৫৫ তলা একটি আবাসিক ভবন বেয়ে উঠেছেন ‘খালি হাতে’

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

‘খালি হাতে’ ৫৫ তলা একটি আবাসিক ভবন বেয়ে উঠেছেন ঊনত্রিশ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। এজন্য তিনি কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করেননি। পরে পুলিশ তাকে ভবনের ওপর থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে এ ঘটনা ঘটে। ভবন বেয়ে ওঠা ওই ব্যক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিউরি শহরের বাসিন্দা।

ওই ব্যক্তির খালি হাতে ১৬৩ মিটার উঁচু ভবনটি বেয়ে ওঠার দৃশ্য আরেকজন ভিডিওতে ধারণ করেছেন। এজন্য ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

পুলিশ দুজনকেই এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তিনি ৫০ মিনিটে ভবনটি বেয়ে ওপরে ওঠেন।

পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৬০ এ’ বেকেট সড়কের পাশ দিয়ে ভবনটিতে উঠতে দেখা যায়। এ সময় তার কাছে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল বলে দেখা যায়নি। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি ভবনের ওপর পৌঁছে যান। পরে তাকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়।

তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ এ ঘটনার দৃশ্য ড্রোন দিয়ে ধারণ করা ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলছে। তবে মেলবোর্ন রেডিও স্টেশন থ্রি-এডব্লিউ জানিয়েছে, ভবনে বেয়ে ওঠার সময় ওই ব্যক্তির পেছনে একটি ব্যাগ (ব্যাকপ্যাক) ছিল।

ট্রেন্ট নামের এক ব্যবসায়ী রেডিও স্টেশনটিতে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ ভবনের উপরে অপেক্ষা করছিল। ওই ব্যক্তিকে দেখার জন্য বেশ ভিড় জমে গিয়েছিল।

থ্রি-এডব্লিউকে তিনি বলেন, আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা বারান্দা দিয়ে ওপরে তাকিয়ে দেখছিলেন। ঘটনাটি তারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ তারা যখন নাস্তা খাচ্ছিলেন সেই সময় একজন তাদের জানালা বেয়ে ওপরে উঠে গেছেন।

ট্রেন্ট আরও জানান, ওই ব্যক্তি ভবনের উপর পৌঁছার পর নির্মাণ শ্রমিকরা হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

আমতলীর দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী জাহানারা ইসলাম পরিচালনাধীন এনবিএম অবৈধ ইটভাটায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এমন সংবাদের জের ধরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোটার আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার ও স্থানীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসাইন আলী কাজীর বিরুদ্ধে  মানহানি মামলা করা হয়েছে। সোমবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইটভাটার ম্যানেজার নুর উদ্দিন বয়াতি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলা দায়েরের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের স্ত্রীর অবৈধ ইটভাটার ম্যানেজারের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন আমতলী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। এ মিথ্যা ও হয়রানী মুলক মামলা প্রত্যাহার না করলে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দিয়েছেন।

জানাগেছে,আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ও লোকালয়ে ২০১৩ সালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের স্ত্রী জাহানারা ইসলাম এনবিএম নামের একটি ইটভাটা নির্মাণ করেন। ওই ইটভাটা সংলগ্ন পশ্চিম পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ওই বাঁধের কান্টি সাইটের  মাটি কেটে ভাটার ম্যানেজার নুর উদ্দিন বয়াতি ও তার লোকজন ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক জ্বলোচ্ছাসে বাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে ওই ইউনিয়নের ফসলী জমি, প্রাণীকুল ও অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্যোগের ঝুঁকিতে পড়বে।

এছাড়াও ওই ইটভাটা সংলগ্ন তিনপাশে গ্রাম ও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই ইটভাটার ধোয়ায় পরিবেশ চরম আকারে বিঘ্নিত হচ্ছে। ধোয়ায় এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা শাস কষ্ট, হাপানি রোগে ভুগছেন। কিন্তু ইটভাটার মালিক জাহানারা ইসলাম, ম্যানেজার প্রভাবশালী নুর উদ্দিন বয়াতি ও তার লোকজনের কারনে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। দ্রæত এর বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গত ৩১ জানুয়ারী ওই ইটভাটা নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে তার অবৈধ ইটভাটা রক্ষায় উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ওই ইটভাটার ম্যানেজার নুর উদ্দিন বয়াতি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোটার আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার ও স্থানীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ হোসাইন আলী কাজীর বিরুদ্ধে সোমবার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানীমুলক মিথ্যা মানহানী মামলা দায়ের করেছে।

