খুলনার ডুমুরিয়ায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

ডুমুরিয়ার খুলনা – সাতক্ষীরা মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি প্রক্কালে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৪জন ডাকাতকে থানা পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক ভাবে দু’টি মামলা রুজু হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ১১ এপ্রিল  মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জিলেরডাঙ্গা ব্র্যাক হ্যাচারীর সামনে একদল লোক মটর সাইকেল ও ট্রাকসহ অবস্থান করছিল। থানা পুলিশ তাদের গতিবিধি আমলে নিয়ে কঠোর নজরদারি শুরু করে। এক পর্যায়ে রাত আড়াই টার দিকে পুলিশ অভিযান চালায় ।

খুলনার ডুমুরিয়ায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক
খুলনার ডুমুরিয়ায় ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৪ ডাকাত আটক

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন পালিয়ে যায় এবং ৩জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটক ৩জনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ২টি ম্যাগজিনসহ ১টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ১টি দেশীয় তৈরী ওয়ান স্যুটারগান উদ্বার করা হয়।  আটক ৩জন হলেন কয়রা থানার মহেশ্বরপুর এলাকার মৃত নিছার ঢালীর ছেলে কামাল ঢালী (৩১), ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের টোলনা দক্ষিণপাড়া এলাকার মুজিবর বিশ্বাসের ছেলে জিহাদুল বিশ্বাস (২৮) ও একই এলাকার সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে শামীম বিশ্বাস (৩১)। পরে তাদের দেয়া তথ্য’র ভিত্তিতে ১২ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাতে মাহাবুর রহমান (৩৯) নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। আটক মাহাবুর রহমান কেশবপুর উপজেলার বসুন্দিয়া গ্রামের কাশেম আলী সরদারের ছেলে।

এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেখ কনি মিয়া (বিপিএম) জানান, ঈদ উপলক্ষে ডাকাতির উদ্দ্যেশে একদল দুস্কৃতিকারী মহাসড়কে মটর সাইকেল ও ট্রাকসহ গুটুদিয়া ওয়াপদার মাথা মোড়, জিলেরডাঙ্গায় আবার কখনো ব্র্যাক হ্যাচারীর সামনে অবস্থান করছিল। তাদের এমন চলাফেরায় আমাদের সন্দেহ হয় এবং রাত সাড়ে ১২টার দিকে নজরদারি শুরু করি। এক পর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে অভিযান চালিয়ে ৩জনকে ধরতে সক্ষম হই এবং তাদের নিকট থেকে ম্যাগজিনসহ ১টি অত্যাধুনিক পিস্তল ও ১টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, এরা হল একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, এ দলে ৮/৯ জন অস্ত্রধারী রয়েছে। মুলতঃ এদের উদ্দেশ্য ছিল ভোর রাতের দিকে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি করার। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় পৃথক ভাবে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দু’টি রুজু করা হয়েছে।গতকাল তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় নদী থেকে সরকারি ঔষধ উদ্ধার// ক্লিনিকের সিএইচসিপিকে প্রত্যাহার

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

খুলনার ডুমুরিয়ার কুলটি নদীথেকে   সরকারি ওষুধ উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা। সরকারি ওষুধ তছরুপ ও বিনষ্টের অভিযােগে জিলেরডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের জিলেরডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের কুলটি নদী থেকে গত মঙ্গলবার জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে এক বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করে ক্লিনিকের পাশে রেখে দেয় এবং কমিউনিটি-হেলথ-কেয়ার-প্রােভাইডার (সিএইচসিপি) আইরিন খানকে অবহিত করে।

