ডুমুরিয়ায় বজ্রপাতে আপন সহোদরের মৃত‍্যু

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব//
 ডুমুরিয়ার সেনপাড়া গ্রামে শুক্রবার ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বজ্রপাতে আপন দু সহোদরের মর্মান্তিক মৃত্যু  হযেছে।
শরাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম‍্যান শেখ রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলার সেনপাড়া গ্রামের মৃতস হাসেন আলী মোড়লের পুত্র নাজমুল মোড়ল (৩০) ছোট ভাই  এনামুল (২১)কে সাথে নিয়ে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বিলে মৎস‍্য ঘেরে মাছ মারতে যায়। বিকেলে আকস্মিক বৃষির সময় বজ্রপাত ঘটায় দুজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। নিহত দুই সহোদর  বাড়িতে ফিরতে দেরি করায় সন্ধ‍্যার পর  পরিবারের লোকজন খুজতে বের  হলে তাদেরকে ঘেরে মধ‍্যে মৃত‍্য অবস্থায় পাওযা যায়। আপন দু সহদোরের মৃত‍্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও আত্নীয় স্বজন  তাদের বাড়িতে ছুটে আসে।একই সাথে দুজনের মৃত‍্যুতে  পরিবারের মধ‍্যে শোকের মাতম চলছে।

বরিশাল নগরীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ পুলিশসহ আহত ১০

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল নগরীতে নেতার জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বান্ধ রোড চাঁদমারী বিএনপি ও কাউন্সিলর অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় পুলিশ এবং নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ রয়েছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদমারী চৌরাস্তা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কামরুল।

তিনি কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা কামরুল (৪২) ও তার স্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বরিশাল মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা ফরিদা বেগম (৩৫) স্থানীয় বাসিন্দা জলিল আকন (৩০), বেল্লাল (২৮) সহ পথচারী পারভেজ (২৬), সিফাত (২৫) সহ চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে বেলাল আশাঙ্কা জনক বলে জানা গেছে। আহত বিএনপি নেতা কামরুল জানান, নগরীর চাঁদমারী এলাকায় বিএনপি নেতা এ্যাড.মজিবর রহমান সরোয়ার এর প্লট রয়েছে র্দীঘ বছর ধরে। ওই প্লটের দেখাশুনা করি আমি নিজেই। বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় সিদ্দিক এর সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কামরুলের সাথে বিরোধ হয়।

এর জের ধরে রাতে সিদ্দিক লোকজন নিয়ে কামরুল ও তার লোকেদের ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালায়। এসময় বাধা দিতে গেলে কোতয়ালী মডেল থানার এসআই কামরুল এবং নারীসহ অন্তত পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে জখম করে হামলাকারীরা। তবে হামলার চিত্র ঘটনাস্থলের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরায় ধারন হলে হামলাকারীরা সিসি ক্যামেরা গুলো ভাংচুর করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনার পর পরই হামলাকারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদমারী এলাকায় ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম জানান চাঁদমারী এলাকায় দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তিনি আরো বলেন এঘটনা থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি মামলার বাদী পুলিশ। আর অন্য দুটি মামলার বাদী হলেন মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা ফরিদা বেগম ও স্থানীয় জলিল আকন। তবে হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

রূপসায় হত‍্যা মামলার আসামিদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ, পিটিয়ে জখম

 

।।রূপসা প্রতিনিধি।।

রূপসায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত‍্যার উদ্দেশ‍্যে মো. আব্বাস শেখ (৪২) নামে এক মোটর শ্রমীককে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে এবং এক ই পরিবেরে ৩ সদস‍্যকে আহত করেছে।

সে রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক শেখের চাচাতো ভাই। বর্তমানে আব্বাস শেখ রূপসা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি
রয়েছে।

থানায় অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে সামসু শেখে ছেলে আব্বাস শেখ এর হাস বাড়ির পাশে পুকুরে যায়। হাস কেন গেল তাদের গর্তে তাই নিয়ে মাদক সেবনকারী একাধীক মামলার আসামী সবুর শেখ(৪৭) গালিগালাজ করতে থাকে। গালিগালাজ না করার জন‍্য আব্বাস নিষেধ করে।

এসময় তর্ক বির্তকের এক পর্যায়ে গোয়ালবাথান গ্রামের মৃত বাতেন শেখের ছেলে সবুর,তার স্ত্রী সাবিনা, তার বোন পূর্নিমাসহ কয়েকজন মিলে বেদম মারপিট করে। এসময় তার চিৎকারে তার ভাই আবদুল্লা,স্ত্রী পাখি বেগম ও ভাইপো আজাদ তাকে উদ্বার করতে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে জখম করে।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আরো জানা যায, প্রায় ১ মাস আগে আব্বাস এর চাচী নাহার বেগম ও চাচাত ভাই রানা শেখকে সবুরসহ উক্ত ব‍্যক্তিরা মারপিট করে মাথা ফাটায় দেয়।
বিষয়টি থানায় অভিযোগ দায়ের করা
হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এর দপ্তরে শালিশ নামার মাধ্যমে উভয় পক্ষের সমাধান করা হয়। এই অপরাধের জন‍্য সবুর সহ অন‍্যরা ক্ষমা চান এবং লিখিত দেন এই ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটাবে না।

এলাকাবাসী জানায়, সবুর তার ভাই নূর ইসলাম, বিল্লাল, আইয়ুবসহ তাদের নামে প্রায় ১০ টি মামলা রয়েছে বিগত দিনে।

এই নূর ইসলাম যুবলীগ নেতা পাচানী গ্রামের মাসুদ কাজী হত‍্যা মামলার আসামী। দীর্ঘদিন পলাতক থেকে হাজতবাস করে এলাকায় আসে।
এলাকায় ফিরে এমন কোন অপকর্ম নেই যা সে করে না। তার অত‍্যাচারে এলাকাবাসি অতিষ্ট।
অন‍্যের জমি দখল লুট তার পেশা। তার ভাইদের নিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের অত‍্যাচার জলিল মোড়ল নামে এক ব‍্যক্তি আজ এলাকাছাড়া। এলাকায় আসলে তাকে হত‍্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদান করে।

এছাড়া ঐ পরিবারের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরে আগুন ধরিয়ে,শরীরে আঘাত করে অন‍্যের নামে মিথ‍্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে যা সরোজমিনে তদন্ত করলে সতত‍্যা পাওয়া যাবে।

এলাকাবাসী তাদের অত‍্যাচারের হাত থেকে রেহায় পেতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

আহত আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান সন্ধ‍্যায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

গজারিয়ায় জমি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারে নৃশংস হামলায় আহত ২

 

সৈয়দ মোঃ শাকিল, গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাহনিয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতায় ০৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে এক যুবকের দুই হাতের রগ কেটে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।

গজারিয়ায় জমি নিয়ে আধিপত্য বিস্তারে নৃশংস হামলায় আহত ২

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় ধারালো দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে এলোপাতাড়ি কোপে আহত যুবকের অবস্থা খুবই আশঙ্কা জনক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় আহতের নাম মোঃ সজীব প্রধান (২৫)। সে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দ কাহনিয়া গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে।

হামলায় আহত সজিব জানায়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী ইসমাইল ও তার স্বজনদের সাথে তাদের বিরোধ চলছিল। এই ঘটনা রেশ ধরে বেশ কয়েকবার তার উপর হামলার চেষ্টা চালায় ইসমাইল গং। এদিকে ০৬ সেপ্টেম্বর ( মঙ্গলবার) বিকাল তিনটার দিকে তার দুই চাচাতো ভাই জুবায়ের ও মাসুদ রানা সহ তার উপর চৌদ্দ কাহনিয়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় নৃশংস হামলা চলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

এই ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এবং সন্ত্রাসী হামলায় আহত জুবায়ের বলেন, হামলাকারী প্রায় ৮,৯ জন ছিল এবং তাদের হাতে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও কয়েকটি চাইনিজ কুড়াল এবং চাপাতি ছিল। প্রথমে তাদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে সন্ত্রাসী হামলাকারীরা। পরে পরিকল্পিত হামলায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করে আমার চাচাতো ভাই সজীব কে।

এই বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইফফাত আরা জানায়, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার হাতের রগ কাটা এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে ঘটনা ঘটেছে।

এই বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। পরবর্তিতে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরিশালে বিএমএফ পরিবহনের ধাক্কায় নিহত ১ আহত ২

পলাশ চন্দ্র দাসঃ বরিশাল প্রতিনিধি/

বরিশাল বাবুগঞ্জ উপজেলার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কামিনী রিফ্রেশ জোন এর (উত্তর রহমতপুর) ঢাকাগামী বিএমএফ পরিবহনের ধাক্কায় সিএনজিতে থাক্কা য়১ জন নিহত হয়েছেন ও ২ জন গুরত্বর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মৃধা মুহাম্মদ আক্তার উজ জামান মিলন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকাগামী একটি বেপরোয়া গতির বিএমএফ পরিবহন ওভারটেক করতে গিয়ে বরিশাল মেট্টো-থ ১১-১২০২ নম্বরের একটি সিএনজিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিএনজিটি দুমড়ে- মুচড়ে যায়। এতে সিএজিতে থাকা রহমতপুরের বাসিন্দা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুষার পাথর ও তার স্ত্রী শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা এবং শালিকা নুপুর গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেল কর্তব্যরত চিকিৎসক নুপুরকে মৃত ঘোষনা করেন।

শিক্ষক তুষার এবং স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসময় সিএনজি চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এয়ারপোর্ট থানার এস আই শাহাদাত বলেন, বিএমএফ পরিবহন ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আশা সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এতে একই পরিবারের তিনজকে আহত অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষনা করেন।

অভয়নগরের বাঘুটিয়ায় ছুরিকাহত বনমালীর পোল্ট্রি খামারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

 

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়ায় সেই ছুরিকাহত বনমালীর পোল্ট্রি খামারটি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে কে বা কারা পোল্ট্রি খামারটি জ্বালিয়ে দিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের নিমতলা নামক স্থানে। প্রথমে কেউ টের না পেলেও পরে টের পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে আসতে খামারটির কিছু অংশ পুড়ে যায়।প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে পুলিশকে খবর দিলে ভাটপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। এঅবস্থায় বনমালীর মা ও পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। উল্লেখ্য গত ১ লা সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঘুটিয়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে সন্ত্রাসী সুমন ওই একই গ্রামের মৃত পঞ্চানন শীলের ছেলে বনমালীকে ছুরিকাঘাত করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জনগণের সহযোগিতায় সুমনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এর জের ধরে সুমনের পরিবারের লোকজন কিংবা তার সহযোগিরা রাগের বশবর্তী হয়ে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে গ্রামবাসীর কাছে গুঞ্জন শোনা যায়।উক্ত ঘটনায় অভয়নগর থানায় ৩২৩,৩২৬,৩০৭,৪৪৭, ৫১৪ ধারায় ১ লা সেপ্টেম্বর একটা মামলা হয়েছে যার নং ০১ এবং সুমন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে ভাটপাড়া তদন্তকেন্দ্রের এস আই মোকলেছুর রহমান এপ্রতিবেদককে জানান। তিনি আরো জানান, শুক্রবার ভোরে বনমালীর পোল্ট্রি খামারে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে।খামারের কিছু অংশ পুড়ে গেছে।ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বনমালীর পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সুমনের পরিবারের কেউ বা কারোর সহযোগীতায় এমন ঘটনা ঘটাতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

ডুমুরিয়ায় শিশুসহ বাড়ির মালিককে জিম্মি করে ডাকাতি সংঘটিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

খুলনার ডুমুরিয়ায় শিশু সহ বাড়ির মালিককে  জিম্মি করে একটি বাড়িতে  ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার  ভোর রাতে  উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নে বামুন্দিয়া গ্রামে লক্ষ্মণ বিশ্বাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা নগদ টাকা সোনার গহনাসহ আনুমানিক  ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগি পরিবার সুত্রে জানা গেছে  রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বামুন্দিয়া গ্রামের লক্ষ্মণ চন্দ্র বিশ্বাস , তার স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস ও নাতি গুরুপদ বিশ্বাস (৫) বাড়ির দ্বিতল ভবনের নিচ তলায় ঘুমানো ছিলো। সংর্ঘবদ্ধ  ডাকাত দল মাক্স পরিহিত অবস্থায়  রান্না ঘরের দরজা ভেঙ্গে বারান্দায় প্রবেশ করে। প্রথমেই বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা লক্ষ্মনের স্ত্রীর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে আহত করে। এরপর তারা শিশু বাচ্ছাকে জিম্মি করে অস্ত্রের  ভয় দেখিয়ে ঘরের আলমারি ও সিন্ধুকের চাবি নেয়। সিন্ধুক খুলে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি সোনার গহনা, দুইটি মোবাইল ফোন, ১টি মোটরসাইকেল  নিয়ে যায়।  ডাকাতরা যাওয়ার সময় পরিবারের সকলকে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে রেখে যায়। ঘটনার সকাল ৭ টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে আঙ্গারদহ নামক স্থানে পরিত্যক্ত  অবস্থায়  মটরসাইকেলটি  দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার মটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, মটর সাইকেলের তেল ফুরিয়ে গেলে ফেলে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ইনপেক্টর (তদন্ত) মো. মাসুদুর রহমান  সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কেউ থানায় আসেনি। তারা মামলা করতে চাইলে মামলা রেকর্ড হবে।

 

অভয়নগরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ :থানায় অভিযোগ 

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//
যশোরের অভয়নগরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আপন বড় ভাইয়ের দা-য়ের কোঁপে ছোট ভাই জখম হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৪ আগষ্ট(বুধবার) সকাল আনুমানিক সাড়ে এগারো’টায়   পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া হলে বড়ভাই  মোঃ জামাল হোসেন ফারাজী (৪১) তার ছোটভাই মোঃ বিল্লাল হোসেন ফারাজী(৩৮)কে মাথায় ও হাতে  কুপিয়ে জখম করে। পরে এলাকাবাসী রক্তাক্ত অবস্থায়  তাকে  উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। তারা দুইজন গুয়াখোলা গ্রামের (প্রফেসরপাড়া) মোঃ সাহেব আলী ফারাজীর ছেলে। ভূক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী রেশমা বেগম (৩৪) জানান,আমার স্বামী একজন ফল ব‍্যবসায়ী। ব‍্যবসায়িক কাজের জন‍্য তিনি ইং-১০/০৮/২২ তারিখে বড়-জা মোমেনা আক্তার খুশির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেয়। এক সপ্তাহ পার না হতেই টাকা দেয়ার জন‍্য অনেক চাঁপ সৃষ্টি করে। পাওনাদার মোবাইল ফোনে আমার স্বামীকে হুমকি দিয়ে বলেন  এক্ষুনি আমার টাকা  দিতে হবে, তানাহলে তোমার  অসুবিধা আছে। হুমকি দেয়ার কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী ১০ হাজার টাকা নিয়ে প্রফেসরপাড়া মোড়,বড়-জা মোমেনা আক্তারের দোকানে যায় তাকে  টাকা দেয়ার জন্যে। তিনি বলেন,আপাতত এই টাকা গুলো রাখেন বাকি ২০হাজার টাকা কয়েক দিন পরে দিব।
একথা শুনে  মোমেনা আক্তার খুশি ও তার স্বামী জামাল হোসেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামী বিল্লাল হোসেন এবং  আমাকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে।  বড়জা মোমেনা আকতার খুশির স্বামী জামাল হোসেন দোকান থেকে ডাবকাটা দা-নিয়ে এসে আমার স্বামীকে মাথায় ও বামহাতে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ-ব‍্যাপারে অভয়নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভয়নগর থানার ডিউটি অফিসার মোঃশহিদুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমতলী-পটুয়াখালী সড়কে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ১২

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীর-পটুয়াখালী সড়কের  চুনাখালী কালভার্টসংলগ্ন স্থানে বরিশালগামী মায়ের দোয়া বাস ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ যাত্রী আহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চুনাখালী কালভার্টসংলগ্ন পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা মায়ের দোয়া বাসটি যাত্রী নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাক দুমড়ে-মুড়চে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায় এবং বাসের ১২ যাত্রী আহত হন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোসা. জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, আহত যাত্রীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়।

 

রামপালে ফারুক হত্যা মামলায় নেই কোন অগ্রগতি, আসামীদের মামলা তুলে নিতে হুমকি

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি || বাগেরহাটের রামপালে গত চার মাস পূর্বের একটি হত্যা মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। এ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামীর মধ্যে একজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন অপরজন উচ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । পলাতক আসামীরা বাদী পক্ষকে মামলা তুলে মিমাংশার জন্য মানসিকভাবে চাপ দিচ্ছে।

জানাগেছে মামলার বাদী উপজেলার উজলকুড় গ্রামের আশিকুল ইসলাম (২৪) এর বাড়ির কাছে একটি ধান ক্ষেতে গত ইং ০৬-০৪-২০২২ তারিখ সকাল ১০টায় হাঁস ধানের জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তার মা খুরশিদা বেগম ও ভাই এনামুলের সাথে একই এলাকার মামলার ৪নং আসামী সিদ্দিক শেখের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। বাদী আশিকুল ইসলামের ভাই মিজানুর রহমান ওই দিন বিষয়টি ইফতারির পর উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংশার উদ্যােগ নেন। তার ওই উদ্যোগ অগ্রায্য করে সিদ্দিক আলী তার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের খবর দিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে জড়ো করেন। পরে তারা বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় আশিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়।
এসময় আশিকুলের ভাই এনামুল অন্যদের সহায়তা চেয়ে চিৎকার করলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাইতুল আমান জামে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়া মাত্র আশিকুলের ভাই ওমর ফারুক ওরফে আজাবুলকে প্রতিপক্ষের লোকজন ঘিরে ফেলে ধরালো দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে ফেলে চলে যায়। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। ঠোকাতে গেলে তার ভাই মিজানুর রহমানকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ফয়লাহাট সুন্দরবন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখান ওমর ফারুকর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই খুলনা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ওই রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারন ডায়রি করা হয়। ডায়নির নং ৫২৯।
খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ নিহত ওমর ফারুকের ভাই এ মামলার বাদী আশিকুল ইসলামক ডেকে থানায় নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখেন। তাকে বলা হয় একদিন পর থানায় মামলা নেয়া হবে। বাদী আশিকুল ইসলাম জানান ৮-৪-২০২২ তারিখ ওমর ফারুকের লাশ দাফন করে পরদিন ইং ৯-৪-২০২২ তারিখ থানায় মামলা করতে গিয়ে দেখেন তার কাছ থেকে পুর্ব স্বাক্ষর নেয়া সাদা কাগজে প্রকৃত দোষীদের বাদ দিয়ে ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ৬। ওই মামলায় আসামী করা হয় আলী শেখ (২৮), কামাল শেখ (৩৫), জামাল শেখ (৩২), সিদ্দিক শেখ (৬০) ও তার মেয়ে নাছিমা খাতুন (৩২)কে।

বাদী পক্ষের অভিযোগ এ হত্যার ঘটনার সাথে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিল শামীম শেখ (২৪), মোহাম্মাদ শেখ (২২), ফারুক শেখ (৪৮), লিটন শেখ (৪০), কুলসুম বেগম (৩০) ও আবুল কাশম (৫৫)। পুলিশ এ ৬ অপরাধির নাম আসামীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেনি। এ নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি। পরবর্তীতে আদালতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং জিআর ৫৭/২০২২। মামলার ১নং আসামী আলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জেল হাজতে আছে। অপর আসামী নাছিমা খাতুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে অন্য আসামীদের জামিনের জন্য জোর তদবীর চালাচ্ছে বলে বাদী অভিযোগ করেছেন।

বাদী আশিকুল ইসলাম বলেন পলাতক আসামীদের ধরিয়ে দিতে র‌্যাব-৬ নগদ অর্থ পুরস্কার ঘোষনা করেছে। রামপাল থানা পুলিশ তড়িঘড়ি করে গোপনে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জসীট দেয়ার জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। একটি মহল পুলিশকে ম্যানেজ করতে মোটা অংকের টাকার থলে মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেছে। এতে তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন। এ ব্যাপার রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন চার্জসীট এর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।