রামপালে বাখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীর উপর হামলা

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে বখাটেদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী (১৬) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কিশোরী ভিকটিমের মাতা পেয়ারা বেগম। রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার পুটিমারী (সিংগড়বুনিয়া) গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে সোমবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় পেড়িখালী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বেড়াতে যায়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলা কালে ওই কিশোরী মাঠের দক্ষিণ পাশে খাবারের দোকানে খাবার কিনতে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে পেড়িখালী গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের ছেলে তৌকিম হাওলাদার, রিপন শেখের ছেলে ফাহাদ শেখ, ইমরানের ছেলে ইকরামুল, মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু সাইদ, নোয়াব আলীর ছেলে শফিক শেখ, শাহাদাত মোড়লের ছেলে নাইম মোড়ল, সিকিরডাঙ্গা গ্রামের জাকির মোল্লার ছেলে তৌফিক মোল্লাসহ অজ্ঞাত আসামীরা ভিকটিমের পথরোধ করে। তারা তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার চুলের মুঠি টেনে ধরে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাথি মারে। এক পর্যায়ে তারা তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে ওই কিশোরী হাত দিয়ে ঠেকায়। পরে তারা তার হাতে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে আহত করে। খবর পেয়ে অনুষ্ঠানে থাকা তার মা পেয়ারা বেগম ছুটে এসে মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তার মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

ভিকটিমের মা ও তার মেয়ে অভিযোগ করে জানান, ভিকটিম কে দীর্ঘ দিন ধরে তৌকিমসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা কুপ্রস্তাবে দিয়ে আসছে। এতে বাঁধা দিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাদের কথায় রাজি না হলে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে মুখের চেহারা পাল্টে ফেলার হুমকি দেয়। এ জন্য তারা পথে ঘাটে গতিরোধ করে ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। এ পর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যায় ফাঁকা পেয়ে ভিকটিমের উপর হামলে পড়ে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে কারণে তারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগের লিখিত কপি পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কারো কথামতো কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার; প্রতিবাদে মানববন্ধন

এম মুরশীদ আলী :

খুলনা-৪ আসন থেকে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, নৈহাটীর কৃতি সন্তান আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিবাদে মানববন্ধন গত ৫ মার্চ সকাল ১১ টায় রূপসা উপজেলা পরিষদের সামনে উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য ফ.ম আঃ সালাম। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের আদর্শ এবং সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এবং খুলনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীকে হেয়প্রতিপন্ন বিদ্রুপ বিষেদাগার করার প্রতিবাদে, মো. কামাল উদ্দিন বাদশা কে রূপসার সর্বসাধারণ ও আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা প্রতিহত করার জন্য রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু।

টিএসবি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দীন শেখের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ হালদারের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন- সাবেক জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আঃ মজিদ ফকির, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মোল্যা, সৈয়দ মোর্শেদুল আলম বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: শ্যামল দাস, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইমদাদুল ইসলাম, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. মোতালেব হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গাজী মোহম্মাদ আলী জিন্নাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামীলীগ নেতা শেখ জমির হোসেন, আলমগীর মল্লিক, আসাদ বাবু, মনিরুজ্জামান পিলু, টিএসবি ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ আওরঙ্গজেব স্বর্ন, রূপসা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রুহুল আমিন রবি, উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহবায়ক শেখ মো. আবু তাহের, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী ফাতেমা ইয়াসমিন বুলু, ইউপি সদস্য ইন্তাজ মোল্যা, কামাল শেখ, উৎপল কুমার দত্ত, আয়ূব আলী খান, নজরুল ভূইয়া, আমজাদ হোসেন, জুলফিকার আলী, রূপসা উপজেলা যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান সোহেল, সফিকুর রহমান ইমন, মোস্তাফিজুর রহমান হেলাল, জ্যাকি ইসলাম সজল, টিএসবি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক খায়রুজ্জামান সজল, রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম কাজল, নাজমুল হুদা অঞ্জন, কৃষকলীগ নেতা রহমত আলী শেখ, ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস, আজিজুল মোল্যা, অরুপ কুন্ডু, ইমরাজ হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ সজল, আসমানি বেগম, জাকির খান, উর্মিলা রায়, তৌহিদ কাজি, নাহিদ হাসান, রিপন শেখ, জুয়েল শেখ সাদ্দাম, সন্দীপ হালদার, পীযূষ হালদার, বিক্রম হালদার, কমলেশ রায়, খাইরুল শেখ,চুন্নু, নিলয় হালদার, রফি শেখ, সাব্বির শেখ, খলিল শেখ, হাসান, তোতন, মমতাজ, সনিয়া, ফাতেমা বেগম, লাইজু বেগম, মারুফ খান, সেলিম শেখ, ইউসুফ শেখ, দীপ খান, হাসান মল্লিক, আয়ূব খান প্রমূখ।