এরপর আইরিন কৌশলে বস্তাবন্দি ওষুধগুলাে ক্লিনিকের পেছনে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করে। গত এক বছর আগে বস্তাবন্দি করা সরকারি এই ওষুধ নদীতে ফেলে দেন তিনি।যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাে দুরের কথা কমিউনিটি ক্লিনিক কমিটির কেউ জানেনা।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে রােগী দেখার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, স্বেছাচারিতা ও অসাদাচরণসহ এলাকাবাসীর নানা অভিযােগ দীর্ঘদিনের।নদীত ওষুধ পাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ ব্যাপক ভাবে ফুঁসে উঠেছে ওই সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে।

এক পর্যায়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এলাকার শতাধিক নারি-পুরুষ কমিউনিটি ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখে। সিএইচসিপি আইরিনকে ক্লিনিক ঢুকতে নিষেধ করে তারা। কুলটী গ্রামের লিটন মন্ডল জানান, ‘সিএইচসিপি আইরিন খান সরকারি ওষুধ বস্তাবন্দি করে পানিতে ফেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার জেলেরা মাছ ধরতে যেয়ে ওষুধ গুলাে পেয়ে গ্রামবাসীকে জানায় এবং ওষুধগুলাে ক্লিনিকের পাশে রেখে দেয়। কােন কিছু কাউকে না জানিয়ে সেই ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে আইরিন। যারমধ্য মেয়াদাত্তীর্ণ ছাড়াও আগামী ২৪-২৫ সাল মেয়াদী পর্যন্ত ওষুধ রয়েছে অনেক। তিনি বলেন, গ্রামের কেউ অসুস্হ হয়ে তার কাছে গেলে তিনি চিকিৎসা দিতে অনিহা দেখান।’ তার বিরুদ্ধে এমন অভিযােগ এলাকার শতশত মানুষের। উপজলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুফিয়ান রুস্তম জানান, তিনি খবর পেয়েই কমিউনিটি ক্লিনিক আসেন। সিএইচসিপি’র বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযােগের সত্যতা মিলেছে। কােন অনুমতি বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া সরকারি ওষুধ বিনষ্ট করার নিয়ম নেই। সিএইচসিপি আইরিন খানকে ক্লােজড করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তারপর তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলােকে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

 

 

খুলনার ডুমুরিয়ায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক বোরো উৎপাদন, কৃষকের মুখে হাসি!

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব,  বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

ডুমুরিয়ার বিস্তৃন ফসলের  মাঠে  সোনালী ধানের ক্ষেত। পাকা আধাপাকা ধানের শীষ দুলছে ।  চৈত্রের খরা দৌদের  চিক চিক করছে ধানের  ক্ষেত । উপজেলার সবত্র  মাঠে ধান কাটার  ধুম পড়েছে । ফসলের মাঠে কৃষক ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  ধান কাটা চলবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। খুলনা জেলার মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভাল।

। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ বোরো ধান চাষের জন্য  কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় প্রদশর্ণী দিয়েছিল সে সব জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসেব মতে বোরো উৎপাদন এবার লক্ষ্যমাত্রার অধিক ফলন হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলায় এবার ৬৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। তার মধ্যে শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতে আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে উফসী জাতের ৮ হাজার ২০০ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ১৩ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে প্রণোদনার আওতায় বোরো আবাদ করেছিলেন সেসব প্রদর্শণী ক্ষেতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলার কয়েকটি ব্লকে ধান কাটার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে মেছাঘোনা, হাজিবুনিয়া, পেড়িখালী, কুলটি, মধুগ্রাম, খলশি, বরুনা ও কোমরাইল মাঠ দিবস ও শষ্য কর্তণ অনুষ্টিত হয়েছে। এসব ব্লকে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হযেছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিযৈছেন। বোরো ধানের গড় উৎপাদন হয় প্রতি হেক্টরে ৬ মেট্রিক টন। তবে এসব মাঠ দিবসে ধান কেটে মাড়াই করে দেখা গেছে গড় উৎপাদন হেক্টর প্রদি ৬ দশমিক ১২ মেট্রেক টন। এই উপজেলায প্রণাদনা দেয়া হয় হাইব্রিড জাতের ধানের চাষে ৬ হাজার ৫০০ জন কৃষককে এবং উফসী জাতের ধান আবাদে ৫ হাজার কৃষককে।
উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মধুগ্রাম ব্লকের কৃষক গোপাল চ্যাটার্জী জানান, চলতি বছর বোরো আবাদে তেমন কোন রোগ বালাই দেখা যায়নি। কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক আমাদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ দিয়েছেন। আমার ধান বেশ ভাল হয়েছে।
ধামালিয়া ইউনিয়নের বরুণা ব্লকের কামরুল ইসলাম সরদার ও মোজাহিদুল ফকির বলেন, বোরো ধান সেচ নির্ভর হলেও এবার জমিতে তেমন সেচ লাগেনি। তিনি জানান মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় সেচের পরিমাণ কম লেগেছে। ধানের ফলন ভাল হয়েছে।
টোলনা ব্লকের কৃষক আকতার হোসেন বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের তদারকি ও পরামর্শের ফলে আমাদের বোরো ক্ষেতের তেমন রোগের আক্রমণ হয়নি। তাই ফলনও আশানুরুপ হয়েছে।
উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার তুষার কান্তি মন্ডল জানান, গত মৌসুমে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় অনেক বিলে কৃষকের আমন আবাদ ও চিংড়ি চাষের জন্য বিলে নদী থেকে নোনা পানি প্রবেশ করায়। বোরো ধান নোনা সহ্য করতে পারে না। তাই কিছু কিছু বিলে সামান্য রোগের আক্রমণ দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমানে সে সব ধান ক্ষেতের কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে রোগ দমন করা হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন জানিয়েছেন, সব প্রতিকুলতা কাটিয়ে বোরো ধানে এবার আশানুরুপ ফলন হয়েছে। যেখানে গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিক টন ধরা হয় সেখানে আমারা নমুনা শষ্য কর্তনের মাধ্যমে পেয়েছি গড় উৎপাদন হযেছে হেক্টর প্রতি ৬ দশমিক ১২ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, বর্তমানে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনে প্রচন্ড গরম আর রাতে কুয়াশাসহ শীতের আভা এতে বোরো ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই আমরা চাষীকে সার্বিক বিষয়ে সতর্ক করছি। কোন রকম যাতে রোগের বিস্তার না ঘটে এজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তারা যাতে পরামর্শমত ধানের পরিচর্যা করেন সে জন্য উপ-সহকারি কৃষি অফিসারদের সার্বক্ষণিক খোজ খবর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, জেলায় এবার ৬৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলাতেই বেশি। তিনি বলেন, বৈরি আবহাওয়া ও নোনা আক্রান্ত হওযা কিছু কিছু বোরো ক্ষেতে রোগের আক্রমণ দেখা দিলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, রোগে আক্রান্ত বোরো ক্ষেতের পরিমাণ শতকারা হারের দশমিক ৫১ ভাগ। তিনি বলেন, বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে বোরো ধানের এবার টার্গেটের অধিক ধান ঘরে উঠবে বলে আশা করছি।

ডুমুরিয়ায় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০  জাতের  ব‍্যাপক ফলন। কৃষি দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহন কুমার ঘোষ এর পরিদর্শন

