নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গত কয়েক মাস যাবত করোনার প্রার্দুভাব সম্পূর্ণ না হলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকায় জনজীবন অনেকাংশে স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর দূরদর্শিতার ফলে কিছুটা সতর্কমূলকভাবে বলেছিলেন, করোনা মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে আবারও কিছুটা বাড়তে পারে আর তাই তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈদের পরে খোলার বিষয়ে মতামত রেখেছিলেন।
কিন্তু সাধারণত জনগনের অদূরদর্শী মতামত, ‘দেশের সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও শুধু মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল রেখে শিক্ষার্থীদের চরম শিক্ষা সংকটে ফেলা হচ্ছে।’-জনগণের এই কথার সাথে আগুনে ঘি ঢালার কাজটি করছে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা। তারাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে মতামত দেওয়ার ফলে সরকার অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবে ৩০ মার্চ-২০২১ তারিখে খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই অনুযায়ী পাঠবিভাজন ও পাঠপরিক্রমা তৈরি করে এবং এরই মধ্যে গত ১৪ মার্চ-২০২১ রোজ রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্কুল খোলার পূর্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি, শিক্ষক- শিক্ষিকাদের টীকার ব্যবস্থা নিশ্চিত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ দ্বারা বিদ্যালয় পরিদর্শন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় মনিটরিং করানো , এসএসসি শিক্ষার্থীদের ৬০ কর্মদিবস ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের ৮০ কর্মদিবসের সিলেবাস তৈরি করা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু মার্চ মাসে গত কয়েকদিন যাবত করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা পূর্বের থেকে অনেকাংশেই বেশী।
বুধবারে ২৪ ঘন্টায় মোট সনাক্ত ১৮৬৫ ও মৃতের সংখ্যা ১১ জন।এর আগে ১৫ ডিসেম্বর সনাক্ত হয়েছিল ১৮৭৭।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘ কোভিট-১৯ প্রতিরোধ ও বর্তমান সময়ে করণীয়’- সম্পর্কে আলোচনায় করোনার বর্তমান ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিরোধ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২ টি প্রস্তাব গ্রহন করে, প্রস্তাবসমূহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠান।
করোনা সংক্রমণ রোধে পাঠানো প্রস্তাব সমূহঃ
১. সম্ভব হলে সম্পূর্ণ লকডাউনে যেতে হবে তা না হলে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সমন্বয় রেখে যে কোনো জনসমাগম বন্ধ করার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
২.কাঁচাবাজার, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট,শপিংমল, মসজিদ, রাজনৈতিক সমাগম, ভোট অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, রমজান মাসের ইফতার মাহফিল ইত্যাদি অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে।
৩. যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে সেগুলো বন্ধ রাখতে হবে এবং অন্যান্য কার্যক্রমও সীমিত করতে হবে।
৪. যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা ( এসএসসি, এইচএসসি, মাদ্রাসা,দাখিল,বিসিএসসহ) নেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
৫. কোভিট-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের আইসোলেশন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
৬. যারা রোগীদের সংস্পর্শে আসবে তাদের কঠোর করেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. বিদেশ থেকে বা প্রবাসী যারা আসবেন তাদের ১৪ দিনের কঠোর কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।
৮. আগামী ঈদের ছুটি কমিয়ে আনা যেতে পারে। ৯.স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আইন আরও জোরালোভাবে কার্যকর করতে হবে।
১০ পোর্ট অফ এন্ট্রিতে জনবল আরও বাড়াতে হবে এবং নজরদারীর কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
১১. সব ধরনের সভা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করার উদ্যোগ নিতে হবে।
১২. পর্যাটন এলাকায় চলাচল সীমিত করতে হবে।
এছাড়া ইতিপূর্বে ১৩ মার্চ সারাদেশে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা,স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উল্লেখিত বিষয়াবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
Like this:
Like Loading...