রূপসায় বিদ্যুৎ স্পর্শে মৃত্যু-১

//এম মুরশীদ আলী //

রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন, বাধাল গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার হিরঙ্গীর হোসেন মোড়লের ছেলে মো. নাঈমুল ইসলাম মোড়ল (২৮) বিদ্যুৎ স্পর্শে মৃত্যু হয়েছে।

পরিবার থেকে জানা যায়- গত ৩ মার্চ সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে খুলনা জিরোপয়েন্ট এলাকায় পায়েলিং এর কাজে যায় নাঈমুল ইসলাম মোড়ল। সেখানে ড্রিল মেশিনের ফ্লাগ অসাবধানতা বশত বৈদ্যুতিক সকেটে দেওয়ার সময়, ফ্লাগের একপিন সকেটে ঢুকে আর একপিন বাইরে থাকে হাতে স্পর্শ হয়ে বিদ্যুতে শর্ট লাগে। ঐ সময় কাজে থাকা অন্য সহযোগীরা বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দ্রুত উদ্ধারপূর্বক পাশের একটি ক্লিনিকে নিলে তাঁরাও দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাঈমুল ইসলাম মোড়লের মৃত্যু হয়ে যায় বলে চাচা আলমগীর হোসেন মোড়ল জানান।

এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনের মধ্যে কান্নার আহাজারিতে হৃদয়-বিদারক শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

রূপসায় বিধবা নারীর বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছায়

//এম মুরশীদ আলী//

রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন ডোবা গ্রামের চর পাড়া এলাকায় মৃত বিকাশ সরদারের স্ত্রী (বিধবা) পুরোবী সরদার এর বাড়িতে আগুন লেগে বসত ঘরসহ সকল ব্যবহারিক মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়- গত ৩ মার্চ আনুমানিক সন্ধা ৭ টার দিকে বিদ্যুৎের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও সম্পূর্ণ ঘরটি ও ব্যবহারিক মালামাল পুড়ে ভষ্মীভূত হয়ে যায়। ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌছায়েও কোন রক্ষা হয় নাই। বিধবা পুরোবী সরদারের তিনটি ছেলে দিনমজুরি কাজ করেও লেখা পড়া অব্যহত রেখেছেন। এখন তাদের মাথা গুজার অবশিষ্ট রইলো না।

সাংবাদিক তালুকদার মাসুদ এর মৃত্যুতে বরগুনা জুড়ে বইছে শোকের মাতন

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি,বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইউপি সদস্য তালুকদার মাসুদচিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবার। সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসুদের অকাল মৃত্যুতে বরগুনা জুড়ে শোকের মাতম বইছে।

তিনি গত ১৯ ফেব্রুয়ারী ১১টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন। ঘটনার ১১ দিন পর শনিবার (০২ মার্চ) রাত ১১ টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তালুকদার মাসুদ।আহতাবস্থায় সাংবাদিক তালুকদার মাসুদকে জিম্মি করে বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। পরে প্রশাসনের সহায়তায় সাংবাদিক মাসুদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বরগুনা ফিরে আসেন সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসউদ। ০২ মার্চ আবার অসুস্থ্যতাবোধ করলে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তিনি আবার বরিশাল শের – ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসুদ সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের গোড়াপদ্মা গ্রামে মৃত আবদুল ওয়াহাব মাষ্টারের ছেলে। তিনি ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পরপর দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগে সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসুদ এক ভিডিও বার্তায় বলে গেছেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারী বরগুনা প্রেসক্লাবের ৩য় তলার অফিস-রুমে বসে এনটিভির জেলা প্রতিনিধি সোহেল হাফিজের নেতৃত্বে দৈনিক ভোরের আকাশের জেলা প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার, এনটিভির ক্যামেরা পার্সন আরিফুল ইসলাম মুরাদসহ বেশ কয়েকজন মিলে হামলা চালিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখে তাকে। ভিডিও বার্তায় তার বুকে ঘুষি ও লাথি মারার কথা বলেছিলেন সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসুদ।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ০২ মার্চ বৈঠকের কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী) অসুস্থ্য সাংবাদিক তালুকদার মো: মাসউদকে ১নং আসামী করে সাংবাদিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বরগুনা দ্রুত বিচার আইনে প্রেসক্লাবের পক্ষে একটি মামলা দায়ের করেন সাধারণ সম্পাদক জাফর হাওলাদার। তবে ০৩ মার্চ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করলে মামলার সকল আসামীকেই জামিনে মুক্তি দিয়েছে আদালত।