এ মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলা দায়েরের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দ্রæত এ মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম ওসমানী হাসান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান,উপজেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শাহাজাদা আকন,কাউন্সিলর পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জিএম মুছা,বরগুনা প্রেসক্লাব সভাপতি  অ্যাড. মোস্তফা কাদের, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর হাওলাদার,বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ সভাপতি সাইফুল্লাহ নাসির,বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ইমরান টিটু,সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফসল,বরগুনা রিপোর্টাস গিল্ড সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ রিংকু,বরগুনা রিপোর্টাস ক্লাব সভাপতি তরিকুল ইসলাম রতন,সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান মিরাজ, বে-সরকারী স্যাটেলাইট চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর বরগুনা প্রতিনিধি সুমন সিকদার,দৈনিক প্রথম আলো বরগুনা প্রতিনিধি মোহাম্মদ রফিক,কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নুসরাত জাহান লিমু,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা,উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল মতিন খাঁন,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ,আমতলী প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাড.শাহাবুদ্দিন পান্না,সাবেক সভাপতি একেএম খায়রুল বাশার বুলবুল, রেজাউল করিম বাদল,সাধারণ  সম্পাদক সৈয়দ নুহু-উল আলম নবীন,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম নাশির মাহমুদ,মনিরুজ্জামান সুমন আকন,আমতলী অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি খান মোঃ সাইফ উদ দৌলা শাওন,সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র দাস, আমতলী স্বর্ণকার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরিতোষ কর্মকার, তালতলী প্রেসক্লাব সভাপতি খায়রুল ইসলাম আকাশ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বেতাগী প্রেসক্লাব সভাপতি ম্বপন ঢালী,তালতলী সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি নাশির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক হাইরাজ মাঝি প্রমুখ।এ মিথ্যা ও হয়রানী মুলক মামলা প্রত্যাহার না করলে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারী দিয়েছেন।

মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৪ জন জখম, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানাবাবন্ধন

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি মৎস্য ঘেরে বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনার প্রতিবাদে বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন।

শনিবার বিকাল ৫টায় তেলিগাতী ইউনিয়নের কালুরহাট বাজারে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভে দুই গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।

মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৪ জন জখম, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানাবাবন্ধন

শুক্রবার সকালে চোমড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ৮ বিঘা জমির মৎস্য ঘেরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পার্শ্ববতী কচুয়া উপজেলার আঠারো গাতী গ্রামের হানিফ ওরফে ছাদুর নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক মাছ ধরে নেয়। এ সময় তাদেরকে বাঁধা দিলে ঘের মালিক সহ কয়েকজনকে হামলা চালালে এদের মধ্যে থেকে গুরুত্বর জখমী ৩ জনকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোরেলগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৪ জন জখম, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মানাবাবন্ধন

এ ঘটনায় মতিয়ার শেখের ভাইপো আল আমিন শেখ বাদি হয়ে শুক্রবার মোরেলগঞ্জ থানায় হানিফ ওরফে ছাদুকে প্রধান প্রতিপক্ষ করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, প্রকাশ্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি।

মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) হেফাজতে আছে।

বিজিবির একটি সূত্র আজ রোববার বিষয়টি  নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে গতকাল শনিবার রাতে শুরু হওয়া গোলাগুলি আজ দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলছিল। বিরামহীন গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকার শত শত পরিবার যে যেদিকে পারছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে তুমব্রুতে একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাইশফাঁড়ি সীমান্তে এক ব্যক্তির বাড়িতে গোলা এসে পড়ে আগুন ধরেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির কয়েক জনপ্রতিনিধি জানান, যে এলাকা থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে, সেখানে বিজিপির তুমব্রু রাইট ক্যাম্প এবং ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি অবস্থিত। এ দুই স্থাপনা ছাড়া আশপাশের প্রায় ৪৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিপির বাকি সব চৌকি আরাকান আর্মি এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে। বাকি দুটি স্থাপনা দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে আরাকান আর্মির হামলা চলছে।

