হোসেন (২৩) ও মো. ইউসুফ (২০) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছ

শুক্রবার (২৬ মার্চ) ভোরে দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র আই.সি (পরিদর্শক) মো. আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার সিটি সেন্টারের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে মো. আরাফাত হোসেন কক্সবাজার জেলার রামু থানার জোয়ারিয়ানালা এলাকার মৃত নুর আহম্মদের ছেলে। মো. ইউসুফ একই থানার কোনিয়াপালং এলাকার মৃত ফরিদ আলমের ছেলে।

দোহাজারী তদন্ত কেন্দ্র আই.সি পরিদর্শক মো. আব্দুল হালিম জানান, কক্সবাজার থেকে মাইক্রোবাস যোগে ইয়াবা পাচার হচ্ছে, গোপন সূত্রে এমন তথ্য পেয়ে পৌরসভায় সিটি সেন্টারের সামনে অস্থায়ী চেক পোস্ট স্থাপন করা হয়। এসময় চট্টগ্রামমুখী মাইক্রোবাসটি (চট্ট মেট্টো. চ-১১-১৯৫৫) থামিয়ে তল্লাশিকালে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসময় ওই দুই জনকে আটক করা হয়।

আটক আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চন্দনাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইয়াবা বহনকাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই আজ আমরা দেশ, ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব বোধ করি —- সালাম মূর্শেদী

 স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে মুক্তির ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। হয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আজ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভিযাত্রায় এক মহাসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।

এ বছর বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ করছে। তিনি আর ও বলেন,মাহেন্দ্রক্ষণে উদযাপিত হচ্ছে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। এটি সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য এক আনন্দঘন গৌরবের অনুভূতি। বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে। ২৬ মার্চ সকালে রূপসা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সিংন এর মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খান মাসুম বিল্লাহের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ কামাল উদ্দীন বাদশা, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ যোবায়ের,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, কৃষি কর্মকর্তা তাহিরা ফরিদুজ্জামান, রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ সরদার মোশাররফ হোসেন। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোল্লা আবু বকরের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঙ্গীতা চৌধুরী,প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা( ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ তপু সাহা,উপজেলা প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার কাজী ইয়াহিয়া,আরডিও তারেক ইকবাল আজিজ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আ:মজিদ ফকির,মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক,রকিব উদ্দীন,আকতার ফারুক, ওয়াহিদুজ্জামান মিজান, সাংবাদিক ফঃ ম আইয়ূব আলী।

রাজশাহীর কাটাখালী এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজশাহীতে বাস-মাইক্রোবাস ও লেগুনার ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ জানান, দুপুরে রংপুর থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস রাজশাহী আসছিল। পথে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে কাটাখালী থানার সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি হিউম্যান হলারকে (লেগুনা) ধাক্কা দেয়। এ সময় মাইক্রোবাসটির গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে গাড়ির ভেতরেই সবাই মারা যায়।

তিনি আরও জানান, মাইক্রোবাসটির ভেতরে চার পরিবারের ১৩ জন ছিলেন। সবাই মারা গেছেন। এছাড়া বাসের আরও চারজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে রামেক হাসপাতালে নেয়ার পর পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে ১১ জনের লাশ বের করা হয়। আগুনে মাইক্রোবাস ও হিউম্যান হলারটিও (লেগুনা) পুড়ে গেছে। রামেক হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহত-নিহতদের নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

নড়াইলে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতীয় দিবস পালিত

 নড়াইল প্রতিনিধি, মোঃ খাইরুল ইসলাম চৌধুরীঃ

নড়াইলে মহান স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী ও জাতীয় দিবস পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার প্রত্যুশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সুচনা করা হয়।

পরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ,গন কবর ,বধ্যভূমি,জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ও চেতনা চত্বর ও বঙ্গবন্ধুর মুর্যালে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামীলীগ, জেলা বিএনপি,নড়াইল পৌরসভা,নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবি সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সরকারি-বে-সরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পন মোনাজাত, গণকবর জিয়ারত করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান,জেলা প্ররিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়,পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডাঃ নাছিমা আক্তার,পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ সুবাস চন্দ্র বোস, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকু, সাধারন সম্পাদক মোঃ শামীমুল ইসলাম টুলুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তোলা গেল এই প্রথম

আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক।।

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অতলান্ত অন্ধকারের একেবারেই অজানা অচেনা জগতের এত দিনের গোপন দরজাটা এ বার খুলে ফেলা সম্ভব হল। ঠিক কী কী ঘটনা ঘটছে সেই সর্বগ্রাসী অন্ধকারের মুলুকে, কী ভাবে ঘটছে এই প্রথম সেই গোপন কথার কিছুটা জানা গেল।

ছবি তোলা গেল কোনও ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের। সেই চৌম্বক ক্ষেত্র ঠিক কী ভাবে সাজানো থাকে, তার দিক-দিশাও জানা গেল। এই প্রথম।

দু’বছর আগে প্রথম কোনও ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলার পর তার চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তোলাও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর আগে যা সম্ভব হয়নি কখনও। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ।

দু’বছরের ব্যবধানে দু’টি ইতিহাস

পৃথিবী থেকে সাড়ে ৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা একটি বিশাল নক্ষত্রপুঞ্জ ‘এম-৮৭’-এর অন্দরে রয়েছে যে দৈত্যাকার ‘সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল’ (নাম-এম-৮৭) তার ছবি তোলা হয়েছিল দু’বছর আগে। ২০১৯-এ। ইভেন্ট হরাইজ্‌ন টেলিস্কোপ (ইএইচটি)-এর মাধ্যমে।

তার আগে আর কোনও ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা যায়নি। তার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা এড়িয়ে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না বলে। আলোর চলার পথের সূত্র ধরেই তো আমরা তার উৎসে পৌঁছই, ছবি তুলি বা আঁকি।

ফলে দু’বছর আগে অসাধ্যসাধন করেছিল ইএইচটি। কোনও ‘মহারাক্ষস’-এর ছবি তুলে। এ বার আরও একটি অসাধ্যসাধন করল ইএইচটি এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রায় পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে। যা থেকে প্রথম চাক্ষুষ করা গেল ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রটিকে। তার সজ্জাও। পাওয়া গেল সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক-দিশাও।

দু’বছরের ব্যবধানে পর পর দু’টি অসাধ্যসাধন সম্ভব হয়েছে যার মাধ্যমে সেই ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপটি আদতে পৃথিবীর ৮টি জায়গায় বসানো ৮টি রেডিও টেলিস্কোপের সমষ্টি। সেগুলি এমন ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে, যাতে ৮টি টেলিস্কোপ লেন্সের ব্যাসগুলিকে যোগ করলে তা পৃথিবীর ব্যাসের সমান হয়। যার অর্থ, পৃথিবীর ব্যাসের সমান আকারের লেন্স দিয়েই প্রথম কোনও ব্ল্যাক হোল ও তার চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তুলতে পেরেছে ইএইচটি।

ব্ল্যাক হোলের ব্যাসার্দ্ধের ৫-৬ গুণ দূরে চুম্বকের জাল!

যে ছবি পাওয়া গিয়েছে তার থেকে দেখা যাচ্ছে, কোনও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের ব্যাসার্দ্ধ যতটা, তার ৫-৬ গুণ দূরত্বে থাকে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র। যার আড়াই-তিন গুণ কম দূরত্বে ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি থাকে সেই ভয়ঙ্কর এলাকা ‘ইভেন্ট হরাইজ্‌ন’। যে এলাকার সীমান্ত ছুঁলেই কোনও পদার্থ, এমনকি আলোর কণা ফোটনও আর ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়িয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে, ইভেন্ট হরাইজ্‌ন থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্ল্যাক হোলের অতলান্ত অন্ধকারের সাম্রাজ্য। যে সাম্রাজ্যে অস্তিত্বই নেই আলোর।