বাগেরহাটের কচুয়ায় প্রতিপক্ষে হামলায় মহিলাসহ আহত-৫

//শুভঙ্কর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

কচুয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা। প্রতিপক্ষের হামলায় মহিলাসহ আহত ৫ জন। বৃহস্পতিবার দুপুরে পানবাড়িয়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।

জানাগেছে, উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের মৃত অজিত কুমার সেনের পুত্র কৃষ্ণপদ সেন  জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মৃত গনি খানের পুত্র হাসান খান,ওবায়দুল খানের বিরুদ্ধে বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রিট আদালতে ১৪৪ ধারায় মিস-২৫১/২৩ একটি মামলা করে ওই মামলায় উভয় পক্ষকে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় গ্রহনের পরামর্শ দেয়।

আদালতের এ আদেশ উপেক্ষা করে হাসান খান, ওবায়দুল খান ও হোসেন খান সহ ১০/১২ জন জমি দখলের উদ্যেশ্যে কৃষ্ণপদ সেনের বাড়িতে হামলাকরে করে এতে কৃষ্ণপদ সেন(৬৮), দেব সেন(৩০) স্ত্রী পূজা মন্ডল(২৩), বলাই সেনের স্ত্রী পুটু সেন (৪০),শ্যামাপদ সেনের স্ত্রী পুস্প রানী সেন(৫৫) গুরু তর আহত হয়। আহতদের কচুয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

রামপালে সাংবাদিক তুহিনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে দূর্ধর্ষ চুরি

জেনিভি প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিক তুহিন মোল্লার মেসার্স মোল্লা তাসনিম পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিড নামের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটছে। বুধবার রাতের কোন এক সময় সিধ কেটে অজ্ঞাতনামা চোরের নগদ টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক তুহিন মোল্লা রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে,  উপজেলার রোমজাইপুর গ্রামের মোল্লা লিয়াকত হোসেনের ছেলে প্রেসক্লাব রামপাল এর সদস্য তুহিন মোল্লা তার বাজারে একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। বুধবার রাতের কোন এক সময় ফ্লোরের ইট খুলে সিধঁ কেটে অজ্ঞাত পরিচয়ের চোরের ঘরে ঢোকে। ওই সময় তারা নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা, জমির একটি পিট দলিল, ৪ টি এসএ পর্চা, ২ টি প্রিন্ট পর্চা, জাতীয় পরিচয় পত্র, ২ টি টালি খাতা, ১ টি লেজার খাতা, ১ টি ট্রেড লাইসেন্স, অন্যের স্বাক্ষরিত ৪ টা ব্যাংক চেক ও ১০ টি স্টাম্পসহ অতিব গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। এতে তার বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন তিনি। এ বিষয়ে রামপাল থানার এসআই পীযুষ কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগের কপি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রাজধানীর বেইলি রোডে  বহুতল একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানোর পর হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

গতকাল রাতে বেইলি রোডের যে ভবনে আগুন লেগেছে, সেটি সাততলা। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া ওপরের তলাগুলোতেও রয়েছে খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে ভবনের সপ্তম তলা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনতে থাকেন তাঁরা।

ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত দুইটার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৮ জন বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং ১৪ জন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান। তাঁদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

এর আধা ঘণ্টা পর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালেও একজনের মরদেহ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু হয়েছে। হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ছিল। এরপর ভবনে তল্লাশি চালিয়ে অচেতন অবস্থায় অনেককে বের করে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের একটি ফ্রিজার ভ্যানে বেশ কয়েকজনকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