//বিশেষ। প্রতিনিধি //
ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর  কৈপুকুরিয়ায় বিলে  এবার নুতন আঙ্গিনায় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০  জাতের ধান চাষাবাদ করে এলাকায়  ব‍্যাপক সাড়া পড়েছে।
এক সময়ে লবক্তাতার উর্বর ভূমি এ মাগুরখালীতে বোর মৌসুমে ব‍্যাপক হারে  ধানের আবাদ হয়েছে। এবছর  প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ জাতের ধান চাষ করেছেন  কৃষক উৎপলেন্দু বালা এবং কবিতা বালা তারা ১ একর জমিতে কৃষি অফিসের পরামর্শে ধান রোপন করে ব‍্যাপক ফলন পাওয়ার আশা করছেন।
প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বঙ্গবন্ধু ধান ১০০ আবাদ দেখতে ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন  ও কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন কৃষিবিদ মোহন কুমার ঘোষ অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল । এসময কৃষি দপ্তরের কমাকর্তারা উপস্থিত  ছিলেন।
কৃষি অফিসার ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন  প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায়  কৈইপুকুরিয়া এলাকায় এক একর জমিতে বঙ্গবন্ধু ধান ১০০  জাতের ধান আবাদ করে  কৃষক অতিরিক্ত ফলন পাওয়ার আশা করছেন। ধান গুলো  জিংক সম্মৃদ্ধ হওয়ায় পারিবারিক পুষ্টির চাহিদার পাশাপাশি  মেধাবী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।

জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোল্যা সিরাজুল ইসলামের ২১ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোল্যা সিরাজুল ইসলামের ২১ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ১০ এপ্রিল  সোমবার সকালে কবর জিয়ারত, দোয়া  মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের আয়োজনে সকাল ১০ টায় ডুমুরিয়া মোল্যা বাড়ি মোড়ে সালেহা মাকেটে এর দ্বিতল ভবনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্বে করেন উপজেল্ াযুবদলের আহবায়ক প্রভাষক মনজুর রশিদ। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্য মশিউর রহমানের পরিচালনায়  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েত ,বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল্লা হেল কাফি সখা, ওহিদুজ্জামান সোহাগ,  শেখ শাহিনুর রহমান , জাবির আলী, আরো বক্তব্য দেন যুবদল নেতা  বিল্লাল হোসেন শেখ ফরিদুল ইসলাম, মাষ্টার সোিলম হালদার, ফয়সাল চৌধুরী, পরিতোষ বালা, নিলতপাল নিলয়, মুক্তারুজ্জামান সবুর, খান জিয়াউর রহমান জীবন, খান আবুল কালাম আজাদ, শফিকুল ইসলাম,রাকিবুল হাসান, কৃষ্ণ বিশ্বাস, হাফিজুর রহমান,আরাফত হোসেন মিলন, কাজী জিয়াউর রহমান, জাকির হোসেন, আমিনুল ইসলাম, শাহাজান শেখ, মো: পারভেজ গাজী, খালিদ হাসান, মোল্যা আব্ররার হোসেন সৈকত, দোলোয়ার হোসেন. রবিউল ইসলাম, মোস্তুকিম শেখ, আব্দুর রহমান, রিপন শফিকুল, জাফরউল্লাহ মিঠু, আবুল কালাম,  তৌহিদুজ্জামান, তিতাত, ডালিম, আজিজুর গাজি, জোবায়ের মো: জিম গাজী , সবুজ গাজী , হাবিবুর রহমান, শাহিন ফকির, শেখ আনিচুর রহমান, মিঠু প্রমুখ।

খুলনার ডুমুরিয়ায় কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

খুলনার  ডুমুরিয়া  উপজেলার তেল জাতিয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্পের আওতায় বারি সরিষা -১৪ জাতের উপর কৃষক মাঠ দিবস আনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের আয়োজনে  ১০ এপ্রিল  সোমবার সকালে খর্নিয়ার টিপনার ভিলেজ মাকের্টের পিছনে অনুষ্ঠিত কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে  এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা  কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খামারবাড়ি খুলনার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন তেল জাতিয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার এ এইচ জাহাঙ্গীর আলম,কৃষি দপ্তর খুলনার অতিরিক্ত উপ পরিচালক( শস্য) কৃষিবিদ মো: মোচ্ছাদেক হোসেন, বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মো: ওয়ালিদ হোসেন, ,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: ইকবল হোসেন, কৃষক নিজাম শেখ, প্রমুখ  মাঠ দিবসে ৭০ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন । পরে অতিথিবৃন্দ মাঠ দিবস অনুষ্ঠান শেষে ইউপি সদস‍্য মহাসিন শেখের  প্রদর্শনী ধান  ক্ষেত্রের নমুনা কর্তন করেন ।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল ডুমুরিয়া উপজেলা কমান্ডারের নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল  ডুমুরিয়া উপজেলা কমান্ডারের ২০২২-২৩ মেয়াদে নির্বাচনে কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার সহ ১১টি পদের বিপরীতে  ৯ এপ্রিল রবিবার মনোনয়ন পত্র গ্রহণের শেষ দিনে ২৬জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