তুমব্রু এলাকার একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারে বিজিপির তুমব্রু রাইট ক্যাম্পের বিপরীতে পশ্চিম পাশে তাঁদের বাড়ি। দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওই ক্যাম্পে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন থেকে তাঁরা পাড়ার শতাধিক পরিবার বাড়ি ছেড়ে যে যেদিকে পারেন পাহাড়ের খাদে, গর্ত তৈরি করে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টায়ও গোলাগুলি চলছে। একইভাবে কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া, বাইশফাঁড়ি এলাকার লোকজনও নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। পুরো এলাকার মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার বলেন, গতকাল বিকেলে গোলাগুলি শুরু হলেও চারটার দিকে বন্ধ হয়েছিল। আবার রাত তিনটার দিকে মুহুর্মুহু গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। রাতে বাইশফাঁড়ি সীমান্তে একটি গোলা এসে প্রবাসী নুরুল কবীরের বাড়িতে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় বাড়ির কেউ হতাহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ভোরে তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৪ থেকে ১৫ সদস্য বিজিবির তুমব্রু ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নেওয়ার কথা তিনিও শুনেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা বলেছেন, ঘুমধুম সীমান্তের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সবাই নিরাপদে আশ্রয়ে থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এই বিদ্যালয়গুলো আগে থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, সীমান্তের গোলাগুলির ঘটনায় ঘুমধুম সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের লোকজনকে সতর্ক ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বলা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কিছু সদস্য আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে শোনা যাচ্ছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে এখনো বলা যাচ্ছে না।

Daily World News

রামপালে র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটক-১

সিরাজগঞ্জের পর এবার নীলফামারীতে এক ঘরে তিনজনের মৃতদেহ- ঘটনাটি রহস্যজনক

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির বাইরে এসে ঢলে পড়েন আশিকুল হক মোল্লা (৪০)। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। পরে বাড়ির শয়নকক্ষে একটি বিছানায় তাঁর স্ত্রী তহুরা বেগম (৩০), দুই শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার (১১) ও যারিনের (৬) লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে তিনটি লাশের শরীরেই রক্ত বা কোনো জখমের চিহ্ন নেই।

ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলছে পুলিশ। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কেউই ঘটনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারছেন না। আশিকুল হক তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, নাকি অন্য কেউ তাঁদের হত্যা করেছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। নিহত তিনজনের শরীরে জখমের চিহ্ন না থাকায় তাঁদের শ্বাসরোধে নাকি অন্য কোনোভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটিও নিশ্চিত নয়। আবার একই বিছানায় লাশ তিনটি পাশাপাশি রাখা নিয়ে পুরো হত্যাপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দাড়োয়ানী বন্দর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম আশিকুল হক মোল্লা ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আবদুর রউফ মোল্লার ছেলে। তিনি কাঠ ও আসবাবের ব্যবসা করেন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেন। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় লোকজন পরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় রংপুর সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছেন সিআইডি ক্রাইম সিনের সদস্যরা।

বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উৎসুক জনতার ভিড়। বাড়ির ভেতরে ও বাইরে ঘিরে রেখেছে র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাড়ির সামনে একটি করাতকল (স মিল) এবং ‘আয়েশা অ্যান্ড যারিন’ নামে একটি আসবাবের দোকান রয়েছে। এসব আশিকুলের বলে জানান স্থানীয় লোকজন। আশিকুল এলাকায় বাবু নামে পরিচিত। যে বাড়িটিতে তাঁরা থাকতেন, সেই বাড়িটির চারদিক দেয়ালঘেরা। বাড়ির একদিকের ঘরে তাঁরা থাকতেন, অন্য ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

বিকেল চারটার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেয়। এ সময় বিছানার পাশে সবজি কাটার রক্তাক্ত চাকু (কাটারি) উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই চাকু দিয়ে আশিকুল হকের গলা কাটা হয়েছে।

স্বজনেরা বলছেন, আশিকুল হক মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁর চাচাতো ভাই জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমার ধারণা মতে, সে মানসিক চাপের কারণে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে এভাবে হত্যা করতে পারে, এমনটাও মনে হচ্ছে না।’

আশিকুলের শাশুড়ি ও নিহত তহুরা বেগমের মা রাবেয়া বেগম (৫০) আহাজারি করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকেই মোবাইলে আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে বলেছে, তারা সবাই ভালো আছে। আজকে তাদের মৃত্যুর খবর পেলাম…।’

আশিকুলের ভাবি সাবিনা বেগম (৪০) বলেন, ‘ওই বাড়িতে তারাই (আশিকুলের পরিবার) থাকত। আর কেউ থাকে না। আমি শুনেছি, তাদের নাকি ব্যাংকে ঋণ আছে। এই নিয়ে নাকি তারা সমস্যায় ছিল।’

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভিরুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী সদর থানা-পুলিশের পাশাপাশি রংপুর ক্রাইম সিন টিম তদন্ত শুরু করেছে। লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গুরুতর জখম আশিকুল হক মোল্লা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি রহস্যজনক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু বলা সম্ভব না।

কচুয়া আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক আর নেই

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি//

উপজেলা আওয়ামীলীগের  সাধারন সম্পাদক ও গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  এস এম আবু বক্কর সিদ্দিক(৬১) মৃত্যুবরন করেছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার বেলা দেড়টায় ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরন করে। সে দির্ঘদিন হার্টের  সমস্যা ভুগছিলেন। মৃত্যুকানে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা ও এক স্ত্রী সহ অনেক গুনগ্রহী রেখে গেছেন। তিন দশকের অধিককাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সকাল ৯ টায় কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাকে রাখা হবে এরপর পরিষদ কার্যালয় তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন, সকাল ১১ টায় গোপালপুর শহীদ আসাদস্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, বাহেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময় সহ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠন, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন,গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ,কচুয়াা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সংগঠন।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা করা ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স কারা- ইরান বি জরিত…?

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ৩ জন সেনাকে হত্যা ও ৩৪ জনকে আহত করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। আক্রান্ত মার্কিন ঘাঁটিটি টাওয়ার ২২ হিসেবে পরিচিত। এটি ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। হামলার জন্য ইরান–সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ইরান এই হামলার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

 ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হটানোও তাদের লক্ষ্য।

ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়াদের তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই। সশস্ত্র এই গোষ্ঠী গাজায় ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের মতে, এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচয় স্পষ্ট নয়। ফলে কোনো হামলার পর দায় এড়ানোর সুযোগ পায় গোষ্ঠীর সদস্যরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি বলেছে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এখানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর অন্তত ২০টি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স।

গতকাল রোববার জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার পরে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, সিরিয়ার তিনটি স্থানে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইরাক, সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তের নিকটবর্তী দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে তাদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি গোষ্ঠীটি।

গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর অন্তত ২০টি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স।

তবে সব মিলিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের ওপর দেড় শতাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। গতকালের হামলার আগপর্যন্ত অন্তত ৭০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগেরই মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টাওয়ার ২২ কীঃ

টাওয়ার ২২ জর্ডানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। দেশটির উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এই টাওয়ারের এক পাশে ইরাক, অন্য পাশে সিরিয়া।

তবে এই ঘাঁটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। ঘাঁটিটি আল-তানফ সেনানিবাসের কাছাকাছি। সিরিয়া সীমান্তে অবস্থিত এসব সেনানিবাসে অল্পসংখ্যক মার্কিন সেনা থাকে।

টাওয়ার ২২ জর্ডানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। দেশটির উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এই টাওয়ারের একপাশে ইরাক, অন্য পাশে সিরিয়া।

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আল-তানফ। এ ছাড়া সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অংশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছে আল-তানফ ঘাঁটিটি।

টাওয়ার ২২ আল-তানফে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের কাছাকাছি। এটা এমনভাবে গড়ে তোলা হয় যেন প্রয়োজনে একে অন্যদের সহযোগিতা করতে পারে। ওই এলাকায় ইরান-সমর্থিত জঙ্গি দমনেও ভূমিকা রেখেছে টাওয়ার ২২। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে আইএসের অবশিষ্ট কেউ থাকলে তাদের নজরদারি করতে মার্কিন সেনাদের সাহায্য করছে ওই ঘাঁটিটি।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর জর্ডানে বিস্তৃত নজরদারি পদ্ধতি চালু করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে ওয়াশিংটন। সিরিয়া ও ইরাক থেকে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নেওয়া এই ব্যবস্থা বর্ডার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম নামে পরিচিত।

জর্ডানে শত শত মার্কিন প্রশিক্ষক রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব মিত্র বছরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে ব্যাপক মহড়া করে, সেগুলোর মধ্যে জর্ডান অন্যতম।

সীমান্তে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে গত বছর ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছিল আম্মান। এ ছাড়া সিরিয়া সীমান্তে শত শত বিলিয়ন ডলারের মাদক চোরাচালানবিরোধী লড়াইয়ে ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও সহায়তা চেয়েছে তারা। এই চোরাচালানের জন্য দক্ষিণ সিরিয়ায় শক্ত অবস্থানে থাকা ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করছে আম্মান।

আটলান্টিক কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, আইএসের অবশিষ্ট অনুসারীদের দমনের জন্য ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় ৯০০ মার্কিন সেনা রয়েছে।

তবে টাওয়ার ২২-এ কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, সেটি জানা যায়নি। এ ছাড়া তাদের কাছে কী ধরনের অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে এবং হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, সেটিও অজ্ঞাত। সূত্রঃ প্রথম আলো

Daily World News

সেতু নির্মাণে স্পেন প্রতিনিধি দলের সাথে সালাম মূর্শেদী এমপির বৈঠক

রামপালে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ কারবারি আটক

বিকাশ সরকারের ফ্যামিলিসহ হত্যা করল

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

মঙ্গলবার, বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা! সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারোয়ারি বটতলা এলাকার একটি ঘরে কয়েকজন নারী আহাজারি করছিলেন। তাঁদের ছোট ভাই বিকাশ সরকার, তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ের হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত তাঁরা। ‘একটা পরিবারকে নাই করে দিল’ বলে আহাজারি করছিলেন একজন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছিলেন আরেকজন।

 উপজেলা সদরের বারোয়ারি বটতলা এলাকার কালীচরণ সরকারের ছোট ছেলে, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের একমাত্র মেয়ে নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

নিজেদের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন বিকাশ সরকার। ওই ভবনের আরেক পাশে থাকতেন তাঁর বড় দাদা প্রকাশ সরকার। তাঁদের মা শান্তি রানী (৯২) ছেলেদের সঙ্গেই থাকেন।

বিকাশ সরকারের আত্মীয় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার একটি কলেজের শিক্ষক রমন বিশ্বাস বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটল, তা বুঝতে পারছি না।’ আরেক আত্মীয় স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী প্রীতম ভৌমিক বলেন, ‘এ খবর পেয়ে আমরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েছি।’ তাড়াশ বাজারে ব্যবসা করেন নিহত বিকাশ সরকারের ভাগনে মিঠুন সরকার। তিনি বলেন, ‘বাজারে একসময় মামার ওষুধের ব্যবসা ছিল। কয়েক বছর আগে সেই ব্যবসা বাদ দিয়ে পুকুর ও আবাদি জমি নিয়েই ছিলেন। সঙ্গে মন্দিরের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকতেন।’

গত শনিবার বিকাশ সরকার স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি মুঠোফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে চলে আসেন। এরপর তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি।

গত সোমবার রাতে উপজেলা সদরের বারোয়ারি বটতলা মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কালীচরণ সরকারের ছোট ছেলে বিকাশ সরকার (৪৫), তাঁর স্ত্রী স্বর্ণা রানী সরকার (৪০) ও মেয়ে তাড়াশ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পারমিতা সরকার (১৫)।

পারমিতা ক্লাসে ভালো ছাত্রী ছিল। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলী আহসান বলেন, গত বার্ষিক পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ক্লাসে ১১০ জনের মধ্যে তার রোল নম্বর ছিল ১২। কেন এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো তাকে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারীরা তাঁদের হত্যা করে ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে দিয়ে যায়। স্বজনেরা দুই দিন ধরে তাঁদের খোঁজ না পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তালা ভেঙে মেঝেতে ও বিছানায় তাঁদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

তাড়াশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরে আলম বলেন, মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্বজনদের ধারণা, রোববার রাত থেকে সোমবারের কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামিউল আলম বলেন, যেহেতু একটি পরিবারের তিনজনকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে মনে হয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় থাকতে পারে। ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।

কচুয়ায় অগ্নিকান্ডে মুদি দোকান পুড়ে ছাই

//শুভঙ্কর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

কচুয়ায় অগ্নিকান্ডে মুদি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে সাংদিয়া আফরা পাইক বাড়ি জামে মসজিদের কাছে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মুদি দোকান মালিক  উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের কলমীবুনিয়া গ্রামের  শহিদুল শেখের পুত্র নাইম শেখ জানায়, প্রতিদিনের ন্যয় শনিবার রাতে  তার মুদি দোকান বন্ধকরে বাড়িতে চলে যায়। রাত অনুমানিক দেড়টার দিকে পাশবর্তী মোকলেস শিকদারে স্ত্রী তাকে  জানায় তার দোকানে আগুন লেগেছে।

এসময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততখনে দোকানের সকল মালাম পুড়ে  ছাই যায় । এতে তার প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এঘটনায়  রবিবার কচুয়া থানায় একটি অভিগ করেছে।

ডুমুরিয়ায় দুই সন্তানকে মেরে নিজে আত্মহত্যা করলেন মা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনায় একটি গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানসহ এক মায়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলো কমলপুর গ্রামের মান্নান সরদারের স্ত্রী ডলি বেগম (৩৮), তার দুই শিশু সন্তান ৬ বছর বয়সী ফাতেমা ও ৭ মাস বয়সী ওমর।

পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহের কারণে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় ডলি বেগম তার দুই শিশু সন্তানকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত সাহা  বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।  প্রকৃত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।