রাত সোয়া একটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ভবন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অচেতন অবস্থায় ৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। যাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, তাঁদের মধ্যে ২১ জন নারী ও ৪ শিশু রয়েছে। এর বাইরে ১৫ জন নারীসহ ৭৫ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া অন্য সব তলায় রেস্তোরাঁ ছিল। এসব রেস্তোরাঁয় অনেক গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, এ ঘটনায় যাঁরা হতাহত হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন। তাঁদের শরীরে পোড়ার ক্ষত তেমনটা দেখা যায়নি।

ভবনে উদ্ধারকাজে যুক্ত ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী সাংবাদিকদের বলেন, ভবনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সিঁড়িতে বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার ছিল। সেগুলোতে আগুন ধরে যাওয়ায় লোকজন বের হতে পারেননি।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে র্যাব-৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ওই ভবনের নিচতলায় একটি কফির দোকান রয়েছে। সেখানে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন।

বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।

তদন্ত কমিটি

এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ওই ভবনে আর কোনো মৃতদেহ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আজ সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আরেকবার তল্লাশি চালাবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। সেখানে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের একজন সহকর্মীর কন্যা মারা গেছেন। পুলিশ হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। দোয়া করবেন যে ৭৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের জীবন যেন রক্ষা পায়।’

ঢাকা মেডিকেলে মর্মান্তিক দৃশ্য

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ আগুনে নিহত ৪৩- হস্তান্তর ৩৮

ভবন থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রাত একটার পর সেখানে এক মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায়। একের পর এক অ্যাম্বুলেন্সে হতাহত ব্যক্তিদের সেখানে আনা হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীদের নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই যেন নির্বিঘ্নে হাসপাতালে প্রবেশ করানো যায়, সে জন্য জরুরি বিভাগের ফটকে ট্রলি প্রস্তুত রাখা হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে আহত ব্যক্তিদের বের করে নেওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণকক্ষে। কক্ষের বাইরে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

আগুন লাগার পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা বেশির ভাগই হাত-পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। আহত দ্বীন ইসলাম (২৮) ভবনের সপ্তম তলার একটি রেস্তোরাঁর বাবুর্চি। তিনি জানান, আগুন লাগার পর ইন্টারনেটের তার বেয়ে নিচে নামতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার ছিঁড়ে পড়ে গিয়ে আহত হন তিনি। আহত আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন জুয়েল (৩০), জোবায়ের (২০), আরিফ (২০), ইকবাল (৩৫), উজ্জ্বল সরদার (২৩), রাকিব (২৫), শাকিল (২২), ওমর ফারুক (৪৩), সিজান (২৫), রাসেল (৩৫) ও ইমরান (১৪)।

Daily World News

তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

১৩৪ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেফতার মালয়েশিয়ায়

সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিলেন পুলিশ : প্রতিবাদে রাজপথে সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির ছবি ও ভিডিও করায় সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এএসআই মোর্শেদুলের বিরুদ্ধে। এমনকি এ সময় ওই সাংবাদিককে অকট্য ভাষায় গালিগালাজসহ লাঞ্চিত করা হয়।

এঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার এসএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। এর আগে দুপুর ১টার দিকে হাতীবান্ধা থানার ভিতরে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযুক্ত মোর্শেদুল হাতীবান্ধা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। ভুক্তভোগি সাংবাদিক হলেন, দৈনিক ডেল্টা টাইমস এর হাতীবান্ধা প্রতিনিধি মাজারুল ইসলাম রিফাত।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ এলাকা থেকে আনোয়ারা বেগম নামের এক নারী মাদককারবারিকে ৭ বোতল ফেনিসিডিলসহ আটক করে পুলিশ।

পরে তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় একটি মামলা দায়েরের পর বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট আদালতে নেয়ার জন্য থানা থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময় ছবি ও ভিডিও নিচ্ছিলেন সাংবাদিক রিফাত। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য তেড়ে এসে তার ক্যামেরা কেড়ে নেন। শুধু ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ক্ষ্যান্ত হননি। ওই সাংবাদিককে অকট্য ভাষায় গালিগালাজসহ লাঞ্চিত করেন।