নির্বাচনের রিটার্ণিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০মে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডুমুরিয়া উপজেলা কমান্ডের ১ জন করে কমান্ডার,ডেপুটি কমান্ডার, ৭জন সহকারি কমান্ডার এবং ২ জন সদস্য পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে মনোনয়ন পত্র বিতরণ করা হয়। মনোনয়ন পত্র গ্রহণের শেষ দিনে কমান্ডার পদে যুদ্ধোকালীন বীর  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম মানিক এবং সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দ্র কান্ত তরফদার,ডেপুটি কমান্ডার পদে দিলীপ কুমার রায় ও মোঃ মোবারক আলী,সহকারি কমান্ডার সুধাংশু শেখর ফৌজদার, বিভাষ চন্দ্র বৈরাগী,নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস,রবীন্দ্র নাথ বৈরাগী, মোঃ মাহাবুর রহমান, শেখ আবুল কালাম মহিউদ্দীন ও ভোলানাথ মল্লিক এবং নির্বাহী সদস্য পদে বিকাশ চন্দ্র রায়,চিত্ত রঞ্জন মন্ডল,মোঃ আলতাপ হোসেন, এফ,এম নুরুন্নবী চৌধুরী,শেখ ফিরোজ রহমান,দীনেশ চন্দ্র ভদ্র,কুমুদ রঞ্জন মল্লিক,বিকাশ চন্দ্র বাগচি,নারায়ন চন্দ্র ভদ্র,আব্দুল খালেক মোড়ল,ক্ষীরোদ চন্দ্র বৈরাগী,অন্নদা কবিরাজ,অশোক কুমার ফৌজদার,মিহির কুমার বাছাড় ও নৃপেন বিশ্বাস মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

আগামী ১০ এপ্রিল সোমবার মনোনয়ন পত্র জমা, ১১এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই,১৩ এপ্রিল মনোনয়ন পত্র বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল, আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১৬ এপ্রিল, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ এপ্রিল চুড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ১৮ এপ্রিল,২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দ এবং আগামী ২০ মে শনিবার ভোট গ্ৰহনের দিন ধার্য করা হয়েছে । নির্বাচনে ৬০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে।

 

 

ডুমুরিয়ায় শক্তি ফাউন্ডেশন এর  ৩১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সবুজায়ন কর্মসূচী পালন

।। জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা।।
 বেসরকারি জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান শক্তি ফাউন্ডেশন(এনজিও) বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান।  ১লা এপ্রিল ২০২৩ তারিখে ৩১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে  সংস্থার কর্ম এলাকায় ৫৫টি জেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয। । তারই লক্ষে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া শাখা অফিসের মাধ্যমে   জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে ৮ এপ্রিল শনিবার   ডুমুরিয়া  উপজেলা পরিষদ চত্বরে  ৫০  টি ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে।  এসকল কর্মসূচিতে  উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান,  শক্তি ফাউন্ডেশন এর ফাইন্যান্স ডিরেক্টর  আসাদুজ্জামান, খুলনার  রিজিওনাল হেড  মো: জামাল হোসেন , ফাইন্যান্স সুপারভাইজার   প্রতুল কুমার মণ্ডল , এরিয়া সুপারভাইজার  মো: শাহিনুল ইসলাম (শাহিন) ,  শক্তি ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ । উল্লেখ্য
১৯৯২ সনে প্রতিষ্ঠিত শক্তি ফাউন্ডেশন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো (প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়) এবং যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধনকৃত। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে ৫০৪ টি শাখা অফিস ও ৮৭ টি শক্তি মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে উপযুক্ত ঋণ দানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
 প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শক্তি ফাউন্ডেশন গ্রিন ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে এপ্রিল মাসের মধ্যে ৫৫টি জেলাতে ৩,১০০ টি বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে ও অন্যকে উদ্ভুদ্ধকরনের কাজে আসবে অন্যদিকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

ডুমুরিয়ায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ‍্য সেবা অধিকার  বিষয়ে কিশোর কিশোরীদের মাসিক ইয়ুথ আড্ডা অনুষ্ঠিত

/জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা//
ডুমুরিয়ায় ব্র‍্যাকের অধিকার এখানে এখন  ২ এর আয়োজনে বুধবার সকালে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ‍্য সেবা অধিকার  বিষয়ে গুটুদিয়া ৩নং  ইয়ুথ গ্রুফের উদ‍্যেগে কিশোর কিশোরীদের দ্বি মাসিক ইয়ুথ আড্ডা অনুষ্ঠিত হযেছে।
ইউনিসেভ এর রির্সোস পারসন মো: খররম হোসেন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি উপস্থিত কিশোর কিশোরীদের বয়স সন্ধিকালে বিভিন্ন সমস‍্যা পরিবর্তন মাদক, বাল‍্য বিবাহ সহ সমাজিক বিষয়ে আলোচনা করেন  এসময উপস্থিত  ছিলেন ব্র‍্যাকের এখন প্রক্লপের শিখা রানী।

ডুমুরিয়ায় গৃহবধূ মুন্নী’র মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

খুলনার ডুমুরিয়ায় নার্গিস ক্লিনিকের ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূ মুন্নী’র মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৪  এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে ডুমুরিয়া বাসষ্টান্ড চত্বরে ঘন্টা ব‍্যাপী এলাকাবাসীর  উদ‍্যেগে এক মানববন্ধন পালিত হয়েছে।  এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন,  ইউপি সদস্য এফ এম আমজাদ হোসেন। বক্তৃতা করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ইকবাল হোসেন, খান নজরুল ইসলাম, শেখ জাকির হুসাইন, হেলেনা পারভীন, শেখ আরিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, হালিম শেখ, মোহাম্মদ আলী খান। মানবনন্ধনে বক্তারা বলেন, মুন্নী বেগম গর্ভবতী ছিলেন। পেটের ব্যাথায় ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিল। কোন পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই এ্যাপানটিস অপারেশনের সময় খাদ্যনালীও কেটে ফেলা হয়। পরে তাকে ভুল চিকিৎসাও দেয়া হয়। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মানববন্ধনে মুন্নীর ৬ বছরের পূত্র সন্তান সাদিকের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

উল্লেখ্য গত ১৭ ফেরুয়ারি খলশীর খাজুরা এলাকার রফিক খানের স্ত্রী মুন্নী বেগম এ্যাপানটিস অপারেশনের জন্য ডুমুরিয়া নার্গিস ক্লিনিকে ভর্তি হয়। ডাক্তার শেখ সুফিয়ান রুস্তম এসে রোগি দেখে ওইদিন অপারেশন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু ক্লিনিক মালিকের পিড়াপিড়িতে ডাক্তার অপারেশন করেন। পরবর্তীতে অপারেশনের স্থানে আস্তে আস্তে বচন ধরতে থাকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বেশকিছুদিন রেখে একটু পচন কমলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে পচনের মাত্রা বেড়ে যায়। ১০ মার্চ শুক্রবার রোগির প্রচন্ড খিচুনি হয় পরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে রোগির স্বজনরা তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ১১ মার্চ শনিবার সকালে তাকে ফুলবাড়ি গেট মিরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা। এর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।