কাউকে যেতে দেয়, কাউকে ছুড়ে দেয় বাইরে

এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের যে ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে, তার থেকে বোঝা যাচ্ছে সেটা যেমন খুব শক্তিশালী নয়, তেমনই তা নয় খুব দুর্বলও। সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি মাঝারি মানের।

এক সপ্তাহ ধরে এই ভাবে চেহারা বদলেছে এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চৌম্বক ক্ষেত্র। ছবি সৌজন্যে- ইএইচটি।

এক সপ্তাহ ধরে এই ভাবে চেহারা বদলেছে এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চৌম্বক ক্ষেত্র। ছবি সৌজন্যে- ইএইচটি।

বেঙ্গালুরুর ‘রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আরআরআই)’-এর অধ্যাপক বিমান নাথ জানাচ্ছেন, ওই চৌম্বক ক্ষেত্র খুব শক্তিশালী হলে ব্ল্যাক হোলের খুবই মুশকিল হত। খাবার পেত না একেবারেই। কারণ গ্যালাক্সির চার দিক থেকে গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে কাছাকাছি এসেও শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের জালে আটকে যেত। সেই জাল ফুঁড়ে তারা আর ইভেন্ট হরাইজ্‌নে গিয়ে পৌঁছত না। তাদের আর গোগ্রাসে খাওয়া সম্ভবও হত না ব্ল্যাক হোলের। সেই চৌম্বক ক্ষেত্র খুব দুর্বল হলে ব্ল্যাক হোলের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে কাছেপিঠে এসে পড়া তারা, গ্যাসের ঘন মেঘ, পদার্থের সামান্য রেহাই মেলারও অবকাশ থাকত না। কাছেপিঠে আসা সব কিছুই ব্ল্যাক হোলের পেটে চলে যেত।

বিমান বলছেন, ‘‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে এই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি মাঝারি মানের। তাই কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থের গতিশক্তি বেশি হলে তা চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে তার ইভেন্ট হরাইজ্‌নের দিকে এগিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় চৌম্বক ক্ষেত্রেরও কিছু অংশ। ব্ল্যাক হোলের খিদে মেটায়। আর কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থের গতিশক্তি কম হলে, তা চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। চৌম্বক ক্ষেত্রের জালে জড়িয়ে যায়। পরে তাদের ছিটকে বার করে দেয় চৌম্বক ক্ষেত্র। তখনই আলোর রেডিও তরঙ্গ, অবলোহিত তরঙ্গ, দৃশ্যমান তরঙ্গ, অতিবেগুনি রশ্মি, এক্স-রে এবং গামা রে বেরিয়ে আসে। একটা ‘জেট’ তৈরি হয়।’’

ব্ল্যাক হোলকে জানার পথ খুলে গেল

নৈনিতালের ‘আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর অবজারভেশনাল সায়েন্সেস (এরিস)’-এর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘কেন ওই ‘জেট’গুলি বেরিয়ে আসে ব্ল্যাক হোলের আশপাশের এলাকা থেকে, কোথায় তাদের উৎপত্তি হয় ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি এ বার তা বুঝতে সাহায্য করবে। সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে ন্যূনতম কোন গতিবেগে কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজ্‌নের দিকে ছুটে যায় এ বার সেটা বোঝারও পথ খুলে যেতে পারে।’’

কী ভাবে তৈরি হয় এই চৌম্বক ক্ষেত্র?

ইন্দ্রনীল জানাচ্ছেন, ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ কাছেপিঠে এসে পড়লে তাদের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে তারা আর অণু, পরমাণু হয়ে থাকতে পারে না। ইলেকট্রন খুইয়ে তারা আয়ন হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে রাশি রাশি ইলেকট্রন, প্রোটনের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণায়। তাদের গতিবেগ থাকে বলে তাদের চলার পথে তৈরি হয় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র। যার পরিণতিতে তৈরি হয় চৌম্বক ক্ষেত্রও।

চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানার শেষটা কোথায়?

ইন্দ্রনীল জানাচ্ছেন, এই ছবি থেকে সেটা বোঝা সম্ভব হয়নি। এ বার হয়তো সেই গবেষণা শুরু হবে। চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানা ব্ল্যাক হোলের কতটা কাছাকাছি পৌঁছতে পারে, সেটা জানাও খুব জরুরি। কারণ, চৌম্বক ক্ষেত্র আবদ্ধ হয় বলে তা যদি ব্ল্যাক হোলে ঢুকে পড়ে তা হলে তাকে বেরিয়েও আসতে হবে। কিন্তু ব্ল্যাক হোল থেকে তো কোনও কিছুর বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। তার মানে, এই চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানা ইভেন্ট হরাইজ্‌নের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই যুগান্তকারী ঘটনা ব্ল্যাক হোলের অতলান্ত অন্ধকারের গোপন দরজাটা অনেকটাই খুলে দিল, বলছেন বিমান ও ইন্দ্রনীল।

ছবি সৌজন্যে- ইভেন্ট হরাইজ্ন টেলিস্কোপ।

কীভাবে এল লাল গালিচা সংবর্ধনা…? কেন অন্য রঙের গালিচা নয়….!

।। দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক ।।

রেড কার্পেট বা লালগালিচা, নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাষ্ট্রীয় অতিথিকে স্বাগত জানানোর কোনো দৃশ্য কিংবা অস্কার-গ্র্যামি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের ছবি। শুরু থেকেই অবশ্য এই লালগালিচা সম্রাট কিংবা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের পায়ের ধুলোকেই সঙ্গী করে চলেছে।
প্রাচীন গ্রিসের ইস্কিলুসের ট্র্যাজেডিতে এই লালগালিচার উল্লেখ পাওয়া যায়। যখন গ্রিসের সম্রাট আগামেমনন ট্রোজান যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে দেশে ফিরে আসেন, তখন সম্রাজ্ঞীর নির্দেশে তাঁকে স্বাগত জানাতে লালগালিচা বিছানো হয়েছিল। অর্থাৎ খ্রিষ্টের জন্মেরও ৫০০ বছর আগে রাজকীয় সংবর্ধনায় লালগালিচা ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা পাওয়া যায়।

মধ্যযুগের ইউরোপে লাল রংকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হতো। তাই রেনেসাঁ যুগের শিল্পকর্মে সাধু, সম্রাট কিংবা অভিজাত ব্যক্তিদের পায়ের নিচে লালগালিচার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

আধুনিক যুগে, ১৮২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর সাউথ ক্যারোলাইনায় আগমনকে স্বাগত জানাতে সেখানে লালগালিচা ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায় এবং এরপর থেকেই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সম্মান প্রদর্শনে লালগালিচা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে তো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে লালগালিচা সংবর্ধনা না দেওয়া নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইও হয়ে গেল রীতিমতো!

তবে লালগালিচাকে আধুনিককালে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় করেছেন হলিউড তারকারা। মূলত বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্রশিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটে এবং হলিউডের তারকাদেরও অভিজাত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ১৯৬১ সালে অস্কার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্মানে লালগালিচার প্রচলন করা হয়।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শহীদ মিনারে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

অনলাইন ডেস্ক।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্বাধীনতা দিবসে আজ সকালে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার একপর্যায়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু গ্রুপ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার গ্রুপের লোকদের মধ্যে ওই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

 

এসময় ঘটনাস্থলের পাশেই পুলিশ অবস্থান করছিল। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে সংঘর্ষে লিপ্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় পুলিশসহ দু’পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সরাইল থানার ওসিসহ মোট ৮ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।