এদিকে এমন খবরে ক্ষোভ দেখা দেয় উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক মহলে। তাৎক্ষনিক ওই পুলিশ সদস্যের বিচার ও প্রত্যাহারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে হাতীবান্ধা থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা এসে সাংবাদিক নেতাদের সাথে কথা বলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ থেকে সরে যান।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাজারুল ইসলাম রিফাত বলেন, হাতীবান্ধা থানা থেকে একজন নারী মাদক কারবারিকে আদালতের পাঠানোর চিত্র ধারণ করতে গেলে ওই পুলিশের এএসআই এসে বাধা দেয়। পরে ক্যামেরা কেড়ে নেয়। এরপর আমাকে অকট্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি থানার ভিতরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বলেন, সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়ার অধিকার পুলিশ রাখে না। আমরা সাংবাদিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এছাড়া জেলা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে প্রত্যাহারের দাবি করছি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি তদন্ত নির্মল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, ওসি স্যার সহ অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলাম। পরে বিষয়টি শুনেছি, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ওই পুলিশের এএসআই’র বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী পৌর নির্বাচন ঘিরে চলছে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, সংঘর্ষের আশংকায় পৌরবাসী!

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আগামী ৯ই মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বরগুনার আমতলী পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চলছে জমজমাট প্রচারনা।

বেলা ২টার পর থেকেই প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দে নানা সুরের নির্বাচনী গান বাজিয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরগরম থাকে পৌরসভার পাড়া মহল্লার প্রতিটি ওলি-গলি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যে যার মত ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থীরা। পৌর শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ছোট ছোট দোকানগুলোর চায়ের আড্ডায় নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলছেন সাধারণ ভোটাররা, প্রশংসায় গাইছেন নিজ নিজ প্রার্থীর গুণগান।বলতে গেলে নির্বাচনকে ঘিরে বইছে উৎসবের আমেজ।

একদিকে উৎসবের আমেজ চললেও তা যেকোনো সময়ে বিষাদে রুপ নিতে পারে সংঘাত ও সংঘর্ষে। বহিরাগতদের আনাগোনা ও গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে এমনটিই মনে করছেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের দাপটে ভোটারদের শঙ্কিত থাকতে হয় বলে অভিযোগ করেন আমতলী পৌরসভার মেয়র ও মোবাইল প্রতিকের প্রার্থী মতিয়ার রহমান।তিনি বলেন নির্বাচনকে ঘিরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাজমুল আহসান নান্নু পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতদের জড়ো করছেন।

তিনি আরও বলেন,তফসিল ঘোষণার পরে আমি নিয়মনীতি মেনেই আমি আমার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। প্রতিক বরাদ্দের পরে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী নাজমুল আহসান খান নান্নু বরগুনা, পার্শ্ববর্তী চাকামাইয়াসহ বিভিন্ন এলাকার বহিরাগত লোকজন এনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অপর প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাঙ্গার প্রতিকের প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র নাজমুল আহসান খান নান্নু প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে  পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার ব্যানার হাতে নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজের লোকজন দিয়ে এসব করায়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,মেয়র মতিয়ার রহমান বিভিন্ন ওয়ার্ডের নারীদের নিজ বাসায় জড়ো করে দেদারসে টাকা দিচ্ছেন এ ব্যাপারে তিনিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমুহকে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানান।

এসব বিষয়ে আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল হাই আল হাদী বলেন,বিষয়টি আমরাও শুনেছি,কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাদের লোকজন নিয়ে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাদেরকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে বলা হয়েছে। আমতলী পৌরসভা নির্বাচনের মাঠ পর্যবেক্ষণের জন্য তিনজন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহনের ৭২ঘন্টা আগে সকল বহিরাগতদের মাইকিং করে নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে বলা হবে।

আমতলী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নয়জন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করলেও বর্তমান মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান,সহ-সভাপতি নাজমুল আহসান নান্নু,জিল্লুর রহমান ছাড়া আর কোন প্রার্থীর কোন প্রচারণা চোখে পড়েনি।

অপরদিকে ৯টি ওয়ার্ডে (পুরুষ) ৩৬ জন কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। নারী কাউন্সিল পদে ০৯ জন প্রার্থী হয়ে লড়ছেন।আগামী ৯ই মার্চ আমতলী পৌর নির্বাচনে ১৫ হাজার ৮ ’শ ৩৯ ভোটার তাদের ভোটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন।