আমি কি তাহলে ঢাকা ছেড়ে চলে যাব, নাকি দেশ ছেড়ে চলে যাব? পরিমনি

 

নায়িকা পরীমনি  কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সকালে বাসায় আসেন । বাসায় এসেই জানতে পারেন তাকে ফ্ল্যাট ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার মুক্তির চার দিন আগেই নোটিশ দেওয়া হয়।

ক্ষুব্ধ পরীমনি  বুধবার বিকালে  একটি গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ পরীমনি বলেন, আমি তো একা থাকি না। আমার বয়স্ক নানুভাই আছেন। হঠাৎ করে এসব কী! হঠাৎ করে কই যাব, সেটা কি কেউ বলতে পারেন?

আলোচিক এ নায়িকা বলেন, এখন এই মুহূর্তে আমাকে কে বাসা খুঁজে দেবে? কারাগার থেকে ঘরে ঢোকার পর বাসা ছাড়ার নোটিশ দেখতে পেলাম। এখন কি তাহলে আমার বসবাসের অধিকারটা পর্যন্ত কেড়ে নিচ্ছে ওরা? ওরা যা চেয়েছিল, তা-ই কি হচ্ছে? আমি কি তাহলে ঢাকা ছেড়ে চলে যাব, নাকি দেশ ছেড়ে চলে যাব?

২৭ দিন পর মাদক মামলায় জামিন মেলে পরীমনির। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ কারাগার থেকে পরীমনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিনের আদেশ দেন।

গত ৪ আগস্ট বিকালে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। ওই দিন রাত সোয়া ৮টার দিকে বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনিকে চার দিন ও ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুদিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

পরে ১৩ আগস্ট পরীমনির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডল। আদালতের আদেশে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে পরীমনিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর ওই কারাগার থেকে গত ১৯ আগস্ট তৃতীয় দফায় পরীমনিকে একদিনের রিমান্ডে ঢাকায় নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট পুনরায় পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে পৃথক পৃথক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

উড়ন্ত প্লেনে পাইলট কাইউম  অসুস্থ্য হয়েও প্লেন নিরাপদে নামিয়ে আজ নিজে মারা গেলেন…

 

টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ‘কোমায়’ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

সোমবার স্থানীয় সময় ১০টা ৪৫ মিনিটে তার লাইফসাপোর্ট খুলে দেন ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

গত শুক্রবার মাসকাট-ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল ফ্লাইট বিজি ০২২ মোট ১২৪ যাত্রী নিয়ে ঢাকা আসার পথে পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। এর পর নাগপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়।

শনিবার রাতেই নওশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি ‘কোমায়’ চলে যান।

রোববার দুপুরে নওশাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিমানের বেশ কয়েকটি অসমর্থিত সূত্র তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওশাদের মৃত্যুর ঘোষণা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

ক্যাপ্টেন নওশাদ ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হলেও স্বজনরা লাইফসাপোর্ট খুলে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর লাইফসাপোর্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তারা। এর পর সোমবার তার লাইফসাপোর্ট খুলে দিয়ে নওশাদকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে মাদক অভিযান।। বিভিন্ন প্রকার মাদকসহ গ্রেফতার-৫

খুলনা রূপসায় চাপাতিসহ এক ছিনতাইকারী গ্রেফতার,মামলা দায়ের

“রাজনৈতিক চক্রবূহের কবলে ভবদহের জলাবদ্ধতা”- ১০লক্ষ মানুষের কান্না

 

যশোরের দুঃখ হিসাবে খ্যাত মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর, যশোর সদর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলার ২৭ টি বিলের তীরবর্তী বসবাসরত ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত দুইশতাধিক গ্রামীণ জনপদের ১০ লক্ষাধিক জনগণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড,পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় ঠিকাদার ও মাছ চাষে জড়িত ক্ষমতাধর মালিকপক্ষ।

এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার চক্রবূহ। দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী ও তাদের জীবনধারাকে জিম্মি করে বর্গীদের ন্যায় কোটি কোটি টাকা লুট করার যে হীনমন্যতা তা দেশদ্রোহীতাকে হার মানায়।

ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধ মানুষের দীর্ঘদিনের এই চরম সংকট নিরসনের জন্য আজ ২৪ আগস্ট-২০২১ রোজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ যশোর নীলরতন ধর রোডে অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বক্তব্য রাখেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হামিদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক চৈতন্য কুমার পাল। বক্তরা বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। কিন্তু একটি অসাধু ও সিন্ডিকেট চক্র এতই ক্ষমতাবান যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েই চলেছেন। ফলশ্রুতিতে ভবদহ স্লুইচ গেট থেকে নদীর মোহনা পর্যন্ত ৫০/৬০ কিলোমিটার নদী পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে এবং ঐ এলাকার হরিহর, শ্রী,টেকাসহ সকল নদী তার গভীরতা ও গতিপথ হারিয়ে মৃতপ্রায় নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে নদী তার স্বাভাবিক জীবন ও যৌবন হারিয়ে উচ্ছল জোয়ার- ভাটা খেলতে পারেনা।

ফলে ঐ এলাকার ২৭ টি বিলের পানি বের হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিনতির কথা বারবার বলা সত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উল্লেখিত বিষয়ে কর্ণপাত না করে গাদ্দার ও গণ-দুশমনের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। বক্তরা ভবদহ এলাকায় বিভিন্ন সময় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে টিআরএম ( টাইডার রিভার্স ম্যানেমেন্ট সিস্টেম)- ই সর্বাপেক্ষা পরীক্ষিত, সফল ও জনমূখী প্রকল্প।

এমনই পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত টি.আর.এম চালু ও আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত এবং সংস্কার না করা হয় তাহলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ২০০ গ্রামের ১০ লক্ষাধিকেরও অধিক জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্হ হবে। শুধু তাই নয়- এলাকার ঘর- বাড়ি,রাস্তাঘাট,স্কুল-কলেজ, কবরস্থান-শ্মশান, মসজিদ-মন্দির আবারও পানির তলে চলে যাবে এবং ভবদহ জনপদের মানুষকে তার চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে একাত্তর সালের মতো হয়তো আবারও দেশের মধ্যে বা পাশ্ববর্তী দেশে উদ্বাস্তুের মতো জীবন যাপন করতে হবে।

আর তাই ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে নেতৃবৃন্দ ৬টি দাবি উত্থাপন করেন।

দাবী গুলো হলো-

১। এই মুহূর্তে বিল কপালিয়ায় টি.আর.এম চালু করে নদীকে রক্ষা করা

২। অবিলম্বে বিল কপালিয়ায় টি.আর.এম বাস্তবায়ন, হরি শ্রী নদীতে পড়া পলি অপসারণ করা। পলি মাটি নদীগর্ভে নয়- নদী পাড়ের বাইরে ফেলা,

৩। পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া টেকা-মুক্তেশ্বরী নদী সংস্কার করা

৪। আমডাঙ্গা খাল প্রশস্থ ও গভীর করা। আমডাঙ্গা খালের স্লুইচগেটের পূর্বাংশে অবিলম্বে খালের দুই পাশে স্থায়ী টেকসই প্রাচীর নির্মাণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া,

৫। লুটপাটের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ৫০ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প বাতিল করা,

৬। সমগ্র কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে কার্যকরী করা এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোকে কাজ মনিটরিংয়ের সুযোগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান ভিটু, তসলিমুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা নারায়ন চন্দ্র মল্লিক, শিবপদ বিশ্বাস,  রাজু আহমেদ, শিশির মন্ডল, আব্দুল মজিদ, অমিতাব মল্লিক, কিংকর বিশ্বাস, রবি মল্লিক প্রমুখ।

// নিজস্ব প্রতিনিধি //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, চাকু ও চায়নিজ কুড়ালসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার

 

ফরিদপুর।। পদ্মার পানিতে প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম

ফরিদপরে পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। একদিনে পদ্মা নদীর পানি ফরিদপুর-গোয়ালন্দ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দ্রুত পানি বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুরের সদর উপজেলার ডিক্রিরচর, নর্থচ্যানেল, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এছাড়া সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার কমপক্ষে ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় পদ্মার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষের মাঝে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

বন্যার কারণে ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই নানা কষ্টে দিনযাপন করছেন। বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই উঁচু রাস্তা এবং স্কুলে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। পানির কারণে অনেক রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় ফরিদপুরের সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমির ইন্তেকাল করেছেন

 

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি

 

একসময় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন হিসেবে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন ছিল। গ্রামবাংলায় ঘোড়ার গাড়িই ছিল যোগাযোগের একমাত্র বাহন। কালের পরিক্রমায় আধুনিকতার স্পর্শে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি এখন শুধুই অতীতের স্মৃতি। গ্রামগঞ্জের আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলা ঘোড়ার গাড়ি এখন আর চোখে পড়ে না।

মাত্র দুই যুগ আগেও পণ্য পরিবহন ছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনে বহনের বিকল্প কোনও বাহন কল্পনাই করা যেত না। যেসব পরিবারে ঘোড়ার গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল আলাদা। কৃষকরা আগে ঘোড়ার গাড়ি এবং গরুর গাড়িতে গোবর, সার, লাঙল-মই-জোয়াল নিয়ে মাঠে যেত। প্রাচীনকাল থেকে দেশের গ্রামীণ জনপদে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে গরুর গাড়ির ছিল বহুল প্রচলন।

পায়ে চলার পথে মানুষ ঘোড়ার গাড়িকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করতেন। আগে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণেও এটি ছিল অপরিহার্য। অনেকেরই এই গাড়ি ছিল উপার্জনের অবলম্বন। গ্রামের বউ-ঝিরা নাইওর যেত ঘোড়ার গাড়িতে।

সময়ের বিবর্তনে আজ ঘোড়ার গাড়ির চালক (গাড়িয়াল) না থাকায়, হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা গাড়িয়াল ভাইয়ের কণ্ঠে সেই অমৃত মধুর সুরের গান। লম্বা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আনন্দে গাড়িয়ালরা গাইতো– ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে…।’ এখন ‘চাইয়া’ থাকলেও ঘোড়ার গাড়ি আর গরুর গাড়ি চোখে পড়ে না। আর গানও গায় না গাড়িয়ালরা।

পাইকড়া ইউনিয়নের বলিখন্ড গ্রামের বিষ্টি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের এলাকায় গরুর গাড়ির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৫-২০ বছর আগে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই একটি করে গরুর গাড়ি ছিল। অনেক বিত্তবান পরিবারে ২-৪টি পর্যন্ত গরুর গাড়ি ছিল। গরুর গাড়ির আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলতো ওইসব পরিবার। কিন্তু এখন বাস, মাইক্রোবাস, ভটভটি, নছিমনের, পিকিআপ, ভ্যানগাড়ি, অটো আগমনসহ নানা কারণে ঘোড়ার গাড়ি এবং গরুর গাড়ি হারিয়ে গেছে।’

সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের লাঙ্গলীয়া গ্রামের প্রবীণ ঘোড়ার গাড়ি চালক, আজগর আলীর দেখা মিলে বৃহস্পতিবার (১২আগষ্ট) সকালে কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের হাসড়া গ্রামে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে। তার কাছে জানতে চাইলে আপনি কোথায় গিয়েছিলেন তিনি বলেন, কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের সিংহটিয়া গ্রামে আমার শশুর বাড়িতে গিয়েছিলাম, আমি যখন শশুর বাড়ি আসি তখন আমার নিজ্বস ঘোড়ার গাড়িতে আমার বউকে সাথে নিয়ে আসি।

প্রবীণ আজগর আলী বলেন, ‘এখন যেমন আমরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য প্রাইভেটকার বা মাইক্রো কিনি, আগে ঠিক তেমনি গ্রামের লোকজন ঘোড়ার গাড়ি ও গরুর গাড়ি তৈরি করে বাড়িতে রাখতেন। আপদ-বিপদে তা তারা বাহন হিসেবে ব্যবহার করতেন।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের ইন্দ গ্রামের শহিদ মিয়ার সাথে হঠাৎ দেখা মিলে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বালিয়াটা এলাকায় তিনি জানান, ঐতিহ্যেকে ধরে রাখতে আমি ঘোড়ার গাড়ি ভাড়ায় চালানোর জন্য টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ইন্দারজানি হাট থেকে একটি ঘোড়া সহ ঘোড়ার গাড়ি ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে নিয়ে যাওয়ার পথে। সে বলেন শহরে মালামাল বহন করার জন্যে অন্যান্য গাড়ির চাইতে ঘোড়ার গাড়িতে কম দামে মানুষ মালামাল বহন করতে পারবে।

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের হাসড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়িয়াল রাইজউদ্দিন বলেন,‘আজ থেকে ১৫ – ১৬ বছর আগে আমি ৫ জনের পরিবার চালাতাম ঘোড়ার গাড়ি ভাড়ায় খাটিয়ে। কিন্তু এখন তো কোথাও ঘোড়ার গাড়ির দেখা পাওয়া যায় না।’

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়াড এর ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ সিকদার বলেন, নতুন প্রজন্মকে ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গেলে আমাদেরকে এখন জাদুঘরে যেতে হবে।

আধুনিকতার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও। যা ছিল একসময় বংশপরম্পরা পেশা। সময় অতিবাহিত হবার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক-বাহক অনেক বাহনেরই আমূল পরিবর্তন-আধুনিকায়ন হয়েছে।

আজ শহরের ছেলেমেয়ে দূরে থাক, গ্রামের ছেলেমেয়েরাও ঘোড়ার গাড়ি বা গরুর গাড়ির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত না। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রকৃতিবান্ধব ঘোড়ার গাড়ি বহুবিধ কারণে বর্তমানে হারিয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর আগেও কালেভদ্রে দু-একটি ঘোড়ার ও গরুর গাড়ির দেখা মিললেও বর্তমানে তা খুব কম দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যের স্বার্থেই এ বিষয়ে সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

।।মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব

যশোরে আবারও আশঙ্কাজনকভাবে করোনায় মৃত্যু বৃদ্ধি

 

কুয়াকাটায় ৬৫ দিন অবরোধের পরও মিলছেনা মাছ হতাশ জেলেরা

 

৬৫ দিনের অবরোধ শেষে অনেক আশা বুকে ধারণ করে গভীর সমুদ্র থেকে প্রচুর মাছ শিকার করবে এবং দায়দেনা পরিশোধ করবে জেলেরা, তবে এখন সেই আশা উল্টো হচ্ছে, শুন্য ট্রলার নিয়ে মলিন মুখে কুল প্রান্তে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম।

জালভরা ইলিশ ধরার স্বপ্ন নিয়ে দিন-রাত নদী এবং সাগরে কাটাচ্ছেন জেলেরা। কিন্তু পর্যাপ্ত ইলিশ না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়ে। গতকাল কুয়াকাটা মহিপুরের জেলেদের এমন ধরন দেখে হতাশ সাধারণ মানুষসহ মালিকরা । আষাঢ় মাস ও শ্রাবণেও ইলিশের দেখা মেলেনি। এখন ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়েও বঙ্গোপসাগরসহ উপকূলীয় নদ-নদীতে তেমন একটা দেখা মিলছে না ইলিশের। জেলেরা নদ-নদী ও সাগর থেকে ফিরছেন ‘খালি’ হাতে। যা-ও ইলিশ পাচ্ছেন, তা বিক্রি করে উঠছে না খরচ। অথচ এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। বাজারে ইলিশের দাম চড়া।

এদিকে অবরোধ শেষে অনেকদিন যাবত সাগর উত্তাল থাকায় মাছ শিকার করতে সাগরে নামতে না পেরে চিন্তিত হয়েছিল জেলেরা, মূলত আবহাওয়ার খামখেয়ালি স্বভাবকেই ইলিশের আকালের জন্য দায়ী করছেন মৎস্যজীবীরা। তাঁরা বলছেন, তিনটি লঘুচাপ, এর ওপরে উজানের পানির কারণে জেলেরা অন্তত ১৫ দিন ছিলেন ঘরে। এখন বন্যার পানি নদী থেকে সাগরে ছুটছে। উজানের পানির স্রোত এতটাই প্রকট যে, তা অতিক্রম করে ইলিশের অভয়াশ্রমে (নদী) ফেরা প্রায় অসম্ভব। বন্যার আগে জেলেরা বারকয়েক গভীর সমুদ্রে গেলেও ইলিশের ঝাঁক সেভাবে আটকায়নি জালে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত নদী তথা জলে নুনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের উজানে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এখনো আশার বাণী শোনা যাচ্ছে মহিপুর কুয়াকাটার জেলেপল্লীতে, সাগরের অবস্থা স্বাভাবিক হলে, মাছের দেখা মিলবে তাদের পল্লীতে এবং দায়দেনা পরিশোধ করে কিছুটা হল স্বাভাবিক হতে পারবে তারা। কুয়াকাটার জেলে দেলোয়ার মোল্লা বলেন, ৬৫দিন অবরোধ এরপরে সাগরে মৎস্য শিকার করতে গেছিলাম কিন্তু খালি নৌকা নিয়ে তরে আসতে হয়েছে ।

আলিপুরের জেলে হারুন আকন জানান, সাত দিন যাবত সাগরের মধ্যখানে মাছ শিকার করার জন্য ছিলাম কিন্তু যে কয়টা মাছ পেয়েছি সেই মাছ দিয়ে নিজের স্টাফদের খরচ দেওয়াও অসম্ভব তিনি আরো বলেন ২ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরের ভিতরে গেছি, কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সব খরচ এখন গায়।

এভাবে শত জেলেদের হতাশ মুখে ফিরতে হয়েছে কুলে। আড়ত আল্লাহর দান ফির্শ এর মালিক, রুবেল বেপারী বলেন, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও আহরণ নিশ্চিত করতে বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই (৬৫ দিন) সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে উপকূলের জেলেরা ইলিশ শিকারে গিয়েছিলেন গভীর সমুদ্রে। কিন্তু বেশির ভাগ জেলেই ফিরেছেন সামান্য ইলিশ নিয়ে।

তবে অবস্থা স্বাভাবিক হলে সাগরের জেলেরা তাদের নিজেদের ইচ্ছামত জাল ফেলাতে পারলে মাছ দেখা যাবে কুয়াকাটা পৌর মেয়র বাজারে কুয়াকাটা আশার আলো জেলা সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, ট্রলার মালিকরা মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে জেলেদের পাঠিয়ে খরচের টাকাও উঠাতে পারছেন না।

সমুদ্রে মাছ না হওয়ায় জেলেদের দিন চলছে এখন হতাশে, তারপরও অতি আগ্রহ নিয়ে আল্লাহতালার উপর ভরসা করে গভীর সমুদ্রের মাছ হবে এমন আশায় দিন পার করছেন।

//মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগের আহমেদ হোসাইন রুবেল ও উজ্জল নিহত ২

 

‘‘দৈনিক বিশ্ব’’ পত্রিকার সম্পাদকের পুত্রের জন্মদিনে সাংবাদিকদের শুভকামনা

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

আজ দৈনিক বিশ্ব পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের একমাত্র পুত্র তপব্রত মজুমদার এর  শুভ জন্মদিন।

বহুল প্রচলিত, প্রচারিত ও জনপ্রিয় দৈনিক বিশ্ব অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বাণীব্রত মজুমদার এর ছেলে তপব্রত মজুমদার এর শুভ জন্মদিনে দৈনিক বিশ্ব পত্রিকার সকল সাংবাদিকবৃন্দ আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকারি বিধিনিষেধ পালন করায় জনসমাগম এড়াতে সীমিত পরিষরে তপব্রত মজুমদার এর শুভ জন্মদিন পালিত হয়েছে । তপব্রত মজুমদার এর জন্য আশির্বাদ কামনা করেন তার বাবা-মা, পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ এবং আরও অনেক শুভাকাঙ্খি ।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

Daily World

The Daily World FaceBook Page

Dainik Biswa Facebook Page

সঠিক তরিকায় শতভাগ মাস্ক পরিধান, মহামারী মুক্তির প্রথম সোপান। পুলিশ কমিশনার বিএমপি

অভয়নগরে পানি নিষ্কাশণের পোল আটকে মাছ চাষ: পানি বন্দি শতাধিক পরিবার

যশোর যশোরের অভয়নগরে পানি নিষ্কাশণের পোল আটকে রেখে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতার সৃৃৃৃষ্টি হয়েছে ৷ এতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার পৌর নওয়াপাড়ার ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড সংলগ্ন বুইকরা সরকারি কবরস্থান ও দেবুর মিল এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার ৷

৩আগষ্ট (মঙ্গলবার) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, প্রবল বর্ষণেই ওই এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যায় ৷ পাশা পাশি তলিয়ে যাচ্ছে গেছে এলাকার টিউওয়েল গুলো ৷

এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ৷ ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ৷ অধিকাংশ টয়লেটে পানি উঠায় খোলা আকাশের নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারতে হচ্ছে এ এলাকার পানি বন্দি মানুষের ৷

এলাকাবাসি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের জন্য প্রায় মাজা সমান পানি পাড়ি দিয়ে বাজারে আসতে হচ্ছে ৷ স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মালেক হাওলাদার জানান, দেড়মাস পানিবন্দি থাকার  কারণে এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পানিবন্দি এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত জলাবদ্ধতায় থাকায় এখানকার মানুষের চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানাবিধ রোগ দেখা দিচ্ছে। অপর ভুক্তভোগী সুমা শেখ জানান, বর্ষা মৌসুমে জনৈক প্রভাবশালী লিটু বেগম নামের একজন মহিলা ঘের তৈরি করে পানি নিস্কাশনের পোল বন্ধ করে মাছচাষ করছেন৷ এতে কষ্ট পেতে হচ্ছে দুই ওয়ার্ডের মানুষের ৷

বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান মোল্যা জানান, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি সঠিক। তবে দ্রুততার সাথে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে ৷ আশাকরছি, অচিরেই এ বিষয়টির সমাধান হবে।

// মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

করোনায়ও থেমে নেই ৩৪কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

 টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনার তীব্র ভাঙন : জনদুর্ভোগ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর এলাকায় আবার যমুনার তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।  টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যমুনার তীব্র ভাঙ্গনে সোমবার (২ আগস্ট) বিকাল ৬টার থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাট বিলীন হয়ে যায়।

হুমকিতে রয়েছে শত শত ঘরবাড়ী ও বসতভিটা। বিষয়টি ৮নং ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকালে নিশ্চিত করেছেন। আব্দুল খালেক জানান, সোমবার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৩নং বেলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ঘর, মাদ্রাসার তিনটি ঘর, মজজিদ ও হাটের জায়গা বিলীন হয়ে যায়।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু কয়েকটা ব্রেঞ্চ বের করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সব যমুনায় চলে গেছে। এছাড়াও আশে পাশের শত শত বাড়িঘর ও বসতভিটা হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া জানান, চোখের সামনে মুহুর্তের মধ্যে সব বিলীন হয়ে গেলো, মাদ্রাসা ও মসজিদের সব আসবাব পত্র সরানোর মতো সময়ও পাইনি। ভাঙনরোধে এ এলাকায় স্থায়ী বেরী বাধের দাবি জানাই।

বাচ্চু মিয়া জানান, এ পর্যন্ত তিনবার ঘরবাড়ি সরাইছি। তারপরও হুমকির মুখে রয়েছি। কখন বুঝি আবার বর্তমান বাড়িটি যমুনা ঘিলে খায়। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আগামীকাল থেকেই ভাঙনরোধে কাজ শরু করবো।

 //মোঃ আল-আমিন শেখ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার

জাতীয় শোক দিবস পালনে রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি সভা

দুমকিতে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের জেলা প্রশাসকের সহায়তা

লকডাউনে বেকার হয়েছেন খুলনার রূপসার পরিবহন শ্রমিকরা

 

খুলনা জেলার পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ডে সব সময় যাত্রীর ভীড় লেগে থাকতো। পিঠে, হাতে নয়তো মাথায় ব্যাগ নিয়ে মানুষের যাওয়া-আসায় মূখরিত থাকতো দিনেও রাতে।

তবে দেশে করোনা শুরু হবার পর থেকে বাসস্ট্যান্ডের ছবি এখন ভিন্ন। নেই কোন কোলাহল, রাস্তায় বাস ও টিকিট কাউন্টার ঘিরে নেই কোন ব্যস্ততা মানুষের। করোনার জন্য লকডাউনে পূর্ব রূপসা ও সোনাডাঙ্গা স্টান্ড থেকে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলাগামী বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।বাস চলাচল না করায়, বাস স্ট্যান্ড ঘিরে যে সমস্ত ছোট ছোট চায়ের দোকান, হোটেলগুলো ছিল সে সবও বন্ধ।

সবচেয়ে করুণ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ২০০৫ জন পরিবহন শ্রমীকরা। করোনাকালে কয়েক দফায় আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকার জন্য বেকার হয়ে পড়েছেন এসকল শ্রমীকরা। আয় উপার্জন নেই বললেই চলে। পূর্ব রূপসা শ্রমীক ইউনিয়নের সমিতির সহকর্মীদের অনেকেই তাদের পরিবহন সংশ্লিষ্ট পেশা ছাড়ার কথা চিন্তা করছেন।

কেউ কেউ ভ্যান, বাজারে কাচামাল, ডিম, কাঠালসহ বিভিন্ন কর্মে জডিয়ে পড়েছেন সংসার চালানোর তাগিদে।করোনার সময়ে মানবেতর জীবন যাপন থেকে মুক্তিপেতে সকল সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক প্রণোদনা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সরকারের প্রণোদনা হিসেবে আড়াই হাজার টাকা করে দিলেও সকল শ্রমীক না পওয়ার অভিযোগ।

এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশের্দী নিজস্ব তহবিল থেকে কয়েকদফা খাদ্য সহায়তা দিয়েছে শ্রমিকদের । বাস চালক জাহাঙ্গির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস চালিয়ে পরিবার নিয়ে ভালই ছিলাম। করোনা শুরু হলে বাস বন্ধ থাকায় সংসারের কথা চিন্তা করে ডিম বিক্রয় করে দিন যাপন করি। আরিফুল, কালু, হেলালসহ শ্রমীকরা জীবন বাচানোর তাগিদে বিভিন্ন কর্মে লিপ্ত হয়েছে।

খুলনা আন্ত:জেলা বাস,মিনিবাস,কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমীক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন মোল্লা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছর ৪ মাস এবং এবারের প্রায? ৪ মাস সকল যানবাহন বন্ধ থাকায় কোন আয় নেই। এজন্য খুব টানাপোড়েন ও আর্থিক সমস্যায় সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। করোনাকালীন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের নিকট সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া তাছনিম জানিয়েছেন বলে হারুন জানান। আমাদের প্রিয় নেতা আব্দুস সালাম মূর্শেদী তার ব্যক্তিগত ভাবে কয়েকদফা শ্রমীকদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে।

//আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

Daily World

মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর চিকিৎসায় এমপি পত্নী সারমিন সালামের সহায়তা